সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِالْمُزْدَلِفَةِ لَمْ يُنَادِ فِي وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا إِلَّا بِالْإِقَامَةِ وَلَمْ يُسَبِّحْ بَيْنَهُمَا وَلَا عَلَى إِثْرِ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا
১৯২১. সালিমের পিতা (আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুযদালিফায় মাগরিব ও ঈশার সালাত একত্রে আদায় করেন, আর এতদুভয়ের মাঝে একটি মাত্র ইকামত ব্যতীত কোনো আযান দেন নি, আর এতদুভয়ের মাঝে এবং এর কোনো একটির পরেও কোনো তাসবীহ পড়েন নি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: এটি ১৫৫৮ (অনুবাদে ১৫৫৫) নং এ গত হয়েছে।
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ شَوَّالٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهَا أَنْ تَنْفِرَ مِنْ جَمْعٍ بِلَيْلٍ
১৯২২. উম্মু হাবীবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে রাতের বেলায় মুযদালিফা হতে প্রত্যাবতর্নের নির্দেশ দেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২৯২; আহমাদ ৬/৩২৭, ৪২৭; নাসাঈ, মানাসিক ৫/২৬১-২৬২; বাইহাকী ৫/১২৪।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا أَفْلَحُ قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ اسْتَأْذَنَتْ سَوْدَةُ بِنْتُ زَمْعَةَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَأْذَنَ لَهَا فَتَدْفَعَ قَبْلَ أَنْ يَدْفَعَ فَأَذِنَ لَهَا قَالَ الْقَاسِمُ وَكَانَتْ امْرَأَةً ثَبِطَةً قَالَ الْقَاسِمُ الثَّبِطَةُ الثَّقِيلَةُ فَدَفَعَتْ وَحُبِسْنَا مَعَهُ حَتَّى دَفَعْنَا بِدَفْعِهِ قَالَتْ عَائِشَةُ فَلَأَنْ أَكُونَ اسْتَأْذَنْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا اسْتَأْذَنَتْ سَوْدَةُ فَأَدْفَعَ قَبْلَ النَّاسِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ مَفْرُوحٍ بِهِ
১৯২৩. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, সাওদাহ বিনতে জাম’আহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট (মুযদালিফা হতে) তাঁর প্রত্যাবর্তনের পূর্বে প্রত্যাবর্তন করার অনুমতি চাইলেন, ফলে তাকে অনুমতি দেওয়া হলো।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুযদালিফার রাতে সাওদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তার আগে এবং সব লোকের একযোগে চলার ভীর এড়ানোর জন্য যাত্রা করার অনুমুতি চাইলেন।
কাসিম বলেন, সাওদা (রাঃ) স্থুলদেহি (الثَّبِطَةُ) ছিলেন। কাসিম বলেন, স্থুলদেহি (الثَّبِطَةُ) অর্থ: ভারী (الثَّقِيلَةُ)।
সুতরাং তিনি (তাঁর আগেই) রওনা হলেন। আর আমাদেরকে ভোর হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অপেক্ষা করতে হল। তারপর আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওনা হলাম।
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: যদি আমিও সাওদার মত রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অনুমতি চাইতাম এবং লোকদের যাওয়ার পূর্বেই চলে যেতাম তাহলে (অন্য যেকোনো) খুশী হওয়ার মতো বিষয়ের চেয়ে এটা আমার জন্য অধিক ভাল হতো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৬৮০; মুসলিম, হাজ্জ ১২৯০।আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৮০৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৬১, ৩৮৬৪, ৩৮৬৬ তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا بُكَيْرُ بْنُ عَطَاءٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَعْمُرَ الدِّيلِيَّ يَقُولُ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْحَجِّ فَقَالَ الْحَجُّ عَرَفَاتٌ أَوْ يَوْمُ عَرَفَةَ وَمَنْ أَدْرَكَ لَيْلَةَ جَمْعٍ قَبْلَ صَلَاةِ الصُّبْحِ فَقَدْ أَدْرَكَ وَقَالَ أَيَّامُ مِنًى ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ
১৯২৪. আবদুর রাহমান ইবন ইয়া’মুর আদ দাইলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাজ্জ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো। তখন তিনি বললেন: “হাজ্জ হচ্ছে আরাফাত (এর ময়দানে অবস্থান) কিংবা আরাফার দিবস। যে ব্যক্তি ফজর সালাতের পূর্বেই রাতে মুযদালিফায় পৌঁছতে পারলে সে (হাজ্জ) পেল।“ তিনি আরও বলেন: “মিনায় অবস্থানের দিন হচ্ছে তিনটি দিন। (আল্লাহ বলেন:) “দুই দিন অবস্থান করে কোন লোক তাড়াতাড়ি ফিরে যেতে ইচ্ছা করলে তাতে কোন দোষ নেই। আর (তিনদিন পর্যন্ত অবস্থানকে) কোন লোক বিলম্বিত করলে তাতেও কোনো দোষ নেই।“[1] (সূরা বাকারা: ২০৩)
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৯২; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০০৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯২৩ তে। ((আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯৪৯; তিরমিযী, হাজ্জ ৮৮৯; নাসাঈ , হাজ্জ ৫/২৬৪; ইবনু মাজাহ , মানাসিক ৩০১৫। - ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৮৮৭ এর টীকা থেকে। অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ عَنْ عَامِرٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ مُضَرِّسٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَوْقِفِ عَلَى رُءُوسِ النَّاسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ جِئْتُ مِنْ جَبَلَيْ طَيِّءٍ أَكْلَلْتُ مَطِيَّتِي وَأَتْعَبْتُ نَفْسِي وَاللَّهِ إِنْ بَقِيَ جَبَلٌ إِلَّا وَقَفْتُ عَلَيْهِ فَهَلْ لِي مِنْ حَجٍّ قَالَ مَنْ شَهِدَ مَعَنَا هَذِهِ الصَّلَاةَ وَقَدْ أَتَى عَرَفَاتٍ قَبْلَ ذَلِكَ لَيْلًا أَوْ نَهَارًا فَقَدْ قَضَى تَفَثَهُ وَتَمَّ حَجُّهُ
১৯২৫. উরওয়া ইবনু মুযার্রিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মাওকিফে (মুযদালিফাতে) লোকদের মাথার উপর দিয়ে ডিঙিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি তাইয়ী’র দু‘টি পর্বতের নিকট হতে এসেছি। আমার উষ্ট্রীকে ক্লান্ত করে ফেলেছি এবং নিজেও ক্লান্ত হয়েছি। আল্লাহর শপথ! আমি এমন কোন পর্বত ছাড়িনি যেখানে আমি অবস্থান করিনি। এমতাবস্থায় আমার হজ্জ সম্পন্ন হয়েছে কি? তখন জবাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের সাথে এ (ফজরের) সালাত প্রাপ্ত হয়েছে এবং এর পূর্বে দিনে বা রাতে আরাফাতে এসেছে, সে নিজের ময়লা-মালিন্য (নখ-চুল ইত্যাদি) দূর করেছে এবং তার হজ্জ পূর্ণ হয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৪৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৫০, ৩৮৫১; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০১০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯২৪ তে। ((আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯৫০; তিরমিযী, হাজ্জ ৮৯১; নাসাঈ , হাজ্জ ৫/২৬৩-২৬৪; ইবনু মাজাহ , মানাসিক ৩০১৬...। – মুহাক্কিক্বের তাহক্বীক্বে মুসনাদুল মাউসিলী হা/ ৯৪৬ এর টীকা থেকে। অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السَّفَرِ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ مُضَرِّسِ بْنِ حَارِثَةَ بْنِ لَامٍ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ
১৯২৬. উরওয়া ইবনে মুযাররিস ইবনুল হারিছা ইবনু লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম’ অতঃপর তিনি অনূরূপ বর্ণনা করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তায়ালিসী ১/২২০ নং ১০৭৫; এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
