হাদীস বিএন


মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল





মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (61)


61 - حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلالٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُطَرِّفِ بْنِ الشِّخِّيرِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: كُنَّا عِنْدَ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فِي عَمَلِهِ، فَغَضِبَ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَاشْتَدَّ غَضَبُهُ عَلَيْهِ جِدًّا، فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ قُلْتُ: يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللهِ أَضْرِبُ عُنُقَهُ، فَلَمَّا ذَكَرْتُ الْقَتْلَ صَرَفَ عَنْ ذَلِكَ الْحَدِيثِ أَجْمَعَ إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنَ النَّحْوِ، فَلَمَّا تَفَرَّقْنَا أَرْسَلَ إِلَيَّ بَعْدَ ذَلِكَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، فَقَالَ: يَا أَبَا بَرْزَةَ مَا قُلْتَ؟ قَالَ: وَنَسِيتُ الَّذِي قُلْتُ، قُلْتُ: ذَكِّرْنِيهِ، قَالَ: أَمَا تَذْكُرُ مَا قُلْتَ؟ قَالَ: قُلْتُ: لَا وَاللهِ. قَالَ: أَرَأَيْتَ حِينَ رَأَيْتَنِي غَضِبْتُ عَلَى الرَّجُلِ فَقُلْتَ: أَضْرِبُ عُنُقَهُ يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللهِ؟ أَمَا تَذْكُرُ ذَاكَ؟ أَوَ كُنْتَ فَاعِلًا ذَاكَ؟ قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ وَاللهِ، وَالْآنَ إِنْ أَمَرْتَنِي فَعَلْتُ. قَالَ: وَيْحَكَ - أَوْ: وَيْلَكَ - إِنَّ تِلْكَ وَاللهِ مَا هِيَ لِأَحَدٍ بَعْدَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده قوي ]




আবু বারযা আসলামী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমরা আবু বাকর আস সিদ্দিকের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একটা কাজ উপলক্ষে তাঁর কাছে ছিলাম। তিনি মুসলিমদের এক ব্যক্তির ওপর রাগান্বিত হলেন। ঐ ব্যক্তির ওপর তার রাগ ভীষণ আকার ধারণ করলো। আমি তা দেখে বললামঃ হে রাসূলুল্লাহর খলীফা, আমি কি ঐ লোকটাকে হত্যা করবো? আমি হত্যা শব্দটা উচ্চারণ করা মাত্রই তিনি আলোচনার বিষয়টি পাল্টে ফেললেন এবং অন্য বিষয়ে যথা ব্যাকরণ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে মনোনিবেশ করলেন। এরপর আমরা যখন পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজ নিজ কাজে চলে গেলাম, আবু বাকর আস সিদ্দিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেনঃ ওহে আবু বারযা, তুমি কি বলেছিলে?

আবু বারযা বললোঃ “আমি কী বলেছিলাম ভুলে গেছি। আপনি মনে করিয়ে দিন।” তিনি বললেনঃ তুমি কী বলেছিলে, তা তোমার মনে নেই? আমি বললামঃ আল্লাহর কসম! মনে নেই। তিনি বললেনঃ তুমি যখন দেখলে, আমি লোকটির ওপর রেগে গেছি, তখন তুমি বললেঃ হে রাসূলুল্লাহর খলীফা, আমি কি লোকটাকে হত্যা করবো? এটা কি তোমার মনে পড়ে না? তুমি কি সত্যই হত্যা করতে চেয়েছিলে? আমি বললামঃ আল্লাহর কসম, হ্যাঁ। এখনও যদি আপনি হুকুম দেন, করবো। তিনি বললেনঃ ধিক তোমাকে। আল্লাহর কসম, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আর কারো এরূপ করার অধিকার নেই। (দেখুন, হাদীস নং ৫৪)









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (62)


62 - حَدَّثَنَا عَفَّانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَتِيقٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: إِنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ، مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ " .

تحقيق الحافظ جلال الدين السيوطي: [رمز له بالصحة.] {الجامع الصغير (4832).}




আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাঁত মাজা মুখ পবিত্র করে ও আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (63)


63 - حَدَّثَنَا عَفَّانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ عَاصِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللهِ، قُلْ لِي شَيْئًا أَقُولُهُ إِذَا أَصْبَحْتُ وَإِذَا أَمْسَيْتُ، قَالَ: " قُلِ: اللهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، فَاطِرَ السَّمَاواتِ وَالْأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ ". وَأَمَرَهُ أَنْ يَقُولَهُ إِذَا أَصْبَحَ وَإِذَا أَمْسَى، وَإِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح ]




আবু হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আবু বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাকে এমন একটা জিনিস শিখিয়ে দিন, যা আমি সকালে সন্ধ্যায় ও শোয়ার সময় বলবো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি বল, হে আল্লাহ, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, অদৃশ্য ও দৃশ্য সব কিছুর সম্বন্ধে জ্ঞাত। অথবা তিনি (এভাবে) বলেছেনঃ হে আল্লাহ, অদৃশ্য ও দৃশ্য সবকিছু সম্পর্কে জ্ঞাত, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। প্রতিটি জিনিসের প্রভু ও মালিক, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আমি আমার নফসের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানের অনিষ্ট ও তার ধোকাবাজির জাল থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (64)


