হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (3381)


3381 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ سُلَامَى مِنَ النَّاسِ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ: كُلَّ يَوْمٍ تَطْلُعُ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَعْدِلُ بَيْنَ اثْنَيْنِ، وَيُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ، وَيَحْمِلُهُ عَلَيْهَا، وَيَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ، وَيُمِيطُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3372)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “শরীরের প্রতিটি জোড়ের জন্য সূর্য উদিত হয় এমন প্রতিটি দিন সাদাকাহ করা জরুরী। দুইজন ব্যক্তির মাঝে ইনসাফ করবে, কোন ব্যক্তিকে তার বাহনের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে, তাকে তার উপর উঠিয়ে দিবে, বাহনের উপর তার পণ্য-সামগ্রী উঠিয়ে দিবে, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস অপসারণ করবে- এগুলো সাদাকাহ।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৩১৬; সহীহুল বুখারী: ২৭০৭; সহীহ মুসলিম: ১০০৯; সুনান বাইহাকী: ৪/১৮৭-১৮৮; বাগাবী: ১৬৪৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১০২৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1025).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3382)


3382 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ دَرَّاجًا حَدَّثَهُ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «أَتَانِي جِبْرِيلُ، فَقَالَ: إِنَّ رَبِّي وَرَبَّكَ يَقُولُ لَكَ: » كَيْفَ رَفَعْتُ ذِكْرَكَ؟ «، قَالَ: اللَّهُ أَعْلَمُ، قَالَ: » إِذَا ذُكِرْتُ ذُكِرْتَ مَعِي «
رقم طبعة با وزير = (3373)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার কাছে জিবরীল আলাইহিস সালাম এসেছিলেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই আমার ও আপনার প্রভু আপনাকে বলেছেন, “আমি কিভাবে আপনার খ্যাতি সমুন্নত করে দিয়েছি?” জবাবে তিনি বলেন, “আল্লাহ ভালো জানেন।” অতঃপর আল্লাহ বলেন, “যখন আমাকে স্মরণ করা হবে, তখন আপনাকেও স্মরণ করা হবে।”[1]



[1] তাবারী, জামিউল বায়ান: ৩০/২৩৫; সুয়ূতী, দুর্রুল মানসূর: ৮/৫৪৯; হাইসামী, মাজমাউয ‍যাওয়াইদ: ৮/২৫৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ দুর্বল বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফা: ১৭৪৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «الضعيفة» (1746).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (3383)


3383 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ جَابَانَ، [ص:176] عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ وَلَدُ زِنْيَةٍ، وَلَا مَنَّانٌ، وَلَا عَاقٌّ، وَلَا مُدْمِنُ خَمْرٍ»
رقم طبعة با وزير = (3374) [ص:177] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: مَعْنَى نَفْيِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ وَلَدِ الزِّنْيَةِ دُخُولَ الْجَنَّةِ، وَوَلَدُ الزِّنْيَةِ لَيْسَ عَلَيْهِمْ مِنْ أَوْزَارِ آبَائِهِمْ وَأُمَّهَاتِهِمْ شَيْءٌ، أَنَّ وَلَدَ الزِّنْيَةِ عَلَى الْأَغْلَبِ يَكُونُ أَجْسَرَ عَلَى ارْتِكَابِ الْمَزْجُورَاتِ، أَرَادَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ وَلَدَ الزِّنْيَةِ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ جُنَّةً يَدْخُلُهَا غَيْرُ ذِي الزِّنْيَةِ مِمَّنْ لَمْ تَكْثُرْ جَسَارَتُهُ عَلَى ارْتِكَابِ الْمَزْجُورَاتِ «




আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জারজ সন্তান, দান করে খোটাদানকারী, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান এবং মদ্যপায়ী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না ।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জারজ সন্তান জান্নাতে না যাওয়ার কথা বলেছেন। -অথচ তার বাবা ও মা যা পাপ কাজ করেছে, তার কোন পাপ তার উপর বর্তাবে না- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথার মর্ম হলো জারজ সন্তান অধিকাংশ সময় নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য হলো যারা জারজ সন্তান নয়, তারা যে জান্নাতে যাবে, জারজ সন্তান সেই জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যেসব জারজ সন্তান নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়ার পরিমাণ কম হবে।”



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/২০৩; দারেমী: ২/১১২; নাসাঈ আল কুবরার বরাতে তুহফাতুল আহওয়াযী: ৬/২৮৩; তাহাবী, মুশকিলুল আসার: ৯১৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৬৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ দুর্বল বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহাহ: ৬৭৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «الصحيحة» (673).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (3384)


3384 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ نُبَيْطِ بْنِ شَرِيطٍ، عَنْ جَابَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَاقٌّ، وَلَا مَنَّانٌ، وَلَا مُدْمِنُ خَمْرٍ»
رقم طبعة با وزير = (3375) [ص:179] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: اخْتَلَفَ شُعْبَةُ، وَالثَّوْرِيُّ فِي إِسْنَادِ هَذَا الْخَبَرِ، فَقَالَ الثَّوْرِيُّ: عَنْ سَالِمٍ، عَنْ جَابَانَ، وَهُمَا ثِقَتَانِ حَافِظْانِ إِلَّا أَنَّ الثَّوْرِيَّ كَانَ أَعْلَمَ بِحَدِيثِ أَهْلِ بَلَدِهِ مِنْ شُعْبَةَ، وَأَحْفَظُ لَهَا مِنْهُ، وَلَا سِيَّمَا حَدِيثَ الْأَعْمَشِ، وَأَبِي إِسْحَاقَ، وَمَنْصُورٍ، فَالْخَبَرُ مُتَّصِلٌ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ جَابَانَ، فَمَرَّةٌ رُوِيَ كَمَا قَالَ شُعْبَةُ، وَأُخْرَى كَمَا قَالَ سُفْيَانُ




আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, দান করে খোটাদানকারী এবং মদ্যপায়ী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না ।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসের সনদ বর্ণনায় ইমাম শু‘বা ও ইমাম সুফিয়ান সাওরী রহিমাহুমুল্লাহ মতভেদ করেছেন। সুফিয়ান সাওরী রহিমাহুমুল্লাহ সালিমের সূত্রে জাবান থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই দুইজন রাবীই নির্ভরযোগ্য এবং হাদীসের হাফেয। তবে সুফিয়ান সাওরী রহিমাহুমুল্লাহ স্বীয় শহরের হাদীস বর্ণনায় ইমাম শু‘বাহ রহিমাহুল্লাহ অপেক্ষা বেশি অবগত ও সংরক্ষনকারী ছিলেন। বিশেষত, ইমাম আ‘মাশ, আবূ ইসহাক, মানসূর রহিমাহুমুল্লাহর হাদীস বর্ণনায়। সুতরাং সালিমের সূত্রে জাবান থেকে বর্ণিত হাদীস মুত্তাসিল। কাজেই হাদীসটি কোন কোন সময় ইমাম শু‘বার মতো বর্ণিত হয়েছে, আবার কোন কোন সময় সুফিয়ান সাওরী রহিমাহুমুল্লাহ যেভাবে বলেছেন, সেভাবে বর্ণিত হয়েছে।”



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/২০৩; দারেমী: ২/১১২; নাসাঈ আল কুবরার বরাতে তুহফাতুল আহওয়াযী: ৬/২৮৩; তাহাবী, মুশকিলুল আসার: ৯১৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৬৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ দুর্বল বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহাহ: ৬৭৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (3385)


3385 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلَانِيِّ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِأَصْحَابِهِ: «أَلَا تُبَايعُونِي؟ »، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ بَايَعْنَاكَ مَرَّةً، فَعَلَى مَاذَا نُبَايعُكَ؟، قَالَ: «تُبَايعُونِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا، وَأَنْ تُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَتُؤْتُوا الزَّكَاةَ»، ثُمَّ أَتْبَعَ ذَلِكَ كَلِمَةً خَفِيفَةً «عَلَى أَنْ لَا تَسْأَلُوا النَّاسَ شَيْئًا»
رقم طبعة با وزير = (3376) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا [ص:181] بِاللَّهِ شَيْئًا»، أَرَادَ بِهِ الْأَمْرَ بِتَرْكِ الشِّرْكِ، وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَلَى أَنْ لَا تَسْأَلُوا النَّاسَ شَيْئًا» أَرَادَ بِهِ الْأَمْرَ بِتَرْكِ الْمَسْأَلَةِ




আওফ বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার তাঁর সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমরা কি আমার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করবে না?” সাহাবীগণ জবাবে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা তো একবার বাইয়াত গ্রহণ করেছি, তবে এখন আমরা কিসের উপর বাইয়াত গ্রহণ করবো?” তিনি বলেন, “তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বাইয়াত গ্রহণ করবে যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত প্রদান করবে।” রাবী বলেন, “তারপর তিনি চুপিসারে বলেন, “(তোমরা বাইয়াত গ্রহণ করবে) এই মর্মে যে, তোমরা মানুষের কাছে কোন কিছু চাইবে না।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “এই মর্মে বাইয়াত গ্রহণ করবে যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শিরক বর্জন করার নির্দেশ। অনুরুপভাবে তাঁর ব্ক্তব্য “(তোমরা বাইয়াত গ্রহণ করবে) এই মর্মে যে, তোমরা মানুষের কাছে কোন কিছু চাইবে না” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো চাওয়া বর্জন করার নির্দেশ।”



[1] তাবারানী আল কাবীর: ১৮/৬৮; সহীহ মুসলিম: ১০৪৩; আবূ দাঊদ: ১৬৪২; নাসাঈ: ১/২২৯; ইবনু মাজাহ: ২৮৬৭; মুসনাদ আহমাদ: ৬/২৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৪৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1449): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3386)


3386 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، مَوْلَى ثَقِيفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُلَيَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ الطَّائِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عُقْبَةَ، قَالَ: قَالَ لَهُ الْحَجَّاجُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْأَلَنِي؟، فَقَالَ:، قَالَ سَمُرَةُ بْنُ جُنْدُبٍ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ هَذِهِ الْمَسْأَلَةَ كَدٌّ يَكُدُّ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ، فَمَنْ شَاءَ أَبْقَى عَلَى وَجْهِهِ، وَمَنْ شَاءَ تَرَكَ، إِلَّا أَنْ يَسْأَلَ ذَا سُلْطَانٍ أَوْ يَنْزِلَ بِهِ أَمْرٌ لَا يَجِدُ مِنْهُ بَدًّا»
رقم طبعة با وزير = (3377)




