সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ عُقْبَةَ الْمُحَلِّمِيِّ قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الرَّجُلَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ لَيُعْطَى قُوَّةَ مِائَةِ رَجُلٍ فِي الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ وَالْجِمَاعِ وَالشَّهْوَةِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْيَهُودِ إِنَّ الَّذِي يَأْكُلُ وَيَشْرَبُ تَكُونُ مِنْهُ الْحَاجَةُ قَالَ يَفِيضُ مِنْ جِلْدِهِ عَرَقٌ فَإِذَا بَطْنُهُ قَدْ ضَمَرَ
২৮৬৩. যাইদ ইবনু আরকাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জান্নাতের অধিবাসীদের একজন লোককে পানাহার, সহবাস ও কামশক্তি ইত্যাদির ক্ষেত্রে একশত পুরুষের শক্তি প্রদান করা হবে।“ তখন এক ইয়াহুদী বললো, যারা পানাহার করবে, এজন্য তাদের তো প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ (তথা পেশাব-পায়খানা) করতে হবে। তিনি বললেন: “তাদের গাত্র চামড়া হতে ঘাম বের হবে, তখন তাদের পেট আবার সংকুচিত হয়ে যাবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৪/৩৭১; ইবনু আবী শাইবা ১৩/১০৮ নং ১৫৮৪১; তাবারাণী, কাবীর ৫/১৭৮ নং ৫০০৪, ৫০০৫, ৫০০৬, ৫০০৭, ৫০০৮, ৫০০৯; হুসাইন মারওয়াযী, যাওয়াইদ আলা যুহদি ইবনুল মুবারক নং ১৪৫৯; আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ৩২৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪২৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬৩৭ তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرِّفَاعِيُّ حَدَّثَنَا مُعَاذٌ يْعَنِي ابْنَ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَامِرٍ الْأَحْوَلِ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَهْلُ الْجَنَّةِ شَبَابٌ جُرْدٌ مُرْدٌ كُحْلٌ لَا تَبْلَى ثِيَابُهُمْ وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُمْ
২৮৬৪. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুলস্নাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতের অধিবাসীগণ যুবক, লোমহীন- দাড়ি-গোঁফহীন এবং সুরমা লাগানো চোখ বিশিষ্ট হবেন। তাদের পোষাক-পরিচ্ছেদ কখনও পুরাতন ও জীর্ণ হবে না এবং তাঁদের যৌবন কখনও শেষ হবে না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: তিরমিযী, সিফাতুল জান্নাত ২৫৪২।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে: আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ৩২৯; তাবারাণী, সগীর ৫/১৭৮; আবীশ শাইখ, আল আযিমাহ নং ৫৮৪; বাইহাকী, বা’আছ ওয়ান নুশূর নং ৪১৮; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৩/৫৬, এ সনদটি সহীহ যদি হারুণ ইবনু রিয়ার আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে শ্রবণ করে থাকেন। (এর পূর্বে তিনি এ ব্যক্তির আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে হাদীস শ্রবণ করা সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের মতভেদ উল্লেখ করেছেন।–অনুবাদক))
এর অপর শাহিদ রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে: আহমাদ ২/২৯৫, ৩৪৩, ৫১৫; ইবনু আবী শাইবা ১৩/১১৪ নং ১৫৮৫৩; তাবারাণী, সগীর ২/১৭; আওসাত নং ৫৪১৮; আবীশ শাইখ, আল আযিমাহ নং ৫৯৬; আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ২৫৫; ইবনু আবী দাউদ, বা’আছ নং ৬৩; বাইহাকী, বা’আছ ওয়ান নুশূর নং ৪১৯, ৪২০; ইবনু আদী, আল কামিল ৫/১৮৪২; তবে এ সনদে আলী ইবনু যাইদ ইবনু জুদ’আন রয়েছে আর সে যঈফ।
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا قِيلَ لِأَبِي عَاصِمٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ أَهْلُ الْجَنَّةِ لَا يَبُولُونَ وَلَا يَمْتَخِطُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَيَكُونُ ذَلِكَ مِنْهُمْ جُشَاءً يَأْكُلُونَ وَيَشْرَبُونَ وَيُلْهَمُونَ التَّسْبِيحَ وَالْحَمْدَ كَمَا يُلْهَمُونَ النَّفَسَ
