হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (61)


أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ، حَدَّثَنَا عبدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ: قُلْتُ: لِلرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ ابْنِ عَفْرَاءَ: صِفِي لَنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا بُنَيَّ لَوْ رَأَيْتَهُ، رَأَيْتَ الشَّمْسَ طَالِعَةً

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف عبد الله بن موسى الطلحي التيمي




৬১. আবু উবাইদা বিন মুহাম্মাদ বিন আম্মার বিন ইয়াসার বলেন, আমি রুবাই’ঈ বিনতে মুয়াব্বিয ইবনু আফরা’ রা: কে বললাম, আপনি আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলী সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: হে বৎস! তুমি যদি তাঁকে দেখতে তাহলে (তোমার মনে হত যেন) তুমি উদীয়মান সূর্যকে দেখলে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ দুর্বল, কেননা, আব্দুল্লাহ ইবনু মুসা তালহা আত তাইমী দুর্বল।

তাখরীজ: তাবারানী, আল কাবীর ২৪/২৭৪ নং ৬৯৬ ও আল আওসাত ৫/২৩০ নং ৪৪৫৫; আবু নুয়াইম, দালাইল ৫৫১।









সুনান আদ-দারিমী (62)


أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَزْهَرَ اللَّوْنِ كَأَنَّ عَرَقَهُ اللُّؤْلُؤُ، إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ، وَمَا مَسِسْتُ حَرِيرَةً وَلَا دِيبَاجَةً أَلْيَنَ مِنْ كَفِّهِ، وَلَا شَمِمْتُ رَائِحَةً قَطُّ أَطْيَبُ مِنْ رَائِحَتِهِ: مِسْكَةً وَلَا غَيْرَهَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৬২. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল শুভ্র। তাঁর ঘাম যেন মুক্তো-দানা। আরnbsp; তিনি রাস্তার দিকে ঝুঁকে মধ্যমগতিতেnbsp;[1] চলতেন । আর আমি রেশম বা রেশমী কাপড়কেও তাঁর হাতের তালুর মত মোলায়েম পাইনি। আমি তাঁর দেহে একটি সুগন্ধ পেয়েছি, যা মিশক্ বা অন্য কোন সুগন্ধির মধ্যে পাইনি।“[2]

[1] মুহাক্বিক্বের টীকা অনুযায়ী।

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, ৩৫৬১; মুসলিম, সহীহ ২৩৩০; আহমদ ৩/১০৭, ২০০, ২২২, ২২৭, ২৬৫, ২৬৭।









সুনান আদ-দারিমী (63)


أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: خَدَمْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا قَالَ لِي: أُفٍّ قَطُّ، وَلَا قَالَ لِي لِشَيْءٍ صَنَعْتُهُ: لِمَ صَنَعْتَ كَذَا وَكَذَا أَوْ هَلَّا صَنَعْتَ كَذَا وَكَذَا، وَقَالَ: لَا وَاللَّهِ مَا مَسِسْتُ بِيَدِي دِيبَاجًا، وَلَا حَرِيرًا أَلْيَنَ مِنْ يَدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا وَجَدْتُ رِيحًا قَطُّ أَوْ عَرْفًا كَانَ أَطْيَبَ مِنْ عَرْفِ أَوْ رِيحِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح والحديث متفق عليه




৬৩. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমত করেছি, কিন্তু তিনি কখনো আমাকে ‘উহ’ শব্দটিও বলেননি (অর্থাৎ আমার কোন কাজ বা আচরণের প্রতি বিরক্ত হয়ে ‘উহ’ শব্দটিও উচ্চারণ করেননি)। আর আমি কোন কিছু করে ফেললে তিনি আমাকে কখনো কোন কাজ করার জন্য বলেননি, ‘‘তুমি অমুক অমুক কাজ কেন করলে?’’ অথবা ‘‘তুমি কি অমুক অমুক কাজ করনি?’’

তিনি (আনাস) আরও বলেন, আল্লাহর কসম! আমি আমার হাত দিয়ে কখনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতের চেয়ে অধিক মোলায়েম কোন রেশমী কাপড় কিংবা রেশম স্পর্শ করিনি। এছাড়াও আমি কখানো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের (শরীরের) সুগন্ধির চেয়ে অধিক উত্তম কোন সুগন্ধি বা ঘ্রাণ পাইনি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। বুখারী ও মুসলিমের হাদীস এটি।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩৫৬১ (হাদীসের ২য় অংশ) ; সহীহ মুসলিম ২৩০৯ (হাদীসের ১ম অংশ);









সুনান আদ-দারিমী (64)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرِّفَاعِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ خُدْرَةَ، حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ بَنِي حُرَيْشٍ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ أَبِي حِينَ رَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، فَلَمَّا أَخَذَتْهُ الْحِجَارَةُ أُرْعِبْتُ، فَضَمَّنِي إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَالَ عَلَيَّ مِنْ عَرَقِ إِبْطِهِ مِثْلُ رِيحِ الْمِسْكِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير حبيب بن خدرة




৬৪. হাবীব ইবনু খুদরাহ হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন, হুরাইশ গোত্রের এক ব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মায়িয ইবনু মালিককে রজম (শরীয়াতের শাস্তি হিসেবে পাথর মেরে হত্যা) করেন, তখন আমি আমার পিতার সাথে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। যখনই কোন একটি পাথর তাকে আঘাত করছিল, তখনই আমি ভয় পাচ্ছিলাম। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। তখন মিশকের সুগন্ধির মত সুগন্ধযুক্ত ঘাম তাঁর বাহুমূল (বগল) থেকে আমার উপর গড়িয়ে পড়ছিল।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত, হাবীব বিন খুদরাহ ব্যতীত। (ফাতহুল মান্নানে এক যঈফ বলা হয়েছে ‘ইনকিতাহ’ বা বিচ্ছিন্নতা ও হাবীব বিন খুদরাহ’র ‘মাজহুল’ বা অজ্ঞাত পরিচয়’ হওয়ার কারণে- পৃ: ৪৬৪- অনুবাদক)

