হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (3203)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِمْرَانَ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ مَيْسَرَةَ بْنِ شُرَيْحٍ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ اخْتُصِمَ إِلَى شُرَيْحٍ فِي بِنْتَيْنِ وَأَبَوَيْنِ وَزَوْجٍ فَقَضَى فِيهَا فَأَقْبَلَ الزَّوْجُ يَشْكُوهُ فِي الْمَسْجِدِ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَبَاحٍ فَأَخَذَهُ وَبَعَثَ إِلَى شُرَيْحٍ فَقَالَ مَا يَقُولُ هَذَا قَالَ هَذَا يَخَالُنِي امْرَأً جَائِرًا وَأَنَا إِخَالُهُ امْرَأً فَاجِرًا يُظْهِرُ الشَّكْوَى وَيَكْتُمُ قَضَاءً سَائِرًا فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ مَا تَقُولُ فِي بِنْتَيْنِ وَأَبَوَيْنِ وَزَوْجٍ فَقَالَ لِلزَّوْجِ الرُّبُعُ مِنْ جَمِيعِ الْمَالِ وَلِلْأَبَوَيْنِ السُّدُسَانِ وَمَا بَقِيَ فَلِلِابْنَتَيْنِ قَالَ فَلِأَيِّ شَيْءٍ نَقَصْتَنِي قَالَ لَيْسَ أَنَا نَقَصْتُكَ اللَّهُ نَقَصَكَ لِلِابْنَتَيْنِ الثُّلُثَانِ وَلِلْأَبَوَيْنِ السُّدُسَانِ وَلِلزَّوْجِ الرُّبُعُ فَهِيَ مِنْ سَبْعَةٍ وَنِصْفٍ فَرِيضَةً فَرِيضَتُكَ عَائِلَةٌ




৩২০৩. শুরাইহ ইবনুল হারিছ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মৃত স্ত্রীলোকের) দু’ কন্যা, পিতা-মাতা ও স্বামীর অংশের ব্যাপারে (কুফার কাযী) শুরাইহ (রহঃ) এর নিকট অভিযোগ উত্থাপিত হলে তিনি তাদের মাঝে ফায়সালা করে দিলেন। এরপর স্বামী মসজিদে গিয়ে তার (শুরাইহ’র) ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে লাগলো। তখন আব্দুল্লাহ ইবনু রাবাহ লোক পাঠিয়ে তাকে ধরে এনে শুরাইহ’র নিকট পাঠিয়ে দিলেন। আর বললেন, দেখেন তো, এ লোকটি (আপনার সম্পর্কে) কী বলে? তখন তিনি (শুরাইহ) বললেন, এ লোকটি মনে করে যে আমি যালিম, আর আমি মনে করি এ লোকটি ফাসিক-ফাজির (পাপী)। সে প্রকাশ্যে অভিযোগ পেশ করছে এবং প্রচলিত ফায়সালাকে গোপন করছে। তখন লোকটি জিজ্ঞেস করলো, দু’ কন্যা, পিতা-মাতা এবং স্বামী সম্পর্কে আপনার ফায়সালা কী? তিনি বললেন, স্বামী পাবে পুরো সম্পদের এক চতুর্থাংশ, পিতা-মাতা পাবে দুই ষষ্ঠাংশ এবং বাকী সম্পদ দু’ কন্যা পাবে।

তাহলে আপনি আমাকে কম দিলেন কেন? তিনি বললেন, আমি তোমাকে কম দেইনি, বরং আল্লাহই তোমাকে কম দিয়েছেন। দু’ কন্যা পাবে দুই তৃতীয়াংশ, পিতা-মাতা পাবে দুই ষষ্ঠাংশ এবং স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ। ফলে পুরো সম্পদকে সাড়ে সাত ভাগে ভাগ করতে হবে। আর তোমার অংশ হবে ‘আওল’কৃত।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। শুরাইহ ইবনুল হারিছ কুফী কাযী শুরাইহ হতে বর্ণনার ব্যাপারে আমি তার জীবনী পাইনি। বাকী রাবীগণ বিশ্বস্ত।

তাখরীজ: এটি আমি এ বর্ণনা পরম্পরায় পাইনি; তবে ওয়াকী তার কিতাব ‘আখবারুল কাযাহ’ ২/৩৬৪ এ মুহাম্মদ ইবনু সীরীন হতে, তিনি শুরাইহ হতে অনুরূপ ঘটনা বর্ণনা করেছেন যার সনদ সহীহ।