যাইদ বিন উকবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “হাজ্জাজ বিন ইউসূফ তাকে একবার বলেছিল, “আমার কাছে সাহায্য চাইতে তোমাকে কিসে বারণ করেছে?” জবাবে তিনি বলেন, “সামুরাহ বিন জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই এই ভিক্ষাবৃত্তি হলো জখম, এর দ্বারা মানুষ নিজের চেহারায় জখম করে। কাজেই যে ব্যক্তি চায়, সে তার চেহারায় তা বহাল রাখুন আর যে চায় তা ছেড়ে দিক। তবে শাসকের কাছে চাওয়া ব্যতীত অথবা এমন অবস্থা ব্যতীত, যেখানে কোন ব্যক্তির কাছে এমন কিছু নেমে আসে, যার কারণে তাকে অবধারিতভাবেই চাইতে হয়।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২০৮; তিরমিযী: ৬৮১; নাসাঈ: ৫/১০০; তাবারানী: ৬৭৬৬; বাগাবী: ১৬২৪; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৪৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1447).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3387)


3387 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا يُفْتَحُ إِنْسَانٌ عَلَى نَفْسِهِ بَابَ مَسْأَلَةٍ إِلَّا فَتْحَ اللَّهُ عَلَيْهِ بَابَ فَقْرٍ، لَأَنْ يَعْمِدَ الرَّجُلُ حَبْلًا إِلَى جَبَلٍ فَيَحْتَطِبَ عَلَى ظَهْرِهِ، وَيَأْكُلَ مِنْهُ خَيْرٌ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ مُعْطًى أَوْ مَمْنُوعًا»
رقم طبعة با وزير = (3378)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোন ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে ভিক্ষার দরজা খুলে নিলে, আল্লাহ তার জন্য অভাবের দরজা খুলে দেন। কোন ব্যক্তি কর্তৃক রশি নিয়ে পাহাড়ে যাওয়া অতঃপর পিঠে কাঠ বহন করে নিয়ে আসা অতঃপর তার মাধ্যমে খাদ্যের ব্যবস্থা করা উত্তম মানুষের কাছে চাওয়া থেকে, যেখানে তাকে সাহায্য দেওয়া হতে পারে অথবা না-ও দেওয়া হতে পারে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৪১৮; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৯৯৮-৯৯৯; সহীহুল বুখারী: ১৪৭০; নাসাঈ: ৫/৯৬; হুমাইদী: ১০৫৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২০৯; সহীহ মুসলিম: ১০৪২; তিরমিযী: ৬৮০; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯৫; বাগাবী: ১৬১৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৫৪৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2543).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3388)


3388 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ يَرْضَى لَكُمْ [ص:183] ثَلَاثًا، وَيَسْخَطُ لَكُمْ ثَلَاثًا، يَرْضَى لَكُمْ أَنْ تَعْبُدُوهُ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَأَنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا، وَأَنْ تَنَاصَحُوا مَنْ وَلَّاهُ اللَّهُ أَمَرَكُمْ، وَيَسْخَطُ لَكُمْ قِيلَ، وَقَالَ: وَإِضَاعَةَ الْمَالِ، وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ»
رقم طبعة با وزير = (3379)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের তিনটি জিনিস পছন্দ করেন এবং তিনটি জিনিস অপছন্দ করেন। তোমাদের জন্য পছন্দ করেন এটা যে, তোমরা তাঁর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, তোমরা সবাই সমবেতভাবে আল্লাহর রশিকে আকড়ে ধরবে এবং আল্লাহ তোমাদের শাসনভারের দায়িত্ব যাকে অর্পণ করবেন, তোমরা তাকে সদুপদেশ দিবে। তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেন অনর্থক কথাবার্তা বলা, সম্পদ অপচয় করা এবং অধিক যাঞ্ছা করা।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৯৯০; ইমাম বুখারী, আদাবুল মুফরাদ: ৪৪২; বাগাবী: ১০১; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩২৭; সহীহ মুসলিম: ১৭১৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৬৮৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (685): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3389)


3389 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَحْطَبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبَانَ الْقُرَشِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ دِينَارٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَخِيهِ، سَمِعَهُ مِنْ مُعَاوِيَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُلْحِفُوا فِي [ص:184] الْمَسْأَلَةِ، فَوَاللَّهِ لَا يَسْأَلُنِي أَحَدٌ مِنْكُمْ شَيْئًا فَتُخْرِجَ لَهُ مَسْأَلَتُهُ مِنِّي شَيْئًا، وَأَنَا لَهُ كَارِهٌ، فَيُبَارَكُ لَهُ فِيهِ»
رقم طبعة با وزير = (3380)




মুআবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা নাছোড় হয়ে সাহায্য প্রার্থনা করবে না। আল্লাহর কসম, যে কোন ব্যক্তি আমার কাছে কোন কিছু চাইলে, যদি আমি তাকে অপছন্দ অবস্থায় কিছু দান করি, তাহলে তাকে তাতে বারাকাহ দেওয়া হবে না।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৯৮; দারেমী: ১/৩৮৭; হুমাইদী: ৬০৪; সহীহ মুসলিম: ১০৩৮; নাসাঈ: ৫/৯৭-৯৮; তাবারানী আল কাবীর: ১৯/৮০৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩৮০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3390)


