সুনান আদ-দারিমী
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ حَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ مِنْ أَذَانِ الصُّبْحِ وَبَدَا الصُّبْحُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ تُقَامَ الصَّلَاةُ
১৪৮১. হাফসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুআয্zwnj;যিন যখন ভোরের আযান (শেষে) থেমে যেতো এবং সুবহে সাদিক (ভোর) শুরু হতো, তখন সালাত (-এর জামা’আত) দাঁড়ানোর আগে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংক্ষেপে দু’রাকাআত সালাত আদায় করে নিতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।
তাখরীজ: মালিক, মু’আত্তা, কিতাবুস সালাতুল লাইল ২৯; বুখারী ৬১৮; মুসলিম ৭২৩।
পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৩৫ তে।
আমি বলি জামা’আতের পূর্বে সুন্নাতের ব্যাপারে অনেকগুলি হাদীস বর্ণিত হয়েছে: এর মধ্যে রয়েছে, আবী হুরাইরা, আলী, ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ, সাফিয়্যাহ- এঁদের থেকে বর্ণিত সকল হাদীস যঈফ যা শারঈ হুকুমের দলীল হওয়ার উপযুক্ত নয়।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ وَأَخْبَرَتْهُ حَفْصَةُ أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي إِذَا أَضَاءَ الصُّبْحُ رَكْعَتَيْنِ
১৪৮২. সালিমের পিতা ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমু’আর পরে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন।[1] হাফসা তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, সুবহে সাদিক (ভোর) স্পষ্ট (আলোকিত) হয়ে উঠলে তিনি (ফজরের জামা’আতের আগে) দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন।[2]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৯৩৭; মুসলিম ৮৮২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৩৫ তে।
আমি বলি জামা’আতের পূর্বে সুন্নাতের ব্যাপারে অনেকগুলি হাদীস বর্ণিত হয়েছে: এর মধ্যে রয়েছে, আবী হুরাইরা, আলী, ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ, সাফিয়্যাহ- এঁদের থেকে বর্ণিত সকল হাদীস যঈফ যা শারঈ হুকুমের দলীল হওয়ার উপযুক্ত নয়।
তবে ইবনু উমার হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি জুমু’আর আগে দীর্ঘ সময় সালাত আদায় করতেন এবং জুমু’আর পরেও….।
ফলে এটি সাধারণ নফল সালাত, রাতেবাহ (সুন্নাত) নয়। আর এতে ‘ক্ববলাল জুমু’আহ’ (জুমু’আ’র পূর্বের) সালাতের জন্য কোনো দলীল নেই, কেননা, এটি সাধারণ (উন্মুক্ত) বর্ণনা। আল্লাহই ভাল জানেন।
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: হাফসার হাদীস গত হয়েছে। পূর্ণ তাখরীজের জন্য পূর্বের হাদীসগুলি দেখুন।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ فَإِنْ كَانَتْ لَهُ حَاجَةٌ كَلَّمَنِي بِهَا وَإِلَّا خَرَجَ إِلَى الصَّلَاةِ
১৪৮৩. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সালাতের পূর্বে দু’ রাকা’আত (সুন্নাত) আদায় করতেন। এরপর কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমার সাথে কথা বলতেন, আর তা না হলে সালাতের জন্য বের হয়ে যেতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আদী, আল কামিল ৩/৯৩৪; ইবনু আবী শাইবা ২/২৪৯; তার সূত্রে মুসলিম ৭৪৩ তবে তাঁর শব্দাবলি: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের দু’ রাকা’আত (সুন্নাত) আদায় করতেন, এরপর আমি জেগে থাকলে আমার সাথে কথা বলতেন, আর তা না হলে তিনি শুয়ে থাকতেন।“ আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৭৫ তে।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي مَا بَيْنَ الْعِشَاءِ إِلَى الْفَجْرِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُسَلِّمُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ يُوتِرُ بِوَاحِدَةٍ فَإِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ مِنْ الْأَذَانِ الْأَوَّلِ رَكَعَ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمُؤَذِّنُ فَيَخْرُجُ مَعَهُ
