সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ
41 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «رَأَى عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَجُلًا يَسْرِقُ، فَقَالَ لَهُ عِيسَى: سَرَقْتَ؟ فَقَالَ: كَلَّا وَالَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، فَقَالَ عِيسَى: آمَنْتُ بِاللَّهِ وَكَذَّبْتُ عَيْنَيَّ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ ঈসা ইবনে মরিয়ম (আলাইহিস সালাম) এক ব্যক্তিকে চুরি করতে দেখলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: 'তুমি কি চুরি করেছো?' সে বলল: 'কখনোই না, আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।' তখন ঈসা (আলাইহিস সালাম) বললেন: 'আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি এবং আমার চোখকে মিথ্যা সাব্যস্ত করি।'”
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৩৪৪৪, সহীহ মুসলিম ২৩৬৮
42 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا أُوتِيكُمْ مِنْ شَيْءٍ وَلَا أَمْنَعُكُمُوهُ، إِنْ أَنَا إِلَّا خَازِنٌ أَضَعُ حَيْثُ أُمِرْتُ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি আমার তরফ হতে তোমাদেরকে না কিছু দেই এবং না কিছু আটকিয়ে রাখি। বরং আমি তো বণ্টনকারী মাত্র। যেখানে হুকুম হয়, আমি সেখানেই খরচ করি।
তাখরীজঃ সূনান আবু দাউদ হাদীস নং - ২৯৪৯
43 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَلَا تَخْتَلِفُوا عَلَيْهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، فَقُولُوا: اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ، فَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا، وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعِينَ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অনুসরণ করার জন্যই ইমাম নির্ধারণ করা হয়। কাজেই তার বিরুদ্ধাচরণ করবে না। তিনি যখন রুকূ‘ করেন তখন তোমরাও রুকু‘ করবে। তিনি যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলবে। তিনি যখন সিজদা করবেন তখন তোমরাও সিজদা্ করবে। তিনি যখন বসে সালাত আদায় করেন, তখন তোমরাও সবাই বসে সালাত আদায় করবে।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৭২২; সহীহ মুসলিম ৪১৪
44 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَقِيمُوا الصَّفَّ فِي الصَّلَاةِ؛ فَإِنَّ إِقَامَةَ الصَّفِّ مِنْ حُسْنِ الصَّلَاةِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সালাতের লাইন সোজা করো। কেননা সঠিকভাবে লাইন সোজা করা সালাতের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৮৬৩
45 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَحَاجَّ آدَمُ وَمُوسَى، فَقَالَ لَهُ مُوسَى: أَنْتَ آدَمُ الَّذِي أَغْوَيْتَ النَّاسَ فَأَخْرَجْتَهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ إِلَى الْأَرْضِ، فَقَالَ لَهُ آدَمُ: أَنْتَ مُوسَى الَّذِي أَعْطَاهُ اللَّهُ عِلْمَ كُلِّ شَيْءٍ وَاصْطَفَاهُ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَتِهِ، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: أَتَلُومُنِي عَلَى أَمْرٍ قَدْ كُتِبَ عَلَيَّ أَنْ أَفْعَلَ مِنْ قَبْلِ أَنْ أُخْلَقَ فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى» - صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَى نَبِيِّنَا وَعَلَيْهِمَا وَسَلَّمَ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আদম ও মুসা (আলাইহিস সালাম)–এর মধ্যে তর্ক হয়েছিল। মুসা (আলাইহিস সালাম) তাকে বলেছিলেন, আপনি ঐ আদম যিনি বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছেন। আর তাদেরকে বেহেশত থেকে জমিনে বাহির করিয়াছেন। আদম (আলাইহিস সালাম) তাকে বলিলেন, তুমি ঐ মুসাই তো, তোমাকে আল্লাহ্ সর্বপ্রকার ইলম দান করেছিলেন, তোমাকে নবী বানিয়ে ছিলেন। মুসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর আদম (আলাইহিস সালাম) বললেন, তা সত্ত্বেও তুমি আমাকে এমন কাজের ব্যাপারে দোষারোপ করিতেছ যাহা আমার সৃষ্টির পূর্বেই আমার তকদীরে লেখা ছিল যে, আমি এমন করব।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৬৫২, সহীহ বুখারী ১১/ ৪৪১
46 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بَيْنَمَا أَيُّوبُ يَغْتَسِلُ عُرْيَانًا خَرَّ عَلَيْهِ رِجْلُ جَرَادٍ مِنْ ذَهَبٍ، فَجَعَلَ أَيُّوبُ يَحْثِي فِي ثَوْبِهِ، قَالَ: فَنَادَاهُ رَبُّهُ: يَا أَيُّوبُ أَلَمْ أَكُنْ أَغْنَيْتُكَ عَمَّا تَرَى؟ قَالَ: بَلَى يَا رَبِّ، وَلَكِنْ لَا غِنَى لِي عَنْ بَرَكَتِكَ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একদা আইয়্যুব (আলাইহিস সালাম) নগ্ন দেহে গোসল করছিলেন। এমন সময় তাঁর উপর স্বর্ণের এক ঝাঁক পঙ্গপাল পতিত হল। আইয়্যুব (আলাইহিস সালাম) সেগুলো দু’হাতে ধরে কাপড়ে রাখতে লাগলেন। তিনি বলেন, তখন তাঁর রব তাঁকে ডেকে বললেন, হে আইয়্যুব! তুমি যা দেখতে পাচ্ছ, তা থেকে কি আমি তোমাকে মুখাপেক্ষীহীন করে দেই নি? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, হে রব! কিন্তু আমি আপনার বরকতের অমুখাপেক্ষী নই।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ২৭৮
47 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خُفِّفَ عَلَى دَاوُدَ الْقُرْآنُ، فَكَانَ يَأْمُرُ بِدَوَابِّهِ تُسْرَجُ، فَكَانَ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مِنْ قَبْلِ أَنْ تُسْرَجَ دَابَّتُهُ، وَكَانَ لَا يَأْكُلُ إِلَّا مِنْ عَمَلِ يَدِهِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দাউদ (আঃ)-এর জন্য কুরআন (যাবুর) তিলাওয়াত সহজ করে দেয়া হয়েছিল। তিনি তাঁর পশুযানে গদি বাঁধার আদেশ করতেন, তখন তার উপর গদি বাঁধা হতো। অতঃপর তাঁর পশুযানের ওপর গদি বাঁধার পূর্বেই তিনি যাবুর তিলাওয়াত করে শেষ করে ফেলতেন। তিনি নিজ হাতে উপার্জন করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৩৪১৭
48 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «رُؤْيَا الرَّجُلِ الصَّالِحِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নেককার ব্যক্তির স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ অংশের একটি অংশ।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২২৬৩, সহীহ বুখারী ১২/ ৩৫৬
49 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يُسَلِّمُ الصَّغِيرُ عَلَى الْكَبِيرِ، وَالْمَارُّ عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সালাম দিবে ছোট বড়কে, পথচারী বসা ব্যক্তিকে এবং কম সংখ্যক অধিক সংখ্যককে।
তাখরীজঃ সূনান আবু দাউদ হাদীস নং - ৫১৯৮, সহীহ বুখারী ৬২৩১