3390 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الرِّجَالِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، [ص:185] عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَنْ سَأَلَ وَلَهُ أُوقِيَّةٌ فَهُوَ مُلْحِفٌ»، قَالَ: قُلْتُ: الْيَاقُوتَةُ نَاقَتِي خَيْرٌ مِنْ أُوقِيَّةٍ، قَالَ: وَالْأُوقِيَّةُ أَرْبَعُونَ دِرْهَمًا
رقم طبعة با وزير = (3381)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সাহায্য চায়, অথচ তার কাছে এক উকিয়া রয়েছে, তবে সে মুলহিফ (নাছোড় প্রার্থী)।” রাবী বলেন, “আমি বললাম, আমার ইয়াকূতাহ উষ্ট্রীটি তো এক উকিয়ার চেয়ে উত্তম।” রাবী বলেন, “এক উকিয়া হলো ৪০ দিরহাম (এক দিরহাম সমান ২. ৯৭৫ গ্রাম) রুপা।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৭; আবূ দাঊদ: ১৬২৮; নাসাঈ: ৫/৯৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৪৭; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৬; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৯৯৯; মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৪০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (1440).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (3391)


3391 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَرَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ السَّكَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ: [ص:186] قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَأَلَ النَّاسَ لِيُثْرِيَ مَالَهُ فَإِنَّمَا هُوَ رَضْفٌ مِنَ النَّارِ يَتَلَهَّبُهُ، مَنْ شَاءَ فَلْيُقِلَّ، وَمَنْ شَاءَ فَلْيُكْثِرْ»
رقم طبعة با وزير = (3382)




উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সম্পদ বৃদ্ধির জন্য মানুষের কাছে সাহায্য চায়, তবে সেটা হলো তপ্ত পাথর, যা তাকে জ্বালিয়ে দিবে। কাজেই যে চায়, সেটা কম করুক আর যে চায় তা বেশি করুক।”[1]



[1] ইমাম সুয়ূতী, আল জামিউল কাবীর: ২/৭৮২; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২০৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৬০৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 5 - 6).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (3392)


3392 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الرَّجُلَ يَأْتِينِي مِنْكُمْ لَيَسْأَلَنِي فَأُعْطِيهِ، فَيَنْطَلِقُ وَمَا يَحْمِلُ فِي حِضْنِهِ إِلَّا النَّارَ»
رقم طبعة با وزير = (3383)




জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি আমার কাছে এসে সাহায্য চায়, অতঃপর আমি তাকে প্রদান করি। তারপর সে চলে যায়। অথচ তার কোলে জাহান্নামের আগুন ছাড়া কিছুই বহন করে না।”[1]



[1] আবদ বিন হুমাইদ: ১১১৩; ইমাম সুয়ূতী, আল জামিউল কাবীর: ১/১৯৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق» -أيضا- (2/ 8).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3393)


3393 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: [ص:187] حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَمَنْ سَأَلَ النَّاسَ مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَإِنَّمَا يَسْأَلُ جَمْرًا، فَلْيَسْتَقِلَّ مِنْهُمْ أَوْ لِيَسْتَكْثِرْ»
رقم طبعة با وزير = (3384)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ চেয়ে নেয়, বস্তুত সে আগুনের অঙ্গার চেয়ে নেয়। কাজেই সে চাইলে তা বেশি করুক, অথবা কম করুক।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২০৮-২০৯; ইবনু মাজাহ: ১৮৩৮; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৩১; সহীহ মুসলিম: ১০৪১; মুসনাদ আশ শিহাব: ৫২৫; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩৮৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3394)


3394 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُكْرَمٍ الْبِرْتِيُّ، بِبَغْدَادَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنَ جَابِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو كَبْشَةَ السَّلُولِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ سَهْلَ بْنَ الْحَنْظَلِيَّةِ صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّ الْأَقْرَعَ وَعُيَيْنَةَ سَأَلَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا، فَأَمَرَ مُعَاوِيَةَ أَنْ يَكْتُبَ بِهِ لَهُمَا، وَخَتَمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَمَرَ بِدَفْعِهِ إِلَيْهِمَا، فَأَمَّا عُيَيْنَةَ فَقَالَ: مَا فِيهِ؟، فَقَالَ: فِيهِ الَّذِي أَمَرْتَ بِهِ، فَقَبَّلَهُ وَعَقْدَهُ فِي عِمَامَتِهِ، وَكَانَ أَحْلَمَ الرَّجُلَيْنِ، وَأَمَّا الْأَقْرَعُ فَقَالَ: أَحْمِلُ صَحِيفَةً [ص:188] لَا أَدْرِي مَا فِيهَا كَصَحِيفَةِ الْمُتَلَمِّسِ، فَأَخْبَرَ مُعَاوِيَةُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَوْلِهِمَا، وَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَاجَتِهِ، فَمَرَّ بِبَعِيرٍ مُنَاخٍ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ فِي أَوَّلِ النَّهَارِ، ثُمَّ مَرَّ بِهِ فِي آخِرِ النَّهَارِ، وَهُوَ فِي مَكَانِهِ، فَقَالَ: «أَيْنَ صَاحِبُ هَذَا الْبَعِيرِ»، فَابْتُغِيَ فَلَمْ يُوجَدْ، فَقَالَ: «اتَّقُوا اللَّهَ فِي هَذِهِ الْبَهَائِمِ، ارْكَبُوهَا صِحَاحًا، وَكُلُوهَا سِمَانًا، كَالْمُتَسَخِّطِ آنِفًا، إِنَّهُ مَنْ سَأَلَ شَيْئًا وَعِنْدَهُ مَا يُغْنِيهِ فَإِنَّمَا يَسْتَكْثِرُ مِنْ جَمْرِ جَهَنَّمَ»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا يُغْنِيهِ؟، قَالَ: «مَا يُغَدِّيهِ، أَوْ يُعَشِّيهِ»
رقم طبعة با وزير = (3385) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا يُغَدِّيهِ، أَوْ يُعَشِّيهِ»، أَرَادَ بِهِ عَلَى دَائِمِ الْأَوْقَاتِ حَتَّى يَكُونَ مُسْتَغْنِيًا بِمَا عِنْدَهُ، أَلَا تَرَاهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي خَبَرِ أَبِي هُرَيْرَةَ: «لَا تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ، وَلَا لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ» فَجَعَلَ الْحَدَّ الَّذِي تَحْرُمُ الصَّدَقَةُ عَلَيْهِ بِهِ هُوَ الْغِنَى عَنِ النَّاسِ، وَبِيَقِينٍ نَعْلَمُ أَنَّ وَاجِدَ الْغَدَاءِ أَوِ الْعِشَاءِ لَيْسَ مِمَّنِ اسْتَغْنَى عَنْ غَيْرِهِ حَتَّى تَحْرُمَ عَلَيْهِ الصَّدَقَةُ، عَلَى أَنَّ الْخِطَابَ وَرَدَ فِي هَذِهِ الْأَخْبَارِ بِلَفْظِ الْعُمُومِ، وَالْمُرَادُ مِنْهُ صَدَقَةُ الْفَرِيضَةِ دُونَ التَّطَوُّعِ