১৪৮৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈশার সালাত ও ফজরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে এগারো রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। আর তিনি এর প্রত্যেক দু’ রাকা’আতে সালাম ফেরাতেন। এক রাকা’আত বিতর পড়তেন। আর যখন মুয়াযযিন প্রথম আযান (শেষ করে) থেমে যেতেন, তখন তিনি সংক্ষেপে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। আর তাঁর নিকট মুয়াযযিন না আসা পর্যন্ত তিনি শুয়ে থাকতেন। এরপর (মুয়াযযিন এলে) তিনি তার সাথে বের হয়ে যেতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৬২৬; মুসলিম ৭৩৬। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৫০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৩১, ২৪৬৭।
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ إِسْحَقَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ
১৪৮৫. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন সালাতের ইকামত দেয়া হয়, তখন ফরয সালাত ব্যতীত আর কোনো সালাত নেই।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৩৭১। পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী টীকাটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ الْفَلَّاسُ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ وَرْقَاءَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
১৪৮৬. (অপর সনদে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে, অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম ৭১০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৭৯, ৬৩৮০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৯০, ২১৯৩, ২৪৭০। এটি সামনে ১৪৯১ নং এও আসছে।
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ عَنْ ابْنِ بُحَيْنَةَ قَالَ أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَرَأَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا يُصَلِّي الرَّكْعَتَيْنِ فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاتَهُ لَاثَ بِهِ النَّاسُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتُصَلِّي الصُّبْحَ أَرْبَعًا
১৪৮৭. ইবনু বুহাইনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালাতের ইকামত হয়ে গেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতে দেখলেন। এরপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর (ফরয) সালাত শেষ করলেন, তখন লোকেরা তার (ঐ ব্যক্তির) নিকট একত্রিত হলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “তুমি কি ফজর (এর সালাত) চার রাকা’আত আদায় করো?“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৩৪৫, ৩৪৬; ইবনু আবী শাইবা ২/২৫৩; বুখারী ৬৬৩; মুসলিম ৭১১; নাসাঈ ২/১১৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৩৭২; বাইহাকী ২/৪৮২
حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد إِذَا كَانَ فِي بَيْتِهِ فَالْبَيْتُ أَهْوَنُ
১৪৮৮. (অপর সনদে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন সালাতের ইকামত দেয়া হয়, তখন ফরয সালাত ব্যতীত আর কোনো সালাত নেই।“আবু মুহাম্মদ বলেন, যদি সে তার বাড়িতে থাকে, তবে বাড়িতে (এমন করা) লঘুতর অপরাধ।[1]
[1] তাহত্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এর তাখরীজ ১৪৮৯ (ও ১৪৯০) নং এ গত হয়েছে। আরো দেখুন, আল ইলালুল ওয়ারিদাতু ফীল আহাদীস’ ১১/৮৩-৯৩ নং ২১৩৯ ।
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ بُرْدٍ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ عَنْ قَيْسٍ الْجُذَامِيِّ عَنْ نُعَيْمِ بْنِ هَمَّارٍ الْغَطَفَانِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى ابْنَ آدَمَ صَلِّ لِي أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ أَكْفِكَ آخِرَهُ
