হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (21)


حَدَّثَنَا فَرْوَةُ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ الْهَمْدَانِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيل السُّدِّيِّ، عَنْ عَبَّادٍ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ، قَالَ: " كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَكَّةَ فَخَرَجْنَا مَعَهُ فِي بَعْضِ نَوَاحِيهَا، فَمَرَرْنَا بَيْنَ الْجِبَالِ وَالشَّجَرِ، فَلَمْ نَمُرَّ بِشَجَرَةٍ وَلَا جَبَلٍ إِلَّا قَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده فيه علتان : ضعف الوليد بن أبي ثور وجهالة عباد أبي يزيد وهو عباد بن أبي يزيد




২১. আলী ইবনু আবু তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মক্কায় ছিলাম। একদা তাঁর সাথে মক্কার পার্শ্ববর্তী কোন এক অঞ্চলের দিকে বের হলাম। তখন আমরা পাহাড় ও গাছপালার মধ্য দিয়ে পথ অতিক্রম করলাম। আমরা যে গাছ ও পাহাড়কেই অতিক্রম করেছি, প্রতিটি গাছ ও পাহাড়ই বলে উঠত: আস্ সালামু আলাইকা, ইয়া রাসূলুল্লাহ![1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে একজন যঈফ ও একজন অজ্ঞাত রাবী রয়েছে। তবে অন্য সনদে তাবারানী, আওসাতে (৬/২০৬ নং ৫৪২৮) অন্য রাবী হতে হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: তিরমিযী ৩৬৩০; বাইহাকী, দালাইল২/১৫৩-১৫৪।









সুনান আদ-দারিমী (22)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ الْأَعْمَشِ، عَنْ شِمْرِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ مُزَيْنَةَ، أَوْ جُهَيْنَةَ، قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْفَجْرَ فَإِذَا هُوَ بِقَرِيبٍ مِنْ مِئَةِ ذِئْبٍ قَدْ أَقْعَيْنَ وُفُودُ الذِّئَابِ، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " تَرْضَخُونَ لَهُمْ شَيْئًا مِنْ طَعَامِكُمْ وَتَأْمَنُونَ عَلَى مَا سِوَى ذَلِكَ؟ "، فَشَكَوْا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَاجَةَ، قَالَ: " فَآذِنُوهُنَّ "، قَالَ: فَآذَنُوهُنَّ فَخَرَجْنَ وَلَهُنَّ عُوَاءٌ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات ولكن قيل :أخطأ محمد بن يوسف في مئة وخمسين حديثا من حديث سفيان




২২. শিমর ইবনু আতিয়্যা কর্তৃক মুযাইনা কিংবা জুহাইনা গোত্রের এক ব্যক্তি হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করে দেখলেন সেখানে প্রায় একশটি নেকড়ে নিতন্বের উপর ভর দিয়ে বসে রয়েছে, তাদের পক্ষ হতে প্রতিনিধি হিসেবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদেরকে বললেন: তোমাদের খাদ্য থেকে সামান্য কিছু এদেরকে দাও, তাহলে অন্যগুলো থেকে নিরাপদে থাকবে। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে (নিজেদের সেগুলির) প্রয়োজন রয়েছে বলে অভিযোগ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘তাদেরকে এ খবর জানিয়ে দাও।’ তিনি বলেন, সেগুলোকে তা জানিয়ে দেয়া হল। ফলে তারা আর্তনাদ করতে করতে বের হয়ে গেল।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : রাবীগণ সকলেই নির্ভযোগ্য। এর অনেক শাহিদ রয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে।

তাখরীজ: তাবারাণী, মু’জামুল কাবীর যেমন বলেছেন ইবনু কাছীর ‘বিদায়াহ ওয়ান নিহায়া’ (৬/১৪৬) এ।









সুনান আদ-দারিমী (23)


أَخْبَرَنَا إِسْحَاق بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: جَاءَ جِبْرِيلُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ جَالِسٌ حَزِينٌ، وَقَدْ تَخَضَّبَ بِالدَّمِ مِنْ فِعْلِ أَهْلِ مَكَّةَ مِنْ قُرَيْشٍ، فَقَالَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلامُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلْ تُحِبُّ أَنْ أُرِيَكَ آيَةً؟، قَالَ: " نَعَمْ، فَنَظَرَ إِلَى شَجَرَةٍ مِنْ وَرَائِهِ "، فَقَالَ: ادْعُ بِهَا، فَدَعَا بِهَا، فَجَاءَتْ وَقَامَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَقَالَ: مُرْهَا فَلْتَرْجِعْ، فَأَمَرَهَا فَرَجَعَتْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " حَسْبِي حَسْبِي

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




২৩. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভারাক্রান্ত মনে বসে ছিলেন, এমতাবস্থায় জিবরীল আলাইহিস সালাম তাঁর নিকট আসলেন। আর তখন মক্কার কুরাইশদের অত্যাচারে তিনি রক্তে রঞ্জিত ছিলেন। জিবরীল (আ:) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আপনি কি চান আমি আপনাকে কোন নিদর্শন দেখাই? তিনি বললেন: ‘হাঁ’। তখন তিনি (জিবরীল) তাঁর পিছনের একটি গাছের দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনি একে ডাকুন। তখন তিনি গাছটিকে ডাকলেন আর সেটি চলে আসল এবং তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর তিনি (জিবরীল) বললেন, আপনি একে ফিরে চলে যেতে নির্দেশ দিন। তখন তিনি একে ফিরে যেতে নির্দেশ দিলেন আর সঙ্গে সঙ্গে সেটি আপন স্থানে ফিরে চলে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘‘এ-ই আমার জন্য যথেষ্ট, এ-ই আমার জন্য যথেষ্ট।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু মাজাহ ৪০২৮; আহমদ, আল মুসনাদ ৩/১১৩; ইবনু আবী শাইবা ১১/৪৭৮-৪৭৯ নং ১১৭৮১; আবী ইয়ালা নং ৩৬৮৫, ৩৬৮৬।