তাখরীজ: (অন্য কোন হাদীস গ্রন্থে এটি বর্ণিত হয়েছে বলে মুহাক্কিক্ব উল্লেখ করেননি। বরং হাবীব বিন খুদরাহ’র জীবনী বর্ণনায় ‘রাবীদের জীবনমূলক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন- মীযানুল ই’তিদাল ১/৪৫৪।- অনুবাদক)









সুনান আদ-দারিমী (65)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاق، عَنْ الْبَرَاءِ، قَالَ: سَأَلَهُ رَجُلٌ: أَرَأَيْتَ كَانَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ السَّيْفِ؟، قَالَ: لَا، مِثْلَ الْقَمَرِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৬৫. বারা’ ইবনু আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বারা’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারা দেখতে কি তরবারীর মত ছিল? তিনি বললেন, না, বরং দেখতে চাঁদের মত ছিল।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী (৩৫৫২); বাইহাকী, দালাইল ১/১৯৫; ইবনু হিব্বান, সহীহ ৬২৮৭; আবী ইয়ালা, আল মুসনাদ ১৩/৪৫১ নং ৭৪৫৬।









সুনান আদ-দারিমী (66)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُعْرَفُ بِاللَّيْلِ بِطيبِ الرِّيحِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن إلى إبراهيم وهو موقوف عليه




৬৬. ইবরাহীম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাতের বেলায় তার মনোহর সুগন্ধ দ্বারাই চেনা যেত।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, ইবরাহীম পর্যন্ত। আর এটি ইবরাহীম কর্তৃক মাওকুফ (সাহাবীর নাম বাদ দিয়ে তাবেঈ কর্তৃক সরাসরি রাসূলুল্লাহ সা: হতে বর্ণিত) হাদীস।

তাখরীজ: ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ১/২/১১৩; ইবনু আবী শাইবা, ৯/২৫; আবীশ শাইখ, আখলাকুন্নবী সা: পৃ: ১০৫ ।









সুনান আদ-দারিমী (67)


أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيل، حَدَّثَنَا إِسْحَاق بْنُ الْفَضْلِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْهَاشِمِيُّ، أَخْبَرَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَمْ يَسْلُكْ طَرِيقًا أَوْ لَا يَسْلُكُ طَرِيقًا، فَيَتْبَعُهُ أَحَدٌ إِلَّا عَرَفَ أَنَّهُ قَدْ سَلَكَهُ مِنْ طِيبِ عَرْفِهِ، أَوْ قَالَ: مِنْ رِيحِ عَرَقِهِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :لم يحكم عليه المحقق




৬৭. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই কোন রাস্তা দিয়ে চলেছেন বা চলেন, সেই রাস্তা দিয়ে পরবর্তীতে কোন ব্যক্তি চললে তাঁর উত্তম সুগন্ধের দ্বারাই, অথবা বলেছেন: তাঁর ঘামের সুগন্ধেই (বর্ণনাকারীর সন্দেহ), সে বুঝতে পারত যে, তিনি এ রাস্তা দিয়ে গেছেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এটি ইবনু হিব্বানের শর্তানুযায়ী (সহীহ)।

তাখরীজ: বুখারী, তারীখুল কাবীর, ১/৩৯৯-৪০০।









সুনান আদ-দারিমী (68)


أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، أَنبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو اللَّيْثِيُّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ الْهَدِيَّةَ، وَلَا يَقْبَلُ الصَّدَقَةَ، فَأَهْدَتْ لَهُ امْرَأَةٌ مِنْ يَهُودِ خَيْبَرَ شَاةً مَصْلِيَّةً فَتَنَاوَلَ مِنْهَا، وَتَنَاوَلَ مِنْهَا بِشْرُ بْنُ الْبَرَاءِ، ثُمَّ رَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ هَذِهِ تُخْبِرُنِي أَنَّهَا مَسْمُومَةٌ»، فَمَاتَ بِشْرُ بْنُ الْبَرَاءِ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا حَمَلَكِ عَلَى مَا صَنَعْتِ؟» فَقَالَتْ: إِنْ كُنْتَ نَبِيًّا لَمْ يَضُرَّكَ شَيْءٌ، وَإِنْ كُنْتَ مَلِكًا، أَرَحْتُ النَّاسَ مِنْكَ، فَقَالَ فِي مَرَضِهِ: مَا زِلْتُ مِنَ الْأُكْلَةِ الَّتِي أَكَلْتُ بِخَيْبَرَ، فَهَذَا أَوَانُ انْقِطَاعِ أَبْهَرِي