সাহল বিন হানযালাহ আল আনসারী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই ‘উআইনা এবং আকরা‘রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে কিছু সাহায্য চান। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করেন, তাদের জন্য অনুদান লিখে দিতে। মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাই করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাতে সীল মোহর মেরে দেন এবং সেটি তাদেরকে প্রদান করার নির্দেশ দেন। অতঃপর ‘উআইনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করেন, “এতে কী রয়েছে?” মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমাকে যা লিখে দেওয়ার আদেশ করা, এতে তাই রয়েছে।” অতঃপর ‘উআইনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তা গ্রহণ করেন এবং সেটি তাঁর পাগড়ীর সাথে বেঁধে নেন। তিনি তাদের মাঝে বেশি ধৈর্যশীল ছিলেন। আর আকরা‘ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি কি মুতালামমিসের চিঠির মতো[1] এমন চিঠি বহন করে নিয়ে যাবো, যেখানে আমি জানি না যে, সেখানে কী রয়েছে?” তারপর মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাদের উভয়ের কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে বর্ণনা করেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কোন এক প্রয়োজনে বের হলেন। এসময় তিনি একটি উটের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যা মসজিদে নববীর দরজার পাশে দিনের প্রথম প্রহরে বাঁধা ছিল। তারপর তিনি দিনের শেষ ভাগে আবার সেখান দিয়ে অতিক্রম করেন, সেসময়ও উটটি সেই অবস্থাতেই ছিল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “এই উটের মালিক কোথায়?”অতঃপর তাকে খোঁজা হলো কিন্তু পাওয়া গেলো না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমরা এসব চতুষ্পদ প্রাণীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করবে। সুস্থ অবস্থায় তোমরা এদের উপর আরোহন করবে এবং মোটা-তাজা অবস্থায় (জবেহ করে গোসত) ভক্ষন করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেন গোস্বা অবস্থায় বলেন: “নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মানুষের কাছে সাহায্য চায়, অথচ তার কাছে এই পরিমাণ সম্পদ আছে, যা দিয়ে মানুষের কাছে চাওয়া থেকে অমুখাপেক্ষী থাকতে পারে, তবে সে ব্যক্তি (এর মাধ্যমে) জাহান্নামের অঙ্গার বৃদ্ধি করে নেয়। রাবী বলেন: “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে, একজন ব্যক্তি মানুষের কাছে চাওয়া থেকে অমুখাপেক্ষী থাকতে পারে?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “ যখন তার কাছে সকাল ও সন্ধার খাবার মজুদ থাকে।”[2] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যখন তার কাছে সকাল ও সন্ধার খাবার মজুদ থাকে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সব সময় দুই বেলা খাবার থাকে, এভাবে সে অন্যের কাছে চাওয়া থেকে মুখাপেক্ষীহীন থাকে। তুমি কি দেখো না যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বলেছেন, “ধনী ও সুস্থ-সবল মানুষের জন্য সাদাকাহ বৈধ নয়।” এখানে তিনি সাদাকাহ হারাম হওয়ার জন্য যে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সেটা হলো মানুষের থেকে মুখাপেক্ষীহীন থাকা। আর এটা আমরা নিশ্চিতভাবেই জানি যে, সকাল ও রাতের খাবার প্রাপ্ত ব্যক্তি অন্যের থেকে মুখাপেক্ষীহীন নয় যে, তার উপর সাদাকাহ হারাম হবে। বস্তুত এসব হাদীসে বক্তব্য আমভাবে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফরয সাদাকাহ; নফল সাদাকাহ নয়।”



