মিশকাতুল মাসাবিহ
عَن سُليمانَ بنِ يَسارٍ: أَنَّ الْأَحْوَصَ هَلَكَ بِالشَّامِ حِينَ دَخَلَتِ امْرَأَتُهُ فِي الدَّمِ مِنَ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ وَقَدْ كَانَ طَلَّقَهَا فَكَتَبَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ إِلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ يَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ زِيدٌ: إِنَّهَا إِذَا دَخَلَتْ فِي الدَّمِ مِنَ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ وَبَرِئَ مِنْهَا لَا يرِثُها وَلَا ترِثُه. رَوَاهُ مَالك
৩৩৩৫-[১২] সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহ্ওয়াস (রাহিমাহুল্লাহ) যখন শামে (সিরিয়ায়) মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর (’ইদ্দত পালনকালে) তৃতীয় ঋতুস্রাব শুরু হয়। এতদসম্পর্কে মাস্আলাহ্ জানার জন্য মু’আবিয়াহ্ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান যায়দ ইবনু সাবিত আল আনসারী -এর নিকট পত্র লেখেন। যায়দ ইবনু সাবিত মু’আবিয়াকে পত্রযোগে জানালেন যে, (তালাকপ্রাপ্তা) স্ত্রীর যখন তৃতীয় ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে, তখনই সে স্বামী হতে সম্পূর্ণরূপে পৃথক হয়ে গেল এবং স্বামীও তার হতে উত্তরাধিকার পাবে না, সেও স্বামীর উত্তরাধিকার হবে না। (মালিক)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ مالک (577/2 ح 1256)
وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَيُّمَا امْرَأَةٍ طُلِّقَتْ فَحَاضَتْ حَيْضَةً أَوْ حَيْضَتَيْنِ ثُمَّ رُفِعَتْهَا حيضتُها فإنَّها تنتظِرُ تسعةَ أشهرٍ فإنْ بانَ لَهَا حَمْلٌ فَذَلِكَ وَإِلَّا اعْتَدَّتْ بَعْدَ التِّسْعَةِ الْأَشْهَرِ ثلاثةَ أشهرٍ ثمَّ حلَّتْ. رَوَاهُ مَالك
৩৩৩৬-[১৩] সা’ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব বলেন, তালাকপ্রাপ্তা রমণীর এক বা দুই ঋতুস্রাবের পরে যদি স্রাব বন্ধ হয়ে যায়, তবে তার ’ইদ্দত প্রসবান্তে অপেক্ষা করবে, অন্যথায় নয় মাস পরে আরও তিন মাস ’ইদ্দত পালন করবে। অতঃপর তার ’ইদ্দত শেষ হবে। (মালিক)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ مالک (582/2 ح 1270)
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِامْرَأَةٍ مُجِحٍّ فَسَأَلَ عَنْهَا فَقَالُوا: أَمَةٌ لِفُلَانٍ قَالَ: "أَيُلِمُّ بِهَا؟" قَالُوا: نَعَمْ. قَالَ: "لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَلْعَنَهُ لَعْنًا يَدْخُلُ مَعَهُ فِي قَبْرِهِ كَيْفَ يَسْتَخْدِمُهُ وَهُوَ لَا يَحِلُّ لَهُ؟ أَمْ كَيْفَ يُوَرِّثُهُ وَهُوَ لَا يحلُّ لَهُ؟" . رَوَاهُ مُسلم
৩৩৩৭- আবুদ্ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসন্ন প্রসবা জনৈকা রমণীর নিকট দিয়ে গমনকালে তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন, সে কে? উপস্থিত লোকজন বলল, অমুকের দাসী। উক্ত ব্যক্তি কী (এ অবস্থায়) তার সাথে সহবাস করে থাকে? তারা বলল, হ্যাঁ। এতে (ক্রোধান্বিত হয়ে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমার তাকে এমনভাবে অভিশাপ দিতে ইচ্ছা করছে যে, এ অভিসম্পাত যেন তার সাথে কবর পর্যন্ত পৌঁছে, যাতে ইহকাল-পরকাল বরবাদ হয়। কিরূপে সে তার থেকে বাঁদির ন্যায় খিদমাত গ্রহণ করছে, অথচ তার জন্য তা নাজায়িয। প্রকৃতপক্ষে সে কিরূপে অপরের সন্তানকে নিজের ওয়ারিস করবে, অথচ তার জন্য তা নাজায়িয। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (1441/139)
