মিশকাতুল মাসাবিহ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "لَا تَرْغَبُوا عَنْ آبَائِكُمْ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ أَبِيهِ فقد كفر" وَذُكِرَ حَدِيثُ عَائِشَةَ "مَا مِنْ أَحَدٍ أَغْيَرُ من الله" فِي "بَاب صَلَاة الخسوف"
৩৩১৫-[১২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের পিতৃ-পরিচয়কে অস্বীকৃতি জানিও না। যে স্বীয় পিতৃ-পরিচয়ে অস্বীকার করল, সে কুফরী করল। (বুখারী ও মুসলিম)
এখানে ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীসে আছে, যা প্রথমে উল্লেখ হয়েছে, আল্লাহ অপেক্ষা অধিক কেউ আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নয়- সালাতুল খুসূফ (সূর্যগ্রহণের সালাত) অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (6768) و مسلم (113/ 62) حدیث عائشۃ: ما، من أحد أغیر من اللہ، تقدم (1483)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَمَّا نَزَلَتْ آيَةُ الْمُلَاعَنَةِ: "أَيُّمَا امْرَأَةٍ أَدْخَلَتْ عَلَى قَوْمٍ مَنْ لَيْسَ مِنْهُمْ فَلَيْسَتْ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ وَلَنْ يُدْخِلَهَا اللَّهُ جَنَّتَهُ وَأَيُّمَا رَجُلٍ جَحَدَ وَلَدَهُ وَهُوَ يَنْظُرُ إِلَيْهِ احْتَجَبَ اللَّهُ مِنْهُ وفضَحَهُ على رؤوسِ الْخَلَائِقِ فِي الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ" . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيّ والدارمي
৩৩১৬-[১৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন লি’আন সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হলো, তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যে মহিলা জারজ সন্তান প্রসব করে তাকে স্বামীর বা মালিকের বলে অন্য গোত্রের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়, অথচ সে ঐ বংশোদ্ভূত নয়, দীনের মধ্যে তার কোনই স্থান নেই এবং আল্লাহ তা’আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। আর যে পুরুষ স্বীয় ঔরসের সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে অথচ সন্তান স্নেহমায়া-মমতার মুখ নিয়ে পিতৃত্ব আশায় চেয়ে থাকে, আল্লাহ তার সাথে সাক্ষাৎ করবেন না এবং (হাশরের ময়দানে) অগ্র-পশ্চাতের সমগ্র মানবসন্তানের সামনে অপমান-অপদস্ত করবেন। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও দারিমী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ أبو داود (2263) و النسائي (179/6 ح 3511) و، الدارمي (153/2 ح 2244)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: إِن لِي امْرَأَةً لَا تَرُدُّ يَدَ لَامِسٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "طَلِّقْهَا" قَالَ: إِنِّي أُحِبُّها قَالَ: "فأمسِكْهَا إِذا" . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَقَالَ النَّسَائِيُّ: رَفَعَهُ أَحَدُ الرُّوَاةِ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَحَدُهُمْ لَمْ يرفعهُ قَالَ: وَهَذَا الحَدِيث لَيْسَ بِثَابِت
৩৩১৭-[১৪] ইবনু ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে অভিযোগ করল যে, আমার স্ত্রী কাউকেই প্রত্যাহার করে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে তাকে তালাক দাও। সে বলল, আমি তার প্রতি অত্যন্ত দুর্বল (তথা ভালোবাসী)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তাকে (নাসীহাত করে) সংযত রাখ। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী)
ইমাম নাসায়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, কোনো কোনো রাবী ইবনু ’আব্বাস পর্যন্ত এর সানাদ বর্ণনা করেছেন, আবার কেউ করেননি। তিনি আরো বলেন, সুতরাং হাদীসটি মুত্তাসিল নয়।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ أبو داود (2049) والنسائي (169/6۔ 170 ح 3494۔، 3495) ٭ سند المرفوع صحیح و أعل بما لا یقدح .
