হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (2523)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ ابْنِ كَثِيرِ بْنِ أَفْلَحَ هُوَ عُمَرُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ بَارَزْتُ رَجُلًا فَقَتَلْتُهُ فَنَفَّلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَلَبَهُ




২৫২৩. আবী কাতাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একজন (কাফির) ব্যক্তির সাথে লড়াই করে তাকে হত্যা করলাম। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার মালামাল প্রদান করলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, ফারযিল খুমুস ৩১৪২; মুসলিম জিহাদ ১৭৫১।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮০৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪২৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2524)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ الْفَزَارِيُّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ أَبِي سَلَّامٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَكْرَهُ الْأَنْفَالَ وَيَقُولُ لِيَرُدَّ قَوِيُّ الْمُسْلِمِينَ عَلَى ضَعِيفِهِمْ




২৫২৪. উবাদাহ ইবনু সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অপছন্দ করতেন। আর তিনি বলতেন: “শক্তিশালী মুসলিমগণ দুর্বল মুসলিমকে গনীমতের মাল ফেরত দিবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: এর তাখরীজ ২৫২৫ (অনুবাদে ২৫১৭) নং এ গত হয়েছে।









সুনান আদ-দারিমী (2525)


وَبِهَذَا الْإِسْنَادِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ أَدُّوا الْخِيَاطَ وَالْمَخِيطَ وَإِيَّاكُمْ وَالْغُلُولَ فَإِنَّهُ عَارٌ عَلَى أَهْلِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ




২৫২৫. উবাদা ইবনুস সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (হুনায়নের যুদ্ধের দিন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “(হে লোকসকল! তোমাদের গনীমতের মালের) সুঁই ও সুতা - সবই তোমরা গনীমতের মালের মধ্যে জমা দাও। আর (গনীমতের মাল) আত্মসাৎ করা হতে আত্মরক্ষা করো। কেননা, কিয়ামতের দিন তা আত্মসাৎকারীর জন্য লজ্জা-অপমানের কারণ হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির অংশবিশেষ। এছাড়াও, বুখারী, কাবীর ৮/৫৭ তালিক হিসেবে।









সুনান আদ-দারিমী (2526)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْحَقَ عَنْ يَزِيدَ هُوَ ابْنُ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي مَرْزُوقٍ مَوْلًى لِتُجِيبَ قَالَ حَدَّثَنِي حَنَشٌ الصَّنْعَانِيُّ قَالَ غَزَوْنَا الْمَغْرِبَ وَعَلَيْنَا رُوَيْفِعُ بْنُ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيُّ فَافْتَتَحْنَا قَرْيَةً يُقَالُ لَهَا جَرْبَةُ فَقَامَ فِينَا رُوَيْفِعُ بْنُ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيُّ خَطِيبًا فَقَالَ إِنِّي لَا أَقُومُ فِيكُمْ إِلَّا مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فِينَا يَوْمَ خَيْبَرَ حِينَ افْتَتَحْنَاهَا مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَرْكَبَنَّ دَابَّةً مِنْ فَيْءِ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى إِذَا أَجْحَفَهَا أَوْ قَالَ أَعْجَفَهَا قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَنَا أَشُكُّ فِيهِ رَدَّهَا وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَلْبَسْ ثَوْبًا مِنْ فَيْءِ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى إِذَا أَخْلَقَهُ رَدَّهُ فِيهِ




২৫২৬. হানাশ সান’আনী বলেন, আমরা পশ্চিমাঞ্চল তথা মরক্কোতে যুদ্ধ করেছি আর সেখানে আমাদের উপর দায়িত্বশীল ছিলেন রুওয়াইফি‘ ইবন সাবিত আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু। আমরা জারবাহ’ নামক এক শহরটিতে বিজয় লাভ করলে রুওয়াইফি‘ ইবনু সাবিত আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের মধ্যে খুতবা প্রদানের উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হয়ে বলেন, আমি তোমাদের মাঝে দণ্ডায়মান হতাম না, যদি আমি আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একথা বলতে না শুনতাম। তিনি খায়বার (যুদ্ধের) দিন আমরা সেখানে বিজয় লাভ করলেতিনি আমাদের মাঝে দণ্ডায়মান হয়ে বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর এবং কিয়ামতের দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন মুসলিমদের গণীমতের মালের কোন বাহনের উপর সওযার না হয়, এমনকি সে তার ক্ষতি করে- আবূ মুহাম্মদ বলেন: এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ যে, অথবা তিনি বলেছেন- তা দূর্বল করে - ফেরত দেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর এবং কিয়ামতের দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন মুসলিমদের প্রাপ্ত গণীমতের মাল থেকে কোন কাপড় না পরে, এমনকি সে তা পুরাতন করে এতে ফেরত দেয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: এটি ২৫২0 (অনুবাদে ২৫১২) নং এ গত হয়েছে।