১৪৮৯. নুয়াইম ইবনু হাম্মারী আল গাত্বফানী থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা’আলা বলেন: ‘হে আদম সন্তান! zwj;তুমি দিনের প্রথমভাগে আমার জন্য চার রাকা’আত সালাত আদায় করো, তাহলে আমি তোমার দিনের শেষভাগের জন্যও একে যথেষ্ট করে দেবো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৩৩, ২৫৩৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৩৪ তে। আবু দাউদ ১২৮৯; আহমাদ ৫/২৮৭; বাইহাকী ৩/৪৭-৪৮; এ বিষয়ে হাদীস বর্ণিত আছে উক্ববাহ ইবনু আমির হতে মুসনাদুল মাউসিলী ৪/২৯৪ নং ১৭৫৭; আবী যারর ও আবী দারদা’আ হতে তিরমিযী ৪৭৫ তে। আরো দেখুন, মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/২৩৫-২৩৬ তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ أَنْبَأَنِي قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي لَيْلَى يَقُولُ مَا أَخْبَرَنَا أَحَدٌ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الضُّحَى غَيْرُ أُمِّ هَانِئٍ فَإِنَّهَا ذَكَرَتْ أَنَّهُ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ اغْتَسَلَ فِي بَيْتِهَا ثُمَّ صَلَّى ثَمَانَ رَكَعَاتٍ قَالَتْ وَلَمْ أَرَهُ صَلَّى صَلَاةً أَخَفَّ مِنْهَا غَيْرَ أَنَّهُ يُتِمُّ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ
১৪৯০. আবদুর রাহমান ইবনু আবী লাইলা (রহঃ) বলেন, আর কেউই আমাদের নিকট বর্ণনা করেননি যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দুহা’র সালাত আদায় করতে দেখেছেন; কেবল উম্মু হানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা ব্যতীত। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ্zwnj; সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন পূর্বাহ্ণে তাঁর ঘরে গিয়ে গোসল করেলেন। এরপর তিনি আট রাকা’আত সালাত আদায় করলেন। তিনি বলেন, আমি আর কখনো তাঁকে এরচেয়ে অধিক সংক্ষিপ্তভাবে সালাত আদায় করতে দেখি নি। তবে তিনি রুকু’ ও সিজ্zwnj;দা পুর্নাঙ্গরুপে আদায় করছিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ১১৬৭; মুসলিম ৩৩৬ (৮০); পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী টীকাটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي النَّضْرِ أَنَّ أَبَا مُرَّةَ مَوْلَى عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أُمَّ هَانِئٍ بِنْتَ أَبِي طَالِبٍ تُحَدِّثُ أَنَّهَا ذَهَبَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفَتْحِ فَوَجَدَتْهُ يَغْتَسِلُ وَفَاطِمَةُ بِنْتُهُ تَسْتُرُهُ بِثَوْبٍ قَالَتْ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ وَذَلِكَ ضُحًى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ هَذِهِ فَقُلْتُ أَنَا أُمُّ هَانِئٍ قَالَتْ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ قَامَ فَصَلَّى ثَمَانَ رَكَعَاتٍ مُلْتَحِفًا فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ ثُمَّ انْصَرَفَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ زَعَمَ ابْنُ أُمِّي أَنَّهُ قَاتِلٌ رَجُلًا أَجَرْتُهُ فُلَانَ بْنَ هُبَيْرَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَجَرْنَا مَنْ أَجَرْتِ يَا أُمَّ هَانِئٍ