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قضى أَن كل مستحلق استحلق بَعْدَ أَبِيهِ الَّذِي يُدْعَى لَهُ ادَّعَاهُ وَرَثَتُهُ فَقَضَى أَنَّ كُلَّ مَنْ كَانَ مِنْ أَمَةٍ يملكهَا يَوْم أَصَابَهَا فقد لحق بِمن استحلقه وَلَيْسَ لَهُ مِمَّا قُسِمَ قَبْلَهُ مِنَ الْمِيرَاثِ شَيْءٌ وَمَا أَدْرَكَ مِنْ مِيرَاثٍ لَمْ يُقْسَمْ فَلَهُ نَصِيبُهُ وَلَا يَلْحَقُ إِذَا كَانَ أَبُوهُ الَّذِي يُدْعَى لَهُ أَنْكَرَهُ فَإِنْ كَانَ مِنْ أمَةٍ لم يَملِكْها أَو من حُرَّةٍ عَاهَرَ بِهَا فَإِنَّهُ لَا يَلْحَقُ بِهِ وَلَا يَرِثُ وَإِنْ كَانَ الَّذِي يُدْعَى لَهُ هُوَ الَّذِي ادَّعَاهُ فَهُوَ وَلَدُ زِنْيَةٍ مِنْ حُرَّةٍ كَانَ أَوْ أَمَةٍ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
৩৩১৮-[১৫] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতা হতে দাদার মাধ্যমে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত সন্তানের ব্যাপারে ফায়সালা প্রদান করেন, যে পিতার মৃত্যুর পরে (দাসীর গর্ভে) সন্তানকে উক্ত পিতার পিতৃত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ তার ওয়ারিসগণের সাথে সংযোজিত করা হয়েছে। তথা ব্যক্তি যদি তার দাসীকে সহবাসকালে তার মালিক থাকে তবে ঐ সন্তান মালিকের সন্তান বলে গণ্য হবে। তবে সহবাসের পূর্বে বণ্টিত সম্পত্তি হতে এ সন্তান উত্তরাধিকার পাবে না, আর বণ্টিত হওয়ার পূর্বে যা সে পেয়েছে তার উত্তরাধিকার এ সন্তান পাবে। ঐ পিতা যাকে সন্তানের পিতা বলে দাবি করা হচ্ছে সে যদি স্বীয় দাসীর গর্ভজাত অথবা ব্যভিচারিণী স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তানের পিতৃত্ব স্বীকার না করে, তবে তার সন্তান বলে স্বীকৃত হবে না। এরূপ যে সন্তান এমন দাসীর ঘরে জন্ম নেয়, সে তার মালিক ছিল না। অথবা, এমন স্বাধীনা মহিলার সন্তান যার সাথে সে যিনা করেছে; তবে সে সন্তান পিতা বলে ঐ ব্যক্তির ওয়ারিসদের সাথে সংযোজিত হবে না, যদিও সে তাকে স্বীয় পুত্র বলে দাবি করে। কেননা সে যিনার সন্তান, স্বাধীনা মহিলার ঘরে হোক বা দাসীর ঘরে হোক। (আবূ দাঊদ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ أبو داود (2265)
وَعَن جابرِ بنِ عتيكٍ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "مَنْ الْغَيْرَةِ مَا يُحِبُّ اللَّهُ وَمِنْهَا مَا يُبْغِضُ اللَّهُ فَأَمَّا الَّتِي يُحِبُّهَا اللَّهُ فَالْغَيْرَةُ فِي الرِّيبَةِ وَأَمَّا الَّتِي يُبْغِضُهَا اللَّهُ فَالْغَيْرَةُ فِي غَيْرِ رِيبَةٍ وَإِنَّ مِنَ الْخُيَلَاءِ مَا يُبْغِضُ اللَّهُ وَمِنْهَا مَا يُحِبُّ اللَّهُ فَأَمَّا الْخُيَلَاءُ الَّتِي يُحِبُّ اللَّهُ فَاخْتِيَالُ الرَّجُلِ عِنْدَ الْقِتَالِ وَاخْتِيَالُهُ عِنْدَ الصَّدَقَةِ وَأَمَّا الَّتِي يُبْغِضُ اللَّهُ فَاخْتِيَالُهُ فِي الْفَخْرِ" وَفِي رِوَايَةٍ: "فِي الْبَغْيِ" . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ
৩৩১৯-[১৬] জাবির ইবনু ’আতীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আত্মমর্যাদাবোধ আল্লাহর নিকট কোনো ক্ষেত্রে পছন্দনীয় হয়, আবার কোনো ক্ষেত্রে নিন্দনীয় হয়। যে আত্মমর্যাদাবোধ আল্লাহ পছন্দ করেন, তা হলো সন্দেহভাজন আত্মমর্যাদা লালন করা। পক্ষান্তরে সন্দেহভাজন নয় এমন ক্ষেত্রে আত্মমর্যাদা লালন করা আল্লাহর নিকট নিন্দনীয়। অনুরূপভাবে গর্ববোধ কোনো ক্ষেত্রে আল্লাহ পছন্দ করেন এবং কোনো ক্ষেত্রে নিন্দনীয়। আর যে গর্বকে আল্লাহ ভালোবাসেন তা হলো, (ইসলামের শত্রুদের সাথে) যুদ্ধক্ষেত্রে ও দান-সদাকাতে গর্ববোধ আল্লাহর নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয়। আর যে গর্ববোধ আল্লাহর কাছে নিন্দনীয় তা হলো (বংশ-মর্যাদার) অহংকারের উদ্দেশে গর্ববোধ। অপর বর্ণনায়, অহংকারের পরিবর্তে জুলুম বা অন্যায় শব্দ এসেছে। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, নাসায়ী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * حسن، رواہ أحمد (445/5، 446 ح 24148، 24149، 24153) و أبو داود، (2659) والنسائي (5/ 78۔ 79 ح 2559)
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَلَانًا ابْنِي عَاهَرْتُ بِأُمِّهِ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "لَا دِعْوَةَ فِي الْإِسْلَامِ ذَهَبَ أَمْرُ الْجَاهِلِيَّةِ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ" . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
৩৩২০-[১৭] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। জনৈক ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট) দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! অমুক আমার সন্তান। জাহিলিয়্যাতের সময় (ইসলাম-পূর্ব যুগে) আমি তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করেছিলাম। এটা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জাহিলিয়্যাতের প্রথা বাতিল হয়ে গেছে, ইসলামের বিধানে পিতৃত্বের কোনো দাবি নেই, ইসলামী বিধান হলো- সন্তান হবে শয্যাশায়িনীর, আর ব্যভিচারীর জন্য পাথর (নিক্ষেপ)। (আবূ দাঊদ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ أبو داود (2274)
وَعَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَرْبَعٌ مِنَ النِّسَاءِ لَا مُلَاعَنَةَ بَيْنَهُنَّ: النَّصْرَانِيَّةُ تَحْتَ الْمُسْلِمِ وَالْيَهُودِيَّةُ تَحْتَ الْمُسْلِمِ وَالْحُرَّةُ تَحْتَ الْمَمْلُوكِ وَالْمَمْلُوكَةُ تَحْتَ الْحُرِّ . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَه
৩৩২১-[১৮] উক্ত রাবী (’আমর ইবনু শু’আয়ব) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চার শ্রেণীর রমণীর সাথে স্বামীর লি’আন গৃহীত হয় না- ১. মুসলিম পুরুষের নাসারা (খ্রিষ্টান) স্ত্রী, ২. মুসলিম পুরুষের ইয়াহূদী স্ত্রী, ৩. গোলাম স্বামীর স্বাধীনা স্ত্রী এবং ৪. স্বাধীনা পুরুষের বাঁদী স্ত্রী। (ইবনু মাজাহ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف جدًا، رواہ ابن ماجہ (2071) ٭ فیہ عثمان بن عطاء، الخراساني قال فیہ الدارقطني: ’’ھو ضعیف الحدیث جدًا‘‘ (163/3۔ 164) و لہ متابعۃ، مردودۃ .
