হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (2823)


حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ جَعَلَ اللَّهُ الرَّحْمَةَ مِائَةَ جُزْءٍ فَأَمْسَكَ عِنْدَهُ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ وَأَنْزَلَ فِي الْأَرْضِ جُزْءًا وَاحِدًا فَمِنْ ذَلِكَ الْجُزْءِ يَتَرَاحَمُ الْخَلْقُ حَتَّى تَرْفَعَ الْفَرَسُ حَافِرَهَا عَنْ وَلَدِهَا خَشْيَةَ أَنْ تُصِيبَهُ




২৮২৩. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “আল্লাহ রহমতকে একশত ভাগে বিভক্ত করেছেন। তার মধ্যে নিরানব্বই ভাগ তিনি নিজের কাছে সংরক্ষিত রেখেছেন। আর পৃথিবীতে একভাগ পাঠিয়েছেন। ঐ এক ভাগ পাওয়ার কারণেই সৃষ্ট জগত পরস্পরের প্রতি দয়া করে। এমনকি ঘোড়া তার বাচ্চার উপর থেকে পা উঠিয়ে নেয় এই আশঙ্কায় যে, তা একে আঘাত করতে পারে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, রিকাক্ব ৬৪৬৯; মুসলিম, তাওবাহ ২৭৫২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৬৭২, ৬৫০৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬১৪৭, ৬১৪৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2824)


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا الْجَعْدُ أَبُو عُثْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيَّ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَرْوِيهِ عَنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَإِنَّ رَبَّكُمْ رَحِيمٌ مَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةً فَإِنْ عَمِلَهَا كُتِبَتْ عَشْرًا إِلَى سَبْعِ مِائَةٍ إِلَى أَضْعَافٍ كَثِيرَةٍ وَمَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةً فَإِنْ عَمِلَهَا كُتِبَتْ وَاحِدَةً أَوْ يَمْحُوهَا وَلَا يَهْلِكُ عَلَى اللَّهِ إِلَّا هَالِكٌ




২৮২৪. ইবনু ‘আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা হতে বর্ণনা করে বলেন যে, আল্লাহ্ দয়াবান। যে ব্যক্তি কোন সৎ কাজের ইচ্ছা করল, কিন্তু তা করল না, তার জন্য একটি পূর্ণ সাওয়াব লিখা হয়। আর যদি সে সেটি করে, তবে তার জন্য দশ গুণ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত এমন কি এর চেয়েও অধিক সাওযাব লিখে দেওয়া হয়। আর যে কোন মন্দ কাজের ইচ্ছা করে, কিন্তু তা সম্পাদন করে না, তার জন্য একটি পূর্ণ সাওয়াব লিখবেন। আর যদি সে মন্দ কাজের ইচ্ছা করে, এবং মন্দ কাজটি করেও ফেলে, তবে তার জন্য মাত্র একটা গুনাহ লিখা হয়, কিংবা তিনি সেটি ক্ষমা করে দেন। আর ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত আল্লাহর কারণে কেউ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ ১/৩৬০-৩৬১, ২৭৯; তাবারাণী, কাবীর ১২/১৬১ নং ১২৬৭০; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৯/৪১৫; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৬/২৯২; বুখারী, রিকাক্ব ৬৪৯১; মুসলিম, ঈমান ১৩১।









সুনান আদ-দারিমী (2825)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلُ يُحِبُّ الْقَوْمَ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَعْمَلَ مِثْلَ عَمَلِهِمْ قَالَ أَنْتَ يَا أَبَا ذَرٍّ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ قُلْتُ فَإِنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ قَالَ أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ




২৮২৫. আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এক ব্যক্তি কোন লোকদেরকে ভালবাসে, কিন্তু তাদের আমলের অনুরূপ আমল করতে পারে না। তখন তিনি বলেনঃ “হে আবূ যার! তুমি তাদের সাথী হবে, যাদের সাথে তুমি মহব্বত রাখবে। তখন আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি তো আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ “তুমি তাঁর সাথী হবে, যাকে তুমি ভালবাস।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৫০৬ তে।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে সাফওয়ান ইবনু আসাল আলমুরাদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৫০৭ তে।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৭৫৮, ২৭৭৭, ২৮৮৮, ৩২৮০ তে।

আর ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীসটিও বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৬৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2826)


أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ حَدَّثَنَا غَيْلَانُ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ مَعْدِي كَرِبَ عَنْ أَبِي ذَرٍّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْوِيهِ عَنْ رَبِّهِ قَالَ يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ مَا كَانَ فِيكَ ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ إِنْ تَلْقَانِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطَايَا لَقِيتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً بَعْدَ أَنْ لَا تُشْرِكَ بِي شَيْئًا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ إِنْ تُذْنِبْ حَتَّى يَبْلُغَ ذَنْبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ ثُمَّ تَسْتَغْفِرُنِي أَغْفِرْ لَكَ وَلَا أُبَالِي




