হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (1601)


حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَخْطُبُ إِلَى جِذْعٍ قَبْلَ أَنْ يَتَّخِذَ الْمِنْبَرَ فَلَمَّا اتَّخَذَ الْمِنْبَرَ تَحَوَّلَ إِلَيْهِ حَنَّ الْجِذْعُ فَاحْتَضَنَهُ فَسَكَنَ وَقَالَ لَوْ لَمْ أَحْتَضِنْهُ لَحَنَّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ




১৬০১. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মিম্বার বানানোর পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি কাষ্ঠ খণ্ডের নিকট (দাঁড়িয়ে) খুতবা দিতেন। তারপর যখন মিম্বার বানানো হলো এবং তিনি এর দিকে স্থানান্তরিত হলেন, তখন কাষ্ঠ খণ্ডটি কান্নাজুড়ে দিল। তিনি যখন এটিকে আলিঙ্গন করলেন, অতঃপর এটি শান্ত হল। তখন তিনি বললেন: ‘আমি যদি একে আলিঙ্গন না করতাম, তবে তা অবশ্যই কিয়ামত পর্য়ন্ত (এভাবে) কাঁদতে থাকত।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি ৩৯ নং এ গত হয়েছে। ((আহমাদ, আল মুসনাদ ১/২৪৯, ২৬৩, ২৬৭; ইবনু আবী শাইবা ১১/৪৮৪ নং ১১৭৯৫; আবদ্ ইবনু হুমাইদ ১৩৩৬; বুখারী, আল কাবীর ৭/২৬; তাবারাণী, মু’জামুল কাবীর ১২/১৮৭ নং ১২৮৪১।- ৩৯ নং হাদীসের টীকা অনুযায়ী- অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1602)


حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ




১৬০২. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি ৪০ নং এ গত হয়েছে। আরও দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭৫৬।









সুনান আদ-দারিমী (1603)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ لَمَّا كَثُرَ النَّاسُ بِالْمَدِينَةِ جَعَلَ الرَّجُلُ يَجِيءُ وَالْقَوْمُ يَجِيئُونَ فَلَا يَكَادُونَ أَنْ يَسْمَعُوا كَلَامَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى يَرْجِعُوا مِنْ عِنْدِهِ فَقَالَ لَهُ النَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ النَّاسَ قَدْ كَثُرُوا وَإِنَّ الْجَائِيَ يَجِيءُ فَلَا يَكَادُ يَسْمَعُ كَلَامَكَ قَالَ فَمَا شِئْتُمْ فَأَرْسِلْ إِلَى غُلَامٍ لِامْرَأَةٍ مِنْ الْأَنْصَارِ نَجَّارٍ وَإِلَى طَرْفَاءِ الْغَابَةِ فَجَعَلُوا لَهُ مِرْقَاتَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةً فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْلِسُ عَلَيْهِ وَيَخْطُبُ عَلَيْهِ فَلَمَّا فَعَلُوا ذَلِكَ حَنَّتْ الْخَشَبَةُ الَّتِي كَانَ يَقُومُ عِنْدَهَا فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهَا فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهَا فَسَكَنَتْ




১৬০৩. সাহল ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন মদীনার লোকসংখ্যা বেড়ে গেলো। এক একজন করে লোক আসতে শুরু করলো, অতঃপর লোকেরা দলে দলে আগমন করতে লাগলো। ফলে তারা (দূরবর্তীতার কারণে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী শুনতে সক্ষম হচ্ছিল না। ফলে তারা তাঁর নিকট হতে ফিরে চলে যেতে লাগলো। তখন লোকজন তাঁকে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! (মদীনায়) অধিবাসী সংখ্যা তো বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু কোনো আগত ব্যক্তি এসে আপনার কথা শুনতে পাচ্ছে না। তখন তিনি বললেন: “তাহলে তোমাদের কী ইচ্ছা?“ এরপর তিনি আনসারদের নাজ্জার গোত্রের এক মহিলার গোলামের নিকট লোক পাঠালেন আর (মদীনা থেকে নয় মাইল দূরবর্তী) গাবা নামক স্থানের পাশ্ববর্তী অঞ্চলের দিকেও (পাঠালেন)। ফলে তারা তাঁর জন্য দু’টি কিংবা তিনটি সিঁড়ি (বিশিষ্ট একটি মিম্বার) বানালো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উপর বসতেন এবং এর উপর (দাঁড়িয়ে) খুতবা দিতেন। যখন তারা সেটি (মিম্বার তৈরী) করলো, তখন যে কাষ্ঠ খণ্ডটির নিকট দাঁড়িয়ে তিনি খুতবা দিতেন, সেই কাষ্ঠ খণ্ডটি কাঁন্না জুড়ে দিলো। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে তার নিকট গেলেন এবং তার উপর তাঁর হাত রাখলেন, অতঃপর সেটি শান্ত হল।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদটি যঈফ, মাসউদীর দুর্বলতার কারণে। তবে এ হাদীসটি (অন্য সনদে) বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিত ভাবে বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: এটি ৪১ নং এ গত হয়েছে। ((বুখারী ৯১৭; মুসলিম ৫৪৪; ইবনু মাজাহ ১৪১৬; ইবনু আবী শাইবাহ ১১/৪৮৫ নং ১১৭৯৬- ৪১ নং এর টীকা হতে- অনুবাদক।))









