সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ
1 - قَالَ: ` نَحْنُ الْآخِرُونَ السَّابِقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، بَيْدَ أَنَّهُمْ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِنَا، فَاخْتَلَفُوا فِيهِ، وَأُوتِينَاهُ مِنْ بَعْدِهِمْ، فَهَذَا يَوْمُهُمُ الَّذِي فُرِضَ عَلَيْهِمْ، فَاخْتَلَفُوا فِيهِ، فَهَدَانَا اللَّهُ لَهُ فَهُمْ لَنَا فِيهِ تَبَعٌ، فَالْيَهُودُ غَدًا وَالنَّصَارَى بَعْدَ غَدٍ
১. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমাদের আগমন ঘটেছে সবার শেষে কিন্তু কিয়ামতের দিনে আমরা অগ্রগামী থাকব। সকল উম্মতকে কিতাব দেওয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে এবং আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে তাদের পর। তারপর যে দিবসটি আল্লাহ আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন, আল্লাহ আমাদেরকে সে দিবস সম্পর্কে হিদায়াত দান করেছেন। অন্যেরা এ বিষয়ে আমাদের পশ্চাতে রয়েছে। ইয়াহুদীরা পরের দিন, নাসারারা তারও পরে।
2 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَثَلِي وَمَثَلُ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِي كَمَثَلِ رَجُلٍ ابْتَنَى بُيُوتًا فَأَحْسَنَهَا وَأَجْمَلَهَا وَأَكْمَلَهَا إِلَّا مَوْضِعَ لَبِنَةٍ مِنْ زَاوِيَةٍ مِنْ زَوَايَاهَا، فَجَعَلَ النَّاسُ يَطُوفُونَ وَيُعْجِبُهُمُ الْبُنْيَانُ، فَيَقُولُونَ أَلَا وُضِعَتْ هَاهُنَا لَبِنَةٌ فَتَمَّ بِنَاؤُهُ، فَقَالَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم: فَأَنَا اللَّبِنَةُ»
২. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমার দৃষ্টান্ত এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণের দৃষ্টান্ত সে ব্যক্তির দৃষ্টান্তের ন্যায়, যে একটি আট্টালিকা বানাল এবং তা সুন্দর ও সুদৃশ্য করল। তবে তার কোণগুলোর কেন এক কোণে একটি ইটের জায়গা ছাড়া। লোকেরা তার চারদিকে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল আর তা দেখে বিস্মিত হতে লাগল এবং পরস্পর বলতে লাগল, ঐ ইটখানি স্থাপন করা হল না কেন? (নবী (ﷺ)) বলেনঃ আমি–ই সে ইটখানি আর আমি নবীগণের মোহর (ও শেষ নবী)।
3 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَثَلُ الْبَخِيلِ وَالْمُتَصَدِّقِ كَمَثَلِ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا جُبَّتَانِ أَوْ جُنَّتَانِ مِنْ حَدِيدٍ إِلَى ثَدْيَيْهِمَا أَوْ إِلَى تَرَاقِيهِمَا، فَجَعَلَ الْمُتَصَدِّقُ كُلَّمَا تَصَدَّقَ بِشَيْءٍ ذَهَبَتْ عَنْ جِلْدِهِ حَتَّى تُجِنَّ بَنَانَهُ وَيَعْفُوَ أَثَرُهُ، وَجَعَلَ الْبَخِيلُ كُلَّمَا أَنْفَقَ شَيْئًا أَوْ حَدَّثَ بِهِ نَفْسَهُ، عَضَّتْ كُلُّ حَلْقَةٍ مَكَانَهَا فَيُوَسِّعُهَا وَلَا تَتَّسِعُ»
৩. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তির উপমা ঐ দুই ব্যক্তির অনুরূপ, যাদের গায়ে রয়েছে দুটি লোহার জুব্বা বা বর্ম এবং যাদের উভয় হাত তাদের বক্ষ ও কন্ঠনালীর সাথে জড়িয়ে আছে। অতঃপর দানশীল ব্যক্তি যখনই দান করতে চায় তখন এ বর্ম প্রশস্ত হয়ে যায়। এমনকি তার নখাগ্র পর্যন্ত আবৃত করে ফেলে এবং তার পদচিহ্ন নিশ্চিহ্ন করে দেয়। আর কৃপণ ব্যক্তি যখনই কোন কিছু খরচ করে বা সাদ্কা করার ইচ্ছা করে তখন লৌহ বর্মটি সংকুচিত হয়ে যায় এবং এর প্রতিটি আংটা স্বস্থানে এটে যায়। সে তা প্রশস্ত করতে চায় কিন্তু তা প্রশস্ত হয় না।
4 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ` مَثَلِي كَمَثَلِ رَجُلٍ اسْتَوْقَدَ نَارًا فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهَا جَعَلَ الْفَرَاشُ وَهَذِهِ الدَّوَابُّ الَّتِي يَقَعْنَ فِي النَّارِ يَقَعْنَ فِيهَا، وَجَعَلَ يَحْجُزُهُنَّ وَيَغْلِبْنَهُ فَيَتَقَحَّمْنَ فِيهَا فَذَاكَ مَثَلِي وَمَثَلُكُمْ، أَنَا آخِذٌ بِحُجَزِكُمْ عَنِ النَّارِ، هَلُمَّ عَنِ النَّارِ، هَلُمَّ عَنِ النَّارِ، فَتَغْلِبُونِي تَقَحَّمُونَ فِيهَا
