হাদীস বিএন


সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ





সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (61)


61 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَيْسَ الْغِنَى مِنْ كَثْرَةِ الْعَرَضِ، وَلَكِنَّ الْغِنَى غِنَى النَّفْسِ»




রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ধন-সম্পদ ও পার্থিব সাজ-সরঞ্জামের প্রাচুর্য ও আধিক্য প্রকৃত ঐশ্বর্য নয়, বরং মনের ঐশ্বর্যই বড় ঐশ্বর্য।

তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ১১/ ২৩১, সহীহ মুসলিম ২৩১০

হাদীস নং - ৬২

وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مِنَ الظُّلْمِ مَطْلَ الْغَنِيِّ، وَإِنْ أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيءٍ فَلْيَتْبَعْ»

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয়ই সক্ষম ব্যক্তির টালবাহানা করা অত্যাচারের শামিল। তোমাদের কাউকে (ঋণ পরিশোধের) দায়িত্ব দিলে সে যেন তা গ্রহণ করে।

তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ২৪০০, সহীহ মুসলিম ১৫৬৪









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (62)


62 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ مِنَ الظُّلْمِ مَطْلَ الْغَنِيِّ، وَإِنْ أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيءٍ فَلْيَتْبَعْ»




রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার অধিক গোস্বার কারণ এবং অধিক নিকৃষ্ট, অধিক ক্রোধানলের সম্মুখীন হবে সেই ব্যক্তি, যার নাম রাখা হয়েছে ’মালিকুল আমলক’ (সম্রাট)। আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ মালিক (সম্রাট) নেই।

তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২১৪৩, সহীহ বুখারী ১৩/ ২১১









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (63)


63 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«أَغْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَخْبَثُهُ وَأَغْيَظُهُ عَلَيْهِ رَجُلٌ كَانَ يُسَمَّى مَلِكَ الْأَمْلَاكِ لَا مَلِكَ إِلَّا اللَّهُ عز وجل»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এক ব্যক্তি তার দু’চাদর পরে গর্বভরে পায়চারী করছিল। নিজে নিজেই আত্মম্ভরী হচ্ছিল। এমন সময় হঠাৎ আল্লাহ তাকে মাটিতে ধসিয়ে দিলেন। কিয়ামত পর্যন্ত সে ভূ–গর্ভে তলিয়ে যেতে থাকবে।

তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২০৮৮, সহীহ বুখারী ১০/ ২২২









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (64)


64 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بَيْنَمَا رَجُلٌ يَتَبَخْتَرُ فِي بُرْدَيْنِ وَقَدْ أَعْجَبَتْهُ نَفْسُهُ‌‌ خُسِفَ بِهِ الْأَرْضُ، فَهُوَ يَتَجَلْجَلُ فِيهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এক ব্যক্তি তার দু’চাদর পরে গর্বভরে পায়চারী করছিল। নিজে নিজেই আত্মম্ভরী হচ্ছিল। এমন সময় হঠাৎ আল্লাহ তাকে মাটিতে ধসিয়ে দিলেন। কিয়ামত পর্যন্ত সে ভূ–গর্ভে তলিয়ে যেতে থাকবে।

তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২০৮৮, সহীহ বুখারী ১০/ ২২২









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (65)


65 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «قَالَ اللَّهُ عز وجل:‌‌ أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ আমার সম্পর্কে বান্দার ধারণা অনুসারে আমি তার সাথে আচরণ করি।

তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ১৩/ ৩৯২, সহীহ মুসলিম ২৬৭৫









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (66)


66 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ يُولَدُ يُولَدُ عَلَى هَذِهِ الْفِطْرَةِ، فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ وَيُنَصِّرَانِهِ، كَمَا تُنْتِجُونَ الْبَهِيمَةَ، هَلْ تَجِدُونَ فِيهَا مِنْ جَدْعَاءَ حَتَّى تَكُونُوا أَنْتُمْ تَجْدَعُونَهَا؟ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَرَأَيْتَ مَنْ يَمُوتُ وَهُوَ صَغِيرٌ؟ قَالَ: اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে শিশু ভূমিষ্ঠ হয় সে এই ইসলামী ফিতরাতের উপরই ভুমিষ্ঠ হয়। এরপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহুদী বানায়, খ্রীঁষ্টান বানায়, যেমন তোমরা উটের বাচ্চা প্রসব করাও। তোমরা কি তাদের মধ্যে কানকাটা দেখতে পাও? বরং তোমরাই সেগুলোর কান কেটে দিয়ে থাক। লোকেরা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যে বাচ্চাটি শৈশবেই মারা যাবে, তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বললেন, তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে আল্লাহই সর্বাধিক জানেন।

তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৬৫৯৯, সহীহ মুসলিম ২৬৫৮









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (67)


67 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ فِي الْإِنْسَانِ عَظْمًا لَا تَأْكُلُهُ الْأَرْضُ أَبَدًا، فِيهِ يُرَكَّبُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . قَالُوا: أَيُّ عَظْمٍ؟ قَالَ: «عَجْبُ الذَّنَبِ» . وَقَالَ أَبُو الْحَسَنِ: إِنَّمَا هُوَ: عَجْمُ، وَلَكِنَّهُ قَالَ بِالْمِيمِ




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মানুষের শরীরে এমন একটি হাড্ডি আছে, যা যমীন কখনো ভক্ষণ করবে না। কিয়ামতের দিন এর দ্বারাই জোড়া দেয়া হবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এ আবার কোন হাড়? তিনি বললেন, এ হল, মেরুদণ্ডের সর্বনিম্নের হাড়।
এবং আবুল হাসান বলেন, শব্দটি " عجب " কিন্তু " میم "ؔ দ্বারা (عجم) বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৯৫৫, ১৪৩; সহীহ বুখারী ৪৮১৪









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (68)


68 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِيَّاكُمْ وَالْوِصَالَ، إِيَّاكُمْ وَالْوِصَالَ» قَالُوا: فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: «إِنِّي لَسْتُ فِي ذَاكُمْ مِثْلَكُمْ، إِنِّي أَبِيتُ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِي، فَاكْلُفُوا مِنَ الْعَمَلِ مَا لَكُمْ بِهِ طَاقَةٌ»




রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “সাবধান! তোমরা এক রোযাকে অন্য রোযার সাথে মিলিত করে রোযা রাখা থেকে বিরত থাকো”। লোকজন বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যে এধরনের রোযা রাখেন? তিনি বলেনঃ “আমার অবস্থা তোমাদের মতো নয়। রাতের বেলা আমার রব আমাকে পানাহার করান। তোমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমল করো"।

তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ১৯৬৬, সহীহ মুসলিম ১১০৩









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (69)


69 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَضَعْ يَدَهُ عَلَى الْوَضُوءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا، إِنَّهُ لَا يَدْرِي أَحَدُكُمْ أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে উঠে তখন সে যেন তার হাত না ধোয়া পর্যন্ত পাত্রে না ঢূকায়। কারণ সে জানে না যে, তার হাত রাতে কোথায় ছিল।

তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৭৮, সহীহ বুখারী ১/ ২২৯









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (70)


70 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ سُلَامَى مِنَ النَّاسِ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ، كُلَّ يَوْمٍ تَطْلُعُ عَلَيْهِ الشَّمْسُ، قَالَ:‌‌ تَعْدِلُ بَيْنَ الِاثْنَيْنِ صَدَقَةٌ، وَتُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ وَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا، أَوْ تَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ، وَالْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ خُطْوَةٍ تَمْشِيهَا إِلَى الصَّلَاةِ صَدَقَةٌ، وَتُمِيطُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক দিন যখন সূর্য উদিত হয়, তখন মানুষের প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্কর জন্য সাদ্‌কা ওয়াজিব। তিনি বলেন, দু’ব্যক্তির মাঝে ন্যায়বিচার করা সাদ্‌কা, কোন ব্যক্তিকে তার সওয়ারীর ব্যাপারে সাহায্য করা অথবা তার মাল সামগ্রী তুলে দেয়া সাদ্‌কা। তিনি আরও বলেছেন, ভাল কথা বলা সাদ্‌কা, নামাযের উদ্দেশ্যে গমনের পথে প্রতিটি পদক্ষেপ সাদ্‌কা। চলার পথ হতে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেয়া সাদ্‌কা।

তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ২৭০৭, সহীহ মুসলিম ১০০৯









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (71)


71 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا مَا‌‌ رَبُّ النَّعَمِ لَمْ يُعْطِ حَقَّهَا تُسَلَّطُ عَلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَخْبِطُ وَجْهَهُ بِأَخْفَافِهَا»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পশুর মালিক যদি তার হক –যাকাত– আদায় না করে, তাহলে পশুকে কিয়ামাতের দিন তার পিছনে লাগিয়ে দেয়া হবে। পশু তার মুখমণ্ডল পায়ের ক্ষুর দ্বারা আঁচড়ে ফেলবে।

তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ১৪০২, সহীহ মুসলিম ৯৮৭









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (72)


72 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«يَكُونُ كَنْزُ أَحَدِكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ يَفِرُّ مِنْهُ صَاحِبُهُ وَيَطْلُبُهُ وَيَقُولُ: أَنَا كَنْزُكَ، قَالَ: وَاللَّهِ لَنْ يَزَالَ يَطْلُبُهُ حَتَّى يَبْسُطَ يَدَهُ فَيُلْقِمَهَا فَاهُ»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকের সঞ্চিত ধন, যার যাকাত আদায় করা হয়নি, কিয়ামতের দিন টাকপড়া হিংস্র সাপে পরিণত হবে। সম্পদের মালিক তা থেকে পালাতে থাকবে। কিন্তু সাপ তার পিছনে লেগে থাকবে আর বলবে, আমি তোমার সঞ্চিত সম্পদ। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! সাপ তার পিছু ধাওয়া করতেই থাকবে। পরিশেষে সে বাধ্য হয়ে তার হাত প্রসারিত করে দেবে, ফলে সাপ তার মুখ গ্রাস করে নেবে।

তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৬৯৫৭, সহীহ মুসলিম ৯৮৮









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (73)


73 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَا يُبَالُ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ الَّذِي لَا يَجْرِي، ثُمَّ يُغْتَسَلُ بِهِ»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তি যেন প্রবাহিত নয় এমন স্থির পানিতে প্রস্রাব করে তা দিয়ে যেন গোসল না করে।

তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৫৪৩; সহীহ বুখারী ১/ ২৯৮









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (74)


74 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَيْسَ الْمِسْكِينُ هَذَا الطَّوَّافُ الَّذِي يَطُوفُ عَلَى النَّاسِ، تَرُدُّهُ اللُّقْمَةُ وَاللُّقْمَتَانِ وَالتَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ، إِنَّمَا الْمِسْكِينُ الَّذِي لَا يَجِدُ غِنًى يُغْنِيهِ، وَيَسْتَحْيِي أَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ، وَلَا يُفْطَنُ لَهُ فَيُتَصَدَّقَ عَلَيْهِ»




রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ওই ব্যক্তি মিসকীন নয়, যে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়ায়, যাকে এক–দুই লোকমা খাদ্য বা এক–দু'টি খেজুর দিয়েই বিদায় করা হয়; বরং প্রকৃত মিসকীন সেই, যার এমন সামর্থ্য নেই, যা তার প্রয়োজন মেটাবে। আবার সে লজ্জায় মানুষের কাছে সওয়ালও করে না। আবার তার সম্পর্কে জানাও যায় না যে, তাকে কিছু দান–সদাকা করা হবে।

তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৩/ ২৬৯, সহীহ মুসলিম ১০৩৯









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (75)


75 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَا تَصُومُ الْمَرْأَةُ وَبَعْلُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ، وَلَا تَأْذَنُ فِي بَيْتِهِ وَهُوَ شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ، وَمَا أَنْفَقَتْ مِنْ كَسْبِهِ مِنْ غَيْرِ أَمْرِهِ فَإِنَّ نِصْفَ أَجْرِهِ لَهُ»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোন স্ত্রী স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া (নফল) রোযা পালন করবে না। স্বামীর উপস্থিতিতে কাউকে তার অনুমতি ছাড়া তার ঘরে প্রবেশের অনুমতি দিবে না, স্বামীর উপার্জন থেকে তার হুকুম ছাড়া কোন স্ত্রীলোক যে পরিমাণ দান করবে; তার সাওয়াব স্বামীও অর্ধেক পাবে।

তাখরীজঃ মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক হাদীস নং – ৭৬৭৬; সহীহ বুখারী ৫১৯২, ২০৬৬, ৫৩৬০; সহীহ মুসলিম ১০২৬









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (76)


76 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَا يَتَمَنَّى أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ وَلَا يَدْعُو بِهِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَهُ، إِنَّهُ إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ، أَوْ قَالَ أَجَلُهُ، إِنَّهُ لَا يَزِيدُ الْمُؤْمِنَ عُمْرُهُ إِلَّا خَيْرًا»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং তা আসার পূর্বে যেন তার জন্য দুআ না করে। কেননা তোমাদের কেউ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। অথবা তিনি বললেন, তার জিন্দেগি খতম হয়ে যায়। আর মুমিন ব্যক্তির বয়স দীর্ঘায়িত হলে এতে তার কল্যাণই বৃদ্ধি পেতে থাকে।

তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৬২৭২; সহীহ বুখারী ১০/ ১০৯









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (77)


77 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَا يَقُلْ أَحَدُكُمْ لِلْعِنَبِ: الْكَرْمُ، إِنَّمَا الْكَرْمُ الرَّجُلُ الْمُسْلِمُ»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন আঙ্গুরের তৈরী মদকে আল–কারামু' (সম্ভ্রান্ত) না বলে। কারণ, সম্ভ্রান্ত হচ্ছে মূলত মুসলিম ব্যক্তি।

তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৫৭৬০, ১০









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (78)