সুনান আদ-দারিমী (3204)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ أَشْعَثَ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ عَلِيٍّ وَعُمَرَ وَزَيْدٍ قَالُوا الْوَالِدُ يَجُرُّ وَلَاءَ وَلَدِهِ




৩২০৪. শা’বী (রহঃ) হতে বর্ণিত, আলী, উমার ও যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, পিতা তার সন্তানের (দাসের) মালিকানা চালিয়ে নেবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ আশ’আস ইবনু সিওয়ারের দুর্বলতার কারণে।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৯৭ নং ১১৫৮৩; আব্দুর রাযযাক ১৬২৭৬, ১৬২৭৭ কেবল উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে মুনকাতি’ সনদে। দেখুন বাইহাকী, ওয়ালা ৬/৩০৭।









সুনান আদ-দারিমী (3205)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ أَشْعَثَ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ الْجَدُّ يَجُرُّ الْوَلَاءَ




৩২০৫. আশ’আস হতে বর্ণিত, শা’বী (রহঃ) বলেন, দাদা মালিকানা ধরে রাখবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আশ’আসের দুর্বলতার কারণে যঈফ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৯৭, ৪০০ নং ১১৫৮৩, ১১৫৯৪; আব্দুর রাযযাক নং ১৬২৮৬ সনদ সহীহ।









সুনান আদ-দারিমী (3206)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ أَشْعَثَ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ شُرَيْحٍ قَالَ الْوَالِدُ يَجُرُّ وَلَاءَ وَلَدِهِ




৩২০৬. ইবনু সীরীন (রহঃ) হতে বর্ণিত, শুরাইহ (রহঃ) বলেন, তার সন্তানের ওয়ালা’ বা অভিভাবকত্ব পিতার নিজের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদও পূর্বের হাদীসটির মতই যঈফ।

তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১৬২৭৮, ১৬২৭৯; ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৯৮, ৩৯৯ নং ১১৫৮৭, ১১৫৮৯; বাইহাকী, ওয়ালা ১০/৩০৭।









সুনান আদ-দারিমী (3207)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا عَنْ عَامِرٍ فِي مَمْلُوكٍ تُوُفِّيَ وَلَهُ أَبٌ حُرٌّ وَلَهُ بَنُونَ مِنْ امْرَأَةٍ حُرَّةٍ لِمَنْ وَلَاءُ وَلَدِهِ قَالَ لِمَوَالِي الْجَدِّ




৩২০৭. যাকারিয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত, কোনো এক দাস মৃত্যূ বরণ করলো, তার পিতা ছিল স্বাধীন পুরুষ এবং তার স্ত্রী ছিল একজন দাসী যার গর্ভে তার কয়েকটি পুত্র ছিল। আমির (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হলো, এ ব্যক্তির সন্তানের মালিকানা (অভিভাবকত্ব) কে পাবে? তিনি বললেন, দাদার মালিক/মনিবগণ।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শা’বী পর্যন্ত সহীহ।

তাখরীজ: বাইহাকী, ওয়ালা ১০/৩০৭।









সুনান আদ-দারিমী (3208)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي مُكَاتَبٍ مَاتَ وَقَدْ أَدَّى نِصْفَ مُكَاتَبَتِهِ وَلَهُ وَلَدٌ مِنْ امْرَأَةٍ أَحْرَارٌ قَالَ مَا أُرَاهُ إِلَّا قَدْ جَرَّ وَلَاءَ وَلَدِهِ




৩২০৮. মুগীরা হতে বর্ণিত, এক মুকাতাব (অর্থের বিনিময়ে মুক্তিদানের চুক্তিকৃত) দাস তার চুক্তিকৃত অর্থের অর্ধেক পরিশোধ করেই মৃত্যুবরণ করলো। আর তার স্বাধীনা স্ত্রীর গর্ভের একটি সন্তান রয়েছে। এ লোক সম্পর্কে ইবরাহীম (রহঃ) বলেন, আমি তো কেবল একথাই মনে করি, সে (তার মালিক/ মনিব) তার সন্তানের মালিকানা ফিরে নিয়ে গেছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ ইবরাহীম পর্যন্ত সহীহ।

তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১৬২৮৭।









সুনান আদ-দারিমী (3209)


