মিশকাতুল মাসাবিহ
وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: لَمَّا ثَقُلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَبَطْتُ وَهَبَطَ النَّاسُ الْمَدِينَةَ فَدَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ أُصْمِتَ فَلَمْ يَتَكَلَّمْ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَضَعُ عَليّ يَدَيْهِ وَيَرْفَعُهُمَا فَأَعْرِفُ أَنَّهُ يَدْعُو لِي. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
৬১৭৫-[৪১] উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রোগ যখন খুব বেড়ে গেল, তখন আমি ও অন্যান্য লোকেরা মদীনায় অবতরণ করলাম। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গেলাম। এ সময় তিনি (সা.) নীরব হয়ে গিয়েছিলেন, কথাবার্তা বলতে পারছিলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার দেহের উপর তাঁর উভয় হাত রাখলেন। তারপর হাত দুটি উপরে উঠালেন। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি (সা.) আমার জন্য দু’আ করছেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3817)
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: أَرَادَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُنَحِّي مُخَاطَ أُسَامَةَ. قَالَتْ عَائِشَةُ: دَعْنِي حَتَّى أَكُونَ أَنَا الَّذِي أَفْعَلُ. قَالَ: «يَا عَائِشَةُ أَحِبِّيهِ فَإِنِّي أُحِبُّهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
৬১৭৬-[৪২] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একদিন নবী (সা.) উসামার নাকের শ্লেষ্মা দূর করতে চাইলে ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আপনি এটা রাখুন! আমিই এ কাজটি করব। তখন নবী (সা.) বললেন, হে ’আয়িশাহ! তুমি উসামাকে স্নেহ করো। কেননা আমি তাকে খুবই ভালোবাসি। (তিরমিযী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3818 وقال: حسن غریب)
وَعَن أُسَامَة قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا إِذْ جَاءَ عَلِيٌّ وَالْعَبَّاسُ يستأذنان فَقَالَا لِأُسَامَةَ: اسْتَأْذِنْ لَنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ الله عَلِيٌّ وَالْعَبَّاسُ يَسْتَأْذِنَانِ. فَقَالَ: «أَتَدْرِي مَا جَاءَ بهما؟» قلت: لَا. قَالَ: «لكني أَدْرِي فَأذن لَهما» فدخلا فَقَالَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ جِئْنَاكَ نَسْأَلُكَ أَيُّ أَهْلِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: «فَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ» فَقَالَا: مَا جِئْنَاكَ نَسْأَلُكَ عَنْ أَهْلِكَ قَالَ: " أَحَبُّ أَهْلِي إِلَيَّ مَنْ قَدْ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتُ عَلَيْهِ: أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ " قَالَا: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «ثُمَّ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ» فَقَالَ الْعَبَّاسُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ جَعَلْتَ عَمَّكَ آخِرَهُمْ؟ قَالَ: «إِنَّ عَلِيًّا سَبَقَكَ بِالْهِجْرَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَذَكَرَ أَنَّ عَمَّ الرَّجُلِ صِنْوُ أَبِيهِ فِي «كتاب الزَّكَاة»