78 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«اشْتَرَى رَجُلٌ مِنْ رَجُلٍ عَقَارًا فَوَجَدَ الرَّجُلُ الَّذِي اشْتَرَى الْعَقَارَ فِي عَقَارِهِ جَرَّةً فِيهَا ذَهَبٌ، فَقَالَ لَهُ الَّذِي اشْتَرَى الْعَقَارَ: خُذْ ذَهَبَكَ مِنِّي، إِنَّمَا اشْتَرَيْتُ مِنْكَ الْأَرْضَ وَلَمْ أَبْتَعْ مِنْكَ الذَّهَبَ، فَقَالَ الَّذِي شَرَى الْأَرْضَ: إِنَّمَا بِعْتُكَ الْأَرْضَ وَمَا فِيهَا، فَتَحَاكَمَا إِلَى رَجُلٍ، فَقَالَ الَّذِي تَحَاكَمَا إِلَيْهِ: أَلَكُمَا وَلَدٌ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا: لِي غُلَامٌ، وَقَالَ الْآخَرُ: لِي جَارِيَةٌ، فَقَالَ: أَنْكِحِ الْغُلَامَ الْجَارِيَةَ وَأَنْفِقُوا عَلَى أَنْفُسِكُمَا مِنْهُ وَتَصَدَّقَا»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির নিকট থেকে এক খণ্ড জমি ক্রয় করে। যে ব্যক্তি জমি ক্রয় করেছিল সে তার কেনা সম্পত্তিতে একটি কলসী পেল। তাতে স্বর্ণ ছিল। যে ব্যক্তি জমিটি ক্রয় করেছিল সে বিক্রেতাকে বলল, তুমি আমার কাছ থেকে তোমার স্বর্ণ বুঝে নাও। আমি তো তোমার কাছে থেকে জমি ক্রয় করেছি, স্বর্ণ ক্রয় করিনি। তখন যে ব্যক্তি সম্পত্তি বিক্রি করেছিল সে বলল, আমি তো তোমার কাছে জমি এবং জমির মধ্যে যা কিছু আছে সবই বিক্রি করেছি। তিনি বলেন, তারপর উভয়েই এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে এর ফায়সালা চাইল। তখন সে বলল, তোমাদের কি কোন সন্তান আছে? তাদের একজন বলল যে, আমার একটি ছেলে আছে এবং অপর জন বলল, আমার একটি মেয়ে আছে। তখন তিনি বললেন, তোমার ছেলেটিকে (তার) মেয়েটির সঙ্গে বিয়ে দাও এবং এ উপলক্ষে তোমরা তোমাদের উপর তা ব্যয় কর এবং এ থেকে সাদাকাও কর।

তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৪৩৮৯









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (79)


79 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَيَفْرَحُ أَحَدُكُمْ بِرَاحِلَتِهِ إِذَا ضَلَّتْ مِنْهُ ثُمَّ وَجَدَهَا؟» قَالُوا: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ‌‌ لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ إِذَا تَابَ مِنْ أَحَدِكُمْ بِرَاحِلَتِهِ إِذَا وَجَدَهَا»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি তোমাদের কারো সওয়ারি হারিয়ে যায় অতঃপর সে তা খুঁজে পায় তাহলে কি সে আনন্দিত হবে? সাহাবায়ে কেরাম বললেন: হ্যাঁ! ইয়া রাসুলূল্লাহ, অবশ্যই সে খুশি হবে। নবীজি বললেন: ওই সত্তার শপথ যার হাতে মোহাম্মাদের প্রাণ, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবায় তোমাদের ওই ব্যক্তি অপেক্ষা বেশি আনন্দিত হন, যে ব্যক্তি তার উটটি ফিরে পেয়েছে ।

তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৬৭৫









সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ (80)


80 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل قَالَ:‌‌ إِذَا تَلَقَّانِي عَبْدِي بِشِبْرٍ تَلَقَّيْتُهُ بِذِرَاعٍ، وَإِذَا تَلَقَّانِي بِذِرَاعٍ تَلَقَّيْتُهُ بِبَاعٍ، وَإِذَا تَلَقَّانِي بِبَاعٍ جِئْتُهُ ، أَوْ قَالَ: أَتَيْتُهُ بِأَسْرَعَ»




রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, যদি কেউ একবিঘত সমান আমার দিকে অগ্রসর হয় তাহলে আমি তার দিকে একহাত অগ্রসর হই। যদি কেউ একহাত সমান আমার প্রতি অগ্রসর হয়, তাহলে আমি একগজ সমান তার প্রতি অগ্রসর হই। যদি কেউ আমার দিকে পায়ে হেঁটে আসে তবে আমি তার দিকে দৌড়ে আসি।

তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৬৮৪৫