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ كَانَ شُرَيْحٌ لَا يَرْجِعُ عَنْ قَضَاءٍ يَقْضِي بِهِ فَحَدَّثَهُ الْأَسْوَدُ أَنَّ عُمَرَ قَالَ إِذَا تَزَوَّجَ الْمَمْلُوكُ الْحُرَّةَ فَوَلَدَتْ أَوْلَادًا أَحْرَارًا ثُمَّ عُتِقَ بَعْدَ ذَلِكَ رَجَعَ الْوَلَاءُ لِمَوَالِي أَبِيهِمْ فَأَخَذَ بِهِ شُرَيْحٌ




৩২০৯. ইবরাহীম (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, শুরাইহ কোনো মামলার রায় দিয়ে দিলে তিনি তা থেকে আর প্রত্যাবর্তন করতেন না। কিন্তু আসওয়াদ যখন তার নিকট বর্ণনা করলেন যে, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: যখন কোনো দাস কোনো স্বাধীনা নারীকে বিয়ে করে, আর সে নারী স্বাধীন সন্তান জন্ম দেয়, অত:পর সে লোকটি স্বাধীন হয়ে গেলে (সেই সন্তানদের) মালিকানা (অভিভাবকত্ব) তাদের পিতার মালিক/মনিবের নিকট ফিরে যাবে।’ তখন শুরাইহ এ মত গ্রহণ করলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বাইহাকী, ওয়ালা ১০/৩০৭; আব্দুর রাযযাক নং ১৬২৮৭; ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৯৯ নং ১১৫৮৯।









সুনান আদ-দারিমী (3210)


حَدَّثَنَا يَعْلَى عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ قَالَ عُمَرُ فِي الْمَمْلُوكِ يَكُونُ تَحْتَهُ الْحُرَّةُ يُعْتَقُ الْوَلَدُ بِعِتْقِ أُمِّهِ فَإِذَا عُتِقَ الْأَبُ جَرَّ الْوَلَاءَ




৩২১০. ইবরাহীম (রহঃ) হতে বর্ণিত, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যদি কোনো দাসের অধীনে কোনো মুক্ত স্ত্রীলোক থাকে যার সন্তানদেরকে তার মাতার মুক্তি দানের মাধ্যমে মুক্তি দান করা হয়, এমতাবস্থায় পিতা মুক্তি পেলে ওয়ালা’ তথা অভিভাবকত্ব চলে যাবে তার পিতার নিকট।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত, তবে এটি মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন। ইবরাহীম নাখঈ উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সাক্ষাত লাভ করেননি।

তাখরীজ: বাইহাকী, ওয়ালা ১০/৩০৬; আব্দুর রাযযাক নং ১৬২৭৬, ১৬২৭৭; ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৯৭ নং ১১৫৮১। তবে অপর সনদে বাইহাকী, ওয়ালা ১০/৩০৬; ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৯৭ নং ১১৫৮২ এর সনদটি সহীহ।









সুনান আদ-দারিমী (3211)


حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ عَنْ كَثِيرِ بْنِ شِنْظِيرٍ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْحُرَّةِ تَحْتَ الْعَبْدِ قَالَ أَمَّا مَا وَلَدَتْ مِنْهُ وَهُوَ عَبْدٌ فَوَلَاؤُهُمْ لِأَهْلِ نِعْمَتِهَا وَمَا وَلَدَتْ مِنْهُ وَهُوَ حُرٌّ فَوَلَاؤُهُمْ لِأَهْلِ نِعْمَتِهِ




৩২১১. কাছীর ইবনু শিনজীর হতে বর্ণিত, যদি কোনো দাসের অধীনে কোনো মুক্ত স্ত্রীলোক থাকে, এক্ষেত্রে আতা (রহঃ) বলেন, সে স্ত্রীলোক এ লোকের ওরসে যে সন্তান জন্ম দেবে, সে যদি দাস হয়, তখন এ সন্তানের ওয়ালা’ বা অভিভাবকত্ব পাবে সে স্ত্রীলোকের (মুক্তিদানকারী) অভিভাবকগণ। আর সে স্ত্রীলোক এ লোকের ওরসে যে মুক্ত/স্বাধীন সন্তান জন্ম দেবে, সে সকল সন্তানের ওয়ালা’ বা অভিভাবকত্ব পাবে সে পুরুষের (মুক্তিদানকারী) অভিভাবকগণ।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আতা পর্যন্ত সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/৪০৩ নং ১১৫৯৭; আব্দুর রাযযাক নং ১৬২৯০ সহীহ সনদে।