৬১৭৭-[৪৩] উসামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি [নবী (সা.) -এর ঘরের দরজায়] বসা ছিলাম। এমন সময় সহসা ’আলী ও আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এসে ভিতরে প্রবেশের সম্মতি চাইলেন। তখন তাঁরা দুজনে উসামাকে বললেন, আমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে যাওয়ার সম্মতি নিয়ে আসো। (উসামাহ্ বলেন,) আমি গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ’আলী ও আব্বাস আপনার অনুমতি চাচ্ছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, (হে উসামাহ্) তুমি কি জান, কেন তারা দুজন এসেছে? আমি বললাম, জ্বি-না, আমি জানি না। তিনি (সা.) বললেন, কিন্তু আমি জানি, আচ্ছা তাদেরকে আসতে বল। অতঃপর তারা উভয়ে প্রবেশ করলেন। এবার তারা উভয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনাকে এ কথাটি প্রশ্ন করতে এসেছি, আপনার আহলে বায়তের মাঝে কে আপনার কাছে প্রিয়? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, ফাতিমা বিনতু মুহাম্মাদ। তাঁরা বললেন, আপনার পরিবার সম্পর্কে আমরা প্রশ্ন করতে আসিনি। তিনি (সা.) বললেন, আমার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝে সে লোকই আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয়, যার প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আমিও তার প্রতি দয়া করেছি, সে হলো উসামাহ্ ইবনু যায়দ। তাঁরা আবার প্রশ্ন করলেন, তাঁর পরে কে? তিনি বললেন, অতঃপর ’আলী ইবনু আবূ ত্বালিব। অতঃপর ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার চাচাকে আপনি সকলের শেষে রাখলেন? তিনি (সা.) বললেন, ’আলী তো হিজরতে আপনার অগ্রগামী রয়েছে। (তিরমিযী)
আর রাসূলুল্লাহ (সা.) এ কথাও উল্লেখ করলেন যে, "কোন ব্যক্তির চাচা হলো পিতার সমকক্ষ"। হাদীসটি যাকাত অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3819 وقال: حسن) ٭ حدیث ’’ان عم الرجل، صنو أبیہ‘‘ تقدم (6147) و لم أجدہ في کتاب الزکاۃ .
عَن عقبةَ بن الْحَارِث قَالَ: صَلَّى أَبُو بَكْرٍ الْعَصْرَ ثُمَّ خَرَجَ يَمْشِي وَمَعَهُ عَلِيٌّ فَرَأَى الْحَسَنَ يَلْعَبُ مَعَ الصِّبْيَانِ فَحَمَلَهُ عَلَى عَاتِقِهِ. وَقَالَ: بِأَبِي شَبِيهٌ بِالنَّبِيِّ لَيْسَ شَبِيهًا بِعَلِيٍّ وَعَلِيٌّ يَضْحَكُ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
৬১৭৮-[৪৪] ’উকবাহ্ ইবনুল হারিস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক (তাঁর খিলাফতকালে) একদিন আসরের সালাতের পর বের হয়ে হাঁটছিলেন, তাঁর সাথে ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও ছিলেন। আবূ বকর সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) দেখলেন, হাসান অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা করছেন, তখন তিনি তাঁকে তুলে স্বীয় কাঁধে নিয়ে বললেন, আমার পিতা কুরবান হোন, ইনি তো নবী (সা.) -এর অবিকল সদৃশ, ’আলীর সাথে কোন সাদৃশ্য নেই, তখন ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হাসছিলেন। (বুখারী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3750)
وَعَن أنس قَالَ: أَتَى عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ زِيَادٍ بِرَأْسِ الْحُسَيْنِ فَجُعِلَ فِي طَسْتٍ فَجَعَلَ يَنْكُتُ وَقَالَ فِي حُسْنِهِ شَيْئًا قَالَ أَنَسٌ: فَقُلْتُ: وَاللَّهِ إِنَّهُ كَانَ أَشْبَهَهُمْ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ مَخْضُوبًا بِالْوَسِمَةِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي رِوَايَةِ التِّرْمِذِيِّ قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ زِيَادٍ فَجِيءَ بِرَأْسِ الْحُسَيْنِ فَجَعَلَ يَضْرِبُ بِقَضِيبٍ فِي أَنْفِهِ وَيَقُولُ: مَا رَأَيْتُ مِثْلَ هَذَا حسنا. فَقلت: أما إِنَّهُ كَانَ أَشْبَهَهُمْ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ حَسَنٌ غَرِيب
৬১৭৯-[৪৫] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পবিত্র শির (কূফার আমীর) উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ-এর কাছে আনা হলো এবং তা একটি বড় চিলমচিতে রাখা হলো, তখন (হতভাগা) ইবনু যিয়াদ তাঁর মুখের মধ্যে (কাঠি দ্বারা) খোটা দিতে লাগল এবং তার সৌন্দর্য সম্পর্কে অসন্তুষ্টজনক মন্তব্য করল। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! হুসায়ন-এর আকৃতি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর আকৃতির সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। আর তখন তার চুল ও দাড়ির মধ্যে ওয়াসিমাহ্ ঘাসের খিযাব লাগানো ছিল। (বুখারী)