64 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ الْجُمَحِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ: قِيلَ لِأَبِي بَكْرٍ: يَا خَلِيفَةَ اللهِ. قال: فَقَالَ: بَلْ خَلِيفَةُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَنَا أَرْضَى بِهِ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده ضعيف لانقطاعه ]




ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণিত। আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলা হলো, হে আল্লাহর খলীফা! আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খলীফা এবং আমি এতেই সন্তুষ্ট।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (65)


65 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُؤَمَّلِ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ: كَانَ رُبَّمَا سَقَطَ الْخِطَامُ مِنْ يَدِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: فَيَضْرِبُ بِذِرَاعِ نَاقَتِهِ فَيُنِيخُهَا فَيَأْخُذُهُ، قَالَ: فَقَالُوا لَهُ: أَفَلا أَمَرْتَنَا نُنَاوِلْكَهُ؟ فَقَالَ: إِنَّ حِبِّي رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَنِي أَنْ لَا أَسْأَلَ النَّاسَ شَيْئًا .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ حسن لغيره وهذا اسناد ضعيف ]




ইবনে আবি মুলাইকা বলেন, কখনো কখনো আবু বাকর আস্ সিদ্দিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর হাত থেকে লাগাম পড়ে যেত। তখন তিনি তাঁর উটনীর উরুতে আঘাত করতেন, আঘাত করে উটনীকে মাটিতে বসাতেন, তারপর লাগামটি তুলে নিতেন। একবার লোকেরা তাকে বললোঃ আপনি আমাদেরকে আদেশ করলেই তো পারতেন, আমরা আপনাকে লাগাম তুলে দিতাম। তিনি জবাব দিলেনঃ আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ করেছেন যেন, মানুষের কাছে কিছু না চাই।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (66)


66 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ - عَنْ أَبِي بَكْرٍ - قَالَ: قَامَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَامٍ، فَقَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ أوَّلَ، فَقَالَ: " إِنَّ ابْنَ آدَمَ لَمْ يُعْطَ شَيْئًا أَفْضَلَ مِنَ الْعَافِيَةِ، فَاسْأَلُوا اللهَ الْعَافِيَةَ، وَعَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ وَالْبِرِّ فَإِنَّهُمَا فِي الْجَنَّةِ، وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ وَالْفُجُورَ فَإِنَّهُمَا فِي النَّارِ " .

تحقيق الحافظ جلال الدين السيوطي: [رمز له بالصحة.] {الجامع الصغير (4700).}




আবু উবাইদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবু বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের এক বছর পর আবু বাকর একদিন ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গত বছর আমাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে ভাষণে বলেছিলেন যে, আল্লাহ আদম সন্তানকে সুস্থতা ও নিরাপত্তার চেয়ে উত্তম কিছু দেননি। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কাছে সুস্থতা ও নিরাপত্তা চাও। আর তোমরা সত্যবাদিতা ও সততাকে আঁকড়ে ধর। কেননা এ দুটো জিনিস জান্নাতে (নিয়ে যায়)। আর মিথ্যাচার ও পাপাচারকে পরিত্যাগ কর। কেননা এ দুটো জাহান্নামে (নিয়ে যায়)। (৫ নং হাদীস দ্রষ্টব্য)









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (67)


67 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللهِ ". قَالَ: فَلَمَّا كَانَتِ الرِّدَّةُ قَالَ عُمَرُ لِأَبِي بَكْرٍ: تُقَاتِلُهُمْ، وَقَدْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ كَذَا وَكَذَا؟ قَالَ: فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: وَاللهِ لَا أُفَرِّقُ بَيْنَ الصَّلاةِ وَالزَّكَاةِ، وَلَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَهُمَا. قَالَ: فَقَاتَلْنَا مَعَهُ، فَرَأَيْنَا ذَلِكَ رَشَدًا .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ حديث صحيح ]




আবু হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বৰ্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যতক্ষণ আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই বলে ঘোষণা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে লড়াই চালিয়ে যেতে আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে। যখন তারা এ ঘোষণা করবে, তখন তারা আমার কাছ থেকে তাদের ধন ও প্রাণ রক্ষা করতে পারবে। তবে কোন বিশেষ কারণে ধন ও প্রাণে কারো প্রাপ্য থাকলে সে কথা স্বতন্ত্র। তাদের হিসাব নিকাশ নেয়ার দায়িত্ব একমাত্র আল্লাহর। পরবর্তীকালে যখন ইসলাম পরিত্যাগের হিড়িক পড়লো (এবং কিছু লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করলো, আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন) তখন উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বললেনঃ আপনি ওদের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন, অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ এরূপ বলতে শুনেছি।

(উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরোক্ত উক্তির বরাত দিয়ে বলতে চাইছিলেন যে, লোকেরা এখনো ইসলামকে পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে উদ্যত হয়নি, কেবল কিছু লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করেছেমাত্র। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখিত উক্তির আলোকে এখনই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময় সমাগত হয়নি। -অনুবাদক) আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবো না। (অর্থাৎ নামাযের মত যাকাত ত্যাগ করাও ইসলাম ত্যাগের সমার্থক) যারা এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো। আবু হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এরপর আমরা আবু বকরের সাথে (যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ করেছি এবং এটিকে সঠিক মনে করেছি।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (68)


68 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي زُهَيْرٍ، قَالَ: أُخْبِرْتُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ الصَّلاحُ بَعْدَ هَذِهِ الْآيَةِ:{لَيْسَ بِأَمَانِيِّكُمْ وَلَا أَمَانِيِّ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ} [النساء: 123] فَكُلُّ سُوءٍ عَمِلْنَا جُزِينَا بِهِ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " غَفَرَ اللهُ لَكَ يَا أَبَا بَكْرٍ، أَلَسْتَ تَمْرَضُ؟ أَلَسْتَ تَنْصَبُ؟ أَلَسْتَ تَحْزَنُ؟ أَلَسْتَ تُصِيبُكَ اللَّأْوَاءُ؟ " قَالَ: بَلَى. قَالَ: " فَهُوَ مَا تُجْزَوْنَ بِهِ " .

تحقيق الحافظ زين الدين العراقي: [أخرجه أحمد من رواية من لم يسم عن أبي بكر، ورواه الترمذي من وجه آخر بلفظ آخر وضعفه، قال: وليس له إسناد صحيح، وقال الدارقطني: وروي أيضا من حديث عمر، ومن حديث الزبير قال: وليس فيها شيء يثبت.] {المغني (3771).}




আবু বাকর বিন আবু যুহাইর বর্ণনা করেন যে, আমি জানতে পেরেছি যে, আবু বাকর আস সিদ্দিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহতো বলেছেনঃ “তোমাদের এবং আহলে কিতাবদের লম্বা লম্বা আশা আকাঙ্ক্ষা কোন কাজে আসবে না। যে-ই খারাপ কাজ করবে, সে-ই তার প্রতিফল ভোগ করবে।” (সূরা আন নিসা-১২৩) এ আয়াতের পর আর আত্মশুদ্ধির উপায় কী থাকে? এ দ্বারা তো বুঝা যায়, যে কোন খারাপ কাজই আমরা করবো, তার শাস্তি আমাদের ভোগ করতেই হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবু বাকর, আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। আচ্ছা, তোমার কি কখনো রোগ-ব্যাধি হয় না? তুমি কি কখনো দুঃখ কষ্ট ভোগ কর না? তুমি কি কখনো দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগে আক্রান্ত হওনা? তুমি কি কখনো পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হও না? আবু বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওটাইতো সেই কৰ্মফল, যা তোমাদেরকে দেয়া হয়।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (69)


69 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي زُهَيْرٍ، أَظُنُّهُ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللهِ، كَيْفَ الصَّلاحُ بَعْدَ هَذِهِ الْآيَةِ؟ قَالَ: " يَرْحَمُكَ اللهُ يَا أَبَا بَكْرٍ، أَلَسْتَ تَمْرَضُ؟ أَلَسْتَ تَحْزَنُ؟ أَلَسْتَ تُصِيبُكَ اللَّأْوَاءُ؟ أَلَسْتَ ... " قَالَ: بَلَى. قَالَ: " فَإِنَّ ذَاكَ بِذَاكَ " .

تحقيق الحافظ زين الدين العراقي: [أخرجه أحمد من رواية من لم يسم عن أبي بكر، ورواه الترمذي من وجه آخر بلفظ آخر وضعفه، قال: وليس له إسناد صحيح، وقال الدارقطني: وروي أيضا من حديث عمر، ومن حديث الزبير قال: وليس فيها شيء يثبت.] {المغني (3771).}




আবু বাকর বিন আবু যুহাইর বলেন, আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ, এ আয়াতের পর সংশোধনের উপায় কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবু বাকর, আল্লাহ তোমার ওপর দয়া করুন, তুমি কি রোগাক্রান্ত হওনা? তুমি কি দুশ্চিন্তা ভোগ কর না? তুমি কি পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হওনা? তুমি কি..? আবু বাকর বললেনঃ হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে এটা তো। ওটারই বিনিময়ে। (অর্থাৎ গুনাহর শাস্তি) (দেখুন, হাদীস নং ৬৮)।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (70)


70 - حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الثَّقَفِيِّ، قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللهِ، كَيْفَ الصَّلاحُ بَعْدَ هَذِهِ الْآيَةِ:{مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ} ؟ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ .

تحقيق الحافظ زين الدين العراقي: [أخرجه أحمد من رواية من لم يسم عن أبي بكر، ورواه الترمذي من وجه آخر بلفظ آخر وضعفه، قال: وليس له إسناد صحيح، وقال الدارقطني: وروي أيضا من حديث عمر، ومن حديث الزبير قال: وليس فيها شيء يثبت.] {المغني (3771).}




৬৮ ও ৬৯ নং হাদীস দ্রষ্টব্য। [দেখুন পূর্বের হাদিস]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (71)


71 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي زُهَيْرٍ الثَّقَفِيِّ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ:{لَيْسَ بِأَمَانِيِّكُمْ وَلَا أَمَانِيِّ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ} قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّا لَنُجَازَى بِكُلِّ سُوءٍ نَعْمَلُهُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " يَرْحَمُكَ اللهُ يَا أَبَا بَكْرٍ، أَلَسْتَ تَنْصَبُ؟ أَلَسْتَ تَحْزَنُ؟ أَلَسْتَ تُصِيبُكَ اللَّأْوَاءُ؟ فَهَذَا مَا تُجْزَوْنَ بِهِ " .

تحقيق الحافظ زين الدين العراقي: [أخرجه أحمد من رواية من لم يسم عن أبي بكر، ورواه الترمذي من وجه آخر بلفظ آخر وضعفه، قال: وليس له إسناد صحيح، وقال الدارقطني: وروي أيضا من حديث عمر، ومن حديث الزبير قال: وليس فيها شيء يثبت.] {المغني (3771).}




আবু বাকর বিন আবু যুহাইর বর্ণনা করেন যে, আমি জানতে পেরেছি যে, আবু বাকর আস সিদ্দিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহতো বলেছেনঃ “তোমাদের এবং আহলে কিতাবদের লম্বা লম্বা আশা আকাঙ্ক্ষা কোন কাজে আসবে না। যে-ই খারাপ কাজ করবে, সে-ই তার প্রতিফল ভোগ করবে।” (সূরা আন নিসা-১২৩) এ আয়াতের পর আর আত্মশুদ্ধির উপায় কী থাকে? এ দ্বারা তো বুঝা যায়, যে কোন খারাপ কাজই আমরা করবো, তার শাস্তি আমাদের ভোগ করতেই হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবু বাকর, আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। আচ্ছা, তোমার কি কখনো রোগ-ব্যাধি হয় না? তুমি কি কখনো দুঃখ কষ্ট ভোগ কর না? তুমি কি কখনো দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগে আক্রান্ত হওনা? তুমি কি কখনো পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হও না? আবু বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওটাইতো সেই কৰ্মফল, যা তোমাদেরকে দেয়া হয়।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (72)


72 - حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: أَخَذْتُ هَذَا الْكِتَابَ مِنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: أَنَّ أَبَا بَكْرٍ كَتَبَ لَهُمْ: إِنَّ هَذِهِ فَرَائِضُ الصَّدَقَةِ الَّتِي فَرَضَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ، الَّتِي أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ بِهَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمَنْ سُئِلَهَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَلَى وَجْهِهَا فَلْيُعْطِهَا، وَمَنْ سُئِلَ فَوْقَ ذَلِكَ فَلا يُعْطِهِ: " فِيمَا دُونَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ مِنَ الْإِبِلِ فَفِي كُلِّ خَمْسِ ذَوْدٍ شَاةٌ، فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ فَفِيهَا ابْنَةُ مَخَاضٍ إِلَى خَمْسٍ وَثَلاثِينَ، فَإِنْ لَمْ تَكُنِ ابْنَةُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتَّةً وَثَلاثِينَ فَفِيهَا ابْنَةُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتَّةً وَأَرْبَعِينَ فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْفَحْلِ إِلَى سِتِّينَ، فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَسِتِّينَ فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتَّةً وَسَبْعِينَ فَفِيهَا بِنْتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ، فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْفَحْلِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ، فَإِنْ زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ، وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ، فَإِذَا تَبَايَنَ أَسْنَانُ الْإِبِلِ فِي فَرَائِضِ الصَّدَقَاتِ، فَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْجَذَعَةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ جَذَعَةٌ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ، وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ، أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا. وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلَّا جَذَعَةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ، وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ، وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ وَعِنْدَهُ بِنْتُ لَبُونٍ، فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ، وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ، أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا. وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ لَبُونٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلَّا حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ، وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ، وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ لَبُونٍ، وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ ابْنَةُ لَبُونٍ، وَعِنْدَهُ ابْنَةُ مَخَاضٍ، فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ، وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ، أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا. وَمَنْ بَلَغَتْ صَدَقَتُهُ بِنْتَ مَخَاضٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلَّا ابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِنَّهُ يُقْبَلُ مِنْهُ وَلَيْسَ مَعَهُ شَيْءٌ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ إِلَّا أَرْبَعٌ مِنَ الْإِبِلِ، فَلَيْسَ فِيهَا شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا. وَفِي صَدَقَةِ الْغَنَمِ فِي سَائِمَتِهَا إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ، فَفِيهَا شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ، فَإِِذا زَادَتْ فَفِيهَا شَاتَانِ إِلَى مِائَتَيْنِ، فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةٌ، فَفِيهَا ثَلاثُ شِيَاهٍ إِلَى ثَلاثِ مِائَةٍ، فَإِذَا زَادَتْ، فَفِي كُلِّ مِائَةٍ شَاةٌ، وَلا تُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلا ذَاتُ عَوَارٍ وَلا تَيْسٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ الْمُتَصَدِّقُ، وَلا يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ، وَلا يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ، وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ، وَإِذَا كَانَتْ سَائِمَةُ الرَّجُلِ نَاقِصَةً مِنْ أَرْبَعِينَ شَاةً وَاحِدَةً، فَلَيْسَ فِيهَا شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا. وَفِي الرِّقَةِ رُبْعُ الْعُشْرِ، فَإِذَا لَمْ يَكُنِ الْمَالُ إِلَّا تِسْعِينَ وَمِائَةَ دِرْهَمٍ فَلَيْسَ فِيهَا شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح ]




