হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (3672)


3672 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، وَعَمْرَةَ، [ص:430] عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اعْتَكَفَ أَدْنَى إِلَيَّ رَأْسَهُ فَأُرَجِّلُهُ، فَكَانَ لَا يَدْخُلُ الْبَيْتَ إِلَّا لِحَاجَةِ الْإِنْسَانِ»
رقم طبعة با وزير = (3664)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ই‘তেকাফ করতেন, তখন তিনি স্বীয় মাথা আমার দিকে বাড়িয়ে দিতেন অতঃপর আমি তা আচড়িয়ে দিতাম। আর তিনি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাড়িতে প্রবেশ করতেন না।”[1]



[1] আবূ দাঊদ: ২৪৬৮; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৮১; সহীহুল বুখারী: ২০২৯; সহীহ মুসলিম: ২৭৯; ইবনু মাজাহ: ১৭৭৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৩০; বাগাবী: ১৮৩৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৮৮; বাগাবী: ১৮৩৭; নাসাঈ: ১/১৯৩; সুনান বাইহাকী: ১/৩০৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২১৩২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - وهو مكرر (3661)؛ فانظره. تنبيه!! رقم (3661) = (3669) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3673)


3673 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْوُسْطَى مِنْ رَمَضَانَ، فَاعْتَكَفَ عَامًا حَتَّى إِذَا كَانَ لَيْلَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ، وَهِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي يَخْرُجُ صَبِيحَتَهَا مِنِ اعْتِكَافِهِ، قَالَ: «مَنِ اعْتَكَفَ مَعِي فَلْيَعْتَكِفَ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ، وَقَدْ رَأَيْتُ [ص:431] هَذِهِ اللَّيْلَةُ ثُمَّ أُنْسِيتُهَا، وَقَدْ رَأَيْتُنِي أَسْجُدُ مِنْ صَبِيحَتِهَا فِي مَاءٍ وَطِينٍ، فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، وَالْتَمِسُوهَا فِي كُلِّ وِتْرٍ. قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ: فَأَمْطَرَتِ السَّمَاءُ تِلْكَ اللَّيْلَةَ، وَكَانَ الْمَسْجِدُ عَلَى عَرِيشٍ فَوَكَفَ الْمَسْجِدُ، قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: فَأَبْصَرَتْ عَيْنَايَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْصَرَفَ عَلَيْنَا وَعَلَى جَبْهَتِهِ وَأَنْفِهِ أَثَرُ الْمَاءِ وَالطِّينِ مِنْ صَبِيحَةِ إِحْدَى وَعِشْرِينَ
رقم طبعة با وزير = (3665)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের মধ্য দশকে ই‘তেকাফ করতেন। এক বছর তিনি এভাবে ই‘তেকাফ করেন। অতঃপর যখন একুশে রাত হয়, আর এটা এমন রাত, যে রাতের ভোরে ই‘তেকাফের স্থান থেকে বের হওয়া হতো। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি আমার সাথে ই‘তেকাফ করেছে, সে যেন শেষ দশকে ই‘তেকাফ করে। আমাকে এই রাতটি (স্বপ্নে) দেখানো হয়েছিল, তারপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেকে দেখেছি যে, সেই রাতের ভোরে আমি পানি ও কাদা মাটিতে সাজদা করছি। কাজেই তোমরা এটাকে শেষ দশকে তালাশ করো এবং তোমরা এটাকে প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ করবে।” আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “অতঃপর সেই রাতে বৃষ্টি হয় আর সে সময় মাসজিদটি চালাঘর ছিল। ফলে ফোটায় ফোটায় পানি পড়তে থাকে।” আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমার দু'চোখ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছে, তিনি আমাদের দিকে মুখ ফেরান, সে সময় তাঁর কপাল ও নাকে পানি ও কাদা মাটির চিহ্ন ছিল। এটা ২১ তম রাতের ভোরে হয়েছিল।[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৩১৯; সহীহুল বুখারী: ২০২৭; আবূ দাঊদ: ১৩৮২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৪৩; সুনান বাইহাকী: ৪/৩০৯; বাগাবী: ১৮২৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৭; হুমাইদী: ৭৫৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৫১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1251): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3674)