৪. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার অবস্থা সে ব্যক্তির অবস্থার ন্যায় যে আগুন প্রজ্জ্বলিত করল, যখন তাতে তার চার পাশ আলোকিত হলো, তখন পতঙ্গ ও সেসব প্রাণী যা আগুনে পড়ে থাকে, তাতে পড়তে লাগল আর সে ব্যক্তি সেগুলোকে বাধা দিতে লাগল। কিন্তু তারা তাকে হারিয়ে দিতে তাতে ঢুকে পড়তে লাগল।
তিনি বললেন, এটাই হল তোমাদের অবস্থা আর আমার অবস্থা। আমি আগুন থেকে রক্ষার জন্য তোমাদের কোমরবন্ধগুলো ধরে রাখি ও বলি, আগুন থেকে দুরে থাক, আগুন থেকে দুরে থাক। আর তোমরা আমাকে হারিয়ে দিয়ে তার মাঝে ঢুকে পড়ছো।
5 - وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةٌ يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ عَامٍ لَا يَقْطَعُهَا»
৫. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতের মধ্যে এমন একটি বৃক্ষ রয়েছে, যার ছায়ায় একজন আরোহী একশ বছর সফর করেও তা শেষ করতে পারবে না।
6 - وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ، وَلَا تَنَاجَشُوا، وَلَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَنَافَسُوا، وَلَا تَبَاغَضُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا»
৬. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা অনুমান করা থেকে বেঁচে থাক। তোমরা অনুমান করা থেকে বেঁচে থাক। তোমরা অনুমান করা থেকে বেঁচে থাক। কেননা, অনুমান সর্বাপেক্ষা মিথ্যা। আর তোমরা পরস্পরে ধোঁকাবাজী করো না এবং পরস্পরকে হিংসা করো না; এবং পরস্পর পার্থিব বিষয়ে সীমাহীন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ো না, পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর পশ্চাতে শক্রতা করো না। তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা রূপে ভাই ভাই হয়ে যাও।
7 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فِي الْجُمُعَةِ سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا مُسْلِمٌ وَهُوَ يُصَلِّي يَسْأَلُ رَبَّهُ شَيْئًا إِلَّا آتَاهُ إِيَّاهُ»
৭. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জুমআর দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোন মুসলিম বান্দা নামাযরত অবস্থায় সে মুহূর্ত পেয়ে আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দিবেন।
8 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْمَلَائِكَةُ يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ ، مَلَائِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلَائِكَةٌ بِالنَّهَارِ وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ، وَصَلَاةِ الْعَصْرِ، ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ فَيَسْأَلُهُمْ، وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ، كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي؟ قَالُوا: تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ»
৮. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের মাঝে ফিরিশতাগণ আসেন, একদল রাতে এবং একদল দিনে। তারা আবার একত্রিত হন আসরের নামায ও ফজরের নামাযে। তারপর তোমাদের মাঝে যারা রাতে ছিলেন তাঁরা উর্ধ্বজগতে চলে যান। তখন আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, অথচ তিনি সবচাইতে বেশী জানেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কি হালে রেখে এসেছ? তখন তারা বলেন, আমরা তাদেরকে নামাযরত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি, আর যখন আমরা তাদের কাছে গিয়েছিলাম, তখনও তারা নামাযরত অবস্থায়ই ছিল।