সুনান আদ-দারিমী (24)


أَخْبَرَنَا إِسْحَاق بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: أَتَى رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَامِرٍ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَلَا أُرِيكَ آيَةً "، قَالَ: بَلَى، قَالَ: فَاذْهَبْ فَادْعُ تِلْكَ النَّخْلَةَ "، فَدَعَاهَا فَجَاءَتْ تَنْقُزُ بَيْنَ يَدَيْهِ، قَالَ: قُلْ لَهَا تَرْجِعْ، قَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ارْجِعِي "، فَرَجَعَتْ حَتَّى عَادَتْ إِلَى مَكَانِهَا، فَقَالَ: يَا بَنِي عَامِرٍ، مَا رَأَيْتُ رَجُلًا كَالْيَوْمِ أَسْحَرَ مِنْهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




২৪. আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনী আমির হতে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এলে তিনি লোকটিকে বললেন: ‘আমি কি তোমাকে কোন নিদর্শন দেখাব না?’ লোকটি বলল, অবশ্যই দেখাবেন। তখন তিনি বললেন: ‘যাও, ঐ খেজুর গাছটিকে ডেকে নিয়ে এসো।’ তখন সে গাছটিকে ডাকলো এবং গাছটি লাফিয়ে তাঁর সামনে চলে এলো। লোকটি তাঁকে বললো, আপনি একে ফিরে যেতে বলুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটিকে বললেন: ‘ফিরে যাও।’ তখন সেটি তার আপন স্থানে ফিরে গেল। (এই ঘটনা দেখার পর) সেই লোকটি (তার সম্প্রদায় বনী আমিরকে উদ্দেশ্য করে) বললো, হে বনী আমির, আজকের মতো এই লোকটির চেয়ে বড় যাদুকর আমি আর কাউকে দেখিনি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাকিম একে সহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন।

তাখরীজ: তিরমিযী, ৩৬৩২; আহমাদ, আল মুসনাদ ১/২২৩; হাকিম ২/৬২০; তাবারানী, আল কাবীর ১২/১১০ নং ১২৬২২।









সুনান আদ-দারিমী (25)


أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيل بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ صَفْوَانَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: دَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلَالًا، فَطَلَبَ بِلَالٌ الْمَاءَ ثُمَّ جَاءَ، فَقَالَ: لَا وَاللَّهِ مَا وَجَدْتُ الْمَاءَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " فَهَلْ مِنْ شَنٍّ؟ " فَأَتَاهُ بِشَنٍّ، فَبَسَطَ كَفَّيْهِ فِيهِ فَانْبَعَثَتْ تَحْتَ يَدَيْهِ عَيْنٌ، قَالَ: فَكَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَشْرَبُ، وَغَيْرُهُ يَتَوَضَّأُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أن شعيب بن صفوان لم يذكر فيمن سمعوا عطاء قبل الاختلاط




২৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিলালকে (ওযুর পানি আনার জন্য) ডাকলেন। তখন বিলাল পানির খোঁজ করলেন, তারপর ফিরে এসে বললেন, না, আল্লাহর কসম, কোথাও পানি পেলাম না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘পানির কোন পাত্র আছে কি?’ তখন বিলাল তাঁকে একটি পাত্র দিলে তিনি তার মধ্যে তাঁর দুই হাতের তালু বিছিয়ে দিলেন। তখন তাঁর হাতের তালুর নিচ থেক ঝর্ণা প্রবাহিত হতে লাগল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন সেই পানি থেকে ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং অন্যান্যরা পান করতেন এবং ওযু করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সকল রাবী নির্ভরযোগ্য। তবে শুয়াইব ইবনু ছাফওয়ানকে সেই লোকদের মাঝে উল্লেখ করা হয়নি যারা আতা’র স্মৃতিশক্তি এলেমেলো হয়ে যাওয়ার আগে তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে আনাস রা: হতে ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতের আঙুল থেকে পানি প্রবাহের ঘটনা সংক্রান্ত হাদীস সহীহ, যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৩২৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৫৩৯, ৬৫৪৩-৬৫৪৬ তে।

জাবির রা: হতেও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন বুখারী ও মুসলিম। পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।

তাখরীজ: আহমাদ, আল মুসনাদ ১/২৫১, ৩২৪; বাইহাকী দালাইল ৪/১২৮; তাবারানী, আল কাবীর ১২/৮৭ নং ১২৫৬; বাযযার (কাশফুল আসতার ৩/১৩৬-১৩৭)।









সুনান আদ-দারিমী (26)


أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ الْأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ نُبَيْحٍ الْعَنَزِيِّ، قَالَ: قَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: غَزَوْنَا أَوْ سَافَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ يَوْمَئِذٍ بِضْعَةَ عَشَرَ وَمِائَتَانِ فَحَضَرَتْ الصَّلَاةُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " هَلْ فِي الْقَوْمِ مِنْ طَهُورٍ؟ "، فَجَاءَ رَجُلٌ يَسْعَى، بِإِدَاوَةٍ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ مَاءٍ، لَيْسَ فِي الْقَوْمِ مَاءٌ غَيْرُهُ، " فَصَبَّهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي قَدَحٍ، ثُمَّ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمَّ انْصَرَفَ وَتَرَكَ الْقَدَحَ "، فَرَكِبَ النَّاسُ ذَلِكَ الْقَدَحَ، وَقَالُوا: تَمَسَّحُوا تَمَسَّحُوا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " عَلَى رِسْلِكُمْ " حِينَ سَمِعَهُمْ يَقُولُونَ ذَلِكَ، " فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَفَّهُ فِي الْمَاءِ وَالْقَدَحِ "، وَقَالَ: " بِسْمِ اللَّهِ "، ثُمَّ قَالَ: " أَسْبِغُوا الطُّهُورَ "، فَوَالَّذِي هُوَ ابْتَلَانِي بِبَصَرِي لَقَدْ رَأَيْتُ الْعُيُونَ، عُيُونَ الْمَاءِ تَخْرُجُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ فَلَمْ يَرْفَعْهَا حَتَّى تَوَضَّئُوا أَجْمَعُونَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




২৬. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে কোন যুদ্ধে কিংবা সফরে ছিলাম। সেদিন আমাদের দলে লোকসংখ্যা ছিল দুইশত দশ জনেরও কিছু বেশি। পথিমধ্যে সালাতের সময় এসে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘লোকদের নিকট পবিত্রতার উপকরণ (তথা পানি) আছে কি?’ (এই কথা শুনে) এক ব্যক্তি একটি পাত্র নিয়ে দৌড়ে এল, সেই পাত্রে সামান্য কিছু পানি ছিল। এছাড়া আর কারও নিকটই কোন পানি ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই পানিটুকু একটি পাত্রে ঢাললেন। তারপর তিনি সুন্দরভারে ওযু করলেন, তারপর ওযু শেষ করে পাত্রটি রেখে চলে গেলেন। অমনি লোকেরা এ পাত্রটির উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল এবং বলতে লাগলো, মুছে নাও, মুছে নাও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাদেরকে এ কথা বলতে শুনলেন তখন তিনি বললেন: ‘ধীরে সুস্থে কর।’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানি ও পাত্রের মধ্যে তাঁর হাতের তালু স্থাপন করলেন এবং বললেন: ‘বিসমিল্লাহ। তোমরা পূর্ণরূপে পবিত্রতা অর্জন কর।’

(বর্ণনাকারী বলেন), সেই সত্ত্বার কসম, যিনি আমার দৃষ্টির ব্যাপারে আমাকে পরীক্ষায় ফেলেছেন, আমি দেখেছি পানির ঝর্ণা তাঁর আঙুলসমূহের মাঝ থেকে প্রবাহিত হচ্ছিল। আর তারা সকলে ওযু শেষ করার আগ পর্যন্ত তিনি তাঁর হাত উঠান নি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ, আল মুসনাদ, ৩/২৯২, ৩৫৮; ইবনু আবী শাইবা ১১/৪৭৪ নং ১১১৭২; বাইহাকী, দালাইল ৪/১১৭-১১৮; ইবনু খুযাইমা নং ১০৭।









সুনান আদ-দারিমী (27)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، وَسَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ، قَالَا: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، وَحُصَيْنٍ، سَمِعَا سَالِمَ بْنَ أَبِي الْجَعْدِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: أَصَابَنَا عَطَشٌ فَجَهَشْنَا، فَانْتَهَيْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " فَوَضَعَ يَدَهُ فِي تَوْرٍ، فَجَعَلَ يَفُورُ كَأَنَّهُ عُيُونٌ، مِنْ خَلَلِ أَصَابِعِهِ "، وَقَالَ: " اذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ "، فَشَرِبْنَا حَتَّى وَسِعَنَا وَكَفَانَا، وَفِي حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ: فَقُلْنَا لِجَابِرٍ: كَمْ كُنْتُمْ؟، قَالَ: كُنَّا أَلْفًا وَخَمْسَ مِئَةٍ وَلَوْ كُنَّا مِئَةَ أَلْفٍ لَكَفَانَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح والحديث متفق عليه




২৭. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমরা একদা পিপাসায় কাতর অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট ছুটে গেলাম। তখন তিনি একটি তামার পাত্রে তাঁর একটি হাত রাখলেন, তখন তাঁর আঙ্গুলের ফাঁকসমূহের মধ্য থেকে ঝর্ণাধারার মত (পানি) উথলে উঠতে লাগল। তিনি বলতে লাগলেন: ‘তোমরা আল্লাহর নাম স্মরণ করো অর্থাৎ বিসমিল্লাহ বলো।’ অতঃপর আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলাম এবং তা আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে গেল।

আমর ইবনু মুররাহ’র হাদীসে রয়েছে: ‘আমরা জাবিরকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা সংখ্যায় কত জন ছিলেন? তিনি বললেন, আমরা সংখ্যায় দেড় হাজার জন লোক ছিলাম, আর যদি আমরা এক লক্ষও হতাম তবুও তা আমাদের জন্য যথেষ্ট হত।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী-মুসলিমের হাদীস।

তাখরীজ: বুখারী ৩৫৭৬, ৪১৫২, ৫৬৩৯; মুসলিম (৭২)১৮৫৬, (৭৩) ১৮৫৬; আহমাদ ৩/৩২৯, ৩৬৫।









সুনান আদ-দারিমী (28)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا الْجَعْدُ أَبُو عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: شَكَى أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعَطَشَ، " فَدَعَا بِعُسٍّ، فَصُبَّ فِيهِ مَاءٌ، وَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ فِيهِ "، قَالَ: فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَى الْمَاءِ يَنْبُعُ عُيُونًا مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ يَسْتَقُونَ حَتَّى اسْتَقَى النَّاسُ كُلُّهُمْ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