3674 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجُنَيْدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُجَاوِرُ فِي [ص:432] الْعَشْرِ الَّذِي فِي وَسَطِ الشَّهْرِ، فَإِذَا كَانَ مِنْ حِينَ يَمْضِي عِشْرُونَ لَيْلَةً، وَيَسْتَقْبِلُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ لَمْ يَرْجِعْ إِلَى مَسْكَنِهِ، وَرَجَعَ مَنْ كَانَ يُجَاوِرُ مَعَهُ، ثُمَّ إِنَّهُ أَقَامَ فِي شَهْرٍ جَاوَرَ فِيهِ حَتَّى كَانَ تِلْكَ اللَّيْلَةَ الَّتِي يَرْجِعُ فِيهَا، فَخَطَبَ النَّاسَ، وَأَمَرَهُمْ بِمَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ قَالَ: «إِنِّي كُنْتُ أُجَاوِرُ هَذِهِ الْعَشْرَ، ثُمَّ بَدَا لِي أَنْ أُجَاوِرَ هَذِهِ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ، وَمَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعِي فَلْيَلْبَثْ فِي مُعْتَكَفِهِ، وَقَدْ أُرِيتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ فَأُنْسِيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِي كُلِّ وِتْرٍ، وَقَدْ رَأَيْتُنِي أَسْجُدُ فِي مَاءٍ وَطِينٍ»، قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ: فَنَظَرْنَا لَيْلَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ فَوَكَفَ الْمَسْجِدُ فِي مُصَلَّى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ وَقَدِ انْصَرَفَ مِنْ صَلَاةِ الصُّبْحِ وَوَجْهُهُ مُمْتَلِئٌ طِينًا وَمَاءً
رقم طبعة با وزير = (3666)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের মধ্যম দশকে ই‘তেকাফ করতেন। অতঃপর যখন ২০ রাত গত হতো এবং ২১ তম রাত আগমন করে, তখন তিনি স্বীয় বাসস্থানে ফিরে আসতেন না এবং যারা তাঁর সাথে ই‘তে কাফ করতেন, তারা চলে যেতেন। তারপর তিনি রমযানের এক মাসে মুকীম ছিলেন। সেই মাসে তিনি ই‘তেকাফ করেন। অতঃপর যখন ই‘তেকাফ থেকে ফিরে আসার রাত আসলো, তখন তিনি লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি তাদেরকে বিভিন্ন আদেশ করেন, যা আল্লাহ চান। তারপর তিনি বলেন, “আমি এই দশক ই‘তেকাফ করছিলাম। তারপর আমার মনে হলো যে, আমি শেষ দশকেও ই‘তেকাফ করবো। আর যে ব্যক্তি আমার সাথে ই‘তেকাফ করেছে, সে যেন তার ই‘তেকাফের স্থানে অবস্থান করে। অবশ্যই আমাকে এই রাতটি (স্বপ্নে) দেখানো হয়েছিল, অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়। কাজেই তোমার এটাকে শেষ দশকে প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ করো। আমি নিজেকে দেখেছি যে, আমি পানি ও কাদা মাটিতে সাজদা করছি।” আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “অতঃপর আমরা ২১ তম রাত লক্ষ্য করি। এসময় মসজিদের চাল থেকে ফোটায় ফোটায় পানি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের স্থানে পড়ছিল। সালাত শেষ করার পর আমি তাঁর চেহারায় প্রচুর পানি ও কাদা মাটি দেখতে পাই।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৩১৯; সহীহুল বুখারী: ২০২৭; আবূ দাঊদ: ১৩৮২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৪৩; সুনান বাইহাকী: ৪/৩০৯; বাগাবী: ১৮২৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৭; হুমাইদী: ৭৫৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৫১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3675)


3675 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رِجَالًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرُوا لَيْلَةَ [ص:433] الْقَدْرِ فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ عَلَى السَّبْعِ، فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ»
رقم طبعة با وزير = (3667)




আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বেশ কয়েকজন সাহাবীকে লাইলাতুল কদর শেষ সাত রাতে (স্বপ্নে) দেখানো হয়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি মনে করি, তোমাদের স্বপ্নগুলো সাতের ব্যাপারে মিল রয়েছে। কাজেই যে ব্যক্তি তা তালাশ করতে চায়, সে যেন তা শেষ সাতে তালাশ করে।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৩২১; সহীহুল বুখারী: ২০১৫; সহীহ মুসলিম: ১১৬৫; সুনান বাইহাকী: ৪/৩১০; বাগাবী: ১৮২৩; মুসনাদ আহমাদ: ২/১৭; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৬৮৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২২২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৫৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1253): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3676)


3676 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ حُرَيْثٍ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْلَةُ الْقَدْرِ [ص:434] الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، وَإِنْ ضَعُفَ أَحَدُكُمْ أَوْ عَجَزَ فَلَا يُغْلَبَنَّ عَنِ السَّبْعِ الْبَوَاقِي»
رقم طبعة با وزير = (3668)




আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা লাইলাতুল কদর শেষ দশকে তালাশ করবে। যদি তোমাদের কেউ দুর্বল হয়ে যায় অথবা অক্ষম হয়, তবে সে যেন বাকী সাত রাতে পরাভূত না হয়।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২১৮৩; সহীহ মুসলিম: ১১৬৫; আত তায়ালিসী: ১৯১২; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৪; সুনান বাইহাকী: ৪/৩১১; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৭৫; সহীহ মুসলিম: ১১৬৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৫৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيح» - أيضا -: م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3677)


3677 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: تَذَاكَرْنَا لَيْلَةَ الْقَدْرِ، فَأَتَيْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ فَقُلْتُ: هَلْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْكُرُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ؟، فَقَالَ: «اعْتَكَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعَشْرَ الْأَوْسَطَ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ، وَاعْتَكَفْنَا مَعَهُ فَلَمَّا، كَانَ صَبِيحَةَ عِشْرِينَ رَجَعَ فَرَجَعْنَا مَعَهُ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَى لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْمَنَامِ، ثُمَّ أُنْسِيهَا» *
رقم طبعة با وزير = (3669)