২৮৬৫. জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতী লোকেরা তথায় পানাহার করবে। তবে তারা তথায় পেশাব করবেনা, নাকও ঝাড়বেনা, আবার পায়খানা করবে না। তাদের ঐগুলি হবে ঢেকুর আকারে। তারা আহার করবে, পান করবে, আর তাসবীহ-তাহলীলের যোগ্যতা তাদের অন্তকরণে ইলহাম করা হবে যেমনি ভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস তাদের মাঝে ইলহাম করা হয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৯০৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪৩৫ তে।
সংযোজনী: খতীব বাগদাদী, তারীখ বাগদাদ ১৩/১৯৭; আব্দ ইবনু হুমাইদ, মুনতাখাব নং ১০৩০; আবীশ শাইখ, আল আযিমাহ নং ৫৮৩।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
২৮৬৬. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আল্লাহ বলেন, আমি আমার সালিহীন (নেককার) বান্দাদের জন্য যে নে’আমত প্রস্তুত করে রেখেছি, তা কোন চোখ কখনও দেখেনি, কোন কান কখনো শুনেনি এবং কোন মানুষের অন্তরের কল্পনা তার ধারণাও করতে পারেনি।’ তোমরা ইচ্ছা করলে পাঠ কর: কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর কি লুকায়িত রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ। [1] (সুরা সিজদা ৩২: ১৭)
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। (তবে হাদীসটি সহীহ), এটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: বুখারী, বাদউল খালক ৩২৪৪; মুসলিম, জান্নাত ২৮২৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৭৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৯ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, বায়াছ ওয়ান zwj;নুশুর নং ৩৮৯; আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ১০৯-১১৫; হিলইয়া ৯/২৬; হুমাম ইবনু মামবাহ, তার সহীহফাতে নং ৩১। ((আহমাদ ২/৩১৩, ৩৭০, ৪১৬, ৪৩৮, ৪৬২, ৪৯৫, ৫০৬; তিরমিযী, তাফসীর ৩২৯২; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪৩২৮।–ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর টীকা হা/২৮২৮।- অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَدْنَى أَهْلِ الْجَنَّةِ مَنْزِلًا مَنْ يَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ فَيُقَالُ لَهُ لَكَ ذَاكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ إِلَّا أَنَّهُ يُلَقَّى سِوَى كَذَا وَكَذَا فَيُقَالُ لَهُ ذَاكَ لَكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيُقَالُ لَهُ ذَاكَ وَعَشْرَةُ أَمْثَالِهِ
২৮৬৭. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জান্নাতবাসীদের মধ্যে যে কোনো ব্যক্তিকে সবচেয়ে নিম্নস্তরের বাসস্থান দেয়া হবে, যে আল্লাহর নিকট কামনা করবে। তখন তাকে বলা হবে: “(যা কামনা করেছো) তাতো তোমার জন্য দেওয়াই হলো, এবং তার সাথে অনুরুপ পারিমাণও (দেওয়া হলো)।“ এছাড়াও, তাকে আরও শিখিয়ে দেওয়া হবে যে, (তুমি) এরূপ এরূপ (চাও)।
তখন তাকে বলা হবে: “তাতো তোমার জন্য দেওয়াই হলো, এবং তার সাথে অনুরুপ পারিমাণও (দেওয়া হলো)।“আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তখন তাকে বলা হবে: (যা কামনা করেছো) তাতো তোমার জন্য দেওয়াই হলো, এবং তার সাথে আরও দশ গুণ পারিমাণ (দেওয়া হলো)।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। ((তবে হাদীসটি সহীহ- যেমন তাখরীজে উল্লেখিত হয়েছে।–অনুবাদক))
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১৩/১১০-১১১ নং ১৫৮৪৬; আহমাদ ২/৪৫০; আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ৪৪৬, ৪৪৭; মুসলিম, ঈমান ১৮২ (৩০১); বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৪৩৭০; হুমাম ইবনু মামবাহ, তার সহীহফাতে নং ৫৬। আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৩৯ তে।