আর তিরমিযী বর্ণনাতে আছে, আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি ইবনু যিয়াদ-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পবিত্র শির আনা হলো, তখন ইবনু যিয়াদ হাতের কাঠি দিয়ে তার নাকের মধ্যে আঘাত করতে করতে তিরস্কারের সুরে বলল, এত সুন্দর চেহারা আমি কক্ষনো দেখিনি। [আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন,] তখন আমি তার কথার আপত্তি জানিয়ে বললাম, সাবধান! হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর আকৃতির সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। [আর ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, হাদীসটি সহীহ, হাসান ও গরীব]।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3748) و الترمذي (3778)
وَعَن أمِّ الْفضل بنت الْحَارِث أَنَّهَا دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَأَيْتُ حُلْمًا مُنْكَرًا اللَّيْلَةَ. قَالَ: «وَمَا هُوَ؟» قَالَتْ: إِنَّهُ شَدِيدٌ قَالَ: «وَمَا هُوَ؟» قَالَتْ: رَأَيْتُ كَأَنَّ قِطْعَةً مِنْ جَسَدِكَ قُطِعَتْ وَوُضِعَتْ فِي حِجْرِي. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَأَيْتِ خَيْرًا تَلِدُ فَاطِمَةُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ غُلَامًا يَكُونُ فِي حِجْرِكِ» . فَوَلَدَتْ فَاطِمَةُ الْحُسَيْنَ فَكَانَ فِي حِجْرِي كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَدَخَلْتُ يَوْمًا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَضَعْتُهُ فِي حِجْرِهِ ثُمَّ كَانَتْ مِنِّي الْتِفَاتَةٌ فَإِذَا عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَهْرِيقَانِ الدُّمُوعَ قَالَتْ: فَقُلْتُ: يَا نبيَّ الله بِأبي أَنْت وَأمي مَالك؟ قَالَ: " أَتَانِي جِبْرِيل عَلَيْهِ السَّلَامُ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ أُمَّتِي سَتَقْتُلُ ابْنِي هَذَا فَقُلْتُ: هَذَا؟ قَالَ: نَعَمْ وَأَتَانِي بِتُرْبَةٍ من تربته حَمْرَاء "
৬১৮০-[৪৬] উম্মুল ফাযল বিনতু আল হারিস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। একদিন তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আজ রাত্রে আমি মন্দ একটি স্বপ্ন দেখেছি। তিনি (সা.) বললেন, সে স্বপ্নটা কি? উম্মুল ফাযল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তা অতি ভয়ানক। তিনি (সা.) আবার বললেন, আরে বল না, সে স্বপ্নটা কি? তখন উম্মুল ফাযল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমি দেখেছি, আপনার দেহ হতে যেন এক টুকরা মাংস কর্তন করা হয়েছে এবং তা আমার কোলে রাখা হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি খুব উত্তম ও চমৎকার স্বপ্ন দেখেছ। ইনশা-আল্ল-হ কন্যা ফাতিমা একটি ছেলে সন্তান প্রসব করবে, যা তোমার কোলেই রাখা হবে। অতএব কিছু দিন পর ফাতিমার গর্ভে হুসায়ন জন্মগ্রহণ করলেন এবং তাঁকে আমার কোলেই রাখা হলো, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.) ও বলেছিলেন।
[উম্মুল ফাযল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন,] এরপর একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে গেলাম এবং বাচ্চাটিকে (শিশু হুসায়নকে) তার কোলে রাখলাম। অতঃপর আমি (অন্যমনস্কে) আরেক দিকে দেখছিলাম। সহসা এদিকে ফিরে তাকাতেই দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। উম্মুল ফাযল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তখন আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর নবী! আপনার প্রতি আমার পিতা কুরবান হোক আপনার কি হয়েছে? তিনি (সা.) বললেন, এইমাত্র জিবরীল (আঃ) এসে আমাকে বলে গেলেন যে, অদূর ভবিষ্যতে আমার উম্মতেরা আমার এ পুত্রটিকে হত্যা করবে। নবী (সা.) বলেন, আমি বিস্ময় প্রকাশে জিবরীল-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমার এ পুত্রটিকে কি তারা হত্যা করবে? জিবরীল (আঃ) বললেন, হ্যাঁ এবং ঐ স্থানের লাল মাটি এনেও আমাকে দেখিয়েছেন, যেখানে তাঁকে হত্যা করা হবে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ البیھقي في دلائل النبوۃ (6/ 469) [و صححہ، الحاکم علی شرط الشیخین (176/3۔ 177، 179) فقال الذھبي: ’’قلت: بل منقطع ضعیف، فإن شدادًا لم یدرک أم الفضل و محمد بن مصعب: ضعیف‘‘]
وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ: رَأَيْت النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وسل فِيمَا يَرَى النَّائِمُ ذَاتَ يَوْمٍ بِنِصْفِ النَّهَارِ أَشْعَثَ أَغْبَرَ بِيَدِهِ قَارُورَةٌ فِيهَا دَمٌ فَقُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي مَا هَذَا؟ قَالَ: «هَذَا دَمُ الْحُسَيْنِ وَأَصْحَابِهِ وَلَمْ أَزَلْ أَلْتَقِطُهُ مُنْذُ الْيَوْم» فأحصي ذَلِك الْوَقْت فأجد قبل ذَلِكَ الْوَقْتِ. رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيُّ فِي «دَلَائِلِ النُّبُوَّةِ» وَأحمد الْأَخير
৬১৮১-[৪৭] ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঘুমন্ত লোক যেভাবে কিছু দেখে, সেভাবে আমি নবী (সা.) -কে দ্বিপ্রহরে স্বপ্নে দেখলাম। তখন তিনি (সা.) ছিলেন এলোমেলো ও চেহারায় ধূলি মাখা অবস্থায় তার হাতের মাঝে রক্তে পরিপূর্ণ একটি শিশি। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতামাতা আপনার প্রতি কুরবান হোন। এটা কি? তিনি বললেন, এটা হুসায়ন এবং তার সাথিদের রক্ত, যা আমি আজকের দিন অত্র শিশিতে উঠিয়ে রাখছি। ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, স্বপ্নের সে সময়টি আমি স্মরণে রাখি। পরে দেখতে পেলাম, হুসায়ন ঠিক সে সময়েই নিহত হয়েছেন। (উপরিউক্ত হাদীস দুটি বায়হাক্বী’র দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ্ গ্রন্থে ও আহমাদ শেষের হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ البیھقي في دلائل النبوۃ (6/ 471) و أحمد (1/، 242 ح 2165)
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَحِبُّوا اللَّهَ لِمَا يَغْذُوكُمْ مِنْ نِعَمِهِ فَأَحِبُّونِي لِحُبِّ اللَّهِ وَأَحِبُّوا أَهْلَ بَيْتِي لحبِّي» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
৬১৮২-[৪৮] ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো। কেননা তিনি তোমাদের প্রতি খাদ্যসামগ্রীর মাধ্যমে দয়া করে থাকেন। আর আমার আহলে বায়তকে ভালোবাসো আমার ভালোবাসায়। (তিরমিযী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3789 وقال: حسن غریب)
وَعَن أبي ذرٍ أَنَّهُ قَالَ وَهُوَ آخِذٌ بِبَابِ الْكَعْبَةِ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «أَلَا إِنَّ مِثْلَ أَهْلِ بَيْتِي فِيكُمْ مِثْلُ سَفِينَةِ نُوحٍ مَنْ رَكِبَهَا نَجَا وَمَنْ تَخَلَّفَ عَنْهَا هلك» . رَوَاهُ أَحْمد
৬১৮৩-[৪৯] আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি কাবা ঘরের দরজা ধরে বললেন, আমি নবী (সা.) - কে বলতে শুনেছি, সাবধান! আমার আহলে বায়ত হলো তোমাদের জন্য নূহ (আঃ)-এর নৌকার মতো। যে তাতে আরোহণ করবে, সে পরিত্রাণ পাবে। আর যে তা হতে পশ্চাতে থাকবে, সে ধ্বংস হবে। (আহমাদ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ أحمد في فضائل الصحابۃ (2/ 785 ح 1402، زیادات، القطیعي، لیس فیہ أحمد و لا ابنہ) [و الحاکم (3/ 150، 2/ 343)] ٭ فیہ المفضل بن، صالح النخاس الأسدي: ضعیف، و أبو إسحاق السبیعي مدلس و عنعن و للحدیث شواھد، ضعیفۃ .