আনাস বিন মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাদের জন্য লেখেনঃ এগুলো হচ্ছে ফরয সাদাকা, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের ওপর ফারয করেছেন, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তা’আলা এর জন্য আদেশ দিয়েছেন। যে ব্যক্তি মুসলিমদের কাছ থেকে এগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণে চাইবে, তাকে যেন তা দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি এর চেয়ে বেশি চাইবে, তাকে যেন না দেয়া হয়। পঁচিশটির কম উটে যাকাতের হার এরূপ, প্রত্যেক পাঁচটি চরণশীল উটে দিতে হবে একটি ছাগল। যখন উটের সংখ্যা ২৫-এ পৌছবে, তখন একটি বিনতুল মাখায (এক বছর বয়স্কা উটনী) দিতে হবে ৩৫টি পর্যন্ত। বিনতুল মাখায না থাকলে একটি ইবনুল লাবুন (দু’বছর বয়স্ক পুরুষ উট) দিতে হবে। যখন ৩৬-এ পৌছবে, তখন ৪৫ পর্যন্ত একটি বিনতে লাবুন (দু’বছর বয়স্কা উটনী) দিতে হবে। যখন ৪৬-এ পৌছবে, ৪৬ থেকে ৬০ পর্যন্ত দিতে হবে একটি হিক্কা অর্থাৎ গর্ভধারণের যোগ্য তিন বছর পূর্ণ হওয়া উটনী। যখন উটের সংখ্যা ৬১ তে পৌছবে। তখন ৬১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত দিতে হবে একটি জাযা’য়া তথা চার বছর পূর্ণ হওয়া উটনী। যখন উটের সংখ্যা ৭৬ হবে, তখন ৯০ পর্যন্ত দু’বছর পূর্ণ হওয়া দুটি উটনী (বিনতে লাবুন) দিতে হবে। যখন ৯১ তে পৌছবে, তখন ১২০ পর্যন্ত দিতে হবে দুটো হিক্কা। ১২০ এর ওপরে প্রত্যেক ৪০ টিতে একটি করে বিনতে লাবুন এবং প্রত্যেক ৫০ টিতে একটি করে হিক্কা দিতে হবে।

সাদাকার ফরয হওয়া অংশ দিতে গিয়ে যখন উটের বয়সে গরমিল পাওয়া যায়, তখন জাযা’য়া ফরয হওয়া সত্ত্বেও যদি জাযা’য়া না থাকে এবং হিক্কা থাকে, তাহলে হিক্কাই গ্রহণ করা হবে, তবে সেই সাথে সম্ভব হলে দুটো ছাগল অথবা বিশ দিরহাম দিতে হবে। আর যার ওপর হিক্কা ফরয হয়, কিন্তু তার কাছে হিক্কা নেই, জাযা’য়া আছে, তার কাছ থেকে জাযা’য়াই গ্রহণ করা হবে এবং সাদাকা আদায়কারী তাকে ২০ দিরহাম অথবা দুটো ছাগল দেবে। আর যার ওপর হিক্কা ফরয হয় কিন্তু তার কাছে হিক্কা নেই, বিনতে লাবুন আছে,তার কাছ থেকে বিনতে লাবুন গ্রহণ করা হবে। তবে সেই সাথে সম্ভব হলে দুটো ছাগল কিংবা বিশ দিরহাম দিতে হবে। আর যার ওপর বিনতে লাবুন ফরয হবে, কিন্তু তার কাছে হিক্কা ছাড়া কিছু নেই। তার কাছ থেকে হিক্কা গ্রহণ করা হবে, তবে সাদাকা আদায়কারী তাকে বিশ দিরহাম অথবা দুটো ছাগল দেবে। আর যার ওপর একটি বিনতে লাবুন ফরয হবে, কিন্তু তার কাছে বিনতে লাবুন নেই, বিনতে মাখায (এক বছর পূর্ণ হওয়া উটনী) আছে, তার কাছ থেকে বিনতে মাখায গ্রহণ করা হবে, তবে সে সেই সাথে সম্ভব হলে দুটো ছাগল অথবা বিশ দিরহাম দেবে। আর যার ওপর একটা বিনতে মাখায ফারয হয়, কিন্তু তার কাছে একটা পুরুষ ইবনে লাবুন ছাড়া কিছু নেই, তার কাছ থেকে ইবনে লাবুন গ্রহণ করা হবে এবং তার সাথে আর কিছু দিতে হবে না। আর যার কাছে মাত্র চারটি উট আছে, তার ওপর কোন যাকাত ফরয নয়। তবে তার মালিক ইচ্ছে করলে কিছু দিতে পারে।