এ হাদীসটি দীর্ঘাকারে বর্ণিত হয়েছে, বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনায়: বুখারী, আযান ৮০৬; মুসলিম, ঈমান ১৮২ তে, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৬০, ৬৩৬১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬৪২, ৭৪২৯, ৭৪৪৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২১২ তে।
এছাড়াও, নুয়াইম ইবনু হাম্মাদ, যাওয়াইদ আলা যুহদি ইবনুল মুবারক নং ২৮৪; বাইহাকী, বায়াছ ওয়ান zwj;নুশুর নং ৯৪, ৪২৬।
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ لَيَتَرَاءَوْنَ أَهْلَ الْغُرَفِ فِي الْجَنَّةِ كَمَا تَرَوْنَ الْكَوْكَبَ الدُّرِّيَّ فِي السَّمَاءِ
২৮৬৮. সাহল ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “জান্নাতীরা জান্নাতে বালাখানার মালিকদেরকে পরস্পর দেখতে পাবে, যেমন তোমরা আকাশে উজ্জ্বল তারকাগুলো দেখতে পাও।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, রিকাক ৬৫৫৫; মুসলিম, জান্নাত ২৮৩০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৫২৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৯, ৭৩৯২ তে।
قَالَ أَبُو حَازِمٍ فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ النُّعْمَانَ بْنَ أَبِي عَيَّاشٍ فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ قَالَ الْكَوْكَبُ الدُّرِّيُّ فِي السَّمَاءِ الشَّرْقِيُّ وَالْغَرْبِيُّ
২৮৬৯. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আকাশে উজ্জ্বল তারকারাজি হলো পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের (তারকারাজি)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদটি আগের সনদের সাথে সংযুক্ত। ((তথা এ সনদটিও সহীহ।–অনুবাদক))
তাখরীজ: বুখারী, রিকাক ৬৫৫৬; মুসলিম, জান্নাত ২৮৩১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৩০, ১১৭৮, ১২৭৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩৯৩ তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ الْقُرْدُوسِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا فِي الْجَنَّةِ أَحَدٌ إِلَّا لَهُ زَوْجَتَانِ إِنَّهُ لَيَرَى مُخَّ سَاقِهِمَا مِنْ وَرَاءِ سَبْعِينَ حُلَّةً مَا فِيهَا مِنْ عَزَبٍ
২৮৭০. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জান্নাতবাসীদের প্রত্যেকের জন্য এমন দু’জন স্ত্রী থাকবে (যাদের সৌন্দর্যের কারণে) তাদের সত্তরটি কাপড় ভেদ করেও পায়ের নলার হাড়ের মজ্জা দেখা যাবে। আর সেখানে সঙ্গীন (স্ত্রীহীন) কেউ থাকবে না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, বাদউল খালক ৩২৪৩, তাফসীর ৪৮৭৯; মুসলিম, জান্নাত ২৮৩৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৩২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩৯৫ তে।
এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১৩/১০৫-১০৬ নং ১৫৮৩১।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْخَيْمَةُ دُرَّةٌ مُجَوَّفَةٌ طُولُهَا فِي السَّمَاءِ سِتُّونَ مِيلًا فِي كُلِّ زَاوِيَةٍ مِنْهَا أَهْلٌ لِلْمُؤْمِنِ لَا يَرَاهُمْ الْآخَرُونَ
২৮৭১. আবূ বাকার ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স তার পিতা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতের মধ্যে মোতির নির্মিত শূণ্যগর্ভ একটি তাঁবু থাকবে। আসমানের দিকে এর উচ্চতা হবে ষাট মাইল। এর প্রতিটি কোণে থাকবে এক একজন মুমিনের পরিবার। এদের এক কোণের জন অপর কোণের জনকে দেখতে পাবে না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, বাদউল খালক ৩২৪৫, ৩২৪৬; মুসলিম, জান্নাত ২৮৩৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৮৪, ৬৪৩৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪২০, ৭৪৩৬, ৭৪৩৭ তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ وَالْقَوَارِيرِيُّ عَنْ مُعَاذِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَامِرٍ الْأَحْوَلِ عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ النَّاجِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا اشْتَهَى الْوَلَدَ فِي الْجَنَّةِ كَانَ حَمْلُهُ وَوَضْعُهُ وَسِنُّهُ فِي سَاعَةٍ كَمَا اشْتَهَى