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «خَيْرُ نِسَائِهَا مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ وَخَيْرُ نِسَائِهَا خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ أَبُو كُرَيْبٍ: وَأَشَارَ وَكِيعٌ إِلَى السَّمَاء وَالْأَرْض
৬১৮৪- ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মারইয়াম বিনতু ’ইমরান ছিলেন সকল নারীর মাঝে শ্রেষ্ঠ। আর খাদীজাহ্ বিনতু খুওয়াইলিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হলেন (বর্তমান উম্মতের) সমগ্র নারী সমাজের মধ্যে শ্রেয়। (বুখারী ও মুসলিম)
অপর এক বর্ণনাতে আছে- আবূ কুরায়ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, বর্ণনাকারী ওয়াকী আকাশ ও জমিনের দিকে ইঙ্গিত করেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3432) و مسلم (69/ 2430)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: أَتَى جِبْرِيلُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «يَا رسولَ اللَّهِ هَذِهِ خَدِيجَةُ قَدْ أَتَتْ مَعَهَا إِنَاءٌ فِيهِ إِدام وَطَعَام فَإِذَا أَتَتْكَ فَاقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلَامَ مِنْ رَبِّهَا وَمِنِّي وَبَشِّرْهَا بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ لَا صَخَبَ فِيهِ وَلَا نَصَبَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
৬১৮৫-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জিবরীল (আঃ) নবী (সা.) -এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই যে খাদীজাহ্ একটি পাত্র নিয়ে আসছেন। তাতে তরকারি এবং খাওয়ার সামগ্রী রয়েছে। তিনি (সা.) যখন আপনার কাছে আসবেন, তখন আপনি তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ হতে এবং আমার পক্ষ হতে সালাম বলবেন এবং তাঁকে জান্নাতের মধ্যে মুক্তাখচিত এমন একটি ভবনের সুসংবাদ প্রদান করবেন, যেখানে না কোন হৈ-হুল্লোড় আছে আর না কোন দুঃখ রয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3820) و مسلم (71/ 2432)
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: مَا غِرْتُ عَلَى أَحَدٍ مِنْ نِسَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا غِرْتُ عَلَى خَدِيجَةَ وَمَا رَأَيْتُهَا وَلَكِنْ كَانَ يُكْثِرُ ذِكْرَهَا وَرُبَّمَا ذَبَحَ الشَّاةَ ثُمَّ يُقَطِّعُهَا أَعْضَاءً ثُمَّ يَبْعَثُهَا فِي صدائق خَدِيجَة فَيَقُول: «إِنَّهَا كَانَت وَكَانَت وَكَانَتْ وَكَانَ لِي مِنْهَا وُلْدٌ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
৬১৮৬-[৩] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাদীজাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -এর প্রতি আমার যতটা ঈর্ষা হত, ততটা ঈর্ষা নবী (সা.) -এর অপর কোন স্ত্রীর প্রতি আমি পোষণ করতাম না। অথচ তাকে আমি দেখিনি। কিন্তু নবী (সা.) অধিকাংশ সময় তাঁর কথা আলোচনা করতেন। সচরাচর ছাগল যাবাহ করে তার বিভিন্ন অঙ্গ কেটে তা খাদীজাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বান্ধবীদের কাছে (হাদিয়াস্বরূপ) পাঠাতেন। আমি কখনো কখনো রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতাম, মনে হয় যেন দুনিয়াতে খাদীজাহ্ ছাড়া আর কোন স্ত্রীলোকই নেই।’ তখন তিনি উত্তরে বলতেন, "নিশ্চয় সে এরূপই ছিল, এরূপই ছিল। আর তাঁর তরফ হতেই আমার সন্তান-সন্ততি রয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3818) و مسلم (75/ 2435)
وَعَن أبي سَلمَة أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا عَائِشُ هَذَا جِبْرِيلُ يُقْرِئُكِ السَّلَامَ» . قَالَتْ: وَعَلَيْهِ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ. قَالَتْ: وَهُوَ يَرَى مَا لَا أَرَى مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
৬১৮৭-[৪] আবূ সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, (একদিন) রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, হে ’আয়িশাহ্! এই যে জিবরীল (আঃ) তোমাকে সালাম বলেছেন। আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) (জবাবে) বললেন, তাঁর ওপরও সালাম এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যা আমি দেখতে পাই না, তিনি [অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল (সা.)] তা দেখতে পান। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3768) و مسلم (90/ 2447)
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: " أُريتُكِ فِي الْمَنَامِ ثَلَاثَ لَيَالٍ يَجِيءُ بِكِ الْمَلَكُ فِي سَرَقَةٍ مِنْ حَرِيرٍ فَقَالَ لِي: هَذِهِ امْرَأَتُكَ فَكَشَفْتُ عَنْ وَجْهِكِ الثَّوْبَ فَإِذَا أَنْتِ هِيَ. فَقُلْتُ: إِنْ يَكُنْ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ يُمْضِهِ ". مُتَّفق عَلَيْهِ
৬১৮৮-[৫] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, তোমাকে তিন রজনীতে স্বপ্নযোগে আমাকে দেখানো হয়েছে। একজন মালাক (ফেরেশতা) তোমাকে রেশমি কাপড়ে জড়িয়ে নিয়ে এসে আমাকে বলেন, ইনি আপনার স্ত্রী। তখন আমি তোমার চেহারার কাপড় খুললাম। তখন দেখতে পেলাম, তুমিই। অতঃপর আমি (মনে মনে) বললাম, এটা যদি আল্লাহর তরফ হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই পূর্ণ হবে। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3895) و مسلم (79/ 2438)
وَعَنْهَا قَالَتْ: إِنَّ النَّاسَ كَانُوا يَتَحَرَّوْنَ بِهَدَايَاهُمْ يَوْمَ عَائِشَةَ يَبْتَغُونَ بِذَلِكَ مَرْضَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَقَالَتْ: إِنَّ نِسَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُنَّ حِزْبَيْنِ: فَحِزْبٌ فِيهِ عَائِشَةُ وَحَفْصَةُ وَصَفِيَّةُ وَسَوْدَةُ وَالْحِزْبُ الْآخَرُ أُمُّ سَلَمَةَ وَسَائِرُ نِسَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَلَّمَ حِزْبُ أُمِّ سَلَمَةَ فَقُلْنَ لَهَا: كَلِّمِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَلِّمُ النَّاسَ فَيَقُولُ: مَنْ أَرَادَ أَنْ يُهْدِيَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلْيُهْدِهِ إِلَيْهِ حَيْثُ كَانَ. فَكَلَّمَتْهُ فَقَالَ لَهَا: «لَا تُؤْذِينِي فِي عَائِشَةَ فَإِنَّ الْوَحْيَ لَمْ يَأْتِنِي وَأَنَا فِي ثَوْبِ امْرَأَةٍ إِلَّا عَائِشَةَ» . قَالَتْ: أَتُوب إِلَى الله من ذَاك يَا رَسُولَ اللَّهِ ثُمَّ إِنَّهُنَّ دَعَوْنَ فَاطِمَةَ فَأَرْسَلْنَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَلَّمَتْهُ فَقَالَ: «يَا بُنَيَّةُ أَلَا تُحِبِّينَ مَا أُحِبُّ؟» قَالَتْ: بَلَى. قَالَ: «فَأَحِبِّي هَذِهِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَذَكَرَ حَدِيثُ أَنَسٍ «فَضْلَ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ» فِي بَابِ «بَدْءِ الْخَلْقِ» بِرِوَايَةِ أبي مُوسَى
৬১৮৯-[৬] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সন্তুষ্টি লাভের জন্য লোকেরা তাদের হাদিয়্যাহ্ বা উপহার পাঠাবার জন্য আমি ’আয়িশার দিনের (পালার) প্রতি খেয়াল রাখত। আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্ত্রীগণ দুই দলে বিভক্ত ছিলেন। এক দলে ছিলেন ’আয়িশাহ্, হাফসাহ, সফিয়্যাহ্ ও সাওদাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। আর অন্য দলে ছিলেন উম্মু সালামাহ্ ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যান্য স্ত্রীগণ।
উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দলের স্ত্রীগণ উম্মু সালামাহ্-কে বললেন, আপনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে আলাপ করুন, তাঁকে বলুন, তিনি যেন সকল মানুষকে বলে দেন যে, কেউ রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে হাদিয়্যাহ্ দিতে চাইলে তিনি তাঁর যেই স্ত্রীর কাছেই অবস্থান করুন না কেন, সেখানেই যেন পাঠিয়ে দেয়। অতঃপর উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে কথাবার্তা বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বললেন, হে উম্মু সালামাহ্! আয়িশাহ’র সম্পর্কে তুমি আমাকে কষ্ট দিয়ো না। কেননা একমাত্র ’আয়িশাহ্ ছাড়া আর কোন স্ত্রীর সাথে এক কাপড়ে থাকাকালে আমার কাছে ওয়াহী আসেনি। উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে কষ্ট দেয়া হতে আল্লাহ তা’আলার কাছে তাওবাহ্ করছি। অতঃপর স্ত্রীগণ ফাতিমাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -এর কাছে গিয়ে তাঁর সাথে কথাবার্তা বলে তাকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পাঠালেন। অতএব ফাতিমাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) গিয়ে তাঁর সাথে কথাবার্তা বললেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে স্নেহময়ী! যা আমি পছন্দ করি, তুমি কি তা পছন্দ কর না? ফাতিমাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যাই। তখন তিনি (সা.) বললেন, তুমি তাহলে আয়িশাহ্-কে ভালোবাস। (বুখারী ও মুসলিম)
বাদী’উল খালক্ক "সৃষ্টির সূচনা" অধ্যায়ে সকল নারীদের উপর ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কিত আবূ মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সূত্রে বর্ণিত আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2581) و مسلم (83/ 2442) حدیث أنس تقدم، (5724)
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «حَسْبُكَ مِنْ نِسَاءِ الْعَالَمِينَ مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ وَخَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ وَفَاطِمَةُ بِنْتُ محمَّد وآسية امْرَأَة فِرْعَوْن» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
৬১৯০-[৭] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন, সারা বিশ্বের মহিলাদের মধ্য হতে এই চারজন মহিলার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়াই তোমার জন্য যথেষ্ট। তাঁরা হলেন মারইয়াম বিনতু ’ইমরান, খাদীজা বিনতু খুওয়াইলিদ, ফাতিমাহ্ বিনতু মুহাম্মাদ এবং ফি’আওনের পত্নী আসিয়াহ্। (তিরমিযী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ الترمذي (3878 وقال: حسن صحیح غریب)
وَعَن عَائِشَة أَن جِبْرِيل جَاءَ بِصُورَتِهَا فِي خِرْقَةِ حَرِيرٍ خَضْرَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «هَذِهِ زَوْجَتُكَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
৬১৯১-[৮] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। একদিন জিবরীল (আঃ) তাঁর (আয়িশাহ্ রাঃ এর) আকৃতির একটি জিনিসের উপর সবুজ বর্ণের রেশমি কাপড়ে পেঁচিয়ে এনে রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বললেন, ইনি ইহকালের ও পরকালের আপনার স্ত্রী হবেন। (তিরমিযী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ الترمذي (3880 وقال: حسن غریب)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: بَلَغَ صَفِيَّةَ أَنَّ حَفْصَةَ قَالَتْ: بِنْتُ يَهُودِيٍّ فَبَكَتْ فَدَخَلَ عَلَيْهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ تَبْكِي فَقَالَ: «مَا يُبْكِيكِ؟» فَقَالَتْ: قَالَتْ لِي حَفْصَةُ: إِنِّي ابْنَةُ يَهُودِيٍّ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِنَّك ابْنة نَبِيٍّ وَإِنَّ عَمَّكِ لَنَبِيٌّ وَإِنَّكِ لَتَحْتَ نَبِيٍّ فَفِيمَ تَفْخَرُ عَلَيْكِ؟» ثُمَّ قَالَ: «اتَّقِي اللَّهَ يَا حَفْصَة» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ
৬১৯২-[৯] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) এর স্ত্রী সফিয়্যাহ্-এর কাছে এ কথাটি পৌছেছে যে, হাফসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে ইয়াহুদী কন্যা বলেছেন। এ কথা শুনে সফিয়্যাহ কাঁদতে লাগলেন। এমন সময় নবী (সা.) তাঁর কাছে গিয়ে দেখলেন, তিনি কাঁদছেন। প্রশ্ন করলেন কি কারণে তুমি কাঁদছ? সফিয়্যাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হাফসাহ আমাকে ইয়াহুদী কন্যা বলেছে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি তো এক নবীর কন্যা, আরেক নবী তোমার চাচা এবং তুমি আরেক নবীর স্ত্রী। অতএব হাফসা কোন কথায় তোমার ওপর গর্ব করতে পারে? অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, হে হাফসা! আল্লাহকে ভয় কর। (তিরমিযী ও নাসায়ী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ الترمذي (3894 وقال: حسن صحیح غریب) و النسائي، فی الکبری (8919)
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعَا فَاطِمَةَ عَامَ الْفَتْحِ فَنَاجَاهَا فَبَكَتْ ثُمَّ حَدَّثَهَا فَضَحِكَتْ فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلْتُهَا عَنْ بُكَائِهَا وَضَحِكِهَا. قَالَتْ: أَخْبَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ يَمُوتُ فَبَكَيْتُ ثُمَّ أَخْبَرَنِي أَنِّي سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ إِلَّا مَرْيَمَ بِنْتَ عِمْرَانَ فَضَحِكْتُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
৬১৯৩-[১০] উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। মক্কা বিজয়ের পর একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) ফাতিমাহকে নিজের কাছে নিয়ে চুপে চুপে কিছু কথা বললেন। তা শুনে ফাতিমাহ্ কেঁদে দিলেন। অতঃপর তিনি আবার তার সাথে কথা বললেন, এবার ফাতিমাহ্ হেসে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মৃত্যুর পর আমি ফাতিমাকে (ঐ দিন) কাঁদার ও হাসার কারণ জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, শীঘ্রই তিনি মৃত্যুবরণ করবেন, এটা শুনে আমি কেঁদেছি। তারপর তিনি (সা.) আমাকে বললেন, আমি মারইয়াম বিনতু ’ইমরান ছাড়া জান্নাতী সমস্ত নারীদের সরদার হব। এটা শুনে আমি হেসেছি। (তিরমিযী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: إسناده جيد
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3873)
عَن أبي مُوسَى قَالَ: مَا أُشْكِلَ عَلَيْنَا أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثٌ قَطُّ فَسَأَلْنَا عَائِشَةَ إِلَّا وَجَدْنَا عِنْدَهَا مِنْهُ عِلْمًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيب
৬১৯৪-[১১] আবূ মূসা আল আ’আরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীগণ যখনই কোন মাসআলায় সন্দেহ বা সমস্যায় পড়তাম, "আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে প্রশ্ন করলে তার কাছে তার সঠিক উত্তর বা সমাধান পেয়ে যেতাম।
[ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও গরীব]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3883)