মিশকাতুল মাসাবিহ
وَعَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ قَالَ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَفْصَحَ مِنْ عَائِشَةَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ
৬১৯৫-[১২] মূসা ইবনু ত্বলহাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, "আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর চেয়ে শুদ্ধভাষী আর কাউকে দেখিনি। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ ও গরীব]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3884) ٭ فیہ عبد الملک بن عمیر مدلس، و عنعن و المفھوم صحیح .
عَن عبد الله بن عمر قَالَ: رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّ فِي يَدِي سراقَة مِنْ حَرِيرٍ لَا أَهْوِي بِهَا إِلَى مَكَانٍ فِي الْجَنَّةِ إِلَّا طَارَتْ بِي إِلَيْهِ فَقَصَصْتُهَا عَلَى حَفْصَةَ فَقَصَّتْهَا حَفْصَةُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «إِنَّ أَخَاكِ رَجُلٌ صَالِحٌأَوْ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ رَجُلٌ صَالح -» . مُتَّفق عَلَيْهِ
৬১৯৬- ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার হাতে যেন এক টুকরা রেশমি কাপড়। আমি জান্নাতের মাঝে যে কোথাও যেতে ইচ্ছা করি, তখনই ঐ কাপড় খণ্ডটি আমাকে সেখানে উড়িয়ে নিয়ে যায়। অতঃপর আমি এই স্বপ্নের কথা হাফসার কাছে বললাম, তখন হাফসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তা নবী (সা.) -এর কাছে বললে তিনি উত্তরে বললেন, তোমার ভাই অথবা বলেছেন, ’আবদুল্লাহ একজন সৎ লোক। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (7015) و مسلم (139/ 2478)
وَعَن حذيفةَ قَالَ: إِنَّ أَشْبَهَ النَّاسِ دَلًّا وَسَمْتًا وَهَدْيًا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَابْنُ أم عبدٍ مِنْ حِينِ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ إِلَى أَنْ يرجع إِلَيْهِ لَا تَدْرِي مَا يصنع أَهله إِذا خلا. رَوَاهُ البُخَارِيّ
৬১৯৭-[২] হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, গাম্ভীর্য, চালচলন এবং পথ চলার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে অধিকতর সদৃশ ছিলেন ইবনু উম্মু আবদ গৃহ হতে বের হওয়ার পর আবার গৃহে প্রত্যাবর্তন করা অবধি। তবে যখন তিনি গৃহের অভ্যন্তরে একাকী থাকতেন, তখন কি অবস্থায় থাকতেন, তা আমাদের জানা নেই। (বুখারী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (6097)
وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: قَدِمْتُ أَنَا وَأَخِي مِنَ الْيَمَنِ فَمَكَثْنَا حِينًا مَا نَرَى إِلَّا أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَا نُرَى مِنْ دُخُولِهِ وَدُخُولِ أُمِّهِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
৬১৯৮-[৩] আবূ মূসা আল আশ’আরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আমার ভাই ইয়ামান হতে (মদীনায়) আগমন করে বেশ কিছুদিন বাস করলাম। আমরা এটাই মনে করতাম যে, ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) -এর পরিবারেই একজন সদস্য। কেননা আমরা তাঁকে এবং তাঁর মাতাকে নবী (সা.) - এর গৃহে যাতায়াত করতে প্রায়ই দেখতাম। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3763) و مسلم (110/ 2460)
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " استقرؤوا الْقُرْآنَ مِنْ أَرْبَعَةٍ: مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَسَالِمٍ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ وَأُبَيِّ بْنِ كَعْب ومعاذ بن جبل ". مُتَّفق عَلَيْهِ