أَخْبَرَنَا أَبُو غَسَّانَ مَالِكُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يُفِيضُونَ مِنْ جَمْعٍ بَعْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَكَانُوا يَقُولُونَ أَشْرِقْ ثَبِيرُ لَعَلَّنَا نُغِيرُ وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَالَفَهُمْ فَدَفَعَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ بِقَدْرِ صَلَاةِ الْمُسْفِرِينَ أَوْ قَالَ الْمُشْرِقِينَ بِصَلَاةِ الْغَدَاةِ
১৯২৭. উমর ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: জাহিলী যুগের লোকেরা (মুশরিকরা) মুযদালিফা হতে সূর্য না উঠা পর্যন্ত রওয়ানা হতোনা। তারা বলত: হে সাবির! আলোকিত হও। যাতে আমরা ফিরতে পারি।’ কিন্তু রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বিপরীত আমল করেন এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে উজ্জ্বলতার সালাতের পরে অথবা, তিনি বলেন, সুর্যোদয়ের সালাত তথা ফজরের সালাতের পরে (মিনার উদ্দেশ্যে) রওয়ানা করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তায়ালিসী ১/২২২ নং ১০৬৯; তার সূত্রে বুখারী, হাজ্জ ১৬৮৪; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯৩৮; তিরমিযী, হাজ্জ ৮৯৬; নাসাঈ , কুবরা নং ৪০৫৪; ইবনু মাজাহ , মানাসিক ৩০২২; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/১২৪; আহমাদ ১/১৪; ইবনু খুযাইমা নং ২৮৫৯।
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّ أَبَا مَعْبَدٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ الْفَضْلِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي عَشِيَّةِ عَرَفَةَ وَغَدَاةِ جَمْعٍ حِينَ دَفَعُوا عَلَيْكُمْ السَّكِينَةَ وَهُوَ كَافٌّ نَاقَتَهُ حَتَّى إِذَا دَخَلَ مُحَسِّرًا أَوْضَعَ
১৯২৮. ফযল ইবন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফার সন্ধ্যায় এবং মূযদালিফার সকালে প্রত্যাবর্তনকালে লোকদেরকে বললেনঃ “তোমরা শান্তভাবে চলো।“ আর তিনি তাঁর উটনীর লাগাম টেনে রাখছিলেন। যখন তিনি মিনা হতে মুহাসসির উপত্যকায় প্রবেশ করলেন, তখন তিনি দ্রুত চলতে লাগলেন।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২৮২।আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭২৪, ৬৭৩০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৭২ তে।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا لَيْثٌ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ قَالَ عَبْد اللَّهِ الْإِيضَاعُ لِلْإِبِلِ وَالْإِيجَافُ لِلْخَيْلِ
১৯২৯. আবীয যুবাইর তাঁর সনদে অনূরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
আবী আব্দুল্লাহ বলেন, উষ্ট্রীর ক্ষেত্রে ‘ইযা’উ’ (দ্রুত চালনা করা) আর ঘোড়ার ক্ষেত্রে তা ‘ইযাফ’ (দ্রুত চালনা) শব্দ ব্যবহৃত হয়।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ وَسَالِمًا كَلَّمَا ابْنَ عُمَرَ لَيَالِيَ نَزَلَ الْحَجَّاجُ بِابْنِ الزُّبَيْرِ قَبْلَ أَنْ يُقْتَلَ فَقَالَا لَا يَضُرُّكَ أَنْ لَا تَحُجَّ الْعَامَ نَخَافُ أَنْ يُحَالَ بَيْنَكَ وَبَيْنَ الْبَيْتِ فَقَالَ قَدْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُعْتَمِرِينَ فَحَالَ كُفَّارُ قُرَيْشٍ دُونَ الْبَيْتِ فَنَحَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَدْيَهُ وَحَلَقَ رَأْسَهُ ثُمَّ رَجَعَ فَأُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ عُمْرَةً فَإِنْ خُلِّيَ بَيْنِي وَبَيْنَ الْبَيْتِ طُفْتُ وَإِنْ حِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ فَعَلْتُ كَمَا كَانَ فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا مَعَهُ فَأَهَلَّ بِالْعُمْرَةِ مِنْذِي الْحُلَيْفَةِ ثُمَّ سَارَ فَقَالَ إِنَّمَا شَأْنُهُمَا وَاحِدٌ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ حَجًّا مَعَ عُمْرَتِي قَالَ نَافِعٌ فَطَافَ لَهُمَا طَوَافًا وَاحِدًا وَسَعَى لَهُمَا سَعْيًا وَاحِدًا ثُمَّ لَمْ يَحِلَّ حَتَّى جَاءَ يَوْمَ النَّحْرِ فَأَهْدَى وَكَانَ يَقُولُ مَنْ جَمَعَ الْعُمْرَةَ وَالْحَجَّ فَأَهَلَّ بِهِمَا جَمِيعًا فَلَا يَحِلَّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا يَوْمَ النَّحْرِ