50 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا أَزَالُ أُقَاتِلُ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِذَا قَالُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَدْ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ وَأَنْفُسَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই — এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত আমি লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবো। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই— এ কথার সাক্ষ্য দিলে তারা তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারণ ছাড়া। আর তাদের হিসাব–নিকাশ আল্লাহর কাছে।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ১৩/ ২১৭, সহীহ মুসলিম ২০
51 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَحَاجَّتِ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ، فَقَالَتِ النَّارُ: أُوثِرْتُ بِالْمُتَكَبِّرِينَ وَالْمُتَجَبِّرِينَ، وَقَالَتِ الْجَنَّةُ: فَمَا لِيَ لَا يُدْخِلُنِي إِلَّا ضُعَفَاءُ النَّاسِ وَسَقَطُهُمْ وَغِرَّتُهُمْ. فَقَالَ اللَّهُ لِلْجَنَّةِ: إِنَّمَا أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي، وَقَالَ لِلنَّارِ: إِنَّمَا أَنْتِ عَذَابِي أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي، وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْكُمَا مِلْؤُهَا، فَأَمَّا النَّارُ فَلَا تَمْتَلِئُ حَتَّى يَضَعَ اللَّهُ فِيهَا رِجْلَهُ، فَتَقُولُ: قَطْ قَطْ فَهُنَالِكَ تَمْتَلِئُ وَيُزْوَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ وَلَا يَظْلِمُ اللَّهُ مِنْ خَلْقِهِ أَحَدًا، وَأَمَّا الْجَنَّةُ فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل يُنْشِئُ لَهَا خَلْقًا»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পর তর্কযুদ্ধ করেছে। জাহান্নাম বলল, প্রতিপত্তিশালী ও দম্ভকারীদের দ্বারা আমাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। জান্নাত বলল, আমার কি হল, আমাতে কেবল দূর্বল ও নগণ্য সাদাসিধা লোকেরাই প্রবেশ করবে। এ কথা শুনে আল্লাহ তাআলা জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহমত। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে চাই তার প্রতি আমি রহমত নাযিল করব। এবং তিনি জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব। তোমার দ্বারা আমি আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা আযাব দিব। বস্তুতঃ তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই থাকবে ভরপুর হিস্যা। কিন্তু জাহান্নাম কিছুতেই পূর্ণ হবে না। অবশেষে আল্লাহ তাআলা তার পা জাহান্নামে রাখবেন। তখন জাহান্নাম বলবে ব্যস, ব্যস। তখনি জাহান্নাম পুর্ণ হবে এবং এর এক অংশ অন্য অংশের সাথে চেপে সংকুচিত হয়ে আসবে। আল্লাহ তাআলা তার সৃষ্টির কারো উপর যুলুম করবেন না। আর জান্নাত পূর্ণ করার জন্য আল্লাহ তাআলা মাখলুক সৃষ্টি করবেন।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৪৮৫০, সহীহ মুসলিম ২৮৪৬
52 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا اسْتَجْمَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُوتِرْ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা যখন ঢিলা ব্যবহার করবে তখন বেজোড় সংখ্যক নিবে।
তাখরীজঃ সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস নং - ১৩১, সহীহ ইবনে খুজাইমা হাদীস নং - ৭৭, আল মুস্তাদারক লিল হাকিম ১/ ১৫৮