সুনান আদ-দারিমী (3212)


حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ قَالَ عُمَرُ إِذَا كَانَتْ الْحُرَّةُ تَحْتَ الْمَمْلُوكِ فَوَلَدَتْ لَهُ غُلَامًا فَإِنَّهُ يُعْتَقُ بِعِتْقِ أُمِّهِ وَوَلَاؤُهُ لِمَوَالِي أُمِّهِ فَإِذَا أُعْتِقَ الْأَبُ جَرَّ الْوَلَاءَ إِلَى مَوَالِي أَبِيهِ




৩২১২. ইবরাহীম (রহঃ) হতে বর্ণিত, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: যদি কোনো দাসের অধীনে কোনো মুক্ত স্ত্রীলোক থাকে , আর তার গর্ভে সেই দাসের পক্ষের কোনো ছেলে থাকে, ফলে সে ছেলেকে তার মাতার মুক্ত হওয়ার কারণে মুক্তি দান করা হবে, আর তার ওয়ালা’ বা অভিভাবকত্ব লাভ করবে সে স্ত্রীলোকের অভিভাবকগণ। এরপর যখন তার পিতা মুক্তি পাবে, তখন তার (ছেলের) ওয়ালা’ তথা অভিভাবকত্ব চলে যাবে তার পিতার অভিভাবকগণের নিকট।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন।

তাখরীজ: বাইহাকী, ওয়ালা ১০/৩০৬। বাইহাকী বলেন, এটি মুনকাতি’, তবে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে এটি মুত্তাসিল হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে…।“ আর এটি ৩২০৬ এ গত হয়েছে যেখানে আমরা এটি মুনাকাতি’ ও মুত্তাসিল উভয়টি তাখরীজ করেছি।









সুনান আদ-দারিমী (3213)


حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ابْنِ إِسْحَقَ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَتْ أُمِّي مَوْلَاةً لِلْحُرَقَةِ وَكَانَ أَبِي يَعْقُوبُ مُكَاتَبًا لِمَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ النَّصْرِيِّ ثُمَّ إِنَّ أَبِي أَدَّى كِتَابَتَهُ فَدَخَلَ الْحُرَقِيُّ عَلَى عُثْمَانَ يَسْأَلُ الْحَقَّ يَعْنِي الْعَطَاءَ وَعِنْدَهُ مَالِكُ بْنُ أَوْسٍ فَقَالَ ذَاكَ مَوْلَايَ فَاخْتَصَمَا إِلَى عُثْمَانَ فَقَضَى بِهِ لِلْحُرَقِيِّ




৩২১৩. আলা’ ইবনু আব্দুর রহমান তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমার মাতা ছিলেন একজন অগ্নিদগ্ধ মহিলার মুক্ত দাসী। আর আমার পিতা মালিক ইবনু আউস ইবনুল হাদাছানী আন নাসরীর সাথে মুকাতাবাহ’ (অর্থের বিনিময়ে মুক্তি দানে চুক্তি)-তে আবদ্ধ ছিলেন। এরপর আমার পিতা তার সকল অর্থ পরিশোধ করে দেন। তখন অগ্নিদগ্ধ লোকটি উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট গিয়ে আমার উপর তার অধিকার চাই - তথা আমাকে দান হিসেবে চায়; তখন মালিক ইবনু আউস তার নিকট উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বলেন, এ তো আমার মুক্ত দাস। তখন তারা উভয়ে উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট মোকদ্দমা পেশ করেন। তখন তিনি ফায়সালা করেন যে, তাকে (আামর পিতাকে) অগ্নিদগ্ধ লোকটি পাবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত, তবে মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক এটি ‘আন আন’ শব্দে বর্ণনা করেছেন আর তিনি মুদাল্লিস।

তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি। তবে দেখতে পারেন, বাইহাকী, ওয়ালা ১০/৩১৫।









সুনান আদ-দারিমী (3214)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ أَخْبَرَنِي سَهْمُ بْنُ يَزِيدَ الْحَمْرَاوِيُّ أَنَّ رَجُلًا تُوُفِّيَ وَلَيْسَ لَهُ وَارِثٌ فَكُتِبَ فِيهِ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَهُوَ خَلِيفَةٌ فَكَتَبَ أَنْ اقْتَسِمُوا مِيرَاثَهُ عَلَى مَنْ كَانَ يَأْخُذُ مَعَهُمْ الْعَطَاءَ فَقُسِمَ مِيرَاثُهُ عَلَى مَنْ كَانَ يَأْخُذُ مَعَهُمْ الْعَطَاءَ فِي عِرَافَتِهِ