ছাগলের যাকাত শুধু বিচরণরত ছাগলের ওপরই প্রযোজ্য। বিচরণরত ছাগলের সংখ্যা চল্লিশ হলে ১২০ পর্যন্ত একটা ছাগল দিতে হবে। এর চেয়ে বেশি হলে ২০০ পর্যন্ত দুটো ছাগল দিতে হবে। এর ওপর একটা বেশি হলেও তিনশো পর্যন্ত তিনটে ছাগল দিতে হবে। আরো বেশি হলে প্রত্যেক একশোতে একটি করে ছাগল দিতে হবে। অত্যধিক বুড়ো ও দৈহিক ত্রুটিযুক্ত ছাগল ও পাঠা গ্রহণ করা হবে না।

তবে আদায়কারী যদি নিতে চায়, তবে নিতে পারে। যাকাত দেয়ার ভয়ে বিচ্ছিন্ন পশুকে একত্র করা বা একত্রিত পশুকে বিচ্ছিন্ন করা চলবে না। আর যে পশু দুই শরীকের মালিকানাধীন হবে, সে পশুর যাকাত উভয় শরীক সমানভাবে পরস্পরের মধ্যে ধাৰ্য করবে। আর যখন কোন ব্যক্তির বিচরণশীল ছাগল চল্লিশটির চেয়ে একটি কম হবে, তখন তাতে কোন যাকাত দিতে হবে না। তবে ছাগলের মালিক ইচ্ছা করলে কিছু (নফল সাদাকা হিসাবে) দিতে পারবে।

রূপার মধ্যে চল্লিশ ভাগের এক ভাগ দিতে হয়। যদি রূপা একশো নব্বই দিরহামের বেশি না হয়, তাহলে তাতে কোন যাকাত দিতে হবেনা। তবে যদি মালিক ইচ্ছা করে (নফল হিসাবে) কিছু দিতে পারে।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (73)


73 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَهْلُ مَكَّةَ يَقُولُونَ: أَخَذَ ابْنُ جُرَيْجٍ الصَّلاةَ مِنْ عَطَاءٍ، وَأَخَذَهَا عَطَاءٌ مِنَ ابْنِ الزُّبَيْرِ، وَأَخَذَهَا ابْنُ الزُّبَيْرِ مِنْ أَبِي بَكْرٍ، وَأَخَذَهَا أَبُو بَكْرٍ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَحْسَنَ صَلاةً مِنَ ابْنِ جُرَيْجٍ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




আবদুর রাযযাক বলেছেন, মক্কাবাসী বলেনঃ ইবনে জুরাইজ নামায শিখেছেন আতা থেকে, আতা শিখেছেন ইবনে যুবাইর থেকে, ইবনে যুবাইর শিখেছেন আবু বাকর থেকে আর আবু বাকর শিখেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। ইবনে জুরাইজের চেয়ে উত্তম নামায আদায়কারী আর কাউকে আমি দেখিনি।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (74)


74 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ، قَالَ: تَأَيَّمَتْ حَفْصَةُ بِنْتُ عُمَرَ مِنْ خُنَيْسِ بْنِ حُذَافَةَ أَوْ حُذَيْفَةَ - شَكَّ عَبْدُ الرَّزَّاقِ - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا، فَتُوُفِّيَ بِالْمَدِينَةِ، قَالَ: فَلَقِيتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ حَفْصَةَ، فَقُلْتُ: إِنْ شِئْتَ أَنْكَحْتُكَ حَفْصَةَ، قَالَ: سَأَنْظُرُ فِي ذَلِكَ، فَلَبِثْتُ لَيَالِيَ، فَلَقِيَنِي، فَقَالَ: مَا أُرِيدُ أَنْ أَتَزَوَّجَ يَوْمِي هَذَا، قَالَ عُمَرُ: فَلَقِيتُ أَبَا بَكْرٍ، فَقُلْتُ: إِنْ شِئْتَ أَنْكَحْتُكَ حَفْصَةَ ابْنَةَ عُمَرَ، فَلَمْ يَرْجِعْ إِلَيَّ شَيْئًا، فَكُنْتُ أَوْجَدَ عَلَيْهِ مِنِّي عَلَى عُثْمَانَ، فَلَبِثْتُ لَيَالِيَ، فَخَطَبَهَا إِلَيَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَنْكَحْتُهَا إِيَّاهُ، فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ: لَعَلَّكَ وَجَدْتَ عَلَيَّ حِينَ عَرَضْتَ عَلَيَّ حَفْصَةَ فَلَمْ أَرْجِعْ إِلَيْكَ شَيْئًا؟ قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: فَإِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرْجِعَ إِلَيْكَ شَيْئًا حِينَ عَرَضْتَهَا عَلَيَّ إِلَّا أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْكُرُهَا، وَلَمْ أَكُنْ لِأُفْشِيَ سِرَّ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَوْ تَرَكَهَا نَكَحْتُهَا .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, হাফসা বিনতে উমার হুযাফা বা হুযাইফার ছেলে খুনাইস থেকে বিধবা হয়। খুনাইস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী ছিলেন। তিনি মদীনায় মারা যান। এরপর আমি উসমান বিন আফফানের সাথে দেখা করলাম এবং তার কাছে হাফসাকে পেশ করলাম। আমি বললাম, আপনি চাইলে আমি আপনার সাথে হাফসার বিয়ে দেই। উসমান বললেন, এ বিষয়ে ভেবে দেখবো। এরপর বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করলাম। তারপর তিনি আমার সাথে দেখা করলেন। বললেন, এখন আমি বিয়ে করতে ইচ্ছুক নই। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ এরপর আমি আবু বাকরের সাথে দেখা করলাম। তাঁকে বললামঃ আপনি যদি ইচ্ছা করেন, হাফসা বিনতে উমারকে আপনার সাথে বিয়ে দেই। তিনি আমাকে কোন জবাবই দিলেন না। এতে তার ওপর আমার উসমানের চেয়ে বেশি রাগ হলো।

