সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ الْفَزَارِيُّ عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ الْأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزَاةٍ فَظَفِرَ بِالْمُشْرِكِينَ فَأَسْرَعَ النَّاسُ فِي الْقَتْلِ حَتَّى قَتَلُوا الذُّرِّيَّةَ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَا بَالُ أَقْوَامٍ ذَهَبَ بِهُمْ الْقَتْلُ حَتَّى قَتَلُوا الذُّرِّيَّةَ أَلَا لَا تُقْتَلَنَّ ذُرِّيَّةٌ ثَلَاثًا
২৫০১. আসওয়াদ ইবনু সারি’ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোন এক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন মুশরিকদেরকে আয়ত্তে পেয়ে তারা তাদের লোকদেরকে দ্রুত হত্যা করে চললো। এমনকি তারা এক শিশু কে হত্যা করে ফেললো। তখন এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছলে তিনি বললেন: “লোকদের কী হলো? তারা হত্যা করতে এতই আগ্রাসী হয়েছে যে, তারা শিশুকেও হত্যা করে ফেললো! সাবধান! কোনো শিশুকে হত্যা করবে না।“ একথা তিনি তিনিবার বললেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ:আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৫৮ তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَطِيَّةَ الْقُرَظِيِّ قَالَ عُرِضْنَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَئِذٍ فَمَنْ أَنْبَتَ الشَّعْرَ قُتِلَ وَمَنْ لَمْ يُنْبِتْ تُرِكَ فَكُنْتُ أَنَا مِمَّنْ لَمْ يُنْبِتْ الشَّعْرَ فَلَمْ يَقْتُلُونِي يَعْنِي يَوْمَ قُرَيْظَةَ
২৫০২. আতিয়্যা আল কুরাযী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সেদিন বনূ কুরায়যার বন্দীদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেশ করা হলো। (তারা পর্যবেক্ষণ করতো) যার (নাভির নিচের) চুল গজাত, তাকে হত্যা করা হতো, আর যার গজায় নি, তাকে ছেড়ে দেওয়া হতো। আর আমি ছিলাম তাদের একজন যাদের চুল গজায়নি। ফলে আমাকে হত্যা করা হয়নি। অর্থাৎ: বনী কুরাইযার দিনে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭৮০, ৪৭৮১, ৪৭৮২, ৪৭৮৩, ৪৭৮৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৪৯৯, ১৫০০, ১৫০১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯১২, ৯১৩ তে। তে। ((আহমাদ ৪/৩১০, ৩৮৩, ৫/৩১২; ইবনু আবী শাইবা ১২/৫৩৯-৫৪০; আব্দুর রাযযাক ১০/১৭৯ নং ১৮৭৪৩; আবু দাউদ, হুদূদ ৪৪০৪; তিরমিযী, সিয়ার ১৫৮৪; নাসাঈ, তালাক ৩৪৩০; ইবনু মাজাহ, হুদুদ ২৫৪১, ২৫৪২।– ফাতহুল মান্নান শারহু দারিমী হা/২৬২১ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ أَبِي مُوسَى عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فُكُّوا الْعَانِيَ وَأَطْعِمُوا الْجَائِعَ
২৫০৩. আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা বন্দীদেরকে আযাদ কর এবং ক্ষুধার্তকে আহার্য দাও।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ৩০৪৬; আতইমাহ ৫৩৭৩। ((আবূ দাউদ, জানাইয ৩১০৫; নাসাঈ, কুবরা নং ৮৬৬৬))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩২৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩২৪ তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَادَى رَجُلًا بِرَجُلَيْنِ
২৫০৪. ইমরান ইবনে হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জন লোকের বিনিময়ে একজন বন্দীকে মুক্তি দিয়েছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, নুযূর ১৬৪১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি , ৪৩৯২, ৪৮৫৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৫১ তে।
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ نَبِيٌّ قَبْلِي بُعِثْتُ إِلَى الْأَحْمَرِ وَالْأَسْوَدِ وَجُعِلَتْ لِيَ الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ وَلَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ قَبْلِي وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ شَهْرًا يُرْعَبُ مِنِّي الْعَدُوُّ مَسِيرَةَ شَهْرٍ وَقِيلَ لِي سَلْ تُعْطَهْ فَاخْتَبَأْتُ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لِأُمَّتِي وَهِيَ نَائِلَةٌ مِنْكُمْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى مَنْ لَمْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا
২৫০৫. আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পুর্বে আর কোনো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দান করা হয়নি।
(১) (অন্যান্য নবী প্রেরিত হতেন কেবল তাঁদের সম্প্রদায়ের জন্য;) আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে লাল-কালো (তথা সমগ্র) মানব জাতির জন্য।
(২) সমস্ত যমীনকে আমার জন্য পবিত্র ও সালাত আদায়ের (উপযোগী) স্থান বানানো হয়েছে।
(৩) আমার জন্য গানীমাতের মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি।
(৪) আমাকে একমাস দূরত্বের এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে, যার কারণে একমাসের দুরত্বেও শত্রু আমাদেরকে ভয় করবে।
(৫) এবং আমাকে বলা হয়েছে, ‘তুমি চাও, তোমাকে তা দেয়া হবে।’ ফলে আমার উম্মাতের শাফা’আতের জন্য আমার দু’আকে আমি (কিয়ামত দিবসের জন্য) গোপণ করে রেখেছি; ইনশা আল্লাহ তা তোমাদের মধ্যকার এমন সকলেই পাবে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনোকিছুকে শরীক করেনি।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৪৬২; আহমাদ ৫/১৪৮; বুখারী, কাবীর ৫/৪৫৫; ইবনু আবী শাইবা ১১/৪৩৫; হাকিম ২/৪২৪; বাযযার নং ৩৪৬১ যঈফ সনদে; তায়ালিসী ২/১২২ নং ২৪৪৪; বাইহাকী, দালাইল ৫/৪৭৩; আবূ দাউদ, সালাত ৪৮৯।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবূ হুরাইরা হতে যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৭৫ তে।
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَنَائِمَ حُنَيْنٍ بِالْجِعْرَانَةِ قَالَ عَبْد اللَّهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ فِي الْإِسْنَادِ
২৫০৬. আবী ওয়াইল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইন যুদ্ধের গণিমত বন্টন করেন জি’ইর্রানাহ’ নামক স্থানে। আবূ মুহাম্মদ বলেন, এ সনদে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রয়েছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ১/৪২৭, ৪৫৬।
এটি এমন একটি হাদীসের অংশ যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৯৯২, ৫০৭২, ৫২০৫, ৫২১৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৫৭৬ তে। আরও দেখুন, ফাতহুল বারী ৬/৫২১।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو عَنْ زَيْدٍ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أَبِيهِ قَالَ شَهِدْتُ فَتْحَ خَيْبَرَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَانْهَزَمَ الْمُشْرِكُونَ فَوَقَعْنَا فِي رِحَالِهِمْ فَابْتَدَرَ النَّاسُ مَا وَجَدُوا مِنْ جَزُورٍ قَالَ فَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ بِأَسْرَعَ مِنْ أَنْ فَارَتْ الْقُدُورُ فَأَمَرَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُكْفِئَتْ قَالَ ثُمَّ قَسَمَ بَيْنَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلَ لِكُلِّ عَشْرَةٍ شَاةً قَالَ وَكَانَ بَنُو فُلَانٍ مَعَهُ تِسْعَةً وَكُنْتُ وَحْدِي فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِمْ فَكُنَّا عَشْرَةً بَيْنَنَا شَاةٌ قَالَ عَبْد اللَّهِ بَلَغَنِي أَنَّ صَاحِبَكُمْ يَقُولُ عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ كَأَنَّهُ يَقُولُ إِنَّهُ لَمْ يَحْفَظْهُ
২৫০৭. আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খায়বার বিজয়ে হাযির ছিলাম। মুশরিকরা যখন পরাজিত হলো, তখন আমরা তাদের মালপত্রের উপর ঝাপিয়ে পড়লাম এবং লোকেরা যে যে ছাগল-ভেড়াটি-ই পেলো, তারা সেটিই দ্রুত কব্জা করে নিলো। আর তাদের রান্নার ডেকচিগুলি খুব দ্রুতবেগে টগবগ করে ফুটছিল। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলে সেগুলি উল্টে দেওয়া হলো।
তিনি বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে (গণীমত) বন্টন করে দিলেন; তখন আমাদের প্রত্যেক বারো জনের জন্য একটি করে ছাগল বা ভেড়া পাওয়া গেল।