সুনান আদ-দারিমী (2527)


حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنِي أَبُو زُمَيْلٍ حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ قُتِلَ نَفَرٌ يَوْمَ خَيْبَرَ فَقَالُوا فُلَانٌ شَهِيدٌ حَتَّى ذَكَرُوا رَجُلًا فَقَالُوا فُلَانٌ شَهِيدٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلَّا إِنِّي رَأَيْتُهُ فِي النَّارِ فِي عَبَاءَةٍ أَوْ فِي بُرْدَةٍ غَلَّهَا قَالَ لِي يَا ابْنَ الْخَطَّابِ قُمْ فَنَادِ فِي النَّاسِ أَنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا الْمُؤْمِنُونَ فَقُمْتُ فَنَادَيْتُ فِي النَّاسِ




২৫২৭. উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বারের যুদ্ধে একটি দল নিহত হলে লোকেরা বলতে লাগলো, অমুক ব্যক্তি শহীদ হয়েছে। এভাবে তারা এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বললো, অমুক ব্যক্তি শহীদ হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, কখনো নয়। আমি তাকে (গনীমতের মাল থেকে) একটি আবা (এক ধরণের পোষাক) আত্মসাৎ করার কারণে আগুনে জ্বলতে দেখেছি।“ তিনি বললেন, হে ইবনু খাত্তাব, দাঁড়াও এবং লোকদের মাঝে ঘোষণা দাও যে, জান্নাতে মু’মিন ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করবে না।“ফলে আমি দাঁড়িয়ে লোকদের মাঝে তা ঘোষণা করতে লাগলাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: মুসলিম, ঈমান ১১৪। এছাড়াও, আবী আওয়ানাহ ১/৪৮।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৪৯, ৪৮৫৭ তে। ((তিরমিযী, সিয়ার ১৫৭৪; বাইহাকী, ৯/১০১। - আরনাউত্বের তাহক্বীক্ব ইবনু হিব্বান, নং ৪৮৪৯ এর টীকা হতে।-অনুবাদক)









সুনান আদ-দারিমী (2528)


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زَائِدَةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ وَجَدْتُمُوهُ غَلَّ فَاضْرِبُوهُ وَأَحْرِقُوا مَتَاعَهُ




২৫২৮. আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতা ‘উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “গণীমতের মাল আত্মসাৎকারী পেলে তোমরা তাকে মারধর করবে এবং তার সমস্ত মালামাল জ্বালিয়ে দেবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, সালিহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু যায়িদাহ’র দুর্বলতার কারণে।

তাখরীজ: আহমাদ ১/২২; আবূ দাউদ, জিহাদ ২৭১৩; তিরমিযী, হুদূদ ১৪৬১; ইবনু মানসূর নং ২৭২৯; ইবনু আবী শাইবা ১০/৫২ নং ৮৭৩৯ ও ১২/৪৯৬-৪৯৭ নং ১৫৩৮৯; ইবনু আদী, আল কামিল ৪/১৩৪১, ১৩৭৭।









সুনান আদ-দারিমী (2529)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ الْمُكْتِبُ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مَالِكٍ حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ الْمُزَنِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا نَهْبَ وَلَا إِغْلَالَ وَلَا إِسْلَالَ وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْإِسْلَالُ السَّرِقَةُ




২৫২৯. কাছির ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আওফ তার পিতার সূত্রে তার দাদা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “(মাল-সম্পদ) লুণ্ঠন করা যাবে না, আত্মসাৎও করা যাবে না, আবার গোপনে চুরি করাও যাবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো মাল-সম্পদ আত্মসাৎ করবে, তা নিয়েই সে কিয়ামত দিবসে উপস্থিত হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কাছীর এর কারণে।

