হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (2841)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْبَزَّازُ عَنْ يُونُسَ بْنِ بُكَيْرٍ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ إِسْحَقَ قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ يَسَارٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا جَمَعَ اللَّهُ الْعِبَادَ فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ نَادَى مُنَادٍ لِيَلْحَقْ كُلُّ قَوْمٍ بِمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ فَيَلْحَقُ كُلُّ قَوْمٍ بِمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ وَيَبْقَى النَّاسُ عَلَى حَالِهِمْ فَيَأْتِيهِمْ فَيَقُولُ مَا بَالُ النَّاسِ ذَهَبُوا وَأَنْتُمْ هَا هُنَا فَيَقُولُونَ نَنْتَظِرُ إِلَهَنَا فَيَقُولُ هَلْ تَعْرِفُونَهُ فَيَقُولُونَ إِذَا تَعَرَّفَ إِلَيْنَا عَرَفْنَاهُ فَيَكْشِفُ لَهُمْ عَنْ سَاقِهِ فَيَقَعُونَ سُجُودًا فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ يَبْقَى كُلُّ مُنَافِقٍ فَلَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَسْجُدَ ثُمَّ يَقُودُهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ




২৮৪১. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: মহান আল্লাহ যখন বান্দাদেরকে একত্রিত করবেন একটি ভূমিতে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: যারা যে জিনিসের ‘ইবাদাত করতো, তারা যেন সে জিনিসের কাছে গমন করে। এরপর যারা যার ইবাদত করতো, সকলেই তাদের উপাস্যের সঙ্গে যাবে। লোকেরা তাদের নিজ নিজ অবস্থার উপর থেকে যাবে। অবশেষে তিনি এসে বলবেন: লোকদের কী হলো, সকলেই চলে গেলো, আর তোমরা এখানে থেকে গেলে যে? তারা বলবে, আমরা অপেক্ষা করছি আমাদের রবের। তখন তিনি বলবেন: তোমরা কি তাঁকে চিনতে পারবে? উত্তরে তারা বলবে: তিনি যখন আমাদের কাছে পরিচয় দেবেন, তখন আমরা তাকে চিনতে পারব। এরপর তাদের সামনে তিনি তাঁর ‘সাক্ব’ (পায়ের নলা) উন্মুক্ত করবেন, তখন তারা সিজদায় পড়ে যাবে। এটিই হলো, আল্লাহর বাণীঃ “সেইদিন যেদিন ‘সাক্ব’ (পায়ের নিম্নাংশ) উন্মোচিত করা হবে,এবং তাদেরকে আহ্বান করা হবে সাজদা করার জন্য; কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবে না।“ (আল ক্বলম: ৪২) তবে অবশিষ্ট থেকে যাবে কেবল সকল মুনাফিক, কিন্তু তারা সিজদা করতে সক্ষম হবে না। এরপর লোকদেরকে জান্নাতের দিকে পথ প্রদর্শন করা হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, আযান ৮০৬; মুসলিম, ঈমান ১৮২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৬০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪২৯, ৭৪৪৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২১২ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2842)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا دُخَيْنٌ الْحَجْرِيُّ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا جَمَعَ اللَّهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ فَقَضَى بَيْنَهُمْ وَفَرَغَ مِنْ الْقَضَاءِ قَالَ الْمُؤْمِنُونَ قَدْ قَضَى بَيْنَنَا رَبُّنَا فَمَنْ يَشْفَعُ لَنَا إِلَى رَبِّنَا فَيَقُولُونَ انْطَلِقُوا إِلَى آدَمَ فَإِنَّ اللَّهَ خَلَقَهُ بِيَدِهِ وَكَلَّمَهُ فَيَأْتُونَهُ فَيَقُولُونَ قُمْ فَاشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّنَا فَيَقُولُ آدَمُ عَلَيْكُمْ بِنُوحٍ فَيَأْتُونَ نُوحًا فَيَدُلُّهُمْ عَلَى إِبْرَاهِيمَ فَيَأْتُونَ إِبْرَاهِيمَ فَيَدُلُّهُمْ عَلَى مُوسَى فَيَأْتُونَ مُوسَى فَيَدُلُّهُمْ عَلَى عِيسَى فَيَأْتُونَ عِيسَى فَيَقُولُ أَدُلُّكُمْ عَلَى النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ قَالَ فَيَأْتُونِي فَيَأْذَنُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِي أَنْ أَقُومَ إِلَيْهِ فَيَثُورُ مَجْلِسِي أَطْيَبَ رِيحٍ شَمَّهَا أَحَدٌ قَطُّ حَتَّى آتِيَ رَبِّي فَيُشَفِّعَنِي وَيَجْعَلَ لِي نُورًا مِنْ شَعْرِ رَأْسِي إِلَى ظُفْرِ قَدَمِي فَيَقُولُ الْكَافِرُونَ عِنْدَ ذَلِكَ لِإِبْلِيسَ قَدْ وَجَدَ الْمُؤْمِنُونَ مَنْ يَشْفَعُ لَهُمْ فَقُمْ أَنْتَ فَاشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ فَإِنَّكَ أَنْتَ أَضْلَلْتَنَا قَالَ فَيَقُومُ فَيَثُورُ مَجْلِسُهُ أَنْتَنَ رِيحٍ شَمَّهَا أَحَدٌ قَطُّ ثُمَّ يَعْظُمُ لِجَهَنَّمَ فَيَقُولُ عِنْدَ ذَلِكَ وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الْأَمْرُ إِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدْتُكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ إِلَى آخِرِ الْآيَةِ