সুনান আদ-দারিমী (1604)


أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْمَازِنِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ أَنَّ الضَّحَّاكَ بْنَ قَيْسٍ سَأَلَ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ الْأَنْصَارِيَّ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عَلَى إِثْرِ سُورَةِ الْجُمُعَةِ قَالَ هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ




১৬০৪. উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উতবা থেকে বর্ণিত, দাহহাক ইবনু কায়িস নু’মান ইবনু বাশীর আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে প্রশ্ন করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমু’আর দিন সূরা জুমু’আর পরে (দ্বিতীয় রাকা’আতে) আর কোন্ সূরা পাঠ করতেন?তিনি বললেন: [“হাল আতাকা হাদীছুল গশিয়াহ।“][1] (সূরা গশিয়াহ:১)

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মালিক, জুমু’আহ ২১; মুসলিম, জুমু’আ ৮৭৮; পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীস দুটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1605)


حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبَانَ حَدَّثَنَا أَبُو أُوَيْسٍ عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْمَازِنِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ الضَّحَّاكِ بْنِ قَيْسٍ الْفِهْرِيِّ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ سَأَلْنَاهُ مَا كَانَ يَقْرَأُ بِهِمْ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مَعَ السُّورَةِ الَّتِي ذُكِرَتْ فِيهَا الْجُمُعَةُ قَالَ كَانَ يَقْرَأُ مَعَهَا هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ




১৬০৫. (অপর সূত্রে) উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উতবা থেকে বর্ণিত, দাহহাক ইবনু কায়িস আল ফিহরী বলেন, আমরা নু’মান ইবনু বাশীর আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে প্রশ্ন করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে জুমু’আর দিন বর্ণিত সূরা- তথা সূরা জুম’আহ’র সাথে (দ্বিতীয় রাকা’আতে) আর কোন্ সূরা পাঠ করতেন?তিনি বললেন: তিনি এর (সূরা জুমু’আর) সাথে পাঠ করতেন, [“হাল আতাকা হাদীছুল গশিয়াহ।“][1] (সূরা গশিয়াহ: ১)

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। এছাড়া, সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ১৮৪৬; পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের ও পরের হাদীস দু’টি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1606)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي الْعِيدَيْنِ وَالْجُمُعَةِ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ وَرُبَّمَا اجْتَمَعَا فَقَرَأَ بِهِمَا




১৬০৬. নূমান ইবন বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’ ঈদে এবং জুমু’আর সালাতে [“সাব্বি হিসমা রব্বিকাল আ’লা“-(সূরা আ’লা:১)] এবং [“হাল আতাকা হাদীছুল গশিয়াহ।“] (সূরা গশিয়াহ: ১)পাঠ করতেন । রাবী বলেন, ঈদ ও জুমু-আ একই দিনে একত্রিত হয়ে পড়লে উক্ত সূরা দু-টি উভয় সালাতে পাঠ করতেন ।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম, জুমু’আহ ৮৭৮ (৬৩); সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ১৮৪৫; পূর্ণ তাখরীজের জন্য সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮০৭, ২৮২০, ২৮২১ দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1607)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ مَخْلَدِ بْنِ حُسَيْنٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ الْتَقَيْتُ أَنَا وَكَعْبٌ فَجَعَلْتُ أُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَعَلَ يُحَدِّثُنِي عَنْ التَّوْرَاةِ حَتَّى أَتَيْنَا عَلَى ذِكْرِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَقُلْتُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ فِيهَا لَسَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا خَيْرًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ




১৬০৭. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কা’ব এর সাথে আমার সাক্ষাত হলে আমি তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস বর্ণনা করতে আরম্ভ করলাম, আর সে তাওরাত থেকে বর্ণনা করতে লাগলো। এভাবে চলতে চলতে আমরা যখন জুমু’আর প্রসঙ্গে পৌঁছলাম, তখন আমি তাকে বললাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই এতে (জুমু’আর দিবসে) এমন একটি মুহুর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম বান্দা সেই সময়ে সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট কল্যাণকর কোনো কিছু চায়, তবে অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা প্রদান করেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, তবে হাদীসটি সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদীস। (হাদীসটি সহীহ)

তাখরীজ: বুখারী, জুমু’আ নং ৯৩৫; মুসলিম, জুমু’আ ৮৫২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৫৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৭২, ২৭৭৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০১৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1608)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلَّامٍ أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ سَلَّامٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلَّامٍ قَالَ حَدَّثَنِي الْحَكَمُ بْنُ مِينَا أَنَّ ابْنَ عُمَرَ حَدَّثَهُ وَأَبَا هُرَيْرَةَ أَنَّهُمَا سَمِعَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ وَهُوَ عَلَى أَعْوَادِ مِنْبَرِهِ لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدَعِهِمْ الْجُمُعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ ثُمَّ لَيَكُونُنَّ مِنْ الْغَافِلِينَ




১৬০৮. আবদুল্লাহ ইবনে উমার ও আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর মিম্বারের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন: “লোকদেরকে নিশ্চয়ই জুমু’আর সালাত পরিত্যাগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নতুবা আল্লাহ অবশ্যই তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিবেন, অতঃপর তারা বিস্মৃতদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ১০৫৪; মুসলিম, জুমু’আ ৮৬৫; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৪/২৩১, ২৩২; বাইহাকী, জুমু’আ ৩/১৭১।...

এ বাবে ইবনু আব্বাস, ইবনু উমার হতে হাদীস বর্ণিত রয়েছে। আর আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৪২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৮৫; মাওয়ারিদুয যামআন নং ৫৫৫ তে। আরও দেখুন, মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ২/১৫৪ ও মুশকিলিল আছার ৪/২৩১ ও সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ১৮৫৫।









সুনান আদ-দারিমী (1609)


حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ عَبِيدَةَ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الْجَعْدِ الضَّمْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ تَهَاوُنًا بِهَا طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قَلْبِهِ




১৬০৯. আবুল জা’দ্ আদ-যামরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি একটি জুমুআ (-এর সালাত) এর প্রতি অবহেলাবশত: বা অবজ্ঞাভরে পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তার অন্তরের উপর মোহর মেরে দেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: ((আবু দাউদ ১০৫২; তিরমিযী ৫০০; নাসাঈ, zwj;জুমু’আ বাব (২); ইবনু মাজাহ, ১১২৫; আহমাদ ৩/৪২৪; এছাড়া আবী কাতাদা রা: হতে আহমাদ ও হাকিম এবং জাবির রা: হতে আহমাদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ ও হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন।- ফাওয়ায আহমাদের তাহক্বীক্বকৃত সুনানে দারেমী, হা/১৫৭১ এর টীকা দেখুন।- অনুবাদক))

আমরা এটি পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬০০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৮; মাওয়ারিদুয যামআন নং ৫৫, ৬২ ৫৫৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1610)


أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَفْضَلَ أَيَّامِكُمْ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنْ الصَّلَاةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ يَعْنِي بَلِيتَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ




১৬১০. আওস ইবন আওস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হচ্ছে জুমুআর দিন। এই দিনেই আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয় এবং ঐ দিনেই শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে। আর ঐ দিনেই (সমস্ত সৃষ্টিকুল) বেহুঁশ্ হবে। অতএব, তোমরা ঐ দিনে আমার উপর অধিক পরিমাণে সালাত (দরূদ) পাঠ করবে, কেননা তোমাদের সালাতসমূহ (দরূদ) আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে।“ এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার দেহ তো পচে-গলে যাবে, অর্থাৎ ক্ষয়প্রাপ্ত হবে। এমতাবস্থায় আমাদের দরূদ কিভাবে আপনার সম্মুখে পেশ করা হবে? তিনি বললেনঃ “আল্লাহ নবীগণের দেহসমূহ মাটির জন্য (বিনষ্ট করা) হারাম করে দিয়েছেন।“[1]