53 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «قَالَ اللَّهُ تَعَالَى:» إِذَا تَحَدَّثَ عَبْدِي بِأَنْ يَعْمَلَ حَسَنَةً فَأَنَا أَكْتُبُهَا لَهُ حَسَنَةً مَا لَمْ يَعْمَلْهَا، فَإِذَا عَمِلَهَا فَأَنَا أَكْتُبُهَا لَهُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، وَإِذَا تَحَدَّثَ بِأَنْ يَعْمَلَ سَيِّئَةً فَأَنَا أَغْفِرُهَا لَهُ مَا لَمْ يَعْمَلْهَا، فَإِذَا عَمِلَهَا فَأَنَا أَكْتُبُهَا لَهُ بِمِثْلِهَا `
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ আমার বান্দা কোন নেক কাজ করবে বলে যদি মনে মনে ভাবে, তবে তা সস্পাদন করার পূর্বে আমি তার জন্য একটি সাওয়াব লিখে দেই। পরে যদি কার্যত তা সম্পাদন করে নেয় তবে তার দশগুণ সাওয়াব লিখি। পক্ষান্তরে যদি কোন অসৎ কাজ করবে বলে মনে মনে ভাবে তবে তা কাজে পরিণত না করা পর্যন্ত মাফ করে দেই। কিন্তু তা সম্পাদন করলে তদনূরূপ একটি গুনাহ লিখি।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ১২৯, সহীহ বুখারী ১৩/ ৩৯১
54 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَاللَّهِ لَقِيدُ سَوْطِ أَحَدِكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ خَيْرٌ لَهُ مِمَّا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর শপথ, জান্নাতে তোমাদের একজনের চাবুকের হাতল পরিমাণ জায়গা তার জন্য আসমান ও যমিনের মাঝে যা কিছু রয়েছে তার চেয়েও উত্তম।
তাখরীজঃ সূনান আত-তিরমিযী হাদীস নং - ৩০১৭, ৩২৮৮; সূনান আদ-দারিমী ২/ ৩৩২, আল মুস্তাদারক লিল হাকিম ২/ ২৯৯, মুসনাদে আহমাদ ২/ ৪৩৮
55 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ أَدْنَى مَقْعَدِ أَحَدِكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ أَنْ هُيِّئَ لَهُ أَنْ يُقَالَ لَهُ: تَمَنَّ، فَيَتَمَنَّى وَيَتَمَنَّى فَيُقَالُ لَهُ: هَلْ تَمَنَّيْتَ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ، فَيَقُولُ لَهُ: فَإِنَّ لَكَ مَا تَمَنَّيْتَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ `
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের জান্নাতীকে বলা হবে যে, তুমি আকাঙ্ক্ষা কর। সে আকাঙ্ক্ষা করতে থাকবে। আল্লাহ তাকে বলবেন, তোমার যা আকাঙ্ক্ষা করার তা কি করেছ? সে বলবে, জ্বী! আল্লাহ বলবেন, যা আকাঙ্ক্ষা করেছ তা এবং এর অনুরূপ তোমাকে প্রদান করা হল।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ১৮২
56 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَوْلَا الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَأً مِنَ الْأَنْصَارِ، وَلَوْ يَنْدَفِعُ النَّاسُ فِي شُعْبَةٍ أَوْ فِي وَادٍ وَالْأَنْصَارُ فِي شُعْبَةٍ لَانْدَفَعْتُ مَعَ الْأَنْصَارِ فِي شِعْبِهِمْ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি হিজরতের ফযীলত না হত তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। যদি মানুষ এক পথে বা এক উপত্যকায় চলতো আর আনসাররা অন্য পথে চলতো তবে আমি আনসারদের সাথে তাদের পথে চলতাম।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৩৭৭৯