এরপর বেশ কিছু দিন অপেক্ষা করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট হাফসাকে বিয়ে করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে প্রস্তাব পাঠালেন। ফলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হাফসাকে বিয়ে দিলাম। এরপর আবু বাকর আমার সাথে দেখা করে বললেনঃ আপনি আমাকে হাফসার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি আপনাকে কোন জবাব দেইনি। এতে আপনি হয়তো আমার ওপর রাগ করেছেন। আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেন, আপনি যখন আমার কাছে তার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তখন তার জবাব দিতে না পারার একমাত্র কারণ ছিল এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাফসার কথা বলতে শুনেছি। কিন্তু আমি রাসূলের গোপনীয়তা ফাঁস করতে প্রস্তুত ছিলাম না। তিনি যদি তাকে বিয়ে না করতেন, তাহলে আমি করতাম।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (75)


75 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ الْمُغِيرَةَ بْنَ مُسْلِمٍ أَبَا سَلَمَةَ، عَنْ فَرْقَدٍ السَّبَخِيِّ، عَنْ مُرَّةَ الطَّيِّبِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ سَيِّئُ الْمَلَكَةِ " فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَلَيْسَ أَخْبَرْتَنَا أَنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ أَكْثَرُ الْأُمَمِ مَمْلُوكِينَ وَأَيْتَامًا؟ قَالَ: " بَلَى، فَأَكْرِمُوهُمْ كَرَامَةَ أَوْلادِكُمْ، وَأَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ " قَالُوا: فَمَا يَنْفَعُنَا فِي الدُّنْيَا يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: " فَرَسٌ صَالِحٌ تَرْتَبِطُهُ تُقَاتِلُ عَلَيْهِ فِي سَبِيلِ اللهِ، وَمَمْلُوكُك يَكْفِيكَ، فَإِذَا صَلَّى فَهُوَ أَخُوكَ، فَإِذَا صَلَّى فَهُوَ أَخُوكَ " .

تحقيق الحافظ زين الدين العراقي: [أخرجه أحمد مجموعا، والترمذي مفرقا، وابن ماجه مقتصرا على سيء الملكة من حديث أبي بكر، وليس عند أحد منهم: "متكبر"، وزاد أحمد، والترمذي: البخيل والمنان، وهو ضعيف، وحسن الترمذي أحد طريقيه.] {المغني (2072).}




আবু বাকর আস সিদ্দিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুর্ব্যবহারকারী জান্নাতে যাবে না। এক ব্যক্তি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি কি আমাদেরকে বলেননি যে, এই উম্মাতে দাসদাসী ও ইয়াতীমের সংখ্যা অন্যান্য উম্মাতের চেয়ে বেশি হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, সুতরাং তোমরা তাদেরকে তোমাদের সন্তানদের মত সম্মান দাও এবং তোমরা যা খাও, তা তাদেরকে খাওয়াও। লোকেরা বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, দুনিয়ার জীবনে কী কী জিনিস আমাদের উপকার সাধন করে? তিনি বললেন, উত্তম একটি ঘোড়া, যাকে তুমি বেঁধে রাখবে এবং তার ওপর আরোহণ করে আল্লাহর পথে লড়াই করবে এবং একজন দাস বা চাকর, যে তোমার যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ ও তোমার রক্ষণাবেক্ষণ করবে। এই দাস বা চাকর নামায পড়লে তোমার ভাই, নামায পড়লে তোমার ভাই।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (76)


