হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (2341)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ قُرَيْشًا أَهَمَّهُمْ شَأْنُ الْمَرْأَةِ الْمَخْزُومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ فَقَالُوا مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا وَمَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلَّا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَلَّمَهُ أُسَامَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ ثُمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ فَقَالَ إِنَّمَا هَلَكَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمْ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمْ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ وَايْمُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا




২৩৪১. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। মাখযূম গোত্রের এক নারী চুরি করে ধরা পড়লে তার বিষয়টি কুরায়শদেরকে অত্যন্ত বিচলিত করে তোলে। তারা বলাবলি করতে লাগলো যে, বিষয়টি নিয়ে কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কথা বলতে পারে? তারা বলাবলি করলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয়পাত্র উসামা ইবনু যায়িদ ছাড়া আর কে এমন দুঃসাহস করতে পারে? অতঃপর উসামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “তুমি কি আল্লাহ’র নির্ধারিত হদ্দের ব্যাপারে সুপারিশ করছো?“ অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন এবং বললেনঃ “তোমাদের পূর্ববর্তীরা এ কারণে ধ্বংস হয়েছে যে, তাদের মধ্যকার কোন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করলে তারা তাকে ছেড়ে দিতো এবং কোন দুর্বল অসহায় ব্যক্তি চুরি করলে তাকে শাস্তি দিতো। আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদের কন্যা ফাতেমাও যদি চুরি করতো, তাহলে আমি অবশ্যই তার হাতও কেটে দিতাম।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলু আসহাবিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৩৭৩২, ৩৭৩৩; মুসলিম, হুদুদ ১৬৮৮।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫৪৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪০২ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2342)


أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَبِي الْمُنْذِرِ مَوْلَى أَبِي ذَرٍّ عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الْمَخْزُومِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِسَارِقٍ اعْتَرَفَ اعْتِرَافًا لَمْ يُوجَدْ مَعَهُ مَتَاعٌ فَقَالَ مَا إِخَالُكَ سَرَقْتَ قَالَ بَلَى قَالَ مَا إِخَالُكَ سَرَقْتَ قَالَ بَلَى قَالَ فَاذْهَبُوا فَاقْطَعُوا يَدَهُ ثُمَّ جِيئُوا بِهِ فَقَطَعُوا يَدَهُ ثُمَّ جَاءُوا بِهِ فَقَالَ اسْتَغْفِرْ اللَّهَ وَتُبْ إِلَيْهِ فَقَالَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فَقَالَ اللَّهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ اللَّهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ




২৩৪২. আবূ উমাইয়্যা আল মাখযুমী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক চোরকে উপস্থিত করা হলে সে তার অপরাধের স্বীকারোক্তি করলো। কিন্তু তার কাছে চুরিকৃত মাল পাওয়া গেলো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “আমার তো মনে হয় না যে, তুমি চুরি করেছো।“ সে বললো, হাঁ (চুরি করেছি)। তিনি আবার বললেনঃ “আমার তো মনে হয় না যে, তুমি চুরি করেছো।“ সে বললো, হাঁ (চুরি করেছি)। অতঃপর তিনি বললেন: “একে নিয়ে গিয়ে তার হাত কেটে দাও এরপর তাকে আমার নিকট নিয়ে এসো।“ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (লোকটিকে) বললেনঃ “তুমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাঁর কাছে তাওবা কর।“ সে বললোঃ ‘‘আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে তওবা করছি’’। তখন তিনি বললেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! তুমি তার তওবা কবুল করো। হে আল্লাহ! তুমি তার তওবা কবুল করো।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : (বর্ণনাকারী) আবীল মুনযিরকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন-এমন কাউকে আমি পাইনি। অন্যান্য রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। ((তবে আবী হুরাইরা হতে এর সহীহ শাহিদ থাকার কারণে এটি সহীহ লিগয়রিহী হওয়ার কথা। আল্লাহই ভাল জানেন।–অনুবাদক))

তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ২২/৩৬০ নং ৯০৫; আহমাদ ৫/২৯৩; আবূ দাউদ, হুদুদ ৪৩৮০; নাসাঈ, কুবরা নং ৭৩৬৩; দাওলাবী, আল কুন্নী ১/১৪; ইবনু মাজাহ, হুদুদ ২৫৯৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৩/১৬৮-১৬৯; বাইহাকী, আল মা’রিফাহ নং ১৭২২৮; বাইহাকী, সারিকাহ ৮/২৭৬।

আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে হাকিম ৪/৩৮১; দারুকুতনী ৩/১০২; বাইহাকী, সারিকাহ ৮/২৭১ তে; হাকিম একে মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী চুপ থেকেছেন।

আমরা বলছি: বরং এর রাবীগণ বুখারী মুসলিমের রাবী। আল্লাহই ভাল জানেন।









সুনান আদ-দারিমী (2343)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ أَخْبَرَهُ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلَا كَثَرٍ




২৩৪৩. রাফি’ ইবনু খাদীজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্zwnj; সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি: “ফল এবং খেজুর গাছের মজ্জা চুরিতে হাত কাটা নেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ৪/২৬০ নং ৪৩৩৯। ((আবূ দাউদ, হুদুদ ৪৩৮৮; তিরমিযী, হুদুদ ১৪৪৯; নাসাঈ, ক্বতঈস সারিক্ব ৮/৮৭; ইবনু মাজাহ, হুদুদ ২৫৯৩; মালিক, হুদুদ হা/৩২।- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্ব, দারেমী হা/২৩০৪ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৬৬ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৫০৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪১১ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2344)


حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ رَجُلٍ مِنْ قَوْمِهِ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلَا كَثَرٍ




২৩৪৪. (অপর সূত্রে) রাফি’ ইবনু খাদীজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “ফল এবং খেজুর গাছের মজ্জা চুরিতে হাত কাটা নেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, এ সনদে ‘জাহালত’ বা অজ্ঞাত পরিচয় রাবী রয়েছে।

তাখরীজ: নাসাঈ, ক্বতঈস সারিক্ব ৮/৮৮; এটি পূর্বের হাদীসের পূনরাবৃত্তি। পরের হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (2345)


أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ عَمِّهِ وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلَا كَثَرٍ




২৩৪৫. (অপর সূত্রে) রাফি’ ইবনু খাদীজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্zwnj; সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “ফল এবং খেজুর গাছের মজ্জা চুরিতে হাত কাটা নেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: নাসাঈ, ক্বতঈস সারিক্ব ৮/৮৭; এটি পূর্বের হাদীসের পূনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (2346)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ




২৩৪৬. (অপর সনদে) রাফি’ ইবনু খাদীজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: নাসাঈ, ক্বতঈস সারিক্ব ৮/৮৭; তাবারাণী, কাবীর ৪/২৬০ নং ৪৩৪০। এটি পূর্বের হাদীসের পূনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (2347)


أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ وَالثَّقَفِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلَا كَثَرٍ قَالَ وَهُوَ شَحْمُ النَّخْلِ وَالْكَثَرُ الْجُمَّارُ




২৩৪৭. (অপর সূত্রে) রাফি’ ইবনু খাদীজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি: “ফল এবং খেজুর গাছের মজ্জা চুরিতে হাত কাটা নেই।“

তিনি বলেন, তা হলো খেজুর গাছের মজ্জা। আর ‘কাছর’ অর্থ মজ্জা।









সুনান আদ-দারিমী (2348)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ أَبِي مَيْمُونٍ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا قَطْعَ فِي كَثَرٍ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْقَوْلُ مَا قَالَ أَبُو أُسَامَةَ




২৩৪৮. রাফি’ ইবনু খাদীজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি: “খেজুর গাছের মজ্জা চুরিতে হাত কাটা নেই।“[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন: আবূ উসামাহ’র মতই এ বিষয়ে (সঠিক) মত।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, এ সনদে ‘জাহালত’ বা অজ্ঞাত পরিচয় রাবী রয়েছে।

তাখরীজ: নাসাঈ, ক্বতঈস সারিক্ব ৮/৮৮। আগের হাদীস দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (2349)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ قَالَ جَابِرٌ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ عَلَى الْمُنْتَهِبِ وَلَا عَلَى الْمُخْتَلِسِ وَلَا عَلَى الْخَائِنِ قَطْعٌ




২৩৪৯. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “লুণ্ঠনকারী, ছিনতাইকারী ও আত্মসাৎকারীর হাত কর্তন করা হবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৫৬, ৪৪৫৭, ৪৪৫৮ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৫০২, ১৫০৩, ১৫০৪ তে।