২৮৭২. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন মুমিন যদি জান্নাতে সন্তান কামনা করে, তবে তার কামনা অনুসারে সন্তানের গর্ভ, জন্ম ও বয়সের পূর্ণতা প্রাপ্তি সবকিছু এক মুহূর্তেই সংঘটিত হবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বাইহাকী, বা’আছ ওয়ান নুশূর নং ৫৮৭। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০৫১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪০৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬৩৬ তে। ((আহমাদ ৯/৩, ৮০; তিরমিযী, সিফাতুল জান্নাত ২৫৬৩, তিনি বলেন, হাসান-গারীব; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪৩৩৮।– ফাতহুল মান্নান, হা/৩০০২ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ قَالَ أُرَاهُ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَهْلُ الْجَنَّةِ عِشْرُونَ وَمِائَةُ صَفٍّ ثَمَانُونَ مِنْهَا أُمَّتِي وَأَرْبَعُونَ سَائِرُ النَّاسِ
২৮৭৩. বুরায়দা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “জান্নাতীদের একশত বিশটি কাতার হবে। তন্মধ্যে আশিটি কাতার হবে আমার উম্মাতের এবং চল্লিশটি হবে অন্যান্য লোকদের।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪৫৯, ৭৪৬০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬৩৮, ২৬৩৯ তে। ((আহমাদ ৫/২৪৭-২৫৫; তিরমিযী, সিফাতুল জান্নাত ২৫৪৬, তিনি বলেন, হাসান; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪২৮৯; হাকিম ১/৮২, তিনি বলেন, এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী, যাহাবী তাকে সমর্থন করেন।– ফাতহুল মান্নান, হা/৩০০৩ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
এর শাহিদ রয়েছে ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৩৫৮ তে।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ قَالَ أَخْبَرَنَا الْجُرَيْرِيُّ عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَحْرَ اللَّبَنِ وَبَحْرَ الْعَسَلِ وَبَحْرَ الْخَمْرِ ثُمَّ تَشَقَّقُ مِنْهُ الْأَنْهَارُ
২৮৭৪. হাকিম ইবনু মুআবিয়া হতে তার পিতার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “জান্নাতে দুধের সাগর, মধুর সাগর ও শরাবের সাগর রয়েছে। এ থেকে অনেক নদীর শাখা-প্রশাখা বের হবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪০৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬২৩ তে। এছাড়াও, আবূ দাউদ, আল বায়াছ নং ৭০; আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ৩০৭। ((তিরমিযী, সিফাতুল জান্নাত ২৫৭১, তিনি একে হাসান-সহীহ’ বলেছেন; আহমাদ ৫/৫।–ফাওয়ায আহমেদের দারেমী, হা/২৮৩৬ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ نَهْرٌ فِي الْجَنَّةِ حَافَّتَاهُ مِنْ ذَهَبٍ يَجْرِي عَلَى الدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ تُرْبَتُهُ أَطْيَبُ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ وَطَعْمُهُ أَحْلَى مِنْ الْعَسَلِ وَمَاؤُهُ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنْ الثَّلْجِ
২৮৭৫. আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন “নিশ্চয়ই আমি তোমাকে ‘আল কাওছার’ দান করেছি।“ (সূরা আল কাওছার: ১) এ সূরাটি নাযিল হলো তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তা (কাওছার) হল জান্নাতের একটা নহর। এর দুই তীর হল স্বর্ণের, আর মোতি ও ইয়াকুতের উপর দিয়ে তা প্রবাহিত হয়। এর মাটি মিশকের সুগন্ধি অপেক্ষাও অধিক সুগন্ধময়। এটি খেতে মধু অপেক্ষাও মিষ্টি এবং এর পানি তুষার থেকে শুভ্র।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ ((তবে হাদীসটি সহীহ যেমন তাখরীজে উল্লেখ করা হয়েছে।–অনুবাদক))