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده حسن وهو مرسل




৬৮. আবু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিয়া (উপহার) খেতেন (গ্রহণ করতেন) কিন্তু সাদাকা গ্রহণ করতেন না। একবার খায়বারের এক ইহুদী মহিলা তাঁকে একটি ভূনা ছাগল হাদিয়া দিল। তারপর তিনি তা থেকে খেলেনnbsp; এবং তা থেকে বিশর ইবনু বারা’ও খেলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাত উঠিয়ে নিয়ে বললেন: ‘এটি (এই বকরী) আমাকে সংবাদ দিচ্ছে যে, এটি বিষ মিশ্রিত।’ ফলে (তা খেয়ে) বিশর ইবনু বারা’ মৃত্যুবরণ করলেন। তখন তিনি ঐ মহিলার নিকট লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করলেন: ‘কিসে তোমাকে এ কাজ করতে প্ররোচিত করল? তখন সে বলল, যদি আপনি নবী হন, তবে এটি আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর যদি আপনি কোন বাদশাহ্ হন, তবে (আপনার মৃত্যু হবে ফলে) আপনার কবল থেকে লোকদেরকে আমি রেহাই দিলাম।

তাই তিনি তাঁর অসুস্থতার সময় বলতেন: ‘খায়বারে যে খাদ্য আমি খেয়েছিলাম তা আজও আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। এখন এটি আমার প্রাণ ধমনি (কলিজা) ছিঁড়ে ফেলছে।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, তবে এটি মুরসাল।

তাখরীজ: আবু দাউদ ৪৫১১, ৪৫১২; বাইহাকী, দালাইল ৪/২৬২; ইবনু সা’দ, তাবাকাত ১/১১৩-১১৪।









সুনান আদ-দারিমী (69)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، أَنبأَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: كَانَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، يُحَدِّثُ أَنَّ يَهُودِيَّةً مِنْ أَهْلِ خَيْبَرَ سَمَّتْ شَاةً مَصْلِيَّةً ثُمَّ أَهْدَتْهَا إلى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخَذَ [ص: 209] النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الذِّرَاعَ فَأَكَلَ مِنْهَا وَأَكَلَ الرَّهْطُ مِنْ أَصْحَابِهِ مَعَهُ، ثُمَّ قَالَ لَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «ارْفَعُوا أَيْدِيَكُمْ» وَأَرْسَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَهُودِيَّةِ فَدَعَاهَا، فَقَالَ لَهَا، «أَسَمَمْتِ هَذِهِ الشَّاةَ؟»، فَقَالَتْ: نَعَمْ، وَمَنْ أَخْبَرَكَ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " أَخْبَرَتْنِي هَذِهِ فِي يَدِي: لِلذِّرَاعِ "، فقالتْ: نَعَمْ، قَالَ: «فَمَاذَا أَرَدْتِ إِلَى ذَلِكَ؟»، قَالَتْ: قُلْتُ: إِنْ كَانَ نَبِيًّا لَمْ يَضُرَّهُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ نَبِيًّا اسْتَرَحْنَا مِنْهُ فَعَفَا عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَمْ يُعَاقِبْهَا، وَتُوُفِّيَ بَعْضُ أَصْحَابِهِ الَّذِينَ أَكَلُوا مِنَ الشَّاةِ، وَاحْتَجَمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى كَاهِلِهِ مِنْ أَجْلِ الَّذِي أَكَلَ مِنَ الشَّاةِ حَجَمَهُ أَبُو هِنْدَ مَوْلَى بَنِي بَيَاضَةَ بِالْقَرْنِ وَالشَّفْرَةِ وَهُوَ مِنْ بَنِي ثُمَامَةَ، وَهُمْ حَيٌّ مِنَ الْأَنْصَارِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لانقطاعه الزهري لم يسمع من جابر فيما نعلم




৬৯. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেছেন, খায়বারের এক ইহুদী মহিলা একটি ভূনা ছাগলের সাথে বিষ মিশিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হাদিয়া দিল। তারপর তিনি এর সামনের রান নিয়ে খেতে লাগলেন এবং তা থেকে তাঁর কয়েকজন সাহাবীও খেতে থাকলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বলেন: ‘তোমরা হাত উঠিয়ে নাও।’ তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই ইয়াহুদী মহিলার নিকট লোক পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: ‘তুমি কি এই ছাগলে বিষ মিশিয়েছো? সে উত্তরে বলল, হ্যাঁ, কিন্তু আপনাকে সে খবর কে দিল? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘আমার হাতের এই বকরীর রানই আমাকে তা বলে দিচ্ছে।’ সে বলল, তাই! তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: ‘কি উদ্দেশ্যে তুমি এ কাজ করলে?’ সে জবাব দিল, আমি (মনে মনে) বলেছিলাম, তিনি যদি নবী হন, তবে এটি তার কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা। আর তিনি যদি নবী না হন, তবে আমরা তার থেকে রেহাই পাব। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ক্ষমা করে দিলেন এবং তাকে এর জন্য কোন শাস্তি দিলেন না। কোন কোন সাহাবী মারা গেলেন, যারা এ বিষ মিশ্রিত ছাগলের গোশত খেয়েছিলেন। এই ছাগলের গোশত খাওয়ার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দুকাঁধের মাঝে শিঙ্গা লাগান।

আর বায়াযাহ’র আবূ হিন্দ নামক এক গোলাম শিং ও বড় ছুরি দ্বারা তাঁর সে শিঙ্গা লাগিয়ে দেন। সে ছিল ছুমামাহ গোত্রের অন্তর্ভূক্ত, আর বনী ছুমামাহ হল আনসারদের একটি শাখা গোত্র।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্বল। আমরা যা জানি তা হল, যুহরী জাবির থেকে শুনেননি। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

