সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ ابْنِ مُعَيْزٍ السَّعْدِيِّ قَالَ خَرَجْتُ أُسْفِرُ فَرَسًا لِي مِنْ السَّحَرِ فَمَرَرْتُ عَلَى مَسْجِدٍ مِنْ مَسَاجِدِ بَنِي حَنِيفَةَ فَسَمِعْتُهُمْ يَشْهَدُونَ أَنَّ مُسَيْلَمَةَ رَسُولُ اللَّهِ فَرَجَعْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَأَخْبَرْتُهُ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ الشُّرَطَ فَأَخَذُوهُمْ فَجِيءَ بِهِمْ إِلَيْهِ فَتَابَ الْقَوْمُ وَرَجَعُوا عَنْ قَوْلِهِمْ فَخَلَّى سَبِيلَهُمْ وَقَدَّمَ رَجُلًا مِنْهُمْ يُقَالُ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُوَاحَةَ فَضَرَبَ عُنُقَهُ فَقَالُوا لَهُ تَرَكْتَ الْقَوْمَ وَقَتَلْتَ هَذَا فَقَالَ إِنِّي كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسًا إِذْ دَخَلَ هَذَا وَرَجُلٌ وَافِدَيْنِ مِنْ عِنْدِ مُسَيْلَمَةَ فَقَالَ لَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَشْهَدَانِ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَا لَهُ تَشْهَدُ أَنْتَ أَنَّ مُسَيْلَمَةَ رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ لَوْ كُنْتُ قَاتِلًا وَفْدًا لَقَتَلْتُكُمَا فَلِذَلِكَ قَتَلْتُهُ وَأَمَرَ بِمَسْجِدِهِمْ فَهُدِمَ
২৫৪১. ইবনু মুয়াইয আস সা’দী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার একটি ঘোড়াকে গাছ-পালা থেকে (পাতা) খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে বের হলাম। এরপর বনী হানীফদের একটি মসজিদ অতিক্রম করছিলাম। তখন আমি তাদের বলতে শুনলাম, তারা সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, মুসালামাহ আল্লাহ্zwnj;র রাসূল। তখন আমি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর ফিরে এসে বিষয়টি তাকে জানালাম। তখন তিনি পুলিশ বাহিনী পাঠিয়ে তাদেরকে তার নিকট ধরে আনলেন। এরপর লোকেরা তাওবা করল এবং তাদের পুর্বের বক্তব্য হতে প্রত্যাবর্তন করল। ফলে তিনি তাদেরকে ছেড়ে দিলেন।
এরপর আব্দুল্লাহ ইবনু নুওয়াহাহ নামক তাদের এক লোকের নিকট এসে তিনি তাকে হত্যা করলেন। তখন তারা তাকে বললো, আপনি তো ঐ লোকগুলিকে ছেড়ে দিলেন কিন্তু একে মেরে ফেললেন যে? তখন তিনি বলেন আমি একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসে ছিলাম। তখন হঠাৎ এ ব্যক্তি ও মুসায়লামার দু’জন দূত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিটক প্রবেশ করলো। তখন দু‘জন দূতকে এ মর্মে জিজ্ঞাসা করেনঃ “তোমরা কি এ সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল?“
তখন তারা দু’জন জবাবে বলল, আমরা তো সাক্ষ্য দিই যে, মুসায়লামাহ আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি বললেন, “আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি। যদি আমি দূতদেরকে হত্যা করতাম, তবে অবশ্যই আমি তোমাদেরদু‘জনের শিরশ্ছেদ করতাম।“ (রাবী বলেন) এজন্যই আমি একে হত্যা করলাম। আর তিনি নির্দেশ দিলে তাদের মসজিদসমূহ ধ্বংস করে দেওয়া হলো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৫০৯৭, ৫২২১, ৫২৪৭, ৫২৬০, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৭৮, ৪৮৭৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬২৯ তে। ((আবূ দাউদ, জিহাদ ২৭৬১; আহমাদ ৩/৪৮৭-৪৮৮ সহীহ সনদে।– ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৫০৩ এর টীকা।–অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عُيَيْنَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَوْشَنٍ الْغَطَفَانِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَتَلَ مُعَاهَدًا فِي غَيْرِ كُنْهِهِ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ
২৫৪২. আবী বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি অসময়ে (তার চুক্তির মেয়াদের মধ্যে কিংবা যে সময়সীমার মধ্যে তাকে হত্যা করা জায়িয ছিল তা ব্যতীত) কোনো যিম্মি বা চুক্তিবদ্ধ (কাফির) ব্যক্তিকে হত্যা করবে, আল্লাহ তার উপর জান্নাতকে হারাম করে দেবেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৮১, ৪৮৮২, ৭৩৮২, ৭৩৮৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৩০, ১৫৩১, ১৫৩২ তে। ((আবূ দাউদ, জিহাদ ২৭৬০; আহমাদ ৫/৩৬, ৩৮, ৪৬, ৫০, ৫১; তায়ালিসী ৮৭৯; নাসাঈ, কাসামাহ ৮/২৪-২৫; হাকিম ২/১৪২; হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা বজায় রেখেছেন।–আল ইহসান, শাইখ আরনাউত্বের টীকা হা/৪৮৮১ হতে।–অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ كَانَتْ الْعَضْبَاءُ لِرَجُلٍ مِنْ بَنِي عُقَيْلٍ فَأُسِرَ وَأُخِذَتْ الْعَضْبَاءُ فَمَرَّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي وَثَاقٍ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ عَلَى مَا تَأْخُذُونِي وَتَأْخُذُونَ سَابِقَةَ الْحَاجِّ وَقَدْ أَسْلَمْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ قُلْتَهَا وَأَنْتَ تَمْلِكُ أَمْرَكَ أَفْلَحْتَ كُلَّ الْفَلَاحِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَأْخُذُكَ بِجَرِيرَةِ حُلَفَائِكَ وَكَانَتْ ثَقِيفٌ قَدْ أَسَرُوا رَجُلَيْنِ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى حِمَارٍ عَلَيْهِ قَطِيفَةٌ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي جَائِعٌ فَأَطْعِمْنِي وَظَمْآنُ فَاسْقِنِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذِهِ حَاجَتُكَ ثُمَّ إِنَّ الرَّجُلَ فُدِيَ بِرَجُلَيْنِ فَحَبَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعَضْبَاءَ لِرَحْلِهِ وَكَانَتْ مِنْ سَوَابِقِ الْحَاجِّ ثُمَّ إِنَّ الْمُشْرِكِينَ أَغَارُوا عَلَى سَرْحِ الْمَدِينَةِ فَذَهَبُوا بِهِ فِيهَا الْعَضْبَاءُ وَأَسَرُوا امْرَأَةً مِنْ الْمُسْلِمِينَ وَكَانُوا إِذَا نَزَلُوا قَالَ أَبُو مُحَمَّد ثُمَّ ذَكَرَ كَلِمَةً إِبِلُهُمْ فِي أَفْنِيَتِهِمْ فَلَمَّا كَانَ ذَاتَ لَيْلَةٍ قَامَتْ الْمَرْأَةُ وَقَدْ نُوِّمُوا فَجَعَلَتْ لَا تَضَعُ يَدَيْهَا عَلَى بَعِيرٍ إِلَّا رَغَا حَتَّى أَتَتْ الْعَضْبَاءَ فَأَتَتْ عَلَى نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَلُولٍ مُجَرَّسَةٍ فَرَكِبَتْهَا ثُمَّ تَوَجَّهَتْ قِبَلَ الْمَدِينَةِ وَنَذَرَتْ لَئِنْ اللَّهُ نَجَّاهَا لَتَنْحَرَنَّهَا قَالَ فَلَمَّا قَدِمَتْ عُرِفَتْ النَّاقَةُ فَقِيلَ نَاقَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَوْا بِهَا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَخْبَرَتْ الْمَرْأَةُ بِنَذْرِهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِئْسَمَا جَزَيْتِهَا أَوْ بِئْسَمَا جَزَتْهَا إِنْ اللَّهُ نَجَّاهَا لَتَنْحَرَنَّهَا لَا وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلَا فِيمَا لَا يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ
২৫৪৩. ইমরান ইবন হুসায়ন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আযবা উটনীটি ছিল বনূ #39;আকীলের#39; জনৈক ব্যক্তির। একবার সে ব্যক্তিকে বন্দী করা হলো এবং আযবাকে পাকড়াও করা হলো। অত:পর পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন। সে ছিলো বন্দী অবস্থায়।
তখন সে বলেঃ হে মুহাম্মদ! তুমি আমাকে এবং হাজীদের কাফিলার আগে গমনকারী (এ উট)-কে কেন পাকড়াও করলে? অথচ আমি তো ইসলাম গ্রহণ করেছি।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “যখন তোমার ব্যাপারটি তোমার অধিকারে ছিলো, তখন যদি তুমি এ কথাটি বলতে, তাহলে তুমি পূর্ণ কামিয়াব ও সফলকাম হতে।“
অত:পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “আমি তোমাকে তোমাদের মিত্র (গোত্র ছাকীফ)-এর অপরাধের কারণে গ্রেফতার করেছি।“
(এর কয়েকদিন পূর্বে) সাকীফ গোত্রের লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’জন সাহাবীকে বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিল। আর এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গাধার পিঠে চড়ে আসলেন এবং তাঁর গায়ে একটি চাদর জড়ানো ছিলো। এমন সময় সে (লোকটি) বলে উঠলো, হে মুহাম্মদ! আমি ক্ষুধার্ত। আমাকে খাবার দিন! আমি পিপাসার্ত, আমাকে পান করতে দিন!
(জবাবে) তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “এটাই হলো তোমার প্রয়োজন ও চাহিদা!“
পরে এক সময় (যে দু’জন মুসলিম বনী সাকীফের হাতে বন্দী হয়েছিল সেই) দু’জন লোকের বিনিময়ে এ ব্যক্তিকে ছেড়ে দিলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযবাকে বাহন হিসেবে রেখে দেন।
অত:পর একবার মুশরিকরা মদীনার উপকণ্ঠে হামলা চালিয়ে আযবা উটনীকে (চুরি করে) নিয়ে যায়। তারা ফিরে যাওয়ার সময় একজন মুসলিম নারীকে বন্দী করে নিয়ে যায়।
যখন তারা (কোথাও) অবতরণ করতো, তখন তাদের উটগুলিকে (রাতের বেলায়) তাদের আশপাশে - আবূ মুহাম্মদ বলেন, এরপর তিনি (বর্ণনাকারী) একটি বাক্য উচ্চারণ করল’[1]- (অর্থাৎ বিশ্রামের জন্য ছেড়ে রাখত)। এরপর তারা এক রাতে ঘুমিয়ে থাকার সময় সে মহিলা উঠে দাঁড়ায় (যাতে পালিয়ে যেতে পারে)। কিন্তু সে কোন উটের (কাছে গিয়ে) গায়ে হাত রাখলেই সে শোরগোল বাধিয়ে দিতে লাগলো। অবশেষে সে মহিলা আযবা উটনীর কাছে আসলো। (প্রকৃতপক্ষে) সে মহিলা একটি অনুগত এবং প্রশিক্ষিত (অভিজ্ঞ) উটের নিকটেই আসলো। তখন সে তার উপর সওয়ার হয়ে মদীনা অভিমুখে যাত্রা করলো এবং এরূপ মানত করলো যে, যদি আল্লাহ্ তাকে নাজাত দেন, তবে সে এটি (আযবা উটনী)-কে কুরবানী করবে।তিনি (রাবী) বলেন, অতঃপর সে মহিলা যখন মদীনায় পৌছলো, তখন সে উটনীটিকে চেনা গেলো; ফলে লোকেরা বলতে লাগলো যে, ‘(এটি তো) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উটনী। তখন তারা সেটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে এলো। এবং মহিলাটি তার মানত সম্পর্কে তাঁকে জানালো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “উটনীটিকে তুমি কতই না মন্দ প্রতিদান দিতে চেয়েছ! – কিংবা তুমি একে কতই না অসম্মান করলে! আল্লাহ্ তা#39;আলা কি এজন্য একে নাজাত দিয়েছেন যে, তুমি এটিকে কুরবানী করবে? জেনে রাখ, আল্লাহর নাফরমানীমুলক বিষয়ে এবং বনূ আদম যার মালিক নয়, এমন বিষয়েও যে মানত করা হয়, তা পূরণ করার প্রয়োজন নেই।“[2]
[1] (মুসলিমে রয়েছে-‘বিশ্রাম দিত’। এটি হলো সেই বাক্য’যা আবু মুহাম্মদ শুনতে পাননি।–মুহাক্বিক্বের টীকা)
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, নুযূর ১৬৪১। আর এর তাখরীজ গত হয়েছে ২৩৮২ (অনুবাদে ২৩৭৩) নং এ।
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ ثَابِتٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْمُغِيرَةِ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مُحَرَّرِ بْنِ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ لَمَّا بَعَثَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَادَى بِأَرْبَعٍ حَتَّى صَهَلَ صَوْتُهُ أَلَا لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا نَفْسٌ مُسْلِمَةٌ وَلَا يَحُجَّنَّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ وَلَا يَطُوفُ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ وَمَنْ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَهْدٌ فَإِنَّ أَجَلَهُ إِلَى أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَإِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ فَإِنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنْ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ
২৫৪৪. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু–কে প্রেরণ করেন তখন আমি ‘আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সঙ্গে ছিলাম। আর (কুরবানীর দিন মিনায়) তিনি চারটি বিষয়ের ঘোষণা দিতে থাকেন, এমনকি তাঁর কণ্ঠস্বর ভেঙ্গে যায়- (তা এই) যে, তোমরা জেনে রাখো, মুসলিম ব্যক্তি ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর এ বছরের পর থেকে আর কোন মুশরিক হজ্জ করতে পারবে না এবং কোন উলঙ্গ ব্যক্তিও (আল্লাহর) ঘরের তাওয়াফ করতে পারবে না। আর যার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চুক্তি (বা অঙ্গীকার) রয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত অবকাশ রয়েছে চার মাস পর্যন্ত। আর যখন চার মাস অতিক্রান্ত হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত হয়ে যাবেন এবং তাঁর রাসূলও।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ উত্তম।