২৮৪২. উক্ববা ইবনু আমির আল জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ পূর্বাপর সমস্ত মানুষকে একত্রিত করবেন। এরপর তিনি তাদের মাঝে ফায়সালা করবেন; যখন তিনি বিচার ফায়সালা শেষ করবেন, তখন মুমিনগণ বলবে, আমাদের রব তো আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিয়েছেন। আমাদের জন্য আমাদের প্রতিপালকের কাছে শাফাআত করবে কে? অত:পর তারা বলবেন, চলো, আদম (আ.) এর কাছে যাই, কেননা, তাঁকে আল্লাহ্ নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন ও তাঁর সাথে কথা বলেছেন। ফলে তারা সকলেই আদম (আ.)-এর কাছে এসে বলবে, আপনি উঠুন, আমাদের জন্য আমাদের প্রতিপালকের কাছে শাফাআত করুন।

আদম (আ.) বলবেনঃ তোমরা নূহ (আ.) এর কাছে চলে যাও। তখন তারা নূহ (আ.) এর কাছে আসবে। তখন তিনি তাদেরকে ইব্রাহীম (আ.)-কে দেখিয়ে দেবেন। তখন তারা ইবরাহীম (আ.) এর কাছে আসবে। তখন তিনি তাদেরকে মূসা (আ.)-কে দেখিয়ে দেবেন। তখন তারা মূসা (আ.) এর কাছে আসবে। তিনিও ঈসা (আ.)-কে দেখিয়ে দেবেন। এরপর তারা ঈসা (আ.) এর কাছে আসবে। তখন তিনি বলবেন: আমি তোমাদেরকে উম্মী নবীকে দেখিয়ে দিচ্ছি।“ তিনি বলেন, “তখন তারা সকলেই আমার কাছে আসবে। তখন আমার প্রতিপালক আমাকে তাঁর সামনে দাঁড়ানোর অনুমতি দান করবেন। তখন আমার মাজলিস সবচেয়ে সুগন্ধময় হয়ে উঠবে। যখন আমি আমার প্রতিপালকের নিকট যাব, তখন তিনি আমাকে শাফা’আত করার অনুমতি দেবেন এবং তিনি আমার মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত নূর বানিয়ে দেবেন।

এ সময় ইবলিসকে কাফির বলবে, ‘মুমিনগণ তাদের জন্য শাফা’আতকারীকে পেয়ে গেছে। ফলে zwj;তুমি উঠে আমার জন্য তোমার রবের নিকট শাফা’আত কর। কারণ, তুমিই তো আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিলে। তিনি বলেন, এরপর সে দাঁড়িয়ে যাবে, তখন তার মাজলিস ভীষণ দুর্গন্ধময় হয়ে উঠবে। তখন তাদের কান্না ব্যাপক আকার ধারণ করবে। ফলে তখন সে বলবে: যখন সবকিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সত্য প্রতিশ্রুতি, আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম; কিন্তু আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করি নাই। (সূরা ইবরাহীম: ২২)[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ দুর্বল, আব্দুর রহমান ইবনু যিয়াদ বিন আনউমের সম্পর্কে হাফিজ (ইবনু হাজার) বলেন: ‘তার সম্পর্কে সত্য হলো অধিক সংখ্যক মুনকার হাদীস বর্ণনা করার কারণে সে যঈফ।...“

তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ১৭/৩২০ নং ৮৮৭; নুয়াইম বিন হাম্মাদ, যাওয়াইদ আলা যুহদ লিইবনুল মুবারক নং ৩৭৪; তাবারী, তাফসীর ১৩/২০১; ইবনু কাছীর, তাফসীর ৫/৪০৯; সুয়ূতী, দুররে মানছুর ৪/৭৪ তে বলেন, এটি যঈফ সনদে ইবনু মুবারক তার যুহদে, ইবনু জারীর, ইবনু আবী হাতিম, তাবারাণী, ইবনু মারদুবিয়া, ইবনু আসাকীর বর্ণনা করেছেন।

((এর প্রথম অংশ তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট লোকদেরকে পাঠাবেন ঈসা আ: আর তিনি মানুষদের জন্য শাফা’আত করার অনুমতি লাভ করবেন- এ ঘটনা পর্যন্ত সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন, সহীহ বুখারী, রিক্বাক্ব ৬৫৬৫।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2843)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةٌ وَأُرِيدُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى أَنْ أَخْتَبِئَ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لِأُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ




২৮৪৩. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “প্রত্যেক নবীর এমন একটি দু‘আ থাকে, (যা আল্লাহর নিকট কবুল হয়)। আর আমার ইচ্ছা, ইনশা আল্লাহু তা’আলা, আমি আমার সে দু‘আটি আখিরাতে আমার উম্মাতের শাফায়াতের জন্য গোপন করে রাখি।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, দা’ওয়াত ৬৩০৪; মুসলিম, ঈমান ১৯৮।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৪৬১ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2844)


حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي سُفْيَانَ بْنِ أَسِيدِ بْنِ جَارِيَةَ مِثْلَ ذَلِكَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ




২৮৪৪. (অপর সনদে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (2845)


حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ سَبْعُونَ أَلْفًا مِنْ أُمَّتِي بِغَيْرِ حِسَابٍ فَقَالَ عُكَّاشَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ فَدَعَا فَقَالَ آخَرُ ادْعُ اللَّهَ لِي فَقَالَ سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ




২৮৪৫. আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমার উম্মাতের মধ্য থেকে সত্তর হাযারের একটি দল বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ‘উক্কাশাহ (ইবনু মিহসান) বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর নিকট আমার জন্য দু‘আ করুন, যেন তিনি আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি দু‘আ করলেন। তারপর অপর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্যও আপনি আল্লাহর নিকট দু‘আ করুন। তিনি বললেনঃ “উক্কাশাহ এ ব্যাপারে তোমার অগ্রগামী হয়েছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, লিবাস ৫৮১১; মুসলিম, ঈমান ২১৬।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭২৪৪ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী আওয়ানা ১/১৪০।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস, জাবির, ইবনু আব্বাস ও ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে। এ সকল হাদীসগুলির তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলীতে যথাক্রমে নং ২৮৪২, ২২৩৭, ২৩২৮, ৫৩৩৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2846)


أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ عَنْ خَالِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْجَدْعَاءِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ بِشَفَاعَةِ رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي أَكْثَرُ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ قَالُوا سِوَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ سِوَايَ




২৮৪৬. আবদুল্লাহ ইবনে আবুল জাদ‘আ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী r কে বলতে শুনেছেনঃ “আমার উম্মাতের এক ব্যক্তির শাফাআতে তামীম গোত্রের জনসংখ্যার চেয়েও অধিক লোক জান্নাতে যাবে।“ তারা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। সেই ব্যক্তি কি আপনি ব্যতীত অন্য কেউ? তিনি বলেনঃ “আমি ছাড়াও।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮৬৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩৭৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৫৯৮ তে। ((আহমাদ ৩/৪৬৯, ৪৭০, ৫/৩৬৬; তিরমিযী, সিফাতুল কিয়ামাহ ২৪৩৮; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪৩১৬; ইবনু খুযাইমা, তাওহীদ /৩১৩; হাকিম ১/৭০, ৭১, ৩/৪০৮।–ফাতহুল মান্নান হা/২৯৭৪ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2847)


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا خَالِدٌ عَنْ دَاوُدَ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَرَأَيْتِ قَوْلَ اللَّهِ تَعَالَى يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَوَاتُ وَبَرَزُوا لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ أَيْنَ النَّاسُ يَوْمَئِذٍ قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ عَلَى الصِّرَاطِ




২৮৪৭. মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বললাম, আপনার কি মতামত, মহান আল্লাহর এ বাণীঃ “যেদিন এই পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশমন্ডলীও এবং মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহর সামনে, যিনি একক পরাক্রমশালী।’’ (সূরা ইবরাহীমঃ ৪৮) শীর্ষক আয়াত সম্পর্কে? সেদিন মানুষ কোথায় থাকবে? তিনি বলেনঃ আমিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি বললেন: “পুলসিরাতের উপর।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, সিফাতুল কিয়ামাহ ওয়াল জান্নাতু ওয়ান নার, ২৭৯১।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩৮০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৭৬ তে। ((আহমাদ৬/৩৫; তিরমিযী, তাফসীর ৩১২১; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪২৭৯; হাকিম ২/৩৫২..। ফাতহুল মান্নান হা/২৯৭৫ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2848)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ السُّدِّيِّ قَالَ سَأَلْتُ مُرَّةَ عَنْ قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا فَحَدَّثَنِي أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ حَدَّثَهُمْ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرِدُ النَّاسُ النَّارَ ثُمَّ يَصْدُرُونَ عَنْهَا بِأَعْمَالِهِمْ فَأَوَّلُهُمْ كَلَمْحِ الْبَرْقِ ثُمَّ كَالرِّيحِ ثُمَّ كَحُضْرِ الْفَرَسِ ثُمَّ كَالرَّاكِبِ فِي رَحْلِهِ ثُمَّ كَشَدِّ الرَّجُلِ ثُمَّ كَمَشْيِهِ