আবূ সালামাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা লাইলাতুল কদর নিয়ে পরস্পরে আলোচনা করছিলাম। অতঃপর আমি আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে তাকে বলি, “আপনি কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন?” তখন তিনি জবাবে বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের মধ্যম দশকে ই‘তেকাফ করেন, আমরাও তাঁর সাথে ই‘তেকাফ করি। অতঃপর ২০ রমযান ভোরে তিনি বাসায় ফিরে আসেন এবং আমরাও ফিরে আসি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে যান। অতঃপর তিনি ঘুমে স্বপ্নে লাইলাতুল কদর দেখেন। তারপর সেটা ভুলিয়ে দেওয়া হয়।”[1]



[1] মুসনাদ আবী ইয়ালা:১২৮০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৩৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৫১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «الصحيح» - أيضا - (1251). * قال الشيخ: هذا الحديث وقع في «طبعة المؤسسة» (8/ 435) معزوًّا لمسلمٍ (1167) (214) في الصيام ... الخ!! وهو وَهْمٌ مَحض لعلَّه من الطابع، لم يَتَنَبَّه له المُصَحِّحُونَ، فَإِنَّ محلَّه تحت حديث أبي سعيدٍ المُتَقَدِّم هنا برقم (3666)، وفي طبعتهم برقم (3674).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3678)


3678 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، ثُمَّ أَيْقَظَنِي أَهْلِي فَنَسِيتُهَا، فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْغَوَابِرِ»
رقم طبعة با وزير = (3670)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাকে লাইলাতুল কদর স্বপ্নে দেখানো হয়। অতঃপর আমি তা ভুলে যাই। কাজেই তোমরা এটা শেষ দশকে তালাশ কর।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ১১৬৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২১৯৭; সুনান বাইহাকী: ৪/৩০৮; দারেমী: ২/২৮; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৯১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ মুসলিম: ৩/১৭০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م (3/ 170).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3679)


3679 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّهُ قَالَ: خَرَجَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيُخْبِرَنَا بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَتَلَاحَى رَجُلَانِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَقَالَ: «خَرَجْتُ [ص:436] لِأُخْبِرَكُمْ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ فَتَلَاحَى فُلَانٌ وَفُلَانٌ، فَرُفِعَتْ، وَعَسَى أَنْ يَكُونَ خَيْرًا لَكُمْ، فَالْتَمِسُوهَا فِي التَّاسِعَةِ وَالسَّابِعَةِ وَالْخَامِسَةِ»
رقم طبعة با وزير = (3671)




উবাদাহ বিন সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে অবহিত করার জন্য বের হন। অতঃপর দুইজন মুসলিম ব্যক্তি বিবাদে লিপ্ত হন। অতঃপর তিনি বলেন, “আমি তোমাদেরকে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে অবহিত করার জন্য বের হয়েছিলাম। অতঃপর ওমুক ও ওমুক বিবাদে লিপ্ত হয়। অতঃপর সেটা (লাইলাতুল কদরের ইলম) উঠিয়ে নেওয়া হয়। আর আশা করা যায়, এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। কাজেই তোমরা এটা নবম, সপ্তম ও পঞ্চম রাতে তালাশ করো।”[1]



[1] সহীহুল বুখারী: ২০২৩; আত তায়ালিসী: ৫৭৬; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৩১৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৭৩; দারেমী: ২/৭২-৭৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২১৯৮; বাগাবী: ১৮২১; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৩২০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৬৭১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3680)


3680 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذِ بْنِ مُعَاذٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، [ص:437] عَنْ مُعَاوِيَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَيْلَةُ الْقَدْرِ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ»
رقم طبعة با وزير = (3672)




মুআবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “লাইলাতুল কদর হলো ২৭ তম রজনী।”[1]



[1] আবূ দাঊদ: ১৩৮৬; তাবারানী: ১৯/৮১৩; সুনান বাইহাকী: ৪/৩১২; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৭৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৫৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1254).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3681)


3681 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الْمَقَابِرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَقَالَ: «تَحَرُّوهَا فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ»
رقم طبعة با وزير = (3673)




আব্দু্ল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “তোমরা সেটা রমযানের শেষ সাত রাতে অনুসন্ধান করো।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৩২০; মুসনাদ আহমাদ: ২/১১৩; সহীহ মুসলিম: ১১৬৫; আবূ দাঊদ: ১৩৮৫; সুনান বাইহাকী: ৪/৩১১; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৭৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৫৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1253): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3682)


3682 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا غَسَّانُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، [ص:438] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ وَصَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3674)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানসহ সাওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম করবে, তার পূর্বের গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”[1]



[1] ইবনু মাজাহ: ১৩২৬; বাগাবী: ১৭০৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৪১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «صحيح أبي داود» (1241): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: الحديث صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3683)