তাখরীজ: ইবনু আদী, আল কামিল ৬/২০৮০; তাবারাণী, কাবীর ১৭/১৭-১৮ নং ১৬।









সুনান আদ-দারিমী (2530)


حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ هُوَ ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا عَيَّاشُ بْنُ عَبَّاسٍ عَنْ شِيَيْمِ بْنِ بَيْتَانَ عَنْ جُنَادَةَ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ قَالَ لَوْلَا أَنِّي سَمِعْتُ ابْنَ أَرْطَاةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا تُقْطَعُ الْأَيْدِي فِي الْغَزْوِ لَقَطَعْتُهَا




২৫৩০. জুনাদাহ ইবনু উমাইয়া হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যদি বুসর ইবনু আরতাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু কে একথা বলতে না শুনতাম যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “যুদ্ধে থাকাবস্থায় হাত কাটা যাবে না।“- তবে অবশ্যই আমি তা কেটে দিতাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: আহমাদ ৪/১৮১; তিরমিযী, হুদূদ ১৪৫০; আল কামিল ২/৪৩৯; ইবনুল কানি’ , মু’জামুস সাহাবাহ, নং ৮১; অপর সহীহ সনদে আবূ দাউদ, হুদূদ ৪৪০৮;

বাইহাকী, সিয়ার ৯/১০৪; েইবনুল আছীর, আসদুল গাবাহ ১/২১৪; ইবনুল কানি’ , মু’জামুস সাহাবাহ, নং ৮১। আরও দেখুন, নাসবুর রায়াহ ৩/৩৪৪; আল ইসাবাহ ১/২৪৩-২৪৪; মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ১৮১৬১।









সুনান আদ-দারিমী (2531)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَعْمَلَ عَامِلًا عَلَى الصَّدَقَةِ فَجَاءَهُ الْعَامِلُ حِينَ فَرَغَ مِنْ عَمَلِهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الَّذِي لَكُمْ وَهَذَا أُهْدِيَ لِي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهَلَّا قَعَدْتَ فِي بَيْتِ أَبِيكَ وَأَمِّكَ فَنَظَرْتَ أَيُهْدَى لَكَ أَمْ لَا ثُمَّ قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشِيَّةً بَعْدَ الصَّلَاةِ عَلَى الْمِنْبَرِ فَتَشَهَّدَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَمَا بَالُ الْعَامِلِ نَسْتَعْمِلُهُ فَيَأْتِينَا فَيَقُولُ هَذَا مِنْ عَمَلِكُمْ وَهَذَا أُهْدِيَ لِي فَهَلَّا قَعَدَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ فَيَنْظُرَ أَيُهْدَى لَهُ أَمْ لَا وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يَغُلُّ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنْهَا شَيْئًا إِلَّا جَاءَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَحْمِلُهُ عَلَى عُنُقِهِ إِنْ كَانَ بَعِيرًا جَاءَ بِهِ لَهُ رُغَاءٌ وَإِنْ كَانَتْ بَقَرَةً جَاءَ بِهَا لَهَا خُوَارٌ وَإِنْ كَانَتْ شَاةً جَاءَ بِهَا تَيْعِرُ فَقَدْ بَلَّغْتُ قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ ثُمَّ رَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ حَتَّى إِنَّا لَنَنْظُرُ إِلَى عُفْرَةِ إِبِطَيْهِ قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ وَقَدْ سَمِعَ ذَلِكَ مَعِي مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ فَسَلُوهُ




২৫৩১. আবী হুমায়দ সা#39;ঈদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে যাকাত আদায়ের জন্য কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ করেন। যখন সে কর্মচারী তার কাজ (যাকাত আদায়) শেষ করে ফিরে আসলো, তখন সে বললোঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! এগুলো আপনাদের জন্য এবং এগুলো আমাকে হাদিয়া স্বরূপ দেওয়া হয়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি তোমার পিতা- মাতার গৃহে বসে থেকে দেখতে যে, তোমাকে হাদিয়া দেওয়া হয় কি-না? “অত:পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিকালের সালাত শেষে মিম্বারের উপর দাঁড়ালেন এবং শাহাদতের বাক্য উচ্চারণ করে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা ও গুণগান আদায়ের পর বললেনঃ “অত:পর, আমি যাকে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করে পাঠাই, তার কী হলো যে, সে ফিরে এসে বলে, ‘এই মাল তোমাদের এবং এইগুলি আমাকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে?!’