২৮৪৮. সুদ্দী (রহঃ) আল্লাহর এ বাণীঃ এবং তোমাদের প্রত্যেকেই ওটা অতিক্রম করবে; এটা তোমার প্রতিপালকের অমোঘ নিয়ম।“ (সুরা মারইয়াম: ৭১)-সম্পর্কে মুররাহ (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সকল লোকই জাহান্নামের কাছে উপস্থিত হবে। এরপর তা থেকে তারা তাদের আমল অনুযায়ী চলে যেতে থাকবে। তাঁদের প্রথম দল বিদুৎ চমকের ন্যায় দ্রুত, পরের দল বাতাসের ন্যায়, পরের দল ঘোড়ার গতিতে, পরের দল উষ্ট্রারোহীর ন্যায়, এর পরের দল মানুষের দৌড়ের ন্যায়, এর পরের দল পায়ে হেঁটে প্রস্থান করবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫০৮৯ তে। ((তিরমিযী, তাফসীর ৩১৫৯; আহমাদ ১/৪৩৫; হাকিম ২/৩৭৫, ৪/৫৮৬-৫৮৭।–ফাতহুল মান্নান হা/২৯৭৬ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2849)


أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُؤْتَى بِالْمَوْتِ بِكَبْشٍ أَغْبَرَ فَيُوقَفُ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ فَيُقَالُ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ فَيَشْرَئِبُّونَ وَيَنْظُرُونَ وَيُقَالُ يَا أَهْلَ النَّارِ فَيَشْرَئِبُّونَ وَيَنْظُرُونَ وَيَرَوْنَ أَنْ قَدْ جَاءَ الْفَرَجُ فَيُذْبَحُ وَيُقَالُ خُلُودٌ لَا مَوْتَ




২৮৪৯. ইবনু ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মৃত্যুকে উপস্থিত করা হবে ধুসর বর্ণের একটি মেষের আকৃতিতে। এবং একে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্য স্থানে দাঁড় করানো হবে। এরপর বলা হবে, হে জান্নাতবাসীগণ! তারা মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে। আবার বলা হবে: হে জাহান্নামীগণ! তখন তারাও মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে। আর তারা ধারণা করবে, হয়তো তাদের কষ্টের উপশম এসে গেছে। তখন একে যবেহ করে দেয়া হবে, অতঃপর (জান্নাতাবাসী ও জাহান্নামবাসীদের) বলা হবে, (তোমরা উভয় দল স্ব স্ব স্থানে) স্থায়ীভাবে অবস্থান করো। আর কখনো মৃত্যু নেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬১৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪৫০ তে। ((ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪৩২৭; আহমাদ ২/২৬১, ৩৭৭, ৫১৩; হাকিম ১/৮৩; তিরমিযী,সিফাতুল জান্নাত ২৫৫৭; বুখারী, রিকাক ৬৫৪৫...–ফাতহুল মান্নান হা/২৯৭৭ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যেটি বুখারী মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৭৫ তে।

এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৯৮ তে।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যেটি বুখারী, রিকাক ৬৫৪৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2850)


أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ فَقَالَ أَنْذَرْتُكُمْ النَّارَ أَنْذَرْتُكُمْ النَّارَ أَنْذَرْتُكُمْ النَّارَ فَمَا زَالَ يَقُولُهَا حَتَّى لَوْ كَانَ فِي مَقَامِي هَذَا لَسَمِعَهُ أَهْلُ السُّوقِ حَتَّى سَقَطَتْ خَمِيصَةٌ كَانَتْ عَلَيْهِ عِنْدَ رِجْلَيْهِ




২৮৫০. নু’মান ইবনু বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাদান কালে বলেছেনঃ “আমি তোমাদেরকে আগুন থেকে ভয় প্রদর্শন করছি। আমি তোমাদেরকে আগুন থেকে ভয় প্রদর্শন করছি। আমি তোমাদেরকে আগুন থেকে ভয় প্রদর্শন করছি।“ এ কথাটি তিনি বলতেই থাকলেন, এমনকি তিনি যদি আমার এই অবস্থানে হতেন, তবে বাজারের লোকেরাও তাঁর কথা শুনতে পেতো এবং এমনকি তাঁর গায়ের কাপড়টি পায়ের কাছে পড়ে গেলো (সেদিকেও খেয়াল নেই)।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৪৪, ৬৬৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪৯০ ও মাজমাউয যাওয়াইদ ৩১৬৯ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, তায়ালিসী, মানিহাতুল মা’বুদ নং ৬৯৩; বাইহাকী, জুম’আহ ৩/২০৭;









সুনান আদ-দারিমী (2851)


أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ قَالَ أَخْبَرَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ كَانَ عَبْدٌ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ وَكَانَ لَا يَدِينُ لِلَّهِ دِينًا وَإِنَّهُ لَبِثَ حَتَّى ذَهَبَ مِنْهُ عُمُرٌ وَبَقِيَ عُمُرٌ فَعَلِمَ أَنَّهُ لَمْ يَبْتَئِرْ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا فَدَعَا بَنِيهِ فَقَالَ أَيُّ أَبٍ تَعْلَمُونِي قَالُوا خَيْرُهُ يَا أَبَانَا قَالَ فَإِنِّي لَا أَدَعُ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْكُمْ مَالًا هُوَ مِنِّي إِلَّا أَخَذْتُهُ مِنْكُمْ أَوْ لَتَفْعَلُنَّ مَا آمُرُكُمْ قَالَ فَأَخَذَ مِنْهُمْ مِيثَاقًا وَرَبِّي قَالَ أَمَّا أَنَا إِذَا مُتُّ فَخُذُونِي فَأَحْرِقُونِي بِالنَّارِ حَتَّى إِذَا كُنْتُ حُمَمًا فَدُقُّونِي ثُمَّ اذْرُونِي فِي الرِّيحِ قَالَ فَفَعَلُوا ذَلِكَ بِهِ وَرَبِّ مُحَمَّدٍ حِينَ مَاتَ فَجِيءَ بِهِ أَحْسَنَ مَا كَانَ قَطُّ فَعُرِضَ عَلَى رَبِّهِ فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلَى النَّارِ قَالَ خَشْيَتُكَ يَا رَبِّ قَالَ إِنِّي أَسْمَعُكَ لَرَاهِبًا قَالَ فَتِيبَ عَلَيْهِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَبْتَئِرُ يَدَّخِرُ




২৮৫১. বাহায ইবনু হাকীম তার পিতা হতে, তার দাদা সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “(তোমাদের পূর্বের উম্মাতের) আল্লাহর বান্দাদের মধ্যেকার এক বান্দা ছিল, যে আল্লাহর দীনের আনুগত্য করত না। এভাবে সে জীবন যাপন করতে থাকলো, এমনকি তার জীবনের কিছু অংশ অতিবাহিত হয়ে গেলো আর কিছু অংশ অবশিষ্ট রইল। এসময় সে বুঝতে পারলো যে, সে (তার আখিরাতের জীবনের জন্য) আল্লাহর নিকট কোন নেককাজই সঞ্চয় করেনি। সে তার ছেলেদের ডেকে বলল, পিতা হিসেবে তোমরা আমাকে কেমন জানো? তারা বললো, হে আমাদের পিতা, ভাল (বলেই জানি)। সে বললো, অবশ্যই আমার নির্দেশ মতো তোমরা কাজ করবে, তা না হলে তোমাদের নিকট থেকে আমার সকল মাল-সম্পদ আমি কেড়ে নেব।

তিনি বলেন, আমার রবের শপথ, এভাবে সে তাদের নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি নিল। সে বলল: আমি মারা গেলে তখন তোমরা আমাকে নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে আমার মৃতদেহ ছাইয়ের গুঁড়ায় পরিণত করবে। অত:পর আমার ছাই বাতাসে ছড়িয়ে দেবে।

তিনি বলেন, “মুহাম্মদের রবের কসম, সে যখন মারা গেল, তখন তারা তা-ই করলো। অতঃপর (আলমে বারযাখে) তাকে পূর্বের চেয়েও সুন্দর আকৃতিতে নিয়ে আসা হলো এবং তার রবের সামনে পেশ করা হলো। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে আগুনে (পোড়ানোর) ব্যাপারে কিসে প্ররোচিত করল? সে বললো, হে রব, একমাত্র আপনার ভয়ই (আমাকে এ কাজ করতে প্ররোচিত করেছে)। তিনি বললেন: আমি তোমাকে ‘ভীত’ (শঙ্কিত)’ ব্যক্তি হিসেবে গ্রহণ করলাম।’ তিনি বলেন, তখন তাকে মাফ করে দেওয়া হলো।“[1]

আবূ মুহাম্মদ বলেন: يَبْتَئِر অর্থ: সঞ্চয় করা।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।

তাখরীজ: আহমাদ ৫/৩ (সনদ সহীহ) ৫/৫; তাবারাণী, কাবীর ১৯/৪২৩ নং ১০৭৬, ১০৭৭।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যেটি বুখারী মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০৪৭, ১০৯৮, ৫০৫৫ তে।

এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০০২, ৫০৫৬, ৫১০৫ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2852)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَتْ امْرَأَةٌ النَّارَ فِي هِرَّةٍ فَقِيلَ لَا أَنْتِ أَطْعَمْتِيهَا وَسَقَيْتِيهَا وَلَا أَنْتِ أَرْسَلْتِيهَا فَتَأْكُلَ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ




২৮৫২. আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “একটি বিড়ালের কারণে এক মহিলা জাহান্নামে প্রবেশ করেছিলো। তাকে বলা হয়েছিল: “বাঁধা থাকাকালীন তুমি তাকে না খেতে দিয়েছিলে, না পান করতে দিয়েছিলে এবং না তুমি তাকে ছেড়ে দিয়েছিলে, তা হলে সে জমিনের পোকা-কামড় খেয়ে (বেঁচে) থাকত।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, মাসাকাত ২৩৬৫, বাদাউল খালক ৩৩১৮, আহাদীসুল আম্বিয়া ৩৪৮২ ; মুসলিম, সালাম ২২৪২, বিরর ওয়াস zwj;সুলহ ২২৪২ (১৩৩) (১৩৪); বাইহাকী, নাফাকাত ৮/১৩; আহমাদ ২/১৫৯, ১৮৮ (সহীহ সনদে)।









সুনান আদ-দারিমী (2853)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ بْنِ مِقْلَاصٍ مَوْلَى أَبِي هُرَيْرَةَ وَكُنْيَتُهُ أَبُو يَحْيَى قَالَ سَمِعْتُ دَرَّاجًا أَبَا السَّمْحِ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الْهَيْثَمِ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَلَّطُ عَلَى الْكَافِرِ فِي قَبْرِهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ تِنِّينًا تَنْهَشُهُ وَتَلْدَغُهُ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ وَلَوْ أَنَّ تِنِّينًا مِنْهَا نَفَخَ فِي الْأَرْضِ مَا نَبَتَتْ خَضْرَاءُ




২৮৫৩. আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কাফির ব্যক্তির কবরে তার উপর নিরানব্বইটি বিরাট সাপ নিযুক্ত করে দেওয়া হয়। কিয়ামত অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ সাপগুলি তাকে কামড়াতে থাকবে এবং খামচাতে থাকবে। এর একটিও যদি দুনিয়ায় নি:শ্বাস ছাড়ে তবে দুনিয়াতে আর কখনো কোনো সবুজ বৃক্ষ-লতা জন্মাবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৩২৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭৮৩ ও মাজমাউয যাওয়াইদ ৪৩৪৫ তে।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৬৪৪ তে। ((তিরমিযী, সিফাতুল কিয়ামাহ ২৪৬০; আহমাদ ৩/৩৮।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2854)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا أَزْهَرُ بْنُ سِنَانٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَاسِعٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى بِلَالِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ فَقُلْتُ إِنَّ أَبَاكَ حَدَّثَنِي عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ فِي جَهَنَّمَ وَادِيًا يُقَالُ لَهُ هَبْهَبُ يَسْكُنُهُ كُلُّ جَبَّارٍ فَإِيَّاكَ أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ




২৮৫৪. মুহাম্মদ ইবনু ওয়াসি’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বিলাল ইবনু আবী বুরদাহ’র নিকট গিয়ে বললাম, তোমার পিতা তার পিতা হতে আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই জাহান্নামে একটি উপত্যকা রয়েছে যার নাম ‘হাবহাব’। প্রত্যেক স্বেচ্ছাচারী-অহংকারী ব্যক্তি হবে সেখানকার অধিবাসী।“ সুতরাং তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২৪৯ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আদী, আলকামিল ১/৪২০; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ২/২৫৬; হাকিম ৪/৫৯৬-৫৯৭; তাবারাণী, আওসাত নং ৩৩৭২; বাইহাকী, বায়াছ ওয়ান নুশুর নং ৪৭৯; ইবনুল জাউযী, আল মাওযু’আত ৩/২৬৪।









সুনান আদ-দারিমী (2855)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ أَبِي مَسْلَمَةَ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَّا أَهْلُ النَّارِ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُ النَّارِ فَإِنَّهُمْ لَا يَمُوتُونَ فِي النَّارِ وَأَمَّا نَاسٌ مِنْ النَّاسِ فَإِنَّ النَّارَ تُصِيبُهُمْ عَلَى قَدْرِ ذُنُوبِهِمْ فَيُحْرَقُونَ فِيهَا حَتَّى إِذَا صَارُوا فَحْمًا أُذِنَ فِي الشَّفَاعَةِ فَيَخْرُجُونَ مِنْ النَّارِ ضَبَائِرَ ضَبَائِرَ فَيُنْثَرُونَ عَلَى أَنْهَارِ الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لِأَهْلِ الْجَنَّةِ يُفِيضُوا عَلَيْهِمْ مِنْ الْمَاءِ قَالَ فَيُفِيضُونَ عَلَيْهِمْ فَتَنْبُتُ لُحُومُهُمْ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ




২৮৫৫. আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জাহান্নামের অধিবাসীরা (মুশরিক ও কাফিররা) জাহান্নামের (চিরস্থায়ী) অধিবাসী। জাহান্নামে তারা মরবে না। কিন্তু লোকদের মধ্যকার কিছু সংখ্যক লোককে নিজেদের পাপ অনুসারে আগুন আক্রমন করবে, তাদেরকে সেখানে জ্বালানো হবে, এমনকি তারা পুড়ে কয়লায় পরিণত হয়ে যাবে। অতঃপর তাদের জন্যে সুফারিশ করার অনুমতি দেয়া হবে। এরপর তাদেরকে পৃথকভাবে দলে দলে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে এবং জান্নাতের নহরের মধ্যে ছেড়ে দেয়া হবে। তারপর জান্নাতবাসীগণকে বলা হবে, ‘এদের ওপর পানি ঢেলে দাও। তিনি বলেন, অতঃপর তাদের উপর পানি ঢেলে দেওয়া হবে, ফলে তাদের দেহের গোশতগুলি এমনভাবে তরতাজা গজিয়ে ওঠবে, যেভাবে প্রবাহমান স্রোতের ধারে বীজ অঙ্কুরিত হয়ে ওঠে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি সহীহ, এটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ২২; মুসলিম, ঈমান ১৮৫।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০৯৭, ১২১৯, ১২৫৩, ১২৫৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৪, ৭৩৭৯, ৭৪৮৫ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2856)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ عُثْمَانَ الثَّقَفِيِّ عَنْ أَبِي صَادِقٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِلْجَنَّةِ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابٍ




২৮৫৬. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান শারীকের কারণে। আর যদিও তার হাদীসকে আমরা ইতিপূর্বে অনেক স্থানে যঈফ বলে এসেছি।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি এবং এর শাহিদ হাদীস উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫০১২ তে।

সংযোজনী: তাবারাণী, কাবীর ১০/২৫৪ নং ১০৪৭৯; zwj;মুনযিরী, তারগীব ওয়াত তারহীব ৪/৮৯ তে এটি উল্লেখ করে বলেন, এটি আবী ইয়া’লা ও তাবারাণী বর্ণনা করেছেন জাইয়্যেদ বা উত্তম সনদে।“ ((হাইছামীও মাজমাউয যাওয়াইদে ১০/১৯৮ তে এর সনদকে জাইয়্যেদ বলে উল্লেখ করেছেন।–ফাতহুল মান্নান, হা/ ২৯৮৪ এর টীকা। -অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2857)


حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي رَافِعٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ دَخَلَ الْجَنَّةَ يَنْعَمُ لَا يَبْؤُسُ لَا تَبْلَى ثِيَابُهُ وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُ فِي الْجَنَّةِ مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ




২৮৫৭. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুলস্নাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে সে নিয়ামত ও সুখ ভোগ করবে, কষ্ট-যাতনা পাবে না। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ কখনও পুরাতন হবেনা, আর জান্নাতে তাদের যৌবনকখনও শেষ হবে না। তার জন্য জান্নাতে যা রয়েছে, তা কোন চোখ কখনও দেখেনি, কোন কান কখনো শুনেনি এবং কোন মানুষের অন্তরের কল্পনা তার ধারণাও করতে পারেনি।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৪২৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩৮৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬২১ তে। দেখুন, সামনে ২৮৬৫ নং হাদীসটিও।

সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, বায়াছ ওয়ান zwj;নুশুর নং ২৯৪; আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ৯৬, ৯৭, ৯৮, ৯৯, ১০০, ১০১, ১০৯, ১২১ । ((মুসলিম, জান্নাত ২৮৩৬; তিরমিযী, সিফাতুল জা্ন্নাত ২৫২৬; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪৩২৮।–ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর টীকা হা/২৮১৯।- অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2858)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَمَوْضِعُ سَوْطٍ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنْ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ الْآيَةَ




২৮৫৮. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতে ধনুক পরিমাণ স্থান, তা থেকে উত্তম যার উপর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়। তোমরা ইচ্ছা হলে পড়ো: “সকল জীবই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদ গ্রহণকারী এবং নিশ্চয়িই উত্থান দিবসে তোমাদেরকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে; অতএব, যে কেউ অগ্নি হতে বিমুক্ত হয়েছে ও জান্নাতে প্রবিষ্ট হয়েছে, ফলত: নিশ্চয়ই সে সফলকাম; আর পার্থিব জীবন প্রতারণার সম্পদ ছাড়া কিছুই নয়।“ (সূরা আলে ইমরান: ১৮৫)[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৭৯৩।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪১৭, ৭৪১৮ তে।

আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে সাহল ইবনু সাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন; আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৫১৪ তে।

অপর শাহিদ আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস দেখুন মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩১৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2859)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ سَعْدَانَ الْجُهَنِيِّ عَنْ أَبِي مُجَاهِدٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُدِلَّةَ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ الْجَنَّةُ مَا بِنَاؤُهَا قَالَ لَبِنَةٌ مِنْ ذَهَبٍ وَلَبِنَةٌ مِنْ فِضَّةٍ مِلَاطُهَا الْمِسْكُ الْأَذْفَرُ وَحَصْبَاؤُهَا الْيَاقُوتُ وَاللُّؤْلُؤُ وَتُرَابُهَا الزَّعْفَرَانُ مَنْ يَدْخُلْهَا يَخْلُدْ فِيهَا يَنْعَمُ لَا يَبْؤُسُ لَا يَفْنَى شَبَابُهُمْ وَلَا تَبْلَى ثِيَابُهُمْ