((আবূ দাউদ, হুদুদ ৪৩৯১; তিরমিযী, হুদুদ ১৪৪৮; নাসাঈ, ক্বতঈস সারিক্ব ৮/৮৮-৮৯; ইবনু মাজাহ, হুদুদ ২৫৯১।- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্ব, দারেমী হা/২৩১০ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2350)


حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِرَجُلٍ قَدْ شَرِبَ خَمْرًا فَضَرَبَهُ بِجَرِيدَتَيْنِ ثُمَّ فَعَلَ أَبُو بَكْرٍ مِثْلَ ذَلِكَ فَلَمَّا كَانَ عُمَرُ اسْتَشَارَ النَّاسَ فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ أَخَفُّ الْحُدُودِ ثَمَانِينَ قَالَ فَفَعَلَ




২৩৫০. আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক ব্যক্তিকে আনা হল। সে মদ পান করেছিল। তখন তিনি তাকে দুইটি খেজুর ডাল দিয়ে (প্রায় চল্লিশ) ঘা মারেন। পরবর্তীতে আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও অনুরূপ করেন। এরপর যখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু খলীফা হলেন তখন তিনি এ বিষয়ে লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। আবদুর রহমান ইবন আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সর্বনিম্ন হদ্দ হল আশি ঘা বেত মারা। তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এ সংখ্যক হদ্দ কার্যকরী করেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, হুদুদ ৬৭৭৩; মুসলিম, হুদুদ ১৭০৬।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৯৪, ৩০১৫, ৩০৫৩, ৩১২৭, ৩২১৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৪৮, ৪৪৪৯, ৪৪৫০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2351)


حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ الدَّانَاجُ حَدَّثَنَا حُضَيْنُ بْنُ الْمُنْذِرِ الرَّقَاشِيُّ قَالَ شَهِدْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ وَأُتِيَ بِالْوَلِيدِ بْنِ عُقْبَةَ فَقَالَ عَلِيٌّ جَلَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعِينَ وَجَلَدَ أَبُو بَكْرٍ أَرْبَعِينَ وَعُمَرُ ثَمَانِينَ وَكُلٌّ سُنَّةٌ




২৩৫১. হুসাইন ইবনুল মুনযির (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু -এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ সময় ওয়ালিদ ইবনু উকবাকে আনা হলো। (সাক্ষ্য-প্রমাণে তার মদ্যপানের অপরাধ প্রমাণিত হলে তিনি ‘আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে তার উপর হদ্দ কার্যকর করতে বলেন।) তখন ‘আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মদ্যপকে) চল্লিশ বেত্রাঘাত করেছেন, আবূ বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও চল্লিশ বেত্রাঘাত করেছেন এবং উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আশি বেত্রাঘাত করেছেন। এ সবই সুন্নাত।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, হুদুদ ১৭০৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫০৪, ৪৯৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2352)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ هُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُتْبَةَ بْنِ عُرْوَةَ بْنِ مَسْعُودٍ الثَّقَفِيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَاضْرِبُوهُ ثُمَّ إِنْ عَادَ فَاضْرِبُوهُ ثُمَّ إِنْ عَادَ فَاضْرِبُوهُ ثُمَّ إِنْ عَادَ الرَّابِعَةَ فَاقْتُلُوهُ




২৩৫২. আমর ইবনু শারীদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি: “তোমাদের কেউ মদপান করলে তাকে বেত্রাঘাত করো। সে পুনরায় মাদক গ্রহণ করলে তাকে পুনরায় বেত্রাঘাত করো, সে পুনরায় মাদক গ্রহণ করলে তাকে বেত্রাঘাত করো। এরপর সে চতুর্থবার মাদক গ্রহণ করলে তাকে হত্যা করো।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, আব্দুল্লাহ ইবনু উতবাহ ইবনু উরওয়াহ ইবনু মাসউদ সাকাফীর জীবন বৃন্তান্ত আমি খুঁজে পাইনি। অন্যান্য রাবীগণ বিশ্বস্ত। ((তবে হাদীসটি সহীহ, যেমন তাখরীজে উল্লেখিত হয়েছে।–অনুবাদক))

