হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (1281)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهِ وَعَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَبِّرُ فِي كُلِّ رَفْعٍ وَوَضْعٍ وَقِيَامٍ وَقُعُودٍ




১২৮১. আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (সালাতে) দেখেছি, তিনি প্রতিবার উঠা ও ঝুঁকে যাওয়ার সময় এবং দাঁড়ানো ও বসার সময় তাকবীর দিচ্ছেন।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১০১, ৫১২৮, ৫৩৩৪। ((তিরমিযী ২৫৩; তিনি বলেন হাদীসটি হাসান সহীহ’ তায়ালিসী ১/৯৫ নং ৪১৭; নাসাঈ ২/২০৫, ৩/৬২; বাইহাকী ২/১৭৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/২২০।- মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১০১ এর মুহাক্বিক্বের টীকা হতে।- অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1282)


أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا دَخَلَ الصَّلَاةَ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا رَكَعَ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ وَلَا يَرْفَعُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ أَوْ فِي السُّجُودِ




১২৮২. সালিম তার পিতা ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে প্রবেশ (আরম্ভ) করতেন, তখন তাকবীর দিতেন এবং তাঁর উভয় হাত কাঁধ বরাবর উত্তোলন করতেন। এবং যখন রুকূ’ করতেন, তখনও তাকবীর দিতেন এবং উভয় হাত উত্তোলন করতেন আবার যখন রুকূ হতে মাথা উত্তোলন করতেন, তখনও এরূপ করতেন। তবে দু’ সিজদার মাঝে কিংবা সিজদাসমুহের মাঝে তা উত্তোলন করতেন না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৩৫; সহীহ মুসলিম ৩৯০। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪২০, ৫৪৮১, ৫৫৩৪, ৫৫৬৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৬১, ১৮৬৪, ১৮৬৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1283)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ أُذُنَيْهِ وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ




১২৮৩. মালিক ইবনুল হুয়াইরিছ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাকবীর দিতেন তখন তাঁর উভয় হাত কান বরাবর উত্তোলন করতেন, আবার তিনি যখন রুকূ’ করার ইচ্ছা করতেন, (তখনও তাঁর উভয় হাত কান বরাবর উত্তোলন করতেন) এবং যখন রুকূ’ হতে মাথা উত্তোলন করতেন, (তখনও তাঁর উভয় হাত কান বরাবর উত্তোলন করতেন)।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৩৭; সহীহ মুসলিম ৩৯১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৬৩, ১৮৭৩ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1284)


أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ حَدَّثَنِي أَبُو الْبَخْتَرِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْيَحْصُبِيِّ عَنْ وَائِلٍ الْحَضْرَمِيِّ أَنَّهُ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ يُكَبِّرُ إِذَا خَفَضَ وَإِذَا رَفَعَ وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ عِنْدَ التَّكْبِيرِ وَيُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ قَالَ قُلْتُ حَتَّى يَبْدُوَ وَضَحُ وَجْهِهِ قَالَ نَعَمْ




১২৮৪. ওয়ায়িল আল হাযরামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সালাত আদায় করেছেন। তিনি ঝূঁকে যাওয়ার সময় ও উঠার সময় তাকবীর দিতেন এবং তাকবীর দেওয়ার সময় উভয় হাত উত্তোলন করতেন। আর তিনি সালাম ফেরাতেন (প্রথমে) ডান দিক থেকে এবং (তারপর) বাম দিক থেকে।


তিনি বলেন, আমি বললাম, তখন কি তার চেহারার শুভ্রতা দেখা যেতো? তিনি বললেন, হাঁ।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।

তাখরীজ: বাইহাকী ২/২৬।









সুনান আদ-দারিমী (1285)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَفَرٍ مِنْ قَوْمِي وَنَحْنُ شَبَبَةٌ فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَفِيقًا فَلَمَّا رَأَى شَوْقَنَا إِلَى أَهْلِينَا قَالَ ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ فَكُونُوا فِيهِمْ فَمُرُوهُمْ وَعَلِّمُوهُمْ وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي وَإِذَا حَضَرَتْ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ ثُمَّ لِيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ




১২৮৫. মালিক ইবনু হুয়াইরিছ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার কওমের একটি (প্রতিনিধি) দলের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আগমণ করলাম। আর আমরা ছিলাম যুবক। এরপর আমরা তাঁর নিকট বিশ রাত অবস্থান করলাম। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু এবং বন্ধু বৎসল। এরপর যখন তিনি আমাদের মধ্যে আপন পরিজনের (কাছে প্রত্যাবর্তনের) প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি আমাদেরকে বললেন: “তোমরা তোমাদের পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তন করো এবং তাদের মাঝে অবস্থান করো। আর তাদেরকে (কল্যাণকর কাজের) আদেশ দাও এবং (দ্বীন) শেখাও। আর তোমরা সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখলে। আর যখন সালাতের সময় উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের মধ্য থেকে একজন যেন আযান দেয় অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বড় সে যেন ইমামিত করে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ্। এটি সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদীস।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬২৮; সহীহ মুসলিম ৬৭৪। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৫৮, ১৮৭২, ২১২৮, ২১২৯, ২১৩০। এছাড়া বাইহাকী, মা’রিফাতুস zwj;সুনান নং ৫৮৯৫; ইবনু কানি’ঈ, মু’জামুস সাহাবাহ ৩/৪৫ জীবনী নং ৯৮৯।









সুনান আদ-দারিমী (1286)


أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اجْتَمَعَ ثَلَاثَةٌ فَلْيَؤُمَّهُمْ أَحَدُهُمْ وَأَحَقُّهُمْ بِالْإِمَامَةِ أَقْرَؤُهُمْ




১২৮৬. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তিন ব্যক্তি একত্রিত হবে, তখন তাদের একজন যেন তাদের ইমামতি করে, আর তাদের মধ্যে ইমামতির সর্বাধিক যোগ্য হলো সেই ব্যক্তি, যে অধিকতর বিশুদ্ধভাবে কুরআন পড়তে পারে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৬৭২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী ১২৯১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৩২।









সুনান আদ-দারিমী (1287)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ الْعِشَاءِ فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ ثُمَّ قَامَ فَقَالَ أَنَامَ الْغُلَيِّمُ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا فَقَامَ فَصَلَّى فَجِئْتُ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَ بِيَدِي فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ




১২৮৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, আমি (একরাতে) আমার খালা মায়মুনাহ’র নিকট ছিলাম। এরপর ঈশা’র সালাতের পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ঘরে) এসে চার রাকা’আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে বললেন: “বালকটি কি ঘুমিয়ে পড়লো?“ অথবা, অনুরূপ কথা বললেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে আবার সালাত আদায় করতে লাগলেন। আর আমি এসে তাঁর বাম পাশে (সালাতে) দাঁড়ালাম, তখন তিনি আমার হাত ধরে আমাকে তাঁর ডানপাশে নিয়ে আসলেন।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের হাদীস।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ১৮৩; সহীহ মুসলিম ৭৬৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী ২৪৬৫; আবী ইয়ালা, মু’জামুশ শুয়ূখ নং ৩২৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৭৯, ২৫৯২, ২৬২৬; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৭৭ এ।









সুনান আদ-দারিমী (1288)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكِبَ فَرَسًا فَصُرِعَ عَنْهُ فَجُحِشَ شِقُّهُ الْأَيْمَنُ فَصَلَّى صَلَاةً مِنْ الصَّلَوَاتِ وَهُوَ جَالِسٌ فَصَلَّيْنَا مَعَهُ جُلُوسًا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَلَا تَخْتَلِفُوا عَلَيْهِ فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَإِنْ صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ




১২৮৮. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, (একদা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি ঘোড়ায় আরোহন করলেন এবং তা হতে পড়ে ডান পাশে আঘাতপ্রাপ্ত হলেন। ফলে তিনি বসে সালাত আদায় করলেন, আর আমরাও তাঁর সাথে বসে সালাত আদায় করলাম। তারপর যখন তিনি সালাত থেকে বিরত হলেন, তিনি বললেন: “ইমাম এজন্যই বানানো হয়, যাতে তার অনুসরণ করা হয়। সুতরাং তার বিপরীত করো না। বরং সে যখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তোমরাও তখন দাঁড়িয়ে আদায় করবে। আর সে যখন রুকূ’ করে, তোমরাও তখন রুকূ’ করবে, আবার সে যখন (মাথা) উত্তোলন করে, তোমরাও মাথা উত্তোলন করবে। আর সে যখন ‘সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ্’ বলেন তোমরা তখন বলো ‘রব্বানা লাকাল হামদ’। আর সে বসে সালাত আদায় করলে তোমরা সকলেই বসে সালাত আদায় করবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩৭৮; সহীহ মুসলিম ৪১১। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী ৩৫৩৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১০২, ২১০৩; মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২২৩ এ।









সুনান আদ-দারিমী (1289)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَبِي عَائِشَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْتُ لَهَا أَلَا تُحَدِّثِينِي عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ بَلَى ثَقُلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَصَلَّى النَّاسُ قُلْنَا لَا هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ قَالَتْ فَفَعَلْنَا فَاغْتَسَلَ ثُمَّ ذَهَبَ لِيَنُوءَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ أَصَلَّى النَّاسُ فَقُلْنَا لَا هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ فَفَعَلْنَا ثُمَّ ذَهَبَ لِيَنُوءَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ أَصَلَّى النَّاسُ فَقُلْنَا لَا هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَتْ وَالنَّاسُ عُكُوفٌ فِي الْمَسْجِدِ يَنْتَظِرُونَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِصَلَاةِ الْعِشَاءِ الْآخِرَةِ قَالَتْ فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ قَالَتْ فَأَتَاهُ الرَّسُولُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُكَ بِأَنْ تُصَلِّيَ بِالنَّاسِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَكَانَ رَجُلًا رَقِيقًا يَا عُمَرُ صَلِّ بِالنَّاسِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَنْتَ أَحَقُّ بِذَلِكَ قَالَتْ فَصَلَّى بِهِمْ أَبُو بَكْرٍ تِلْكَ الْأَيَّامَ قَالَتْ ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ وَجَدَ مِنْ نَفْسِهِ خِفَّةً فَخَرَجَ بَيْنَ رَجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا الْعَبَّاسُ لِصَلَاةِ الظُّهْرِ وَأَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَلَمَّا رَآهُ أَبُو بَكْرٍ ذَهَبَ لِيَتَأَخَّرَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ لَا يَتَأَخَّرَ وَقَالَ لَهُمَا أَجْلِسَانِي إِلَى جَنْبِهِ فَأَجْلَسَاهُ إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ فَجَعَلَ أَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي وَهُوَ قَائِمٌ بِصَلَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلَاةِ أَبِي بَكْرٍ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدٌ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ فَدَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ فَقُلْتُ لَهُ أَلَا أَعْرِضُ عَلَيْكَ مَا حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ هَاتِ فَعَرَضْتُ حَدِيثَهَا عَلَيْهِ فَمَا أَنْكَرَ مِنْهُ شَيْئًا غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ أَسَمَّتْ لَكَ الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ مَعَ الْعَبَّاسِ قُلْتُ لَا فَقَالَ هُوَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ




১২৮৯. উবাউদুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ বলেন, আমি আয়িশার নিকট প্রবেশ করে তাঁকে বললাম, আপনি কি আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসুস্থতা সম্পর্কে হাদীস শোনাবেন না?