৩২১৪. সাহম ইবনু ইয়াযিদ আল হামরাঈ হতে বর্ণিত, একটি লোক মৃত্যু বরণ করলো যার কোন ওয়ারিস ছিল না। তার ব্যাপারে তিনি খলীফা উমার ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ) এর নিকট জানতে চেয়ে চিঠি পাঠালেন। তখন তিনি জবাবে লিখে পাঠালেন যে, যাদের সাথে থেকে সে সরকারী অনুদান গ্রহণ করতো, তাদের তাদের মাঝে এর মীরাছ বন্টন করে দাও। তখন যাদের সাথে থেকে সে (সরকারী) অনুদান গ্রহণ করতো, তার সেসকল পরিচিত জনদের মাঝে এর মীরাছ বন্টন করে দেওয়া হলো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।

তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি। তবে দেখতে পারেন, আব্দুর রাযযাক নং ১৬২৭৪।









সুনান আদ-দারিমী (3215)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ وَلَهُ شَيْءٌ يُوصِي فِيهِ إِلَّا وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ




৩২১৫. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন মুসলিম ব্যক্তির উচিত নয় যে, তার অসীয়াতযোগ্য কিছু (সম্পদ) রয়েছে, এমতাবস্থায় সে দু’টি রাতও কাটাবে অথচ তার নিকট তার অসীয়াত লিখিত থাকবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, ওয়াসাইয়া ২৭৩৮; মুসলিম, ওয়াসিয়া ১৬২৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৫১২, ৫৫৪৬, ৫৮২৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬০২৪, ৬০২৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭১৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (3216)


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَشْهَبِ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ قَالَ الْمُؤْمِنُ لَا يَأْكُلُ فِي كُلِّ بَطْنِهِ وَلَا تَزَالُ وَصِيَّتُهُ تَحْتَ جَنْبِهِ




৩২১৬. আবূ আশহাব হতে বর্ণিত, হাসান (রহঃ) বলেন, মু’মিন ব্যক্তি তার নিকট ওয়াসীয়াত (লিখিত) না রেখে কিছুই খায় না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান পর্যন্ত সহীহ।

তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (3217)


أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ لِي ثُمَامَةُ بْنُ حَزْنٍ مَا فَعَلَ أَبُوكَ قُلْتُ مَاتَ قَالَ فَهَلْ أَوْصَى فَإِنَّهُ كَانَ يُقَالُ إِذَا أَوْصَى الرَّجُلُ كَانَ وَصِيَّتُهُ تَمَامًا لِمَا ضَيَّعَ مِنْ زَكَاتِهِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد وَقَالَ غَيْرُهُ الْقَاسِمُ بْنُ عَمْرٍو




৩২১৭. কাসিম ইবনু উমার (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে ছুমামাহ ইবনু হাযন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তোমার পিতার কী অবস্থা? আমি বললাম, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বললেন, তবে তিনি কি কোন ওয়াসীয়াত করে গেছেন? কেননা, বর্ণিত হয়েছে যে, যখন কোনো লোক ওয়াসীয়াত করে তখন তার যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো কমতি বা ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকলে ওয়াসীয়াত তার ক্ষতিপুরণ হয়ে যায়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান পর্যন্ত সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/২০৫ নং ১০৯৮২; আব্দুর রাযযাক নং ১৬৩৩০; সাঈদ ইবনু মানসূর নং ৩৪৬।









সুনান আদ-দারিমী (3218)


حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ كَانَ يُقَالُ مَنْ أَوْصَى بِوَصِيَّةٍ فَلَمْ يَجُرْ وَلَمْ يَحِفْ كَانَ لَهُ مِنْ الْأَجْرِ مِثْلُ مَا أَنْ لَوْ تَصَدَّقَ بِهِ فِي حَيَاتِهِ