তাখরীজ: নাসাঈ, কুবরা নং ৫৩০১; তাবারাণী, কাবীর ৭/৩১৭ নং ৭২৪৪; আহমাদ ৪/৩৮৮-৩৮৯; হাকিম ৪/৩৭২; হাকিম বলেন: হাদীসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ..।’ এবং যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন। তবে আমরা বলছি: হাদীসটি সহীহ মুসলিমের শর্তানুযায়ী নয়; আর এর সনদ মোটেও সহীহ নয়।

তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৪৭ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৫১৭ তে। ((আবূ দাউদ, হুদুদ ৪৪৮৪; ইবনু মাজাহ, হুদুদ ২৫৭২ (আলবানী (রহঃ) একে সহীহ বলেছেন); আহমাদ ৭৭০৪, ৭৮৫১, ১০১৬৯, ১০৩৫১।-অনুবাদক))

এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে মু’আবি’য়া ইবনু আবু সুফিয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৬৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৪৬ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৫১৯ তে। ((তিরমিযী, হুদুদ ১৪৪৪; ইবনু মাজাহ, হুদুদ ২৫৭৩ ,আলবানীর তাহক্বীক্বে হাদীসটি হাসান।-অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2353)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ هُوَ ابْنُ أَبِي أَيُّوبَ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ هُوَ ابْنُ جَابِرٍ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ نِيَارٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يَضْرِبَ أَحَدًا فَوْقَ عَشَرَةِ أَسْوَاطٍ إِلَّا فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ




২৩৫৩. আবূ বুরদা ইবনু নিয়ার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি: “আল্লাহর নির্দিষ্ট হাদ্দসমূহের কোন হাদ্দ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে দশ বেত্রাঘাতের বেশি দন্ড দেয়া যাবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, হুদুদ ৬৮৪৮; মুসলিম, হুদুদ ১৭০৮।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৫২, ৪৪৫৩ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2354)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَسْلَمَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَدَّثَهُ أَنَّهُ زَنَى فَشَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَنَّهُ زَنَى أَرْبَعًا فَأَمَرَ بِرَجْمِهِ وَكَانَ قَدْ أُحْصِنَ




২৩৫৪. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, বনী আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল যে, সে যিনা করেছে। এরপর সে নিজের বিরূদ্ধে চার বার সাক্ষ্য দিল যে, নিশ্চয় সে যিনা করেছে। ফলে তিনি তাকে রজম (পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা) করার আদেশ দিলেন। আর সে ছিল বিবাহিত।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫২৭০; মুসলিম, হুদুদ ১৬৯১ (১৬)

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩০৯৪, ৪৪৪০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2355)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ سِمَاكٍ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ يَقُولُ أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ رَجُلٍ قَصِيرٍ فِي إِزَارٍ مَا عَلَيْهِ رِدَاءٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَّكِئٌ عَلَى وِسَادَةٍ عَلَى يَسَارِهِ فَكَلَّمَهُ فَمَا أَدْرِي مَا يُكَلِّمُهُ بِهِ وَأَنَا بَعِيدٌ مِنْهُ بَيْنِي وَبَيْنَهُ الْقَوْمُ ثُمَّ قَالَ اذْهَبُوا بِهِ فَارْجُمُوهُ ثُمَّ قَالَ رُدُّوهُ فَكَلَّمَهُ أَيْضًا وَأَنَا أَسْمَعُ غَيْرَ أَنَّ بَيْنِي وَبَيْنَهُ الْقَوْمَ فَقَالَ اذْهَبُوا بِهِ فَارْجُمُوهُ ثُمَّ قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخَطَبَ وَأَنَا أَسْمَعُهُ ثُمَّ قَالَ كُلَّمَا نَفَرْنَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَلَفَ أَحَدُهُمْ لَهُ نَبِيبٌ كَنَبِيبِ التَّيْسِ يَمْنَحُ إِحْدَاهُنَّ الْكُثْبَةَ مِنْ اللَّبَنِ وَاللَّهِ لَا أَقْدِرُ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ إِلَّا نَكَّلْتُ بِهِ