[1] তাহক্বীক্ব; এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯১০ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ৫৫০, আবার এর কতকগুলি শাহিদও উল্লেখ করেছি।

((আবু দাউদ ১০৪৭; নাসাঈ৩/৯১-৯২; ইবনু মাজাহ নং ১০৮৫; ইবনু খুযাইমা নং ১৭৩৩; ইবনু হিব্বান নং ৫৫০০; হাকিম ১/২৭৮। হাকিম একে সহীহ বলেছেন, এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। zwj;মুনযিরী, ইবু হাজার একে হাসান বলেছেন। আর নববী, আল আযকার’ এ একে সহীহ বলেছেন।-- ফাওয়ায আহমাদের তাহক্বীক্বকৃত সুনানে দারেমী, হা/১৫৭২ এর টীকা থেকে।- অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1611)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ




১৬১১. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমু’আর সালাতের পরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন।“[1]

[1]তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি বুখারী মুসলিম সম্মিলিত বর্ণনা। এটি ১৪৭৭ (অনূবাদে ১৪৭৩) নং এ গত হয়েছে।









সুনান আদ-দারিমী (1612)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ




১৬১২. সালিমের পিতা (ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমু’আর সালাতের পরে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিম সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: ((বুখারী জুমু’আ ৯৩৭; মুসলিম জুমু’আ ৮৮২)) আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৩৫ তে। আর এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (1613)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَ مِنْكُمْ مُصَلِّيًا بَعْدَ الْجُمُعَةِ فَلْيُصَلِّ بَعْدَهَا أَرْبَعًا قَالَ أَبُو مُحَمَّد أُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ أَوْ أَرْبَعًا




১৬১৩. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমু’আর সালাতের পরে সালাত আদায় করবে, সে যেন এরপর চার রাকা’আত সালাত আদায় করে।“[1]

আবূ মুহাম্মদ বলেন, আমি জুমু’আর পরে দু’ রাকা’আত অথবা চার রাকা’আত সালাত আদায় করি।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, জুমু’আ ৮৮১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৭৭, ২৪৭৮, ২৪৭৯, ২৪৮০, ২৪৮১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০০৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1614)


حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا لَيْثٌ هُوَ ابْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَاشِدٍ الزَّوْفِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُرَّةَ الزَّوْفِيِّ عَنْ خَارِجَةَ بْنِ حُذَافَةَ الْعَدَوِيِّ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَمَدَّكُمْ بِصَلَاةٍ هِيَ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ جَعَلَهُ لَكُمْ فِيمَا بَيْنَ صَلَاةِ الْعِشَاءِ إِلَى أَنْ يَطْلُعَ الْفَجْرُ




১৬১৪. খারিজা ইবনু হুযাফাহ আল আদাবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে বললেন: “আল্লাহ তোমাদের জন্য একটি সালাত বৃদ্ধি করেছেন, যা লাল রংয়ের চতুস্পদ জন্তু হতেও উত্তম। আর তিনি তোমাদের জন্য একে নির্ধারণ করেছেন ঈশার সালাত হতে শুরু করে ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত সময়ের মাঝে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আবু দাউদ, সালাত ১৪১৮; তাবারাণী, কাবীর ৪/২১১ নং ৪১৩৬; হাকিম ১/৩০৬; তিরমিযী, সালাত ৪৫২; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১১৬৮; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৪৩০; ইবনু আদী, আল কামিল ৩/৯২০; দারুকুতনী, সুনান ২/৩০; তার সূত্রে ইবনুল জাউযী, আল ইলালুল মুতানাহিয়্যাহ নং ৭৬৯; বাইহাকী, সালাত ২/৪৬৯, ৪৭৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৯৭৫; ইবনু আবী শাইবা ২/২৯৬-২৯৭;

তিরমিযী বলেন: খারিজা ইবনু হুযাফাহ এর হাদীস গারীব। আমরা ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব ব্যতীত আর কারো সূত্রে এটি জানতে পারিনি।’

আমি বলি: কিন্তু ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব ছিকাহ’ (নির্ভরযোগ্য), ফকীহ। আর তার একাকী বর্ণনা করাটা এ হাদীসের কোনো ঘাটতি (ক্ষতি) করে না। আল্লাহই ভাল জানেন।

হাকিম বলেন: এ হাদীসটির সনদ সহীহ যদিও তারা এটি বর্ণনা করেননি.....। যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।

......