৩২১৮. শা’বী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি কোনো ওয়াসীয়াত করলো, যেখানে সে কোনো জুলুম-বাড়াবাড়ি ও অন্যায় করেনি, তার জীবদ্দশায় তা সাদাকা করলে যে সাওয়াব পেতো, এ জন্য সে অনুরূপ সাওয়াব পাবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শা’বী পর্যন্ত সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/২০৩ নং ১০৯৭৯; আব্দুর রাযযাক নং ১৬৩২৯; সাঈদ ইবনু মানসূর নং ২৪৫।









সুনান আদ-দারিমী (3219)


أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي يُونُسَ عَنْ قَزَعَةَ قَالَ قِيلَ لِهَرِمِ بْنِ حَيَّانَ أَوْصِهْ قَالَ أُوصِيكُمْ بِالْآيَاتِ الْأَوَاخِرِ مِنْ سُورَةِ النَّحْلِ وَقَرَأَ ابْنُ حَيَّانَ ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ إِلَى قَوْلِهِ وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ




৩২১৯. কায’আহ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হারিম ইবনু হাইয়ানকে বলা হলো, আপনি আমাদেরকে ওয়াসীয়াত করুন (উপদেশ দিন)। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে সুরা নাহলের শেষের কয়েকটি আয়াত ওয়াসীয়াত করছি’- এ কথা বলে তিনি তিলাওয়াত করলেন, “তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান কর হিকমাত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে যুক্তিতর্ক কর সদ্ভাবে; তোমার প্রতিপালক, তাঁর পথ ছেড়ে কে বিপদগামী হয় সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত এবং কে সত্পথে আছে তাও সবিশেষ অবহিত। যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর, তবে ঠিক ততখানি প্রতিশোধ গ্রহণ করবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে; তবে তোমরা ধৈর্য্যধারণ করলে ধৈর্য্যশীলদের জন্য ওটাও তো উত্তম। তুমি ধৈর্য্যধারণ করো, তোমার ধৈর্য্য তো হবে আল্লাহর সাহায্যে; তাদের জন্য দু:খ করো না এবং তাদের ষড়যন্ত্রে তুমি মনক্ষুণ্ন হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরই সঙ্গে আছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সত্কর্ম পরায়ণ।“[1] (সুরা নাহল: আয়াত ১২৫-১২৮)

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শা’বী পর্যন্ত সহীহ।

তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ২/১২১; ইবনু আবী শাইবা ১৩/৫৬২ নং ১৭২৮৩ সহীহ সনদে; আহমাদ, যুহদ পৃ: ২৩১।









সুনান আদ-দারিমী (3220)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ الْيَامِيِّ قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى أَوْصَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا قُلْتُ فَكَيْفَ كُتِبَ عَلَى النَّاسِ الْوَصِيَّةُ أَوْ أُمِرُوا بِالْوَصِيَّةِ فَقَالَ أَوْصَى بِكِتَابِ اللَّهِ وَقَالَ هُزَيْلُ بْنُ شُرَحْبِيلَ أَبُو بَكْرٍ كَانَ يَتَأَمَّرُ عَلَى وَصِيِّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَدَّ أَبُو بَكْرٍ أَنَّهُ وَجَدَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَهْدًا فَخَزَمَ أَنْفَهُ بِخِزَامَةٍ




৩২২০. তালহা ইবনু মুসাররিফ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবী আওফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি অসীয়াত করেছিলেন? তিনি বলেন, না। আমি বললাম, তাহলে কিভাবে লোকদের উপর অসীয়াত ফরজ করা হলো, কিংবা ওয়াসিয়াতের নির্দেশ দেয়া হলো? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কিতাব (অনুসারে ‘আমল করার) জন্য অসীয়াত করেছেন।[1]হুযাইল ইবনু শুরাহবিল (রহঃ) বলেন, আবূ বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওসীয়াত অনুযায়ী নির্দেশ দিতে পছন্দ করতেন। আবূ বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে ভালবাসতেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে নির্দেশই পান, তার লাগাম তিনি তার নাকে পরেন।[2]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, ওয়াসাইয়া ২৭৪০।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬০২৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৩৯ তে। এছাড়াও, ইবনু মাজাহ, ওয়াসাইয়া ২৬৯৬; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ২/১/৪৯; ইবনু আবী শাইবা ১১/২০৬ নং ১০৯৮৬।

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আগের সনদটির সাথে মাওসুল (সংযুক্ত)।

