সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ زَاذِي عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ الْمَرْأَةِ تَغْتَسِلُ تَنْقُضُ شَعْرَهَا فَقَالَتْ بَخٍ وَإِنْ أَنْفَقَتْ فِيهِ أُوقِيَّةً إِنَّمَا يَكْفِيهَا أَنْ تُفْرِغَ عَلَى رَأْسِهَا ثَلَاثًا
১১৮৩. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত, তিনি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে এমন মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে গোসল করবে। (গোসলের সময়) সে কি তার চুল খুলবে? তখন তিনি বললেন: বাহ! তবে তো সে এক আউন্স (উকিয়া) পানি (অতিরিক্ত) খরচ করে ফেলবে! নিশ্চয়ই তার মাথায় তিনবার পানি ঢালা-ই তার জন্য যথেষ্ট হবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১০৪৮।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ تُخَلِّلُهُ بِأَصَابِعِهَا
১১৮৪. আলকামাহ রাহি. হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (মহিলা গোসল করার সময়) তার আঙ্গুলসমূহ দিয়ে তা (তার চুল) খিলাল করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এতে হাজ্জাজ ইবনু আরতাহ রয়েছে, (তিনি যঈফ)।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ فِي الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ يَصُبَّانِ الْمَاءَ صَبًّا وَلَا يَنْقُضَانِ شُعُورَهُمَا
১১৮৫. আবী যুবাইর হতে বর্ণিত, জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হায়িযগ্রস্ত এবং ‘জুনুবী’ মহিলা (এর গোসল) সম্পর্কে বলেন, তারা উভয়ে প্রচুর পরিমাণে পানি ঢালবে । কিন্তু তাদের চুল (খোঁপা বাঁধা থাকলে) খুলবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আগের হাদীসটির মতই যঈফ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ عَطَاءٍ مِثْلَهُ
১১৮৬. হাজ্জাজ হতে বর্ণিত, আতা হতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদও আগেরটির মতোই যঈফ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مَنْصُورٍ قَالَ قَالَ إِبْرَاهِيمُ إِذَا بَلَّتْ أُصُولَهُ وَأَطْرَافَهُ لَمْ تَنْقُضْهُ
১১৮৭. মানছুর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবরাহীম রাহি. বলেছেন, (মহিলাদের গোসলের সময়) যখন তার চুলের গোড়া ও এর আশপাশ ভিজে যায়, তখন আর তার চুল (এর খোঁপা) খোলার প্রয়োজন নেই।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি। তবে এর শাহিদ হলো পরবর্তী উম্মু সালামার হাদীসটি।
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ نِسَاءَ ابْنِ عُمَرَ وَأُمَّهَاتِ أَوْلَادِهِ كُنَّ إِذَا اغْتَسَلْنَ لَمْ يَنْقُضْنَ عِقَصَهُنَّ مِنْ حَيْضٍ وَلَا جَنَابَةٍ
১১৮৮. নাফি’ রাহি. হতে বর্ণিত, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রীগণ ও তাঁর উম্মু ওয়ালাদ (সন্তানদানকারী দাসী)-গণ যখন গোসল করতেন, তখন তারা তাদের চুলের খোঁপা খুলতেন না; না হায়িযের গোসলে, আর না জানাবাতের গোসলে।[1]
[1] এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪; আব্দুর রাযযাক নং ১০৪৭; সামনে ১২০৩ (অনূবাদে ১১৯৭) নং এ আসছে।
حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أُمِّ مُحَمَّدٍ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّهَا قَالَتْ لَا تَنْقُضْنَ عِقَصَكُنَّ مِنْ حَيْضٍ وَلَا مِنْ جَنَابَةٍ
১১৮৯. উম্মু মুহাম্মাদ হতে বর্ণিত, উম্মু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তারা তাদের চুলের খোঁপা খুলবে না; না হায়িযের গোসলে, আর না জানাবাতের গোসলে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। উম্মু মুহাম্মদ আমিনাহ অথবা আমিইয়া বিনতে আব্দুল্লাহ। আমরা তার সম্পর্কে কোনো সমালোচনা পাইনি। ফলে এটি ইবনু হিব্বানের শর্তানুযায়ী। দেখুন, পরবর্তী টীকাটি।
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ جَاءَتْ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ إِنِّي أَشُدُّ ضَفْرَ رَأْسِي أَوْ عُقَدَهُ قَالَ احْفِنِي عَلَى رَأْسِكِ ثَلَاثَ حَفَنَاتٍ ثُمَّ اغْمِزِي عَلَى إِثْرِ كُلِّ حَفْنَةٍ غَمْزَةً
১১৯০. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, আমি তো আমার মাথায় শক্ত করে বেণী করি অথবা খোঁপা বাঁধি। (এমতাবস্থায় গোসলের সময় আমি কি তা খুলে ফেলবো?) তিনি বললেন: “(দুই হাতের কোষ ভরে পানি নিয়ে) মাথায় তিন আঁজলা পানি ঢালো, অতঃপর প্রতি আঁজলা পানির স্থান ভালভাবে চাপ দিয়ে নেড়ে দাও।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩৩০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯৫৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৯৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৯৬।...