9 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْمَلَائِكَةُ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مُصَلَّاهُ الَّذِي صَلَّى فِيهِ، وَتَقُولُ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ مَا لَمْ يُحْدِثْ»
৯. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ফিরিশতারা তোমাদের মধ্যে তার জন্য দুআ করতে থাকে, যতক্ষণ সে জায়নামাযে নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকে। তাঁরা বলতে থাকে ইয়া আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা কর, ইয়া আল্লাহ! তুমি তার উপর রহমত বর্ষণ কর, যতক্ষণ পর্যন্ত সে উযু নষ্ট না করে।
10 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا قَالَ أَحَدُكُمْ: آمِينَ وَالْمَلَائِكَةُ فِي السَّمَاءِ: آمِينَ، فَوَافَقَ إِحْدَاهَا الْأُخْرَى؛ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
১০. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে আমীন বলবে ও ফিরিশতারা আকাশের উপর আমীন বলবে এবং উভয়টি একই সময় হবে, তখন তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।
11 - وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: بَيْنَمَا رَجُلٌ يَسُوقُ بَدَنَةً مُقَلَّدَةً، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «ارْكَبْهَا» فَقَالَ: إِنَّهَا بَدَنَةٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ: «وَيْلَكَ ارْكَبْهَا: وَيْلَكَ ارْكَبْهَا»
১১. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেছেন, একদা এক ব্যক্তি কুরবানীর একটি উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এর গলায় মালা পরিহিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর। সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এটা কুরবানীর পশু। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য আফসোস! এর পিঠে আরোহণ কর, তোমার জন্য আফসোস! এর পিঠে চড়ে যাও।
12 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا قَاتَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَتَجَنَّبِ الْوَجْهَ» وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ` نَارُكُمْ هَذِهِ مَا يُوقِدُ بَنُو آدَمَ جُزْءٌ مِنْ سَبْعِينَ جُزْءًا مِنْ حَرِّ جَهَنَّمَ، فَقَالُوا: وَاللَّهِ إِنْ كَانَتْ لَكَافِيَتَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: فَإِنَّهَا فُضِّلَتْ عَلَيْهَا بِتِسْعَةٍ وَسِتِّينَ جُزْءًا كُلُّهُنَّ مِثْلُ حَرِّهَا
১২. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের এ অগ্নি যা আদম সন্তানগণ প্রজ্জলিত করে তা জান্নামের আগুনের তাপমাত্রার সত্তর ভাগের একভাগ। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ। আল্লাহর কসম! এ আগুন যথেষ্ট ছিল। তিনি বললেনঃ (তবুও) সে আগুনকে এ আগুনের তুলনায় উনসত্তর গুণ বেশী তাপমাত্রা সম্পন্ন করা হয়েছে। এর (উনসত্তরের) প্রতিটি গুণ তার তাপের (দুনিয়ার আগুনের) সমমানের।
13 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَمَّا قَضَى اللَّهُ الْخَلْقَ، كَتَبَ كِتَابًا عِنْدَهُ فَوْقَ الْعَرْشِ: إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي»
১৩. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ যখন সৃষ্টি কার্য সমাধা করলেন, তখন তিনি তাঁর কিতাব লাওহে মাহফুজে লিখেন, যা আরশের উপর তাঁর কাছে বিদ্যমান। নিশ্চয়ই আমার করুণা আমার ক্রোধের চেয়ে প্রবল।
14 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا وَلَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا»
১৪. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তা হলে তোমরা অবশ্যই অধিক ক্রন্দন করতে আর অল্প হাসতে।
15 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «الصِّيَامُ جُنَّةٌ، فَإِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يَوْمًا صَائِمًا، فَلَا يَجْهَلْ وَلَا يَرْفُثْ فَإِنِ امْرُؤٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ ، إِنِّي صَائِمٌ»