তাখরীজ: মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৩৯; ইবনু মাজাহ, ওয়াসাইয়া ২৬৯৬; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ২/১/৪৯।হাফিজ (ইবনু হাজার) ফাতহুল বারী ৫/৩৬১ তে একে ইবনু মাজাহ ও আবূ আওয়ানাহ’র সাথে সম্বোন্ধিত করেছেন।









সুনান আদ-দারিমী (3221)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ قَالَ الْخَيْرُ الْمَالُ كَانَ يُقَالُ أَلْفًا فَمَا فَوْقَ ذَلِكَ




৩২২১. হাম্মাম হতে বর্ণিত, (إِنْ تَرَكَ خَيْراً الْوَصِيَّة) “যখন তোমাদের কারও মৃত্যু নিকটবর্তী বলে মনে হয়, সে যদি তখন ধন-সম্পত্তি ছেড়ে যায় তবে পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজনের জন্যে বৈধভাবে ওয়াসীয়াত করা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করা হলো, আল্লাহভীরুদের জন্য এটি অবশ্যকরণীয়।“ (সূরা বাকারাঃ আয়াত ১৮০)

এ আয়াত সম্পর্কে কাতাদা (রহঃ) বলেন, (এখানে) ‘আল খাইর’ অর্থ ‘মাল’-সম্পদ। আর বলা হতো: এক হাজার ও তার অধিক সম্পদে (ওসীয়াত কার্যকর)।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ২/১২১; ইবনু আবী শাইবা ১১/২০৮ নং ১০৯৯১।









সুনান আদ-দারিমী (3222)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ أَنَّهُ أَوْصَى ذِكْرُ مَا أَوْصَى بِهِ أَوْ هَذَا ذِكْرُ مَا أَوْصَى بِهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ بَنِيهِ وَأَهْلَ بَيْتِهِ أَنْ اتَّقُوا اللَّهَ وَأَصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِكُمْ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ وَأَوْصَاهُمْ بِمَا أَوْصَى بِهِ إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمْ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ وَأَوْصَاهُمْ أَنْ لَا يَرْغَبُوا أَنْ يَكُونُوا مَوَالِيَ الْأَنْصَارِ وَإِخْوَانَهُمْ فِي الدِّينِ وَأَنَّ الْعِفَّةَ وَالصِّدْقَ خَيْرٌ وَأَتْقَى مِنْ الزِّنَا وَالْكَذِبِ إِنْ حَدَثَ بِهِ حَدَثٌ فِي مَرَضِي هَذَا قَبْلَ أَنْ أُغَيِّرَ وَصِيَّتِي هَذِهِ ثُمَّ ذَكَرَ حَاجَتَهُ




৩২২২. মুহাম্মদ ইবনু সীরীন (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি সে কথার দ্বারাই ওয়াসীয়াত করেন, অথবা এ হলো সেই কথামালা যার দ্বারা মুহাম্মদ ইবনু আবী আমরাহ তার ছেলেদেরকে এবং তার পরিবারবর্গ কে ওয়াসীয়াত করেন। তা হলো, “অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক সঠিকরূপে গড়ে নাও, আর যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাক তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর।“ (সুরা আনফাল: ১)

আর তিনি সে কথার দ্বারাই তাদেরকে ওয়াসীয়াত করেন, যার দ্বারা ইবরাহীম ও ইয়া’কুব আলাইহিমাস সালাম তাঁদের নিজ নিজ ছেলেদেরকে কে ওয়াসীয়াত করেন: “হে আমার বংশধর: নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীন (জীবন ব্যবস্থা) মনোনীত করেছেন, অতএব, তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।“ (সূরা বাকারাঃ ১৩২) এছাড়া, তিনি তাদেরকে আরও ওয়াসীয়াত করেন যে, তারা আনসারদের মাওলা ও দ্বীনী ভাই হওয়ার কামনা করবে না; চারিত্রিক পবিত্রতা ও সততা-সত্যবাদিতা যিনা ও মিথ্যাচারিতা হতে উত্তম ও স্থায়ী। আমার এ ওয়াসীয়াত পরিবর্তন করার পূর্বেই আমার এ অসুস্থতায় কিছু ঘটে যায় (তার মুত্যু হয়), এ বলে তিনি তার (ওয়াসীয়াতকৃত) বস্তুর কথা উল্লেখ করলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুহাম্মদ ইবনু সীরীন পর্যন্ত সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/২৩২ নং ১১০৭৮; বাইহাকী, ওয়াসাইয়া ৬/২৮৭।