সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ أَخْبَرَنَا أَبُو قَطَنٍ عَمْرُو بْنُ الْهَيْثَمِ عَنْ أَبِي خَلْدَةَ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ قَالَ كُنَّا نَسْمَعُ الرِّوَايَةَ بِالْبَصْرَةِ عَنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ نَرْضَ حَتَّى رَكِبْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ فَسَمِعْنَاهَا مِنْ أَفْوَاهِهِمْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৫৮৩. আবুল আলীয়া বলেন: আমরা যখন বসরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবাগণের সূত্রে হাদীস শুনতাম, তখন আমরা মদীনায় সফর করে সেটি তাদের নিজেদের মুখে না শোনা পর্যন্ত তৃপ্ত হতাম না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আল ফাসাওয়ী, আল মা’রেফাতু ওয়াত তারীখ ১/৪৪১-৪৪২; খতীব, আর রিহলাতু ফী তলাবিল হাদীস নং ২১; আবু যুর’আহ, তারীখ নং ৯২৪; ইবনু আব্দুল বার, আত তামহীদ ১/৫৬ সহীহ সনদে।
أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ التُّسْتَرِيِّ قَالَ قَالَ دَاوُدُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْ لِصَاحِبِ الْعِلْمِ يَتَّخِذْ عَصًا مِنْ حَدِيدٍ وَنَعْلَيْنِ مِنْ حَدِيدٍ وَيَطْلُبْ الْعِلْمَ حَتَّى تَنْكَسِرَ الْعَصَا وَتَنْخَرِقَ النَّعْلَانِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده مظلم
৫৮৪. আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান আল-কুশাইরী হতে, তিনি বলেন, নবী দাউদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ইলম শিক্ষার্থীকে বল, সে যেনো একটি লোহার লাঠি সাথে রাখে এবং একজোড়া লোহার জুতা পরিধান করে নেয় এরপর ইলম অন্বেষণ করতে থাকে যতক্ষণ না তার লাঠি ভেঙ্গে যায় এবং জুতা জোড়া ছিঁড়ে যায়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ অন্ধকারাচ্ছন্ন বা ‘মুযলিম’।
তাখরীজ: এসনদে এটি আমি আর কোথাও পাইনি।
তবে অন্য সনদে এটি বর্ণনা করেছেন ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৫৭৭ (নবী মুসা আ: উপর অবতীর্ণ ওহীরূপে)।
দেখুন খতীব, আর রিহলাত, পৃ: ৮৬।
أَخْبَرَنَا مَخْلَدُ بْنُ مَالِكٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأُمَوِيُّ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ مِنْ آلِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ طَلَبْتُ الْعِلْمَ فَلَمْ أَجِدْهُ أَكْثَرَ مِنْهُ فِي الْأَنْصَارِ فَكُنْتُ آتِي الرَّجُلَ فَأَسْأَلُ عَنْهُ فَيُقَالُ لِي نَائِمٌ فَأَتَوَسَّدُ رِدَائِي ثُمَّ أَضْطَجِعُ حَتَّى يَخْرُجَ إِلَى الظُّهْرِ فَيَقُولُ مَتَى كُنْتَ هَا هُنَا يَا ابْنَ عَمِّ رَسُولِ اللَّهِ فَأَقُولُ مُنْذُ زَمَنٍ طَوِيلٍ فَيَقُولُ بِئْسَ مَا صَنَعْتَ هَلَّا أَعْلَمْتَنِي فَأَقُولُ أَرَدْتُ أَنْ تَخْرُجَ إِلَيَّ وَقَدْ قَضَيْتَ حَاجَتَكَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :في إسناده الحجاج وهو: ابن أرطاة وهو ضعيف