[1] মুতালামমিস হিরাতের একজন কবি ছিলেন।তিনি সেখানে কাবূস বিন হিনদ ও আমর বিন হিনদের কাছে দীর্ঘদিন অবস্থান করার ফলে বিরক্তি বোধ করেন। ফলে তিনি তাদের কাছে বাহরাইনে যাওয়ার অনুমতি চান। তারা তাকে অনুমতি দেন এবং তার হাতে বাহরাইনের গভর্ণরের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি দেন। অতঃপর তিনি নাজাফ নামক জায়গায় পৌঁছে চিঠির বিষয়বস্তু জানার জন্য আগ্রহী হন। অতঃপর তিনি ভালো পড়তে জানে এরকম এক গোলামকে চিঠিটি পড়তে বলেন। অতঃপর তিনি দেখেন যে, সেখানে বাহরাইনের গভর্ণরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাকে হত্যা করার জন্য! অতঃপর তিনি চিঠিটি পানিতে ছুড়ে ফেলে দেন। এবং একটি কবিতা আবৃতি করেন। এরপর থেকে এটি আরবে উপমা হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে।



[2] মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৮০, ১৮১; আবু দাউদ: ১৬২৯; তাবারানী, আল কাবীর: ৫৬২০। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ১৪৪১।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1441).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3395)


3395 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ [ص:189] إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِئَابٍ، عَنْ كِنَانَةَ الْعَدَوِيِّ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ قَبِيصَةَ بْنِ الْمُخَارِقِ فَاسْتَعَانَ بِهِ نَفَرٌ مِنْ قَوْمِهِ فِي نِكَاحِ رَجُلٍ مِنْ قَوْمِهِ، فَأَبَى أَنْ يُعْطِيَهُمْ شَيْئًا، فَانْطَلَقُوا مِنْ عِنْدِهِ، قَالَ كِنَانَةُ: فَقُلْتُ لَهُ: أَنْتَ سَيِّدُ قَوْمِكَ، وَأَتَوْكَ يَسْأَلُونَكَ، فَلَمْ تُعْطِهِمْ شَيْئًا، قَالَ: أَمَّا فِي هَذَا، فَلَا أُعْطِي شَيْئًا، وَسَأُخْبِرُكَ عَنْ ذَلِكَ، تَحَمَّلْتُ بِحَمَالَةٍ فِي قَوْمِي، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخْبَرْتُهُ وَسَأَلْتُهُ أَنْ يُعِينَنِي، فَقَالَ: «بَلْ نَحْمِلُهَا عَنْكَ يَا قَبِيصَةُ، وَنُؤَدِّيهَا إِلَيْهِمْ مِنْ إِبِلِ الصَّدَقَةِ»، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ إِلَّا لِثَلَاثٍ: رَجُلٍ تَحَمَّلَ حَمَالَةً، فَقَدْ حَلَّتْ لَهُ حَتَّى يُؤَدِّيَهَا، أَوْ رَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ فَاجْتَاحَتْ مَالَهُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ أَوْ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ فَشَهِدَ لَهُ ثَلَاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ أَنْ قَدْ حَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ، فَقَدْ حَلَّتْ لَهُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ، أَوْ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، وَالْمَسْأَلَةُ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ سُحْتٌ»
رقم طبعة با وزير = (3386) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ «وَالْمَسْأَلَةُ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ سُحْتٌ» أَرَادَ بِهِ أَنَّ الْمَسْأَلَةَ فِي سِوَى هَذِهِ الْأَشْيَاءِ الثَّلَاثَةِ مِنَ السُّلْطَانِ عَنْ فَضْلِ حِصَّتِهِ مِنْ بَيْتِ الْمَالِ سُحْتٌ، لِأَنَّ الْمَسْأَلَةَ فِي غَيْرِ هَذِهِ الْخِصَالِ الثَّلَاثَةِ مِنْ غَيْرِ السُّلْطَانِ عَنْ غَيْرِ بَيْتِ مَالِ الْمُسْلِمِينَ تَكُونَ سُحْتًا إِذَا كَانَ الْإِنْسَانُ غَيْرَ مُسْتَغْنٍ بِمَا عِنْدَهُ




কিনানাহ আল আদাবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি একবার কবীসাহ বিন মুখারিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে ছিলাম। এমন সময় তার কওমের কিছু লোক এক ব্যক্তির বিবাহের জন্য তার কাছে সাহায্য চান। কিন্তু তিনি তাদেরকে কিছু সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অতঃপর তারা সেখান থেকে চলে যান।” কিনানাহ আল আদাবী বলেন, “তখন আমি তাকে বললাম, “আপনি আপনার সম্প্রদায়ের নেতা। আর তারা আপনার কাছে সাহায্য চাইতে এসেছিলেন, কিন্তু আপনি তাদেরকে কিছুই দিলেন না!” তখন তিনি জবাবে বলেন, “এই ব্যাপারে আমি কোন কিছুই দিবো না। অচিরেই আমি এই সম্পর্কে তোমাকে হাদীস বলবো। একবার আমি আমার কওমের এক ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব গ্রহণ করি। অতঃপর আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করি এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাই। তখন তিনি বলেন, “হে কবীসা, বরং আমরা সেই ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব তোমার থেকে আমরা গ্রহণ করে নিলাম। আমরা যাকাতের উট থেকে তা পরিশোধ করে দিবো। তারপর তিনি বলেন, “চাওয়া কেবল তিন শ্রেণির মানুষের জন্য বৈধ। (১) ঐ ব্যক্তি যে অন্যের ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব নেয়। তবে তার জন্য তা পরিশোধ না করা পর্যন্ত মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া বৈধ (২) ঐ ব্যক্তি যাকে কোন দুর্যোগ পেয়ে বসে অতঃপর তার সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায়। তবে তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ, যতদিন না তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এবং (৩) যে ব্যক্তি দারিদ্র হয়ে পড়ে, অতঃপর তার কওমের তিনজন জ্ঞানী লোক তার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়, তাহলে তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ, যতদিন না সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। এছাড়া অন্য কোন কারণে ভিক্ষা করা হারাম।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের বাণী “এছাড়া অন্য কোন কারণে ভিক্ষা করা হারাম” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, বাইতুল মাল থেকে তার প্রাপ্য অংশের অতিরিক্ত সম্পদ এই তিন কারণ ছাড়া মুসলিম শাসকের কাছে চাওয়া হারাম। কেননা বাইতুল ব্যতীত এবং শাসক ব্যতীত অন্যের কাছে সাহায্য চাওয়া হারাম হবে, যখন সে চাওয়া থেকে মুখাপেক্ষীহীন থাকবে।”