তাখরীজ: বুখারী ৩৬৯; মুসলিম ১৩৪৭। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮২০ তে। এটি গত হয়েছে ১৪৭০ ও ১৯৬০ তে। এছাড়াও, তাহাবী, শারহু zwj;মুশকিলিল আছার নং ৩৫৯৩।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ إِسْرَائِيلَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ اعْتَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذِي الْقَعْدَةِ فَأَبَى أَهْلُ مَكَّةَ أَنْ يَدَعُوهُ أَنْ يَدْخُلَ مَكَّةَ حَتَّى قَاضَاهُمْ عَلَى أَنْ يُقِيمَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَلَمَّا كَتَبُوا هَذَا مَا قَاضَى عَلَيْهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا لَا نُقِرُّ بِهَذَا لَوْ نَعْلَمُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ مَا مَنَعْنَاكَ شَيْئًا وَلَكِنْ أَنْتَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ أَنَا رَسُولُ اللَّهِ وَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ لِعَلِيٍّ امْحُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ لَا وَاللَّهِ لَا أَمْحُوهُ أَبَدًا فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكِتَابَ وَلَيْسَ يُحْسِنُ يَكْتُبُ فَكَتَبَ مَكَانَ رَسُولِ اللَّهِ هَذَا مَا قَاضَى عَلَيْهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنْ لَا يَدْخُلَ مَكَّةَ بِسِلَاحٍ إِلَّا السَّيْفَ فِي الْقِرَابِ وَأَنْ لَا يُخْرِجَ مِنْ أَهْلِهَا أَحَدًا أَرَادَ أَنْ يَتْبَعَهُ وَلَا يَمْنَعَ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِهِ أَرَادَ أَنْ يُقِيمَ بِهَا فَلَمَّا دَخَلَهَا وَمَضَى الْأَجَلُ أَتَوْا عَلِيًّا فَقَالُوا قُلْ لِصَاحِبِكَ فَلْيَخْرُجْ عَنَّا فَقَدْ مَضَى الْأَجَلُ
২৫৪৫. বারা ইবনু আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলকাদ মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাহ’র উদ্দেশ্যে বের হলেন। কিন্তু মক্কাবাসীরা তাঁকে মক্কা প্রবেশের জন্য ছেড়ে দিতে অস্বীকার করল। অবশেষে এই শর্তে তাদের সঙ্গে ফয়সালা করলেন যে, তিনদিন সেখানে অবস্থান করবেন। সন্ধিপত্র লিখতে গিয়ে তারা (মুসলিমরা) লিখলেন, এ সন্ধিপত্র সম্পাদন করেছেন, ‘আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।’ তারা (মুশরিকরা) বলল, ‘আমরা তো এটি (তাঁর রিসালাত) স্বীকার করি না। আমরা যদি জানতাম যে, আপনি আল্লাহর রাসূল তাহলে তো আপনাকে আমরা বাধা-ই দিতাম না। তবে আপনি হলেন, ‘আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ।’ তিনি বললেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল এবং ‘আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ।’
অতঃপর তিনি আলীকে বললেন, ‘আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ’ শব্দটি মুছে দাও। তিনি বললেন, ‘না। আল্লাহর কসম, আমি তাঁকে কখনোই মুছব না।’ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন চুক্তিপত্রটি নিলেন এবং তিনি সুন্দর করে লিখলেন না। তিনি ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের’ স্থলে লিখলেন, ‘এ সন্ধিপত্র মুহাম্মদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ সম্পন্ন করেন: খাপবদ্ধ তরবারী ব্যতীত আর কোনো অস্ত্র নিয়ে তিনি মক্কায় প্রবেশ করবেন না। মক্কাবাসীদের কেউ তাঁর অনুসরণ করার উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে তিনি তাকে বের করে নিবেন না। আর তাঁর সঙ্গীদের কেউ মক্কায় থাকতে চাইলে তাঁকে বাধা দিবেন না।’ তিনি যখন মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়ে গেল, তখন তারা এসে আলীকে বলল, ‘তোমার সঙ্গীকে আমাদের এখান হতে বের হয়ে যেতে বল। কেননা নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, জাযাইস সাইদ, ১৮৪৪, ২৬৯৯; মুসলিম, জিহাদ ওয়াস সিয়ার ১৭৮৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ১৭০৩, ১৭১৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৬৯, ৪৮৭৩ তে।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ عَنْ الْحَجَّاجِ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ خَرَجَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبْدَانِ مِنْ الطَّائِفِ فَأَعْتَقَهُمَا أَحَدُهُمَا أَبُو بَكْرَةَ