২৩৫৫. জাবির ইবন সামুরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মায়িয ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে আনা হলো। তিনি ছিলেন বেঁটে প্রকৃতির, ইযার পরিহিত, তার গায়ে ছিল কোনো চাদর ছিল না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বামদিকে বালিশে হেলান দেওয়া অবস্থায় ছিলেন। অতঃপর তিনি তার সাথে কথা বললেন। তবে আমি জানিনা তিনি তার সাথে কী কথা বললেন। কারণ, আমি তাঁর থেকে বেশ দূরে ছিলাম, আর আমার ও তাঁর মাঝে কয়েকজন লোক ছিল। যাহোক, এরপর তিনি বললেন, “তোমরা একে নিয়ে গিয়ে রজম করো।“

এরপর তিনি আবার বললেন: “তোমরা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসো।“ অতঃপর তিনি তার সাথে কথা বললেন। আর আমি তাদের কথা শুনছিলাম। তবে (আমি জানিনা তিনি তার সাথে কী কথা বললেন।) কারণ, আর আমার ও তাঁর মাঝে কয়েকজন লোক ছিল। । যাহোক, এরপর তিনি বললেন, “তোমরা একে নিয়ে গিয়ে রজম করো।“ এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বললেন: “আমরা যখনই আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হই তখন তাদের মধ্য হতে কেউ না কেউ পিছনে থেকে যায় এবং পাঁঠার ন্যায় আওয়ায করে বেড়ায়। সে তখন কোন নারীকে অল্পই দুধ প্রদান করে (অর্থাৎ বীর্য্য প্রদান করে তথা ব্যভিচার করে)। আল্লাহ যদি আমাকে তাদের কারো উপর ক্ষমতা প্রদান করেন, তবে নিশ্চয়ই আমি তাকে এমন শাস্তি প্রদান করবো যা (অন্যদের জন্য) দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, হুদুদ ১৬৯২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৪৪৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৩৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2356)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ وَشِبْلٍ قَالُوا جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَنْشُدُكَ اللَّهَ إِلَّا قَضَيْتَ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ فَقَالَ خَصْمُهُ وَكَانَ أَفْقَهَ مِنْهُ صَدَقَ اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ وَأْذَنْ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْ فَقَالَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى أَهْلِ هَذَا فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَخَادِمٍ وَإِنِّي سَأَلْتُ رِجَالًا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّ عَلَى ابْنِي جَلْدَ مِائَةٍ وَتَغْرِيبَ عَامٍ وَأَنَّ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا الرَّجْمَ فَقَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ الْمِائَةُ شَاةٍ وَالْخَادِمُ رَدٌّ عَلَيْكَ وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَيَا أُنَيْسُ اغْدُ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا فَسَلْهَا فَإِنْ اعْتَرَفَتْ فَارْجُمْهَا فَاعْتَرَفَتْ فَرَجَمَهَا




২৩৫৬. আবু হুরাইরা এবং যায়িদ ইবন খালিদ ও শিবলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, এক লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে হুকুম প্রদান করুন। তখন তার প্রতিপক্ষ অপর ব্যক্তি যে তার চেযে অধিক বুদ্ধিমান ছিল বলল, সত্যিই আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করুন। তবে এর আগে আমাকে (কথা বলার) অনুমতি প্রদান করুন, ইয়া রাসূলুল্লাহ। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ, বলো । লোকটি বললো, আমার এক ছেলে ঐ ব্যক্তির বাড়িতে চাকর ছিল। আর সে তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যাভিচার করেছে। অতএব, আমি উহার বিনিময়ে প্রদান করলাম একশ, ছাগল ও একটি দাসী। এরপর আমি এ ব্যাপারে আলেমগণের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম।