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ رَجُلًا حِينَ أَمَرَ الْمُتَلَاعِنَيْنِ أَنْ يَتَلَاعَنَا أَنْ يَضَعَ يَدَهُ عِنْدَ الْخَامِسَةِ عَلَى فِيهِ وَقَالَ: "إِنَّهَا مُوجِبَةٌ" . رَوَاهُ النَّسَائِيُّ
৩৩২২-[১৯] ইবনু ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বামী-স্ত্রী উভয়কে লি’আন করার সময় একব্যক্তিকে (পুরুষকে) নির্দেশ দিলেন- লি’আন চলাকালীন পঞ্চমবার যখন সে বলতে উদ্যত হবে তখন তার মুখের উপর হাত চেপে ধর। কারণ, পঞ্চমবারের উক্তি ’’আমি যদি মিথ্যাবাদী হই, তবে আল্লাহর লা’নাত (অভিসম্পাত) আমার ওপর হোক’’ তথা নিজের ওপর অবধারিত করে নেয়। (নাসায়ী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ النسائي (175/6 ح 3502)
وَعَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا لَيْلًا قَالَتْ: فَغِرْتُ عَلَيْهِ فَجَاءَ فَرَأَى مَا أَصْنَعُ فَقَالَ: "مَا لَكِ يَا عَائِشَةُ أَغِرْتِ؟" فَقُلْتُ: وَمَا لِي؟ لَا يَغَارُ مِثْلِي عَلَى مِثْلِكَ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "لَقَدْ جَاءَكِ شَيْطَانُكِ" قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمْعِي شَيْطَانٌ؟ قَالَ: "نَعَمْ" قُلْتُ: وَمَعَكَ يَا رَسُولَ الله؟ قَالَ: "نعم وَلَكِن أعانني علَيهِ حَتَّى أسلَمَ" . رَوَاهُ مُسلم
৩৩২৩-[২০] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘর হতে নিঃশব্দে বের হয়ে গেলেন। এতে আমার ব্যথাতুর মনে ক্ষোভের উদ্রেক করে। পরক্ষণেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিরে এসে আমাকে বিমর্ষ ভাব দেখে জিজ্ঞেস করলেন, হে ’আয়িশাহ্! কি হয়েছে তোমার? তুমি কি ঈর্ষান্বিত হয়েছ? আমি বললাম, আপনার মতো মানুষের প্রতি (সাহচর্য হতে বঞ্চিত হয়ে) আমার মতো নারী কি করে ঈর্ষান্বিত না হয়ে থাকতে পারে? এটা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাকে শায়ত্বন প্ররোচিত করেছে। আমি (বিস্ময়াভিভূত হয়ে) জিজ্ঞেস করলাম- হে আল্লাহর রসূল! আমার সাথেও কি শায়ত্বন থাকতে পারে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনার নিকটও শায়ত্বন আসতে পারে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, তবে তার বিরুদ্ধে আল্লাহ আমাকে সাহায্য করায় আমি (তার ওয়াস্ওয়াসাহ্ হতে) নিরাপদপ্রাপ্ত হই। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (2815/70)
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ: أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصٍ طَلَّقَهَا الْبَتَّةَ وَهُوَ غَائِبٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا وَكِيْلُهُ الشَّعِيرَ فَسَخِطَتْهُ فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا لَكِ عَلَيْنَا مِنْ شَيْءٍ فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ: "لَيْسَ لَكِ نَفَقَةٌ" فَأَمَرَهَا أَنْ تَعْتَدَّ فِي بَيْتِ أُمِّ شَرِيكٍ ثُمَّ قَالَ: "تِلْكِ امْرَأَةٌ يَغْشَاهَا أَصْحَابِي اعْتَدِّي عِنْدَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى تَضَعِينَ ثِيَابَكِ فَإِذَا حَلَلْتِ فَآذِنِينِي" . قَالَتْ: فَلَمَّا حَلَلْتُ ذَكَرْتُ لَهُ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ وَأَبَا جَهْمٍ خَطَبَانِي فَقَالَ: "أَمَّا أَبُو الْجَهْمِ فَلَا يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتِقِهِ وَأَمَّا مُعَاوِيَةُ فَصُعْلُوكٌ لَا مَالَ لَهُ انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ" فَكَرِهْتُهُ ثُمَّ قَالَ: "انْكِحِي أُسَامَةَ" فَنَكَحْتُهُ فَجَعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا وَاغْتَبَطْتُ وَفِي رِوَايَةٍ عَنْهَا: "فَأَمَّا أَبُو جَهْمٍ فَرَجُلٌ ضَرَّابٌ لِلنِّسَاءِ" . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِي رِوَايَةٍ: أَنَّ زَوْجَهَا طَلَّقَهَا ثَلَاثًا فَأَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: "لَا نَفَقَةَ لَكِ إِلَّا أَنْ تَكُونِي حَامِلا"
৩৩২৪- আবূ সালামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) ফাত্বিমাহ্ বিনতু কয়স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেন। তার স্বামী আবূ ’আমর ইবনু হাফস্ তাকে চূড়ান্ত তালাক দেয়, ঐ সময়ে সে মদীনায় উপস্থিত ছিল না। অতঃপর স্বামীর ওয়াকীল (প্রতিনিধি : আইয়্যাস ইবনু আবূ রবী’ এবং হারিস ইবনু হিশাম) আমার নিকট কিছু যব নিয়ে আসে, যাতে আমি (অতি নগণ্য মনে করে) অসন্তোষ হই। ওয়াকীল বলল, আল্লাহর কসম! আমাদের নিকট তোমার আর কিছুই পাওনা নেই। (কারণ, তুমি ত্বলাক (তালাক)ে বায়িনপ্রাপ্তা অর্থ বাবদ যব ছাড়া আর কিছুই রেখে যায়নি) এতে ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে অভিযোগ করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার কোনো খোরাকি খরচ নেই। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে উম্মু শরীক-এর ঘরে ’ইদ্দত পালনের নির্দেশ দেন। কিন্তু পরক্ষনেই বললেন, ঐ রমণীর ঘরে তো লোকজনের চলাচল বেশি হয় (অত্যন্ত দানশীলা ও অতিথিপরায়ণতার জন্য)। বরং তুমি ইবনু উম্মি মাকতূম-এর ঘরে ’ইদ্দত পালন কর, সে অন্ধ ব্যক্তি বিধায় তুমি নির্দ্বিধায় গায়ের পোশাক ছাড়তে পারবে। অতঃপর যখন তোমার ’ইদ্দতকাল শেষ হবে, তখন আমাকে খবর দিবে।
ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমার ’ইদ্দতকাল শেষ হলে আমি তাঁকে জানালাম যে, মু’আবিয়াহ্ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান ও আবূ জাহ্ম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)উভয়ে আমার নিকট বিয়ের প্রস্তাব (’ইদ্দত শেষে) পাঠিয়েছে। তদুত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আবূ জাহম তো তার কাঁধ হতে লাঠি নামিয়ে রাখে না (তথা সে স্ত্রীকে অত্যধিক মারধর করে অথবা অধিকাংশ সময় সফরে থাকে)। আর মু’আবিয়াহ্ তো দরিদ্র মানুষ, তার কোনো সহায়-সম্পত্তি নেই। তুমি উসামাহ্ ইবনু যায়দণ্ডকে বিয়ে কর (দীনদারী ও স্বভাব-চরিত্রতায় উত্তমতায় প্রাধান্য দাও)। ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি তাকে বিয়ে করব না (উসামাহ্ কৃষ্ণবর্ণ ক্রীতদাস পুত্র হওয়ার কারণে)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুনরায় উসামাকে বিবাহ করতে বললে তিনি তাকেই বিয়ে করলেন। আল্লাহ তা’আলা এ বিয়েতে এমন বরকত দিলেন যে, অন্য রমণীরা ঈর্ষা পোষণ করত।
অপর বর্ণনায় আছে, আবূ জাহ্ম স্ত্রীকে অতিমাত্রায় মারধর করত। (মুসলিম)
অপর বর্ণনায় আছে যে, তার স্বামী তাকে তিন তালাক দিলে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অভিযোগ করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার কোনো খোরাকী নেই, তবে তুমি গর্ভবতী হলে পেতে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (1480/36)
وَعَن عائشةَ قَالَتْ: إِنَّ فَاطِمَةَ كَانَتْ فِي مَكَانٍ وَحِشٍ فَخِيفَ عَلَى نَاحِيَتِهَا فَلِذَلِكَ رَخَّصَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم تَعْنِي النُّقْلَةِ وَفِي رِوَايَةٍ: قَالَتْ: مَا لِفَاطِمَةَ؟ أَلَا تَتَّقِي اللَّهَ؟ تَعْنِي فِي قَوْلِهَا: لَا سُكْنَى وَلَا نَفَقَة. رَوَاهُ البُخَارِيّ
৩৩২৫-[২] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, (উপরোক্ত হাদীসের প্রেক্ষিতে) ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নিঃসঙ্গ এক ঘরে অবস্থানের ব্যাপারে শঙ্কার দরুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (’ইদ্দত পালনের সময়) অন্যত্র যাওয়ার (গৃহ-ত্যাগের) অনুমতি দান করেন। অপর বর্ণনায় আছে, অতঃপর ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ফাত্বিমার কি হয়েছে? সে কি আল্লাহকে ভয় করে না, সে বলে (’ইদ্দতকালে) বাসস্থান ও খোরপোষের বিধান তার জন্য করা হয়নি। (বুখারী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (5325)
وَعَن سعيدِ بنِ المسيِّبِ قَالَ: إِنَّمَا نُقِلَتْ فَاطِمَةُ لِطُولِ لِسَانِهَا عَلَى أحمائِها. رَوَاهُ فِي شرح السّنة
৩৩২৬-[৩] সা’ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহিমাহুল্লাহ) এতদসম্পর্কে বলেন যে, স্বামীর আত্মীয়-স্বজনের সাথে মুখরা হয়ে ঝগড়া-বিবাদ করার কারণে তাকে গৃহ-ত্যাগের অনুমতি দিয়েছিল। (শারহুস্ সুন্নাহ্)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ البغوي في شرح السنۃ (294/9 بعد ح 2384 بلا، سند) [و أبو داود (2296 و سندہ ضعیف) و الشافعي فی الأم (474/7)] ٭ سعید بن، المسیب لم یذکر من حدثہ بھذا فقولہ ھاھنا مردود .
وَعَن جابرٍ قَالَ: طُلِّقَتْ خَالَتِي ثَلَاثًا فَأَرَادَتْ أَنْ تَجُدَّ نَخْلَهَا فَزَجَرَهَا رَجُلٌ أَنْ تَخْرُجَ فَأَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: "بَلَى فَجُدِّي نَخْلَكِ فَإِنَّهُ عَسَى أَنْ تَصَّدَّقِي أَوْ تَفْعَلِي مَعْرُوفا" . رَوَاهُ مُسلم
৩৩২৭-[৪] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালাকে তিন তালাক দেয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় একদিন তিনি স্বীয় বাগানের খেজুর পাড়তে চাইলে জনৈক ব্যক্তি তাকে ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করলেন। এতদসম্পর্কে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, হ্যাঁ, তুমি বের হয়ে তোমার বাগানের খেজুর পাড়তে পার। কেননা তুমি তো তোমার খেজুরের বিনিময়ে সাদাকা করবে বা অন্য কোনো সৎকাজ করবে। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (1483/55)
وَعَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ: أَنَّ سُبَيْعَةَ الْأَسْلَمِيَّةَ نُفِسَتْ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِلَيَالٍ فَجَاءَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاسْتَأْذَنَتْهُ أَنْ تَنْكِحَ فأذِنَ لَهَا فنكحت. رَوَاهُ البُخَارِيّ
৩৩২৮-[৫] মিস্ওয়ার ইবনু মাখরমাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুবায়’আহ্ আল আসলামী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)তার স্বামীর (সা’দ ইবনু খাওয়ালাহ্-এর) মৃত্যুর কয়েক দিন পরে সন্তান প্রসব করেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বিবাহের অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দেন। অতঃপর তিনি অন্যত্র বিয়ে করেন। (বুখারী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (4909)
وَعَن أُمِّ سلمةَ قَالَتْ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنَتِي تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَقَدِ اشْتَكَتْ عَيْنُهَا أَفَنَكْحُلُهَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "لَا" مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا كُلُّ ذَلِكَ يَقُولُ: "لَا" قَالَ: "إِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وعشرٌ وَقد كَانَت إِحْدَاهُنَّ فِي الجاهليَّةِ تَرْمِي بِالْبَعْرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ"
৩৩২৯-[৬] উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জনৈক মহিলা এসে বলল যে, আমার মেয়ের স্বামী মারা গেছে। এমতাবস্থায় তার চোখে অসুখ হয়েছে, (’ইদ্দতকালে) আমি কী তার চোখে সুরমা ব্যবহার করাতে পারব? উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না। এতে স্ত্রীলোকটি দু’ বা তিনবার অনুমতি চাইল। প্রতিবারেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না। অতঃপর বললেন- দেখ! মাত্র ৪ মাস ১০ দিন, অথচ জাহিলিয়্যাত (অন্ধকার) যুগে তোমাদের এক একজন নারীকে ’ইদ্দতকাল এক বছর পূর্ণ হলে উটের গোবর ফেলতে হতো। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (5336) و مسلم (1488)
وَعَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ وَزَيْنَبَ بِنْتِ جحش عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ إِلَّا عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا"
৩৩৩০-[৭] উম্মু হাবীবাহ্ ও যায়নাব বিনতু জাহশ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মু’মিনাহ্ আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের ওপর ঈমান আনে, তার পক্ষে কোনো মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক প্রকাশ করা বৈধ নয়। অবশ্য কোনো রমণীর স্বামীর মৃত্যুতে ৪ মাস ১০ দিনের জন্য শোক প্রকাশ করবে। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (5334۔ 5335) و مسلم (1486/58)
وَعَن أُمِّ عطيَّةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "لَا تُحِدُّ امْرَأَةٌ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلَاثٍ إِلَّا عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا وَلَا تَلْبَسُ ثَوْبًا مَصْبُوغًا إِلَّا ثَوْبَ عَصْبٍ وَلَا تكتحِلُ وَلَا تَمَسُّ طِيبًا إِلَّا إِذَا طَهُرَتْ نُبْذَةً مِنْ قُسْطٍ أَوْ أَظْفَارٍ" . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَزَادَ أَبُو دَاوُدَ: "وَلَا تختضب"
৩৩৩১-[৮] উম্মু ’আত্বিয়্যাহ্ (নুসায়বাহ্) (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো রমণী যেন মৃতের জন্য তিনদিনের অধিক শোক পালন না করে, অবশ্য স্বামীর মৃত্যুতে ৪ মাস ১০ দিন ব্যতীত। এছাড়া সে যেন রং করা সুতার কাপড় ছাড়া কোনো রঙিন কাপড় না পরে, সুরমা না লাগায় ও সুগন্ধি ব্যবহার না করে। অবশ্য ঋতুস্রাব হতে পাক হওয়ার সময় (শরীরের দুর্গন্ধ দূরীকরণে) ’কুস্ত্ব’ ও ’আয্ফার’ জাতীয় কাঠের সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারে। (বুখারী ও মুসলিম)
আবূ দাঊদ-এর বর্ণনায় আছে, মেহেদিও না লাগায়।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (5342) و مسلم (938/66) و أبو داود، (2302)
عَن زَيْنَب بنت كَعْب: أَنَّ الْفُرَيْعَةَ بِنْتَ مَالِكِ بْنِ سِنَانٍ وَهِيَ أُخْتُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَخْبَرَتْهَا أَنَّهَا جَاءَتْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسْأَلُهُ أَنْ تَرْجِعَ إِلَى أَهْلِهَا فِي بَنِي خُدْرَةَ فَإِنَّ زَوْجَهَا خَرَجَ فِي طَلَبِ أَعْبُدٍ لَهُ أَبَقُوا فَقَتَلُوهُ قَالَتْ: فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَرْجِعَ إِلَى أَهْلِي فَإِنَّ زَوْجِي لَمْ يَتْرُكْنِي فِي مَنْزِلٍ يَمْلِكُهُ وَلَا نَفَقَةٍ فَقَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "نَعَمْ" . فَانْصَرَفْتُ حَتَّى إِذَا كُنْتُ فِي الْحُجْرَةِ أَوْ فِي الْمَسْجِدِ دَعَانِي فَقَالَ: "امْكُثِي فِي بَيْتِكِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ" . قَالَتْ: فَأَعْتَدَدْتُ فِيهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا. رَوَاهُ مَالِكٌ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ
৩৩৩২-[৯] যায়নাব বিনতু কা’ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বোন ফুরয়’আহ্ বিনতু মালিক ইবনু সিনান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)আমাকে বলেছেন যে, ’ইদ্দত পালনকালে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে নিজের পিতৃবংশীয় খুদরীর লোকজনের নিকট ফিরে যেতে পারেন কিনা জানতে চাইলেন? কেননা, তাঁর স্বামী তার কয়েকজন পলাতক দাসদের সন্ধানে বের হলে তারা তাকে হত্যা করে ফেলে। যায়নাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ফুরয়’আহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পিত্রালয়ে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করলেন। কারণ, তার স্বামী ঘরে কোনো প্রকার খোরপোষের ব্যবস্থা করে যায়নি। এমতাবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্মতি দিলে ফুরয়’আহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রওয়ানা হলেন। কিন্তু হুজরা বা মসজিদ পর্যন্ত তখনও অতিক্রম করেননি, এ সময়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুনরায় ডাক দিয়ে বললেন, তুমি যে ঘরে আছ তথায় ’ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত থাক। ফুরয়’আহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অতঃপর আমি উক্ত ঘরেই ৪ মাস ১০ দিন ’ইদ্দত পালন করলাম। (মালিক, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ مالک (591/2 ح 1290) والترمذي (1204 وقال: حسن، صحیح) و أبو داود (2300) والنسائي (199/6۔ 200 ح 3558۔ 3560) و ابن ماجہ (2031)، والدارمي (2/ 168 ح 2292) [وأخطأ من ضعفہ]
وَعَن أُمِّ سلمَةَ قَالَتْ: دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ تُوُفِّيَ أَبُو سَلَمَةَ وَقَدْ جعلتُ عليَّ صَبِراً فَقَالَ: "مَا هَذَا يَا أُمَّ سَلَمَةَ؟" . قُلْتُ: إِنَّمَا هُوَ صَبِرٌ لَيْسَ فِيهِ طِيبٌ فَقَالَ: "إِنَّهُ يَشُبُّ الْوَجْهَ فَلَا تَجْعَلِيهِ إِلَّا بِاللَّيْلِ وَتَنْزِعِيهِ بِالنَّهَارِ وَلَا تَمْتَشِطِي بِالطِّيبِ وَلَا بِالْحِنَّاءِ فَإِنَّهُ خضاب" . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
৩৩৩৩-[১০] উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার স্বামী আবূ সালামার মৃত্যুর পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকটে (সান্তবনা দিতে) এসে দেখলেন যে, আমি মুখে ’সাবির’ মেখেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, হে উম্মু সালামাহ্! এটা কী (মেখেছ)? আমি বললাম, এটা ’সাবির’ যার সুগন্ধি নেই। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটা মুখকে উজ্জ্বল করে, তাই তুমি রাতে ব্যবহার কর, দিনে মুছে ফেল। আর সুগন্ধি ও মেহেদী মেখে চুল পরিপাটি করো না। কেননা মেহেদী হলো খিযাব (রং)। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তবে কী দিয়ে চুল আঁচড়াব, হে আল্লাহর রসূল? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, বরই পাতা দিয়ে তোমার মাথায় প্রলেপ দাও। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ أبو داود (2305) والنسائي (204/6 ح 3567) ٭ أم، حکیم: لا یعرف حالھا و المغیرۃ بن الضحاک: مستور.
وَعَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "المُتوَفّى عَنْهَا زوجُها لَا تَلبسُ المُعَصفَرَ مِنَ الثِّيَابِ وَلَا الْمُمَشَّقَةَ وَلَا الْحُلِيَّ وَلَا تَخْتَضِبُ وَلَا تَكْتَحِلُ" . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ
৩৩৩৪-[১১] উক্ত রাবী [উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে রমণীর স্বামী মারা গেছে, সে (’ইদ্দতকালে লাল বা) হলুদ রংয়ের কাপড় এবং গেরুয়া রঙের কাপড় পরবে না, অলঙ্কার পরবে না, চুলে বা হাতে মেহেদী লাগাবে না এবং চোখে সুরমা লাগাবে না। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ أبو داود (2304) و النسائي (203/6 ح 3565)