৫৮৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: আমি ইলম অন্বেষণ করতে থাকলাম ফলে আনসারগণের চেয়ে অধিক ইলম আর কোথাও পেলাম না। আমি (তাদের মধ্যকার) একজন লোকের নিকট আসতাম এবং তাকে প্রশ্ন করতাম। তখন উত্তরে আমাকে বলা হতো: তিনি ঘুমিয়ে আছেন। তখন আমার চাদরকে বালিশ বানিয়ে আমিও শুয়ে পড়তাম যতক্ষণ না তিনি যোহরের সময় বের হয়ে আসতেন। তারপর তিনি বলতেন: হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচার ছেলে! তুমি এখানে কতক্ষণ ধরে আছো? আমি বলতাম: অনেকক্ষণ ধরেই। তারপর তিনি বলতেন: তুমি যা করেছো তা খুবই খারাপ হয়েছে। তুমি কি আমাকে জানাতে পারো নি? তখন আমি বলতাম: আমি চেয়েছি, আপনি আপনার প্রয়োজন সেরে আমার নিকট বের হয়ে আসুন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদে হাজ্জাজ রয়েছে, তিনি হলেন: ইবনু আরতাহ’। তিনি যঈফ। তবে আছারটি সহীহ। দেখুন পরবর্তী ৫৮৬, ৫৯০ নং আছার দু’টি।
তাখরীজ: ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম, ৫৬৮, ৫৯২ নং এর টীকায় যঈফ zwj;ও মুনকাতি’ সনদে; খতীব, আল জামি’ নং ২২১।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ وُجِدَ أَكْثَرُ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ هَذَا الْحَيِّ مِنْ الْأَنْصَارِ وَاللَّهِ إِنْ كُنْتُ لَآتِي الرَّجُلَ مِنْهُمْ فَيُقَالُ هُوَ نَائِمٌ فَلَوْ شِئْتُ أَنْ يُوقَظَ لِي فَأَدَعُهُ حَتَّى يَخْرُجَ لِأَسْتَطِيبَ بِذَلِكَ حَدِيثَهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن
৫৮৬. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: আনসারদের গোত্রের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদীস পাওয়া গিয়েছিলো। আল্লাহর কসম! যখনই আমি এ লোকটির নিকট আসতাম, তখনই আমাকে বলা হতো, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। যদিও আমি চাইলে তাকে জাগাতে পারতাম, তারপরও তিনি নিজে বের না হওয়া পর্যন্ত আমি তাকে (সেই অবস্থায়) থাকতে দিতাম তার হাদীসের সম্মানার্থে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আবু খাইছামা, আল ইলম নং ১৩৩; খতীব, আল জামি’ নং ২২৫; আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাককিহ নং ১০০১; ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাহ ১/৫৪০।
أَخْبَرَنَا أَبُو مَعْمَرٍ إِسْمَعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ لَوْ رَفَقْتُ بِابْنِ عَبَّاسٍ لَأَصَبْتُ مِنْهُ عِلْمًا كَثِيرًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৫৮৭. আবু সালামাহ বলেন: আমি যদি ইবনু আব্বাসের সাথী হতে পারতাম, তবে অবশ্যই আমি তার নিকট হতে অনেক ইলম লাভ করতে পারতাম।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ১/৫৫৯; খতীব, আল জামি’ নং ৩৮৫ সহীহ সনদে।
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ كُنْتُ آتِي بَابَ عُرْوَةَ فَأَجْلِسُ بِالْبَابِ وَلَوْ شِئْتُ أَنْ أَدْخُلَ لَدَخَلْتُ وَلَكِنْ إِجْلَالًا لَهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৫৮৮. যুহরী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উরওয়াহ’ (রাহিমাহুল্লাহ) এর দরজায় আসতাম। তারপর তার দরজায় বসে যেতাম। আমি (তার নিকট) প্রবেশ করতে চাইলে প্রবেশ করতে পারতাম, কিন্তু তার সম্মানার্থে (আমি প্রবেশ করতাম না)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: খতীব, আল জামি’ নং ২২২; ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাহ ১/৬৩৪; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৩/৩৬২।