3683 - أَخْبَرَنَا ابْنُ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَرْثَدُ بْنُ أَبِي مَرْثَدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: جَلَسْتُ عِنْدَ أَبِي ذَرٍّ عِنْدَ الْجَمْرَةِ الْوُسْطَى، فَدَنَوْتُ مِنْهُ حَتَّى [ص:439] كَادَتْ رُكْبَتِي تَمَسُّ رُكْبَتَيْهِ، فَقُلْتُ: أَخْبِرْنِي عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَقَالَ: أَنَا كُنْتُ أَسْأَلَ النَّاسِ عَنْهَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخْبِرْنِي عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ تَكُونُ فِي زَمَانِ الْأَنْبِيَاءِ يَنْزِلُ عَلَيْهِمُ الْوَحْيُ، فَإِذَا قُبِضُوا رُفِعَتْ؟ فَقَالَ: «بَلْ هِيَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ»، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَأَخْبِرْنِي فِي أَيِّ الشَّهْرِ هِيَ؟، فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ لَوْ أَذِنَ لَأَخْبَرْتُكُمْ بِهَا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِي إِحْدَى السُّبُعَيْنِ، وَلَا تَسْأَلْنِي عَنْهَا بَعْدَ مَرَّتِكَ هَذِهِ»، قَالَ: وَأَقْبَلَ عَلَى أَصْحَابِهِ يُحَدِّثُهُمْ، فَلَمَّا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَطْلَقَ بِهِ الْحَدِيثُ، فَقُلْتُ: أَقْسَمْتُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَتُخْبِرَنِّي فِي أَيِّ السُّبُعَيْنِ هِيَ؟ قَالَ: فَغَضِبَ عَلَيَّ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ عَلَيَّ مِثْلَهُ، وَقَالَ: «لَا أُمَّ لَكَ، هِيَ تَكُونُ فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ»
رقم طبعة با وزير = (3675)




আবূ মারসাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি মধ্য জামরার নিকট আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে বসে বসি। আমি তাঁর এতটা নিকটবর্তী হই যে, আমার হাঁটু তার হাঁটুকে স্পর্শ করার উপক্রম হয়। তখন আমি বললাম, “আপনি আমাকে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে অবহিত করুন।” তখন তিনি বলেন, “লোকদের মাঝে আমি বেশি এই সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করতাম। আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি আমাকে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে অবহিত করুন, এটা কি শুধু নবীদের সময়কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যখন তাঁদের উপর অহী অবতীর্ণ হয়, অতঃপর যখন তাঁরা মারা যান, তখন এটি উঠিয়ে নেওয়া হবে?” তখন তিনি জবাবে বলেন, “বরং এটি কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।” আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাকে অবহিত করুন, সেটা কোন মাসে?” তিনি জবাবে বলেন, “যদি আল্লাহ আমাকে অনুমতি দিতেন, তবে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে সে সম্পর্কে অবহিত করতাম। কাজেই তোমরা এটাকে রমযানের শেষ দুই সপ্তাহের মাঝে শেষ দশকে তালাশ করো। এরপর তুমি এই ব্যাপারে আর কিছু জিজ্ঞেস করবে না “ রাবী বলেন, “অতঃপর তিনি সাহাবীদের কাছে হাদীস বর্ণনা করার জন্য তাদের কাছে গমন করেন। অতঃপর যখন আমি দেখলাম যে, আলোচনায় মশগুল, তখন আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, অবশ্যই আপনি আমাকে অবহিত করবেন যে, সেটা দুই সপ্তাহের মাঝে কোন সপ্তাহে রয়েছে!” রাবী বলেন, “অতঃপর তিনি আমার উপর এতটা রাগান্বিত হন, ইতিপূর্বে তিনি কখনই আমার উপর এতটা রাগান্বিত হননি এবং তিনি বলেন, “তোমার মা না থাকুক! এটি শেষ সাত রাতে রয়েছে।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৭৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২১৬৯; বাযযার: ১০৩৫; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/১৭৭; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৭১; নাসাঈ আল কুবরার বরাতে তুহফাতুল আহওয়াযী: ৯/১৮৩; হাকিম: ১/৪৩৭; সুনান বাইহাকী: ৪/৩০৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (আত তা‘লীক আলা সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩/৩২০-৩২১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «التعليق على ابن خزيمة» (3/ 320 و 321).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (3684)