২৮৫৯. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমরা বললাম: জান্নাতের নির্মাণ কি দিয়ে? তিনি বললেন: “এর একটি ইট হল সোনার আর একটি হল রূপার। এর গাঁথুনী হল সুগন্ধময় মিশকের। এর নুড়িগুলো হল ইয়াকুতের ও মোতির, মাটি হল যাফরানের। যে ব্যক্তি এতে প্রবেশ করবে, এখানে সে স্থায়ীভাবে থাকবে। সে নিয়ামত ও সুখ ভোগ করবে, কোনো দু:খ-কষ্ট পাবে না। তাদের যৌবনকখনও শেষ হবে না, আর তাদের পরিচ্ছদ কখনও পুরাতন ও জীর্ণ হবেনা।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩৮৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬২১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৮৪ তে। ((আহমাদ ২/৩০৪-৩০৫, ৩০৫, ৪৪৫; তিরমিযী, সিফাতুল জান্নাত ২৫২৬।- –ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর টীকা হা/২৮২১।- অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2860)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ أَرْبَعٌ ثِنْتَانِ مِنْ ذَهَبٍ حِلْيَتُهُمَا وَآنِيَتُهُمَا وَمَا فِيهِمَا وَثِنْتَانِ مِنْ فِضَّةٍ حِلْيَتُهُمَا وَآنِيَتُهُمَا وَمَا فِيهِمَا وَلَيْسَ بَيْنَ الْقَوْمِ وَبَيْنَ أَنْ يَنْظُرُوا إِلَى رَبِّهِمْ إِلَّا رِدَاءُ الْكِبْرِيَاءِ عَلَى وَجْهِهِ فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَهَذِهِ الْأَنْهَارُ تَشْخُبُ مِنْ جَنَّاتِ عَدْنٍ فِي جَوْبَةٍ ثُمَّ تَصْعَدُ بَعْدُ أَنْهَارًا قَالَ عَبْد اللَّهِ جَوْبَةٌ مَا يُجَابُ عَنْهُ الْأَرْضُ




২৮৬০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতুল ফিরদাউস হলো চারটি: “এ দু’টি হবে সোনার: এ দু’টির সকল ভূষণ, পাত্র এবং এর ভিতরে সকল বস্তু (সোনার তৈরী হবে)। এবং আরো দু’টি থাকবে রূপার: এ দু’টির সকল ভূষণ, পাত্র এবং ভিতরের সকল বস্তু (রৌপ্য নির্মিত হবে)। জান্নাতু আদনে এর অধিবাসী এবং তাদের প্রতিপালকের দর্শনের মাঝে আল্লাহর সত্তার ওপর জড়ানো তাঁর (কিবরিয়াই) বিরাটত্বের চাদর ছাড়া আর কোন জিনিস থাকবে না। এ নহর সমূহ জান্নাতু আদন এর একটি ফাটল থেকে উত্সারিত হয় এরপর সেগুলি পরবর্তীতে নহর হিসেবে প্রবাহিত হয়।“[1] আব্দুল্লাহ বলেন: ‘জাওবাহ’ অর্থ: পৃথিবী যেখান থেকে আবর্তিত হয়।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, আবী কুদামাহ আল হারিছ ইবনু উবাইদ এর দুর্বলতার কারণে।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১৩/১৪৮ নং ১৫৯৫৬; আহমাদ ৪/৪১৬; আব্দ ইবনু হুমাইদ, মুনতাখাব নং ৫৪৫; আবূ আউয়ানা ১/১৫৭; আবূ নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ১৪১; হিলইয়া ২/৩১৬-৩১৭; তায়ালিসী ২/২৪৩ নং ২৮৩৯; বাইহাকী, বায়াছ ওয়ান নুশূর নং ২১৭; আসলাম ইবনু সাহল, তারীখ ওয়াসীত পৃ: ১৯১।

আর এটি মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে: “দু’টি হবে সোনার: এ দু’টির সকল ভূষণ, পাত্র এবং এর ভিতরে সকল বস্তু (সোনার তৈরী হবে)। এবং আরো দু’টি থাকবে রূপার: এ দু’টির সকল ভূষণ, পাত্র এবং ভিতরের সকল বস্তু (রৌপ্য নির্মিত হবে)। জান্নাতু আদনে এর অধিবাসী এবং তাদের প্রতিপালকের দর্শনের মাঝে আল্লাহর সত্তার ওপর জড়ানো তাঁর (কিবরিয়াই) বিরাটত্বের চাদর ছাড়া আর কোন জিনিস থাকবে না।“

আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮৩৮৬ তে।