২৮২৬. আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব্বের পক্ষ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: “হে আদম সন্তান, তুমি যতক্ষণ আমাকে ডাকবে ও আমার নিকট করুণার আশা করবে, আমি তোমাকে ক্ষমা করব, তুমি যা-ই কর না কেন। হে আদম সন্তান, যদি তোমার পাপ আসমান স্পর্শ করে, আর তুমি যদি আমার সাথে কোনোকিছুকে শরীক না করো, তবে আমিও সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার সাথে সাক্ষাত করব। হে আদম সন্তান, যদি তোমার পাপ আসমানের প্রান্ত স্পর্শ করে- এই পরিমাণ পাপও যদি তুমি করো, এরপরও তুমি আমার নিকট ইস্তিগফার কর বা ক্ষমা চাও আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, কোনো পরোয়া করব না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। শাহর ইবনু হাওশাব হাসানুল হাদীস।

তাখরীজ: আহমাদ ৫/১৬৭, ১৭২, ৫/১৪৮, ১৫৩, ১৮০ (সহীহ সনদে) ৫/১৫৪ (হাসান সনদে); মুসলিম (দু’আ ২৬৮৭) আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দাবলি: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ জালা শানূহু ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি একটি নেক কাজ করবে তার জন্য রয়েছে দশগুন পূরস্কার; আর আমি তাকে আরও বাড়িয়ে দেব । অ্যর যে ব্যক্তি একটি মন্দ কাজ করবে তার প্রতিফল সেই কাজের অনুরুপ কিংবা আমি তাকে ক্ষমা করে দেব । যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয় আমি তার দিকে একহাত এগিয়ে আসি । আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি একহাত অগ্রসর হয় আমি তার দিকে এক গজ এগিয়ে আসি । যে ব্যক্তি আমার কাছে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দৌড়িয়ে আসি । যে ব্যক্তি আমার কাছে পৃথিবী সমান গোনাহ করে এবং আমার সংগে কাউকে শরীক করেনি আমি তার সংগে অনুরুপ তুল্য মাগফিরাত নিয়ে মিলিত হই।“

এর অপর শাহিদ রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে তিরমিযী, দাওয়াত ৩৫৩৪ জাইয়্যেদ সনদে।









সুনান আদ-দারিমী (2827)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ هُوَ ابْنُ عَمْرٍو قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ جَابِرٍ الْقَاضِي عَنْ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْبِرِّ وَالْإِثْمِ فَقَالَ الْبِرُّ حُسْنُ الْخُلُقِ وَالْإِثْمُ مَا حَاكَ فِي نَفْسِكَ وَكَرِهْتَ أَنْ يَعْلَمَهُ النَّاسُ




২৮২৭. নাওওয়াস ইবনু সাম’আন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নেক কাজ এবং পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ “নেক কর্ম হল সদাচার আর পাপ হল তোমার মনে যা দ্বিধা সৃষ্টি করে এবং মানুষ সেটা জেনে যাক, তা তুমি অপছন্দ কর।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ ইনকিতা’ বা বিচ্ছিন্নতার কারণে যঈফ। ((তবে হাদীসটি সহীহ যেমন তাখরীজে উল্লেখ করা হয়েছে।–অনুবাদক))

তাখরীজ: মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৫৫৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৭ তে। এছাড়াও, ইবনুল কানি’, zwj;মু’জামুস সাহাবাহ নং ১১৩৮; ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ২/৩৩৯।









সুনান আদ-দারিমী (2828)


أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ مَعْنِ بْنِ عِيسَى عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ بِنَحْوِهِ




২৮২৮. (অপর সনদে) নাওওয়াস ইবনু সাম’আন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। অত:পর তিনি এর অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (2829)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْتَ وَأَتْبِعْ السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةَ وَخَالِقْ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ




২৮২৯. আবূ যারর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তুমি যেখানে থাক না কেন, আল্লাহকে ভয় করবে; মন্দ কাজ হয়ে গেলে এর পরপরই কোন নেককাজ করবে; আর মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরন করবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত; তবে ইবনু আবী হাতিম, মারাসীল পৃ: ২১৪ তে বলেন, আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে মায়মূন বিন আবী শাবাবের বর্ণনা কি মুত্তাসিল (অবিচ্ছিন্ন) কি? তিনি বলেন, না।’