সে তার পিতা-মাতার গৃহে বসে থেকে দেখলো না কেন যে, তাকে হাদিয়া দেওয়া হয় কিনা? যাঁর হাতে মুহাম্মদের জীবন, সেই মহান সত্তার কসম! তোমাদের কেউ (যাকাতের সম্পদ হতে) zwj;কোনো জিনিস আত্মসাৎ করলে অবশ্যই কিয়ামতের দিন সে তা তার কাঁধে বহন করে নিয়ে উপস্থিত হবে। যদি তা উট হয়, তবে সে উট গরগর করে আওয়ায করতে থাকবে। যদি গাভী হয়, তবে সেটি হাম্বা-হাম্বা ডাক দিতে দিতে আসবে। আর যদি বকরী হয়, তবে সেটিও ডাকতে থাকবে। আমি কি (তোমার হুকুম) পৌছে দিয়েছি ?“ আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এরপর তিনি তাঁর দু#39;হাত এত উপরে উঠালেন যে, এমনকি আমরা তাঁর উভয় বাহুমুলের লোমগুচ্ছ দেখতে পেলাম। আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যাইদ ইবনু ছাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও আমার সাথে এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছেন। ফলে তোমরা তাঁকে সেটি জিজ্ঞেস করে দেখ।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: এটি ১৭১১ (অনুবাদে ১৭০৬) নং এ গত হয়েছে। ((বুখারী, জুমু’আহ ৯২৫, হিয়াল (কুটকৌশল) ৬৯৭৯; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৩২; আবূ দাউদ, ইমারাহ ২৯৪৬; আহমাদ ৫/২২৭-, ২৮৫, ৪২৩।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি zwj;সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫১৫; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৬৩ তে।- অনুবাদ ১৭০৬ নং এর টীকা হতে। -অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2532)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا عُمَارَةُ بْنُ زَاذَانَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ مَلِكَ ذِي يَزَنٍ أَهْدَى إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُلَّةً أَخَذَهَا بِثَلَاثَةٍ وَثَلَاثِينَ بَعِيرًا أَوْ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ نَاقَةً فَقَبِلَهَا




২৫৩২. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, যুইয়াযান-এর শাসক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একটি পোশাক হাদীয়া দিয়েছিলেন যা তিনি ত্রেত্রিশটি উট কিংবা তেত্রিশটি উটনীর বিনিময়ে ক্রয় করেছিলেন। অত:পর তিনি সেটি গ্রহণ করেছিলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৪১৮ তে। এছাড়াও, তাহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার নং ৪৩৪৪, ৪৩৪৫। ((আবু দাউদ, লিবাস, ৪০৩৪; আহমাদ ৩/২২১।– ফাতহুল মান্নান হা/২৬৫৩ এর টীকা হতে।- অনুবাদক)









সুনান আদ-দারিমী (2533)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى عَنْ عَبَّاسِ بْنِ سَهْلٍ السَّاعِدِيِّ عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ قَالَ بَعَثَ صَاحِبُ أَيْلَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكِتَابٍ وَأَهْدَى لَهُ بَغْلَةً بَيْضَاءَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَهْدَى لَهُ بُرْدًا




২৫৩৩. আবূ হুমাইদ সা‘ঈদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়লা নগরীর শাসনকর্তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একটি চিঠি পাঠান এবং তাঁকে একটি সাদা খচ্চর ও চাদর হাদিয়া দেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (সেখানকার শাসনকর্তারূপে বহাল থাকার) লিখিত নির্দেশ দেন এবং তাকে একটি চাদর হাদিয়া দেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১৩৯২; বাইহাকী, কাসামুল ফাই ওয়াল গনীমাহ ৬/৩৭২; বুখারী, ফাযাইলূল মাদীনাহ ১৮৭২, মানাকিবুল আনসার ৩৭৯১, মাগাযী ৪৪২২, যাকাত ১৪৮১; আবূ নুয়াইম, দালাইলুল নবুওয়াত ৫/২৬৬ অতি সংক্ষেপে; আহমাদ ৫/৪২৪-৪২৫; ইবনু আবী শাইবা ১৪/৫৩৯-৫৪০ নং ১৮৮৫২।









সুনান আদ-দারিমী (2534)


أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نِيَارٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّا لَا نَسْتَعِينُ بِمُشْرِكٍ




২৫৩৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমরা কোন মুশরিকের সাহায্য গ্রহণ করব না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, জিহাদ ১৮১৭;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭২৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬২১ তে।

এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১২/৩৯৫ নং ১৫০০৯।









সুনান আদ-দারিমী (2535)


أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ عَنْ رَوْحٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ فُضَيْلٍ هُوَ ابْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نِيَارٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَطْوَلُ مِنْهُ




২৫৩৫. (অপর সনদে) আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে এর চেয়েও দীর্ঘ আকারে বর্ণিত আছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পূনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (2536)


أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَيْمُونٍ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ حَدَّثَنِي سَعْدُ بْنُ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ عَنْ أَبِيهِ سَمُرَةَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ قَالَ كَانَ فِي آخِرِ مَا تَكَلَّمَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَخْرِجُوا يَهُودَ الْحِجَازِ وَأَهْلَ نَجْرَانَ مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ




২৫৩৬. আবী উবাইদ ইবনু জাররাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সর্বশেষ যে বিষয়টি সম্পর্কে কথা বলেছেন, (তা হলো), তিনি বলেছেন: “ইয়াহুদীদেরকে হিজায হতে এবং নাজরাণের অধিবাসী (খৃস্টান)-দেরকে আরব উপদ্বীপ হতে বের করে দাও।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৮৭২; মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২০৯১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৬৩ তে। এছাড়াও, তাহাবী,

মুশকিলিল আছার নং ২৭৬০; বাইহাকী, জিযিয়া, ৯/২০৮; ইবনু আবী শাইবা ১২/৩৪৪-৩৪৫ নং ১৩০৩৭।









সুনান আদ-দারিমী (2537)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنِي أَبُو إِدْرِيسَ حَدَّثَنِي أَبُو ثَعْلَبَةَ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا بِأَرْضِ أَهْلِ الْكِتَابِ فَنَأْكُلُ فِي آنِيَتِهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ كُنْتَ بِأَرْضٍ كَمَا ذَكَرْتَ فَلَا تَأْكُلُوا فِي آنِيَتِهِمْ إِلَّا أَنْ لَا تَجِدُوا مِنْهَا بُدًّا فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مِنْهَا بُدًّا فَاغْسِلُوهَا ثُمَّ كُلُوا فِيهَا




২৫৩৭. আবূ সা‘লাবা আল খুশানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললামঃ হে আল্লাহর নবী! আমরা আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের এলাকায় বসবাস করি। আমরা তাদের পাত্রে খায়। উত্তরে তিনি বললেনঃ “তুমি যে এলাকার কথা উল্লেখ করলে, যদি তুমি সেই এলাকায় বসবাস কর, সেক্ষেত্রে তুমি নিরুপায় না হলে তাদের পাত্রে খাবে না। আর যদি নিরুপায় হয়ে পড়, তাহলে তাদের পাত্রগুলো ধুয়ে নিয়ে তাতে আহার কর।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, যাবাইহ ওয়াস সইদ ৫৪৭৮; মুসলিম, সইদ ওয়াস যাবাইহ ১৯৩০।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৭৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2538)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ هُوَ ابْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ دُلِّيَ جِرَابٌ مِنْ شَحْمٍ يَوْمَ خَيْبَرَ قَالَ فَأَتَيْتُهُ فَالْتَزَمْتُهُ قَالَ ثُمَّ قُلْتُ لَا أُعْطِي مِنْ هَذَا أَحَدًا الْيَوْمَ شَيْئًا فَالْتَفَتُّ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبْتَسِمُ إِلَيَّ قَالَ عَبْد اللَّهِ أَرْجُو أَنْ يَكُونَ حُمَيْدٌ سَمِعَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ




২৫৩৮. আবদুল্লাহ্ ইবন মুগাফফাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বের যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তি (দুর্গ অবরোধকালে দুর্গ হতে) চর্বিভর্তি একটা থলে নিচে ফেলে দিল। আমি সেটির নিকট এসে তা সংরক্ষণ করি এবং বলিঃ আজ এ হতে আমি কাউকে কিছু দেব না। রাবী বলেনঃ হঠাৎ দেখি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে চেয়ে মুচকি হাসছেন। (এতে আমি লজ্জিত হয়ে পড়লাম।)[1] আব্দুল্লাহ বলেন, আমি আশা করি যে, হুমাইদ আব্দুল্লাহ হতে শুনেছেন।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আবু দাউদ, জিহাদ ২৭০২; বাইহাকী, দালাইলুল নবুওয়াত ৪/২৪১; মুসলিম, জিহাদ ওয়াস সিয়ার ১৭৭২; বুখারী, ফারযুল খুমুস ৩১৫৩, , যাবাইহ ওয়াস সইদ ৫৫০৮; আহমাদ ৪/৮৬ ও ৫/৫৬; নাসাঈ, যহায়া ৭/২৩৬; ইবনু আদী, আল কামিল ২/৬৯২।









সুনান আদ-দারিমী (2539)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ بَجَالَةَ قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ لَمْ يَكُنْ عُمَرُ أَخَذَ الْجِزْيَةَ مِنْ الْمَجُوسِ حَتَّى شَهِدَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَهَا مِنْ مَجُوسِ هَجَرَ




২৫৩৯. বাজালাহ হতে আমর বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু অগ্নি-উপাসকদের থেকে জিযিয়া কর গ্রহণ করেননি, যতক্ষণ না আব্দুর রহমান ইবন আওফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এরূপ সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম #39;হাজার#39; নামক স্থানের অগ্নি-উপাসকদের থেকে জিযিয়া কর গ্রহণ করেছিলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, জিযিয়া, ৩১৫৬;

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৮৬০, ৮৬১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2540)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي النَّضْرِ أَنَّ أَبَا مُرَّةَ مَوْلَى عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أُمَّ هَانِئٍ بِنْتَ أَبِي طَالِبٍ تُحَدِّثُ أَنَّهَا ذَهَبَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفَتْحِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ زَعَمَ ابْنُ أُمِّي أَنَّهُ قَاتِلٌ رَجُلًا أَجَرْتُهُ فُلَانُ بْنُ هُبَيْرَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَجَرْنَا مَنْ أَجَرْتِ يَا أُمَّ هَانِئٍ




২৫৪০. উম্মু হানী বিনতে আবূ তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন। অত:পর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার সহোদর ভাই (‘আলী) হুবাইরার অমুক পুত্রকে হত্যা করার সংকল্প করেছে, যাকে আমি আশ্রয় দিয়েছি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উম্মু হানী! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছো, আমরাও তাকে আশ্রয় দিয়েছি।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: এটি ১৪৯৪ (অনুবাদে ১৪৮৯, ১৪৯০) নং এ গত হয়েছে। ((বুখারী ১১৭৮; মুসলিম ৭২১-অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2541)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ ابْنِ مُعَيْزٍ السَّعْدِيِّ قَالَ خَرَجْتُ أُسْفِرُ فَرَسًا لِي مِنْ السَّحَرِ فَمَرَرْتُ عَلَى مَسْجِدٍ مِنْ مَسَاجِدِ بَنِي حَنِيفَةَ فَسَمِعْتُهُمْ يَشْهَدُونَ أَنَّ مُسَيْلَمَةَ رَسُولُ اللَّهِ فَرَجَعْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَأَخْبَرْتُهُ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ الشُّرَطَ فَأَخَذُوهُمْ فَجِيءَ بِهِمْ إِلَيْهِ فَتَابَ الْقَوْمُ وَرَجَعُوا عَنْ قَوْلِهِمْ فَخَلَّى سَبِيلَهُمْ وَقَدَّمَ رَجُلًا مِنْهُمْ يُقَالُ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُوَاحَةَ فَضَرَبَ عُنُقَهُ فَقَالُوا لَهُ تَرَكْتَ الْقَوْمَ وَقَتَلْتَ هَذَا فَقَالَ إِنِّي كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسًا إِذْ دَخَلَ هَذَا وَرَجُلٌ وَافِدَيْنِ مِنْ عِنْدِ مُسَيْلَمَةَ فَقَالَ لَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَشْهَدَانِ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَا لَهُ تَشْهَدُ أَنْتَ أَنَّ مُسَيْلَمَةَ رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ لَوْ كُنْتُ قَاتِلًا وَفْدًا لَقَتَلْتُكُمَا فَلِذَلِكَ قَتَلْتُهُ وَأَمَرَ بِمَسْجِدِهِمْ فَهُدِمَ




