সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ
21 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ، وَمَنْ يَعْصِنِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ، وَمَنْ يُطِعِ الْأَمِيرَ فَقَدْ أَطَاعَنِي وَمَنْ يَعْصِ الْأَمِيرَ فَقَدْ عَصَانِي»
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করলো, সে আল্লাহর আনুগত্য করলো আর যে আমার অবাধ্যতা করলো সে আল্লাহর অবাধ্যতা করলো। যে ব্যক্তি আমীরের আনুগত্য করলো সে আমারই আনুগত্য করলো আর যে ব্যক্তি আমীরের অবাধ্যতা করলো সে আমারই অবাধ্যতা করলো।
22 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ الْمَالُ فَيَفِيضَ حَتَّى يُهِمَّ رَبُّ الْمَالِ مَنْ يَتَقَبَّلُ مِنْهُ صَدَقَتَهُ. قَالَ: وَيُقْبَضُ الْعِلْمُ وَيَقْتَرِبُ الزَّمَانُ وَتَظْهَرُ الْفِتَنُ وَيَكْثُرُ الْهَرْجُ، قَالُوا: الْهَرْجُ مَا هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ الْقَتْلُ الْقَتْلُ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পেয়ে এর প্লাবণ সৃষ্টি না হবে । আর তখন মানুষের প্রাচুর্য এমন চরম রূপ লাভ করবে যে, ধন-সম্পদের মালিকেরা এ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়বে যে, তার সাদাক্বাহ কে গ্রহণ করবে। তিনি (সা) বলেন: ইল্ম উঠিয়ে নেয়া হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিত্না প্রকাশ পাবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল (সা), হারজ’ কী?
তিনি (সা) বললেনঃ হত্যা, হত্যা।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৭০৬১, সহীহ মুসলিম ১৫৭
23 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَقْتَتِلَ فِئَتَانِ عَظِيمَتَانِ تَكُونُ بَيْنَهُمَا مَقْتَلَةٌ عَظِيمَةٌ وَدَعْوَاهُمَا وَاحِدَةٌ»
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত দু’টি দলের মধ্যে যুদ্ধ না হবে। তাদের মধ্যে হবে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। তাদের দাবী হবে এক।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৩৬০৮, ৮৫, মুসলিম ৫২/৪ ২৮৮৮, মুসনাদে আহমাদ ৮১৪২
24 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَنْبَعِثَ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ قَرِيبٌ مِنْ ثَلَاثِينَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত কায়িম হবে না যে পর্যন্ত প্রায় ত্রিশজন মিথ্যাচারী দাজ্জালের আবির্ভাব না হবে। এরা সবাই নিজেকে আল্লাহর রাসূল বলে দাবী করবে।
তাখরীজঃ সহীহ সহীহ বুখারী ৩৬০৯, ৮৫, সহীহ মুসলিম ৫২/৪ ২৮৮৮
25 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنُوا أَجْمَعُونَ، وَذَلِكَ حِينَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ পশ্চিম দিকে সূর্যোদয়ের পূর্বে কিয়ামত সংঘটিত হবে না, আর যখন পশ্চিমাকাশে সূর্য উঠবে তখন সকল মানুষ একত্রে ঈমান আনবে। কিন্তু যে ইতঃপূর্বে ঈমান আনেনি অথবা যে ঈমান অনুযায়ী নেক কাজ করেনি সে সময়ে ঈমান আনায় তার কোন কল্যাণ সাধিত হবে না।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৮৭, সহীহ বুখারী ৪৬৩৬
26 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا نُودِيَ بِالصَّلَاةِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ لَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لَا يَسْمَعَ التَّأْذِينَ، فَإِذَا قُضِيَ التَّأْذِينُ أَقْبَلَ حَتَّى إِذَا ثُوِّبَ بِهَا أَدْبَرَ حَتَّى إِذَا قُضِيَ التَّثْوِيبُ أَقْبَلَ، يَخْطِرُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهِ وَيَقُولُ: اذْكُرْ كَذَا اذْكُرْ كَذَا لِمَا لَمْ يَكُنْ يَذْكُرُ مِنْ قَبْلُ؛ حَتَّى يَظَلَّ الرَّجُلُ إِنْ يَدْرِي كَيْفَ صَلَّى»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন নামাযের আযান দেয়া হয় তখন শয়তান বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পিছন ফিরে দৌড় দেয়, যাতে সে আযানের ধ্বনি শুনতে না পায়। আযান শেষ হলে আবার ফিরে আসে। আর যখন ইকামতের তাকবীর বলা হয় তখন আবার পিছন দিকে ফিরে দৌড় দেয়। ইকামত শেষ হলে ফিরে আসে এবং মানুষের অন্তরে ওয়াসওয়াসা (ধোঁকা) দেয়। সে বলে, এই কথা স্মরণ কর, ঐ কথা স্মরণ কর, সে তাকে এমন সব জিনিসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যা সে ইতিপূর্বে মনেও করেনি। ফলে সে কয় রাকআত নামায আদায় করল তা ঠিক মনে করতে পারে না।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ১১৫২