তাখরীজ: আবু দাউদ ৪৫১০; বাইহাকী দালাইল ৪/২৬২।









সুনান আদ-দারিমী (70)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: لَمَّا فُتِحَتْ خَيْبَرُ، أُهْدِيَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَاةٌ فِيهَا سُمٌّ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اجْمَعُوا لِي مَنْ كَانَ هاهُنا [ص: 210] مِنَ الْيَهُودِ»، فَجُمِعُوا لَهُ، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي سَائِلُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَهَلْ أَنْتُمْ صَادِقِيَّ عَنْهُ؟» قَالُوا: نَعَمْ يَا أَبَا الْقَاسِمِ، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَبُوكُمْ؟» قَالُوا: أَبُونَا فُلَانٌ، فَقَالَ لهم رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَذَبْتُمْ، بَلْ أَبُوكُمْ فُلَانٌ»، قَالُوا: صَدَقْتَ وَبَرَرْتَ، فَقَالَ لَهُمْ: «هَلْ أَنْتُمْ صَادِقِيَّ عَنْ شَيْءٍ إِنْ سَأَلْتُكُمْ عَنْهُ؟» فَقَالُوا نَعَمْ، وَإِنْ كَذَبْنَاكَ، عَرَفْتَ كَذِبَنَا كَمَا عرفْتَهُ فِي أَبِينَا، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَمَنْ أَهْلُ النَّارِ؟» فَقَالُوا: نَكُونُ فِيهَا يَسِيرًا، ثُمَّ تَخْلُفُونَنَا فِيهَا، فقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اخْسَؤُوا فِيهَا، وَاللَّهِ لَا نَخْلُفُكُمْ فِيهَا أَبَدًا» ثُمَّ قَالَ لَهُمْ: «هَلْ أَنْتُمْ صَادِقِيَّ عَنْ شَيْءٍ إِنْ سَأَلْتُكُمْ عَنْهُ؟» قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: «هَلْ جَعَلْتُمْ فِي هَذِهِ الشَّاةِ سُمًّا؟»، قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: «مَا حَمَلَكُمْ عَلَى ذَلِكَ؟» قَالُوا: أَرَدْنَا إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا أَنْ نَسْتَرِيحَ مِنْكَ، وَإِنْ كُنْتَ نَبِيًّا، لَمْ يَضُرَّكَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف عبد الله بن صالح ولكن الحديث صحيح




৭০. আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: যখন খায়বার বিজিত হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একটি বিষ মিশানো ছাগল উপহার দেয়া হল। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: এখানকার ইয়াহুদীদেরকে আমার সামনে একত্রিত কর। যখন তাদেরকে তাঁর সামনে একত্রিত করা হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বললেন: ‘তোমাদেরকে আমি একটি বিষয়ে প্রশ্ন করবো, তোমরা কি সে বিষয়ে আমাকে সত্য কথা বলবে?’ তারা বলল, হ্যাঁ, হে আবুল কাসিম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বললেন: ‘তোমাদের পিতা কে?’ তারা বলল, আমাদের পিতা অমুক। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বললেন: ‘তোমরা মিথ্যা বলছ, বরং তোমাদের পিতা অমুক।’ তারা বলল, হ্যাঁ, আপনি সত্য ও সঠিক বলেছেন।

তারপর তিনি তাদেরকে বললেন: ‘তোমাদেরকে আমি একটি বিষয়ে প্রশ্ন করলে তোমরা কি সে বিষয়ে আমাকে সত্য কথা বলবে?’ তারা বলল, জি হ্যাঁ। তা নাহলে আপনি তো জেনে যাবেন যে, আমরা মিথ্যা বলছি, যেমন জেনে গেলেন, আমাদের পিতার বিষয়টি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বললেন: ‘জাহান্নামের অধিবাসী কারা?’ তারা বলল, আমরা সেখানে সামান্য সময় অবস্থান করব, তারপর আপনারা সেখানে আমাদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বললেন: ‘দূর হও! বরং তোমরাই সেখানে থাকবে। আল্লাহর কসম, আমরা কখনোই সেখানে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হব না।’

তারপর তিনি তাদেরকে বললেন: ‘‘তোমাদেরকে আমি একটি বিষয়ে প্রশ্ন করলে তোমরা কি সে বিষয়ে আমাকে সত্য কথা বলবে?’ তারা বলল, জি হ্যাঁ। তিনি বললেন: ‘তোমরা কি এ ছাগলের (গোশতের) সাথে বিষ মিশিয়েছো?’ তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন: ‘কিসে তোমাদেরকে একাজ করতে প্ররোচিত করল?’ তারা বলল, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, আপনি যদি (নবুওয়াতের দাবীতে) মিথ্যাবাদী হন, তবে আপনার থেকে আমরা রেহাই পাব; আর আপনি যদি নবী হন, তবে এটি আপনার কোনো ক্ষতি করবেনা।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কারণ এতে আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ দুর্বল রাবী রয়েছে। তবে হাদীসটি সহীহ। যা বুখারী বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: বুখারী আস সহীহ ৫৭৭৭; আহমদ, আল মুসনাদ ২/৪৫১; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ১৪/২২-২৩ নং ৩৮০৫; বাইহাকী দালাইল ৪/২৫৬।









সুনান আদ-দারিমী (71)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: " مَا سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا قَطُّ فَقَالَ: لَا " قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ: إِذَا لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ وَعَدَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭১. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট কোন কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনোই ‘না’ বলেন নি।’

আবু মুহাম্মদ বলেন: ইবনু উয়াইনা বলেছেন: তাঁর নিকট কিছু না থাকলে তিনি (পরে দেওয়ার) ওয়াদা করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, আস সহীহ ৬০৩৪; মুসলিম ২৩১১; ইবনু আবী শাইবা, আল মুছান্নাফ ১১/৫১৫ নং ১১৮৫৯।