১৯৩০. নাফি’ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ও সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাহি.) উভয়ই তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, যে বছর হাজ্জাজ বাহিনী ইবনুয যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে হত্যা করার পূর্বে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, সে সময়ে তাঁরা উভয়ে কয়েকদিন পর্যন্ত ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে (বুঝানোর জন্য) কথাবার্তা বললেন। তাঁরা বললেন, এ বছর হজ্জ না করলে আপনার কোন ক্ষতি হবে না। আমরা আশষ্কা করছি, আপনার ও বায়তুল্লাহর মাঝে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে উমরাহ করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলাম। কিন্তু বায়তুল্লাহর পথে কাফির কুরায়শরা আমাদের বাঁধা হয়ে দাঁড়াল। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানীর পশু যবেহ করে মাথা মুড়িয়ে নিয়েছিলেন। এরপর প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। এখন আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আমার নিজের জন্য ‘উমরা ওয়াজিব করে নিয়েছি। যদি আমার এবং বায়তুল্লাহর মাঝে বাধা না আসে তাহলে আমি তাওয়াফ করে নিব। কিন্তু যদি আমার ও আয়তুল্লাহর মাঝে বাধা সৃষ্টি করা হয় তাহলে আমি তখনই সেরূপ করব যেরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছিলেন, আর আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম।
তারপর তিনি যুল-হুলাইফা থেকে ‘উমরার ইহরাম বেঁধে কিছুক্ষণ চললেন, এরপরে বললেন: “হজ্জ এবং ‘উমরার ব্যাপার তো একই। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, নিশ্চয়ই আমি আমার ‘উমরার সাথে হজ্জও নিজের জন্য ওয়াজিব করে নিলাম।“ নাফি’ঈ বলেন: ফলে তিনি উভয়টি (হজ্জ ও ‘উমরা)-এর জন্য একটিই তাওয়াফ ও একটিই সাঈ করেন। এরপর তিনি (হজ্জ ও ‘উমরা কোনটি থেকেই) হালাল হননি। অবশেষে কুরবানী দিন এলে তিনি কুরবানী করলেন (এবং হালাল হলেন)। তিনি আরও বলতেন, যে ব্যক্তি উমরাহ ও হাজ্জকে একত্রিত করেছে এবং উভয়ের জন্যে একত্রে ইহরাম বেঁধেছে, সে হালাল হবে না। এরপর কুরবানী দিন (হজ্জ ও ‘উমরা) সে উভয়টি থেকে হালাল হবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৬৩৯,১৬৪০; মুসলিম, হাজ্জ ১২৩০।আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৫০০ তে।
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ الْحَجَّاجِ بْنِ عَمْرٍو الْأَنْصَارِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كُسِرَ أَوْ عُرِجَ فَقَدْ حَلَّ وَعَلَيْهِ حَجَّةٌ أُخْرَى قَالَ أَبُو مُحَمَّد رَوَاهُ مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلَّامٍ وَمَعْمَرٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعٍ عَنْ الْحَجَّاجِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১৯৩১. হাজ্জাজ ইবনু আমর আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যদি কারো (পা) ভেঙ্গে দেয়া হয় বা খোঁড়া বা অক্ষম হয়ে পড়ে, তবে তার জন্য হালাল হওয়া বৈধ। তবে তাকে অন্য বছর হজ্জ করতে হবে। রাবী ইকরামা বলেন, অতঃপর আমি এ সম্পর্কে ইবন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা উভয়ে এর সত্যতা স্বীকার করেন।[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, মুয়াবিয়াহ ইবনু সাল্লাম ও মা’মার হতে .... হাজ্জাজ ইবনু আমর হতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।[2]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাহাবী, মুশকিলিল আছার ১/২৫১-২৫২; আবী নুয়াইম, হিলইয়া ১/৩৫৮; আহমাদ ৩/৪৫০; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৮৬২; তিরমিযী, হাজ্জ ৯৪০; নাসাঈ , মানাসিক ৫/১৯৮, ১৯৯; ইবনু মাজাহ , মানাসিক ৩০৭৭; তাবারাণী, আল কাবীর ৩/২২৪ নং ৩২১১, ৩২১২; ইবনু আবী আসিম, আহাদ ওয়াল মাছানী নং ২১৫৫; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৪/২/৪৭; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/২২০; দারুকুতনী ২/২৭৮; হাকিম ১/৪৭০, ৪৮৩; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ২২০।