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ عَنْ يَعْلَى بْنِ حَكِيمٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ لِرَجُلٍ مِنْ الْأَنْصَارِ يَا فُلَانُ هَلُمَّ فَلْنَسْأَلْ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنَّهُمْ الْيَوْمَ كَثِيرٌ فَقَالَ وَا عَجَبًا لَكَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ أَتَرَى النَّاسَ يَحْتَاجُونَ إِلَيْكَ وَفِي النَّاسِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَرَى فَتَرَكَ ذَلِكَ وَأَقْبَلْتُ عَلَى الْمَسْأَلَةِ فَإِنْ كَانَ لَيَبْلُغُنِي الْحَدِيثُ عَنْ الرَّجُلِ فَآتِيهِ وَهُوَ قَائِلٌ فَأَتَوَسَّدُ رِدَائِي عَلَى بَابِهِ فَتَسْفِي الرِّيحُ عَلَى وَجْهِي التُّرَابَ فَيَخْرُجُ فَيَرَانِي فَيَقُولُ يَا ابْنَ عَمِّ رَسُولِ اللَّهِ مَا جَاءَ بِكَ أَلَا أَرْسَلْتَ إِلَيَّ فَآتِيَكَ فَأَقُولُ لَا أَنَا أَحَقُّ أَنْ آتِيَكَ فَأَسْأَلُهُ عَنْ الْحَدِيثِ قَالَ فَبَقِيَ الرَّجُلُ حَتَّى رَآنِي وَقَدْ اجْتَمَعَ النَّاسُ عَلَيَّ فَقَالَ كَانَ هَذَا الْفَتَى أَعْقَلَ مِنِّي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৫৮৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুবরণ করলেন, তখন আমি আনসারদের এক লোককে বললাম, হে অমুক! চলুন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের নিকট (হাদীস সম্পর্কে) প্রশ্ন করি। তখন তিনি বললেন: zwj;হে ইবনু আব্বাস! তুমি কী আশ্চর্যজনক কথা বলছো! তুমি কি মনে করো লোকেরা তোমার মুখাপেক্ষী হবে? যেখানে লোকদের মাঝে এখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক সাহাবী বিদ্যমান রয়েছেন, যাদেরকে তুমি দেখতে পাচ্ছো। এ কথা বলে তিনি ছেড়ে দিলেন। কিন্তু আমি আমার প্রশ্ন নিয়ে এগিয়ে চললাম। এরপর যদি আমার নিকট সংবাদ পৌঁছতো কোনো লোকের নিকট হাদীস রয়েছে, তবে আমি তার নিকট যেতাম। আর তিনি (অনেক সময়) ঘুমিয়ে থাকতেন। ফলে আমি আমার চাদরকে বালিশ বানিয়ে তার দরজায় শুয়ে পড়তাম। বাতাস আমার মুখের উপর ধুলো-বালি উড়িয়ে নিয়ে এসে ফেলতো। পরে তিনি বাইরে বের হতেন এবং আমাকে দেখতে পেতেন। তখন তিনি বলতেন: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চাচাতো ভাই ইবনু আব্বাস! তুমি কি কাজে এসেছো? আমাকে ডেকে পাঠালেই তো পারতে, আমি তোমার নিকট যেতাম। তখন আমি বলতাম: না, বরং আমার আপনার নিকট আসাটাই অধিক যুক্তিযুক্ত। তারপর আমি তাকে হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতাম। তিনি বলেন: তিনি আমাকে দেখতে পাওয়ার আগেই আমার নিকট লোকজন জড়ো হয়ে যেতো। তখন তিনি বলেন: এ যুবকটি আমার চেয়েও অধিক জ্ঞানী।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাহ ১/৫৪২; হাকিম, ১/১০৬; খতীব, আল জামি’ লি আখলাকির রাবী নং ২১৫; ৫৮৫, ৫৮৬ আছার zwj;দু’টি দেখুন।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ أَنَّ رَجُلًا مَنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَحَلَ إِلَى فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ وَهُوَ بِمِصْرَ فَقَدِمَ عَلَيْهِ وَهُوَ يَمُدُّ لِنَاقَةٍ لَهُ فَقَالَ مَرْحَبًا قَالَ أَمَا إِنِّي لَمْ آتِكَ زَائِرًا وَلَكِنْ سَمِعْتُ أَنَا وَأَنْتَ حَدِيثًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجَوْتُ أَنْ يَكُونَ عِنْدَكَ مِنْهُ عِلْمٌ قَالَ مَا هُوَ قَالَ كَذَا وَكَذَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৫৯০.[1] আব্দুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন সাহাবী ফাদালাহ ইবনু উবাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট সফর করে গেলেন, তিনি মিসরে অবস্থান করছিলেন। সেই সাহাবী তার নিকট উপস্থিত হলেন যখন তিনি তার উটের জন্য খাবার যোগাড় করছিলেন। (তাকে দেখে) তিনি বলে উঠলেন: মারহাবা! স্বাগতম! এ সাহাবী তাকে বললেন: জেনে রাখুন, আমি আপনার সাথে শুধু সাক্ষাতের জন্য আসিনি। বরং আমি শুনেছি যে, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস বর্ণনা করছেন। আমি প্রত্যাশা করলাম যে, আপনার নিকট তাঁর থেকে (হাদীস বিষয়ক) কোনো ইলম রয়ে গেছে। তখন তিনি বললেন: সেটা আবার কী? তিনি জবাব দিলেন: এই এই (ইলম)।[2]
[1] এ সংস্করণে ৫৮৯ নং ক্রমটি বাদ পড়েছে। ৫৮৮ নং এর পরেই ৫৯০ ক্রমিক নং লেখা হয়েছে, যা স্পষ্টত ভুল।
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: (মুহাক্কিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি-অনুবাদক।)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ حَرْبٍ عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى عَنْ الْحَسَنِ أَنَّهُ دَخَلَ السُّوقَ فَسَاوَمَ رَجُلًا بِثَوْبٍ فَقَالَ هُوَ لَكَ بِكَذَا وَكَذَا وَاللَّهِ لَوْ كَانَ غَيْرَكَ مَا أَعْطَيْتُهُ فَقَالَ فَعَلْتُمُوهَا فَمَا رُئِيَ بَعْدَهَا مُشْتَرِيًا مِنْ السُّوقِ وَلَا بَائِعًا حَتَّى لَحِقَ بِاللَّهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده صحيح
৫৯১. হাসান রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত: একদা তিনি বাজারে প্রবেশ করে একটি কাপড়ের দরদাম করছিলেন। তখন লোকটি বলল: এর (দাম) আপনার জন্য এত এত। আল্লাহর কসম! যদি আপনি না হয়ে অন্য কেউ হতো, তবে (এই দামে) এটি আমি তাকে দিতাম না। তখন তিনি বললেন: তোমরা কি একাজ করে থাকো? এরপর থেকে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ লাভের আগ পর্যন্ত আর তাকে কখনো ক্রয় বা বিক্রয়ের জন্য বাজারে দেখা যায়নি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি- অনুবাদক)
أَخْبَرَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ جَمِيلٍ عَنْ حُسَامٍ عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَنَّهُ كَانَ لَا يَشْتَرِي مِمَّنْ يَعْرِفُهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف جدا حسام بن مصك كاد أن يترك
৫৯২. ইবরাহীম রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, যে ব্যক্তি তাকে চিনতো, তার নিকট হতে তিনি কোনো কিছু ক্রয় করতেন না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ অত্যন্ত যঈফ, হিশাম ইবনু মিসক সম্ভবত মাতরুক।
তাখরীজ: আমি এটি অন্য কোথাও পাইনি।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ السَّلَامِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْوَلِيدِ الْمُزَنِيِّ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ الْحَسَنِ قَالَ قَسَمَ مُصْعَبُ بْنُ الزُّبَيْرِ مَالًا فِي قُرَّاءِ أَهْلِ الْكُوفَةِ حِينَ دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ فَبَعَثَ إِلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْقِلٍ بِأَلْفَيْ دِرْهَمٍ فَقَالَ لَهُ اسْتَعِنْ بِهَا فِي شَهْرِكَ هَذَا فَرَدَّهَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَعْقِلٍ وَقَالَ لَمْ نَقْرَأْ الْقُرْآنَ لِهَذَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৫৯৩. উবাইদ ইবনুল হাসান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা যখন রমযান মাস শুরু হলো তখন মুস’আব ইবনু যুবাইর কিছু মাল-সম্পদ কুফা’র কারীদের মাঝে দান করলেন। তারপর তিনি আব্দুর রহমান ইবনু মা’কিল-এর নিকট দু’হাজার দিরহাম পাঠিয়ে দিলেন। আর তাকে বলে পাঠালেন: এ মাসে এগুলো দ্বারা উপকৃত হোন। কিন্তু, আব্দুর রহমান বিন মা’কিল তা ফেরত পাঠিয়ে বললেন: আমরা এর জন্য কুরআন পাঠ করি না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি- অনুবাদক)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ مَنْ أَرْبَابُ الْعِلْمِ قَالَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ بِمَا يَعْلَمُونَ قَالَ فَمَا يَنْفِي الْعِلْمَ مِنْ صُدُورِ الرِّجَالِ قَالَ الطَّمَعُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات وإسناده صحيح
৫৯৪. উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার বর্ণনা করেন: উমার ইবনুল খাত্ত্বাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: ইলমের অধিকারী কারা? তিনি জবাবে বলেন: যারা তাদের ইলম অনুযায়ী আমল করে। তিনি বললেন: আর কোন্ জিনিস মানুষের অন্তর থেকে ইলমকে বের করে দেয়? উত্তরে তিনি বলেন: লোভ-লালসা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ, রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত।
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি। দেখুন পরবর্তী হাদীস নং ৬০৪ (যা আমাদের ক্রমে ৬০৩- অনুবাদক)।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ زَيْدٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ مَا أَوَى شَيْءٌ إِلَى شَيْءٍ أَزْيَنَ مِنْ حِلْمٍ إِلَى عِلْمٍ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৫৯৫. আতা রাহি. বলেন: কোনো বিষয়কে অপর বিষয়ের নিকট স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে সহনশীলতা (অথবা বিচক্ষণতা)কে ইলমের নিকট স্থান দেওয়ার চেয়ে অধিক সুন্দর আর কিছুই নেই।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবু খায়ছামা, আল ইলম নং ৮১; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৮০৬-৮০৭।
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا عَاصِمٌ الْأَحْوَلُ عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ قَالَ زَيْنُ الْعِلْمِ حِلْمُ أَهْلِهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৫৯৬. আমির আশ-শা’বী রাহি. বলেন: ইলমের সৌন্দর্যই হলো ইলমের ধারকের সহিষ্ণুতা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ৮/৫৯৬ নং ৫৬৭৩; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৪/৩১৮; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৮৫৩০।
أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا زَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ وَهْرَامٍ عَنْ طَاوُسٍ قَالَ مَا حُمِلَ الْعِلْمُ فِي مِثْلِ جِرَابِ حِلْمٍ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف من أجل زمعة بن صالح
৫৯৭. তাউস রাহি. বলেন: ইলমকে বহন করার ক্ষেত্রে ধৈয্যের থলের কোনো জুড়ি নেই।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ যাম’আহ ইবনু সালিহ’র কারণে।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৮/৫৯৭ নং ৫৬৭৫; আবু নুযাইম, হিলইয়া ৯/২৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৮৫৩১; আর এর শাহিদ রয়েছে ইবনু আবী শাইবা নং ৫৬৭৬-এ যা একে শক্তিশালী করে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ ابْنِ شُبْرُمَةَ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ زَيْنُ الْعِلْمِ حِلْمُ أَهْلِهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف من أجل محمد بن حميد