২৫৪৬. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তায়িফ হতে দু’জন দাস চলে আসলে তিনি তাদের উভয়কে মুক্তি দেন, আর তাদের একজনকে মুক্ত করেন আবী বাকরাহ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ হাজ্জাজ ইবনু আরতাহ’র কারণে।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ২৫৬৪ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৭৩৫৯, ৭৩৬০, ৭৩৬৩, ৭৩৬৪ তে। এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১২/৫১১ নং ১৫৪৪৪, ১৪/৫০৯ নং ১৮৮০১; সাঈদ ইবনু মানসূর নং ২৮০৭; বাইহাকী, জিযইয়া ৯/২৩০।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ رُمِيَ يَوْمَ الْأَحْزَابِ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فَقَطَعُوا أَبْجَلَهُ فَحَسَمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّارِ فَانْتَفَخَتْ يَدُهُ فَنَزَفَهُ فَحَسَمَهُ أُخْرَى فَانْتَفَخَتْ يَدُهُ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ قَالَ اللَّهُمَّ لَا تُخْرِجْ نَفْسِي حَتَّى تُقِرَّ عَيْنِي مِنْ بَنِي قُرَيْظَةَ فَاسْتَمْسَكَ عِرْقُهُ فَمَا قَطَرَ قَطْرَةً حَتَّى نَزَلُوا عَلَى حُكْمِ سَعْدٍ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَحَكَمَ أَنْ تُقْتَلَ رِجَالُهُمْ وَتُسْتَحْيَى نِسَاؤُهُمْ وَذَرَارِيُّهُمْ يَسْتَعِينُ بِهِمْ الْمُسْلِمُونَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَبْتَ حُكْمَ اللَّهِ فِيهِمْ وَكَانُوا أَرْبَعَ مِائَةٍ فَلَمَّا فُرِغَ مِنْ قَتْلِهِمْ انْفَتَقَ عِرْقُهُ فَمَاتَ
২৫৪৭. জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহযাবের যুদ্ধের দিন সা‘দ ইবনু মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু তীরের আঘাতে আহত হয়েছিলেন। এতে তাঁর বাহুর প্রধান রগটি কেটে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগুনের সেক দিয়ে (তাঁর রক্তক্ষরণ বন্ধ করে) দেন। পরে তার হাত ফুলে যায়। পরে পুনরায় রক্তক্ষরণে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েন। আবার তিনি তাকে সেঁক দিয়ে (তার রক্তক্ষরণ বন্ধ করে) দেন। এরপর পুনরায় তার হাত ফুলে যায়। সা‘দ যখন এ অবস্থা দেখলেন, তখন দু‘আ করলেন, হে আল্লাহ ! (ইয়াহুদী গোত্র) বনী কুরাইযার ব্যাপারে আমার চক্ষু শীতল না করে তুমি আমার প্রাণ হরণ করো না। সঙ্গে সঙ্গে তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়। একটি ফোটাও আর তার রক্ত পড়েনি।
অবশেষে বনী কুরাইযা তার ফায়সালানুসারে (দুর্গ হতে) অবতরণ করে। এই বিষয়েই তার কাছে ফায়সালার জন্য লোক প্রেরণ করা হয়েছিল। তখন তিনি ফায়সালা দেন যে, এদের পুরুষদের হত্যা করা হবে এবং মেয়েদের ও সন্তানদের জীবিত রাখা হবে। তাদের মাধ্যমে মুসলিমরা কাজ নিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এদের বিষয়ে তুমি মহান আল্লাহর (ইচ্ছামাফিক) ফায়সালায় উপনীত হয়ে পেরেছ।তাদের (বনী কুরাইযার পুরুষদের) সংখ্যা ছিল চারশ’। এদের হত্যা করা শেষ হলে তার (সা‘দ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর) আঘাতপ্রাপ্ত রগটি পুনরায় ফেটে যায় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি মুসলিমে সংক্ষিপ্ত আকারে রয়েছে। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭৮৪ তে। এছাড়াও, তাহাবী, zwj;মুশকিলিল আছার নং ৩৫৭৯; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৩/২/৮; বাইহাকী, দালাইলুল নবুওয়াত ৪/২৮; ইবনু কাছীর, বিদা’আ ৪/১২২। ((আহমাদ ৩/৩৫০; তিরমিযী, সিয়ার ১৫৮২; নাসাঈ, কুবরা৫/২০৬-২০৭ নং ৮৬৭৯; মুসলিম, সালাম নং ২২০৮।– ফাতহুল মান্নান হা/২৬৬৮।–অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَدِيِّ بْنِ حَمْرَاءَ الزُّهْرِيَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى رَاحِلَتِهِ وَاقِفًا بِالْحَزْوَرَةِ يَقُولُ وَاللَّهِ إِنَّكِ لَخَيْرُ أَرْضِ اللَّهِ وَأَحَبُّ أَرْضِ اللَّهِ إِلَى اللَّهِ وَلَوْلَا أَنِّي أُخْرِجْتُ مِنْكِ مَا خَرَجْتُ