১৪৯১. উম্মু হানী বিনতে আবূ তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে গিয়ে দেখলেন যে, তিনি গোসল করছেন আর তাঁর মেয়ে ফাতিমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে একটি কাপড় দ্বারা পর্দা করে রেখেছেন। তিনি বলেনঃ আমি তাঁকে সালাম করলাম, আর তখন ছিল চাশতের সময়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ “কে এটা?“ আমি উত্তর দিলামঃ আমি উম্মু হানী। তিনি বলেনঃ তিনি যখন গোসল শেষ করলেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং একটি কাপড়ে আবৃত হয়ে আট রাকা’আত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি সালাত শেষ করলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার সহোদর ভাই [‘আলী ইবন আবূ তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু] একটি লোককে হত্যা করতে চায়, অথচ আমি সে লোকটিকে আশ্রয় দিলাম। (সে লোকটি হলো) হুবায়রার ছেলে অমুক। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “হে উম্মু হানী! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছ, আমরাও তাঁকে আশ্রয় দিলাম।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মালিক, মুয়াত্ত্বা ৩১; বুখারী ৩৫৭; মুসলিম ৩৩৬ (৮২)। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৮৭, ১১৮৮, ১১৮৯, ১১৯০ ২৫৩৭, ২৫৩৮; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৩১।
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبَّاسٍ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي بِثَلَاثٍ لَا أَدَعُهُنَّ حَتَّى أَمُوتَ الْوِتْرِ قَبْلَ أَنْ أَنَامَ وَصَوْمِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَمِنْ الضُّحَى رَكْعَتَيْنِ
১৪৯২. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার প্রিয়তম বন্ধু আমাকে তিনটি বিষয়ে ওয়াসীয়াত (নির্দেশ প্রদান) করেছেন, যেগুলি আমি আমার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পরিত্যাগ করবো না: আমি যেন ঘুমানোর পূর্বে বিতর আদায় করি, প্রত্যেক মাসে তিনদিন সিয়াম পালন করি এবং দু’হার (পূর্বাহ্নের) সময় দু’ রাকা’আত সালাত (আদায় করি)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ১১৭৮; মুসলিম ৭২১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী রনং ৬২২৬, ৬৩৬৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৩৬ যা সামনে ১৭৮৬ নং এ আসছে। এছাড়া, খতীব, আল মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক্ব নং ৯৪৬; আহমাদ ২/২২৯, ২৩৩, ২৬০, ৩২৯, ৩৩১, ৭২-৪৭৩; তায়ালিসী ২/৫২ নং ২১৪০; নাসাঈ ৪/২১৮; তাবারাণী, আস সগীর ১/১৭৯; আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া: (সেখানে) ‘সালাতুত দুহা’-র পরিবর্তে ‘জুম’আর দিনে গোসল করা’ র কথা রয়েছে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُبْحَةَ الضُّحَى فِي سَفَرٍ وَلَا حَضَرٍ
১৪৯৩. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো দুহা’র (নফল) সালাত আদায় করেননি- না সফরে, আর না বাড়িতে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ১১২৮; মুসলিম ৭১৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩১২, ৩১৩।
حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْفُضَيْلِ بْنِ فَضَالَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ أَنَّ أَبَاهُ رَأَى أُنَاسًا يُصَلُّونَ صَلَاةَ الضُّحَى فَقَالَ أَمَا إِنَّهُمْ لَيُصَلُّونَ صَلَاةً مَا صَلَّاهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا عَامَّةُ أَصْحَابِهِ
১৪৯৪. আব্দুর রহমান ইবনু আবী বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তাঁর পিতা (আবী বাকর) লোকদেরকে দু’হার সালাত আদায় করতে দেখেন। তখন তিনি বলেন, জেনে রাখো! তারা এমন এক সালাত আদায় করছে, যে সালাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো আদায় করেননি, আর তাঁর বড় বড় সাহাবীগণও আদায় করেননি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৪৫; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৪৭৮।
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ عَلَيْهِمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ بَعْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةُ الْأَوَّابِينَ إِذَا رَمِضَتْ الْفِصَالُ