তাখরীজ: আহমাদ ২/১১২; হাকিম ৩/৫২৪, তিনি বলেন, এর সনদ সহীহ, যাহাবী চুপ থেকেছেন; তিরমিযী, তাফসীর ৩৩৫৮; তিনি বলেন, ‘হাদীসটি হাসান সহীহ’ ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪৩৩৪ সহীহ সনদে।
এর শাহিদ রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যেটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৭৬, ৩১৮৬, ৩২৯০, ৩৫২৯ তে।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ عَامٍ لَا يَقْطَعُهَا وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ وَظِلٍّ مَمْدُودٍ
২৮৭৬. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ আছে যার ছায়ায় কোন আরোহী শত বছর পর্যন্ত চলবে, তবুও তা অতিক্রম করতে পারবে না। আর তোমরা ইচ্ছা করলে তিলাওয়াত করতে পার (وَظِلٍّ مَمْدُوْدٍ) (অর্থ: “এবং দীর্ঘ ছায়া“) (সূরা ওয়াকিয়া)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, তবে হাদীসটি সহীহ, বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, বাদউল খালক ৩২৫২; মুসলিম, জান্নাত ২৮২৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৫৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪১১, ৭৪১২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৬৫ তে। এছাড়াও, ইবনু তাহমান, মাশাইখাতুহ ১৩০; ইবনু আবী দাউদ, আল বায়াছ নং ৬৬; ইবনুল জাউযী, মাশাইখাতুহ, তারজমাহ শাইখ সাবি’ ওয়াস সাবিঈন পৃ: ১৮২-১৮৩।
এর শাহিদ রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যেটি বুখারী, বাদউল খালক ৩২৫১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৯১ তে। আবার, খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস দেখুন, মাউসিলী নং ১৩৭৪ তে।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي الضَّحَّاكِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ عَامٍ لَا يَقْطَعُهَا هِيَ شَجَرَةُ الْخُلْدِ
২৮৭৭. (অপর সনদে) আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ আছে যার ছায়ায় কোন আরোহী শত বছর পর্যন্ত চলবে, তবুও তা অতিক্রম করতে পারবে না। আর এটি হলো ‘শাজারাতুল খুলদ’(‘স্থায়ী বৃক্ষ’)।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا عَبَّادٌ هُوَ ابْنُ مَنْصُورٍ قَالَ سَمِعْتُ شَهْرَ بْنَ حَوْشَبٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعَجْوَةُ مِنْ الْجَنَّةِ وَهِيَ شِفَاءٌ مِنْ السُّمِّ
২৮৭৮. আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আজওয়া হলো জান্নাতী খেজুর। এটি সকল বিষের প্রতিষেধক।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, আব্বাদ ইবনু মানসূর এর দুর্বলতার কারণে। তবে হাদীসটি সহীহ
তাখরীজ: আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৯৭, ৬৪০০, ৬৪০৭ তে।
সংযোজনী: ইবনু আবী শাইবা নং ৫৩২৯; তায়ালিসী, ১/৩৪৫ নং ১৭৬১; আহমাদ ২/৩০১, ৩০৫, ৩২৫, ৪১২, ৫/৫১১; নাসাঈ, কুবরা নং ৬৭১৯, ৬৭২০, ৬৭২১; ইবনু মাজাহ, তিব্ব ৩৪৫৫; বাগাবী, শারহুস zwj;সুন্নাহ নং ২৮৯৮।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَسُوقًا قَالُوا وَمَا هِيَ قَالَ كُثْبَانٌ مِنْ مِسْكٍ يَخْرُجُونَ إِلَيْهَا فَيَجْتَمِعُونَ فِيهَا فَيَبْعَثُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ رِيحًا فَتُدْخِلُهُمْ بُيُوتَهُمْ فَيَقُولُ لَهُمْ أَهْلُوهُمْ لَقَدْ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَيَقُولُونَ لِأَهْلِيهِمْ مِثْلَ ذَلِكَ