তখন তারা আমাকে বললেনঃ যে, আমার ছেলের উপর একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছর কাল নির্বাসনের হুকুম রয়েছে। আর ঐ লোকের স্ত্রীর উপর রজম (পাথর নিক্ষেপ) এর হুকুম কার্যকর হবে। তিনি তখন বললেনঃ “সেই মহান সত্তার শপথ! যার হস্তে আমার জীবন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করে দেব। সুতরাং দাসী এবং ছাগল তুমি ফিরে পাবে। আর তোমার ছেলের উপর একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসনের হুকুম কার্যকর হবে। হে উনাইস! তুমি আগামীকাল প্রতূষ্যে ঐ মহিলার কাছে গমন করবে এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবে । যদি সে তা স্বীকার করে তবে তাকে রজম (পাথর নিক্ষেপ) করে হত্যা করবে।“ রাবী বলেনঃ (পরদিন মহিলাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে) সে তা স্বীকার করলো।অতঃপর তিনি তাকে (মহিলাকে) পাথর মারলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, ওয়াকাত ২৩১৪, ২৩১৫; মুসলিম, হুদুদ ১৬৯৭, ১৬৯৮।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৩৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৩০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2357)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْحَقَ بْنِ يَسَارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ بْنِ نَصْرِ بْنِ دَهْرٍ الْأَسْلَمِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ فِيمَنْ رَجَمَهُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَعْنِي مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ فَلَمَّا وَجَدَ مَسَّ الْحِجَارَةِ جَزِعَ جَزَعًا شَدِيدًا قَالَ فَذَكَرْنَا ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَهَلَّا تَرَكْتُمُوهُ




২৩৫৭. নাসর ইবনু দাহর আল আসলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যারা তাকে পাথর মেরে হত্যা করেছিল- আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।

আবূ মুহাম্মদ বলেন, ‘তাকে’ অর্থ মায়িয ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে। এরপর যখন তার শরীরে পাথর আঘাত হানতে লাগলো, তখন সে ভীষণ অস্থির হয়ে উঠলো।রাবী বলেন, তখন আমরা এ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানালে তিনি বললেন: “তাহলে তোমরা তাকে ছেড়ে দিলে না কেন?“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে আবী হাইছাম ইবনু নাসর রয়েছে। যার সম্পর্কে বুখারী (কাবীর, ৯/৭৯) ও ইবনু আবী হাতিম (জারহ ওয়া তা’দীল ৯/৪৫৩) কোনো সমালোচনা বা প্রশংসা করেননি। আর আমিও তার কোনো সমালোচনা বা প্রশংসা খুঁজে পাইনি। আর হাফিজ ইবনু হাজার, ‘তাক্বরীব’ এ তাকে ‘মাকবুল’ বলেছেন। তবে আল ইসাবা ৯/১৪৮ এ তার পিতা নাসর এর জাীবনীতে বলেন: ‘তার থেকে তার ছেলে আবীল হাইছাম সূত্রে মায়িয ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর ঘটনা সংক্রান্ত তার হাদীসটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন, যার সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।’ অন্যান্য রাবীগণ বিশ্বস্ত।

তাখরীজ: আহমাদ ৪/৪৩১; নাসাঈ, নং ৭২০৬; ইবনু আবী আসিম, আল আহাদ ওয়াল মাছানী ২৩৮১।









সুনান আদ-দারিমী (2358)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ دَاوُدَ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْطَلِقُوا بِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ فَارْجُمُوهُ فَانْطَلَقْنَا بِهِ إِلَى بَقِيعِ الْغَرْقَدِ فَوَاللَّهِ مَا أَوْثَقْنَاهُ وَلَا حَفَرْنَا لَهُ وَلَكِنْ قَامَ فَرَمَيْنَاهُ بِالْعِظَامِ وَالْخَزَفِ وَالْجَنْدَلِ




২৩৫৮. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা মায়িয ইবনু মালিককে নিয়ে গিয়ে রজম করো।“ তখন আমরা তখন তাকে ‘বাক্বীউল গারক্বাদ’ নামক স্থানে (কবরস্থানে) নিয়ে চললাম। আর আল্লাহর কসম! আমরা তাকে বাঁধিওনি, আবার তাকে (পূঁতে রাখার জন্য) কোনো কূপও খনন করিনি। বরং তার দাঁড়ানো অবস্থাতেই তাকে আমরা হাড়, মাটির ঢেলা ও পাথর নিক্ষেপ (করে হত্যা) করলাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, হুদুদ ১৬৯৪।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১২১৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৩৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2359)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا بَشِيرُ بْنُ الْمُهَاجِرِ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَهُ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ فَاعْتَرَفَ عِنْدَهُ بِالزِّنَا فَرَدَّهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ جَاءَ الرَّابِعَةَ فَاعْتَرَفَ فَأَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحُفِرَ لَهُ حُفْرَةٌ فَجُعِلَ فِيهَا إِلَى صَدْرِهِ وَأَمَرَ النَّاسَ أَنْ يَرْجُمُوهُ