২৫৪৮. আব্দুল্লাহ ইবনু আদী ইবনু হামরা আয যুহুরী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সাওয়ারীর উপর ‘হাযওয়ারাহ’ নামক স্থানে (মদীনার একটি বাজার) দণ্ডায়মান অবস্থায় দেখেছি। আর তিনি বলছিলেন: “আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর যমীনসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আল্লাহর নিকট আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় ভূমি। আর যদি আমাকে তোমার থেকে বের করে না দেওয়া হতো, তবে আমি কখনোই (তোমার থেকে) বের হতাম না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭০৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০২৫ তে। ((তিরমিযী, মানাকিব ৩৯২৫; নাসাঈ, কুবরা৪২৫২, ৪২৫৩; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ৩১০৮; হাকিম ২/১৩৭...।–ফাতহুল মান্নান হা/২৬৬৯ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা হতে আমরা যর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৫৯৫৪ তে।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا
২৫৪৯. ‘আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমরা মৃতদের গালি দিও না। কারণ, তারা তো আপন কর্মফলের দিকে এগিয়ে গেছে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, জানাইয ১৩৯৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩০২১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৮৫ তে।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ فَتْحِ مَكَّةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ
২৫৫০. ইবনু ‘আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ (মক্কা) বিজয়ের পরে আর হিজরত নেই, রয়েছে কেবল জিহাদ এবং নিয়ত। সুতরাং যখন তোমাদেরকে জিহাদের জন্য ডাকা হবে, এ ডাকে তোমরা সাড়া দিবে।“ [1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, সাইদ ওয়ায যাবাইহ ১৮৩৪; মুসলিম, হাজ্জ ১৩৫৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫৯২, ৪৮৬৫ তে। এছাড়াও, বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ২৬৩৬।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বুখারী মুসলিমের সম্মিলিতভাবে বর্ণিত; আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৯৫২ তে।
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ حَرِيزِ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ ابْنِ أَبِي عَوْفٍ وَهُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هِنْدٍ الْبَجَلِيِّ وَكَانَ مِنْ السَّلَفِ قَالَ تَذَاكَرُوا الْهِجْرَةَ عِنْدَ مُعَاوِيَةَ وَهُوَ عَلَى سَرِيرِهِ فَقَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ حَتَّى تَنْقَطِعَ التَّوْبَةُ ثَلَاثًا وَلَا تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا
২৫৫১. আবী হিন্দ আল বাজালী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আর তিনি ছিলেন পূর্বসূরীদের (সালফে সলেহীনদের) একজন। তিনি বলেন, তারা মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সামনে জিহাদ সম্পর্কে পরস্পর আলোচনা করছিলেন, আর তখন তিনি ছিলেন বিছানাগত। তখন তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “তাওবার দরজা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হিজরত বন্ধ হবে না“– একথা তিনবার (বললেন)। “আর সূর্য যে পর্যন্ত পশ্চিম আকাশে উদিত না হয় সে পর্যন্ত তাওবার দরজা বন্ধ হবে না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও এর শাহিদ হাদীসগুলি উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৭১ তে। এছাড়াও, নাসাঈ, কুবরা নং ৮৭১১; তাহাবী, মুশিকিলিল আছার নং ২৬৩৪; তাাবারাণী, কাবীর ১৯/৩৮৭ নং ৯০৭; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৭। ((আহমাদ ৪/৯৯; আবু দাউদ, জিহাদ২৪৭৯।–ফাতহুল মান্নান নং ২৬৭২।–অনুবাদক))
এর সহীহ শাহিদ হাদীস রয়েছে ওয়াক্বদান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৬৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৭৯ তে।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْلَا الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَأً مِنْ الْأَنْصَارِ
২৫৫২. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যদি হিজরাত না থাকত, তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। তবে হদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, মানাকিবুল আনসার ৩৭৭৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩১৮, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭২৬৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২২৯২ তে।