3684 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا [ص:440] مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ، قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اعْتَكَفَ الْعَشْرَ الْأُوَلَ مِنْ رَمَضَانَ، ثُمَّ اعْتَكَفَ الْعَشْرَ الْأَوْسَطَ فِي قُبَّةٍ تُرْكِيَّةٍ عَلَى سُدَّتِهَا قِطْعَةُ حَصِيرٍ، قَالَ: فَأَخَذَ الْحَصِيرَ بِيَدِهِ فَنَحَّاهَا فِي نَاحِيَةِ الْقُبَّةِ، ثُمَّ أَطْلَعَ رَأْسَهُ يُكَلِّمُ النَّاسَ فَدَنَوْا مِنْهُ، فَقَالَ: «إِنِّي اعْتَكَفَتُ فِي الْعَشْرِ الْأُوَلِ الْتَمِسُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ، ثُمَّ اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الْأَوْسَطَ، ثُمَّ أُتِيتُ، فَقِيلَ لِي: إِنَّهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَعْتَكِفَ فَلْيَعْتَكِفْ»، فَاعْتَكَفَ النَّاسُ مَعَهُ، قَالَ: «وَإِنِّي أُرِيتُهَا وَإِنِّي أَسْجُدُ فِي صَبِيحَتِهَا فِي طِينٍ وَمَاءٍ»، فَأَصْبَحَ مِنْ لَيْلَةِ إِحْدَى وَعِشْرِينَ، وَقَدْ قَامَ إِلَى صَلَاةِ الصُّبْحِ، فَمَطَرَتِ السَّمَاءُ فَوَكَفَ الْمَسْجِدُ، فَأَبْصَرَتُ الطِّينَ ظَاهِرًا، فَخَرَجَ حِينَ فَرَغَ مِنْ صَلَاةِ الصُّبْحِ، وَجَبِينُهُ، وَأَنْفُهُ فِي الْمَاءِ وَالطِّينِ، فَإِذَا هِيَ لَيْلَةُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ
رقم طبعة با وزير = (3676)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের প্রথম দশকে ই‘তেকাফ করেন। তারপর তিনি একটি তুর্কী তাবূতে রমযানের মধ্যম দশকে ই‘তিকাফ করেন। তাবূর দরজায় এক খন্ড চাটাই ছিল।” রাবী বলেন, “অতঃপর তিনি চাটাইটি নিজ হাতে গ্রহণ করেন এবং তা তাবূর এক পাশে রেখে দেন। তারপর তিনি লোকদের সাথে কথা বলার ‍উদ্দেশ্যে স্বীয় মাথা বের করেন। অতঃপর লোকজন তাঁর কাছে আসেন। তখন তিনি বলেন, “আমি লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির আশায় প্রথম দশকে ই‘তিকাফ করেছি, তারপর আমি মধ্যম দশকেও ই‘তিকাফ করেছি। তারপর আমার কাছে ফেরেস্তা আসেন এবং আমাকে বলা হয়, “নিশ্চয়ই এটা শেষ দশকে রয়েছে।” কাজেই যে ব্যক্তি ই‘তিকাফ করতে চায়, সে যেন (শেষ দশকে) ই‘তিকাফ করে।” অতঃপর লোকজন তাঁর সাথে ই‘তিকাফ করেন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই আমাকে এটি স্বপ্নে হয়েছে। (স্বপ্নে দেখি যে) আমি এই রাত্রির ভোরে পানি ও কাঁদা মাটিতে সাজদা করছি।” অতঃপর তিনি ২১ তম রাত্রির ভোরে উপনীত হন। তিনি ফজরের সালাতে দাঁড়ান। তখন আসমান থেকে পানি বর্ষিত হয়। অতঃপর মাসজিদের চাল থেকে ফোটায় ফোটায় পানি পড়ে। ফলে আমি কাদা মাটি দেখতে পাই। অতঃপর তিনি ফজরের সালাত শেষ করে বের হন, এসময় তাঁর ললাট ও নাকে পানি ও কাদা মাটি লেগে ছিল। সেটা ছিল শেষ দশকের ২১ তম রাত্রি।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ১১৬৭; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২১৭১; সুনান বাইহাকী: ৪/৩১৪-৩১৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৫১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1251): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3685)


3685 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: أَتَيْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، فَقُلْتُ: يَا أَبَا سَعِيدٍ، اخْرُجْ بِنَا إِلَى النَّخْلِ نَتَحَدَّثُ، قَالَ: نَعَمْ، فَدَعَا بِخَمِيصَةٍ يَلْبَسُهَا ثُمَّ خَرَجَ، فَقُلْتُ: يَا أَبَا سَعِيدٍ: هَلْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْكُرُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، قَالَ: نَعَمْ، اعْتَكَفْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَشْرٍ مِنْ رَمَضَانَ، فَلَمَّا كَانَ صَبِيحَةَ عِشْرِينَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «مَنْ كَانَ خَرَجَ فَلْيَرْجِعْ، فَإِنِّي أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، وَإِنِّي أُنْسِيتُهَا، وَإِنِّي رَأَيْتُ أَنِّي أَسْجُدُ فِي مَاءٍ وَطِينٍ، فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ فِي وِتْرٍ»، قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: وَمَا نَرَى فِي السَّمَاءِ قَزَعَةً، فَلَمَّا كَانَ اللَّيْلُ إِذَا السَّحَابُ أَمْثَالُ الْجِبَالِ، فَمُطِرْنَا حَتَّى سَالَ سَقْفُ الْمَسْجِدِ، قَالَ: وَسَقْفُهُ يَوْمَئِذٍ مِنْ جَرِيدِ النَّخْلِ، حَتَّى رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَجَدَ فِي مَاءٍ وَطِينٍ، حَتَّى رَأَيْتُ الطِّينَ فِي أَرْنَبَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
رقم طبعة با وزير = (3677)