৬১৯৯-[৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা চার লোকের কাছে কুরআন অধ্যয়ন কর- ১. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, ২. আবূ হুযায়ফাহ’র স্বাধীন দাস সালিম, ৩. উবাই ইবনু কা’ব ও ৪. মু’আয ইবনু জাবাল । (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3706) و مسلم (117/ 2464)
وَعَن علقمةَ قَالَ: قَدِمْتُ الشَّامَ فَصَلَّيْتُ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قُلْتُ: اللَّهُمَّ يَسِّرْ لِي جَلِيسًا صَالِحًا فَأَتَيْتُ قَوْمًا فَجَلَسْتُ إِلَيْهِمْ فَإِذَا شَيْخٌ قَدْ جَاءَ حَتَّى جَلَسَ إِلَى جَنْبِي قُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: أَبُو الدَّرْدَاءِ. قُلْتُ: إِنِّي دَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُيَسِّرَ لِي جَلِيسًا صَالِحًا فَيَسَّرَكَ لِي فَقَالَ: مَنْ أَنْتَ؟ قُلْتُ: مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ. قَالَ: أَو لَيْسَ عنْدكُمْ ابْن أمِّ عبد صَاحب النَّعْلَيْنِ وَالْوِسَادَةِ وَالْمَطْهَرَةِ وَفِيكُمُ الَّذِي أَجَارَهُ اللَّهُ مِنَ الشَّيْطَانِ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ؟ يَعْنِي عَمَّارًا أَوْ لَيْسَ فِيكُمْ صَاحِبُ السِّرِّ الَّذِي لَا يعلمُه غيرُه؟ يَعْنِي حُذَيْفَة. رَوَاهُ البُخَارِيّ
৬২০০-[৫] ’আলকামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার সিরিয়া গেলাম এবং (সেখানকার মসজিদে) দু রাকআত সালাত আদায় করলাম। অতঃপর আমি দুআ করলাম, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে একজন সৎ সাথি জুটিয়ে দাও। তারপর আমি একদল লোকের কাছে এসে বসলাম। সহসা দেখলাম, একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি এসে আমার পাশেই বসলেন। আমি লোকেদেরকে প্রশ্ন করলাম, ইনি কে? তারা বলল, ইনি আবূদ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। তখন আমি বললাম, আমি আল্লাহ তা’আলার কাছে একজন সৎ সাথি মিলিয়ে দেয়ার জন্য দু’আ করেছিলাম। আল্লাহ তা’আলা আপনাকে আমার জন্য মিলিয়ে দিয়েছেন। তখন তিনি প্রশ্ন করলেন, তুমি কে? বললাম, আমি কূফার অধিবাসী। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কি ইবনু উম্মু ’আবদ (অর্থাৎ ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ) নেই? যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা, বালিশ ও উযূর পাত্র বহনকারী ছিলেন এবং তোমাদের মধ্যে কি ঐ লোক নেই? নবী (সা.) -এর মুখের দু’আয় আল্লাহ তা’আলা যে লোকটিকে শয়তান হতে পানাহ দিয়েছেন, অর্থাৎ ’আম্মার (ইবনু ইয়াসীর) (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। আর তোমাদের মাঝে কি ঐ লোক নেই? যিনি ছাড়া [নবী (সা.) -এর] গোপন তথ্যাদি আর কেউই জানে না অর্থাৎ হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। (বুখারী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3742)
وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أُرِيْتُ الْجَنَّةَ فَرَأَيْتُ امْرَأَةَ أَبِي طَلْحَةَ وَسَمِعْتُ خَشْخَشَةً أَمَامِي فَإِذَا بِلَالٌ» . رَوَاهُ مُسلم
৬২০১-[৬] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমাকে জান্নাত দেখানো হয় (মিরাজে অথবা স্বপ্নে,) সেখানে আমি আবূ ত্বলহাহ্-এর স্ত্রীকে দেখলাম এবং আমার সামনে কারো (চলার) পায়ের খসখস শব্দ শুনতে পাই, লক্ষ্য করে দেখি তিনি বিলাল। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (106/ 2457)
وَعَن سعد قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِتَّةَ نَفَرٍ فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم: اطرد هَؤُلَاءِ لَا يجترؤون عَلَيْنَا. قَالَ: وَكُنْتُ أَنَا وَابْنُ مَسْعُودٍ وَرَجُلٌ مِنْ هُذَيْلٍ وَبِلَالٌ وَرَجُلَانِ لَسْتُ أُسَمِّيهِمَا فَوَقَعَ فِي نَفْسِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقَعَ فَحَدَّثَ نَفْسَهُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: [وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ] . رَوَاهُ مُسلم
৬২০২-[৭] সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা ছয়জন নবী (সা.) -এর কাছে বসা ছিলাম। তখন মুশরিকরা নবী (সা.) -কে বলল, এ সমস্ত লোকেদেরকে সরিয়ে দিন, যাতে তারা আমাদের ওপর সাহসী না হয়ে পড়ে। সা’দ বলেন, সে ছয়জনের মধ্যে ছিলাম আমি, ইবনু মাস’উদ, হুযায়ল গোত্রের এক লোক, বিলাল ও আরো দু’জন যাদের নাম আমি বলতে চাই না। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মনে তাই উদ্ভব হয়, যা উদ্ভব করতে আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছা হয়েছে। এ সম্পর্ক নবী (সা.) মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন, ঠিক এমন সময় আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেন, "সে সকল লোকেদেরকে বিতাড়িত করবেন না, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সকাল-সন্ধ্যা তাদের প্রভুকে আহ্বান করে। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (46/ 2413)
وَعَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ: «يَا أَبَا مُوسَى لَقَدْ أُعْطِيْتَ مِزْمَارًا مِنْ مَزَامِيرِ آل دَاوُد» . مُتَّفق عَلَيْهِ
৬২০৩-[৮] আবূ মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) তাঁকে লক্ষ্য করে বলেছেন, হে আবূ মূসা! দাউদ এর কণ্ঠস্বর তোমাকে দান করা হয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (5048) و مسلم (235/ 793)
وَعَن أنس قَالَ: جَمَعَ الْقُرْآنَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعَةٌ: أُبَيُّ بْنِ كَعْبٍ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَأَبُو زَيْدٍ قِيلَ لِأَنَسٍ: مَنْ أَبُو زَيْدٍ؟ قَالَ: أحد عمومتي. مُتَّفق عَلَيْهِ
৬২০৪-[৯] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সময়ে এ চার ব্যক্তি পূর্ণ কুরআন মাজীদ মুখস্থ করেছিলেন- উবাই ইবনু কা’ব, মু’আয ইবনু জাবাল, যায়দ ইবনু সাবিত ও আবূ যায়দ। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে প্রশ্ন করা হলো, আবূ যায়দ কে? তিনি বললেন, আমার এক চাচা। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3810) و مسلم (119/ 2460)
وَعَن خبّاب بن الأرتِّ قَالَ: هَاجَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبْتَغِي وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى فَوَقَعَ أَجْرُنَا عَلَى اللَّهِ فَمِنَّا مَنْ مَضَى لَمْ يَأْكُلْ مَنْ أَجْرِهِ شَيْئًا مِنْهُمْ: مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ قُتِلَ يَوْمَ أُحُدٍ فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ مَا يُكَفَّنُ فِيهِ إِلَّا نَمِرَةٌ فَكُنَّا إِذَا غطينا بهَا رَأْسَهُ خَرَجَتْ رِجْلَاهُ وَإِذَا غَطَّيْنَا رِجْلَيْهِ خَرَجَ رَأْسُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «غطوا بهَا رَأسه وَاجْعَلُوا على رجلَيْهِ الْإِذْخِرِ» . وَمِنَّا مَنْ أَيْنَعَتْ لَهُ ثَمَرَتُهُ فَهُوَ يهدبها. مُتَّفق عَلَيْهِ
৬২০৫-[১০] খব্বাব ইবনুল আরত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে হিজরত করেছি, অতএব আমাদের পুরস্কার আল্লাহর কাছে সাব্যস্ত হয়েছে। তবে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁদের পুরস্কারের কিছুই ভোগ না করে (দুনিয়া হতে) চলে গেছেন। মুসআব ইবনু উমায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁদের অন্যতম। তিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হলে তাকে কাফন দেয়ার জন্য একটি চাদর ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। যখন ঐ চাদরটি দিয়ে আমরা তার মাথা ঢাকতাম তখন তাঁর উভয় পা বের হয়ে পড়ত, আবার যখন পা দুটি ঢাকতাম তখন তার মাথা বের হয়ে পড়ত। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন বললেন, চাদর দ্বারা তার মাথাটি ঢেকে দাও এবং পা দুটির উপর কিছু ইযখির ঘাস রাখ, আর আমাদের মাঝে কেউ এমনও রয়েছেন, যার ফল পেকেছে এবং তিনি তা আহরণ করছেন। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3898) و مسلم (44/ 940)
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اهْتَزَّ الْعَرْشُ لِمَوْتِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ» وَفِي رِوَايَةٍ: «اهْتَزَّ عَرْشُ الرَّحْمَنِ لِمَوْتِ سَعْدِ بن معَاذ» . مُتَّفق عَلَيْهِ
৬২০৬-[১১] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, সা’দ ইবনু মু’আয-এর মৃত্যুতে ’আরশ কেঁপে উঠে।
অপর এক বর্ণনাতে আছে, সা’দ ইবনু মু’আয-এর মৃত্যুতে রহমানের ’আরশ কেঁপে উঠেছিল। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3803) و مسلم (124/ 2466)
وَعَنِ الْبَرَاءِ قَالَ: أُهْدِيَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُلَّةُ حَرِيرٍ فَجَعَلَ أَصْحَابُهُ يَمَسُّونَهَا وَيَتَعَجَّبُونَ مِنْ لِينِهَا فَقَالَ: «أَتَعْجَبُونَ مِنْ لِينِ هَذِهِ؟ لَمَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فِي الجنَّةِ خيرٌ مِنْهَا وألين» . مُتَّفق عَلَيْهِ
৬২০৭-[১২] বারা’ (ইবনু ’আযিব) (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে উপহারস্বরূপ রেশমি পোশাক পেশ করা হলো। তখন সাহাবীগণ তা স্পর্শ করে তার কোমলতায় আশ্চর্যবোধ করতে লাগলেন। তখন তিনি (সা.) বললেন, তোমরা তার কোমলতা দেখে আশ্চর্য হচ্ছ? অথচ সা’দ ইবনু মু’আয-এর রুমাল যা জান্নাতে তিনি প্রাপ্ত হয়েছেন, এর চেয়ে অধিক উত্তম এবং আরো অনেক কোমল। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3802) و مسلم (126 / 2468)
وَعَنْ أُمِّ سُلَيْمٍ أَنَّهَا قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَسٌ خَادِمُكَ ادْعُ اللَّهَ لَهُ قَالَ: «اللهمَّ أَكثر مَاله وَولده وَبَارك فِيمَا أَعْطيته» قَالَ أنس: فو الله إِنَّ مَالِي لَكَثِيرٌ وَإِنَّ وَلَدِي وَوَلَدَ وَلَدِي لَيَتَعَادُّونَ عَلَى نَحْوِ الْمِائَةِ الْيَوْمَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
৬২০৮-[১৩] উম্মু সুলায়ম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন তিনি (রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সেবক আনাস-এর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। তখন তিনি (সা.) এভাবে দু’আ করলেন, "হে আল্লাহ! তার সম্পদ ও সন্তান বাড়িয়ে দাও। আর তুমি তাকে যা কিছু দান করেছ তাতে বরকত প্রদান কর।" আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার ধন-সম্পদ প্রচুর এবং আমার সন্তান-সন্ততির সংখ্যা আজ প্রায় একশত অতিক্রম করেছে। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (6334) و مسلم (143/ 2481)
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: مَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لِأَحَدٍ يَمْشِي عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ «إِنَّهُ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ» إِلَّا لِعَبْدِ اللَّهِ بن سَلام. مُتَّفق عَلَيْهِ
৬২০৯-[১৪] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছাড়া ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী কোন লোকের জন্য আমি নবী (সা.) -কে বলতে শুনিনি "নিশ্চয় সে জান্নাতবাসী’। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3812) و مسلم (147/ 2483)
وَعَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا فِي مَسْجِدِ الْمَدِينَةِ فَدَخَلَ رَجُلٌ عَلَى وَجْهِهِ أَثَرُ الْخُشُوعِ فَقَالُوا: هَذَا رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ تَجَوَّزَ فِيهِمَا ثُمَّ خَرَجَ وَتَبِعْتُهُ فَقُلْتُ: إِنَّكَ حِينَ دَخَلْتَ الْمَسْجِدَ قَالُوا: هَذَا رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ. قَالَ: وَاللَّهِ مَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَقُولَ مَا لَا يَعْلَمُ فَسَأُحَدِّثُكَ لِمَ ذَاكَ؟ رَأَيْتُ رُؤْيَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَصَصْتُهَا عَلَيْهِ وَرَأَيْتُ كَأَنِّي فِي رَوْضَةٍذَكَرَ مِنْ سَعَتِهَا وَخُضْرَتِهَاوَسَطَهَا عَمُودٌ مِنْ حَدِيدٍ أَسْفَلُهُ فِي الْأَرْضِ وَأَعْلَاهُ فِي السَّمَاءِ فِي أَعْلَاهُ عُرْوَةٌ فَقِيلَ لِيَ: ارْقَهْ. فَقُلْتُ: لَا أَسْتَطِيعُ فَأَتَانِي مِنْصَفٌ فَرَفَعَ ثِيَابِي مِنْ خَلْفِي فرقِيتُ حَتَّى كُنْتُ فِي أَعْلَاهُ فَأَخَذْتُ بِالْعُرْوَةِ فَقِيلَ: اسْتَمْسِكْ فَاسْتَيْقَظْتُ وَإِنَّهَا لَفِي يَدِي فَقَصَصْتُهَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «تِلْكَ الرَّوْضَةُ الْإِسْلَامُ وَذَلِكَ الْعَمُودُ عَمُودُ الْإِسْلَامِ وَتِلْكَ العروة الْعُرْوَةُ الْوُثْقَى فَأَنْتَ عَلَى الْإِسْلَامِ حَتَّى تَمُوتَ وَذَاكَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
৬২১০-[১৫] কায়স ইবনু উবাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি মদীনায় মসজিদে বসা ছিলাম। এমন সময় এক লোক মসজিদে প্রবেশ করলেন, যার মুখমণ্ডলে নম্রতার ছাপ। (তাকে দেখে) লোকেরা বলে উঠল, এ লোকটি জান্নাতী। (আগন্তুক) লোকটি সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর মসজিদ হতে বের হলেন। (বর্ণনকারী কায়স বলেন,) আমিও তার পিছনে পিছনে চলে বললাম, আপনি যখন মসজিদে প্রবেশ করেছিলেন, তখন লোকেরা বলেছিল, এ লোক জান্নাতী। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! কোন লোকের পক্ষে এমন কথা বলা উচিত নয়, যা সে জানে না। আসল ব্যাপারটি আমি তোমাকে পুরোপুরি বলছি, লোকেরা আমার সম্পর্কে এমন ধারণা কেন করে।
নবী (সা.) -এর সময়ে আমি একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম এবং তা নবী (সা.) -এর কাছে বর্ণনা করলাম। আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি যেন একটি বাগানের মাঝে। এই বলে তিনি ঐ বাগানের বিশালতা ও তার সবুজ-শ্যামল শোভা-দৃশ্যের কথা উল্লেখ করলেন। অতঃপর বললেন, বাগানের মধ্যভাগে ছিল লোহার একটি খুঁটি। খুঁটিটির নিম্নাংশ মাটিতে এবং তার উপরের অংশ আকাশ পর্যন্ত। সে খুঁটিটির উপরের প্রান্তে রয়েছে একটি হাতল। আমাকে বলা হলো, এ খুঁটিতে আরোহণ কর আর আমি আরোহন করতে লাগলাম। অবশেষে খুঁটিটির উপরের প্রান্তে পৌছে আমি হাতলটি ধরে ফেললাম। তখন আমাকে বলা হলো, শক্তভাবে ধরে রাখ। অতঃপর ঐ কড়াটি আমার হাতে ধরা অবস্থায় আমি ঘুম হতে জেগে উঠলাম।
তারপর আমি নবী (সা.) -এর কাছে এ স্বপ্নের কথা উল্লেখ করলে তিনি (তার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে) বললেন, ঐ বাগানটি হলো ’ইসলাম’, ঐ খুঁটিটি হলো ইসলামের খুঁটি, আর ঐ হাতলটি হলো ইসলামের সুদৃঢ় কড়া। অতএব তুমি মৃত্যু অবধি ইসলামের উপর অটল থাকবে। (রাবী বলেন,) আর ঐ লোকটি ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3813) و مسلم (148/ 2484)
عَن أَنَسٍ قَالَ: كَانَ ثَابِتُ بْنُ قَيْسِ بْنِ شماس خطيب الْأَنْصَار فَلَمَّا نزلت هَذِه الْآيَة: [يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوق صَوت النَّبِي] إِلَى آخِرِ الْآيَةِ جَلَسَ ثَابِتٌ فِي بَيْتِهِ وَاحْتَبَسَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَعْدَ بْنَ مُعَاذٍ فَقَالَ: «مَا شَأْنُ ثَابِتٍ أَيَشْتَكِي؟» فَأَتَاهُ سَعْدٌ فَذَكَرَ لَهُ قَوْلُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ ثَابِتٌ: أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ وَلَقَدْ عَلِمْتُمْ أَنِّي مِنْ أَرْفَعِكُمْ صَوْتًا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَنَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَذَكَرَ ذَلِكَ سَعْدٌ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَلْ هُوَ من أهل الْجنَّة» . رَوَاهُ مُسلم
৬২১১-[১৬] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাবিত ইবনু কায়স ইবনু শাম্মাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলেন আনসারদের মুখপাত্র। যখন আল্লাহর বাণী, "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কণ্ঠস্বরকে নবীর কণ্ঠস্বরের উপরের উঁচু করো না"- (সূরাহ্ আল হুজুরাত ৪৯ : ২); অবতীর্ণ হলো, তখন সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) স্বীয় গৃহের মধ্যে বসে রইলেন এবং নবী (সা.)-এর কাছে যাওয়া-আসা বন্ধ করে দিলেন। নবী (সা.) সা’দ ইবনু মু’আয (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে সাবিত সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন, সাবিত-এর কি হয়েছে, সে কি অসুস্থ? অতঃপর সা’দ তাঁর কাছে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কথাটিও তাঁর কাছে বললেন। উত্তরে সাবিত বললেন, এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে, আর তোমরা জান যে, তোমাদের মধ্যে আমার কণ্ঠস্বর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আওয়াজ হতে উঁচু। অতএব আমি তো জাহান্নামী হয়ে গিয়েছি। অতঃপর সা’দ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে সাবিত-এর অনুপস্থিতির ব্যাপারটি জানালে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আরে না, সে তো জান্নাতী। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (188، 187 / 219)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ نَزَلَتْ سُورَةُ الْجُمُعَةِ فَلَمَّا نَزَلَتْ [وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يلْحقُوا بهم] قَالُوا: مَنْ هَؤُلَاءِ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: وَفِينَا سَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ قَالَ: فَوَضَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ عَلَى سَلْمَانَ ثُمَّ قَالَ: «لَوْ كَانَ الْإِيمَانُ عِنْدَ الثُّرَيَّا لَنَالَهُ رجالٌ من هَؤُلَاءِ» . مُتَّفق عَلَيْهِ
৬২১২-[১৭] আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (সা.)-এর নিকট বসা ছিলাম, ঠিক এমন সময় সূরাহ্ আল জুমু’আহ্ অবতীর্ণ হলো। (উক্ত সূরার মধ্যে) যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (وَّ اٰخَرِیۡنَ مِنۡهُمۡ لَمَّا یَلۡحَقُوۡا بِهِمۡ) "আর তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি"- (সূরাহ আল জুমু’আহ্ ৬২: ৩)। তখন লোকেরা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? বর্ণনাকারী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] বলেন, সে সময় আমাদের মাঝে সালমান ফারসী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, তখন নবী (সা.) সালমান ফারসী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দেহে হাত রেখে বললেন, যদি ঈমান ধ্রুব তারকার কাছেও থাকে, এ সকল লোকেদের কতিপয় লোক নিশ্চয় তথা হতে তাকে অর্জন করবে। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (4897) و مسلم (231/ 2546)
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ حَبِّبْ عُبَيْدَكَ هَذَا» يَعْنِي أَبَا هُرَيْرَةَ «وَأُمَّهُ إِلَى عِبَادِكَ الْمُؤْمِنِينَ وَحَبِّبْ إِليهم الْمُؤمنِينَ» . رَوَاهُ مُسلم
৬২১৩-[১৮] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) (দু’আয়) বললেন, হে আল্লাহ! তোমার নগণ্য এই বান্দা আবূ হুরায়রাকে এবং তার মাতাকে সকল ঈমানদারদের জন্য প্রিয়তর বানিয়ে দাও। আর সকল ঈমানদারদেরকেও এদের কাছে প্রিয়তর বানিয়ে দাও।’ (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (158/ 2491)
وَعَن عَائِذ بن عَمْرو أَن أَبَا سُفْيَان أَتَى عَلَى سَلْمَانَ وَصُهَيْبٍ وَبِلَالٍ فِي نَفَرٍ فَقَالُوا: مَا أَخَذَتْ سُيُوفُ اللَّهِ مِنْ عُنُقِ عَدُوِّ اللَّهِ مَأْخَذَهَا. فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَتَقُولُونَ هَذَا لِشَيْخِ قُرَيْشٍ وَسَيِّدِهِمْ؟ فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ: يَا أَبَا بَكْرٍ لَعَلَّكَ أَغْضَبْتَهُمْ لَئِنْ كُنْتَ أَغْضَبْتَهُمْ لَقَدْ أَغْضَبْتَ رَبَّكَ " فَأَتَاهُمْ فَقَالَ: يَا إِخْوَتَاهْ أَغْضَبْتُكُمْ قَالُوا: لَا يَغْفِرُ اللَّهُ لَكَ يَا أَخِي. رَوَاهُ مُسلم
৬২১৪-[১৯] ’আয়িয ইবনু ’আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। একদিন আবূ সুফইয়ান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), সালমান, সুহায়ব ও বিলাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রমুখের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলেন। এ সময় তাঁরা বললেন, আল্লাহর তলোয়ার কি এখনো আল্লাহর এ শত্রুর ঘাড়টি উড়িয়ে দেইনি? তখন আবূ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সিদ্দীক বললেন, তোমরা কি কুরায়শদের দলপতি এবং তাদের নেতা সম্পর্কে এরূপ উক্তি করছ? অতঃপর তিনি নবী (সা.) -এর কাছে এসে তাঁকেও অবগত করলেন। তাঁর কথা শুনে নবী (সা.) বললেন, হে আবূ বকর! তুমি সম্ভবত তাদের মনে দুঃখ দিয়েছ। তাদের মনে যদি তুমি দুঃখ দিয়ে থাক, তাহলে নিশ্চয় তুমি তোমার প্রভুকে অসন্তুষ্ট করেছ। এ কথা শুনে আবূ বকর সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সালমান ও তাঁর সঙ্গীদের কাছে এসে বললেন, হে আমার ভাইসব! আমি তোমাদের মনে ব্যথা দিয়েছি। জবাবে তারা বললেন, হে আমাদের ভাই! আমাদের মনে কোন দুঃখ-ব্যথা নেই। আল্লাহ তা’আলা আপনাকে ক্ষমা করুন। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (170/ 2504)