৫৯৮. আশ-শা’বী রাহি. বলেন: ইলমের সৌন্দর্যই হলো ইলমের ধারকের সহিষ্ণুতা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, মুহাম্মদ ইবনু হামীদ যঈফ হওয়ায়। তবে আছারটি সহীহ যা ৫৯৭ (৫৯৬) নং এ গত হয়েছে।
তাখরীজ: (মুহাক্কিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি, তবে এর তাখরীজের জন্য ৫৯৬ এর তাখরীজ দেখুন- অনুবাদক।)
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا مُطَرِّفُ بْنُ مَازِنٍ عَنْ يَعْلَى بْنِ مِقْسَمٍ عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ إِنَّ الْحِكْمَةَ تَسْكُنُ الْقَلْبَ الْوَادِعَ السَّاكِنَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده ضعيف من أجل مطرف بن مازن
৫৯৯. ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ রাহি. বলেন: হিকমত বা তত্ত্বজ্ঞান অন্তর প্রশান্তকারী, ধীর-স্থির ব্যক্তির জন্য প্রশান্তিদায়ক।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, মুতাররিফ ইবনু মাযিন এর কারণে।
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ يَقُولُ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ شِنْتُمْ الْعِلْمَ وَأَذْهَبْتُمْ نُورَهُ وَلَوْ أَدْرَكَنِي وَإِيَّاكُمْ عُمَرُ لَأَوْجَعَنَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৬০০. উবাইদুল্লাহ বলেন: (নিজেদের ত্রুটিসহ ইলম অন্বেষণের দ্বারা) তোমরা তো ইলমকেই ত্রুটিযুক্ত করে দিচ্ছো এবং ইলমের নূর বিদূরিত করে দিচ্ছো । আমাকে এবং তোমাদেরকেও উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যদি ধরতে পারতেন, তবে অবশ্যই তিনি আমাদেরকে শাস্তি দিতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: খতীব, শারফু আসহাবুল হাদীস নং ২৮৪।
أَخْبَرَنَا شِهَابُ بْنُ عَبَّادٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أُمَيٍّ الْمُرَادِيِّ قَالَ قَالَ عَلِيٌّ تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ فَإِذَا عَلِمْتُمُوهُ فَاكْظِمُوا عَلَيْهِ وَلَا تَشُوبُوهُ بِضَحِكٍ وَلَا بِلَعِبٍ فَتَمُجَّهُ الْقُلُوبُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৬০১. উমাই আল মুরাদী বলেন, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ইলম শিক্ষা কর। আর যখন তোমরা ইলম শিক্ষা লাভ করবে, তখন তা (ভালোভাবে) সংরক্ষণ করবে। আর তোমরা একে হাসি-তামাশা ও খেলা-ধুলা’র সাথে মিশ্রিত করবে না। তাহলে অন্তর একে (সংরক্ষণ না করে) বের করে দেবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৭/৩০০ দুটি সূত্রে যার একটি মু’দাল ও অপরটি zwj;মুনকাতি’ খতীব, আল জামি’ নং ২১৩; এবং আগের হাদীসটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ الْفُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ قَالَ مَنْ ضَحِكَ ضَحْكَةً مَجَّ مَجَّةً مِنْ الْعِلْمِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف من أجل محمد بن حميد
৬০২. আলী ইবনুল হাসান রাহিমাহুল্লাহ বলেন: যে ব্যক্তি (অধিক পরিমাণে) হাসি-তামাশা করে, সে ইলমকে (বহু দূরে) নিক্ষেপ করে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, মুহাম্মদ ইবনু হামীদের কারণে। (তবে অপর একটি সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে।)
তাখরীজ: আব্দুল্লাহ ইবনু আহমদ, যাওয়াইদু যুহদ লি আহমদ পৃ: ১৬৬ একই সনদে; কিন্তু আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৩/১৩৩-১৩৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১৮৩০ সহীহ সনদে।