عَن أبي سعيدٍ الخدريِّ رَفْعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي سَبَايَا أَوْطَاسٍ: "لَا تُوطَأُ حَامِلٌ حَتَّى تَضَعَ وَلَا غَيْرُ ذَاتِ حَمْلٍ حَتَّى تَحِيضَ حَيْضَةً" . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالدَّارِمِيُّ
৩৩৩৮-[২] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্ধৃতিতে বর্ণনা করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আওত্বাস যুদ্ধেলব্ধ বন্দীনীদের ব্যাপারে ঘোষণা করেন, গর্ভবতীর সাথে সন্তান প্রসব না পর্যন্ত এবং ঋতুবতীর সাথে ঋতুস্রাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন সহবাস না করে। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, দারিমী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ أحمد (62/3 ح 11618) و أبو داود (2157) والدارمي، (171/2 ح 2300) ٭ شریک القاضی عنعن و حدیث أبي داود الطیالسي (1687) یغني عنہ .
وَعَنْ رُوَيْفِعِ بْنِ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَوْم حُنَيْنٍ: "لَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يسْقِي مَاء زَرْعَ غَيْرِهِ" يَعْنِي إِتْيَانَ الْحُبَالَى "وَلَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يَقَعَ عَلَى امْرَأَةٍ مِنَ السَّبْيِ حَتَّى يَسْتَبْرِئَهَا وَلَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يَبِيعَ مَغْنَمًا حَتَى يُقَسَّمَ" . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ إِلَى قَوْله "زرع غَيره"
৩৩৩৯-[৩] রুওয়াইফা’ ইবনু সাবিত আল আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়ন যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের উপর ঈমান রাখে, তার পক্ষে অপরের শস্যক্ষেত্রে নিজের পানি সিঞ্চন করা বৈধ নয়। তিনি (রুওয়াইফা’) বলেন, অন্যের ক্ষেত্রে পানি সিঞ্চন দ্বারা গর্ভবতীর সাথে সহবাস করাই বুঝিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপরে ঈমান রাখে, তার পক্ষে যুদ্ধবন্দীনী রমণীর সাথে সহবাস করা জায়িয নয় (তথা জরায়ুমুক্ত বা পবিত্রকরণ ছাড়া)। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, তার পক্ষে বণ্টনের পূর্বে গনীমাতের মাল বিক্রি করা জায়িয নয়। (আবূ দাঊদ)
ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) শুধুমাত্র ’অপরের শস্যক্ষেত্রে নিজের পানি সিঞ্চন করা’ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ أبو داود (2158) و الترمذي (1131 وقال: غریب)
عَن مَالِكٍ قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ بِاسْتِبْرَاءِ الْإِمَاءِ بِحَيْضَةٍ إِنْ كَانَتْ مِمَّنْ تَحِيضُ وَثَلَاثَةِ أَشْهُرٍ إِنْ كَانَت مِمَّن تحيض وَينْهى عَن سقِِي مَاء الْغَيْر
৩৩৪০-[৪] ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋতুবতী বাঁদীদের সাথে এক ঋতু ’ইসতিবরা’ (পবিত্রকরণ ব্যবস্থা) করার নির্দেশ দিতেন। আর ঋতুবতী না হলে তিন মাসের অপেক্ষমাণ হতে এবং অপরের শস্যক্ষেত্রে নিজের পানি সিঞ্চন করতে নিষেধ করতেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * لم أجدہ، فائدۃ: کل حدیث، قلت فیہ: لم أجدہ، فھو ضعیف باطل، مردود، إلا أن یثبت بسند آخر أو صرحت بخلافہ .