২৮. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীগণ তাঁর নিকট পিপাসার অভিযোগ করলেন। (সাহাবীদের এই অভিযোগ শুনে) তিনি একটি বড় পাত্র চাইলেন। তারপর তাতে কিছু পানি ঢাললেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাতে একটি হাত রাখলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি দেখতে থাকলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আঙ্গুলসমূহের মাঝ থেকে যেন ঝর্ণাধারার মত পানি নির্গত হচ্ছিল এবং লোকেরা পানি পান করছে এমনকি সকল লোক পানি পেয়ে গেল।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: পূর্বের হাদীসের অনুরূপ।









সুনান আদ-দারিমী (29)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعَ عَبْدُ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ بِخَسْفٍ، فَقَالَ: كُنَّا أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعُدُّ الْآيَاتِ بَرَكَةً، وَأَنْتُمْ تَعُدُّونَهَا تَخْوِيفًا، إِنَّا بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ولَيْسَ مَعَنَا مَاءٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " اطْلُبُوا مَنْ مَعَهُ فَضْلُ مَاءٍ "، " فَأُتِيَ بِمَاءٍ، فَصَبَّهُ فِي الْإِنَاءِ، ثُمَّ وَضَعَ كَفَّهُ فِيهِ، فَجَعَلَ الْمَاءُ يَخْرُجُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ "، ثُمَّ قَالَ: " حَيَّ عَلَى الطَّهُورِ الْمُبَارَكِ، وَالْبَرَكَةُ مِنْ اللَّهِ تَعَالَى ، فَشَرِبْنَا، وقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: كُنَّا نَسْمَعُ تَسْبِيحَ الطَّعَامِ وَهُوَ يُؤْكَلُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




২৯. আলকামা রাহিমাহুল্লাহ আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন চন্দ্রগ্রহণের সংবাদ শুনলেন, তখন তিনি বলেন: আমরা মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণ এ সকল নিদর্শনকে বরকতের বিষয় বলে মনে করতাম, আর তোমরা একে ভীতি প্রদর্শনকারী নিদর্শন হিসেবে গণ্য করছ। একদা আমরা রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলাম, তখন আমাদের সাথে কোন পানি ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘খোঁজ কর, কার নিকট অতিরিক্ত পানি আছে।’ তারপর তাঁর নিকট সামান্য পানি আনা হল। তিনি তা পাত্রে ঢাললেন, তারপর তার মধ্যে তাঁর হাতের তালু স্থাপন করলেন। ফলে তাঁর আঙ্গুলসমূহ হতে পানি উথলে উঠতে লাগল। তখন তিনি বললেন: ‘বরকতময় পবিত্রকারী পানির দিকে এসো, আর বরকত তো আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে।’ তারপর আমরা পান করলাম।

আব্দুল্লাহ বলেন: আমরা খাদ্য গ্রহণের সময় খাবারের তাসবীহ পড়া শুনতে পেতাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩৫৭৯, ইবনু আবী শাইবা, ১১/৪৭৪ নং ১১৭৭১; বাইহাকী, দালাইল ৪/১২৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৫৪০; মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৩৭২।









সুনান আদ-দারিমী (30)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْجَوَّابِ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ رُزَيْقٍ، عَنْ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: زُلْزِلَتْ الْأَرْضُ عَلَى عَهْدِ عَبْدِ اللَّهِ، فَأُخْبِرَ بِذَلِكَ، فَقَالَ: إِنَّا كُنَّا أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَرَى الْآيَاتِ بَرَكَاتٍ، وَأَنْتُمْ تَرَوْنَهَا تَخْوِيفًا، بَيْنَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ إِذْ حَضَرَتْ الصَّلَاةُ وَلَيْسَ مَعَنَا مَاءٌ إِلَّا يَسِيرٌ، " فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَاءٍ فِي صَحْفَةٍ، وَوَضَعَ كَفَّهُ فِيهِ، فَجَعَلَ الْمَاءُ يَتْبَجِّسُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ "، ثُمَّ نَادَى: " حَيَّ عَلَى أَهْلِ الْوَضُوءِ، وَالْبَرَكَةُ مِنْ اللَّهِ "، قالَ: فَأَقْبَلَ النَّاسُ فَتَوَضَّئُوا، وَجَعَلْتُ لَا هَمَّ لِي إِلَّا مَا أُدْخِلُهُ بَطْنِي لِقَوْلِهِ: " وَالْبَرَكَةُ مِنْ اللَّهِ "، فَحَدَّثْتُ بِهِ سَالِمَ بْنَ أَبِي الْجَعْدِ، فَقَالَ: كَانُوا خَمْسَ عَشْرَةَ مِئَةٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :حديث صحيح