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ أَمِيرِ عَشَرَةٍ إِلَّا يُؤْتَى بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَغْلُولَةٌ يَدَاهُ إِلَى عُنُقِهِ أَطْلَقَهُ الْحَقُّ أَوْ أَوْبَقَهُ
২৫৫৩. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দশজন ব্যক্তির উপর নিযুক্ত আমির বা শাসককেও কিয়ামত দিবসে এমন অবস্থায় নিয়ে আসা হবে যখন তার হাত তার কাঁধের সাথে শৃংখলিত থাকবে। সত্য বা ন্যায়পরায়নতা তাকে মুক্তি দিবে অথবা, তাকে বন্দী করে রাখবে।“ [1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। তবে হদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫৭০, ৬৬১৪, ৬৬২৯ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৭০৭৯ তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي عَمْرٌو قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو يُحَدِّثُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِيَّاكُمْ وَالظُّلْمَ فَإِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
২৫৫৪. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাক। কেননা, জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকারে রূপ নেবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৭৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৮০ তে।
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يُؤَيِّدُ هَذَا الدِّينَ بِالرَّجُلِ الْفَاجِرِ
২৫৫৫. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহ তা‘আলা এই দ্বীনকে পাপাচারী লোকের দ্বারা সাহায্য করবেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ৩০৬; মুসলিম, ঈমান ১১১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫১৯ তে। এছাড়াও, আবূ আওয়ানা ১/৪৬; তাবারাণী, সগীর ১/১২১; বাইহাকী, দালাইলুন নুবুওয়াত ৪/২৫৩।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ حَدَّثَنِي أَزْهَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَرَازِيُّ عَنْ أَبِي عَامِرٍ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لُحَيٍّ الْهَوْزَنِيِّ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فِينَا فَقَالَ أَلَا إِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ افْتَرَقُوا عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَإِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ اثْنَتَانِ وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ قَالَ عَبْد اللَّهِ الْحَرَازُ قَبِيلَةٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ
২৫৫৬. মুআবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বলেনঃ “জেনে রাখ! তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে-কিতাব (ইয়াহুদী ও নাসারা)-গণ বাহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হয়েছে, আর এ মিল্লাতের লোকগণ অদূর ভবিষ্যতে তিহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে। বাহাত্তর ফিরকা হবে জাহান্নামী, আর এক ফিরকা হবে জান্নাতী; আর তারা ঐ জামাআতভূক্ত, যারা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাতের অনুসারী হবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৪/১০২; আবূ দাউদ, zwj;সুন্নাহ ৪৫৯৭; তাবারাণী, মুসনাদুশ শামিয়্যিন নং ১০০৫, ১০০৬; কাবীর ১৯/৩৭৬ নং ৮৮৪; হাকিম ১/১২৮।
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ الْجَعْدِ أَبِي عُثْمَانَ حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيُّ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَرْوِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ رَأَى مِنْ أَمِيرِهِ شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلْيَصْبِرْ فَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَحَدٍ يُفَارِقُ الْجَمَاعَةَ شِبْرًا فَيَمُوتُ إِلَّا مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً
২৫৫৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি স্বীয় আমীরের নিকট থেকে অপছন্দনীয় কিছু দেখবে সে যেন এতে ধৈর্যধারণ করে। কেননা, যে ব্যক্তি জামাআত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যু বরণ করবে, নিশ্চয়ই তার মৃত্যু হবে জাহিলি মৃত্যুর ন্যায়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, ফিতান ৭০৫৩; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৪৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৪৭ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, তাবারাণী, কাবীর ১২/১৬১ নং ১২৭৫৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৭৪৯৭; কিতালু আহলুল বাগী ৮/১৫৭; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ১৯/৪৭; আারও দেখুন, ইবনু আবী আসিম, আস সুন্নাহ নং ১১০১ ও ইরওয়াউল গালীল নং ২৪৫৩ ও সুনানি ওয়াল আসার নং ১৬৫২৪।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَلَّ عَلَيْنَا السِّلَاحَ فَلَيْسَ مِنَّا
২৫৫৮. আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের উপর অস্ত্র উত্তোলন করবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবূ আওয়ানা ১/৫৮; তাবারাণী, কাবীর ৭/১৬ নং ৬২৪২, ৬২৫১; আহমাদ ৪/৪৬, ৫৪; ইবনু আবী শাইবা ১০/১২১ নং ৮৯৭৯; মুসলিম, ঈমান, ৯৯;
বুখারী, কাবীর ৪/১৪৯; আরও দেখুন, নাসবুর রায়াহ ৪/৩৪৮ ও ফাতহুল বারী ১৩/২৪।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার হতে যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন; আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮২৭ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবূ মুসা হতে যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন; আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২৬১, ৭২৯২ তে।
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ كَانَ مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ يُحَدِّثُ عَنْ مُعَاوِيَةَ أَنَّهُ قَالَ وَهُوَ عِنْدَهُ فِي وَفْدٍ مِنْ قُرَيْشٍ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ فِي قُرَيْشٍ لَا يُعَادِيهِمْ أَحَدٌ إِلَّا كَبَّهُ اللَّهُ عَلَى وَجْهِهِ مَا أَقَامُوا الدِّينَ
২৫৫৯. মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একদা তাঁর নিকট কুরাইশ প্রতিনিধিগনের উপস্থিতিতে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, (খিলাফত ও) শাসন ক্ষমতা কুরাইশদের হাতেই থাকবে, যত দিন তারা দ্বীন কায়েমে লেগে থাকবে। এ বিষয়ে যে-ই তাদের সাথে শত্রুতা করবে আল্লাহ্ তাকে অধোঃমুখে নিক্ষেপ করবেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, মানাকিব ৩৫০০, আহকাম ৭১৩৯; বাইহাকী, কাসামাহ ৮/১৪১, দালাইলুন নুবুওয়াত ৫/৫২১; আহমাদ ৪/৯৪; তাবারাণী, কাবীর ৯/৩৩৮ নং ৭৮০; আহমাদ ৪/৪৬, ৫৪।
আরও দেখুন, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস নং ৫৫৮৯, আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস ৩৬৪৪, ৪০৩২, আবী বারযাহ’র হাদীস নং ৩৬৪৫ ও ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস ৫০২৪ আমরা যা একত্র করেছি এবং পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُرَيْشٌ وَالْأَنْصَارُ وَمُزَيْنَةُ وَجُهَيْنَةُ وَأَسْلَمُ وَغِفَارٌ وَأَشْجَعُ لَيْسَ لَهُمْ مَوْلًى دُونَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ
২৫৬০. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কুরাইশ, আনসার, মুযায়নাহ, জুহায়নাহ, আসলাম, গিফার এবং আশজা#39; গোত্রগুলোর জন্য আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ছাড়া অন্য কোন আপন জন নেই।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ। আর হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, মানাকিব ৩৫০৪, ৩৫১২,; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩৮৫৩; মুসলিম, ফাযাইলুস সাহাবাহ ২৫২০; ইবনু আবী শাইবা ১২/১৬২,১৯৭ নং ১২৪২০, ১২৫২৭; আহমাদ ২/২৯১, ৩৮৮, ৪৬৭; দাওলাবী, আল কুন্নী ২/১৭০; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১৪/২৭৭।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আব্দুর রহমান ইবনু আউফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, চাইলে টীকাসহ দেখুন মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮৬৭ তে।