তখন তিনি বললেন, হাঁ, অবশ্যই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ভারী (রোগে কাতর) হয়ে গেলেন, তখন তিনি বললেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে নিয়েছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তারা আপনার প্রতিক্ষায় রয়েছে। তিনি বললেন: “আমার জন্য গামলায় পানি নিয়ে এসো।“

আয়িশা বলেন, আমরা পানি দিলাম। ফলে তিনি গোসল করলেন। তারপর তিনি যেতে উদ্যত হলেন, কিন্তু মুর্ছা গেলেন। এরপর জ্ঞান ফিরে এলে বললেন: লোকেরা কি সালাত আদায় করে নিয়েছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তারা আপনার প্রতিক্ষায় রয়েছে। তিনি বললেন: “আমার জন্য গামলায় পানি নিয়ে এসো।“

আয়িশা বলেন, আমরা পানি দিলাম। ফলে তিনি গোসল করলেন। তারপর তিনি যেতে উদ্যত হলেন, কিন্তু মুর্ছা গেলেন। এরপর জ্ঞান ফিরে এলে বললেন: লোকেরা কি সালাত আদায় করে নিয়েছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তারা আপনার প্রতীক্ষায় রয়েছে।

আয়িশা বলেন, লোকেরা সর্বশেষ ঈশার সালাতের অপেক্ষায় মসজিদে অবস্থান করছিল।

তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু বাকর কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বলার জন্য লোক পাঠালেন।

তিনি বলেন, লোকটি আবু বাকরের নিকট এসে তাঁকে বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে আদেশ দিয়েছেন।

তখন আবু বাকর - যিনি অত্যন্ত দয়ালূ ব্যক্তি ছিলেন- তিনি বললেন, হে উমার, আপনি লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করুন।

উমার তাঁকে বললেন, আপনিই এর অধিক উপযুক্ত।

আয়িশা বলেন, তারপর এ দিনগুলিতে আবু বাকরই লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন।

তিনি বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন একটু হালকা বোধ করলেন, তখন তিনি দু’ ব্যক্তির মাঝে (তাদের উপর ভর করে) যুহরের সালাতের জন্য বের হলেন, আর তাদের দু’জনের একজন ছিলেন আব্বাস, আর আবু বাকর তখন লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। যখন আবু বাকর তাঁকে দেখলেন, তিনি পিছিয়ে যেতে চাইলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইশারায় পিছিয়ে না যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি (পার্শ্ববর্তী) দু’জনকে বললেন: “আমাকে তার পাশে বসিয়ে দাও।“ ফলে তারা দু’জন তাঁকে আবু বাকরের পাশে বসিয়ে দিলো।

আয়িশা বলেন, এরপর আবু বাকর দাঁড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের অনুসরণে সালাত আদায় করছিলেন এবং লোকেরা আবু বাকরের অনুসরণে সালাত আদায় করছিল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসা অবস্থায় ছিলেন।

উবাইদুল্লাহ বলেন, এরপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাসের নিকট গিয়ে তাকে বললাম, আমি কি আপনার নিকট সেই হাদীস উপস্থাপন করব না, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসুস্থতা সম্পর্কে আয়িশা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন?তখন তিনি বললেন, নিয়ে আসো। ফলে আমি আয়িশার হাদীসটি তার নিকট উপস্থাপণ করলাম। তখন তিনি এর কোনো কিছুই অস্বীকার করেন নি। তবে তিনি বললেন, আব্বাসের সাথে অপর যে ব্যক্তি ছিল, তিনি কি তার নাম তোমাকে বলেছেন? আমি বললাম, না তো। তখন তিনি বললেন, তিনি ছিলেন আলী ইবনু আবী তালিব।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ১৯৮ (অন্য বিভিন্ন স্থানসমূহেও); মুসলিম ৪১৮।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী ৪৪৭৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১১৬, ২১১৮, ২১১৯, ২১২৪; মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৩৫ এ।









সুনান আদ-দারিমী (1290)


أَخْبَرَنَا أَبُو مَعْمَرٍ إِسْمَعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَكَبَّرَ فَكَبَّرَ النَّاسُ خَلْفَهُ ثُمَّ رَكَعَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَنَزَلَ الْقَهْقَرَى فَسَجَدَ فِي أَصْلِ الْمِنْبَرِ ثُمَّ عَادَ حَتَّى فَرَغَ مِنْ آخِرِ صَلَاتِهِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد فِي ذَلِكَ رُخْصَةٌ لِلْإِمَامِ أَنْ يَكُونَ أَرْفَعَ مِنْ أَصْحَابِهِ وَقَدْرُ هَذَا الْعَمَلِ فِي الصَّلَاةِ أَيْضًا