৩০. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সময় একদা ভূমিকম্প হল। তখন তাকে এ খবর দিলে তিনি বললেন: আমরা মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণ এ সকল নিদর্শনকে বরকতের বিষয় বলে মনে করতাম, আর তোমরা একে ভীতি প্রদর্শনকারী নিদর্শন হিসেবে গণ্য কর। একদা আমরা রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাথে কোন এক সফরে ছিলাম, তখন সালাতের সময় এসে গেল, কিন্তু আমাদের সাথে সামান্য পানি ব্যতীত কোন পানিই ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি পাত্রে করে সেই পানিটুকু নিয়ে আসতে বললেন এবং সেই পাত্রে তিনি তাঁর হাতের তালু স্থাপন করলেন। তখন তাঁর হাতের আঙ্গুলসমূহের মাঝ থেকে পানি প্রবাহিত হতে লাগল। তারপর তিনি ডেকে বললেন: ‘ওযুর পানি প্রার্থীগণ এদিকে এসো। আর বরকত তো আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে।’ তখন লোকেরা উপস্থিত হয়ে ওযু করতে লাগল। আমি কেবল যা পান করতে পারলাম তা ব্যতীত নিজের ব্যাপারে পানির জন্য চিন্তা করিনি, শুধু তাঁর একথার জন্য, ‘বরকত তো আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়’।

(উর্ধ্বতন রাবী বলেন) আমি এ হাদীস সালিম বিন আবুল জা’দ-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন: তারা ছিলেন পনেরশ’ জন। [1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: পাওয়া যায়নি।









সুনান আদ-দারিমী (31)


أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا مُعَاذُ بْنُ الْعَلَاءِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : يَخْطُبُ إِلَى جِذْعٍ، فَلَمَّا اتَّخَذَ الْمِنْبَرَ حَنَّ الْجِذْعُ حَتَّى أَتَاهُ، فَمَسَحَهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩১. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি কাষ্ঠখণ্ডের নিকট দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। তারপর যখন মিম্বার (বানিয়ে) নিলেন, তখন কাষ্ঠখণ্ডটি কাঁদতে থাকল যতক্ষণ না তিনি সেটির কাছে এসে তার উপর হাত বুলিয়ে দিলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : হাদীসটির সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, ৩৫৮৩; তিরমিযী ৫০৫।









সুনান আদ-দারিমী (32)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا تَمِيمُ بْنُ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ، حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ حَيَّانَ، حَدَّثَنِي ابْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَطَبَ قَامَ فَأَطَالَ الْقِيامَ، فَكَانَ يَشُقُّ عَلَيْهِ قِيَامُهُ، فَأُتِيَ بِجِذْعِ نَخْلَةٍ فَحُفِرَ لَهُ وَأُقِيمَ إِلَى جَنْبِهِ قَائِمًا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَطَبَ فَطَالَ الْقِيَامُ عَلَيْهِ، اسْتَنَدَ إِلَيْهِ فَاتَّكَأَ عَلَيْهِ فَبَصُرَ بِهِ رَجُلٌ كَانَ وَرَدَ الْمَدِينَةَ، فَرَآهُ قَائِمًا إِلَى جَنْبِ ذَلِكَ الْجِذْعِ، فَقَالَ: لِمَنْ يَلِيهِ مِنْ النَّاسِ: لَوْ أَعْلَمُ أَنَّ مُحَمَّدًا يَحْمَدُنِي فِي شَيْءٍ يَرْفُقُ بِهِ، لَصَنَعْتُ لَهُ مَجْلِسًا يَقُومُ عَلَيْهِ، فَإِنْ شَاءَ، جَلَسَ مَا شَاءَ، وَإِنْ شَاءَ، قَامَ، فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: " ائْتُونِي بِهِ "، فَأَتَوْهُ بِهِ، فَأَمَرَهُ أَنْ يَصْنَعَ لَهُ هَذِهِ الْمَرَاقِيَ الثَّلَاثَ، أَوْ الْأَرْبَعَ هِيَ الْآنَ فِي مِنْبَرِ الْمَدِينَةِ، فَوَجَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ رَاحَةً، فَلَمَّا فَارَقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجِذْعَ وَعَمَدَ إِلَى هَذِهِ الَّتِي صُنِعَتْ لَهُ، جَزِعَ الْجِذْعُ فَحَنَّ كَمَا تَحِنُّ النَّاقَةُ حِينَ فَارَقَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَزَعَمَ ابْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ سَمِعَ حَنِينَ الْجِذْعِ، رَجَعَ إِلَيْهِ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهِ وَقَالَ: " اخْتَرْ أَنْ أَغْرِسَكَ فِي الْمَكَانِ الَّذِي كُنْتَ فِيهِ، فَتَكُونَ كَمَا كُنْتَ، وَإِنْ شِئْتَ أَنْ أَغْرِسَكَ فِي الْجَنَّةِ فَتَشْرَبَ مِنْ أَنْهَارِهَا وَعُيُونِهَا فَيَحْسُنُ نَبْتُكَ، وَتُثْمِرُ فَيَأْكُلَ أَوْلِيَاءُ اللَّهِ مِنْ ثَمَرَتِكَ وَنَخْلِكَ فَعَلْتُ " فَزَعَمَ أَنَّهُ سَمِعَ مِنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقُولُ لَهُ: " نَعَمْ قَدْ فَعَلْتُ مَرَّتَيْنِ "، فَسُأَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: اخْتَارَ أَنْ أَغْرِسَهُ فِي الْجَنَّةِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده فيه ضعيفان : محمد بن حميد وصالح بن حيان