57 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَوْلَا بَنُو إِسْرَائِيلَ لَمْ يَخْبُثِ الطَّعَامُ، وَلَمْ يَخْنَزِ اللَّحْمُ، وَلَوْلَا حَوَّاءُ لَمْ تَخُنْ أُنْثَى زَوْجَهَا الدَّهْرَ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বনু ইসরাঈলী না হলে খাদ্য নষ্ট হত না এবং গোশত বিকৃত দুর্গন্ধ যুক্ত হত না এবং হাওয়া (আলাইহিস সালাম) না হলে যুগ যুগান্তরে কোন নারী তার স্বামীর বিশ্বাস ভঙ্গ করত না।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৩৩৯৯, ৩৩৩০, সহীহ মুসলিম ১৪৭০
58 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ عَلَى صُورَتِهِ ، طُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا فَلَمَّا خَلَقَهُ قَالَ: اذْهَبْ فَسَلِّمْ عَلَى أُولَئِكَ النَّفَرِ - وَهُمْ نَفَرٌ مِنَ الْمَلَائِكَةِ جُلُوسٌ - فَاسْتَمِعْ مَا يُحَيُّونَكَ فَإِنَّهَا تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ، قَالَ: فَذَهَبَ، فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَقَالُوا: وَعَلَيْكَ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، فَزَادُوا: وَرَحْمَةُ اللَّهِ. قَالَ: فَكُلُّ مَنْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ آدَمَ طُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا، فَلَمْ يَزَلِ الْخَلْقُ يَنْقُصُ بَعْدُ حَتَّى الْآنَ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা আদম (আলাইহিস সালাম) কে তার নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তার দৈর্ঘ্য হল ষাট হাত। তাকে সৃষ্টি করার পর তিনি তাকে বললেন, যাও, এ দলটিকে সালাম কর। তারা হচ্ছে ফিরিশতাদের উপবিষ্ট একটি দল। সালামের জবাবে তারা কি বলে তা খুব মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর। কেননা তোমার এবং তোমার বংশধরদের অভিবাদন এ–ই। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি গেলেন ও বললেন, আসসালামু আলাইকুম’। উত্তরে তারা বললেন, ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ’। তাঁরা ওয়া রামাতুল্লাহ বাড়িয়ে বলেছেন। এরপর তিনি বললেন, যে ব্যক্তি জান্নাতে যাবে সে আদম (আলাইহিস সালাম) এর আকৃতিতে যাবে। তার দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত। নবী (ﷺ) বলেনঃ এরপর হতে সৃষ্টি (–র দেহের) পরিমাণ দিন দিন কমতে থেকেছে আজ পর্যন্ত।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৩৩২৬, সহীহ মুসলিম ২৮৪১
59 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «جَاءَ مَلَكُ الْمَوْتِ إِلَى مُوسَى فَقَالَ لَهُ: أَجِبْ رَبَّكَ، قَالَ: فَلَطَمَ مُوسَى عَيْنَ مَلَكِ الْمَوْتِ فَفَقَأَهَا، قَالَ: فَرَجَعَ الْمَلَكُ إِلَى اللَّهِ عز وجل فَقَالَ: إِنَّكَ أَرْسَلْتَنِي إِلَى عَبْدٍ لَكَ لَا يُرِيدُ الْمَوْتَ وَقَدْ فَقَأَ عَيْنِي، قَالَ: فَرَدَّ اللَّهُ عَيْنَهُ، قَالَ: ارْجِعْ إِلَى عَبْدِي فَقُلْ لَهُ: الْحَيَاةَ تُرِيدُ؟ فَإِنْ كُنْتَ تُرِيدُ الْحَيَاةَ فَضَعْ يَدَكَ عَلَى مَتْنِ ثَوْرٍ فَمَا وَارَتْ يَدُكَ مِنْ شَعْرَةٍ، فَإِنَّكَ تَعِيشُ بِهَا سَنَةً، قَالَ: ثُمَّ مَهْ؟ قَالَ: ثُمَّ تَمُوتُ: قَالَ: فَالْآنَ مِنْ قَرِيبٍ ، قَالَ: رَبِّ أَدْنِنِي مِنَ الْأَرْضِ الْمُقَدَّسَةِ رَمْيَةً بِحَجَرٍ. وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:» لَوْ أَنِّي عِنْدَهُ لَأَرَيْتُكُمْ قَبْرَهُ إِلَى جَانِبِ الطَّرِيقِ عِنْدَ الْكَثِيبِ الْأَحْمَرِ `
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মালাকুল মাউত মুসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে এসে বললো, মুসা, আপনার পালনকর্তার ডাকে সাড়া দিন। রাবী বলেন, তখন মালাকুল মাউতের চোখের উপর মুসা (আলাইহিস সালাম) একটা থাপ্পড় মারলেন, এতে তাঁর চোখ নষ্ট করে ফেলেছিলেন। এরপর ফিরিশতা আল্লাহর কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, আপনি আমাকে আপনার এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না এবং সে আমার চোখ নষ্ট করে দিয়েছে। আল্লাহ তাঁর চোখ ভালো করে দিলেন এবং বললেন, আমার বান্দার কাছে আবার যাও এবং বল, তুমি কি আরও হায়াত চাও? যদি তা চাও তবে তোমার হাত একটি বলদের পিঠের উপর রাখ। এতে তোমার হাত যতগুলো পশম ঢেকে ফেলবে, তত বছর তুমি বেঁচে থাকবে। মুসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, এরপর কি? ফিরিশতা বললেন, এরপর মৃত্যু বরণ করবে। মুসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, তবে নিকটবর্তী সময়ে এখনই ভালো। আয় রব! আমাকে পবিত্র ভূমির একটি পাথরের টিলার নিকটে নিয়ে মৃত্যু দান করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি যদি ওখানে হতাম তবে পথের কিনারে লাল বালিয়াড়ির পাশে তাঁর কবর তোমাদের দেখিয়ে দিতাম।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৩৪০৭, সহীহ মুসলিম ২৩৭২
60 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كَانَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ يَغْتَسِلُونَ عُرَاةً يَنْظُرُ بَعْضُهُمْ إِلَى سَوْأَةِ بَعْضٍ، وَكَانَ مُوسَى يَغْتَسِلُ وَحْدَهُ فَقَالُوا: وَاللَّهِ مَا يَمْنَعُ مُوسَى أَنْ يَغْتَسِلَ مَعَنَا إِلَّا أَنَّهُ آدَرُ. قَالَ: فَذَهَبَ مَرَّةً يَغْتَسِلُ فَوَضَعَ ثَوْبَهُ عَلَى حَجَرٍ فَفَرَّ الْحَجَرُ بِثَوْبِهِ، قَالَ: فَجَمَحَ مُوسَى فِي أَثَرِهِ، يَقُولُ: ثَوْبِي حَجَرُ، ثَوْبِي حَجَرُ، حَتَّى نَظَرَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ إِلَى سَوْأَةِ مُوسَى، فَقَالُوا وَاللَّهِ مَا بِمُوسَى مِنْ بَأْسٍ قَالَ: فَقَامَ الْحَجَرُ بَعْدَ مَا نُظِرَ إِلَيْهِ فَأَخَذَ ثَوْبَهُ وَطَفِقَ بِالْحَجَرِ ضَرْبًا، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ:» وَاللَّهِ إِنَّهُ نَدَبٌ بِالْحَجَرِ سِتَّةٌ أَوْ سَبْعَةٌ مِنْ ضَرْبِ مُوسَى بِالْحَجَرِ `
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বনী ইসরাঈলরা উলঙ্গ হয়ে গোসল করত একে অপরের সতরের দিকে তাকাত। আর মুসা (আলাইহিস সালাম) গোসল করতেন একাকী। তাই তারা বলাবলি করত, আল্লাহর কসম! মুসা আমাদের সাথে গোসল করে না কারণ তার একশিরা রোগ রয়েছে।
একবার তিনি গোসল করতে গিয়ে একটি পাথরের ওপর তাঁর কাপড় রাখলেন। এরপর পাথরটি তার কাপড় নিয়ে দৌড়াতে লাগল। রাবী বলেন, মুসা (আলাইহিস সালাম) তার পিছু পিছু ছুটলেন আর বলতে লাগলেন, পাথর! আমার কাপড়, পাথর! আমার কাপড়। এমনিভাবে বনী ইসরাঈলরা মুসা (আলাইহিস সালাম) এর সতর দেখে ফেলল এবং তারা বলল, আল্লাহর কসম! মুসার তো কোন খুত নেই। এরপর পাথর দাঁড়িয়ে গেল এবং তাঁকে দেখা হয়ে গেল।
রাবী বলেন, এরপর তিনি তাঁর কাপড় তুলে নিলেন এবং (রাগে) পাথরকে মারতে শুরু করে দিলেন। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! পাথরের ওপর মুসা (আলাইহিস সালাম) এর আঘাতের ছয়টি কি সাতটি চিহ্ন রয়েছে।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ২৭৮, সহীহ মুসলিম ৩৩৯