[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০০৮; তাবারানী আল কাবীর: ১৮/৯৪৬; বাগাবী: ১৬২৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৭৭; হুমাইদী: ৮১৯; দারেমী: ১/৩৯৬; সহীহ মুসলিম: ১০৪৪; আবূ দাঊদ: ১৬৪০; নাসাঈ: ৫/৮৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৩৫৯; ইবনুল জারুদ: ৩৬৭; তাহাবী: ২/১৭-১৮; তাবারানী: ২/১১৯-১২০; সুনান বাইহাকী: ৬/৭৩; দারাকুতনী: ২/১১৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৮৬৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1448): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3396)


3396 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا حَوْثَرَةُ بْنُ أَشْرَسَ الْعَدَوِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِئَابٍ، عَنْ كِنَانَةَ بْنِ نُعَيْمٍ الْعَدَوِيِّ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ الْهِلَالِيِّ، قَالَ: تَحَمَّلْتُ حَمَالَةً، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْأَلُهُ مِنْهَا، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَقِمْ يَا قَبِيصَةُ حَتَّى تَجِيئَنَا الصَّدَقَةُ فَنَأْمُرَ لَكَ بِهَا»، ثُمَّ قَالَ: «يَا قَبِيصَةُ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ إِلَّا لِإِحْدَى ثَلَاثٍ: رَجُلٍ تَحَمَّلَ بِحَمَالَةٍ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَهَا ثُمَّ يُمْسِكَ، وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ فَاجْتَاحَتْ مَالَهُ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ، أَوْ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُولَ ثَلَاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ: لَقَدْ أَصَابَتْ فُلَانًا فَاقَةٌ، فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ، أَوْ قَالَ: سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، وَمَا سِوَاهُنَّ مِنَ الْمَسْأَلَةِ سُحْتٌ يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا»
رقم طبعة با وزير = (3387)




কবীসাহ বিন মুখারিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আমি আমার কওমের এক ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব গ্রহণ করি। অতঃপর আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাঁর কাছে সাহায্য চাই। তখন তিনি বলেন, “হে কবীসা, দাঁড়াও, আমাদের কাছে সাদাকাহ আসলে সেখান থেকে তোমাকে দেওয়ার নির্দেশ দিবো।” তারপর তিনি বলেন, “হে কবীসা, চাওয়া কেবল তিন শ্রেণির মানুষের জন্য বৈধ। (১) ঐ ব্যক্তি যে অন্যের ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব নেয়। তবে তার জন্য তা পরিশোধ না করা পর্যন্ত মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া বৈধ, (২) ঐ ব্যক্তি যাকে কোন দুর্যোগ পেয়ে বসে অতঃপর তার সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায়। তবে তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ, যতদিন না তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এবং (৩) যে ব্যক্তি দারিদ্র হয়ে পড়ে, অতঃপর তার কওমের তিনজন জ্ঞানী লোক তার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়, তাহলে তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ, যতদিন না সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। এছাড়া অন্য কোন কারণে ভিক্ষা করা হারাম। এরকম সাহায্যপ্রার্থী হারাম ভক্ষন করে।”[1]



[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০০৮; তাবারানী আল কাবীর: ১৮/৯৪৬; বাগাবী: ১৬২৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৭৭; হুমাইদী: ৮১৯; দারেমী: ১/৩৯৬; সহীহ মুসলিম: ১০৪৪; আবূ দাঊদ: ১৬৪০; নাসাঈ: ৫/৮৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৩৫৯; ইবনুল জারুদ: ৩৬৭; তাহাবী: ২/১৭-১৮; তাবারানী: ২/১১৯-১২০; সুনান বাইহাকী: ৬/৭৩; দারাকুতনী: ২/১১৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৮৬৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3397)


3397 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ سَعِيدٍ السَّعْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا [ص:191] عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّمَا الْمَسَائِلُ كُدُوحٌ يَكْدَحُ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ، فَمَنْ شَاءَ أَبْقَى عَلَى وَجْهِهِ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَ، إِلَّا أَنْ يَسْأَلَ ذَا سُلْطَانٍ أَوْ فِي أَمْرٍ لَا يَجِدُ مِنْهُ بُدًّا»
رقم طبعة با وزير = (3388)