৩২. ইবনু বুরাইদা তার পিতা বুরাইদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন খুতবা দিতেন তখন তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। এভাবে (দীর্ঘক্ষণ) দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর জন্য কষ্টকর হত। তখন তাঁর জন্য খেজুর গাছের একটি কাষ্ঠ খণ্ড নিয়ে আসা হল এবং তিনি যেখানে দাঁড়াতেন তার পাশে গর্ত করে খাড়া ভাবে পূঁতে দেওয়া হল। অতঃপর তিনি দীর্ঘক্ষণ ধরে খুতবা দেওয়ার সময় সেটিতে ভর দিতেন, আবার তার সাথে ঠেস দিয়েও দাঁড়াতেন। এটির প্রতি মদীনায় আগত এক ব্যক্তির দৃষ্টি আকৃষ্ট হল। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঐ কাষ্ঠখণ্ডটির পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো। সে তার পাশের এক ব্যক্তিকে বলল, যদি জানতে পারতাম যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য উপকারী কিছু করলে তিনি আমার প্রশংসা করবেন, তাহলে অবশ্যই আমি তাঁর জন্য একটি বসার জায়গা বানিয়ে দিতাম, যার উপর তিনি দাঁড়াতে পারতেন। তিনি ইচ্ছা করলে বসতে পারতেন, আবার ইচ্ছা করলে দাঁড়াতেও পারতেন।

একথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট পৌঁছলে তিনি বললেন: ‘তাকে আমার নিকট নিয়ে এসো।’ তাকে তাঁর নিকট নিয়ে আসা হলে তাকে তিন বা চার ধাপ উঁচু এই (মিম্বার)টি বানানোর নির্দেশ দিলেন, যা এখনকার মদীনার (মসজিদে নববীর) মিম্বার। (সেটি বানানো হলে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেটিতে বসে বেশ আরাম পেলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কাষ্ঠ খণ্ডটিকে ছেড়ে তাঁর জন্য বানানো এ (মিম্বার) টিতে আরোহন করলেন, তখন যেভাবে উটনী (বাচ্চার বিরহে) কাঁদে, তেমনিভাবে কাষ্ঠ খণ্ডটি অস্থির হয়ে কাঁদতে লাগলো,যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ছেড়ে গেলেন।

ইবনু বুরাইদা তার পিতা হতে তাঁর ধারণা অনুযায়ী আরও বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কাষ্ঠ খণ্ডটির কান্না শুনতে পেলেন, তখন তিনি তার কাছে ফিরে গিয়ে এর গায়ে হাত রেখে বললেন: ‘তুমি বেছে নাও (কোনটি চাও), তুমি যেখানে ছিলে সেখানে তোমাকে পূঁতে রাখব, ফলে তুমি যেমন ছিলে তেমনই থাকবে,অথবা আমি তোমাকে জান্নাতে রোপণ করব, তখন তুমি সেখানকার নদী ও ঝর্ণা থেকে পান করতে পারবে এবং তুমি সুন্দর সুশোভিত হয়ে উঠবে এবং ফল-ফলাদি দেবে, আর তখন আল্লাহর ওলীগণ তোমার ফল-ফলাদি ও খেজুর খাবে, তুমি যদি চাও তবে আমি তাই করব।’

তাঁর আরও ধারণা, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্ভবত আরও বলতে শুনেছেন, তিনি সেটিকে বলেছেন: ‘হাঁ, আমি দু’বার তাই করেছি।’ তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, (যে সে কোনটি বেছে নিয়েছে?), তখন তিনি বললেন: ‘সে বেছে নিয়েছে যে, আমি যেন তাকে জান্নাতে রোপণ করে দেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এখানে দু’জন দুর্বল রাবী রয়েছে।

তাখরীজ: (মুহাক্কিক্ব এখানে তার তাহক্বীক্বকৃত হাইছামীর মাজমাউয যাওয়াইদ (৩১৩২ নং) হাদীসের আলোচনা দেখতে বলেছেন।)









সুনান আদ-দারিমী (33)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " يَقُومُ إِلَى جِذْعٍ قَبْلَ أَنْ يُجْعَلَ الْمِنْبَرُ، فَلَمَّا جُعِلَ الْمِنْبَرُ حَنَّ ذَلِكَ الْجِذْعُ حَتَّى سَمِعْنَا حَنِينَهُ، فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ عَلَيْهِ فَسَكَنَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :لم يحكم عليه المحقق




৩৩. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মিম্বার তৈরীর পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি কাষ্ঠ খণ্ডের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়াতেন। তারপর যখন মিম্বার তৈরী করা হল, তখন এই কাষ্ঠখণ্ডটি এমনভাবে কাঁদতে লাগল যে, আমরা তা শুনতে পেলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটির উপর তাঁর হাত রাখলেন, ফলে এটি শান্ত হল।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : (মুহাক্কিক্ব এ সনদ সম্পর্কে কোন মতামত দেননি)। হাফিজ ইবনু কাছীর এর সনদকে জাইয়্যেদ (উত্তম) বলেছেন। (ফাতহুল মান্নান) তবে এটি অপর সনদে ইমাম আহমদ জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যেটি সহীহ হাদীস। তাছাড়া ইমাম বুখারীও এটি বর্ণনা করেছেন (নং ৩৫৮৫)।

তাখরীজ: আহমাদ, আল মুসনাদ ৩/২৯৩; বুখারী ৪৪৯; সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৫০৮।









সুনান আদ-দারিমী (34)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ إِلَى خَشَبَةٍ، فَلَمَّا صُنِعَ الْمِنْبَرُ فَجَلَسَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَنَّتْ حَنِينَ الْعِشَارِ حَتَّى وَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ عَلَيْهَا فَسَكَنَتْ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :صحيح




৩৪. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি কাষ্ঠ খণ্ডের সাথে হেলান দিয়ে খুতবা দিতেন। তারপর যখন মিম্বার তৈরী করা হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারের উপর বসলেন, তখন সেটি (কাষ্ঠখণ্ডটি) দশ মাসের গর্ভবতী উটনীর ন্যায় (শব্দ করে) কান্না জুড়ে দিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটির উপর তাঁর হাত রাখলেন, ফলে তা শান্ত হয়ে গেল।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সহীহ।

তাখরীজ: পূর্ববর্তী হাদীসটি দেখনু।









সুনান আদ-দারিমী (35)


أَخْبَرَنَا فَرْوَةُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاق، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي كَرِيبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: حَنَّتْ الْخَشَبَةُ حَنِينَ النَّاقَةِ الْخَلُوجِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩৫. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত তিনি বলেন, কাষ্ঠ খণ্ডটি এমনভাবে কাঁদতে লাগল, যেভাবে বাচ্চা হারানো উটনী কেঁদে থাকে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমদ ৩/২৯৩; আবী ইয়ালা, আল মুসনাদ নং ২১৭৭; পূর্ণ তাখরীজের জন্য পূর্বের হাদীসটি দ্র:









সুনান আদ-দারিমী (36)


أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ الطُّفَيْلِ بْنِ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُصَلِّي إِلَى جِذْعٍ وَيَخْطُبُ إِلَيْهِ إِذْ كَانَ الْمَسْجِدُ عَرِيشًا، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ: أَلَا نَجْعَلُ لَكَ عَرِيشًا تَقُومُ عَلَيْهِ يَرَاكَ النَّاسُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَتُسْمَعُ مِنْ خُطْبَتِكَ؟، قَالَ: " نَعَمْ "، فَصُنِعَ لَهُ الثَّلَاثَ دَرَجَاتٍ، هُنَّ اللَّوَاتِي عَلَى الْمِنْبَرِ، فَلَمَّا صُنِعَ الْمِنْبَرُ وَوُضِعَ فِي مَوْضِعِهِ الَّذِي وَضَعَهُ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَلَمَّا جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُرِيدُ الْمِنْبَرَ مَرَّ عَلَيْهِ، فَلَمَّا جَاوَزَهُ، خَارَ الْجِذْعُ حَتَّى تَصَدَّعَ وَانْشَقَّ، فَرَجَعَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَسَحَهُ بِيَدِهِ حَتَّى سَكَنَ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى الْمِنْبَرِ، قَالَ: فَكَانَ إِذَا صَلَّى، صَلَّى إِلَيْهِ فَلَمَّا هُدِمَ الْمَسْجِدُ أَخَذَ ذَلِكَ الْجِذْعَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ فَلَمْ يَزَلْ عِنْدَهُ حَتَّى بَلِيَ فَأَكَلَتْهُ الْأَرَضَةُ وَعَادَ رُفَاتًا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن من أجل عبد الله بن محمد بن عقيل




৩৬. তুফাইল তার পিতা উবাই ইবনু কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মাসজিদ যখন ছাদবিহীন ছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি কাষ্ঠখণ্ডের নিকট দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন এবং সেটির উপর ভর দিয়ে খুতবা দিতেন। একজন সাহাবী বললেন, আমরা কি আপনার (মসজিদের) জন্য একটি বসার জায়গা বানিয়ে দেব না, যার উপর দাঁড়ালে জুমু’আর দিন লোকজন আপনাকে দেখতে পায় এবং আপনার খুতবা শুনতে পায়? তিনি বললেন: ‘হাঁ’। তখন তাঁর জন্য তিন স্তরবিশিষ্ট অবকাঠামো তৈরী করে মিম্বারের উপর স্থাপন করা হলো। এভাবে মিম্বার তৈরী হয়ে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত সেটি সে স্থানে স্থাপন করা হল।

বর্ণনাকারী বলেন, তারপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসে মিম্বারের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য একে (কাষ্ঠখণ্ডটিকে) অতিক্রম করে আগে বাড়লেন, ঠিক তখনই তা আর্তনাদ করে উঠল। ফলে তা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটির উপর হাত বুলিয়ে দিলেন, অতঃপর সেটি শান্ত হল। তারপর তিনি মিম্বারে ফিরে এলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর থেকে যখনই তিনি সালাত আদায় করতেন, এটির নিকটেই আদায় করতেন। তারপর যখন মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা হল, তখন উবাই ইবনু কা’ব সেই কাষ্ঠ খণ্ডটি নিয়ে গেলেন। যতদিন তা জীর্ণ না হয়েছিল এবং উইপোকা খেয়ে টুকরা টুকরা না করেছিল, ততদিন তা তার নিকটই ছিল।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আহমাদ, আল মুসনাদ ৫/১৩৮-১৩৯; ইবনু মাজা ১৪১৪; আবু নুয়াইম, আদ দালাইল ৩০৬।









সুনান আদ-দারিমী (37)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " يَخْطُبُ إِلَى لِزْقِ جِذْعٍ فَأَتَاهُ رَجُلٌ رُومِيٌّ، فَقَالَ: أَصْنَعُ لَكَ مِنْبَرًا تَخْطُبُ عَلَيْهِ، فَصَنَعَ لَهُ مِنْبَرًا هَذَا الَّذِي تَرَوْنَ، قَالَ: فَلَمَّا قَامَ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ، حَنَّ الْجِذْعُ حَنِينَ النَّاقَةِ إِلَى وَلَدِهَا، فَنَزَلَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَضَمَّهُ إِلَيْهِ فَسَكَنَ، فَأَمَرَ بِهِ أَنْ يُحْفَرَ لَهُ وَيُدْفَنَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف مجالد بن سعيد