১২৯০. সাহল ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলাম, তিনি মিম্বারের উপর বসা অাছেন। এরপর তিনি (দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে সালাতের জন্য) তাকবীর দিলেন এবং তাঁর পিছনে লোকেরাও তাকবীর দিলো। অতঃপর তিনি (ক্বিরা’আত শেষে) মিম্বারের উপরেই রুকূ’তে গেলেন ও এরপর মাথা উত্তোলন করলেন। তারপর পিছিয়ে গিয়ে (মিম্বার হতে) অবতরণ করে মিম্বারের গোড়াতে সাজদা করলেন। এরপর তিনি পূণরায় (মিম্বারে ফিরে গেলেন এবং) এরূপ করতে থাকলেন তাঁর সালাত শেষ করা পর্যন্ত।

আবু মুহাম্মাদ বলেন, এ ব্যাপারে অনুমতি রয়েছে যে, ইমাম তার সঙ্গীদের থেকে উঁচু স্থানে দাঁড়াতে পারবেন এবং এ পরিমাণ কাজ সালাতের মধ্যেও প্রযোজ্য।









সুনান আদ-দারিমী (1291)


أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسٍ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَتَأَخَّرُ عَنْ صَلَاةِ الْغَدَاةِ مِمَّا يُطِيلُ بِنَا فِيهَا فُلَانٌ فَمَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشَدَّ غَضَبًا فِي مَوْعِظَةٍ مِنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَالَ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ مِنْكُمْ مُنَفِّرِينَ فَمَنْ صَلَّى بِالنَّاسِ فَلْيَتَجَوَّزْ فَإِنَّ فِيهِمْ الْكَبِيرَ وَالضَّعِيفَ وَذَا الْحَاجَةِ




১২৯১. আবু মাসউদ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এক ব্যক্তি এসে বললো: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমি ভোরের (ফজরের) সালাতে হাজির হই না। (কেননা,) অমুক ব্যক্তি আমাদের নিয়ে খুব দীর্ঘ করে সালাত আদায় করে। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নসীহত করার ক্ষেত্রে সেইদিনের চেয়ে অধিক রাগান্বিত হতে আর কখনো দেখিনি। তিনি তখন বললেন: “হে লোক সকল! নিশ্চয় তোমাদের মাঝে বিরক্তি উতপাদনকারী লোকজন রয়েছে। অতএব, যে ব্যক্তি লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করবে, সে যেনো সালাত সংক্ষিপ্ত করে। কেননা, তার পিছনে বৃদ্ধ, দুর্বল ও প্রয়োজনগ্রস্ত (লোকজন) থাকে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি সহীহ বুখারী-মুসলিমের হাদীস।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৯০; সহীহ মুসলিম ৪৬৬;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৩৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৫৮।....









সুনান আদ-দারিমী (1292)


أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَفَّ النَّاسِ صَلَاةً فِي تَمَامٍ




১২৯২. কাতাদা বলেন, আমি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন লোকদের মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ সালাত আদায়কারী।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭০৬-৭০৮; সহীহ মুসলিম ৪৬৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসানাদুল মাউসিলী নং ২৭৮৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৫৯, ১৮৫৬, ১৮৮৬।









সুনান আদ-দারিমী (1293)


أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ قَالَ كَتَبَ إِلَيَّ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ فَلَا تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي




১২৯৩. আবু কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন সালাতের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬৩৭; সহীহ মুসলিম ৬০৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৫৫, ২২২২, ২২২৩ ।









সুনান আদ-দারিমী (1294)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَلَا تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي




১২৯৪. (অপর সূত্রে) আবু কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন সালাতের ইকামত দেওয়া হয়, তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (1295)


حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ وَسَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَوُّوا صُفُوفَكُمْ فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصَّفِّ مِنْ تَمَامِ الصَّلَاةِ