আর এ হাদীসের শাহিদ হাদীস দেখুন, নাসবুর রায়াহ ২/১০৮-১১২; তালখীসুল হাবীর ২/১৬; দিরায়াহ ১/১৮৮-১৮৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1615)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ أَخْبَرَهُ أَنَّ ابْنَ مُحَيْرِيزٍ الْقُرَشِيَّ ثُمَّ الْجُمَحِيَّ أَخْبَرَهُ وَكَانَ يَسْكُنُ بِالشَّامِ وَكَانَ أَدْرَكَ مُعَاوِيَةَ أَنَّ الْمُخْدَجِيَّ رَجُلٌ مِنْ بَنِي كِنَانَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الشَّامِ وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ يُكْنَى أَبَا مُحَمَّدٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ الْوِتْرَ وَاجِبٌ فَرَاحَ الْمُخْدَجِيُّ إِلَى عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ عُبَادَةُ كَذَبَ أَبُو مُحَمَّدٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ خَمْسُ صَلَوَاتٍ كَتَبَهُنَّ اللَّهُ عَلَى الْعِبَادِ مَنْ أَتَى بِهِنَّ لَمْ يُضَيِّعْ مِنْ حَقِّهِنَّ شَيْئًا اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهِنَّ كَانَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يَأْتِ بِهِنَّ جَاءَ وَلَيْسَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ أَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ




১৬১৫. জুমাহী - যিনি শামে বসবাস করতেন এবং মুওয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র সাক্ষাত লাভ করেছিলেন- তিনি বর্ণনা করেন যে, বনী কিনানা’র অপরিণত অবস্থায় জন্ম গ্রহণকারী এক ব্যক্তি তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, শামে আবূ zwj;মুহাম্মদ নামে এক লোক ছিল। তিনি তার সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। (একদা) সেই লোকটি তাকে জানাল যে, বিতর (সালাত) ওয়াজিব। অপরিণত অবস্থায় জন্ম গ্রহণকারী লোকটি ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট চলে গেলেন এবং তাঁর নিকট এ বিষয়টি উত্থাপন করলেন। তখন উবাদা রা: বলেন, আবূ মুহাম্মদ মিথ্যা (ভূল) বলেছে। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি সালাতের কোন হককে গুরুত্বহীন বিবেচনা করে নষ্ট না করে তা যথাযথভাবে আদায় করবে, নিশ্চয় তার জন্য আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার হলো, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যে ব্যক্তি তা (সালাতের হক নষ্ট করবে কিংবা যথাযথভাবে সালাত) আদায় করবে না, তার জন্য আল্লাহর নিকট কোন অঙ্গীকার নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন, আর ইচ্ছা করলে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও টীকা সংযোজন করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৩১, ১৭৩২, ২৭১৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৫২, ২৫৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৯১ তে। এছাড়াও: তায়ালিসী ১/৬৬-৬৭ নং ২৫৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ৩/১৪৩-১৪৪ নং ৩১৪০।

((আবু দাউদ, বিতর ১৪২০; নাসাঈ, সালাত বাব:৬; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১৪০১; আহমাদ ৪/২৪২ ও ৫/৩১৫, ৩১৯, ৩২২; হাকিম ও ইবনু হিব্বান- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত সুনানে দারেমী হা/১৫৭৭ এর টীকা হতে-অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1616)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ نَافِعِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ أَنَّ أَعْرَابِيًّا جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَائِرَ الرَّأْسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَاذَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَيَّ مِنْ الصَّلَاةِ قَالَ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَالصِّيَامَ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَرَائِعِ الْإِسْلَامِ فَقَالَ وَالَّذِي أَكْرَمَكَ لَا أَتَطَوَّعُ شَيْئًا وَلَا أَنْقُصُ مِمَّا فَرَضَ اللَّهُ عَلَيَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْلَحَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ أَوْ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ




১৬১৬. তালহা ইবন ‘উবাদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, একজন গ্রাম্য আরব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এলেন, যার মাথা (-এর চুল) ছিল বিক্ষিপ্ত (এলোমেলো)। তারপর তিনি বললেন, ইয়ারাসুলুল্লাহ! আল্লাহ তা’আলা আমার উপর কী কী সালাত ফরজ করেছেন? তিনি বললেনঃ পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাত এবং সিয়াম।“ রাবী বলেন, এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে ইসলামের (ফরয) বিধানসমূহ জানিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন, আল্লাহ আমার উপর যা ফরয করেছেন, আমি এর অতিরিক্ত আর কিছুই করব না এবং এর থেকে কিছু কমাবোও না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বললেনঃ “তার পিতার শপথ, সে সত্য বলে থাকলে সফলতা লাভ করল“ কিংবা বলেছেন: “তার পিতার শপথ, সে সত্য বলে থাকলে জান্নাত লাভ করল।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ৪৬; মুসলিম, ঈমান ১১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ, আস সহীহ নং ৩০৬; ইবনু মানদাহ, আত তাওহীদ ১/২৭৯ নং ১৩৪; ইবনু বিশকাল, গাওয়াযুল আসমা নং ১।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭২৪, ৩২৬২ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1617)


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ قَالَ سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ ضَمْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا يَقُولُ إِنَّ الْوِتْرَ لَيْسَ بِحَتْمٍ كَالصَّلَاةِ وَلَكِنَّهُ سُنَّةٌ فَلَا تَدَعُوهُ




১৬১৭. আসিম ইবনু জামরাহ বলেন, আমি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) কে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয় বিতির (ফরয) সালাতের ন্যায় বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি একটি সুন্নাত। তাই তোমরা এটি পরিত্যাগ করো না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু পর্যন্ত এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩১৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1618)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى عَنْ هِقْلِ بْنِ زِيَادٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ




১৬১৮. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ হচ্ছেন ‘বিতর’ বা বেজোড় (অর্থাৎ এক); আর তাই তিনি বিতর (বেজোড়) কে পছন্দ করেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, শুরুত্ব ২৭৩৬; মুসলিম, যিকির ওয়াদ দু’আ ২৬৭৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৭৭ ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮০৭, ৮০৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৮৪ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৬৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1619)


أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَتْ صَلَاتُهُ مِنْ اللَّيْلِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً يُوتِرُ مِنْهَا بِخَمْسٍ لَا يَجْلِسُ فِي شَيْءٍ مِنْ الْخَمْسِ حَتَّى يَجْلِسَ فِي الْآخِرَةِ فَيُسَلِّمَ




১৬১৯. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাতের সালাত ছিল তেরো রাকা’আত, এবং এর মধ্যে তিনি পাঁচ রাকা’আত বিতর আদায় করতেন। এছাড়া, তিনি এ পাঁচ রাকা’আতের মধ্যে আর কোথাও বসতেন না, এমনকি তিনি (কেবলমাত্র) শেষ (রাকা’আতে/ বৈঠকে) বসতেন, এরপর সালাম ফিরাতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, তাহাজ্জুদ ১১৪০; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৩৬; আমরা এর সকল সনদ একত্রিত করেছি এবং এর উপর টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৫০ তে। আরও দেখুন, ৪৫২৬, ৪৬৫৭, ৪৭৩৭, ৪৭৮৭ নং গুলো।

এছাড়াও তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৩০, ২৪৩৭, ২৪৩৯, ২৪৪০, ২৬১২, ২৬১৩, ২৬১৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1620)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْتِرْ بِخَمْسٍ فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَبِثَلَاثٍ فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَبِوَاحِدَةٍ فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَأَوْمِ إِيمَاءً




১৬২০. আবী আইয়্যূব আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ “তুমি বিতির আদায় করো পাঁচ রাকা’আত; যদি তুমি তা করতে সক্ষম না হও, তবে তিন রাকা’আত। যদি তুমি তাও করতে সক্ষম না হও, তবে এক রাকা’আত। যদি তুমি তাও করতে সক্ষম না হও, তবে (মাথা কিংবা চোখ দ্বারা) একবার ইশারা করো।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সুফিয়ান ইবনু হুসাইন যুহরীর নিকট ব্যতীত ছিকাহ। যুহুরীর থেকে তার বর্ণনাসমূহ দুর্বল। তবে তিনি এ বর্ণনার ক্ষেত্রে একাকী নন; এর ‘মুতাবি’আত বর্ণনা রয়েছে যেমন পরের হাদীসটি। তাই এ হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: ((নাসাঈ, কিয়ামুল লাইল, বাব: ৪০; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১১৯০; আহমাদ ৫/৩৫৬- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত সুনানে দারেমী হা/১৫৭৭ এর টীকা হতে-অনুবাদক))

তায়ালিসী ১/১১৯-১২০ ৫৫৮ -৫৫৯ নং এর মাঝে নম্বরবিহীনভাবে।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৭৭ ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮০৭, ৮০৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৮৪ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৬৪ তে।