তিনি বলেন, বনী ‘অমুক’ ছিল নয় জন আর আমি একাই ছিলাম। ফলে আমি তাদের দিকে চলে গেলে আমরা দশ জন হলাম এবং আমাদের দশজনের জন্য (বরাদ্দ) হলো একটি ছাগল বা ভেড়া।[1] আব্দুল্লাহ বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, আপনার সাথীরা কায়িস ইবনু মুসলিম থেকে বর্ণনা করতেন: সম্ভবত: তিনি বলতেন, তিনি এটি সংরক্ষণ (হিফজ) করেননি।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। যদিও দারিমী এটির এমন ত্রুটি বর্ণনা করেছেন, যার জন্য হাদীদের ত্রুটি বর্ণনা করা হয় না।
তাখরীজ: পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ زَيْدٍ هُوَ ابْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ قَالَ فَأُلِّفْتُ إِلَيْهِمْ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الصَّوَابُ عِنْدِي مَا قَالَ زَكَرِيَّا فِي الْإِسْنَادِ
২৫০৮. (অপর সনদে) আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
সেখানে তিনি বলেছেন, ‘আমি তাদের দিকে ফিরে গেলাম।’আবূ মুহাম্মদ বলেন, আমার নিকট সঠিক বর্ণনা হলো সেটি, যেটি যাকারিয়া (তার) সনদে বলেছেন।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৪/৩৪৮; তাবারাণী, আওসাত নং ৫০৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৩০ তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ حَدَّثَنِي قَيْسُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ قَالَ كَتَبَ نَجْدَةُ بَنُ عَامِرٍ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنْ أَشْيَاءَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ إِنَّكَ سَأَلْتَ عَنْ سَهْمِ ذِي الْقُرْبَى الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ وَإِنَّا كُنَّا نَرَى أَنَّ قَرَابَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُمْ فَأَبَى ذَلِكَ عَلَيْنَا قَوْمُنَا
২৫০৯. ইয়াযীদ ইবন হুরমুয রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নাজদা ইবন আমর হারুরী ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট পত্র লিখে কিছু বিষয় জানতে চাইলেন, (যার মধ্যে ছিল, যাবিল কুরবা- বা নিকটাত্নীয় কারা?) তখন তিনি ইয়াযিদকে লিখলেনঃ, ‘যাবিল কুরবা-বা নিকটাত্মীয়ের গণীমতের অংশ-যা আল্লাহ তাঁর কুরআনে উল্লেখ করেছেন-সে সন্মন্ধে তুমি আমাকে প্রশ্ন করেছ (যে, তারা কারা?) আমরা মনে করি, তারা হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটাত্মীয়রাই (অর্থাৎ আমরা)। কিন্তু আমাদের লোকেরা আমাদের ক্ষেত্রে সেটি অস্বীকার করেছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, জিহাদ ১৮১২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৫০, ২৫৫১, ২৬৩০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮২৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৪২ তে।
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْهَمَ يَوْمَ خَيْبَرَ لِلْفَارِسِ ثَلَاثَةَ أَسْهُمٍ وَلِلرَّاجِلِ سَهْمًا
২৫১০. আব্দুল্লাহ ইবন উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার যুদ্ধের দিন যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মধ্যে অশ্বারোহী সৈনিকের জন্য তিন অংশ এবং পদাতিক সৈনিকের জন্য এক অংশ বণ্টন করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৮৬৩; মুসলিম, জিহাদ ১৭৬২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮১০, ৪৮১০, ৪৮১২ তে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ نَحْوَهُ
২৫১১. (অপর সনদে) আব্দুল্লাহ ইবন উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]
[1] এটি পূর্বের হাদীসের পূনরাবৃত্তি।
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مَا شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَغْنَمًا إِلَّا قَسَمَ لِي إِلَّا يَوْمَ خَيْبَرَ فَإِنَّهَا كَانَتْ لِأَهْلِ الْحُدَيْبِيَةِ خَاصَّةً وَكَانَ أَبُو مُوسَى وَأَبُو هُرَيْرَةَ جَاءَا بَيْنَ الْحُدَيْبِيَةِ وَخَيْبَرَ
২৫১২. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গণিমাত বন্টনের সময় উপস্থিত থেকেছি, তখনই তিনি আমাকে তা থেকে অংশ দিয়েছেন, কেবলমাত্র খাইবারের দিন ব্যতীত। কেননা, তা ছিল হুদাইবিয়ার দিন উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত। আর আবূ মূসা ও আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হুদাইবিয়া ও খাইবারের যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে (ইসলামের ছায়াতলে) আসেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, আলী ইবনু যাইদ এর দুর্বলতার কারণে; আর তিনি হলেন ইবনু জুদ’আন।
তাখরীজ: ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ৩/১৬০-১৬১; আহমাদ ২/৫৩৫।
أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ خَلِيلٍ أَخْبَرَنَا حَفْصٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عُمَيْرٍ مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ قَالَ شَهِدْتُ خَيْبَرَ وَأَنَا عَبْدٌ مَمْلُوكٌ فَأَعْطَانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ خُرْثِيِّ الْمَتَاعِ وَأَعْطَانِي سَيْفًا فَقَالَ تَقَلَّدْ بِهَذَا
২৫১৩. আবূল লাহমের মাওলা বা আযাদকৃত গোলাম উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খায়বার যুদ্ধে মালিকানাধীন দাস হিসেবে হাযির ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য গনীমত সম্পদের থেকে সামান্য তৈজশপত্রের কিছু জিনিস দিয়েছিলেন এবং তিনি আমাকে একটি তলোয়ার দিয়ে বলেন, “এটি তার গলায় লটকে দাও।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৩১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৬৯ তে। ((আহমাদ ৫/২২৩; আবূ দাউদ, জিহাদ ২৭৩০; তিরমিযী, সিয়ার ১৫৫৭; নাসাঈ, কুবরা যেমন তুহফা’ ৮/২০৮ এ এসেছে; ইবনু মাজাহ ৩৮৫৫...।– ইবনু হিব্বান নং ৪৮৩১ এর টীকা হতে। - অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حُمْيَدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ عَنْ الْقَاسِمِ وَمَكْحُولٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ نَهَى أَنْ تُبَاعَ السِّهَامُ حَتَّى تُقْسَمَ
২৫১৪. আবী উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বন্টন না হওয়া পর্যন্ত গণীমাতের মাল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাঁ, মাকহুল আবী উমামাহকে দেখেছেন তবে, তাঁর থেকে কিছু শোনেননি। তবে এর মুতাবিয়াত রয়েছে।
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ৮/১৫৪ নং ৭৫৯৪।
সাঈদ ইবনু মানসুর নং ২৭৫৯ মাকহুল পর্যন্ত মাওকুফ হিসেবে সহীহ সনদে।
আরও দেখুন, এ হাদীসটি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৫৬৯ আমাদের তাহক্বীক্বে।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي مَرْزُوقٍ مَوْلًى لِتُجِيبَ قَالَ حَدَّثَنِي حَنَشٌ الصَّنْعَانِيُّ قَالَ غَزَوْنَا الْمَغْرِبَ وَعَلَيْنَا رُوَيْفِعُ بْنُ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيُّ فَافْتَتَحْنَا قَرْيَةً يُقَالُ لَهَا جَرْبَةُ فَقَامَ فِينَا رُوَيْفِعُ بْنُ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيُّ خَطِيبًا فَقَالَ إِنِّي لَا أَقُومُ فِيكُمْ إِلَّا مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فِينَا يَوْمَ خَيْبَرَ حِينَ افْتَتَحْنَاهَا فَقَالَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَأْتِيَنَّ شَيْئًا مِنْ السَّبْيِ حَتَّى يَسْتَبْرِئَهَا
২৫১৫. হানাশ সান’আনী বলেন, আমরা পশ্চিমাঞ্চল তথা মরক্কোতে যুদ্ধ করেছি আর সেখানে আমাদের উপর দায়িত্বশীল ছিলেন রুওয়াইফি‘ ইবন সাবিত আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু। আমরা জারবাহ’ নামক এক শহর জয় লাভ করলে রুওয়াইফি‘ ইবনু সাবিত আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের মধ্যে খুতবা প্রদানের উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হয়ে বলেন, আমি তোমাদের মাঝে দণ্ডায়মান হতাম না, যদি আমি আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একথা বলতে না শুনতাম। তিনি খায়বার (যুদ্ধের) দিন আমরা সেখানে বিজয় লাভ করলে তিনি আমাদের মাঝে দণ্ডায়মান হয়ে বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে, সে যেন কিছুতেই কোন (গর্ভবতী) যুদ্ধবন্দিনী নারীর সাথে সহবাস না করে, যতক্ষণ সে সন্তান প্রসব করে (পবিত্র না হয়)।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৫০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৭৫ তে। ((আবূ দাউদ: নিকাহ ২১৫৮-৫৯, জিহাদ ২৭০৮; তিরমিযী, নিকাহ ১১৩১।– ইবনু হিব্বান, তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আরনাউত্ব, হা/৪৮৫০ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ أَبِي عُمَرَ الشَّامِيِّ الْهَمْدَانِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى امْرَأَةً مُجِحَّةً يَعْنِي حُبْلَى عَلَى بَابِ فُسْطَاطٍ فَقَالَ لَعَلَّهُ قَدْ أَلَمَّ بِهَا قَالُوا نَعَمْ قَالَ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَلْعَنَهُ لَعْنَةً تَدْخُلُ مَعَهُ قَبْرَهُ كَيْفَ يُوَرِّثُهُ وَهُوَ لَا يَحِلُّ لَهُ وَكَيْفَ يَسْتَخْدِمُهُ وَهُوَ لَا يَحِلُّ لَهُ
২৫১৬. আবীদ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কোন এক যুদ্ধের পরে) তিনি একটি তাবুর প্রবেশপথে জনৈক সন্তানসম্ভবা দাসীকে (দাঁড়িয়ে থাকতে) দেখেন। তখন তিনি বলেন, “সম্ভবতঃ সে (এর মালিক) এর সাথে সহবাস করেছে। তাঁরা (উপস্থিত সাহাবীগণ) বলেন, হাঁ। তিনি বলেন, “আমি তার জন্য এমন লা’নত (বদদু’আ) করতে ইচ্ছা করেছি, যা তার সাথে কবরে প্রবেশ করবে। উক্ত সন্তানকে কিরূপে সে তার উত্তরাধিকারী বানাবে, অথচ সে তার জন্য বৈধ নয়? আর সে তাকে (সন্তানকে) কিরূপেই বা তার সেবক বানাবে, অথচ সে তার জন্য বৈধ নয়?“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবূ দাউদ তায়ালিসী, ১/২৩৯ ন ১১৭২; মুসলিম, নিকাহ ১৪৪১; আহমাদ ৬/৪৪৬; আবূ দাউদ নিকাহ ২১৫৬।
أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ قِرَاءَةً عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جُنَادَةَ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِىِّ أَنَّ أَبَا أَيُّوبَ كَانَ فِي جَيْشٍ فَفُرِّقَ بَيْنَ الصِّبْيَانِ وَبَيْنَ أُمَّهَاتِهِمْ فَرَآهُمْ يَبْكُونَ فَجَعَلَ يَرُدُّ الصَّبِيَّ إِلَى أُمِّهِ وَيَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الْوَالِدَةِ وَوَلَدِهَا فَرَّقَ اللَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْأَحِبَّاءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
২৫১৭. আবূ আব্দুর রহমান আল হুবুলী (রহঃ) হতে বর্ণিত, আবূ আইয়্যূব রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো এক সৈন্যদলে ছিলেন। সে সময় তিনি শিশুদেরকে তাদের মাতাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। তখন তিনি দেখলেন যে, তারা (শিশুরা) কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েছে। তখন তিনি শিশুকে তার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি মা ও তার সন্তানের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাবে আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার ও তার প্রিয়জনের মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে দিবেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৪১২-৪১৩; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৮৩; হাকিম ২/৫৫ হাসান সনদে; আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে সুলাইম আল আযুরী হতে দারুকুতনী ৩/৬৮ নং ২৫৭ অত্যন্ত দুর্বল সনদে। দেখুন, নাসবুর রায়াহ ৪/২৩-২৪; তালখীসুল হাবীর ৩/১৫-১৬।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيُّ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي حَازِمٍ عَنْ صَخْرِ بْنِ الْعَيْلَةِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ الْعِيلَةِ قَالَ أَخَذْتُ عَمَّةَ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ فَقَدِمْتُ بِهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَمَّتَهُ فَقَالَ يَا صَخْرُ إِنَّ الْقَوْمَ إِذَا أَسْلَمُوا أَحْرَزُوا أَمْوَالَهُمْ وَدِمَاءَهُمْ فَادْفَعْهَا إِلَيْهِ وَكَانَ مَاءٌ لِبَنِي سُلَيْمٍ فَأَسْلَمُوا فَأَتَوْهُ فَسَأَلُوهُ ذَلِكَ فَدَعَانِي فَقَالَ يَا صَخْرُ إِنَّ الْقَوْمَ إِذَا أَسْلَمُوا أَحْرَزُوا أَمْوَالَهُمْ وَدِمَاءَهُمْ فَادْفَعْهُ إِلَيْهِمْ فَدَفَعْتُهُ
২৫১৮. সাখর ইবনুল আইলাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মুগীরা ইবনু শু’বা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র ফুফুকে বন্দী করলাম। তখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলো। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে তাঁর ফুফু কে (ফেরত) চাইলেন। এরপর তিনি (আমাকে ডেকে) বললেন: “হে সাখর! যখন কোন কওম মুসলিম হয়, তখন তাদের রক্ত (জান)-মালের হিফাযত করবে। তুমি তাকে (মুগীরার ফুফুকে) তাঁর (মুগীরার) নিকট ফিরিয়ে দাও।“ আবার বনী সুলাইমের একটি পুকুর ছিল। অবশেষে বনী-সুলাইম ইসলাম গ্রহণ করার পর তারা তাঁর নিকট এসে এটি ফেরত চাইলো। এরপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ডেকে বললেন: “হে সাখর! যখন কোন কওম মুসলিম হয়, তখন তাদের রক্ত (জান)-মালের হিফাযত করবে। সুতরাং ঐ (কওমের পুকুর)-টি তাদেরকে ফিরিয়ে দাও।“ ফলে আমি তা ফেরত দিলাম।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ১৭১৫ (অনুবাদে ১৭১০) নং তে। ((ইবনু আবী শাইবা, ১২/৩১১; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৬/১৯; তাবারানী, কাবীর ৪/৩১০-৩১১; ৮/২৯-৩০ নং ৭২৭৯, ৭২৮০; আবূ দাউদ, খারাজ ওয়াল ইমারাহ ৩০৬৭; বাইহাকী, সিয়ার ১/১১৪; ইবনু কাছীর, বিদা’আহ ৪/৩৪২; আহমাদ ৪/৩১০; ১৭১৬ নং হাদীসটিও দেখুন। আরও দেখুন, আদ দিরায়াহ ২/১২১-১২২; তালখীসুল হাবীর ৪/১১০, ১২০; আর আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৪৭ তে।’- ১৭১৫ (অনুবাদে ১৭১০) নং হতে।–অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابِنِ عُمَرَ قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَرِيَّةً فِيهَا ابْنُ عُمَرَ فَغَنِمُوا إِبِلًا كَثِيرَةً فَكَانَتْ سِهَامُهُمْ اثْنَيْ عَشَرَ بَعِيرًا أَوْ أَحَدَ عَشَرَ بَعِيرًا وَنُفِّلُوا بَعِيرًا بَعِيرًا
২৫১৯. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নাজদের দিকে) একটি সেনাদল পাঠালেন, যাদের মধ্যে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-ও ছিলেন। এ যুদ্ধে গনীমত হিসেবে তাঁরা বহু উট লাভ করেন। তাঁদের প্রত্যেকের ভাগে বারটি কিংবা এগারোটি করে উট পড়েছিল এবং তাঁদেরকে পুরস্কার হিসেবে আরো একটি করে উট দেয়া হয়েছিল।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।
তাখরীজ: মালিক, জিহাদ ১৫ সহীহ সনদে; বুখারী, ফারযিল খুমুস ৩১৩৪; মুসলিম জিহাদ ১৭৪৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮২৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৩২, ৪৮৩৩, ৪৮৩৪ তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ الْفَزَارِيُّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ أَبِي سَلَّامٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَغَارَ فِي أَرْضِ الْعَدُوِّ نَفَّلَ الرُّبُعَ وَإِذَا أَقْبَلَ رَاجِعًا وَكَلَّ النَّاسُ نَفَّلَ الثُّلُثَ
২৫২০. উবাদা ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো শত্রু রাজ্যে আক্রমণের প্রথম ভাগে একচতুর্থাংশ এবং প্রত্যাবর্তনকালীন যুদ্ধের ক্ষেত্রে এক তৃতীয়াংশ নাফল বা অতিরিক্ত প্রদান করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৫৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৯৩ তে। ((তিরমিযী, সিয়ার ১৫৬১; নাসাঈ, কিসমুল ফাই ৭/১৩১; ইবনু মাজা:, জিহাদ ২৮৫২; আহমাদ ৫/৩১৯, ৩২২, ৩২৩ ।– ইবনু হিব্বান, তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আরনাউত্ব, হা/৪৮৫৫ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))