এছাড়া ইবনু আবী শাইবা ১/৭৩।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّهُ قَالَ لِامْرَأَتِهِ اسْتَأْصِلِي الشَّعْرَ لَا تَخَلَّلُهُ نَارٌ قَلِيلٌ بُقْيَاهَا عَلَيْهِ قَالَ مَنْصُورٌ يَعْنِي الْجَنَابَةَ
১১৯১. হাম্মাম ইবনুল হারিছ হতে বর্ণিত, হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার স্ত্রীকে বলেন, তুমি তোমার চুল উপড়ে ফেলো, (তাহলে) জাহান্নামের আগুন তোমার চুলে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না; (ফলে) তাতে এর (তোমার মাথার চুলের) অবস্থান হবে সামান্য সময়ই।[1]
মানসূর বলেন: অর্থা জানাবাতের অবস্থায়।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বাইহাকী ১/১৮০; ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪ সহীহ সনদে; আব্দুর রাযযাক নং ১০৫৩ মুনকাতি’ ও মাজহুল সনদে। দেখুন, তাহযীবুর আছার, মুসনাদে আলী নং ৪৩৪, ৪৩৬।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّهُ قَالَ لِامْرَأَتِهِ اسْتَأْصِلِي الشَّعْرَ بِالْمَاءِ لَا تَخَلَّلُهُ نَارٌ قَلِيلٌ بُقْيَاهَا عَلَيْهِ
১১৯২. (অপর সনদে) হাম্মাম ইবনুল হারিছ হতে বর্ণিত, হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার স্ত্রীকে বলেন, তুমি তোমার চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছাও, (তাহলে) জাহান্নামের আগুন তোমার চুলে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না; (ফলে) একে (তোমার মাথাকে) তাতে (আগুনে) সামান্যই অবস্থান করতে হবে (তথা অবস্থান করতে হবে না)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, জা’ফর ইবনুল হারিছ এর জন্য।
তাখরীজ: আগের টীকাটি এবং তাহযীবুল আছার মুসনাদে আলী নং ৪৩৬ দেখুন।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ إِذَا اغْتَسَلَتْ الْمَرْأَةُ مِنْ الْجَنَابَةِ فَلَا تَنْقُضْ شَعْرَهَا وَلَكِنْ تَصُبُّ الْمَاءَ عَلَى أُصُولِهِ وَتَبُلُّهُ
১১৯৩. আবীয যুবাইর রাহি. হতে বর্ণিত, জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: যখন কোনো মহিলা জানাবাতের গোসল করবে, সে যেন তার চুল (এর খোঁপা) না খোলে। তবে সে তার চুলের গোড়ায় পানি ঢালবে এবং তা ভালভাবে ভিজিয়ে দেবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, হাজ্জাজ ইবনু আরতাহ’র জন্য।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪। আরও দেখুন, গত ১১৯১ (অনূবাদে ১১৮৫) নং হাদীসটি।
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْمَرْأَةِ تُصِيبُهَا الْجَنَابَةُ وَرَأْسُهَا مَعْقُوصٌ تَحُلُّهُ قَالَ لَا وَلَكِنْ تَصُبُّ عَلَى رَأْسِهَا الْمَاءَ صَبًّا حَتَّى تُرَوِّيَ أُصُولَ الشَّعْرِ