২৩৫৯. বুরাইদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর নিকট বসেছিলাম। এমতাবস্থায় মায়িয ইবনু মালিক নামক একব্যক্তি আগমন করলো। অতঃপর সে তাঁর নিকট যিনার কথা স্বীকার করল। তখন তিনি তাকে তিনবার ফিরিয়ে দিলেন । এরপর সে চতুর্থবার তাঁর কাছে আগমন করলো এবং যিনার কথা স্বীকার করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি (রজম করার) নির্দেশ তার জন্য একটি গর্ত খনন করা হল এবং এর মধ্যে তাকে বুক পর্যন্ত পুঁতে দেওয়া হলো এবং এরপর তিনি লোকদের প্রতি তাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা (‘রজম’) করার নির্দেশ প্রদান করলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : বাশীর ইবনুল মুহাজির এর কারণে এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আহমাদ ৫/৩৪৭, ৩৪৮; মুসলিম, হুদুদ ১৬৯৫ (২৩); তাহাবী, মুশকিলিল আছার ১/১৮২; দারুকুতনী, ৩/৯২, ১২৭; বাইহাকী, উকালাহ ৬/৮৩; হুদুদ ৮/২২৬; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৪/২/২৫।









সুনান আদ-দারিমী (2360)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ الْيَهُودَ جَاءُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِرَجُلٍ مِنْهُمْ وَامْرَأَةٍ قَدْ زَنَيَا فَقَالَ كَيْفَ تَفْعَلُونَ بِمَنْ زَنَى مِنْكُمْ قَالُوا لَا نَجِدُ فِيهَا شَيْئًا فَقَالَ لَهُمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ كَذَبْتُمْ فِي التَّوْرَاةِ الرَّجْمُ فَأْتُوا بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ فَجَاءُوا بِالتَّوْرَاةِ فَوَضَعَ مِدْرَاسُهَا الَّذِي يَدْرُسُهَا مِنْهُمْ كَفَّهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ فَقَالَ مَا هَذِهِ فَلَمَّا رَأَوْا ذَلِكَ قَالُوا هِيَ آيَةُ الرَّجْمِ فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرُجِمَا قَرِيبًا مِنْ حَيْثُ تُوضَعُ الْجَنَائِزُ عِنْدَ الْمَسْجِدِ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَرَأَيْتُ صَاحِبَهَا يَجْنَأُ عَلَيْهَا يَقِيهَا الْحِجَارَةَ




২৩৬০. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একজন ইয়াহুদী তাদের মধ্যকার একজন পুরুষ এবং একজন মহিলাকে নিয়ে এলো, যারা উভয়েই ব্যভিচার করেছিল । তখন তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ “তোমাদের মধ্যে কেউ যিনা করলে তোমরা কী করো? তারা বলল, এতে (তাওরাতে) আমরা এ ব্যাপারে কিছুই পাইনা। তখন আব্দুল্লাহ ইবন সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছো; তাওরাতে রজমের নির্দেশ রয়েছে। তোমরা তাওরাত কিতাব আনয়ন কর ও তা পাঠ কর, যদি তোমরা এ ব্যাপারে সত্যবাদী হয়ে থাক। তারা তখন তাওরাত কিতাব নিয়ে এল এবং পাঠ করতে শুরু করল। (যখন ব্যভিচারের শাস্তি এর আয়াতের নিকটবর্তী হল) তখন যে যুবকটি তাওরাতঁ পাঠ করছিল সে আপন-হাত রজমের (পাথর নিক্ষেপের) আয়াত এর উপর রেখে দিল। তখন তাকে তিনি বললেন, এটা কী? যখন তারা দেখতে তা দেখতে পেলো, তখন তিনি বললেন, ওটাই তো রজমের আয়াত। সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে পাথর (রজম করার) নির্দেশ দিলেন। তখন মসজিদের নিকটবর্তী স্থানে যেখানে জানাযা রাখা হতো, সেখানে তাদের উভয়কে পাথর মারা হলো। আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে, আমি দেখতে পেলাম যে, পুরুষটি মহিলাটিকে পাথরের আঘাত থেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, জানায়িয ১৩২৯; মুসলিম, হুদুদ ১৬৯৯।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৩৪, ৪৪৩৫ তে।