সুনান আদ-দারিমী (72)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، عَنْ زَمْعَةَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيِيًّا لَا يُسْأَلُ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف زمعه




৭২. সাহল ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন অত্যধিক লজ্জাশীল। তাঁর নিকট কিছু চাওয়া হলে তিনি অবশ্যই তা দিতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, এর রাবী যাম’আহ’র দুর্বলার কারণে। তবে আগের হাদীসটি এর শাহিদ। (ফলে এটি সহীহ লিগয়রিহী হবে ইনশা আল্লাহ-অনুবাদক)

তাখরীজ: আবুশ শাইখ, আখলাকুন্নবী সা:, পৃ: ৪০; তাবারাণী, আল কাবীর ৬/৭৮ নং ৫৯২০।









সুনান আদ-দারিমী (73)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ رَجُلٍ مِنَ الْعَرَبِ قَالَ: زَحَمْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ حُنَيْنٍ وَفِي رِجْلَيَّ نَعْلٌ كَثِيفَةٌ، فَوَطِئْتُ بِهَا عَلَى رِجْلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَفَحَنِي نَفْحَةً بِسَوْطٍ فِي يَدِهِ وَقَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ أَوْجَعْتَنِي»، قَالَ: فَبِتُّ لِنَفْسِي لَائِمًا أَقُولُ: أَوْجَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: فَبِتُّ بِلَيْلَةٍ كَمَا يَعْلَمُ اللَّهُ، فَلَمَّا أَصْبَحْنَا، إِذَا رَجُلٌ يَقُولُ: أَيْنَ فُلَانٌ؟ قَالَ: قُلْتُ: هَذَا وَاللَّهِ الَّذِي كَانَ مِنِّي بِالْأَمْسِ، قَالَ: فَانْطَلَقْتُ وَأَنَا مُتَخَوِّفٌ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّكَ وَطِئْتَ بِنَعْلِكَ عَلَى رِجْلِي بِالْأَمْسِ فَأَوْجَعْتَنِي، فَنَفَحْتُكَ نَفْحَةً بِالسَّوْطِ، فَهَذِهِ ثَمَانُونَ نَعْجَةً، فَخُذْهَا بِهَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :في إسناده مدلسان: عبد الرحمن بن محمد المحاربي ومحمد بن إسحاق ولكن محمد بن إسحاق قد صرح بالتحديث فانتفت شهبة التدليس وأما المحاربي فقد عنعن وإبهام الصحابي لا يضر الحديث فكلهم عدول




৭৩. আব্দুল্লাহ ইবনু আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একজন বেদুইন হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি হুনাইন যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ভীড়ের মধ্যে (দাঁড়িয়ে) ছিলাম। আমার পায়ে মোটা তলাবিশিষ্ট জুতা ছিল। (অসাবধানতাবশত) আমার জুতা দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পা মাড়িয়ে ফেলি। তখন তিনি তাঁর হাতের চাবুক দিয়ে আমাকে হাল্কাভাবে আঘাত করলেন এবং বললেন: আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, তুমি আমাকে ব্যথা দিয়েছ।’ বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাতভর নিজেকে ধিক্কার দিতে থাকলাম। (আর মনে মনে) বলতে লাগলাম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ব্যথা দিলাম! আমি রাতটা যে কিভাবে (কি কষ্টে) কাটালাম তা আল্লাহই ভাল জানেন। সকালবেলা এক ব্যক্তি এসে বললো, অমুক কোথায়? আমি তখন (মনে মনে) বললাম, আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমার গতকালের সেই ব্যাপারটাই হবে। ভয়ে ভয়ে আমি চলতে লাগলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন: ‘কাল তুমি তোমার জুতা দিয়ে আমার পা মাড়িয়ে দিয়েছিলে, আর এভাবে তুমি আমাকে ব্যথা দিয়েছিলে। ফলে আমি তোমাকে চাবুক দিয়ে আঘাত করেছিলাম। সে কারণে এ আশিটি উট (তোমাকে দিলাম)। এগুলো নিয়ে যাও।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’জন মুদাল্লিস (শাইখের নাম গোপনকারী) রাবী রয়েছে। আর মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক এটি ‘হাদ্দাছানা’ বলে বর্ণনা করলেও অপরজন মুহারিবী এটি ‘আন’আন’ শব্দে বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: (শাইখ দারানী এর কোন তাখরীজ দেননি; ফতহুল মান্নানে বলা হয়েছে, এ হাদীসটি একমাত্র এ লেখক ছাড়া আর কোথাও আছে বলে জানতে পারিনি।’- অনুবাদক)।









সুনান আদ-দারিমী (74)


أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ أَخِي الزُّهْرِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ إِنَّ جِبْرِيلَ قَالَ: مَا فِي الْأَرْضِ أَهْلُ عَشَرَةِ أَبْيَاتٍ إِلَّا قَلَّبْتُهُمْ، فَمَا وَجَدْتُ أَحَدًا أَشَدَّ إِنْفَاقًا لِهَذَا الْمَالِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أنه مرسل




৭৪. যুহুরী রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা জীবরীল আলাইহিস সালাম বলেন: পৃথিবীতে দশটি বাড়ির অধিবাসী এমন নেই যাদেরকে আমি উল্টে দিইনি, কিন্তু, ধন-সম্পদ দান করার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মত এত বেশী উদার (তাদের মধ্যে) কাউকেই পাইনি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সকল রাবী বিশ্বস্ত। তবে এটি মুরসাল।