১২৯৫. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা তোমাদের কাতারসমূহ সোজা করো, কেননা, কাতার সোজা করা সালাতের পূর্ণতার অংশ।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ zwj;বুখারী ৭২৩; সহীহ মুসলিম ৪৩৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসানাদুল মাউসিলী নং ২৯৯৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৭১, ২১৭৪ এ।









সুনান আদ-দারিমী (1296)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي طَلْحَةُ بْنُ مُصَرِّفٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْسَجَةَ عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ سَوُّوا صُفُوفَكُمْ لَا تَخْتَلِفُ قُلُوبُكُمْ قَالَ وَكَانَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْأَوَّلِ أَوْ الصُّفُوفِ الْأُوَلِ




১২৯৬. বারা’আ ইবনু আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা তোমাদের কাতারসমূহ সোজা করো, তাহলে তোমাদের অন্তরসমূহ বিক্ষিপ্ত হবে না।“তিনি বলেন, তিনি আরও বলতেন: “আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতাগণ প্রথম কাতার অথবা, প্রথম কাতারসমূহের উপর রহমত বর্ষণ করেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৫৭, ২১৬১; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৮৬ এ।









সুনান আদ-দারিমী (1297)


خْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَسْتَغْفِرُ لِلصَّفِّ الْأَوَّلِ ثَلَاثًا وَلِلصَّفِّ الثَّانِي مَرَّةً




১২৯৭. ইরবায ইবনু সারিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম কাতারের জন্য তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আর দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, ইনকিতা’ (বিচ্ছিন্নতা)-এর দরূণ। খালিদ ইরবায ইবনু সারিয়্যাহ’র সাক্ষাত পাননি। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৫৮; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৯৫ এ। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1298)


أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى الْأَشْيَبُ عَنْ شَيْبَانَ عَنْ يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ




১২৯৮. ইরবায ইবনু সারিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহিহ।

তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1299)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ مَنَاكِبَنَا فِي الصَّلَاةِ وَيَقُولُ لَا تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ لِيَلِيَنِّي مِنْكُمْ أُولُو الْأَحْلَامِ وَالنُّهَى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ قَالَ أَبُو مَسْعُودٍ فَأَنْتُمْ الْيَوْمَ أَشَدُّ اخْتِلَافًا




১২৯৯. আবু মাসউদ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের সময় আমাদের কাঁধ ধরে আমাদেরকে বলতেন, তোমরা বিচ্ছিন্ন (এলোমেলো) হয়ে (দাঁড়িও) না, তাহলে তোমাদের অন্তরসমূহও মতভেদপূর্ণ হয়ে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা সর্বাধিক বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ তারা আমার কাছাকাছি দাঁড়াবে, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, তারা তাদের পর, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, তারা তাদের পর দাঁড়াবে।“ আবু মাসউদ বলেন: অথচ আজকে তোমাদের মধ্যে চরম বিভেদ বিরাজ করছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখলীজ: সহীহ মুসলিম ৪৩২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৭২, ২১৭৮।









সুনান আদ-দারিমী (1300)


أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ خَالِدٍ عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَلِيَنِّي مِنْكُمْ أُولُو الْأَحْلَامِ وَالنُّهَى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ وَلَا تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ وَإِيَّاكُمْ وَهَوْشَاتِ الْأَسْوَاقِ




১৩০০. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে যারা সর্বাধিক বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ তারা আমার কাছাকাছি দাঁড়াবে, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, তারা তাদের পর, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, তারা তাদের পর দাঁড়াবে। আর তোমরা বিচ্ছিন্ন (এলোমেলো) হয়ে (দাঁড়িও) না, তাহলে তোমাদের অন্তরসমূহও মতভেদপূর্ণ হয়ে যাবে। এছাড়া তোমরা (মসজিদসমূহে) বাজারের মতো শোরগোল-চিতকার করা হতে বেঁচে থাকবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪৩২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসানদুল মাওসিলী নং ৫১১১, ৫৩২৪, ৫৩২৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৮০।