১১৯৪. আব্দুল মালিক হতে বর্ণিত, আতা রাহি. হতে এমন মহিলা সম্পর্কে বর্ণিত আছে, যে ‘জুনুবী’ হয়েছে, আর তার মাথার চুল বেণী করা রয়েছে, (গোসলের সময়) সে কি বেণী খুলে ফেলবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, না। তবে তার মাথায় অধিক পরিমাণে পানি ঢালতে হবে যতক্ষণ না তার চুলের গোড়া ভিজে যায়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১০৫৫, ১০৫৬ (ভিন্ন ও অতিরিক্ত শব্দসহ) যঈফ সনদে। আরও দেখুন, গত ১১৯২ (অনূবাদে ১১৮৬) নং হাদীসটি।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ حَدَّثَتْنِي حَبِيبَةُ بِنْتُ حَمَّادٍ حَدَّثَتْنِي عَمْرَةُ بِنْتُ حَيَّانَ السَّهْمِيَّةُ قَالَتْ قَالَتْ لِي عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ أَمَا تَسْتَطِيعُ إِحْدَاكُنَّ إِذَا طَهُرَتْ مِنْ حَيْضِهَا أَنْ تُدَخِّنَ شَيْئًا مِنْ قُسْطٍ فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فَشَيْئًا مِنْ آسٍ فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فَشَيْئًا مِنْ نَوًى فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فَشَيْئًا مِنْ مِلْحٍ
১১৯৫. আমরাহ বিনতে হায়্যান আস সাহমিয়্যাহ বলেন, আমাকে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন হায়িয হতে পবিত্রতা অর্জন করে, তখন সে কি ‘কুশতু’ জাতীয় কোনো সুগন্ধি ধোঁয়া ব্যবহার করতে পারে না? তা না পেলে, মেহিদীর সুগন্ধি, তাও না পেলে কোনো (গাছের শক্ত) আঁটি, তাও না পেলে অন্তত: লবন দিয়ে হলেও?[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।
তাখরীজ: আমি এ শব্দে আমি কোথাও পাইনি। দেখুন, সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার হাদীস নং ৩৩২ ও সুনানে বাইহাকী ১/১৮৩ এবং পরবর্তী হাদীসটি।
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِذَا اغْتَسَلَتْ الْمَرْأَةُ مِنْ الْحَيْضِ فَلْتُمِسَّ أَثَرَ الدَّمِ بِطِيبٍ
১১৯৬. মু’আযা আল আদাবিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, যখন কোনো মহিলা হায়িয হতে পবিত্রতা অর্জন করবে, তখন সে যেন রক্তের চিহ্নের স্থানে কোনো সুগন্ধি দ্বারা পরশ বুলিয়ে নেয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি, তবে এর অনুরূপ হাদীস সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, যা আগের হাদীসের তাখরীজে উল্লেখিত হয়েছে।- অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ نِسَاءَهُ وَأُمَّهَاتِ أَوْلَادِهِ كُنَّ يَغْتَسِلْنَ مِنْ الْحِيضَةِ وَالْجَنَابَةِ وَلَا يَنْقُضْنَ شُعُورَهُنَّ وَلَكِنْ يُبَالِغْنَ فِي بَلِّهَا
১১৯৭. নাফি’ রাহি. হতে বর্ণিত, ইবুন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার স্ত্রীগণ ও উম্মু ওয়ালাদ (দাসী) গন হায়িযের এবং জানাবাতের গোসল করতেন, তবে তারা চূল খুলতেন না। কিন্তু তা (পুরোপুরি) ভিজে যাওয়া পর্যন্ত (পানি) পৌঁছাতে থাকতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪ সহীহ সনদে। এটি ১১৯৪ (অনূবাদে ১১৮৮) নং এ গত হয়েছে।
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ لَا بَأْسَ أَنْ تَتَنَاوَلَ الْحَائِضُ مِنْ الْمَسْجِدِ الشَّيْءَ
১১৯৮. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, মসজিদ হতে হায়িযগ্রস্ত নারীর কোনো কিছু এনে দেওয়ায় কোনো দোষ নেই।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৬০;পূর্ণাঙ্গ তাখরীজের জন্য পরবর্তী টীকাটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ تَتَنَاوَلُ الْحَائِضُ الشَّيْءَ مِنْ الْمَسْجِدِ وَلَا تَدْخُلُهُ