[2] এ উভয় সনদই মুত্তাসিল সনদের অতিরিক্ত।
মুয়াবিয়ার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তাহাবী, মুশকিলিল আছার ১/ ২৫২; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ২২০।
মা’মার এর হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, আবূ দাউদ, মানাসিক ১৮৬৩; তিরমিযী, হাজ্জ ৯৪০; ইবনু মাজাহ , মানাসিক ৩০৭৮; তাবারাণী, আল কাবীর ৩/২২৪ নং ৩২১৩; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/২২০; হাকিম ১/৪৮৩।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ رَمَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجَمْرَةَ يَوْمَ النَّحْرِ الضُّحَى وَبَعْدَ ذَلِكَ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ
১৯৩২. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানী দিন সকাল বেলায় এবং এরপর সূর্য হেলে পড়ার সময় (দ্বিপ্রহরে) জামরায় কংকর নিক্ষেপ করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২৯৯। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২১০৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৮৬ তে।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي الْبَدَّاحِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْخَصَ لِرِعَاءِ الْإِبِلِ أَنْ يَرْمُوا يَوْمَ النَّحْرِ ثُمَّ يَرْمُوا الْغَدَ أَوْ مِنْ بَعْدِ الْغَدِ لِيَوْمَيْنِ ثُمَّ يَرْمُوا يَوْمَ النَّفْرِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد مِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي الْبَدَّاحِ
১৯৩৩. আবীল বাদ্দাহ ইবনু আসিম তার পিতা (আসিম ইবন আদী) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উট চারকদের অনুমতি দেন যে, তারা যেন কোরবানীর দিন কংকর নিক্ষেপ করে। এরপর কোরবানীর পরের দিন কিংবা তার পরের দিন দু’ দিনের কংকর একসাথে নিক্ষেপ করবে। অতঃপর তারা প্রস্থানের দিন কংকর নিক্ষেপ করবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বিচ্ছিন্নতার (ইনকিতা’র) কারণে যঈফ। আব্দুল্লাহ ইবনু আবী বাকর আবীল বাদ্দাহ হতে শ্রবণ করেননি।
তাখরীজ: পরবর্তী টীকাটি দেখুন।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮৩৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৮৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০১৫ তে।
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُرَّةَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ التَّيْمِيِّ قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ أَنْ نَرْمِيَ الْجَمْرَةَ بِمِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ
১৯৩৪. আব্দুর রহমান ইবনু উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে আদেশ দেন যে, আমরা যেন জামরায় ‘খযফের’ কংকরের ন্যায় (ছোট) কংকর নিক্ষেপ করি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫৬৫১ তে। এছাড়াও: ইবনুল কানি’, মু’জামুল সাহাবাহ তরজমাহ নং ৬৩৬; পরবর্তী একটি হাদীসের পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ أَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَمَوْا بِمِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ وَأَوْضَعَ فِي وَادِي مُحَسِّرٍ وَقَالَ عَلَيْكُمْ السَّكِينَةَ
