সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ
81 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْتَنْشِقْ بِمَنْخِرَيْهِ مِنْ مَاءٍ ثُمَّ لِيَنْتَثِرْ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ উযু করে তখন যেন দুই নাসারন্ধ্রে পানি টেনে নেয়, এরপর ঝেড়ে ফেলে।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৩৭
82 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ عِنْدِي أُحُدًا ذَهَبًا لَأَحْبَبْتُ أَلَّا يَأْتِيَ عَلَيَّ ثَلَاثُ لَيَالٍ وَعِنْدِي مِنْهُ دِينَارٌ أَجِدُ مَنْ يَتَقَبَّلُهُ مِنِّي، لَيْسَ شَيْءٌ أُرْصِدُهُ فِي دَيْنٍ عَلَيَّ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সে সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, যদি ওহুদ পরিমাণ স্বর্ণ আমার কাছে থাকত, তবে আমি এই বিষয়টিকে পছন্দ করতাম যে, তিন রাত অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে যদি এমন কাউকে পেতাম যে, এ গুলো গ্রহণ করবে তাহলে আমি একটি দিনারও বাকি রাখতাম না। আমি কোন কিছু বাকি রেখে নিজেকে ঋণী করতে চাইনা।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৭২২৮, সহীহ মুসলিম ৯৯১
83 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا جَاءَكُمُ الصَّانِعُ بِطَعَامِكُمْ قَدْ أَغْنَى عَنْكُمْ حَرَّهُ وَدُخَانَهُ فَادْعُوهُ فَلْيَأْكُلْ مَعَكُمْ، وَإِلَّا فَأَلْقِمُوهُ فِي يَدِهِ أَوْ لِيُنَاوِلْهُ فِي يَدِهِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের সেবক তোমাদের খানা নিয়ে আসে, যে তোমাদেরকে খাবার রান্নার উত্তাপ ও ধোঁয়া থেকে বাঁচিয়েছে তখন তোমরা তাকে ডাকো সে যেন তোমাদের সাথে খানা খায় অথবা তার হাতে অল্প কিছু খাবার দিও।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৯/ ৫০২
84 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَقُلْ أَحَدُكُمُ اسْقِ رَبَّكَ أَوْ أَطْعِمْ رَبَّكَ وَضِئْ رَبَّكَ وَلَا يَقُلْ أَحَدُكُمْ: رَبِّي، وَلْيَقُلْ: سَيِّدِي، مَوْلَايَ، وَلَا يَقُلْ أَحَدُكُمْ: عَبْدِي، أَمَتِي، وَلْيَقُلْ: فَتَايَ، فَتَاتِي، غُلَامِي»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ (মনিব সম্বন্ধে এভাবে) বলবে না যে, তোমার ’রব’কে পান করাও, তোমার ’রব’কে খাবার দাও, তোমার ’রব’কে উযু করাও। তিনি আরও বলেন, তোমাদের কেউ (নিজেও) বলবে না, আমার রব বরং বলবে আমার সায়্যিদ সরদার বা নেতা, আমার মাওলা–মনিব। আর তোমাদের কেউ বলবে না, আমার বান্দা আমার বাঁদী, বরং বলবে, কিশোর, কিশরী, বালক, বালিকা ।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২২৪৯
85 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَوَّلُ زُمْرَةٍ تَلِجُ الْجَنَّةَ صُوَرُهُمْ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، لَا يَبْصُقُونَ فِيهَا، وَلَا يَمْتَخِطُونَ، وَلَا يَتَغَوَّطُونَ فِيهَا، آنِيَتُهُمْ وَأَمْشَاطُهُمْ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ، وَمَجَامِرُهُمْ مِنَ الْأَلُوَّةِ، وَرَشْحُهُمُ الْمِسْكُ، وَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ، يُرَى مُخُّ سَاقِهَا مِنْ وَرَاءِ اللَّحْمِ مِنَ الْحُسْنِ، لَا اخْتِلَافَ بَيْنَهُمْ وَلَا تَبَاغُضَ، قُلُوبُهُمْ عَلَى قَلْبٍ وَاحِدٍ، يُسَبِّحُونَ اللَّهَ بُكْرَةً وَعَشِيًّا»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জান্নাতে প্রথম প্রবেশকারী দলের আকৃতি পূর্ণিমা রাতের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। তারা সেখানে থুথু ফেলবে না, নাক ঝাড়বে না, পায়খানা করবে না। সেখানে তাদের বরতন এবং চিরুনিসমূহ স্বর্ণ এবং রৌপ্য নির্মিত হবে। তাদের ধুনুচিতে থাকবে সুগন্ধ কাঠ। তাদের গায়ের ঘাম মিসকের ন্যায় সুগন্ধ যুক্ত হবে। তাদের প্রত্যেকের জন্য এমন দু’জন স্ত্রী থাকবে যাদের সৌন্দর্যের ফলে গোশত ভেদ করে পায়ের নলার হাড়ের মজ্জা দেখা যাবে। তাদের মধ্যে কোন মতভেদ থাকবে না; পরস্পর হিংসা–বিদ্বেষ থাকবে না। তাদের সকলের অন্তর এক অন্তরের মত থাকবে। তারা সকাল–সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ পাঠে রত থাকবে।’
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৮৩৪, সহীহ বুখারী ৩২৪৫
86 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَتَّخِذُ عِنْدَكَ عَهْدًا لَنْ تُخْلِفَهُ، إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ، فَأَيُّ الْمُؤْمِنِينَ آذَيْتُهُ أَوْ شَتَمْتُهُ أَوْ جَلَدْتُهُ أَوْ لَعَنْتُهُ فَاجْعَلْهَا صَلَاةً وَزَكَاةً وَقُرْبَةً تُقَرِّبُهُ بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট থেকে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিতে আব্দ্ধ হচ্ছি (আশা করি), আপনি কখনো তার বিপরীত করবেন না। আমি তো একজন মানুষ। সুতরাং আমি কোন মুমিন ব্যক্তিকে কষ্ট দিলে, গালি দিলে, লানত করলে, তাকে চাবুক লাগালে তা তার জন্য রহমত, পবিত্রতা ও নৈকট্য বানিয়ে দিবেন, যার দ্বারা সে কিয়ামত দিবসে আপনার নৈকট্য লাভ করতে পারে।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৬০১
87 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَمْ تَحِلَّ الْغَنَائِمُ لِمَنْ كَانَ قَبْلَنَا، ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ رَأَى ضَعْفَنَا وَعَجْزَنَا فَطَيَّبَهَا لَنَا»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনিমতের মাল হালাল ছিল না। আল্লাহ তাআলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে আমাদের জন্য তা হালাল করে দিলেন।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৪৪৪৭, সহীহ বুখারী ৩১২২
88 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «دَخَلَتِ امْرَأَةٌ النَّارَ مِنْ جَرَّاءِ هِرَّةٍ لَهَا أَوْ هِرَّةٍ رَبَطَتْهَا، فَلَا هِيَ أَطْعَمَتْهَا وَلَا هِيَ أَرْسَلَتْهَا تَتَقَهَّمُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ حَتَّى مَاتَتْ هَزْلًا»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একটি স্ত্রীলোক একটি বিড়ালকে কষ্ট দেওয়ার দরুণ জাহান্নামে প্রবেশ করে। সে এটিকে শক্ত করে বেঁধে রাখে এবং বন্দী দশায় সে এটিকে খাবার দেয়নি, পানীয় দেয়নি এবং তাকে বন্ধনমুক্ত করে ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে যমীনের পোকা–মাকড় খেয়ে বাঁচতে পারে। অবশেষে বিড়ালটি ক্ষুৎপিপাসায় মারা যায়।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৬১৯
89 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَسْرِقُ سَارِقٌ وَهُوَ حِينَ يَسْرِقُ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَزْنِي زَانٍ وَهُوَ حِينَ يَزْنِي مُؤْمِنٌ، وَلَا يَشْرَبُ الْحُدُودَ أَحَدُكُمْ، يَعْنِي الْخَمْرَ، وَهُوَ حِينَ يَشْرَبُهَا مُؤْمِنٌ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَا يَنْتَهِبُ أَحَدُكُمْ نُهْبَةً ذَاتَ شَرَفٍ يَرْفَعُ إِلَيْهِ الْمُؤْمِنُونَ أَعْيُنَهُمْ فِيهَا وَهُوَ حِينَ يَنْتَهِبُهَا مُؤْمِنٌ، وَلَا يَغُلُّ أَحَدُكُمْ حِينَ يَغُلُّ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاكُمْ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, চুরিকারী ব্যক্তি চুরি করা অবস্থায় মুমিন থাকে না, ব্যভিচারী ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত থাকা অবস্থায় মুমিন থাকে না, মদ্যপায়ীও মদ্যপান করার সময় মুমিন থাকে না। ওই সত্তার শপথ যার হাতে মোহাম্মাদের প্রাণ, কোন মূল্যবান সম্পদ লুণ্ঠন করে আর মুসলিমগণ তার দিকে তাদের চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে, তখন সে মু’মিন অবস্থায় লুণ্ঠন করে না। এবং খেয়ানতকারী যখন খেয়ানত করে, তখন মুমিন থাকে না। সুতরাং তোমরা সাবধান, তোমরা সাবধান।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ১০৬
90 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَا يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ، وَلَا يَهُودِيٌّ وَلَا نَصْرَانِيٌّ، وَمَاتَ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَّا كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সে সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, ইহুদি হোক আর খৃষ্টান হোক, যে ব্যক্তিই আমার এ আহবান শুনেছে, অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করেছে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ১৫৩
91 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «التَّسْبِيحُ لِلْقَوْمِ، وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ فِي الصَّلَاةِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নামাযের মধ্যে পুরুষের জন্য ‘সূবহানাল্লাহ’ এবং নারীদের জন্য হলো হাততালি।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৩২২
92 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ كَلْمٍ يُكْلَمُ بِهِ الْمُسْلِمُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَكُونُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَهَيْئَتِهَا إِذَا طُعِنَتْ يَفْجُرُ دَمًا، اللَّوْنُ لَوْنُ الدَّمِ، وَالْعَرْفُ عَرْفُ الْمِسْكِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর রাস্তায় মুসলমানদের যে যখম হয়, কিয়ামতের দিন তার প্রতিটি যখম আঘাতকালীন সময়ে যে অবস্থায় ছিল তদ্রূপ হবে। রক্ত ছুটে বের হতে থাকবে। তার রং হবে রক্তের রং কিন্তু গন্ধ হবে মিশকের ন্যায়।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ১৮৭৬; সহীহ বুখারী ২৩৭
93 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَزَالُونَ تَسْتَفْتُونَ حَتَّى يَقُولَ أَحَدُكُمْ: هَذَا اللَّهُ، خَلَقَ الْخَلْقَ، فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়। এক পর্যায়ে তোমাদের কারো কারো মনে এমন প্রশ্নেরও সৃষ্টি হয় যে, এ সৃষ্টি জগত তো আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তাহলে কে আল্লাহকে সৃষ্টি করেছে?
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ১৩৫
94 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنِّي لَأَنْقَلِبُ إِلَى أَهْلِي فَأَجِدُ التَّمْرَةَ سَاقِطَةً عَلَى فِرَاشِي أَوْ فِي بَيْتِي فَأَرْفَعُهَا لِآكُلَهَا، ثُمَّ أَخْشَى أَنْ تَكُونَ مِنَ الصَّدَقَةِ فَأُلْقِيهَا»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি আমার ঘরে ফিরে যাই, আমার বিছানায় খেজুর পড়ে থাকতে দেখি। খাওয়ার জন্য আমি তা তুলে নেই। পরে আমার ভয় হয় যে, হয়ত তা সাদ্কার খেজুর হবে তাই আমি তা রেখে দেই।
তাখরীজঃ মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক - ৬৯৪৪, সহীহ মুসলিম ১০৬৯, সহীহ বুখারী ২৪৩২
95 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَاللَّهِ لَأَنْ يَلَجَّ أَحَدُكُمْ بِيَمِينِهِ فِي أَهْلِهِ، آثَمُ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ أَنْ يُعْطِي كَفَّارَتَهُ الَّتِي فَرَضَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর কসম! তোমাদের কেউ স্বীয় পরিবারের সাথে (কোন বিষয়ে) আল্লাহর নামে কসম করে এর পুনরাবৃত্তি করে বা এর উপর অটল থাকে তা অধিক গুনাহর কারণ বলে বিবেচিত হবে- কসম করে আল্লাহর নির্ধারিত (শপথ ভঙ্গের) কাফফারাহ আদায় করার তুলনায়।
তাখরীজঃ মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক - ১৬০৩৬, সহীহ মুসলিম ৪১৮৩
96 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أُكْرِهَ الِاثْنَانِ عَلَى الْيَمِينِ فَاسْتَحَبَّاهَا فَأَسْهِمْ بَيْنَهُمَا»
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন দু’ব্যক্তি কসম খেতে বাধ্য হয় আর উভয়েই কসম করার জন্য প্রস্তুত হয়, তখন তাদের কসমের ব্যবস্থা লটারীর মাধ্যমে কর ।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ২৬৭৪, সূনান আবু দাউদ হাদীস নং - ৩৬১৭
97 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا مَا أَحَدُكُمُ اشْتَرَى لِقْحَةً مُصَرَّاةً أَوْ شَاةً مُصَرَّاةً فَهُوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ بَعْدَ أَنْ يَحْلُبَهَا، إِمَّا هِيَ وَإِلَّا فَلْيَرُدَّهَا وَصَاعًا مِنْ تَمْرٍ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি দুধ দোহন না করে ফুলিয়ে রাখা ওলান বিশিষ্ট বকরী খরিদ করে, তবে বাড়ী নিয়ে দোহনের পরে সে ইচ্ছা করলে রাখতে পারে আবার ইচ্ছা করলে ফেরতও দিতে পারে। ফেরত দিতে চাইলে এক সা’ খেজুরও সাথে দিবে।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৩৭২২
98 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الشَّيْخُ شَابٌّ عَلَى حُبِّ اثْنَتَيْنِ: طُولِ الْحَيَاةِ، وَكَثْرَةِ الْمَالِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বৃদ্ধ লোকের হৃদয় দুটি বস্তুর ভালবাসার ব্যাপারে যুবক (এর মত তা হলোঃ)
০১. দীর্ঘায়ু ও
০২. প্রাচুর্যের লোভ।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৩০০
99 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يُشِيرُ أَحَدُكُمْ إِلَى أَخِيهِ بِالسِّلَاحِ، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَحَدُكُمْ لَعَلَّ الشَّيْطَانَ أَنْ يَنْزِعَ فِي يَدِهِ؛ فَيَقَعَ فِي حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন তার অপর কোন ভাইয়ের প্রতি অস্ত্র উত্তোলন করে ইশারা না করে। কেননা সে জানে না হয়ত শয়তান তার হাতে ধাক্কা দিয়ে বসবে, ফলে সে জাহান্নামের গর্তে নিপতিত হবে।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৬১৭
100 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى قَوْمٍ فَعَلُوا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ حِينَئِذٍ يُشِيرُ إِلَى رَبَاعِيَتِهِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সে সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর গযব ভয়াবহ হয়, যারা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি এরূপ আচরণ করে"। এ কথা বলতে বলতে তিনি তার সম্মুখের দুটি (ভগ্ন) দাঁতের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৪৫৪০