27 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَمِينُ اللَّهِ مَلْأَى لَا يَغِيضُهَا نَفَقَةٌ، سَحَّاءُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْفَقَ مُنْذُ خَلَقَ السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ فَإِنَّهُ لَمْ يُنْقِصْ مِمَّا فِي يَمِينِهِ، قَالَ: وَعَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ، وَبِيَدِهِ الْأُخْرَى الْقَبْضُ يَرْفَعُ وَيَخْفِضُ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর ডান হাত পূর্ণ, রাত দিনের খরচেও তা কমে না। তোমরা ভেবে দেখেছ কি? আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টির সূচনা থেকে তিনি কত খরচ করে যাচ্ছেন, তবুও তাঁর ডান হাতের কিছুই কমেনি। তাঁর আরশ পানির ওপর আছে। তাঁর অন্য হাতে আছে দেয়া আর নেয়া। তা তিনি উঠান ও নামান।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৭৪১৯; সহীহ মুসলিম ৯৯৩
28 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أَحَدِكُمْ يَوْمٌ لَا يَرَانِي، ثُمَّ لَأَنْ يَرَانِي أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مِثْلِ أَهْلِهِ وَمَالِهِ مَعَهُمْ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন তার শপথ! তোমাদের উপর এমন এক মুহূর্ত আসবে যখন তোমরা আমার সাক্ষাৎ পাবে না; আর আমার সাক্ষাৎ লাভ তোমাদের নিকট তখন তোমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের চেয়েও অধিক আকাঙ্ক্ষার বস্তু হবে।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৬০২৩, সহীহ বুখারী ৩৫৮৯
29 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَهْلِكُ كِسْرَى ثُمَّ لَا كِسْرَى بَعْدَهُ، وَقَيْصَرُ لَيَهْلِكَنَّ ثُمَّ لَا يَكُونُ قَيْصَرُ بَعْدَهُ، وَلَتُنْفَقَنَّ كُنُوزُهُمَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَسَمَّى الْحَرْبَ خُدْعَةً»
রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিসরা ধ্বংস হবে, অতঃপর আর কিসরা হবে না। আর কায়সার অবশ্যই ধ্বংস হবে, অতঃপর আর কায়সার হবে না এবং এটা নিশ্চিত যে, তাদের ধনভান্ডার আল্লাহর পথে বণ্টিত হবে।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৩০২৭, ৩০২৮, সহীহ মুসলিম ২৯১৮, ৭৬
30 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل قَالَ: أَعْدَدْتُ لِعِبَادِيَ الصَّالِحِينَ مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ، وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ، وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ ঘোষণা করলেন, আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি, কোন মানুষের কল্পনায়ও আসেনি।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৭৪৯৮, ৩২৪৪, সহীহ মুসলিম ২৮২৪
31 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، فَإِنَّمَا هَلَكَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ بِسُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَاجْتَنِبُوهُ، وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমাকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাক, যে পর্যন্ত না আমি তোমাদের কিছু না বলি। কেননা, তোমাদের আগে যারা ছিল, তারা তাদের নবীদেরকে বেশি বেশি প্রশ্ন করা ও নবীদের (নবীদের) সঙ্গে মতভেদ করার জন্যই ধ্বংস হয়েছে। তাই আমি যখন তোমাদেরকে কোন ব্যাপারে নিষেধ করি, তখন তাত্থেকে বেঁচে থাক। আর যদি কোন বিষয়ে আদেশ করি তাহলে সাধ্য অনুসারে মেনে চল।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৭২৮৮, সহীহ মুসলিম ১৫/৭৩, হাদীস নং - ১৩৩৭, মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং – ৯৭৮৭
32 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ صَلَاةِ الصُّبْحِ، وَأَحَدُكُمْ جُنُبٌ فَلَا يَصُومُ يَوْمَئِذٍ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন ফজরের সালাতের জন্য আযান দেয়া হয়, এমতাবস্থায় তোমাদের কেউ জুনুবী (গোসল ফরয) থাকে তাহলে সে যেন সেদিন রোজা না রাখে।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ১৯২৬
✰ নোটঃ এই হাদীস মানসূখ হয়ে গিয়েছে। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) সেটি জানতে পারলে তার মত থেকে তিনি ফিরে আসেন। এর নাসিখ দেখুনঃ সহীহ মুসলিম ২৪৭৯ হাদীস একাডেমী।