তাখরীজ: আহমাদ ৫/১৫৩, ১৫৮, ১৭৭; তাবারাণী, মাকারিমুল আখলাক নং ১৩, কাবীর ২০/১৪৫ নং ২৯৭, ২৯৮; ইবনু কুলাইব, আল মুসনাদ নং ১৩৬৭ (কুলাইব); আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৪/৩৭৮; তিরমিযী, বিরর ওয়াস সুলহ ১৯৮৮; হাকিম ১/৫৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ৬/২৪৬ নং ৮০২৩, ৮০২৪, ৮০২৬; কুযায়ী, মুসনাদুশ শিহাব ১৩৭৯ নং ৬৫২। তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।’ হাকিম বলেন, এ হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ, যদিও তারা এটি বর্ণনা করেননি।’ আর যাহাবীও তাকে সমর্থন করেছেন। তবে এর অবস্থা তাঁরা দুজন যেমন বলেছেন তেমন নয়।

((এখানে মুহাক্কিক্ব রাবী হাবীব ইবনু আবী ছাবিত ও অপর কিছু সনদের উল্লেখ করে এর রাবী সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের দুর্বল, মুনকার আখ্যা দেওয়া ও মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে অপর একটি শাহিদ হাদীস উল্লেখ করে এর দুর্বলতার লম্বা আলোচনা করেছেন। পরিশেষে তিনি একে মুরসাল বলে আখ্যায়িত করেছেন।-অনুবাদক))

এর কয়েকটি শাহিদ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং১৯২২ তে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (2830)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ هُوَ ابْنُ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ عَنْ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا




২৮৩০. আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মুমিনদের মাঝে ঈমানে সেই পরিপূর্ণ, তাদের মাঝে যার চরিত্র সুন্দরতম।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, মুহাম্মদ ইবনু ইজলান এর কারণে।

তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭৯; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং১৯২৬ তে। ((তিরযিমী, রিদা’আ ১১৬২; আবূ দাউদ, সুন্নাহ ৪৬৮২-অনুবাদক।))

সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৮/৫১৬ নং ৫৩৭৩।

আমাদের বক্তব্য: এর অনেক গুলি শাহিদ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, আবী দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯২০, ১৯২১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৯৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2831)


حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ هُوَ ابْنُ سَلَمَةَ عَنْ يُونُسَ وَحُمَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ وَيُعْطِي عَلَيْهِ مَا لَا يُعْطِي عَلَى الْعُنْفِ




২৮৩১. আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “আল্লাহ হলেন রফীক (কোমল-দয়াদ্র), তিনি নম্রতা পছন্দ করেন। তিনি নম্র-দয়ালু লোকদেরকে যা দান করেন, কঠোর আচরণকারীকে তদ্রূপ দান করেন না।“[1]

[1]তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আব্দ ইবনু হুমাইদ নং ৫০৪; ইবনু আবী শাইবা ৮/৫১২ নং ৫৩৬৩; আহমাদ ৪/৮৭; আবূ দাউদ, আদাব ৪৮০৭; বুখারী, আদাবুল মুফরাদ নং ৪৭২।

এর শাহিদ রয়েছে পরবর্তী হাদীসটি এবং আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৪৯; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯১৪ তে।

এর অপর একটি শাহিদ আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৯০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2832)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الْأَمْرِ كُلِّهِ




২৮৩২. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিটি কাজে নম্রতা ও দয়ার্দ্রতা প্রদর্শন পছন্দ করেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, আদাব ৬০২৪; মুসলিম, সালাম ২১৬৫।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪২১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৪৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৫০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2833)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْكَرْمَانِيُّ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَذْهَبْتُ حَبِيبَتَيْهِ فَصَبَرَ وَاحْتَسَبَ لَمْ أَرْضَ لَهُ بِثَوَابٍ دُونَ الْجَنَّةِ




২৮৩৩. আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর রব থেকে) বলেন, “যার দুই প্রিয় বস্তু (চোখ) আমি নিয়ে নেই, আর সে যদি তাতে সবর করে এবং ছওয়াবের আশা রাখে, তবে এর বিনিময়ে তাকে জান্নাত প্রদান ছাড়া আর কিছুতে আমি সন্তুষ্ট হব না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ ২/২৬৫; তিরমিযী, যুহদ ২৪০১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহহি ইবনু হিব্বান নং ২৯৩২।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বুখারী,মারদআ ৫৬৫৩ তে। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৭১১, ৪২১১, ৪২৮৫ তে।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৬৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৯৩০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭০৫ ও মু’জামুশ শুয়ূখ লি আবী ইয়ালা নং ৩৩১, ৩৩৫ তে।

এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইরবায ইবনু সারিয়াহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৯৩১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭০৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2834)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَشْهَبِ عَنْ الْحَسَنِ أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ زِيَادٍ عَادَ مَعْقِلَ بْنَ يَسَارٍ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ فَقَالَ لَهُ مَعْقِلٌ إِنِّي مُحَدِّثُكَ بِحَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ عَلِمْتُ أَنَّ بِي حَيَاةً مَا حَدَّثْتُكَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْتَرْعِيهِ اللَّهُ رَعِيَّةً يَمُوتُ يَوْمَ يَمُوتُ وَهُوَ غَاشٌّ لِرَعِيَّتِهِ إِلَّا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ




২৮৩৪. হাসান বাসরী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উবাইদুল্লাহ্ ইবনু যিয়াদ মা’কিল ইবনু ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর কাছে তার মৃত্যুকালীন রোগে সেবা-শুশ্রূষার জন্য এলেন। তখন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, আমি তোমাকে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করে শোনাব, যা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। আমি যদি জানতাম যে, আমি জীবিত থাকব, তবে আমি তোমাকে এ হাদীস বলতাম না। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ কোন বান্দাকে (মুসলিম জনসাধারণের) দায়িত্ব প্রদান করলেন এবং তার মৃত্যু হল এ অবস্থায় যে, সে ছিল তার দায়িত্বের খিয়ানাতকারী, তাহলে আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, আহকাম ৭১৫০; মুসলিম, ঈমান ১৪২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৯৫ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2835)


حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ قَالَ أَخْبَرَنِي زُرَيْقُ بْنُ حَيَّانَ مَوْلَى بَنِي فَزَارَةَ أَنَّهُ سَمِعَ مُسْلِمَ بْنَ قَرَظَةَ الْأَشْجَعِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ الْأَشْجَعِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ خِيَارُ أَئِمَّتِكُمْ الَّذِينَ تُحِبُّونَهُمْ وَيُحِبُّونَكُمْ وَتُصَلُّونَ عَلَيْهِمْ وَيُصَلُّونَ عَلَيْكُمْ وَشِرَارُ أَئِمَّتِكُمْ الَّذِينَ تُبْغِضُونَهُمْ وَيُبْغِضُونَكُمْ وَتَلْعَنُونَهُمْ وَيَلْعَنُونَكُمْ قُلْنَا أَفَلَا نُنَابِذُهُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ عِنْدَ ذَلِكَ قَالَ لَا مَا أَقَامُوا فِيكُمْ الصَّلَاةَ أَلَا مَنْ وُلِّيَ عَلَيْهِ وَالٍ فَرَآهُ يَأْتِي شَيْئًا مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ فَلْيَكْرَهْ مَا يَأْتِي مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلَا يَنْزِعَنَّ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ قَالَ ابْنُ جَابِرٍ فَقُلْتُ آللَّهِ يَا أَبَا الْمِقْدَامِ أَسَمِعْتَ هَذَا مِنْ مُسْلِمِ بْنِ قَرَظَةَ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ وَجَثَا عَلَى رُكْبَتَيْهِ فَقَالَ آللَّهِ لَسَمِعْتُ هَذَا مِنْ مُسْلِمِ بْنِ قَرَظَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ عَمِّي عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُهُ




২৮৩৫. আওফ ইবনু মালিক আল-আশজায়ী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “তোমাদের উত্তম শাসক হচ্ছে- যাদের তোমরা ভালোবাসো এবং তারাও তোমাদের ভালোবাসে। তোমরা তাদের জন্য দোয়া কর এবং তারাও তোমাদের জন্য দোয়া করে। তোমাদের দুষ্ট শাসক হচ্ছে, যাদের তোমরা ঘৃণা কর এবং তারাও তোমাদের ঘৃণা করে। তোমরা তাদের অভিশাপ দাও, আর তারাও তোমাদের অভিশাপ দেয়।“ আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এমন অবস্থার উদ্ভব হলে আমরা কি তাদের ক্ষমতাচ্যুত (বিরোধিতা) করব না? তিনি বললেনঃ “না, যতদিন তারা তোমাদের মাঝে সালাত কায়েম করে।

জেনে রাখ, যদি তোমাদের কেউ কারো ওপর শাসক নিযুক্ত হয় এবং সে তাকে আল্লাহর নাফরমানীতে লিপ্ত দেখে তাহলে সে যেন তাদের আল্লাহর নাফরমানীমূলক কাজের নিন্দা করে। কিন্তু সে যেন আনুগত্যের হাত (শপথ) তার থেকে তুলে না নেয়।“[1] ইবনে জাবির বলেন, আমি তাকে বললাম, “হে আবুল মিকদাম! আল্লাহর শপথ, আপনার এ হাদীসটি কি আপনি মুসলিম ইবনে কারাযাকে বর্ণনা করতে শুনেছেন? বর্ণনাকারী বলেন, আমার কথা শুনে তিনি হাঁটু গেড়ে কিবলার দিকে মুখ করে বসে আমাকে উত্তর দিলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি এ হাদীস মুসলিম ইবনু কারাযাকে বলতে শুনেছি, (তিনি বলেছেন) আমি আমার চাচা আউফ ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এটি বলতে শুনেছি।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, ইমারাহ ১৮৫৫।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫৮৯ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, তাবারাণী, কাবীর ১৮/৬২, ৬৩ নং ১১৫, ১১৬,১১৭; মুসনাদুশ শামিয়্যীন নং ৫৮৬, ৫৮৭, ৬৩৭, ১৯৩৮; বুখারী, কাবীর ৭/২৭০-২৭১।