১৯৩৫. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, (বিদায় হাজ্জে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে আদেশ দিলে তাঁরা (জামরায়) ‘খযফের’ কংকরের ন্যায় (ছোট) কংকর নিক্ষেপ করেন। তখন তিনি মুহাসসির উপত্যকায় দ্রুত চলতে লাগলেন এবং (লোকদেরকে) বললেনঃ “তোমরা শান্তভাবে চলো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২৯৯। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২১০৮, ২১৪৭। এছাড়াও: বাইহাকী, আল মা’রিফাহ নং ১০১১০।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا خَالِدٌ عَنْ حُمَيْدٍ الْأَعْرَجِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُعَاذٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُنَا أَنْ نَرْمِيَ الْجِمَارَ بِمِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُعَاذٍ لَهُ صُحْبَةٌ قَالَ نَعَمْ
১৯৩৬. আব্দুর রহমান ইবনু মুয়া’য রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, (বিদায় হাজ্জে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে আদেশ দেন যে, আমরা যেন জামরায় ‘খযফের’ কংকরের ন্যায় (ছোট) কংকর নিক্ষেপ করি।[1]আবূ মুহাম্মদ কে বলা হলো, আব্দুর রহমান ইবনু মুয়া’য কি সাহাবী’ ছিলেন? তিনি বলেন, হাঁ।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৭৫ তে। এছাড়াও: ইবনুল কানি’, মু’জামুল সাহাবাহ তরজমাহ নং ৬২৬; বুখারী, আল কাবীর ৫/২৪৪।
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ وَالْمُؤَمَّلُ وَأَبُو نُعَيْمٍ عَنْ أَيْمَنَ بْنِ نَابِلٍ عَنْ قُدَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمَّارٍ الْكِلَابِيِّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْمِي الْجِمَارَ عَلَى نَاقَةٍ صَهْبَاءَ لَيْسَ ثَمَّ ضَرْبٌ وَلَا طَرْدٌ وَلَا إِلَيْكَ إِلَيْكَ
১৯৩৭. কুদামাহ ইবনু আব্দুল্লাহ্ ইবনু আম্মার আল কিলাবী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে লাল উটের পিঠে আরোহী অবস্থায় জামারায় কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। অথচ সেখানে কাউকে কোনো মারধর, বিতাড়ন, ‘দূর হও, দুর হও’ জাতীয় কোনো কিছুই বলা হচ্ছিল না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, আল কাবীর ৭/১৭৮; ইবনুল কানি’, মু’জামুল সাহাবাহ তরজমাহ নং ৯০১; তাবারাণী, আল কাবীর ১৯/৩৮ নং ৭৭; তায়ালিসী ১/২২৩ নং ১০৭৮; আহমাদ ৩/৪১৩; নাসাঈ, মানাসিক ৫/২৭০; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ৩০৩৫; ইবনু আবী আসিম, আহাদ ওয়াল মাছানী নং ১৪৯৯; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ২৮৭৮; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ ৩/৪১৩; তিরমিযী, হাজ্জ ৯০৩।
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ هُوَ الْجَزَرِيُّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ الْفَضْلِ قَالَ كُنْتُ رِدْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَزَلْ يُلَبِّي حَتَّى رَمَى الْجَمْرَةَ
১৯৩৮. ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ফযল হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সওয়ারীর পিছনে উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি জামরায় কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত সর্বদা তালবিয়া পাঠ করেই চললেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৬৭০; মুসলিম, হাজ্জ ১২৮১।আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৬১৬, ৬৭২২, ৬৭২৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮০৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৬৭ তে।