১৫. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, রোযা (একটি) ঢাল, কাজেই তোমাদের কেউ রোযা রাখলে সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা ও অপকর্মে লিপ্ত না হয়। যদি এই সময় কেউ তার সাথে মারামারি ও গালাগালি করতে আসে, তখন সে যেন বলে, আমি রোযাদার, আমি রোযাদার।
16 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ، يَذَرُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ وَشَرَابَهُ مِنْ جَرَّايَ، فَالصِّيَامُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ»
১৬. রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, সেই সত্তার কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মৃগণাভীর ঘ্রাণ হইতেও উত্তম; রোযাদার তাহার প্রবৃত্তি ও পানাহারকে ত্যাগ করে আমার জন্য। তাই রোযা আমারই এবং আমি উহার প্রতিদান দিব।
17 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «نَزَلَ نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ تَحْتَ شَجَرَةٍ؛ فَلَدَغَتْهُ نَمْلَةٌ فَأَمَرَ بِجَهَازِهِ فَأُخْرِجَ مِنْ تَحْتِهَا، فَأَمَرَ بِهَا فَأُحْرِقَتْ فِي النَّارِ، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ: فَهَلَّا نَمْلَةً وَاحِدَةً»
১৭. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নবী কুলের কোন একজন নবী একটি গাছের নীচে অবস্থান নিলেন, তখন একটি পিপিলিকা তাঁকে কামড়ে দিল। তখন তিনি তাদের বাসা (বের করে ফেলা)–র ব্যাপারে হুকুম দিলে, তা (তার গোদের) নিচ থেকে বের করা হল। অতঃপর তাদের সম্পর্কে হুকুম দিলে তাদের জ্বালিয়ে দেয়া হল। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে ওহী পাঠালেন ’তা হলে একটিমাত্র (অপরাধী) পিপড়াকে নয় কেন’?
18 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ مَا قَعَدْتُ خَلْفَ سَرِيَّةٍ تَغْزُو فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَلَكِنْ لَا أَجِدُ سَعَةً فَأَحْمِلَهُمْ، وَلَا يَجِدُونَ سَعَةً فَيَتَّبِعُونِي، وَلَا تَطِيبُ أَنْفُسُهُمْ أَنْ يَقْعُدُوا بَعْدِي»
১৮. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মুহাম্মাদের প্রাণ যার হাতে সেই সত্তার কসম! যদি মুমিনদের জন্য কষ্টকর না হতো তবে আমি কোন সেনাদলের যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধে বের হয় তাদের পিছনে বসে থাকতাম না, কিন্তু আমার সে সামর্থ নেই যা দিয়ে আমি তাদের সকলকে বাহন দিতে পারি, আর না তাদেরই সে সামর্থ আছে যে, (নিজ থেকে বাহন নিয়ে যুদ্ধ যাত্রাকালে) আমার অনুসরণ করবে, আর আমার যুদ্ধ অভিযানে বের হয়ে যাওয়ার পর ঘরে বসে থাকতেও তাদের মন চায় না।
19 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ` لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةٌ تُسْتَجَابُ لَهُ فَأُرِيدُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ أَنْ أُؤَخِّرَ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لِأُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ
১৯. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক নবী কে একটি বিশেষ দুআর অনুমতি প্রদান করা হয়েছে; এর মাধ্যমে তিনি যে দুআ করবেন, আল্লাহ তা অবশ্যই কবুল করবেন। আমি আমার দুআটি কিয়ামত দিবসে আমার উম্মতের শাফাআতের জন্য রেখে দিয়েছি।
20 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ، وَمَنْ لَمْ يُحِبَّ لِقَاءَ اللَّهِ لَمْ يُحِبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ»
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর দীদার পছন্দ করে আল্লাহ তার সাক্ষাত পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দীদার অপছন্দ করে আল্লাহ তার সাক্ষাত অপছন্দ করেন।