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّهُ قَالَ: إِذَا وُهِبَتْ الْوَلِيدَةُ الَّتِي تُوطَأُ أَوْ بِيعَتْ أَوْ أُعْتِقَتْ فَلْتَسْتَبْرِئْ رَحِمَهَا بِحَيْضَةٍ وَلَا تُسْتَبْرَئُ الْعَذْرَاءُ. رَوَاهُمَا رزين
৩৩৪১-[৫] ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে বাঁদীর সাথে সহবাস করা হয় ঐ বাঁদী দান, বিক্রয় অথবা মুক্ত করা হলে এক ঋতুস্রাব দ্বারা তার ’ইসতিবরা’ (জরায়ুমুক্ত বা পবিত্রকরণ) করতে হবে। তবে কুমারী জরায়ুমুক্ত কিনা, তা নিস্প্রয়োজন। (উপরোক্ত হাদীস দু’টি রযীন বর্ণনা করেন)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رزین (لم أجدہ) ٭ وعلقہ البخاري (قبل ح 2235، البیوع باب:، 111) وانظر تغلیق التعلیق (272/3۔ 273) و تنقیح الرواۃ (51/2)
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: إِنَّ هندا بنت عتبَة قَالَت: يَا رَسُول الله إِن أَبَا سُفْيَان رجل شحيح وَلَيْسَ يعطيني مَا يَكْفِينِي وَوَلَدي إِلَّا مَا أخذت مِنْهُ وَهُوَ يعلم فَقَالَ: "خذي مَا يَكْفِيك وولدك بِالْمَعْرُوفِ"
৩৩৪২- ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। হিন্দা বিনতু ’উতবাহ্ (আবূ সুফ্ইয়ান-এর স্ত্রী ও মু’আবিয়াহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মা) বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আবূ সুফ্ইয়ান একজন কৃপণ মানুষ। আমার এবং আমার সন্তান-সন্ততির জন্য প্রয়োজনানুযায়ী খাদ্য নির্বাহ করে না, ফলে আমি তার অগোচরে কিছু ব্যবস্থা করি। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার এবং তোমার সন্তান-সন্ততির জন্য প্রয়োজনানুপাতে ন্যায়সঙ্গতভাবে গ্রহণ কর। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (5364) و مسلم (1714/7)
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: "إِذا أعْطى الله أحدكُم خيرا فليبدأ بِنَفسِهِ وَأهل بَيته" . رَوَاهُ مُسلم
৩৩৪৩-[২] জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা যখন তোমাদের কাউকে ধন-সম্পদ দান করেন, তখন তা যেন সর্বাগ্রে নিজের ও পরিবার-পরিজনের প্রয়োজন পূরণ করে। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (1822/10)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: "للمملوك طَعَامه وَكسوته وَلَا يُكَلف من الْعَمَل إِلَّا مَا يُطيق" . رَوَاهُ مُسلم
৩৩৪৪-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (প্রাপ্যাধিকার) দাস-দাসীকে খাদ্যদ্রব্য ও পোশাক-পরিচ্ছদ (মালিকের কর্তব্য পালনার্থে) প্রদান করতে হবে এবং তাদের ওপর চাপপ্রয়োগ করে সাধ্যাতীত কাজ করানো যাবে না। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (1662/41)
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِخْوَانُكُمْ جَعَلَهُمُ اللَّهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ فَمَنْ جَعَلَ اللَّهُ أَخَاهُ تَحْتَ يَدَيْهِ فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ وَلْيُلْبِسْهُ مِمَّا يَلْبَسُ وَلَا يُكَلِّفْهُ مِنَ الْعَمَلِ مَا يَغْلِبُهُ فَإِنْ كَلَّفَهُ مَا يَغْلِبُهُ فَلْيُعِنْهُ عَلَيْهِ"
৩৩৪৫-[৪] আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তারা (দাসগণ) তোমাদের ভাই, আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনন্থ করে দিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ যখন তার কোনো ভাইকে অধীন করে দেন, সে যেন নিজে যা খায়, তাকেও তাই খাওয়ায়; নিজে যা পরিধান করে, তাকেও তা পরিধান করায়। তাদের সাধ্যাতীত কাজের জন্য যেন চাপপ্রয়োগ না করে। আর একান্তই যদি সাধ্যাতীত কাজে বাধ্য করে, তবে নিজেও যেন তাকে সর্বাত্মকভাবে সাহায্য করে। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (6050) و مسلم (1661/38