আবূ সালামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি একবার আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে বললাম, হে আবূ সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, আমাদের সাথে খেজুর বাগানে চলুন, আমরা আলোচনা করি।” জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, ঠিক আছে।” অতঃপর তিনি পরিধানের জন্য একটা চাদর আনতে বলেন।তারপর তিনি বের হন। তখন আমি বললাম, “হে আবূ সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, আপনি কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন।” জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ। আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে রমযানের ১০ দিন ই‘তিকাফ করি। অতঃপর ২০ রমযানের ভোরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ান এবং বলেন, “যে ব্যক্তি (ই‘তিকাফের স্থান থেকে) বের হয়ে গেছে, সে যেন ফিরে আসে। কেননা আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে এবং আমাকে সেটা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি দেখেছি যে, আমি পানি ও কাদা মাটিতে সাজদা করছি। কাজেই তোমরা রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে তা তালাশ করো।” আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমরা আসমানে এক টুকরো মেঘও দেখছিলাম না। অতঃপর যখন রাত হলো, তখন পাহাড়ের মতো মেঘ ধারণ করলো। তারপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো, এমনকি মাসজিদের ছাদ প্লাবিত হয়ে যায়।” তিনি বলেন, “সেসময় ছাদ খেজুর গাছের ডালের ছিল। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পানি ও কাদা মাটিতে সাজদা করতে দেখেছি। এমনকি আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাকের ডগায় কাদা মাটি দেখতে পাই।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ১১৬৭; সুনান বাইহাকী: ৪/৩২০; আত তায়ালিসী: ২১৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৬০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৭৬-৭৭; সহীহুল বুখারী: ৬৬৯; ইবনু মাজাহ: ১৭৬৬; আবূ ইয়ালা: ১১৫৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৮৬৮৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৫১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (3686)


3686 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ عُيَيْنَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: ذُكِرَتْ لَيْلَةُ الْقَدْرِ عِنْدَ أَبِي بَكْرَةَ، فَقَالَ: مَا أَنَا بِطَالِبِهَا إِلَّا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، بَعْدَ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِي سَبْعٍ يَبْقَيْنَ، أَوْ خَمْسٍ يَبْقَيْنَ، أَوْ ثَلَاثٍ يَبْقَيْنَ، أَوْ فِي آخِرِ لَيْلَةٍ»، فَكَانَ لَا يُصَلِّي فِي الْعِشْرِينَ إِلَّا كَصَلَاتِهِ فِي سَائِرِ السَّنَةِ، فَإِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ اجْتَهَدَ
رقم طبعة با وزير = (3678)




‍উআইনাহ বিন আব্দুর রহমান, তার বাবা আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে লাইলাতুল কদরের বিষয়ে আলোচনা করা হয়, তখন তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে হাদীস শোনার পর এটাকে শেষ দশক ছাড়া অন্য সময়ে অন্বেষণ করবো না। তিনি বলেছেন, “তোমরা এটাকে শেষ দশকে অন্বেষণ করো, যখন সাত রাত বাকি থাকে, অথবা পাঁচ রাত বাকী থাকে অথবা তিন রাত বাকী থাকে অথবা শেষ রাতে।” আর তিনি প্রথম ২০ দিন বছরের অন্যান্য দিনের ন্যায় সালাত আদায় করতেন। অতঃপর যখন শেষ দশক প্রবেশ করে, তখন তিনি (ইবাদতে) সচেষ্ট হন।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২১৭৫; হাকিম: ১/৪৩৮; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৩৬; ‍মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৭৬; তিরমিযী: ৭৯৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (মিশকাত: ১০৯২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «المشكاة» (1092 / التحقيق الثاني).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3687)


3687 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، وَبِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، قَالَا: حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: اعْتَكَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعَشْرَ الْأَوْسَطَ مِنْ رَمَضَانَ وَهُوَ يَلْتَمِسُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، فَلَمَّا انْقَضَى، أَمَرَ بِالْبِنَاءِ، فَنُقِضَ، فَأُبِينَتْ لَهُ أَنَّهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ، فَخَرَجَ إِلَى النَّاسِ، فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي قَدْ أُبِينَتْ لِي لَيْلَةُ الْقَدْرِ، فَخَرَجْتُ أُحَدِّثُكُمْ بِهَا فَجَاءَ رَجُلَانِ يَخْتَصِمَانِ وَمَعَهُمَا الشَّيْطَانُ فَنُسِّيتُهَا، فَالْتَمِسُوهَا فِي السَّابِعَةِ وَالْتَمِسُوهَا فِي الْخَامِسَةِ»
رقم طبعة با وزير = (3679)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের মধ্যম দশকে ই‘তিকাফ করেন। এসময় তিনি লাইলাতুল কদর তালাশ করছিলেন। যখন (ই‘তিকাফের ১০ দিন) সময় শেষ হয়ে যায়, তখন তাঁর নির্দেশ তাবূ ভেঙ্গে ফেলা হয়। অতঃপর তাঁর কাছে এটা স্পষ্ট করা হয় যে, সেটি রমযানের শেষ দশকে। অতঃপর তিনি লোকদের উদ্দেশ্যে বের হন এবং বলেন, “হে লোকসকল, নিশ্চয়ই আমার কাছে লাইলাতুল কদর স্পষ্ট করা হয়েছে। এজন্য আমি তোমাদেরকে সে সম্পর্কে বলার জন্য বের হয়েছি। অতঃপর দুইজন ব্যক্তি বিবাদ নিয়ে আসে আর তাদের দুইজনের সাথে শয়তান ছিল। তারপর সেটা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়। কাজেই তোমরা এটা তালাশ করো সপ্তম রাতে এবং তোমরা এটা তালাশ করো পঞ্চম রাতে।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২১৭৬; আবূ ইয়ালা: ১০৭৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১০; আত তায়ালিসী: ২১৬৬; আবূ দাঊদ: ১৩৭৩; সুনান বাইহাকী: ৪/৩০৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৬৮৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৫২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1252): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3688)


3688 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ [ص:444] زِيَادِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الزِّيَادِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي كُنْتُ أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، ثُمَّ نُسِّيتُهَا، وَهِيَ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، وَهِيَ طَلْقَةٌ بَلْجَةٌ لَا حَارَّةٌ وَلَا بَارِدَةٌ، كَأَنَّ فِيهَا قَمَرًا يَفْضَحُ كَوَاكِبَهَا لَا يَخْرُجُ شَيْطَانُهَا حَتَّى يَخْرُجَ فَجْرُهَا»
رقم طبعة با وزير = (3680)




জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে। তারপর সেটা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়। এটি শেষ দশকে রয়েছে। এটি একটি ‍নির্মল, উজ্জ্বল, নাতিশীতোষ্ণ রাত্রি, যেন তাতে চাঁদ রয়েছে, যা গ্রহ-নক্ষত্রসমূহকে ম্লান করে দেয়। সেই রাতে শয়তান সুবহে সাদিক না হওয়া পর্যন্ত বের হতে পারে না।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২১৯০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সমার্থক বর্ণনার কারণে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (আত তা‘লীক আলা সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩/৩৩০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح لغيره - «التعليق على «صحيح ابن خزيمة»» (3/ 330)، «الضعيفة» (4404).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3689)


3689 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ [ص:445] الْعَلَاءِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدَةَ بْنِ أَبِي لُبَابَةَ، وَعَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، قَالَ: قُلْتُ لِأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ: يَا أَبَا الْمُنْذِرِ إِنَّ أَخَاكَ ابْنَ مَسْعُودٍ، يَقُولُ: مَنْ يَقُمِ الْحَوْلَ يُصِبْ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، فَقَالَ: يَرْحَمُهُ اللَّهُ، لَقَدْ أَرَادَ أَنْ لَا تَتَّكِلُوا، وَاللَّهُ أعْلَمُ أَنَّهَا فِي شَهْرِ رَمَضَانَ، وَأَنَّهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، وَأَنَّهَا لَيْلَةَ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ، قَالَ: قُلْنَا: يَا أَبَا الْمُنْذِرِ بِأَيِّ شَيْءٍ تَعْرِفُ ذَلِكَ؟، قَالَ: بِالْعَلَامَةِ، أَوْ بِالْآيَةِ الَّتِي أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الشَّمْسَ تَطْلُعُ مِنْ ذَلِكَ الْيَوْمِ لَا شُعَاعَ لَهَا»
رقم طبعة با وزير = (3681)




যির রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি উবাই বিন কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, হে আবু মুনযির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, নিশ্চয়ই আপনার ভাই ইবনু মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যে ব্যক্তি পুরো বছর কিয়াম করবে, সে লাইলাতুল কদর পাবে।” তখন তিনি বলেন, “আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। নিশ্চয়ই চাইছেন যে, যাতে তোমরা (কয়েক রাতের উপর) ভরসা করে বসে না থাকো। আল্লাহ সর্বাধিক জ্ঞাত। নিশ্চয়ই এটা রমযান মাসে। সেটা শেষ দশকে এবং সেটা ২৭ তম রজনীতে।” রাবী বলেন, “আমরা বললাম, হে আবুল মুনযির, আপনি সেটা কিভাবে চিনবেন?” জবাবে তিনি বরেন, “কিছু আলামত বা নিদর্শনের মাধ্যমে, যা আল্লাহর রাসূল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে জানিয়েছেন। সেদিন সূর্য উদিত হবে এমনভাবে যে, তাতে কিরণ থাকবে না।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২১৯১; হুমাইদী: ৩৭৫; সহীহ মুসলিম: ২/৮২৮; সুনান বাইহাকী: ৪/৩১২; বাগাবী: ১৮২৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৭০০; আবূ দাঊদ: ১৩৭৮; তিরমিযী: ৭৯৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৭৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৪৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1247): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3690)


3690 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ [ص:446] إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، حَدَّثَنِي زِرُّ بْنُ حُبَيْشٍ، أَنَّهُ قَالَ لِأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ، يَقُولُ: مَنْ قَامَ السَّنَةَ أَصَابَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، فَقَالَ أُبَيُّ: وَاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهُ أَلَا هُوَ، إِنَّهَا لَفِي شَهْرِ رَمَضَانَ، يَحْلِفُ مَا يَسْتَثْنَى، وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّ لَيْلَةَ الْقَدْرِ هِيَ هَذِهِ اللَّيْلَةُ الَّتِي أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَقُومَهَا صَبِيحَةَ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ، وَأَمَارَتُهَا أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فِي صَبِيحَةِ يَوْمِهَا بَيْضَاءَ لَا شُعَاعَ لَهَا، كَأَنَّهَا طَسْتٌ
رقم طبعة با وزير = (3682)




যির বিন হুবাইশ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি উবাই বিন কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন, “নিশ্চয়ই ইবনু মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যে ব্যক্তি পুরো বছর কিয়াম করবে, সে লাইলাতুল কদর পাবে।” তখন উবাই রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “ঐ আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই, নিশ্চয়ই এটা রমযান মাসে। সেটা শেষ দশকে এবং সেটা ২৭ তম রজনীতে। -তিনি কোন কিছুকে আলাদা না করে সাধারণভাবে শপথ করেন- আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি জানি যে, লাইলাতুল কদর হলো সেই রাত, যাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে কিয়াম করতে বলেছেন। আর এটা ২৭ তম রাতের সকালের কথা। এটার আলামত হলো, এই রাতের ভোরে সূর্য শুভ্র হয়ে উদিত হবে, তাতে কোন কিরণ থাকবে না, যেন সেটা একটা গামলা।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২১৯১; হুমাইদী: ৩৭৫; সহীহ মুসলিম: ২/৮২৮; সুনান বাইহাকী: ৪/৩১২; বাগাবী: ১৮২৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৭০০; আবূ দাঊদ: ১৩৭৮; তিরমিযী: ৭৯৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৭৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৪৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (3691)


3691 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُكْرَمٍ الْبَزَّارُ الْحَافِظُ، بِالْبَصْرَةِ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ الْأَبَّارُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، قَالَ: [ص:447] لَقِيتُ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ، فَقُلْتُ: حَدِّثْنِي فَإِنَّهُ كَانَ يُعْجِبُنِي لُقِيُّكَ وَمَا قَدِمْتُ إِلَّا لِلِقَائِكَ، فَأَخْبِرْنِي عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَإِنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ، يَقُولُ: مَنْ يَقُمِ السَّنَةَ يُصِبْهَا أَوْ يُدْرِكْهَا، قَالَ: لَقَدْ عَلِمَ أَنَّهَا فِي شَهْرِ رَمَضَانَ، وَلَكِنَّهُ أَحَبَّ أَنْ يُعَمِّيَّ عَلَيْكُمْ، وَإِنَّهَا لَيْلَةُ سَابِعَةٍ وَعِشْرِينَ بِالْآيَةِ الَّتِي حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَفِظْنَاهَا وَعَرَفْنَاهَا، فَكَانَ زِرٌّ يُوَاصِلُ إِلَى السَّحَرِ، فَإِذَا كَانَ قَبْلَهَا بِيَوْمٍ أَوْ بَعْدَهَا صَعِدَ الْمَنَارَةَ، فَنَظَرَ إِلَى مَطْلِعِ الشَّمْسِ، وَيَقُولُ: «إِنَّهَا تَطْلُعُ لَا شُعَاعَ لَهَا حَتَّى تَرْتَفِعَ»
رقم طبعة با وزير = (3683)




যির বিন হুবাইশ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি উবাই বিন কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাত করি। অতঃপর আমি বলি, “আপনি আমাকে হাদীস বর্ণনা করুন। কেননা আপনার সাক্ষাত আমার কাছে খুবই প্রীতিকর। আর এখানে কেবল আপনার সাথে সাক্ষাত করার জন্যই এসেছি। কাজেই আপনি আমাকে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করুন। কেননা আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যে ব্যক্তি সারা বছর ই‘তিকাফ করবে, সে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেয়ে যাবে।” তখন উবাই বিন কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “নিশ্চয়ই তিনি জানেন যে, এটা রমযান মাসে। তিনি এটাকে তোমাদের কাছে গোপন রাখতে চেয়েছেন। নিশ্চয়ই ২৭ তম রাতে। এটাকে চেনা যাবে কিছু নিদর্শনের মাধ্যমে, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আমরা সেটাকে সংরক্ষন করেছি এবং সেটাকে আমরা চিনেছি।” অতঃপর যির বিন হুবাইশ রহিমাহুল্লাহ নিয়মিত ভোর পর্যবেক্ষন করতেন। তিনি লাইলাতুল কদর রাত্রের আগের বা পরের দিন মিনারে উঠতেন অতঃপর সূর্য উদয় লক্ষ্য করতেন এবং বলতেন, “নিশ্চয়ই সূর্য উদিত হবে এমন অবস্থায় যে, ঊর্ধ্বাকাশে উদিত হওয়া পর্যন্ত তার কিরণ থাকবে না।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২১৯১; হুমাইদী: ৩৭৫; সহীহ মুসলিম: ২/৮২৮; সুনান বাইহাকী: ৪/৩১২; বাগাবী: ১৮২৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৭০০; আবূ দাঊদ: ১৩৭৮; তিরমিযী: ৭৯৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৭৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৪৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن