সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا شِهَابُ بْنُ عَبَّادٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أُمَيٍّ الْمُرَادِيِّ قَالَ قَالَ عَلِيٌّ تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ فَإِذَا عَلِمْتُمُوهُ فَاكْظِمُوا عَلَيْهِ وَلَا تَشُوبُوهُ بِضَحِكٍ وَلَا بِلَعِبٍ فَتَمُجَّهُ الْقُلُوبُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৬০১. উমাই আল মুরাদী বলেন, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ইলম শিক্ষা কর। আর যখন তোমরা ইলম শিক্ষা লাভ করবে, তখন তা (ভালোভাবে) সংরক্ষণ করবে। আর তোমরা একে হাসি-তামাশা ও খেলা-ধুলা’র সাথে মিশ্রিত করবে না। তাহলে অন্তর একে (সংরক্ষণ না করে) বের করে দেবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৭/৩০০ দুটি সূত্রে যার একটি মু’দাল ও অপরটি zwj;মুনকাতি’ খতীব, আল জামি’ নং ২১৩; এবং আগের হাদীসটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ الْفُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ قَالَ مَنْ ضَحِكَ ضَحْكَةً مَجَّ مَجَّةً مِنْ الْعِلْمِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف من أجل محمد بن حميد
৬০২. আলী ইবনুল হাসান রাহিমাহুল্লাহ বলেন: যে ব্যক্তি (অধিক পরিমাণে) হাসি-তামাশা করে, সে ইলমকে (বহু দূরে) নিক্ষেপ করে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, মুহাম্মদ ইবনু হামীদের কারণে। (তবে অপর একটি সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে।)
তাখরীজ: আব্দুল্লাহ ইবনু আহমদ, যাওয়াইদু যুহদ লি আহমদ পৃ: ১৬৬ একই সনদে; কিন্তু আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৩/১৩৩-১৩৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১৮৩০ সহীহ সনদে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ أَنَّ عُمَرَ قَالَ لِكَعْبٍ مَنْ أَرْبَابُ الْعِلْمِ قَالَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ بِمَا يَعْلَمُونَ قَالَ فَمَا أَخْرَجَ الْعِلْمَ مِنْ قُلُوبِ الْعُلَمَاءِ قَالَ الطَّمَعُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده معضل
৬০৩. সুফিয়ান হতে বর্ণিত, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: ইলমের অধিকারী কারা? তিনি জবাবে বলেন: যারা তাদের ইলম অনুযায়ী আমল করে। তিনি বললেন: আর কোন্ জিনিস আলিমগণের অন্তর থেকে ইলমকে বের করে দেয়? উত্তরে তিনি বলেন: লোভ-লালসা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মু’দাল।
তাখরীজ: আমি এ ব্যতীত অন্য কোথাও এটি পাইনি। তবে পূর্বের হাদীস নং ৫৯৪ টি দেখুন। সেটি একে নির্ভরযোগ্য করে।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي إِيَاسٍ قَالَ كُنْتُ نَازِلًا عَلَى عَمْرِو بْنِ النُّعْمَانِ فَأَتَاهُ رَسُولُ مُصْعَبِ بْنِ الزُّبَيْرِ حِينَ حَضَرَهُ رَمَضَانُ بِأَلْفَيْ دِرْهَمٍ فَقَالَ إِنَّ الْأَمِيرَ يُقْرِئُكَ السَّلَامَ وَقَالَ إِنَّا لَمْ نَدَعْ قَارِئًا شَرِيفًا إِلَّا وَقَدْ وَصَلَ إِلَيْهِ مِنَّا مَعْرُوفٌ فَاسْتَعِنْ بِهَذَيْنِ عَلَى نَفَقَةِ شَهْرِكَ هَذَا فَقَالَ أَقْرِئْ الْأَمِيرَ السَّلَامَ وَقُلْ لَهُ إِنَّا وَاللَّهِ مَا قَرَأْنَا الْقُرْآنَ نُرِيدُ بِهِ الدُّنْيَا وَدِرْهَمَهَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :محمد بن حميد ضعيف
৬০৪. আবু ইয়াস বলেন: আমি আমর ইবনু নু’মানের নিকট আগমন করলাম, তখন তার নিকট মুস’আব ইবনু যুবাইরের বার্তাবাহক রমাযান মাসের প্রাক্কালে দু’হাজার দিরহাম নিয়ে হাজির হলো। এরপর সে বলল: আমীর আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং বলেছেন: আমরা কোনো সম্মানিতকারীকে ডেকে পাঠাইনি, তবে আমাদের পক্ষ থেকে তার নিকট কল্যাণ (দান) পৌঁছেছে। ফলে এ দু’হাজার দিরহাম দিয়ে রমাযানে উপকৃত হোন। তখন তিনি বলেন: আমীরকে আমার সালাম জানিয়ে বলো, আল্লাহর কসম! আমরা দুনিয়া ও এর দিরহাম (অর্থকড়ি)-এর উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ করি না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদে মুহাম্মদ ইবনু হামীদ রয়েছে। সে যঈফ। অন্যান্য রাবীগণ বিশ্বস্ত।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৮১ নং ১০০৫৪ জাইয়্যেদ সনদে।
أَخْبَرَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ جَابِرٍ عَنْ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ الْكِنْدِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَرَّمَ أَشْيَاءَ يَوْمَ خَيْبَرَ الْحِمَارَ وَغَيْرَهُ ثُمَّ قَالَ لَيُوشِكُ بِالرَّجُلِ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يُحَدَّثُ بِحَدِيثِي فَيَقُولُ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللَّهِ مَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَلَالٍ اسْتَحْلَلْنَاهُ وَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ أَلَا وَإِنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ هُوَ مِثْلُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৬০৫. মিকদাম ইবনু মা’দীকারীব আল কিনদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খায়বার যু্দ্ধের দিন গাধা ও অন্য কয়েকটি জিনিস হারাম ঘোষণা করেন। তারপর তিনি বলেন: “অদূর ভবিষ্যতে এক ব্যক্তি তার খাটের উপর আসনে ঠেস দিয়ে বসে থাকবে এবং তার নিকট আমার হাদীস বর্ণনা করা হবে। তখন সে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব রয়েছে। সুতরাং এর মাঝে আমরা যা কিছু হালাল পাব, তাকেই আমরা হালাল মনে করব, আর এর মাঝে যা কিছু হারাম পাব, আমরা তাকেই হারাম বলে গণ্য করব। জেনে রাখ! আল্লাহর রাসূল যা কিছু হারাম করেছেন, তা আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত বস্তুরই অনুরূপ।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমদ ৪/১৩২; তিরমিযী নং ২৬৬৬; ইবনু মাজাহ মুকাদ্দামা ১২; দারু কুতনী ৪/২৭৬-২৭৭ নং ৫৮; বাইহাকী ৯/৩৩১; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ২৩৪৩; খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাককিহ ১/৮৮-৮৯; হাকিম ১/১০৯; ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ ৬২, ৬৩... সহীহ সনদে।
এ হাদীসের শাহিদ রয়েছে অনেকগুলি (আবী রাফি’, আবু হুরায়রা, ইরবায ইবনু সারিয়াহ ও অন্যান্যদের থেকে এ অর্থে)। এর জন্য দেখুন, হাকিম, মুসতাদরাক ও ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ الْفَزَارِيِّ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ السُّنَّةُ قَاضِيَةٌ عَلَى الْقُرْآنِ وَلَيْسَ الْقُرْآنُ بِقَاضٍ عَلَى السُّنَّةِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
৬০৬. আউযাঈ হতে বর্ণিত, ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন: সুন্নাত কুরআনের উপর ফায়সালাকারী, কিন্তু কুরআন সুন্নাহর উপর ফায়সালাকারী নয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ নং ৮৮, ৮৯; মারওয়াযী, আস সুন্নাহ নং ১০৩; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ২৩৫৩ সহীহ সনদে। দেখুন মিফতাহুল জান্নাহ পৃ: ২৬।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ حَسَّانَ قَالَ كَانَ جِبْرِيلُ يَنْزِلُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالسُّنَّةِ كَمَا يَنْزِلُ عَلَيْهِ بِالْقُرْآنِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف محمد بن كثير
৬০৭. আওযাঈ হাসান রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জিবরীল আ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর যেভাবে কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হতেন, ঠিক তেমনিভাবেই তিনি তাঁর নিকট সুন্নাহ নিয়েও অবতীর্ণ হতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা মুহাম্মদ ইবনু কাছীর যঈফ। (তবে এটি সহীহ সনদেও বর্ণিত আছে যেমন নিম্নে উল্লেখিত হয়েছে।)
তাখরীজ: ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ নং ৯০, ২২০; আবু দাউদ, মারাসীল নং ৫৩৬;
: ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ নং ২১৯; লালিকাঈ, শারহু ই’তিক্বাদ নং ৯৯; মারওয়াযী, আস সুন্নাহ নং ১০২ সহীহ সনদে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ مَكْحُولٍ قَالَ السُّنَّةُ سُنَّتَانِ سُنَّةٌ الْأَخْذُ بِهَا فَرِيضَةٌ وَتَرْكُهَا كُفْرٌ وَسُنَّةٌ الْأَخْذُ بِهَا فَضِيلَةٌ وَتَرْكُهَا إِلَى غَيْرِ حَرَجٍ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف محمد بن كثير الصنعاني
৬০৮. আউযাঈ রাহি. হতে বর্ণিত, মাকহুল রাহি. বলেন: সুন্নাহ দুই প্রকার। এক প্রকার সুন্নাহ যার অনুসরণ করা ফরয এবং তা পরিত্যাগ করা কুফরী। আরেক (প্রকার) সুন্নাত যার অনুসরণ করা উত্তম এবং তা পরিত্যাগ করাতে কোনো দোষ নেই।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, মুহাম্মদ ইবনু কাছীর যঈফ হওয়ায়। (তবে এটি সহীহ সনদেও বর্ণিত আছে যেমন নিম্নে উল্লেখিত হয়েছে।)
তাখরীজ: মারওয়াযী, আস সুন্নাহ নং ১০৫; ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ নং ১০১ সহীহ সনদে; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ২৩৫০ নং এর টীকায় এ সনদে। তবে এটি মারফু’ হিসেবে আবু হুরাইরা রা: হতে বর্ণিতে হয়েছে যঈফ সনদে। দেখুন আমার তাহক্বীক্বকৃত মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৮০৮।
হাফিজ ইবনু হাজার ফাতহুল বারী ১৩/২৯১ এ একে বাইহাকী’তে সহীহ সনদে হিসান ইবনু আতিয়াহ’র বক্তব্য বলে মন্তব্য করেছেন যে, “নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর যেভাবে কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হতেন, ঠিক তেমনিভাবেই তিনি তাঁর নিকট সুন্নাহ নিয়েও অবতীর্ণ হতেন।“
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ حَكِيمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ أَنَّهُ حَدَّثَ يَوْمًا بِحَدِيثٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَجُلٌ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا يُخَالِفُ هَذَا قَالَ أَلَا أُرَانِي أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتُعَرِّضُ فِيهِ بِكِتَابِ اللَّهِ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْلَمَ بِكِتَابِ اللَّهِ مِنْكَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৬০৯. ইয়া’লা ইবনু হাকীম হতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে একটি হাদীস বর্ণনা করলেন। তখন এক ব্যক্তি বললো: আল্লাহর কিতাবে (কুরআনে) তো এর বিপরীত কথা রয়েছে। তিনি বললেন: আমাকে দেখতে পাচ্ছো না, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করছি, আর একে আল্লাহর কিতাবের মুখোমুখি এনে দাঁড় করানো হচ্ছে! আল্লাহ তা’আলার কিতাব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমার চেয়ে ভাল বুঝতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আজুরী, আশ শরীয়াহ পৃ: ৫৮; ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ নং ৮১; খতীব, আল জামি লি আখলাকির রাবী, নং ৩৫৩।
أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ قَالَ إِذَا حُدِّثْتُمْ بِالْحَدِيثِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَظُنُّوا بِهِ الَّذِي هُوَ أَهْيَأُ وَالَّذِي هُوَ أَهْدَى وَالَّذِي هُوَ أَتْقَى
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أنه منقطع عون بن عبد الله لم يدرك ابن مسعود
৬১০. আউন ইবনু আব্দুল্লাহ রাহি. হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: তোমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করবে, তখন তোমরা তাঁর সম্পর্কে মনে (এ ধারণা) রাখবে যে, তিনি হলেন সবচেয়ে সুন্দর, সর্বাধিক সঠিক পথ প্রদর্শনকারী এবং সর্বাধিক আল্লাহভীরু।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে এতে ইনকিতা’ বা বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। আউন ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের সাক্ষাত পাননি।... বুসীরী ‘মিসবাহুয যুজাজাহ’ ১/৪৭ তেও এ কথাই বলেছেন।... আমরা বলছি: একে সমর্থনকারী হিসেবে পরবর্তী হাদীসটি দেখুন, ফলে সেটি একে সহীহ পর্যায়ে উন্নীত করে।
তাখরীজ: আহমদ ১/৩৮৫, ৪১৫; ইবনু মাজাহ মুকাদ্দমা ১৯; আবী ইয়ালা মাউসিলী, আল মুসনাদ নং ৫২৫৯ সেখানে আমাদের তাহক্বীক্বে পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দেখুন।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ إِذَا حُدِّثْتُمْ شَيْئًا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَظُنُّوا بِهِ الَّذِي هُوَ أَهْدَى وَالَّذِي هُوَ أَتْقَى وَالَّذِي هُوَ أَهْيَأُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৬১১. আবু আব্দুর রহমান আস সুলামী রাহি. হতে বর্ণিত, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: তোমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করবে, তখন তোমরা তাঁর সম্পর্কে মনে (এ বিশ্বাস) রাখবে যে, তিনি হলেন সবচেয়ে সুন্দর, সর্বাধিক সঠিক পথ প্রদর্শনকারী এবং সর্বাধিক আল্লাহভীরু।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি আমাদের তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯১ তে। (আহমদ ১/১২২, ১২৬, ১৩১; ইবনু মাজাহ, মুকাদ্দামা ২০; মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯১।)
أَخْبَرَنَا أَبُو مَعْمَرٍ إِسْمَعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ صَالِحِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ إِذَا حَدَّثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :اسناده منقطع
৬১২. আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আমার উপর মিথ্যারোপ করলো, সে জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নিলো“।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এটি পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬১২৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২০০ তে। (বুখারী ১১০; মুসলিম, মুকাদ্দামা হা/৪; আহমদ ১/৪১৩ নং ৯৩৩৯। )
فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِذَا حَدَّثَ قَالَ إِذَا سَمِعْتُمُونِي أُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ تَجِدُوهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ أَوْ حَسَنًا عِنْدَ النَّاسِ فَاعْلَمُوا أَنِّي قَدْ كَذَبْتُ عَلَيْهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :اسناده منقطع
৬১৩. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা যখন হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন তিনি বলতেন যখন তোমরা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করতে শোনো, আর তোমরা সেটি আল্লাহর কিতাবে না পাও, কিংবা লোকদের নিকট তা ভাল হিসেবে না পাও, তবে জানবে যে, আমি তাঁর উপর মিথ্যারোপ করেছি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : ... এর সনদ মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন।
তাখরীজ: (মুহাক্কিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি- অুনবাদক)
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَحْوَلِ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ إِنَّ أَزْهَدَ النَّاسِ فِي عَالِمٍ أَهْلُهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৬১৪. ইকরিমা রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: একজন আলিমের ব্যাপারে সর্বাধিক উদাসীন[1] মানুষ হলো তার পরিবার-পরিজন।[2]
[1] (এখানে যাহিদ বলতে উদাসীন বা অনাগ্রহী বুঝানো হয়েছে, অর্থাৎ একজন আলিমের হক, সম্মান ও মর্যাদা প্রতি সবচেয়ে বেশী উদাসীনতা প্রদর্শন করে তার পরিবার, সাথীগণ ও তার প্রতিবেশীগণ।- ফাতহুল মান্নান। - অনুবাদক)
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমি এটি অন্য কোথাও পাইনি। (এটি ইকরামা হতে বর্ণনা করেছেন: বাইহাকী, আল মাদখাল /৩৯৫ নং ৭০২। - ফাতহুল মান্নান, হা/৬২৪ এর টীকা দ্র:- অনুবাদক।) কিন্তু এর শাহিদ রয়েছে উরওয়াহ হতে ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৪৮৭ এ; হাসান হতে খতীব, আল জামি’ নং ১৯৯৩; (বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ৬/২০৪) আউফ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উতবাহ হতে আবু নুয়াইম তার হিলইয়া ৪/২৪৫; (কা’ব হতে বাইহাকী, আল মাদখাল /৩৯৪ ; উরওয়াহ ইবনু যুবাইর হতে আবু খায়ছামা, আল ইলম /১৩০ নং ৯১) এ বর্ণনা করেছেন।
أَخْبَرَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْجُرَيْرِيِّ وَأَبِي مَسْلَمَةَ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ تَذَاكَرُوا الْحَدِيثَ فَإِنَّ الْحَدِيثَ يُهَيِّجُ الْحَدِيثَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده صحيح
৬১৫. [1] আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: তোমরা পরস্পরে হাদীস আলাপ-আলোচনা করবে, কেননা, (এক) হাদীস (অপর) হাদীসকে স্মরণ করিয়ে দেয়।[2]
[1] এখানেও একটি ক্রমিক নং বাদ পড়েছে। এখানে ১৫ নং এর পরে ১৬ না হয়ে ১৭ হয়েছে। এজন্য এখন থেকে আমাদের অনুবাদের সাথে এ নুসখা’র হাদীসের ক্রমিকের পার্থক্য থাকবে দু’টি করে। অর্থা নুসখার ৬১৭ নং হাদীসটি আমাদের অনুবাদে পাবেন ৬১৫ নং এ।- অনুবাদক।
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: পরের টীকা দেখুন।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ تَذَاكَرُوا الْحَدِيثَ فَإِنَّ الْحَدِيثَ يُهَيِّجُ الْحَدِيثَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৬১৬. (অপর সনদে) আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন: পরস্পরে হাদীস আলাপ-আলোচনা করবে, কেননা, (এক) হাদীস (অপর) হাদীসকে স্মরণ করিয়ে দেয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৮/৭৩৩ নং ৬১৮৪; রমহরমুযী, আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৭২৩; খতীব, আল জামি’ নং ১৮৮২; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৬২৬; অপর সনদে খতীব, আল জামি’ নং ৪৭০। দেখুন মাজমাউয যাওয়াইদ ৭৪৫ আমাদের তাহক্বীক্বকৃত।
أَخْبَرَنَا أَبُو مَعْمَرٍ عَنْ هُشَيْمٍ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ تَذَاكَرُوا الْحَدِيثَ فَإِنَّ الْحَدِيثَ يُهَيِّجُ الْحَدِيثَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده رجاله ثقات غير أن هشيما قد عنعن وهو مدلس
৬১৭. (অপর সনদে) আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: পরস্পরে হাদীস আলাপ-আলোচনা করবে, কেননা, (এক) হাদীস (অপর) হাদীসকে স্মরণ করিয়ে দেয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত। তবে হাশীম মুদাল্লিস, সে ‘আন ‘আন পদ্ধতিতে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে হাদীসটি সহীহ, দেখুন আগের হাদীস দু’টি।
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি-অনুবাদক।)
أَخْبَرَنَا أَبُو مَعْمَرٍ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৬১৮. (অপর সনদে) আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত...[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে।
وَابْنِ عُلَيَّةَ عَنْ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ
৬১৯. (অপর সনদে) আবী আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত...[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: খতীব, আল জামি’ নং ১৮৮৩ যেটি আগেও উল্লেখিত হয়েছে।
أَخْبَرَنَا أَبُو مَسْلَمَةَ، يَعْنِي عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَفِيهِ كَلَامٌ أَكْثَرُ مِنْ هَذَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৬২০. (অপর সনদে) আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত...[1] আর এতে এর চেয়ে একটি কথা অতিরিক্ত রয়েছে।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদটি পূর্বের সনদটির সাথে সংযুক্ত। আর এটি সহীহ।
তাখরীজ: পূর্বের ৬১৫ নং আছারটি দেখুন।