وَعَن عبد الله بن عَمْرو جَاءَهُ قَهْرَمَانٌ لَهُ فَقَالَ لَهُ: أَعْطَيْتَ الرَّقِيقَ قُوتَهُمْ؟ قَالَ: لَا قَالَ: فَانْطَلِقْ فَأَعْطِهِمْ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "كَفَى بِالرَّجُلِ إِثْمًا أَنْ يَحْبِسَ عَمَّنْ يَمْلِكُ قُوتَهُ" . وَفِي رِوَايَةٍ: "كَفَى بِالْمَرْءِ إِثْمًا أَنْ يُضَيِّعَ مَنْ يَقُوتُ" . رَوَاهُ مُسلم
৩৩৪৬-[৫] ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন তার কর্মচারী তার নিকট উপস্থিত হলে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি আমার অধীনস্থ দাসদেরকে তাদের পারিশ্রমিক দিয়েছ? সে বলল, না। তিনি বললেন, যাও এক্ষুণি তাদের খোরাকি আদায় কর। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো মানুষের গুনাহের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, অধীনস্থ দাসকে তার প্রাপ্যাধিকার থেকে বঞ্চিত করা।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে, কোনো মানুষের গুনাহের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, পাওনাদারের প্রাপ্য হক নষ্ট করা। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (م996/4)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِذَا صَنَعَ لِأَحَدِكُمْ خَادِمُهُ طَعَامَهُ ثُمَّ جَاءَهُ بِهِ وَقَدْ وَلِيَ حره ودخانه فليقعده مَعَه فَليَأْكُل وَإِن كَانَ الطَّعَامُ مَشْفُوهًا قَلِيلًا فَلْيَضَعْ فِي يَدِهِ مِنْهُ أَكلَة أَو أكلتين" . رَوَاهُ مُسلم
৩৩৪৭-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের খাদিম যখন তোমাদের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করে নিয়ে আসে, আর সে-ই খাদ্য প্রস্তুতকালে তাপ ও ধোঁয়ার কষ্ট সহ্য করে, তবে তাকে যেন নিজের সাথে বসিয়ে খাওয়ায়। নিতান্তই যদি খাদ্যের পরিমাণ কম হয়, তবে তা হতে এক-দুই লোকমা যেন তার হাতে তুলে দেয়। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (1663/42)
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا نَصَحَ لِسَيِّدِهِ وَأَحْسَنَ عِبَادَةَ اللَّهِ فَلَهُ أَجْرُهُ مرَّتَيْنِ"
৩৩৪৮-[৭] ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো দাস যখন স্বীয় মালিকের কল্যাণকামী হয় ও উত্তমরূপে আল্লাহ তা’আলার ’ইবাদাত (সৎকর্ম) করে, তখন তাকে দ্বিগুণ সাওয়াব প্রদান করা হয়। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2546) و مسلم (1664/43)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "نِعِمَّا لِلْمَمْلُوكِ أَنْ يَتَوَفَّاهُ اللَّهُ بِحُسْنِ عِبَادَةِ رَبِّهِ وَطَاعَة سَيّده نعما لَهُ"
৩৩৪৯-[৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ দাসের জন্য কতই না সৌভাগ্য, যে উত্তমরূপে আল্লাহ তা’আলার ’ইবাদাত করে এবং স্বীয় মালিকের পূর্ণ আনুগত্যের মধ্যে মৃত্যুবরণ করে। সে কতই না ভাগ্যবান! (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2549) و مسلم (1667/46)
وَعَنْ جَرِيرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِذَا أَبَقَ الْعَبْدُ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ" . وَفِي رِوَايَةٍ عَنْهُ قَالَ: "أَيّمَا عبد أبق فقد بَرِئت مِنْهُ الذِّمَّةُ" . وَفِي رِوَايَةٍ عَنْهُ قَالَ: "أَيُّمَا عَبْدٍ أَبَقَ مِنْ مَوَالِيهِ فَقَدْ كَفَرَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْهِم" . رَوَاهُ مُسلم
৩৩৫০-[৯] জারীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দাস পালিয়ে যায়, তার সালাত গৃহীত হয় না।