১১৯৯. মানছুর হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলা মসজিদ হতে কোনো কিছু এনে দিতে পারবে, তবে সে তাতে প্রবেশ করবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান জা’ফর ইবনুল হারিসের কারণে।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৬০ সহীহ সনদে; আগের টীকাটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُسْلِمٌ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ الْجُنُبُ يَأْخُذُ مِنْ الْمَسْجِدِ وَلَا يَضَعُ فِيهِ
১২০০. হিশাম হতে বর্ণিত, কাতাদা রাহি. বলেন, ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি মসজিদ হতে কোনো কিছু নিতে পারবে, কিন্তু তাতে অবস্থান করতে পারবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৬০ সহীহ সনদে।
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْحَائِضِ تَنَاوَلُ مِنْ الْمَسْجِدِ الشَّيْءَ قَالَ نَعَمْ إِلَّا الْمُصْحَفَ
১২০১. আব্দুল মালিক বর্ণনা করেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলা মসজিদ হতে কিছু আনতে পারবে কি-না, এ প্রশ্নের জবাবে আতা রাহি. বলেন, হাঁ, তবে কুরআন ব্যতীত।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৬০।
আমি বলছি: এর শাহিদ হাদীস হলো আয়িশা রা: কর্তৃক বর্ণিত যা পূর্বে ৭৯৮ (অনূবাদে ৭৯৪) নং এ গত হয়েছে।
‘জুনুবী’ লোকের মসজিদে প্রবেশের ব্যাপারে উলামাগণ মতভেদ করেছেন:
১. এদের মধ্যে রয়েছেন যারা সাধারণভাবে এথেকে নিষেধ করেছেন। এটি মালিক ও তার সাথীদের মত।
২. এবং এদের মধ্যে রয়েছেন, যারা মসজিদ অতিক্রমকারী ব্যতীতে সেখানে অবস্থানকারীদেরকে এ থেকে নিষেধ করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছে ইমাম শাফিঈ।
৩. সেই সকল উলামা যারা সকলের জন্য একে অনুমতি দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন দাউদ তার সাথীরা, এবং কতক শাফিঈ ফকীহ।
আর ইবনু আব্বাস, আলী, সাঈদ ইবনু যুবাইর, মুজাহিদ, হাসান, হাকাম, এবং ইবনু যাইদ থেকে বর্ণিত, আছে পথচারী তথা মুসাফির জুনুবী হয়ে পানি না পেলে তাকে তায়াম্মুম করতে হবে।
ইবনু মাসউদ হতে মুনকাতি‘ সনদে, ইবনু আব্বাস ‘শক্তিশালী নয়’ এমন সনদে পুর্বে উল্লেখিত হয়েছে, এবং সাঈদ , আবী যুবাইর, ইকরিমাহ ও ইবরাহীম রাহি. হতে বর্ণিত আছে যে, এর অর্থ সালাতের স্থানের তথা মসজিদের নিকটবর্তী না হওয়া, তবে তোমাদের জন্য কেবল সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য (মসজিদ অতিক্রম করার) অনুমতি আছে।...
এ অনুচ্ছেদে হায়িযগ্রস্ত মহিলার সম্পর্কে যে মতভেদ তা হচ্ছে মুলত: জুনুবীর সম্পর্কে মতভেদ।......।
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ قَالَ هُوَ الْمُسَافِرُ
১২০২. মিজলায হতে বর্ণিত, আল্লাহর বাণী [“আর পথচারী অবস্থায় থাকা ব্যতীত না জুনুবী (অপবিত্র) অবস্থায় (সালাতের নিকটবর্তী হয়োনা)।’ (সুরা নিসা ৪: ৪৩)] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: তারা হলেন মুসাফির।[1]
[1] তাহক্বীক্ব; এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ৫/৯৭।