২৫৪১. ইবনু মুয়াইয আস সা’দী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার একটি ঘোড়াকে গাছ-পালা থেকে (পাতা) খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে বের হলাম। এরপর বনী হানীফদের একটি মসজিদ অতিক্রম করছিলাম। তখন আমি তাদের বলতে শুনলাম, তারা সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, মুসালামাহ আল্লাহ্zwnj;র রাসূল। তখন আমি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর ফিরে এসে বিষয়টি তাকে জানালাম। তখন তিনি পুলিশ বাহিনী পাঠিয়ে তাদেরকে তার নিকট ধরে আনলেন। এরপর লোকেরা তাওবা করল এবং তাদের পুর্বের বক্তব্য হতে প্রত্যাবর্তন করল। ফলে তিনি তাদেরকে ছেড়ে দিলেন।

এরপর আব্দুল্লাহ ইবনু নুওয়াহাহ নামক তাদের এক লোকের নিকট এসে তিনি তাকে হত্যা করলেন। তখন তারা তাকে বললো, আপনি তো ঐ লোকগুলিকে ছেড়ে দিলেন কিন্তু একে মেরে ফেললেন যে? তখন তিনি বলেন আমি একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসে ছিলাম। তখন হঠাৎ এ ব্যক্তি ও মুসায়লামার দু’জন দূত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিটক প্রবেশ করলো। তখন দু‘জন দূতকে এ মর্মে জিজ্ঞাসা করেনঃ “তোমরা কি এ সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল?“

তখন তারা দু’জন জবাবে বলল, আমরা তো সাক্ষ্য দিই যে, মুসায়লামাহ আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি বললেন, “আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি। যদি আমি দূতদেরকে হত্যা করতাম, তবে অবশ্যই আমি তোমাদেরদু‘জনের শিরশ্ছেদ করতাম।“ (রাবী বলেন) এজন্যই আমি একে হত্যা করলাম। আর তিনি নির্দেশ দিলে তাদের মসজিদসমূহ ধ্বংস করে দেওয়া হলো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৫০৯৭, ৫২২১, ৫২৪৭, ৫২৬০, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৭৮, ৪৮৭৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬২৯ তে। ((আবূ দাউদ, জিহাদ ২৭৬১; আহমাদ ৩/৪৮৭-৪৮৮ সহীহ সনদে।– ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৫০৩ এর টীকা।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2542)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عُيَيْنَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَوْشَنٍ الْغَطَفَانِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَتَلَ مُعَاهَدًا فِي غَيْرِ كُنْهِهِ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ




২৫৪২. আবী বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি অসময়ে (তার চুক্তির মেয়াদের মধ্যে কিংবা যে সময়সীমার মধ্যে তাকে হত্যা করা জায়িয ছিল তা ব্যতীত) কোনো যিম্মি বা চুক্তিবদ্ধ (কাফির) ব্যক্তিকে হত্যা করবে, আল্লাহ তার উপর জান্নাতকে হারাম করে দেবেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৮১, ৪৮৮২, ৭৩৮২, ৭৩৮৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৩০, ১৫৩১, ১৫৩২ তে। ((আবূ দাউদ, জিহাদ ২৭৬০; আহমাদ ৫/৩৬, ৩৮, ৪৬, ৫০, ৫১; তায়ালিসী ৮৭৯; নাসাঈ, কাসামাহ ৮/২৪-২৫; হাকিম ২/১৪২; হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা বজায় রেখেছেন।–আল ইহসান, শাইখ আরনাউত্বের টীকা হা/৪৮৮১ হতে।–অনুবাদক))