১৪৯৫. যাইদ ইবনু আরক্বাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিকট বেরিয়ে এলেন, তখন সূর্য উদিত হওয়ার পরে তারা সালাত আদায় করছিলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “‘আওয়াবীন’দের সালাত (বেশি বেশি তাওবাকারীগণের সালাত)-এর সময় হয় যখন উষ্ট্রীর বাচ্চার (পায়ের নীচের বালু সূর্যতাপে) উত্তপ্ত হয়ে উঠে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম ৭৪৮; ইবনু আবী শাইবা ২/৪০৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৩৯ তে।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ وَغُنْدَرٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ عَنْ عَلِيٍّ الْأَزْدِيِّ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مَثْنَى مَثْنَى وَقَالَ أَحَدُهُمَا رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ
১৪৯৬. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “দিন-রাতের সালাত দু’-দু’ রাকা’আত করে।“আর তাদের কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন, ‘দু’ রাকা’আত দু’ রাকা’আত করে।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহহি ইবনু হিব্বান নং ২৪৮২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৩৬ তে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَلَاةِ اللَّيْلِ فَقَالَ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُمْ الصُّبْحَ فَلْيُصَلِّ رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ مَا قَدْ صَلَّى
১৪৯৭. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তখন তিনি বললেন: “দু’- দু’ রাকা’আত করে। আর যখন তোমাদের কেউ ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করবে তখন সে যেন এক রাকা’আত সালাত আদায় করে নেয়, যা তার (পূর্বে) আদায়কৃত সালাতকে বিতির (বিজোড়) করে দেবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী ৪৭২; zwj;মুসলিম ৭৪৯। আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬২৩, ৫৪৩১, ৫৪৯৪, ৫৬১৮, ৫৬২০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪২৬, ২৬১৯, ২৬২০, ২৬২৩, ২৬২৪ তে। সামনে ১৬২৫ নং এ এটি আসছে।
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ عَوْفٍ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامَ قَالَ لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ اسْتَشْرَفَهُ النَّاسُ فَقَالُوا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ فَخَرَجْتُ فِيمَنْ خَرَجَ فَلَمَّا رَأَيْتُ وَجْهَهُ عَرَفْتُ أَنَّ وَجْهَهُ لَيْسَ بِوَجْهِ كَذَّابٍ فَكَانَ أَوَّلُ مَا سَمِعْتُهُ يَقُولُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَفْشُوا السَّلَامَ وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ وَصِلُوا الْأَرْحَامَ وَصَلُّوا وَالنَّاسُ نِيَامٌ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ
১৪৯৮. আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করলেন তখন লোকেরা তাঁকে সসম্মানে অভ্যর্থনা জানাল। তখন তারা বলাবলি করতে লাগল যে, ‘(আমাদের মাঝে) আল্লাহর রাসূল এসেছেন! আল্লাহর রাসূল এসেছেন!’ দেখতে আসা লোকদের সাথে আমিও তাঁকে দেখতে গেলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা যখন আমার সামনে প্রতিভাত হল, তখন আমি চিনে ফেললাম যে, এ মুখচ্ছবি কোন মিথ্যাবাদীর মুখচ্ছবি নয়। সর্বপ্রথম আমি তাঁকে যা বলতে শুনলাম, তা হলো, তিনি বলছিলেন: “হে লোক সকল, তোমরা সালামের প্রসার ঘটাবে, লোকদেরকে খাদ্য খাওয়াবে, আর আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং লোকেরা যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন তোমরা (রাতের) সালাত আদায় করবে। তাহলে তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৮/৬২৪ নং ৫৭৯১; আহমাদ ৫/৪৫১; তিরমিযী ২৪৮৭; ইবনু মাজাহ ১৩৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৯২৬;হাকিম ৩/১৩ ও ৪/১৬০। হাকিম ১ম বর্ণনাটির পর বলেন: হাদীসটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ, যদিও তারা এটি বর্ণনা করেননি। যাহাবী তার এমত সমর্থন করেছেন।