তাখরীজ: এ কিতাব ছাড়া অন্যত্র আমি এটি পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (75)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُقَيْلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكْثِرُ الذِّكْرَ وَيُقِلُّ اللَّغْوَ، وَيُطِيلُ الصَّلَاةَ، وَيُقْصِرُ الْخُطْبَةَ، وَلَا يَأْنَفُ وَلَا يَسْتَنْكِفُ أَنْ يَمْشِيَ مَعَ الْأَرْمَلَةِ، وَالْمِسْكِينِ فَيَقْضِيَ لَهُمَا حَاجَتَهُمَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف محمد بن حميد




৭৫. আব্দুল্লাহ ইবনু আবী আওফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করতেন এবং নিরর্থক কথা বা কাজ খুব কম করতেন, আর তিনি সালাত দীর্ঘ করতেন এবং বক্তব্য সংক্ষেপ করতেন। তিনি বিধবা ও গরীবদেরকে অবজ্ঞা করতেন না এবং তাদের সাথে চলাফেরায় সংকোচ বোধ করতেন না। বরং তাদের প্রয়োজনসমূহ পূরণ করে দিতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, মুহাম্মদ ইবনু হামীদের দুর্বলতার কারণে। কিন্তু তার মতো আরো অনেকেই এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা এ সনদকে সহীহ মানে উত্তীর্ণ করবে (فيصح الاسند)।

তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যামআন নং ২১২৯, ২১৩০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৪২৩, ৬৪২৪ তে। এছাড়াও, খতীব বাগদাদী, তারিখ বাগদাদ ৮/৫; নাসাঈ, আল কুবরা ১/৫৩১ নং ১৭১৬; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ৬/২৬৯ নং ৮১১৪।









সুনান আদ-দারিমী (76)


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، أَنبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ قَالَ الْعَبَّاسُ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ، لَأَعْلَمَنَّ مَا بَقَاءُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عليْهِ وَسَلَّمَ فِينَا؟ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَرَاهُمْ قَدْ آذَوْكَ وَآذَاكَ غُبَارُهُمْ، فَلَوِ اتَّخَذْتَ عَرِيشًا تُكَلِّمُهُمْ مِنْهُ؟ فَقَالَ: لَا أَزَالُ بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ يَطَؤُونَ عقِبِي، وَيُنَازِعُونِي رِدَائِي حَتَّى يَكُونَ اللَّهُ هُوَ الَّذِي يُرِيحُنِي مِنْهُمْ قَالَ: فَعَلِمْتُ أَنَّ بَقَاءَهُ فِينَا قَلِيلٌ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لانقطاعه عكرمة لم يدرك العباس




৭৬. আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আমি জানতে পেরেছিলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে কতদিন থাকবেন। তাই তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি দেখছি, তারা (লোকেরা) আপনাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে, আর তাদের ধূলিবালির কারণেও আপনার কষ্ট হচ্ছে। (কতই না ভাল হত) যদি আপনি একটি মাচা (বানিয়ে) নিতেন, যার উপর থেকে আপনি তাদের সাথে কথা বলতে পারতেন। তখন তিনি বললেন: ‘আমি তাদের থেকে ক্ষান্ত হব না , তারাও আমার (পায়ের গোড়ালি মাড়াতে থাকবে) পেছনে লেগে থাকবে, আমার চাদর ধরে টানাটানি করবে- আর এ অবস্থায় আল্লাহই আমাকে তাদের থেকে মুক্তি দিবেন।’

তিনি (আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ফলে আমি জানতে পারলাম যে, তিনি আর আমাদের মাঝে সামান্য ক’টা দিনই অবস্থান করবেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা এতে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। ইকরামা আব্বাসের সাক্ষাত পাননি। তবে ইবনু আব্বাস হতে বাযযার (কাশফুল আস্তার নং ২৪৬৭) এর সনদটি সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, আল মুছান্নাফ ১৩/২৫৬-২৫৭ নং ১৬২৭৩; আব্দুর রাযযাক, আল মুছান্নাফ ৫/৪৩৪; বাযযার, আল মুসনাদ (কাশফুল আসতার অনুযায়ী) ৩/১৫৬ নং ২৪৬৬ ও ২৪৬৭; হাহছামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৯/২১ ও মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ৫/৪৩৪ দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (77)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا نَحْجُبُكَ؟ فَقَالَ: لَا دَعُوهُمْ يَطَؤُونَ عَقِبِي وَأَطَأُ أَعْقَابَهُمْ حَتَّى يُرِيحَنِي اللَّهُ مِنْهُمْ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده معضل




৭৭. দাউদ ইবনু আলী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁকে বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনাকে লুকিয়ে রাখবো না (কিংবা একজন দারোয়ানের ব্যবস্থা করবো না)? তিনি উত্তরে বলেন: ‘না, তাদের ছেড়ে দাও। তারা আমার পেছনে লেগে থাকুক এবং আমিও এদের পেছনে লেগে থাকি আর এভাবে চলতে চলতে আল্লাহ আমাকে তাদের থেকে মুক্তি দিবেন।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মু’দাল (সনদের মাঝ থেকে দু’ই বা ততোধিক রাবীর নাম বাদ পড়েছে)।

তাখরীজ: এ ছাড়া অন্য কোথাও হাদীসটি আমি পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (78)


أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أُنَيْسِ بْنِ أَبِي يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ وَنَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ عَاصِبًا رَأْسَهُ بِخِرْقَةٍ حَتَّى أَهْوَى نَحْوَ الْمِنْبَرِ فَاسْتَوَى عَلَيْهِ وَاتَّبَعْنَاهُ، قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، إِنِّي لَأَنْظُرُ إِلَى الْحَوْضِ مِنْ مَقَامِي هَذَا»، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ عَبْدًا عُرِضَتْ عَلَيْهِ الدُّنْيَا وَزِينَتُهَا، فَاخْتَارَ الْآخِرَةَ»، قَالَ: فَلَمْ يَفْطِنْ لَهَا أَحَدٌ غَيْرُ أَبِي بَكْرٍ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ فَذَرَفَتْ عَيْنَاهُ، فَبَكَى، ثُمَّ قَالَ: بَلْ نَفْدِيكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا وَأَنْفُسِنَا وَأَمْوَالِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: ثُمَّ هَبَطَ فَمَا قَامَ عَلَيْهِ حَتَّى السَّاعَةِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৮. আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে অসুখে মৃত্যুবরণ করেন, সেই অসুস্থ্যতাকালীন সময়ে আমরা মসজিদে থাকা অবস্থায় একদিন তিনি আমাদের নিকট বের হয়ে এলেন। তখন তাঁর মাথায় কাপড় দিয়ে পট্টি বাঁধা ছিল। এসেই তিনি মিম্বারে উঠার ইচ্ছা করলেন। তারপর তিনি মিম্বারে আরোহণ করলেন। আমরা তাঁকে অনুসরণ করে বসে গেলাম। তিনি বলতে লাগলেন: ‘যার হাতে আমার প্রাণ সেই মহান সত্ত্বার কসম! আমি এ অবস্থান থেকেই আমার হাউয (কাওছার) দেখতে পাচ্ছি।’ তারপর তিনি বললেন: ‘এক বান্দার সামনে দুনিয়া ও তার যাবতীয় সৌন্দর্য্যের উপকরণ উপস্থাপন করা হয়েছিল কিন্তু সে আখিরাতকে (দুনিয়া ও এর সামগ্রী থেকে) অগ্রাধিকার দিয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছাড়া আর কেউই তা বুঝতে পারে নি। ফলে তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল। আর তিনি কাঁদতে লাগলেন। তারপর তিনি বললেন, আপনার জন্য আমাদের পিতা-মাতা, আমাদের জীবন ও ধন-সম্পদ কুরবান হোক, হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি (বর্ণনাকারী-আবু সাঈদ) বলেন, এরপর তিনি মিম্বার থেকে নেমে পড়লেন এবং এখন পর্যন্ত আর কোনদিন তিনি মিম্বারে আরোহণ করেন নি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, সহীহ ৪৬৬, ৩৬৫৪, ৩৯০৩; মুসলিম, সহীহ ২৩৮২; তিরমিযী ৩৬৬১; আহমদ, আল মুসনাদ ৩/৯১।









সুনান আদ-দারিমী (79)


أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ عُبَيْدٍ مَوْلَى الْحَكَمِ بْنِ أَبِي الْعَاصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، [ص: 216] عَنْ أَبِي مُوَيْهِبَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي قَدْ أُمِرْتُ أَنْ أَسْتَغْفِرَ لِأَهْلِ الْبَقِيعِ فَانْطَلِقْ مَعِي» فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ فَلَمَّا وَقَفَ عَلَيْهِمْ، قَالَ: " السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْمَقَابِرِ، لِيُهْنِكُمْ مَا أَصْبَحْتُمْ فِيهِ مِمَّا أَصْبَحَ فِيهِ النَّاسُ، لَوْ تَعْلَمُونَ مَا نَجَّاكُمُ اللَّهُ مِنْهُ أَقْبَلَتِ الْفِتَنُ كَقِطْعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يَتْبَعُ آخِرُهَا أَوَّلَهَا: الْآخِرَةُ أَشَرُّ مِنَ الْأُولَى "، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيَّ، فَقَالَ: «يَا أَبَا مُوَيْهِبَةَ إِنِّي قَدْ أُوتِيتُ بِمَفَاتِيحِ خَزَائِنِ الدُّنْيَا وَالْخُلْدِ فِيهَا، ثُمَّ الْجَنَّةُ، فَخُيِّرْتُ بَيْنَ ذَلِكَ وَبَيْنَ لِقَاءِ رَبِّي» قُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي، خُذْ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الدُّنْيَا وَالْخُلْدَ فِيهَا، ثُمَّ الْجَنَّةَ قَالَ: «لَا وَاللَّهِ يَا أَبَا مُوَيْهِبَةَ، لَقَدِ اخْتَرْتُ لِقَاءَ رَبِّي» ثُمَّ اسْتَغْفَرَ لِأَهْلِ الْبَقِيعِ ثُمَّ انْصَرَفَ، فَبُدِئَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَجَعِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد




৭৯. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুক্ত দাস আবু মুয়াইহিবা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন: ‘আমাকে বাকী’ কবরস্থানের (মৃত) অধিবাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুতরাং তুমি আমার সাথে চল।’ মধ্যরাতে আমি তাঁর সাথে সেখানে গেলাম। যখন তিনি তাদের (কবরবাসীদের) নিকটে গিয়ে দাঁড়ালেন, তখন বললেন: ‘হে কবরবাসীগণ! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। লোকেরা যে অবস্থায় সকালে উপনীত হচ্ছে তার চেয়ে ভাল অবস্থায় সকাল করার জন্য তোমাদেরকে অভিনন্দন। (মহান আল্লাহ যা থেকে তোমাদের কে মুক্তি দিয়েছেন, তা যদি তোমরা জানতে!) অন্ধকার রাতের টুকরার মতো ফিতনা ছুটে আসছে। একটির পেছনেই আরেকটি আসছে। পরবর্তীটি পূর্ববর্তীটির চেয়ে নিকৃষ্টতর।’ তারপর আমার দিকে ফিরে তিনি বললেন: ‘হে আবু মুয়াইহিবা! আমাকে দুনিয়ার খাযানা’র (ধনভাণ্ডারের) চাবিগুচ্ছ এবং দুনিয়াতে চিরস্থায়িত্ব , অতঃপর জান্নাত দেওয়া হয়েছিল। এরপর আমাকে এগুলি (নেয়া’মত) ও আমার রবের সাক্ষাৎ- এ দু’টির মাঝে একটিকে বেছে নিতে বলা হয়েছে।’ আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। হে আল্লাহর রাসূল! আপনি দুনিয়ার খাযানা’র (ধনভাণ্ডারের) চাবিগুচ্ছ এবং দুনিয়াতে চিরদিন থাকার সুযোগ, অতঃপর জান্নাত গ্রহণ করুন। তিনি বললেন: ‘আল্লাহর কসম, না, হে আবু মুয়াইহিবা! বরং আমি আমার রবের সাক্ষাতকেই বেছে নিয়েছি।’ এরপর তিনি বাকী’র কবরবাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন, অতঃপর ফিরে এলেন। এরপরই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সেই (অসুখের) ব্যথা শুরু হল, যাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। [1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।

তাখরীজ: আহমদ, আল মুসনাদ ৩/৪৮৯; তাবারাণী, মু’জামুল কাবীর ২২/৩৪৭ নং ৮৭১; হাকিম, আল মুসতাদরাক ৩/৫৬; বাইহাকী, দালাইল ৬/১৬৩।









সুনান আদ-দারিমী (80)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ الْعَوَّامِ، عَنْ هِلَالِ بْنِ خَبَّابٍ عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ (إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ) [النصر: 1] دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاطِمَةَ فَقَالَ: «قَدْ نُعِيَتْ إِلَيَّ نَفْسِي» فَبَكَتْ، فَقَالَ: «لَا تَبْكِي فَإِنَّكِ أَوَّلُ أَهْلِي لِحَاقًا بِي»، فَضَحِكَتْ، فَرَآهَا بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْنَ: يَا فَاطِمَةُ، رَأَيْنَاكِ بَكَيْتِ ثُمَّ ضَحِكْتِ؟ قَالَتْ: إِنَّهُ أَخْبَرَنِي أَنَّهُ قَدْ نُعِيَتْ إِلَيْهِ نَفْسُهُ فَبَكَيْتُ، فَقَالَ لِي لَا تَبْكِي فَإِنَّكِ أَوَّلُ أَهْلِي لَاحِقٌ بِي فَضَحِكْتُ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلَّى اللَّهُ عليْهِ وَسَلَّمَ: «جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ، وَجَاءَ أَهْلُ الْيَمَنِ» فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا أَهْلُ الْيَمَنِ؟ فَقَالَ: هُمْ أَرَقُّ أفْئدةً، وَالْإِيمَانُ يَمَانٍ، وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَّةٌ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৮০. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন إذا جاء نصر الله والفتح (সূরা নাছর) নাযিল হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাতিমাকে ডেকে বললেন: ‘আমাকে আমার মৃত্যুর (নিকটবর্তীতার[1]) কথা জানানো হয়েছে।’ একথা শুনে তিনি কাঁদতে লাগলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: ‘কেঁদোনা, আমার পরিবারের মধ্যে তুমিই সর্বাগ্রে আমার সাথে মিলিত হবে।’ একথা শুনে তিনি হাঁসতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কয়েকজন স্ত্রী এ ঘটনা দেখে বললেন: হে ফাতিমা, একবার তোমাকে আমরা কাঁদতে দেখলাম, এরপরই আবার হাঁসতে দেখলাম, (ব্যাপারটা কী)? তখন ফাতিমা বললেন, তিনি আমাকে বললেন যে, তাঁকে তাঁর মৃত্যুর (নিকটবর্তীতার) খবর জানানো হয়েছে, তা শুনে আমি কাঁদতে লাগলাম। এরপর তিনি আমাকে বললেন: ‘কেঁদোনা, কেননা, তুমিই সর্বপ্রথম আমার পরিবারের মধ্য হতে আমার সাথে মিলিত হবে।’ তখন আমি হাঁসলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: ‘আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় এসে গেছে। আর ইয়ামানবাসীরাও এসে গেছে।’ [তখন একজন লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ইয়ামানের অধিবাসী কারা? তখন তিনি বললেন]: ‘তারা হল নরম হৃদয়ের অধিকারী। ইয়ামানেই রয়েছে ঈমান আর ইয়ামানীদের জন্যই রয়েছে হিকমাহ বা প্রজ্ঞা।“[2]

[1] ফাতহুল মান্নান, অত্র হাদীসের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এ হাদীসটি সহীহ । এর মূল (১ম অংশ) রয়েছে সহীহ বুখারীতে (৩৭১৫-৩৭১৬)

তাখরীজ: তাবারানী, আল কাবীর ১১/৩২৯ নং ১১৯০৩-১১৯০৪, ১১৯০৭; মু’জামুল আউসাত ১/৪৮৬ নং ৮৮৭ ও ৩/১৫ নং ২০১৭; বাইহাকী দালাইল, ৭/১৬৭। দেখুন, সহীহ বুখারীতে (৩৬২৩-৩৬২৪, ৩৭১৫-৩৭১৬)।