সুনান আদ-দারিমী (2836)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَسْلَمَ الْعِجْلِيِّ عَنْ بِشْرِ بْنِ شَغَافٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الصُّورِ فَقَالَ قَرْنٌ يُنْفَخُ فِيهِ




২৮৩৬. আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শিঙ্গা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেনঃ “একটি শিং যাতে ফুঁত্কার দেওয়া হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩১২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৫৭০ তে। ((আবূ দাউদ, আস সুন্নাহ ৪৭৪২; তিরমিযী, সিফাতুল কিয়ামাহ ২৪৩০, তাফসীর ৩২৪৪; নাসাঈ, কুবরা ১১৩১২, ১১১৩৮১, ১১৪৫৬।– ফাতহুল মান্নান হা/২৯৬৪ এর টীকা।-অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2837)


حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَقْبِضُ اللَّهُ الْأَرْضَ وَيَطْوِي السَّمَوَاتِ بِيَمِينِهِ ثُمَّ يَقُولُ أَنَا الْمَلِكُ أَيْنَ مُلُوكُ الْأَرْضِ




২৮৩৭. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন পৃথিবী আপন মুষ্টিতে ধারণ করবেন এবং আসমান তাঁর ডান হাতে জড়িয়ে নিয়ে বলবেন: ‘আমিই একমাত্র অধিপতি। পৃথিবীর অধিপতিরা কোথায়?“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর সুরাতুল যুমার ৪৮১২; মুসলিম, সিফাতুল মুনাফিকীন ২৭৮৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৫০ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ২১৫-২১৬।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যা বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন, আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৫৫৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2838)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا الصَّعْقُ بْنُ حَزْنٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قِيلَ لَهُ مَا الْمَقَامُ الْمَحْمُودُ قَالَ ذَاكَ يَوْمٌ يَنْزِلُ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى كُرْسِيِّهِ يَئِطُّ كَمَا يَئِطُّ الرَّحْلُ الْجَدِيدُ مِنْ تَضَايُقِهِ بِهِ وَهُوَ كَسَعَةِ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَيُجَاءُ بِكُمْ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا فَيَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُكْسَى إِبْرَاهِيمُ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى اكْسُوا خَلِيلِي فَيُؤْتَى بِرَيْطَتَيْنِ بَيْضَاوَيْنِ مِنْ رِيَاطِ الْجَنَّةِ ثُمَّ أُكْسَى عَلَى إِثْرِهِ ثُمَّ أَقُومُ عَنْ يَمِينِ اللَّهِ مَقَامًا يَغْبِطُنِي الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ




২৮৩৮. ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, মাকামে মাহমূদ কী? উত্তরে তিনি বলেন: “এটা ঐ সময় যখন আল্লাহ তা’আলা তাঁর আপন ‘কুরসী’তে ‘নাযিল’ হবেন, তখন সংকীর্ণতার ফলে (আরোহী’র উপরের) নতুন জিন (গদী) যেমন (কড়মড়) শব্দ করতে থাকে, তেমনিভাবে তাঁর কারণে সেটি (কড়মড়) শব্দ করতে থাকবে। অথচ তার প্রশস্ততা হবে আসমান ও যমীনের মাঝের দূরত্বের সমান। আর তোমাদেরকে খালি পায়ে ও উলঙ্গ দেহে খতনাবিহীন অবস্থায় আনয়ন করা হবে। সর্বপ্রথম ইবরাহীম (আ.) কে কাপড় পরানো হবে। আল্লাহ তা’আলা বলবেন: ‘আমার খলীল (দোস্ত)-কে কাপড় পরিয়ে দাও।’ তখন জান্নাত থেকে আনিত সাদা রং এর দু’টি নরম-কোমল চাদর পরানো হবে। তারপর আমাকে পোশাক পরানো হবে। আমি তাঁর ডানদিকে এমন স্থানে দাঁড়াবো যে, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত লোক তা দেখে ঈর্ষা করবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। zwj;উছমান বিন উমাইর সম্পর্কে আহমাদ ও বুখারী বলেছেন: মুনকারুল হাদীস।’ ইবনু হিব্বান মাজরুহীন’ ২/৯৫ তে বলেন: সে হলো এমন ব্যক্তি যে এলোমেলো বর্ণনা করতো, এমনকি সে জানতে পারতো যে সে কী বর্ণনা করছে। ফলে তার বর্ণনা প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপণ করা জায়েয নয়...।“

তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ১০/৯৯ নং ১০০১৮; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৬/২৩৯; বুখারী, কাবীর ৪/১৩৭ তা’লীক হিসেবে; আবীশ শাইখ, আল আযিমাহ নং ২২৭; হাকিম ২/৩৬৪-৩৬৫; আহমাদ নং ৩৭৮৬ (নাশর: মাকতাবুল ইসলামী); তার সূত্রে ইবনু কাছীর, তাফসীর ৫/১০৪-১০৫।

“আর তোমাদেরকে খালি পায়ে ও উলঙ্গ দেহে খতনাবিহীন অবস্থায় আনয়ন করা হবে।“ এ অংশটুকুর শাহিদ সহীহ হাদীস রয়েছে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৯৬ তে, সেটিই হলো পরবর্তী হাদীসটি। এছাড়াও, পোশাক পরানোর অংশটুকুর শাহিদ রয়েছে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৬৬ তে। আরও দেখুন, ফাতহুল বারী, ১১/৩৮৪-৩৮৫।









সুনান আদ-দারিমী (2839)


حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَعَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ اللَّيْثِيُّ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُمَا أَنَّ النَّاسَ قَالُوا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ تُمَارُونَ فِي الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ لَيْسَ دُونَهُ سَحَابٌ قَالُوا لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَهَلْ تُمَارُونَ فِي الشَّمْسِ لَيْسَ دُونَهَا سَحَابٌ قَالُوا لَا قَالَ فَإِنَّكُمْ تَرَوْنَهُ كَذَلِكَ




২৮৩৯. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার কয়েকজন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “পূর্ণিমা রাতে চাঁদের নিচে কোনো মেঘের আড়াল না থাকে, তবে তা (দেখার ব্যাপারে) কি তোমাদের সন্দেহ থাকে? তারা বলল, না, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ সূর্যের নিচে যখন কোন মেঘ না থাকে তখন তা (দেখার ব্যাপারে) কি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে? তারা বলল, না! তিনি বললেনঃ “তোমরা অবশ্যই কিয়ামতের দিন আল্লাহকে ঐরূপ দেখতে পাবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, আযান ৮০৬; মুসলিম, ঈমান ১৮২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৬০, ৬৬৮৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪২৯, ৭৪৪৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২১২ তে।

আল্লাহ তা’আলাকে দেখার ব্যাপারে তিনটি মতামত রয়েছে:

১. সাহাবা, তাবিঈন ও মুসলিম আইম্মাগণের মতামত হলো এই যে, আল্লাহ তআলাকে আখিরাতে সচক্ষে দেখা যাবে। আর দুনিয়াতে চক্ষু দ্বারা মহান আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। তবে স্বপ্নে দেখতে পারে।

২. একদল লোক বলেন: দুনিয়া আখিরাতে কোথাওই আল্লাহ তা’আলাকে দেখা যাবে না।

৩. তৃতীয় দলের লোকের মত হলো, দুনিয়াতে এবং আখিরাতে উভয় স্থানেই আল্লাহকে দেখা যাবে।

মুলত: সাহাবাগণ, তাবিঈগণ ও মুসলিম আইম্মাগণই সঠিক (১ম মতটি)। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।









সুনান আদ-দারিমী (2840)


حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ النُّعْمَانِ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ مَحْشُورُونَ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا ثُمَّ قَرَأَ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ




২৮৪০. ইবনু ‘আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে এই বলে খুতবা দিতে শুনেছি: “হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমাদেরকে আল্লাহ তা’আলার সামনে একত্রিত করা হবে নগ্ন পদ, নগ্ন দেহ ও খাতনাবিহীন অবস্থায়।“ এ বলে তিনি তিলাওয়াত করলেন: “যেভাবে আমি সূচনা করেছিলাম, সেভাবেই পুনরায় সৃষ্টি করব; প্রতিশ্রুতি পালন আমার কর্তব্য, আমি এটা পালন করবই।“ (সূরা আম্বিয়া: ১০৪)[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, রিকাক ৬৫২৪, ৬৫২৫; মুসলিম, সিফাতুল জান্নাহ ২৮৬০।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৯৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩১৮, ৭৩২১, ৭৩৪৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৮৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2841)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْبَزَّازُ عَنْ يُونُسَ بْنِ بُكَيْرٍ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ إِسْحَقَ قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ يَسَارٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا جَمَعَ اللَّهُ الْعِبَادَ فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ نَادَى مُنَادٍ لِيَلْحَقْ كُلُّ قَوْمٍ بِمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ فَيَلْحَقُ كُلُّ قَوْمٍ بِمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ وَيَبْقَى النَّاسُ عَلَى حَالِهِمْ فَيَأْتِيهِمْ فَيَقُولُ مَا بَالُ النَّاسِ ذَهَبُوا وَأَنْتُمْ هَا هُنَا فَيَقُولُونَ نَنْتَظِرُ إِلَهَنَا فَيَقُولُ هَلْ تَعْرِفُونَهُ فَيَقُولُونَ إِذَا تَعَرَّفَ إِلَيْنَا عَرَفْنَاهُ فَيَكْشِفُ لَهُمْ عَنْ سَاقِهِ فَيَقَعُونَ سُجُودًا فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ يَبْقَى كُلُّ مُنَافِقٍ فَلَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَسْجُدَ ثُمَّ يَقُودُهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ




২৮৪১. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: মহান আল্লাহ যখন বান্দাদেরকে একত্রিত করবেন একটি ভূমিতে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: যারা যে জিনিসের ‘ইবাদাত করতো, তারা যেন সে জিনিসের কাছে গমন করে। এরপর যারা যার ইবাদত করতো, সকলেই তাদের উপাস্যের সঙ্গে যাবে। লোকেরা তাদের নিজ নিজ অবস্থার উপর থেকে যাবে। অবশেষে তিনি এসে বলবেন: লোকদের কী হলো, সকলেই চলে গেলো, আর তোমরা এখানে থেকে গেলে যে? তারা বলবে, আমরা অপেক্ষা করছি আমাদের রবের। তখন তিনি বলবেন: তোমরা কি তাঁকে চিনতে পারবে? উত্তরে তারা বলবে: তিনি যখন আমাদের কাছে পরিচয় দেবেন, তখন আমরা তাকে চিনতে পারব। এরপর তাদের সামনে তিনি তাঁর ‘সাক্ব’ (পায়ের নলা) উন্মুক্ত করবেন, তখন তারা সিজদায় পড়ে যাবে। এটিই হলো, আল্লাহর বাণীঃ “সেইদিন যেদিন ‘সাক্ব’ (পায়ের নিম্নাংশ) উন্মোচিত করা হবে,এবং তাদেরকে আহ্বান করা হবে সাজদা করার জন্য; কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবে না।“ (আল ক্বলম: ৪২) তবে অবশিষ্ট থেকে যাবে কেবল সকল মুনাফিক, কিন্তু তারা সিজদা করতে সক্ষম হবে না। এরপর লোকদেরকে জান্নাতের দিকে পথ প্রদর্শন করা হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, আযান ৮০৬; মুসলিম, ঈমান ১৮২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৬০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪২৯, ৭৪৪৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২১২ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2842)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا دُخَيْنٌ الْحَجْرِيُّ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا جَمَعَ اللَّهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ فَقَضَى بَيْنَهُمْ وَفَرَغَ مِنْ الْقَضَاءِ قَالَ الْمُؤْمِنُونَ قَدْ قَضَى بَيْنَنَا رَبُّنَا فَمَنْ يَشْفَعُ لَنَا إِلَى رَبِّنَا فَيَقُولُونَ انْطَلِقُوا إِلَى آدَمَ فَإِنَّ اللَّهَ خَلَقَهُ بِيَدِهِ وَكَلَّمَهُ فَيَأْتُونَهُ فَيَقُولُونَ قُمْ فَاشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّنَا فَيَقُولُ آدَمُ عَلَيْكُمْ بِنُوحٍ فَيَأْتُونَ نُوحًا فَيَدُلُّهُمْ عَلَى إِبْرَاهِيمَ فَيَأْتُونَ إِبْرَاهِيمَ فَيَدُلُّهُمْ عَلَى مُوسَى فَيَأْتُونَ مُوسَى فَيَدُلُّهُمْ عَلَى عِيسَى فَيَأْتُونَ عِيسَى فَيَقُولُ أَدُلُّكُمْ عَلَى النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ قَالَ فَيَأْتُونِي فَيَأْذَنُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِي أَنْ أَقُومَ إِلَيْهِ فَيَثُورُ مَجْلِسِي أَطْيَبَ رِيحٍ شَمَّهَا أَحَدٌ قَطُّ حَتَّى آتِيَ رَبِّي فَيُشَفِّعَنِي وَيَجْعَلَ لِي نُورًا مِنْ شَعْرِ رَأْسِي إِلَى ظُفْرِ قَدَمِي فَيَقُولُ الْكَافِرُونَ عِنْدَ ذَلِكَ لِإِبْلِيسَ قَدْ وَجَدَ الْمُؤْمِنُونَ مَنْ يَشْفَعُ لَهُمْ فَقُمْ أَنْتَ فَاشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ فَإِنَّكَ أَنْتَ أَضْلَلْتَنَا قَالَ فَيَقُومُ فَيَثُورُ مَجْلِسُهُ أَنْتَنَ رِيحٍ شَمَّهَا أَحَدٌ قَطُّ ثُمَّ يَعْظُمُ لِجَهَنَّمَ فَيَقُولُ عِنْدَ ذَلِكَ وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الْأَمْرُ إِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدْتُكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ إِلَى آخِرِ الْآيَةِ