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ هَارُونَ بْنِ رِئَابٍ عَنْ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ دَخَلْتُ مَسْجِدَ دِمَشْقَ فَإِذَا رَجُلٌ يُكْثِرُ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ قُلْتُ لَا أَخْرُجُ حَتَّى أَنْظُرَ أَعَلَى شَفْعٍ يَدْرِي هَذَا يَنْصَرِفُ أَمْ عَلَى وِتْرٍ فَلَمَّا فَرَغَ قُلْتُ يَا عَبْدَ اللَّهِ أَعَلَى شَفْعٍ تَدْرِي انْصَرَفْتَ أَمْ عَلَى وِتْرٍ فَقَالَ إِنْ لَا أَدْرِي فَإِنَّ اللَّهَ يَدْرِي ثُمَّ قَالَ إِنِّي سَمِعْتُ خَلِيلِي أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْجُدُ لِلَّهِ سَجْدَةً إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً قُلْتُ مَنْ أَنْتَ رَحِمَكَ اللَّهُ قَالَ أَنَا أَبُو ذَرٍّ قَالَ فَتَقَاصَرَتْ إِلَيَّ نَفْسِي
১৪৯৯. আহনাফ ইবনু কায়িস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দামিশকের মসজিদে প্রবেশ করে দেখলাম, সেখানে এক ব্যক্তি বেশি বেশি রুকূ’-সাজদা করছে (নফল সালাত আদায় করছে)।
আমি (মনে মনে) বললাম, আমি এখান থেকে বের হচ্ছি না, যতক্ষণ না জানতে পারছি যে, সে (এ লোকটি) জানতে পারছেন কি যে, তিনি জোড় রাক‘আত না বেজোড় রাক‘আত পড়ে সালাত শেষ করছেন। যখন লোকটি নামায শেষ করলেন তখন আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর বান্দা! আপনি জানেন কি, আপনি জোড় রাকা‘আত না বেজোড় রাকা‘আত পড়ে সালাত শেষ করছেন? তিনি উত্তরে বললেন, যদি আমি নাও জানি, তবে আল্লাহ্ তো তা নিশ্চয়ই জানেন। তারপর বললেন, আমি আমার প্রিয়তম আবুল কাসিম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “যে বান্দা আল্লাহর উদ্দেশ্যে যে সাজদাই করবে, আল্লাহ এর জন্য তার একটা মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন, আর এর জন্য তার একটা পাপ মাফ করে দিবেন।“ আমি (রাবী) বললাম, আল্লাহ্ আপনার প্রতি দয়া করুন, (আমাকে বলুন,) আপনি কে? তিনি উত্তরে বললেন, আমি আবূ যারর।’ একথা শুনে আমি (লজ্জায়) মনে মনে খুব ছোট হয়ে গেলাম।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, মুহাম্মদ ইবনু কাছীরের কারণে। ((তবে হাদীসটি সহীহ- যা তাখরীজে উল্লিখিত হয়েছে। এছাড়া, মুনযিরী এর সকল সনদকে একত্র করে একে হাসান পর্যায়ের বলে উল্লেখ করেছেন (ফাতহুর রব্বানী, অত্র হাদীস দ্র:-অনুবাদক))
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৩৫৬১; তার সূত্রে আহমাদ ৫/১৬২; বাইহাকী ২/৪৮৯ সহীহ সনদে।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ رَجَاءٍ حَدَّثَتْنَا شَعْثَاءُ قَالَتْ رَأَيْتُ ابْنَ أَبِي أَوْفَى صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَقَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الضُّحَى رَكْعَتَيْنِ حِينَ بُشِّرَ بِالْفَتْحِ أَوْ بِرَأْسِ أَبِي جَهْلٍ
১৫০০. শা’ছাআ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু আবূ আওফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে দু’রাকা’আত সালাত আদায় করতে দেখলাম। এরপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন (মক্কা) বিজয়ের কিংবা আবূ জাহলের শিরশ্ছেদের সুসংবাদ প্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি দিবসের প্রথমভাগে (শোকরানা স্বরূপ) দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সালামাহ ইবনু রিজাআ, তার বর্ণনাকে আমরা মাজমাউয যা্ওয়াইদ ৩৪৬৩ এ হাসান হিসেবে উল্লেক করেছি। আর শা’ছাআ হলেন আব্দুল্লাহ আল আসদিয়া্’র কন্যা। আমি তার ব্যাপারে কাউকে ‘জারাহ বা তা’দীল’ করতে দেখিনি। তাহলে ইবনু হিব্বানের শর্তানযায়ী (সহীহ)।
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ ১৩৯১; তাহযীবুল কামাল, মিযযী ৩৫/২০৬।