33 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لِلَّهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ اسْمًا مِائَةٌ إِلَّا وَاحِدًا، مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ، إِنَّهُ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর ৯৯টি নাম আছে, এক কম একশ। যে ব্যক্তি সেগুলোকে সংরক্ষণ করবে (অর্থাৎ মুখস্থ করবে, বুঝবে ও তার অনুযায়ী আমল করবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তিনি (আল্লাহ) বিজোড়, এবং তিনি বিজোড়কে ভালোবাসেন।"
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৬৭৭, সহীহ বুখারী ৬৯৭৩
34 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا نَظَرَ أَحَدُكُمْ إِلَى مَنْ هُوَ فُضِّلَ عَلَيْهِ فِي الْمَالِ وَالْخَلْقِ، فَلْيَنْظُرْ إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلُ مِنْهُ مِمَّنْ فُضِّلَ عَلَيْهِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন এমন কাউকে দেখে যার ওপর ধন-সম্পদ ও গঠন-গঠনে (দেহ ও রূপে) সে শ্রেষ্ঠতা লাভ করেছে, তখন সে যেন এমন কারো দিকে তাকায় যে এতে তার চেয়ে নিম্নস্তরের এবং যে বিষয়ে তাকেও (তুলনামূলকভাবে) শ্রেষ্ঠতা দেয়া হয়েছে।"
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৯৬৩, সহীহ বুখারী ১/ ২৭৬
35 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «طَهُورُ إِنَاءِ أَحَدِكُمْ إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِيهِ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর যদি জিহ্বা ডুবায় (চাটে), তাহলে সে পাত্রকে সাতবার ধুয়ে ফেলবে।"
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৭৯, সহীহ বুখারী ১/ ২৩৯
36 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ فِتْيَانِي أَنْ يَسْتَعِدُّوا لِي بِحُزَمٍ مِنْ حَطَبٍ، ثُمَّ آمُرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِالنَّاسِ ثُمَّ أُحَرِّقُ بُيُوتًا عَلَى مَنْ فِيهَا»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! আমি ইচ্ছা করেছি আমার যুবকদের আদেশ করি যেন তারা কিছু লাকড়ি প্রস্তুত করে, তারপর আমি কাউকে লোকদের ইমামতি করতে আদেশ করি এবং নিজে তাদের বাড়িতে গিয়ে, যারা সালাতে (জামাআতের সঙ্গে) অংশগ্রহণ করে না, তাদের ঘর আগুনে পুড়িয়ে দিই।"
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৬৪৪, সহীহ মুসলিম ২৫২, ৬৫১
37 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ، وَأُوتِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "আমাকে ভীতি (শত্রুর হৃদয়ে আতঙ্ক সঞ্চারের মাধ্যমে) দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে এবং আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবোধক কথা (জাওয়ামি‘উল কালিম) দান করা হয়েছে।"
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৫২৩, সহীহ বুখারী ২৯৭৭
38 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا انْقَطَعَ شِسْعُ نَعْلِ أَحَدِكُمْ أَوْ شِرَاكَهُ فَلَا يَمْشِ فِي إِحْدَاهُمَا بِنَعْلٍ وَاحِدَةٍ وَالْأُخْرَى حَافِيَةٌ، لِيُحْفِهِمَا جَمِيعًا أَوْ لِيُنْعِلْهُمَا جَمِيعًا»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কারো স্যান্ডেলের ফিতা ছিঁড়ে গেলে, সে যেন এক পায়ে স্যান্ডেল পরে এবং অন্য পা খালি রেখে না চলে। বরং সে যেন উভয় পা খালি রাখে, অথবা উভয়ে স্যান্ডেল পরে নেয়।”
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২০৯৭; সহীহ বুখারী ৫৮৫৪
39 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَأْتِي ابْنَ آدَمَ النَّذْرُ بِشَيْءٍ لَمْ أَكُنْ قَدْ قَدَّرْتُهُ، وَلَكِنْ يُلْقِيهِ النَّذْرُ وَقَدْ قَدَّرْتُهُ لَهُ، أَسْتَخْرِجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيلِ، وَيُؤْتِينِي عَلَيْهِ مَا لَمْ يَكُنْ آتَانِي مِنْ قَبْلُ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মানত আদম সন্তানকে এমন কিছু এনে দিতে পারে না, যা আমি (আল্লাহ) তার তাক্দীরে নির্দিষ্ট করিনি। বরং মানতটি তাক্দীরের মাঝেই ঢেলে দেয়া হয় যা তার জন্য বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ্ কৃপণের নিকট হতে (সম্পদ) বের করে নিয়ে আসেন। অতঃপর তাকে এমন কিছু দেন যা তাকে পূর্বে দেয়া হয়নি।"
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী হাদীস নম্বর: ৬৬৯৪, ৬৬০৯; সহীহ মুসলিম হাদীস নম্বর: ১৬৪০
40 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ: أَنْفِقْ أُنْفِقْ عَلَيْكَ، وَسَمَّى الْحَرْبَ خُدْعَةً»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তুমি দান কর, আমি তোমাকে দান করব। এবং তিনি যুদ্ধকে কৌশল নামে আখ্যায়িত করেন।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৯৯৩, ৩৭, সহীহ বুখারী ৩০২৯, ৩০৩০