৩৭. আবু সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি কাষ্ঠখণ্ডের নিকট (দাঁড়িয়ে) খুতবা দিতেন। তারপর রোমের একজন ব্যক্তি এসে বলল, আমি আপনার জন্য একটি মিম্বার বানিয়ে দিব যার উপরে (দাঁড়িয়ে) আপনি খুতবা দিবেন। তারপর সে তাঁর জন্যে একটি মিম্বার তৈরী করল, যা তোমরা দেখছ। তারপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বারের উপর দাঁড়ালেন, তখন উটনী তার বাচ্চার জন্য যেভাবে কাঁদে, তেমনিভাবে কাষ্ঠখণ্ডটি কান্না জুড়ে দিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মিম্বার থেকে) নেমে সেটির দিকে এগিয়ে গেলেন এবং একে আলিঙ্গন করলেন, ফলে তা শান্ত হয়ে গেল। তখন আদেশ দেয়া হলো, যেন এর জন্য একটি গর্ত খুঁড়ে একে দাফন করে দেওয়া হয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, মুজালিদ বিন সাঈদের দুর্বলতার কারণে।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১১/৪৮৬ নং ১১৭৯৮; আবী ইয়ালা (১০৬৮) সংক্ষেপে হাসান সনদে।









সুনান আদ-দারিমী (38)


أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الصَّعْقُ، قَالَ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ، يَقُولُ: لَمَّا أَنْ قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ جَعَلَ " يُسْنِدُ ظَهْرَهُ إِلَى خَشَبَةٍ وَيُحَدِّثُ النَّاسَ "، فَكَثُرُوا حَوْلَهُ، فَأَرَادَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُسْمِعَهُمْ، فَقَالَ: " ابْنُوا لِي شَيْئًا أَرْتَفِعُ عَلَيْهِ "، قَالُوا: كَيْفَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ؟، قَالَ: " عَرِيشٌ كَعَرِيشِ مُوسَى "، فَلَمَّا أَنْ بَنَوْا لَهُ، قَالَ الْحَسَنُ: حَنَّتْ وَاللَّهِ الْخَشَبَةُ، قَالَ الْحَسَنُ: سُبْحَانَ اللَّهِ ! هَلْ تُبْتَغَى قُلُوبُ قَوْمٍ سَمِعُوا؟ قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: يَعْنِي هَذَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :مرسل إسناده صحيح




৩৮. হাসান রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করলেন তখন লোকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি একটি কাষ্ঠখণ্ডের সাথে হেলান দিতেন। তারপর যখন তার চারিপাশে অনেক লোকের সমাগম হল, আর তিনি লোকদেরকে (তাঁর কথা) শুনাবার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি বললেন: ‘আমার জন্য এমন একটি জিনিস বানাও, যার zwj;উপর আমি আরোহণ করে (খুতবা দিতে) পারি।’ তারা বললেন: হে আল্লাহর নবী, সেটি কেমন হবে? তিনি বললেন: ‘মুসা’র মাচা যেমন ছিল, ঠিক তেমনি একটি মাচা। অতঃপর তারা তাঁর জন্য তা (মিম্বার) তৈরী করলেন। (বর্ণনাকারী) হাসান বলেন: আল্লাহর কসম! তখন সেই কাষ্ঠখণ্ডটি কান্না জুড়ে দিল। হাসান বলেন, সুবহানাল্লাহ! আনুগত্যকারী লোকদের অন্তর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য) এমন আকাংখীnbsp; কি? আবূ মুহাম্মদ বলেন: ‘অর্থাৎ এ (ঘটনা) টি।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : মুরসাল হিসেবে এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আবী ইয়ালা, আল মুসনাদ ২৭৫৬; সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৫০৭; হাইছামী, মাওয়ারিদুয যাম’আন ৫৭৪। আলবানী সহীহাহ ৬১৬।









সুনান আদ-দারিমী (39)


أَخْبَرَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ: يَخْطُبُ إِلَى جِذْعٍ قَبْلَ أَنْ يَتَّخِذَ الْمِنْبَرَ، فَلَمَّا اتَّخَذَ الْمِنْبَرَ وَتَحَوَّلَ إِلَيْهِ، حَنَّ الْجِذْعُ، فَاحْتَضَنَهُ، فَسَكَنَ "، وَقَالَ: لَوْ لَمْ أَحْتَضِنْهُ، لَحَنَّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মিম্বার বানানোর পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি কাষ্ঠখণ্ডের নিকট (দাঁড়িয়ে) খুতবা দিতেন। তারপর যখন তিনি মিম্বার বানালেন এবং সেটির দিকে ফিরে গেলেন, তখন কাষ্ঠখণ্ডটি কান্নাজুড়ে দিল। ফলে তিনি এটিকে আলিঙ্গন করলেন, অতঃপর এটি শান্ত হল। এবং তিনি বললেন: ‘আমি যদি একে আলিঙ্গন না করতাম, তবে অবশ্যই তা কিয়ামত পর্য়ন্ত (এভাবে) কাঁদতে থাকত।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ, আল মুসনাদ ১/২৪৯, ২৬৩, ২৬৭; ইবনু আবী শাইবা ১১/৪৮৪ নং ১১৭৯৫; আবদ্ ইবনু হুমাইদ ১৩৩৬; বুখারী, আল কাবীর ৭/২৬; তাবারানী, মু’জামুল কাবীর ১২/১৮৭ নং ১২৮৪১।









সুনান আদ-দারিমী (40)


أَخْبَرَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، بِمِثْلِهِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৪০. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: তিরমিযী ৩৬৩১; ইবনু মাজাহ ১৪১৫; সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৫০৭।