২৮৭৯. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “নিশ্চয় জান্নাতে একটি বাজার থাকবে।“ তারা বললেন, সেটি আবার কি? তিনি বললেন: “মিশক দিয়ে নির্মিত বালির টিলাসমূহ, যার উদ্দেশ্যে জান্নাতবাসীরা বের হবে, এরপর তারা সেখানে একত্রিত হবে, অতঃপর আল্লাহ তাদের উপর একটি বায়ু প্রবাহিত করবেন। (ধুলি-বালি তাদের চেহারায় লাগবে আর এতে তাদের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পাবে।) অতঃপর তারা তাদের ঘরে (নিজ পরিবারের নিকট) ফিরে আসবে। তখন তাদের পরিবারের লোকেরা তাদেরকে বলবে, আমাদের নিকট হতে যাবার পর তোমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরে তারাও তাদের পরিবারের লোকদেরকে এরূপ বলবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: পরবর্তী হাদীসটি দেখুন। ((মুসলিম, সিফাতুল জান্নাত ২৮৩৩- অনুবাদক।))
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَحْوِهِ
২৮৮০. (অপর সনদে) আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, সিফাতুল জান্নাত ২৮৩৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৪৩৮৯; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪২৫ তে।
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُفَّتْ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ وَحُفَّتْ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ
২৮৮১. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জান্নাতকে অপছন্দনীয়-কষ্টকর বস্তু দ্বারা বেষ্টন করা হয়েছে আর জাহান্নামকে প্রবৃত্তি-(কামনা-বাসনা) দ্বারা বেষ্টন করা হয়েছে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, সিফাতুল জান্নাত ২৮২২। ((তিরমিযী, সিফাতুল জান্নাত ২৫৫৯))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩২৭৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭১৬, ৭১৮ তে। এছাড়াও, আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ৪২।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ جُبَيْرٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ بَيْنَا أَنَا قَاعِدٌ فِي الْمَسْجِدِ وَحَلْقَةٌ مِنْ فُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ قُعُودٌ إِذْ دَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَعَدَ إِلَيْهِمْ فَقُمْتُ إِلَيْهِمْ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَهُمْ لِيُبْشِرْ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ بِمَا يَسُرُّ وُجُوهَهُمْ فَإِنَّهُمْ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ الْأَغْنِيَاءِ بِأَرْبَعِينَ عَامًا قَالَ فَلَقَدْ رَأَيْتُ أَلْوَانَهُمْ أَسْفَرَتْ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنْ أَكُونَ مَعَهُمْ
২৮৮২. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি মসজিদে একস্থানে বসে ছিলাম, আবার দরিদ্র মুহাজিরগণও একটি হালকায় (বৃত্তাকারে) বসে ছিলেন। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে তাদের নিকট গিয়ে বসলেন। ফলে আমিও উঠে তাদের নিকট গেলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উদ্দেশ্যে বললেন: “দরিদ্র মুহাজিরগণ যেন সুসংবাদ গ্রহণ করে যা তাদেরকে চেহারাগুলিকে উত্ফুল্ল করবে। কেননা, তারা সম্পদশালীদের চল্লিশ বছর পুর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে।“
তিনি বলেন, আমি দেখলাম তাদের চেহারাগুলির রং (আনন্দে) আলোকিত হয়ে উঠলো।
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এমনকি আমি আকাংখা করতে থাকলাম যে, আমি যদি তাদের সাথী হতাম!’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহএর দুর্বলতার কারণে। তবে তিনি এ বর্ণনায় একাকী নন, বরং তার সমর্থনে বর্ণনা করেন আব্দুল্লাহ ইবনু ওয়াহহাব-তাখরীজে যা উল্লেখিত হয়েছে।
তাখরীজ: আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৫/১৩৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৭৭ (ইবনু ওয়াহহাব সূত্রে) এ সনদটি সহীহ; মুসলিম, যুহদ ২৯৭৯।
আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৭৮ তে।