অপর বর্ণনায় আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ পলাতক দাসের ওপর (ইসলামের) কোনো দায়ভার নেই। অপর বর্ণনায় আছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে গোলাম স্বীয় মালিক হতে পালিয়ে যায়, সে অবশ্যই কুফরী করে যতক্ষণ পর্যন্ত না মালিকের নিকট ফিরে আসে। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (70/124، 69/122)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "مَنْ قَذَفَ مَمْلُوكَهُ وَهُوَ بَرِيءٌ مِمَّا قَالَ جُلِدَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ كَمَا قَالَ"
৩৩৫১-[১০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবুল কাসিম (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি স্বীয় দাসের ওপর (ব্যভিচারের) মিথ্যারোপ করে অথচ সে তা হতে মুক্ত; তাকে (মালিককে) কিয়ামতের দিন কোড়া লাগানো বা চাবুক মারা হবে অবশ্য গোলাম যদি তার অপবাদ অনুযায়ী হয় (তবে মালিককে বেত্রাঘাত করা হবে না)। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (6858) و مسلم (1660/37)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "مَنْ ضَرَبَ غُلَامًا لَهُ حَدًّا لَمْ يَأْتِهِ أَوْ لَطَمَهُ فَإِن كَفَّارَته أَن يعتقهُ" . رَوَاهُ مُسلم
৩৩৫২-[১১] ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি স্বীয় দাসের ওপর বিনা দোষে ’হাদ্দ’ (শাস্তি) প্রয়োগ করে অথবা থাপ্পড় মারে, তবে তার কাফফারা হলো তাকে মুক্ত করা। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (657/30)
وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: كُنْتُ أَضْرِبُ غُلَامًا لِي فَسَمِعْتُ مِنْ خَلْفِي صَوْتًا: "اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ لَلَّهُ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَيْهِ" فَالْتَفَتُّ فَإِذَا هُوَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هُوَ حُرٌّ لِوَجْهِ اللَّهِ فَقَالَ: "أَمَا لَوْ لَمْ تَفْعَلْ لَلَفَحَتْكَ النَّارُ أَوْ لَمَسَّتْكَ النَّارُ" . رَوَاهُ مُسلم
৩৩৫৩-[১২] আবূ মাস্’ঊদ আল আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বীয় দাসকে প্রহাররত অবস্থায় আমার পেছন হতে উচ্চস্বরে একটি আওয়াজ শুনলাম, হে আবূ মাস্’ঊদ! সাবধান! তুমি তোমার দাসের ওপর যতটুকু ক্ষমতা রাখ আল্লাহ তদপেক্ষা তোমার ওপর অধিক ক্ষমতার অধিকারী। অতঃপর আমি পিছন ফিরে দেখি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ কথাটি) বলছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! তাকে আল্লাহর ওয়াস্তে মুক্ত করে দিলাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি যদি এটা না করতে তবে জাহান্নামের আগুন তোমাকে ঝলসিয়ে দিত। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (1659/35)
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ: أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: إِنَّ لِي مَالًا وَإِنَّ وَالِدِي يَحْتَاجُ إِلَى مَالِي قَالَ: "أَنْتَ وَمَالُكَ لِوَالِدِكَ إِنَّ أَوْلَادَكُمْ مِنْ أَطْيَبِ كَسْبِكُمْ كُلُوا مِنْ كَسْبِ أَوْلَادِكُمْ" . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ ماجة
৩৩৫৪-[১৩] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, আমার নিকট ধন-সম্পদ আছে এবং আমার পিতা দারিদ্র্যতার দরুন আমার ধন-সম্পদের মুখাপেক্ষী। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি এবং তোমার ধন-সম্পদ তোমার পিতার। তোমাদের সন্তান-সন্ততিগণ তোমাদের উত্তম রিযক। সুতরাং তোমরা সন্তানের উপার্জন খাও। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ أبو داود (3530) و ابن ماجہ (2292)