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَمَى الْجَمْرَةَ الَّتِي تَلِي الْمَسْجِدَ مَسْجِدَ مِنًى يَرْمِيهَا بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ ثُمَّ تَقَدَّمَ أَمَامَهَا فَوَقَفَ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ رَافِعًا يَدَيْهِ وَكَانَ يُطِيلُ الْوُقُوفَ ثُمَّ يَأْتِي الْجَمْرَةَ الثَّانِيَةَ فَيَرْمِيهَا بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ كُلَّمَا رَمَى بِحَصَاةٍ ثُمَّ يَنْحَدِرُ مِنْ ذَاتِ الْيَسَارِ مِمَّا يَلِي الْوَادِي رَافِعًا يَدَيْهِ يَدْعُو ثُمَّ يَأْتِي الْجَمْرَةَ الَّتِي عِنْدَ الْعَقَبَةِ فَيَرْمِيهَا بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ كُلَّمَا رَمَى بِحَصَاةٍ ثُمَّ يَنْصَرِفُ وَلَا يَقِفُ عِنْدَهَا قَالَ الزُّهْرِيُّ سَمِعْتُ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُهُ
১৯৩৯. যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মিনার মসজিদের নিকটস্থ জামরায় কংকর নিক্ষেপ করেন, তখন তাতে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন। আর তিনি প্রতিটি কংকর নিক্ষেপ করার সময় তাকবীর বলেন। তারপর তিনি এখান থেকে সামনে অগ্রসর হন এবং তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করে পশ্চিমমুখী হয়ে দাড়ান এবং অনেকক্ষণ ‘উকুফ’ (দণ্ডায়মান) অবস্থায় থাকেন। তারপর তিনি দ্বিতীয় জামরায় এসে তাতেও সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন, আর আর তিনি প্রতিটি কংকর নিক্ষেপ করার সময় তাকবীর বলেন।
এরপর তিনি তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করে দুঁআরত অবস্থায় উত্তরে ‘ওয়াদী’র দিকে নেমে আসেন। এরপর তিনি আকাবার নিকটবর্তী জামরায় আগমন করেন এবং এতেও তিনি সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন আর তিনি প্রতিটি কংকর নিক্ষেপ করার সময় তাকবীর বলেন। এরপর তিনি প্রস্থান করেন, কিন্তু এর নিকট তিনি দাঁড়ান নি। যুহরী (রহঃ) বলেন, আমি সালিম (রহঃ)-কে তাঁর পিতার সূত্রে এই হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এরুপ আমল করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৬৭০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৫৭৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৮৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০১৪ তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ هُوَ الْمَاجِشُونُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ هُوَ ابْنُ الْقَاسِمِ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا نَذْكُرُ إِلَّا الْحَجَّ فَلَمَّا جِئْنَا سَرِفَ طَمِثْتُ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ طَهُرْتُ فَأَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَفَضْتُ فَأُتِيَ بِلَحْمِ بَقَرٍ فَقُلْتُ مَا هَذَا قَالُوا أَهْدَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نِسَائِهِ الْبَقَرَ
১৯৪০. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম তিনি কেবল হাজ্জের কথাই উল্লেখ করেছেন। এরপর যখন সারিফ নামক স্থানে এলাম, তখন আমার হায়িয আরম্ভ হলো। এরপর যখন ইয়ামুন নাহর বা কুরবাণীর দিন আমি (হায়িয হতে) পবিত্র হলাম। তাই রাসূলুল্লাহ আমাকে (হাজ্জের অবশিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে) পাঠিয়ে দিলেন, ফলে যখন আমি (সেগুলি) পূর্ণ করলাম, তখন আমাকে গরুর গোশত খেতে দেওয়া হলো। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি? তারা বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে একটি মাত্র গরু কোরবানী করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৭০৯; মুসলিম, হাজ্জ ১২১১ (১১৯)। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫০৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯২৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২০৯ তে।