২৮৪২. উক্ববা ইবনু আমির আল জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ পূর্বাপর সমস্ত মানুষকে একত্রিত করবেন। এরপর তিনি তাদের মাঝে ফায়সালা করবেন; যখন তিনি বিচার ফায়সালা শেষ করবেন, তখন মুমিনগণ বলবে, আমাদের রব তো আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিয়েছেন। আমাদের জন্য আমাদের প্রতিপালকের কাছে শাফাআত করবে কে? অত:পর তারা বলবেন, চলো, আদম (আ.) এর কাছে যাই, কেননা, তাঁকে আল্লাহ্ নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন ও তাঁর সাথে কথা বলেছেন। ফলে তারা সকলেই আদম (আ.)-এর কাছে এসে বলবে, আপনি উঠুন, আমাদের জন্য আমাদের প্রতিপালকের কাছে শাফাআত করুন।

আদম (আ.) বলবেনঃ তোমরা নূহ (আ.) এর কাছে চলে যাও। তখন তারা নূহ (আ.) এর কাছে আসবে। তখন তিনি তাদেরকে ইব্রাহীম (আ.)-কে দেখিয়ে দেবেন। তখন তারা ইবরাহীম (আ.) এর কাছে আসবে। তখন তিনি তাদেরকে মূসা (আ.)-কে দেখিয়ে দেবেন। তখন তারা মূসা (আ.) এর কাছে আসবে। তিনিও ঈসা (আ.)-কে দেখিয়ে দেবেন। এরপর তারা ঈসা (আ.) এর কাছে আসবে। তখন তিনি বলবেন: আমি তোমাদেরকে উম্মী নবীকে দেখিয়ে দিচ্ছি।“ তিনি বলেন, “তখন তারা সকলেই আমার কাছে আসবে। তখন আমার প্রতিপালক আমাকে তাঁর সামনে দাঁড়ানোর অনুমতি দান করবেন। তখন আমার মাজলিস সবচেয়ে সুগন্ধময় হয়ে উঠবে। যখন আমি আমার প্রতিপালকের নিকট যাব, তখন তিনি আমাকে শাফা’আত করার অনুমতি দেবেন এবং তিনি আমার মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত নূর বানিয়ে দেবেন।

এ সময় ইবলিসকে কাফির বলবে, ‘মুমিনগণ তাদের জন্য শাফা’আতকারীকে পেয়ে গেছে। ফলে zwj;তুমি উঠে আমার জন্য তোমার রবের নিকট শাফা’আত কর। কারণ, তুমিই তো আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিলে। তিনি বলেন, এরপর সে দাঁড়িয়ে যাবে, তখন তার মাজলিস ভীষণ দুর্গন্ধময় হয়ে উঠবে। তখন তাদের কান্না ব্যাপক আকার ধারণ করবে। ফলে তখন সে বলবে: যখন সবকিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সত্য প্রতিশ্রুতি, আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম; কিন্তু আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করি নাই। (সূরা ইবরাহীম: ২২)[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ দুর্বল, আব্দুর রহমান ইবনু যিয়াদ বিন আনউমের সম্পর্কে হাফিজ (ইবনু হাজার) বলেন: ‘তার সম্পর্কে সত্য হলো অধিক সংখ্যক মুনকার হাদীস বর্ণনা করার কারণে সে যঈফ।...“

তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ১৭/৩২০ নং ৮৮৭; নুয়াইম বিন হাম্মাদ, যাওয়াইদ আলা যুহদ লিইবনুল মুবারক নং ৩৭৪; তাবারী, তাফসীর ১৩/২০১; ইবনু কাছীর, তাফসীর ৫/৪০৯; সুয়ূতী, দুররে মানছুর ৪/৭৪ তে বলেন, এটি যঈফ সনদে ইবনু মুবারক তার যুহদে, ইবনু জারীর, ইবনু আবী হাতিম, তাবারাণী, ইবনু মারদুবিয়া, ইবনু আসাকীর বর্ণনা করেছেন।

((এর প্রথম অংশ তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট লোকদেরকে পাঠাবেন ঈসা আ: আর তিনি মানুষদের জন্য শাফা’আত করার অনুমতি লাভ করবেন- এ ঘটনা পর্যন্ত সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন, সহীহ বুখারী, রিক্বাক্ব ৬৫৬৫।–অনুবাদক))