সামুরাহ বিন জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই এই ভিক্ষাবৃত্তি হলো জখম, এর দ্বারা মানুষ নিজের চেহারায় জখম করে। কাজেই যে ব্যক্তি চায়, সে তার চেহারায় তা বহাল রাখুন আর যে চায় তা ছেড়ে দিক। তবে শাসকের কাছে চাওয়া ব্যতীত অথবা এমন অবস্থা ব্যতীত, যেখানে কোন ব্যক্তির কাছে এমন পরিস্থিতি নেমে আসে, যার কারণে তাকে অবধারিতভাবেই চাইতে হয়।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২০৮; তিরমিযী: ৬৮১; নাসাঈ: ৫/১০০; তাবারানী: ৬৭৬৬; বাগাবী: ১৬২৪; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৪৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر (3377). تنبيه!! رقم (3377) = (3386) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3398)


3398 - أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى السَّاجِيُّ، بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَهُ، فَسَمِعْتُهُ يَخْطُبُ، وَهُوَ يَقُولُ: «مَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَمَنْ [ص:192] يَسْتَعْفِفْ يُعِفُّهُ اللَّهُ، وَمَنْ سَأَلَنَا أَعْطَيْنَاهُ»، قَالَ: فَرَجَعْتُ وَلَمْ أَسْأَلْهُ، فَأَنَا الْيَوْمَ أَكْثَرُ الْأَنْصَارِ مَالًا
رقم طبعة با وزير = (3389)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সাহায্য চাওয়ার জন্য আসি। অতঃপর আমি এসে তাঁকে খুতবায় বলতে শুনি, তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি মানুষের থেকে মুখাপেক্ষীহীন থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে মুখাপেক্ষীহীন রাখেন, যে ব্যক্তি নিষ্কলুষ থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে নিষ্কলুষ রাখেন আর যে ব্যক্তি আমার কাছে সাহায্য চাইবে, আমরা তাকে প্রদান করবো।” রাবী বলেন, “তারপর আমি তাঁর কাছে কোন কিছু না চেয়ে চলে আসি। আর আজ আমি আনসারদের মাঝে সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী।”[1]



[1] আত তায়ালিসী: ২২১১; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২১১; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩; আবূ ইয়ালা: ১১২৯; নাসাঈ: ৫/৯৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৫১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (1451).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3399)


3399 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ وَرْدَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ أَهْلَهُ شَكَوْا إِلَيْهِ الْحَاجَةَ، فَخَرَجَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيَسْأَلَهُ لَهُمْ شَيْئًا، فَوَافَقَهُ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَهُوَ يَقُولُ: «أَيُّهَا النَّاسُ، قَدْ آنَ لَكُمْ أَنْ تَسْتَغْنُوا عَنِ الْمَسْأَلَةِ، فَإِنَّهُ مَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفُّهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ مَا رُزِقَ عَبْدٌ شَيْئًا أَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ، وَلَئِنْ أَبَيْتُمْ إِلَّا أَنْ تَسْأَلُونِي لَأُعْطِيَنَّكُمْ مَا وَجَدْتُ»
رقم طبعة با وزير = (3390)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তার পরিবার একবার তার কাছে অভাবের অনুযোগ করেন। অতঃপর তিনি তাদের জন্য সাহায্য চাওয়ার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসেন। অতঃপর তিনি তাকে মিম্বারের উপর দেখতে পান। এসময় তিনি বলছিলেন, “হে লোকসকল, তোমাদের জন্য সময় এসেছে চাওয়া থেকে বিরত থাকা। কেননা যে ব্যক্তি নিষ্কলুষ থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে নিষ্কলুষ রাখবেন, আর যে ব্যক্তি মানুষের থেকে মুখাপেক্ষীহীন থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে মুখাপেক্ষীহীন রাখবেন। ঐ সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রাণ, কোন বান্দাকে সবরের চেয়ে প্রশস্ত রিযিক প্রদান করা হয় না। যদি তোমরা অগত্যা সাহায্য চাও, তবে আমি সাধ্য অনুযাযী প্রদান করবো।”[1]



[1] আত তায়ালিসী: ২২১১; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২১১; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩; আবূ ইয়ালা: ১১২৯; নাসাঈ: ৫/৯৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৫১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3400)


3400 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ نَاسًا مِنَ الْأَنْصَارِ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَاهُمْ، ثُمَّ سَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ حَتَّى إِذَا نَفِدَ مَا عِنْدَهُ، قَالَ: «مَا يَكُنْ عِنْدِي مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ أَدَّخِرَهُ عَنْكُمْ، وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفُّهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ، وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ عَطَاءً هُوَ خَيْرٌ وَأَوْسَعُ مِنَ الصَّبْرِ»
رقم طبعة با وزير = (3391)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “কিছু লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সাহায্য চান। অতঃপর তিনি তাদেরকে দান করেন। অতঃপর তাঁর কাছে যা ছিলো, যখন তা শেষ হয়ে যায়, তখন তিনি বলেন, “আমার কাছে যা থাকে, সেটা আমি তোমাদের না দিয়ে কখনই জমা করে রাখব না। আর যে ব্যক্তি নিষ্কলুষ থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে নিষ্কলুষ রাখবেন, আর যে ব্যক্তি মানুষের থেকে মুখাপেক্ষীহীন থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে মুখাপেক্ষীহীন রাখবেন। যে সবর করতে চায়, মহান আল্লাহ তাকে সবর করার তাওফীক দান করেন। আর কোন ব্যক্তিকে সবরের চেয়ে উত্তম ও প্রশস্ত কোন কিছু প্রদান করা হয় না।”[1]



[1] আত তায়ালিসী: ২২১১; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২১১; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩; আবূ ইয়ালা: ১১২৯; নাসাঈ: ৫/৯৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৩১৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2314): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما