হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (103)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنِ النَّزَّالِ بْنِ سَبْرَةَ قَالَ: مَا خَطَبَ عَبْدُ اللَّهِ خُطْبَةً بِالْكُوفَةِ إِلَّا شَهِدْتُهَا، فَسَمِعْتُهُ يَوْمًا - وَسُئِلَ عَنْ رَجُلٍ يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ ثَمَانِيَةً وَأَشْبَاهِ ذَلِكَ - قَالَ: هُوَ كَمَا قَالَ. ثُمَّ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ كِتَابَهُ وَبَيَّنَ بَيَانَهُ، فَمَنْ أَتَى الْأَمْرَ مِنْ قِبَلِ وَجْهِهِ فَقَدْ بُيِّنَ لَهُ، وَمَنْ خَالَفَ فَوَاللَّهِ مَا نُطِيقُ خِلَافَكُمْ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف عبد الرحمن بن عبد الله بن عتبة المسعودي




১০৩. নাযযাল ইবনু সাবরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু কুফায় যত খুতবা দিয়েছেন, তার প্রত্যেকটিতে আমি উপস্থিত থেকেছি। একদিন তাঁর নিকট জানতে চাওয়া হল যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে আটবার তালাক দিয়েছে এবং এগুলো একত্রে দিয়েছে। (এর জবাবে) আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, তা তেমনি যেমন সে বলেছে। অতঃপর তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাঁর কিতাব নাযিল করেছেন এবং সুস্পষ্টভাবে (এতে বিধানাবলী) বর্ণনা করে দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তার নিজের থেকে এ ধরণের (কুরআনে বর্ণিত) কাজ করে, তবে তার জন্য তো সেটি বর্ণনা করে দেয়া হয়েছে। আর যে ব্যক্তি এর অন্যথা করল (যা কুরআনে বর্ণিত হয়নি), তবে, আল্লাহর কসম, তোমাদের (কুরআন-সুন্নাহর) খেলাফ বিষয়ে [1] আমরা কিছুই বলতে পারব না।“[2]

[1] তিন পবিত্র অবস্থায় তিন তালাক’ এর ব্যতিক্রম এক মজলিসে তিন তালাক কিংবা তার অধিক তালাক দেয়া দীনের মধ্যে নতুন বিদ’আতী মাস’আলা। যা কুরআনেও নেই, হাদীসেও নেই। ফলে দীনের খেলাফ নতুন সৃষ্ট বিদ’আত। (দেখুন, ফাতহুল মান্নান, ২য় খণ্ড, পৃ: ৪১, অত্র হাদীসের ব্যাখ্যা)

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : শাইখ দারানী বলেন: এর সনদ যঈফ বা দুর্বল, আব্দুর রহমান ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উতবাহ আল্ মাসউদী’র দুর্বলতার কারণে । (তবে অপর একটি সূত্রে এটি সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে- তাখরীজে তা উল্লেখ করা হয়েছে ।)

তাখরীজ: তাবারানী, মুজামুল কাবীর ৯/২২৭, নং ৮৯৮২; তাবারানীর অপর বর্ণনা অনুযায়ী আলকামা কর্তক বর্ণিত এ হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে । (তাবারানী, মুজামুল কাবীর নং ৯৬২৮ ও ৯৬২৯)









সুনান আদ-দারিমী (104)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَيْسَرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّزَّالَ بْنَ سَبْرَةَ، قَالَ: شَهِدْتُ عَبْدَ اللَّهِ وَأَتَاهُ رَجُلٌ وَامْرَأَةٌ فِي تَحْرِيمٍ، فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَيَّنَ، فَمَنْ أَتَى الْأَمْرَ مِنْ قِبَلِ وَجْهِهِ فَقَدْ بُيِّنَ وَمَنْ خَالَفَ فَوَاللَّهِ مَا نُطِيقُ خِلَافَكُمْ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




১০৪. নাযযাল ইবনু সাবরাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন এক লোক ও এক মহিলা এলো তাহরীম (তালাক[1]) বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার উদ্দেশ্যে। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাঁর কিতাব নাযিল করেছেন এবং সুস্পষ্টভাবে (এতে বিধানাবলী) বর্ণনা করে দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তার নিজের থেকে এ ধরণের (কুরআনে বর্ণিত) কাজ করে, তবে তার জন্য তো সেটি বর্ণনা করে দেয়া হয়েছে। আর যে ব্যক্তি এর অন্যথা করল (যা কুরআনে বর্ণিত হয়নি), তবে আল্লাহর কসম, তোমাদের (কুরআন-সুন্নাহর) খেলাফ বিষয়ে [1] আমরা কিছুই বলতে পারব না।“ [2]

[1] তাহরীম বলতে এখানে এক বাক্যে এক মজলিসে তিন তালাকের অধিক তালাক’কে বোঝানো হয়েছে। (ফাতহুল মান্নান শরহে সুনানে দারেমী, ২য় খণ্ড, পৃ, ৪১, অত্র হাদীসের ব্যাখ্যা দ্র:)

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : শাইখ দারানী বলেন: এর সনদ সহীহ ।

তাখরীজ: তাবারানী, মু’জামুল কাবীর [৯/৩৮২]; ইবনু হাযম, আল আহকাম [৮/৫৩৯]।









সুনান আদ-দারিমী (105)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ أَنَّهُ كَانَ لَا يَقُولُ بِرَأْيِهِ إِلَّا شَيْئًا سَمِعَهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




১০৫. ইবনু সীরীন রাহি. থেকে বর্ণিত যে, তিনি (সাহাবীদের নিকট থেকে) যা কিছু শুনেছেন, তা ব্যতীত আপন রায় (মত) অনুযায়ী কিছুই বলতেন না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: খতীব বাগদাদী তাঁর ‘আল ফকীহ ওয়াল মুতাফাকিহ’ গ্রন্থে নং ৫০৩।









সুনান আদ-দারিমী (106)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَثَّامٌ وَالِدُ عَلِيِّ بْنِ عَثَّامٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ قَالَ: مَا سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ يَقُولُ بِرَأْيِهِ فِي شَيْءٍ قَطُّ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




১০৬. আ’মাশ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি ইবরাহীম (নাখয়ী)-কে তাঁর আপন রায় দ্বারা কখনো কোন বিষয়ে কিছু বলতে শুনিনি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আবী খায়ছামা, আল ইলম নং ৩৮।









সুনান আদ-দারিমী (107)


أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: مَا قُلْتُ بِرَأْيِي مُنْذُ ثَلَاثِينَ سَنَةً، قَالَ أَبُو هِلَالٍ مُنْذُ أَرْبَعِينَ سَنَةً

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




১০৭. কাতাদা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি তিরিশ বছর যাবত নিজস্ব মতামত দ্বারা কিছু বলিনি। আবী হিলাল বলেন, চল্লিশ বছর যাবত (তিনি এরূপ বলেননি)।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ২/৩৩৫।









সুনান আদ-দারিমী (108)


حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ مَالِكٍ، ثَنَا حَكَّامُ بْنُ سَلْمٍ، عَنْ أَبِي خَيْثَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، قَالَ: سُئِلَ عَطَاءٌ عَنْ شَيْءٍ فقالَ: " لَا أَدْرِي، قَالَ: قِيلَ لَهُ: أَلَا تَقُولُ فِيهَا بِرَأْيِكَ؟ قَالَ: إِنِّي أَسْتَحْيِي مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُدَانَ فِي الْأَرْضِ بِرَأْيِي

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




১০৮. আব্দুল আযীয ইবনু রুফাঈ’ বলেন, ‘আতা রাহিমাহুল্লাহকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, আমি জানি না। বর্ণনাকারী বলেন, তাকে বলা হল, আপনি এ বিষয়ে আপনার নিজস্ব মতামত কী তা বলবেন না? তখন তিনি বললেন, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা’র সম্মুখে এটি আমার জন্য লজ্জার বিষয় যে, আমার মতামত দ্বারা এ দুনিয়ার বুকে (কাউকে) অভিযুক্ত করা হবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সনদবিহীনভাবে বর্ণনা করেছেন, ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ ১/৪২৩ নং ৩৪৭ তে। এছাড়া অন্য কোথাও এটি আমি পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (109)


أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ، أَخْبَرَنِي حَاتِمٌ هُوَ ابْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عِيسَى، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قالَ: " جَاءَهُ رَجُلٌ يَسْأَلُهُ عَنْ شَيْءٍ فَقَالَ: كَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ يَقُولُ فِيهِ كَذَا وَكَذَا. قَالَ أَخْبِرْنِي أَنْتَ بِرَأْيِكَ. فَقَالَ: أَلَا تَعْجَبُونَ مِنْ هَذَا؟ أَخْبَرْتُهُ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَيَسْأَلُنِي عَنْ رَأْيِي، وَدِينِي عِنْدِي آثَرُ مِنْ ذَلِكَ. وَاللَّهِ لَأَنْ أَتَعَنَّى بِعَنِيَّةٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُخْبِرَكَ بِرَأْيِي

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف وعيسى هو: الحناط متروك الحديث




১০৯. ঈসা থেকে বর্ণিত, তিনি শা’বী রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি এসে তাকে কোন একটি বিষয়ে প্রশ্ন করল। তখন তিনি জবাবে বলেন, ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এ ব্যাপারে এই এই কথা বলেছেন। তখন সে ব্যক্তি বলল, এ ব্যাপারে আপনার নিজস্ব মতামত কী, আমাকে তাই বলুন। তখন তিনি বললেন, এ লোকটির ব্যাপারে কি তোমাদের বিস্ময় জাগে না? আমি তাকে ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মতামত বর্ণনা করছি, আর সে আমার নিকট আমার নিজস্ব মতামত জানতে চাচ্ছে! তা (নিজের মতামত দেওয়া) থেকে আমার নিকট আমার দীন (রক্ষা করা) শ্রেয় মনে করি । আল্লাহর কসম! দীনের ব্যাপারে তোমাকে আমার নিজস্ব মতামত প্রদান করার চেয়ে কোন একটি গান গাওয়াও আমার নিকট অধিকতর পছন্দনীয়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। ঈসা পরিত্যক্ত রাবী।

তাখরীজ: খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ নং ৪৯২।









সুনান আদ-দারিমী (110)


أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ هُوَ ابْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عِيسَى، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: «إِيَّاكُمْ وَالْمُقَايَسَةَ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَئِنْ أَخَذْتُمْ بِالْمُقَايَسَةِ لَتُحِلُّنَّ الْحَرَامَ وَلَتُحَرِّمُنَّ الْحَلَالَ، وَلَكِنْ مَا بَلَغَكُمْ عَمَّنْ حَفِظَ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاعْمَلُوا بِهِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف




১১০. শা’বী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা কিয়াস (তুলনা) করা থেকে দূরে থাকবে! যার হাতে আমার প্রাণ, সেই মহান সত্তার কসম! তোমরা যদি কিয়াসকে আঁকড়ে ধর, তবে অবশ্যই তোমরা হারামকে হালাল আর হালালকে হারাম বানিয়ে ফেলবে। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ থেকে যারা সংরক্ষণ করেছেন (হাদীস মুখস্থ রেখেছেন), তাদের নিকট থেকে তোমাদের নিকট যা পৌঁছেছে, সে অনুযায়ী তোমরা আমল করবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এটিও পূর্ববর্তী সনদের অনুরূপ।

তাখরীজ: খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ নং ৪৯৭।









সুনান আদ-দারিমী (111)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ: " جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ: إِنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ الْبَارِحَةَ ثَمَانِيًا. قَالَ: بِكَلَامٍ وَاحِدٍ؟ قَالَ: بِكَلَامٍ وَاحِدٍ. قَالَ: فَيُرِيدُونَ أَنْ يُبِينُوا مِنْكَ امْرَأَتَكَ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: وَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: إِنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ مِائَةَ طَلْقَةٍ، قَالَ بِكَلَامٍ وَاحِدٍ؟ قَالَ: بِكَلَامٍ وَاحِدٍ. قَالَ: فَيُرِيدُونَ أَنْ يُبِينُوا مِنْكَ امْرَأَتَكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: مَنْ طَلَّقَ كَمَا أَمَرَ اللَّهُ، فَقَدْ بَيَّنَ اللَّهُ الطَّلَاقَ، وَمَنْ لَبَّسَ عَلَى نَفْسِهِ، وَكَّلْنَا بِهِ لَبْسَهُ وَاللَّهِ لَا تُلَبِّسُونَ عَلَى أَنْفُسِكُمْ وَنَتَحَمَّلُهُ نَحْنُ، هُوَ كَمَا تَقُولُونَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




১১১. ইবনু সীরীন আলকামাহ (রাহিমাহুমাল্লাহ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এসে বললো, গতকাল সে তার স্ত্রীকে আট তালাক দিয়েছে। তিনি বললেন: সেটি কি এক বাক্যে ছিল? সে জবাবে বলল, তা এক বাক্যেই ছিল। তখন তিনি বললেন, লোকেরা কি এর মাধ্যমে তোমার নিকট হতে তোমার স্ত্রীকে আলাদা করে দিতে চায়? সে বলল, জ্বি, হাঁ। আরেক ব্যক্তি এসে বলল, সে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে একশ তালাক দিয়েছে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: সেটি কি এক বাক্যে ছিল? সে জবাবে বলল, তা এক বাক্যেই ছিল। তখন তিনি বললেন, লোকেরা কি এর মাধ্যমে তোমার নিকট হতে তোমার স্ত্রীকে আলাদা করে দিতে চায়? সে বলল, জ্বি, হাঁ।

তখন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহ যেভাবে তালাক দিতে আদেশ করেছেন, সেইভাবে যে ব্যক্তি তালাক প্রদান করে, তবে আল্লাহ তা’আলা (তার জন্য) তা’লাকের বিধান তো পরিষ্কারভাবেই বর্ণনা করে দিয়েছেন। আর যে ব্যক্তি নিজেই বিষয়টি সন্দেহপূর্ণ করে ফেলেছে, তার সন্দেহপূর্ণ ব্যাপারটি আমরা তার উপরই ন্যস্ত করব। আল্লাহর কসম! তোমরা নিজেরা (হক ও বাতিলকে মিশিয়ে) বিষয়টিকে সন্দেহপূর্ণ করবে, আর আমরা তার দায়ভার বহন করবো, তাতো হতে পারে না। বরং বিষয়টি তোমরা যেমন বলেছো, তেমনি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: তাবারাণী, মু’জামুল কাবীর ৯/৩৭৯-৩৮০ নং ৯৬২৮-৯৬২৯; বাইহাকী, খূলা’ ওয়াত তালাক ৭/৩৩৫; দেখুন আব্দুর রাযযাক, আল মুছান্নাফ ১১৩৪৩; ইবনু আবী শাইবা ৫/১২।









সুনান আদ-দারিমী (112)


أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ قَالَ: «لَأَنْ يَعِيشَ الرَّجُلُ جَاهِلًا بَعْدَ أَنْ يَعْلَمَ حَقَّ اللَّهِ عَلَيْهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَقُولَ مَا لَا يَعْلَمُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




১১২. আল-কাসিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, কোন ব্যক্তির অজানা বিষয়ে কথা বলার চেয়ে তার উপর আল্লাহর যে হক রয়েছে, তা জানার পর জাহিল বা মুর্খ অবস্থায় জীবন যাপন করা তার তার জন্য বহুগুণে উত্তম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া ২/১৮৪; আবু খায়ছামা, আল ইলম নং ৯০। এ দুটি সনদও সহীহ।









সুনান আদ-দারিমী (113)


أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، قَالَ: سَمِعْتُ الْقَاسِمَ، سْئلُ قَالَ: إِنَّا وَاللَّهِ مَا نَعْلَمُ كُلَّ مَا تَسْأَلُونَ عَنْهُ، وَلَوْ عَلِمْنَا مَا كَتَمْنَاكُمْ، وَلَا حَلَّ لَنَا أَنْ نَكْتُمَكُمْ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




১১৩. আইয়্যুব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল-কাসিম রাহিমাহুল্লাহকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে আমি তাকে বলতে শুনেছি, আল্লাহর কসম, তোমরা যেসকল বিষয়ে আমাদেরকে জিজ্ঞেস কর তার সবগুলো আমাদের জানা থাকে না। যদি আমাদের তা জানা থাকত, তবে অবশ্যই আমরা তোমাদের থেকে তা গোপন করতাম না। আর তোমাদের নিকট কিছু গোপন করা আমাদের জন্য বৈধও নয়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ফাসাওয়ী, মা’রিফাত ওয়াত তারীখ ১/৫৪৮; খতীব আল ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ২/১৭৩; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ২/১৮৪; ইবনু আব্দুল বার্রা, জামি’ বয়ানুল ইলম নং ১৪১০; এসকল সনদগুলোও সহীহ।









সুনান আদ-দারিমী (114)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، قَالَ: سُئِلَ الْقَاسِمُ عَنْ شَيْءٍ قَدْ سَمَّاهُ، فَقَالَ: مَا أَضْطَرُّ إِلَى مَشُورَةٍ، وَمَا أَنَا مِنْ ذِي فِي شَيْءٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




১১৪. ইবনু আউন হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল-কাসিম রাহিমাহুল্লাকে উদ্দেশ্যে করে কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন তিনি বললেন, আমি উপদেশ দিতে বাধ্য নই; আর আমি কোনো বিষয়েই উপদেশ দেওয়ার উপযুক্ত নই।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু সা’দ, তাবাকাত ৫/১৩৯;









সুনান আদ-দারিমী (115)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى قَالَ: قُلْتُ لِلْقَاسِمِ: مَا أَشَدَّ عَلَيَّ أَنْ تُسْأَلَ عَنِ الشَّيْءِ لَا يَكُونُ عِنْدَكَ، وَقَدْ كَانَ أَبُوكَ إِمَامًا، قَالَ: «إِنَّ أَشَدَّ مِنْ ذَلِكَ عِنْدَ اللَّهِ وَعِنْدَ مَنْ عَقَلَ عَنِ اللَّهِ أَنْ أُفْتِيَ بِغَيْرِ عِلْمٍ أَوْ أَرْوِيَ عَنْ غَيْرِ ثِقَةٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :




১১৫. ইয়াহইয়া রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল-কাসিম রাহিমাহুল্লাহকে বললাম, আমার নিকট এরচেয়ে কঠিন আর কিছুই নেই যে,আপনাকে এমন কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে, যার (জ্ঞান) আপনার নিকট নেই অথচ আপনার পিতা ছিলেন একজন ইমাম। তিনি বলেন: কিন্তু আল্লাহর নিকট এবং আল্লাহর সম্পর্কে অবগত লোকের নিকট এটি আরও বেশি কঠিন যে, আমি ইলম ছাড়া ফতওয়া দেবো অথবা আমি বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী ব্যতীত অন্য কারো নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করবো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কিন্তু এ হাদীসটি সহীহ। দেখুন সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দমা ১/১৬।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দমা ১/১৬; বাইহাকী, মা’রেফাতুস সুনান ওয়াল আছার, ১/১৪১।









সুনান আদ-দারিমী (116)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَنبأَنَا هُشَيْمٌ، عَنِ الْعَوَّامِ، عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ قَالَ: " كَانُوا إِذَا نَزَلَتْ بِهِمْ قَضِيَّةٌ لَيْسَ فِيهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَثَرٌ، اجْتَمَعُوا لَهَا وَأَجْمَعُوا، فَالْحَقُّ فِيمَا رَأَوْا، فَالْحَقُّ فِيمَا رَأَوْا




১১৬. মুসায়্যেব ইবনু রাফি’ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন তাদের নিকট এমন কোন মোকদ্দমা (সমস্যা) আসত, যে বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোন হাদীস নেই, তখন বিষয়টি নিয়ে তারা (সাহাবীগণ) একত্রে সমবেত হতেন এবং তারা সবাই মিলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। ফলে তারা যে মত পোষণ করতেন, তাঁদের সেই (ঐক্যবদ্ধ) মতের মধ্যেই হক (সত্য) নিহিত, তাদের সেই (ঐক্যবদ্ধ) মতেই হক (সত্য) নিহিত।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। হুশাইম মুদাল্লিস, তিনি এটি ‘আন’আন’ শব্দে বর্ণনা করেছেন। (তবে অপর একটি সহীহ সনদে এটি বর্ণিত, আর তা হলো পরবর্তী হাদীসটি।- অনুবাদক)

তাখরীজ: ইবনু আব্দুল বাররা, জামি’ বায়ানুল ইলম ২/১৬৭ নং ১৮২৪।









সুনান আদ-দারিমী (117)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَنْبَأَنَا يَزِيدُ، عَنِ الْعَوَّامِ بِهَذَا




১১৭. ইয়াযিদ (ইবনু হারুন)ও আওয়াম’ হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

[দেখুন পূর্বের হাদীস]









সুনান আদ-দারিমী (118)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَا: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ الْحِمْصِيُّ، أَنَّ وَهْبَ بْنَ عَمْرٍو الْجُمَحِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَعْجَلُوا بِالْبَلِيَّةِ قَبْلَ نُزُولِهَا، فَإِنَّكُمْ إِنْ لَا تَعْجَلُوهَا قَبْلَ نُزُولِهَا، لَا يَنْفَكُّ الْمُسْلِمُونَ وَفِيهِمْ إِذَا هِيَ نَزَلَتْ مَنْ إِذَا قَالَ وُفِّقَ وَسُدِّدَ، وَإِنَّكُمْ إِنْ تَعْجَلُوهَا، تَخْتَلِفْ بِكُمِ الْأَهْوَاءُ، فَتَأْخُذُوا هَكَذَا وَهَكَذَا» وَأَشَارَ بَيْنَ يَدَيْهِ وَعَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف وهب بن عمرو ما عرفته وهو مرسل




১১৮. আবু সালামাহ আল হিমছী বর্ণনা করেছেন, ওয়াহাব ইবনু আমর আল জুমাহী তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘কোন বালাই বা বিপদ আপতিত হওয়ার পূর্বেই তোমরা তা নিয়ে আগ বাড়িয়ে কিছু (জিজ্ঞাসা) করো না। কেননা, যদি কোন বিপদ নাযিল হওয়ার পূর্বে তা নিয়ে তোমরা তাড়াহুড়া না কর, তবে মুসলিমগণ বিচ্ছিন্ন হবে না যখন তাদের মাঝে তা নাযিল হবে, তখন যে তা নিয়ে কথা বলবে, সে তাওফীক (সৌভাগ্য) এবং সঠিকপথ প্রাপ্ত হবে। আর তোমরা যদি তা নিয়ে তাড়াহুড়া কর, তবে তোমাদের অন্তরগুলি অনৈক্য-মতভেদপূর্ণ হয়ে যাবে, ফলে তোমরা এভাবে এভাবে ধরতে থাকবে’- এ কথা বলে তিনি ডান ও বাম থেকে এবং সামনের দিকে ইশারা করে দেখালেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। ওয়াহাব ইবনু আমরকে আমি চিনি না। আর এটি মুরসাল।

তাখরীজ: মুহাক্কিক্ক এর কোন তাখরীজ করেননি।









সুনান আদ-দারিমী (119)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنِ الْأَمْرِ يَحْدُثُ لَيْسَ فِي كِتَابٍ وَلَا سُنَّةٍ قَالَ: يَنْظُرُ فِيهِ الْعَابِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ




১১৯. আবু সালামাহ রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নতুন উদ্ভাবিত কোন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, যা আল্লাহর কিতাবেও নেই, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) সুন্নাতেও নেই। তখন তিনি বললেন: ‘মু’মিনদের মধ্যকার আবিদগণ (ইবাদতগুজার মুত্তাকী) সে ব্যাপারে চিন্তা-গবেষণা করবে।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। তবে এটি মুরসাল।

তাখরীজ: আবু দাউদ, মারাসীল ৪৫৮, সনদ হাসান। এর শাহিদ রয়েছে মুয়ায রা: হতে মারফু’ হিসেবে তাবারানী, কাবীর ২০/১৭৬ নং ৩৫৩; আবূ দাউদ মারাসীল ৪৫৭; ইবনু আব্দুল বারর, জামি’ বয়ানিল ইলম ১৮১০; ইবনু বাত্তাহ আল ইবানাহ ১/৩৯৬ নং ২৯৩ তবে সনদ বিচ্ছিন্ন। অপর সনদে মুয়ায রা: হতে মাওকুফ হিসেবে আজুরী, আখলাকুল উলামা পৃ. ১২১-১২২।









সুনান আদ-দারিমী (120)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ قَالَ: قَالَ الْقَاسِمُ: " إِنَّكُمْ لَتَسْأَلُونَا عَنْ أَشْيَاءَ مَا كُنَّا نَسْأَلُ عَنْهَا، وَتُنَقِّرُونَ عَنْ أَشْيَاءَ مَا كُنَّا نُنَقِّرُ عَنْهَا، وَتَسْأَلُونَ عَنْ أَشْيَاءَ مَا أَدْرِي مَا هِيَ، وَلَوْ عَلِمْنَاهَا مَا حَلَّ لَنَا أَنْ نَكْتُمَكُمُوهَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




১২০. ইবনু আউন বলেন, আল-কাসিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই তোমরা এমন সব বিষয়ে আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করছ, যে সম্পর্কে আমরা (পূর্ববর্তীদেরকে) জিজ্ঞাসা করিনি। আবার তোমরা এমন সকল বিষয় অনুসন্ধানে লিপ্ত হচ্ছো, যে বিষয়ে আমরা অনুসন্ধান করিনি। আর তোমরা এমন সব বিষয়ে জিজ্ঞেস করছ, সেটা কি তা আমি জানি না। আর যদি আমি সেটা জানতাম, তবে (অবশ্যই তোমাদেরকে তা বলে দিতাম, কেননা), তোমাদের নিকট থেকে তা গোপন করা আমদের জন্য বৈধ নয়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: পূর্বের ১১৩ নং হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (121)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ ابْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْأَشَجِّ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: " إِنَّهُ سَيَأْتِي نَاسٌ يُجَادِلُونَكُمْ بِشُبُهَاتِ الْقُرْآنِ، فَخُذُوهُمْ بِالسُّنَنِ، فَإِنَّ أَصْحَابَ السُّنَنِ أَعْلَمُ بِكِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف عبد الله بن صالح وباقي رجاله ثقات




১২১. উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: অচিরেই এমন সব লোকের আবির্ভাব হবে, যারা কুরআন কারীমের ‘মুতাশাবিহা’ (অস্পষ্ট/দ্ব্যর্থবোধক) আয়াত নিয়ে তোমাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে। তোমরা তাদেরকে সুন্নাহ দিয়ে আটকে দিবে। কেননা, ‘আসহাবুস সুন্নাহ’ (সুন্নাহ বিষয়ে জ্ঞানীগণ) আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা’র কিতাব সম্পর্কেও অধিক জ্ঞান রাখেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ যঈফ। অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। (তবে একাধিক সহীহ সনদে এটি বর্ণিত হয়েছে। তাখরীজ দেখুন-অনুবাদক)

তাখরীজ: ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ ১/২৫০-২৫২ নং ৮৩, ২২৯, এর সনদ সহীহ।

অপর একটি উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন আজুরী, আশ শরীয়াহ পৃ. ৫৫, ৫৮, ৭৬; লালিকায়ী, শারহুল উসূলুল ই’তিকাদ আহলিস সুন্নাহ ১/১৩৯ নং ২০২; ইবনু আব্দুল বারর, জামি’ বয়ানিল ইলম নং ১৭০১; ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ নং ৮৪; খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ নং ৬০৮।









সুনান আদ-দারিমী (122)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيٌّ هُوَ ابْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامٍ هُوَ ابْنُ عُرْوَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ: مَا زَالَ أَمْرُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مُعْتَدِلًا لَيْسَ فِيهِ شَيْءٌ حَتَّى نَشَأَ فِيهِمُ الْمُوَلَّدُونَ أَبْنَاءُ سَبَايَا الْأُمَمِ أَبْنَاءُ النِّسَاءِ الَّتِي سَبَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ مِنْ غَيْرِهِمْ فَقَالُوا فِيهِمْ بِالرَّأْيِ فَأَضَلُّوهُمْ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد




১২২. উরওয়া ইবনু যুবায়ের বলেন, বনী ইসরাঈল বিজাতীয় যেসব মহিলাদেরকে অন্য সম্প্রদায় থেকে যুদ্ধবন্দিনী হিসেবে ধরে এনেছিলো সেসব বিজাতীয় মহিলাদের সন্তানেরা যখন তাদের মাঝে প্রতিপালিত হতে লাগলো তার পূর্ব পর্যন্ত বনী ইসরাঈলের কাজকর্ম ন্যায়সঙ্গতই চলছিল, তাদের মধ্যে কোন (অন্যায্য) কিছুই ছিল না। যখন তারা (বিজাতীয় মহিলাদের সন্তানেরা) তাদের নিজস্ব মতামত দ্বারা বনী ইসরাঈলদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে লাগল, তখন এভাবেই তারা বনী ইসরাঈলদেরকে পথভ্রষ্ট করতে শুরু করল।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।

তাখরীজ: ইবন আব্দুল বাররা, জামি’ বয়ানুল ইলম নং ১৭৭৪, সনদ সহীহ; ফাসাওয়ী, আল মা’রেফাতু ওয়াত তারীখ ৩/৯৩; খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ১/১৮০।