76 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ السَّبَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ: أَنَّ أَبَا بَكْرٍ أَرْسَلَ إِلَيْهِ مَقْتَلَ أَهْلِ الْيَمَامَةِ، فَإِذَا عُمَرُ عِنْدَهُ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: إِنَّ عُمَرَ أَتَانِي، فَقَالَ: إِنَّ الْقَتْلَ قَدِ اسْتَحَرَّ بِأَهْلِ الْيَمَامَةِ مِنْ قُرَّاءِ الْقُرْآنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، وَأَنَا أَخْشَى أَنْ يَسْتَحِرَّ الْقَتْلُ بِالْقُرَّاءِ فِي الْمَوَاطِنِ فَيَذْهَبَ قُرْآنٌ كَثِيرٌ لَا يُوعَى، وَإِنِّي أَرَى أَنْ تَأْمُرَ بِجَمْعِ الْقُرْآنِ، فَقُلْتُ لِعُمَرَ: وَكَيْفَ أَفْعَلُ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ: هُوَ وَاللهِ خَيْرٌ، فَلَمْ يَزَلْ يُرَاجِعُنِي فِي ذَلِكَ حَتَّى شَرَحَ اللهُ بِذَلِكَ صَدْرِي، وَرَأَيْتُ فِيهِ الَّذِي رَأَى عُمَرُ، قَالَ زَيْدٌ: وَعُمَرُ عِنْدَهُ جَالِسٌ لَا يَتَكَلَّمُ. فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: إِنَّكَ شَابٌّ عَاقِلٌ لَا نَتَّهِمُكَ، وَقَدْ كُنْتَ تَكْتُبُ الْوَحْيَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاجْمَعْهُ. قَالَ زَيْدٌ: فَوَاللهِ لَوْ كَلَّفُونِي نَقْلَ جَبَلٍ مِنَ الْجِبَالِ مَا كَانَ بِأَثْقَلَ عَلَيَّ مِمَّا أَمَرَنِي بِهِ مِنْ جَمْعِ الْقُرْآنِ، فَقُلْتُ: كَيْفَ تَفْعَلُونَ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




যায়িদ বিন ছাবিত জানিয়েছেন যে, আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ইয়ামামার শহীদদের নিহত হওয়ার স্থানে তার নিকট দূত পাঠালেন। এর অব্যবহিত পর তাঁর নিকট উমার এলেন। তারপর আবু বাকর বললেন, আমার নিকট উমার এসেছিলেন। তিনি বলেছেন, ইয়ামামাবাসীর লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড মুসলিমদের মধ্য থেকে কুরআন পাঠকদেরকে (হাফিযদেরকে) নিপাত করেছে। আমার আশঙ্কা হয় যে, আরো বহু জায়গায় অনুরূপভাবে কুরআন পাঠকদেরকে হত্যা করা হবে। এতে করে বহু কুরআন চলে যাবে। ফলে আল কুরআন সংরক্ষিত হবে না। আমি মনে করি, আপনার আল কুরআন সংকলনের আদেশ দেয়া উচিত। আমি (আবু বাকর) উমারকে বললামঃ এমন কাজ আমি কিভাবে করবো, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি? উমার বললেনঃ আল্লাহর কসম! এটি একটি মহৎ কাজ। এরপর উমার ক্রমাগত আমার কাছে এসে এ ব্যাপারে তাকিদ দিতে লাগলেন। অবশেষে আল্লাহ এ বিষয়ে আমার বুককে উম্মুক্ত করে দিলেন (কুরআন সংকলনের যৌক্তিকতা উপলব্ধি করালেন) এবং উমার যা সমীচীন মনে করেছেন, আমিও তা সমীচীন বলে উপলব্ধি করলাম।

যায়িদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ এ সময় উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার কাছে নীরবে বসেছিলেন। আবু বাকর আমাকে বললেনঃ তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক। তোমার মধ্যে আমরা আপত্তিকর কিছু পাইনি। তুমি তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ওহী লিপিবদ্ধ করতে। অতএব তুমিই ওহী সংকলন কর। যায়িদ বলেনঃ আল্লাহর কসম! লোকেরা যদি আমাকে একটা পাহাড় স্থানান্তর করার দায়িত্ব অৰ্পণ করতো, তবে তাও আমার নিকট এই কাজের চেয়ে বেশি ভারী মনে হতো না, যার আদেশ তিনি আমাকে দিলেন। অর্থাৎ আল কুরআন সংকলনের। আমি শুধু বললামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেননি, তা আপনারা কিভাবে করছেন?* (হাদীস নং ৫৭ দ্রষ্টব্য)









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (77)


77 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ عُمَيْرٍ مَوْلَى الْعَبَّاسِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ، خَاصَمَ الْعَبَّاسُ عَلِيًّا فِي أَشْيَاءَ تَرَكَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: شَيْءٌ تَرَكَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمْ يُحَرِّكْهُ فَلا أُحَرِّكُهُ. فَلَمَّا اسْتُخْلِفَ عُمَرُ اخْتَصَمَا إِلَيْهِ، فَقَالَ: شَيْءٌ لَمْ يُحَرِّكْهُ أَبُو بَكْرٍ فَلَسْتُ أُحَرِّكُهُ، قَالَ: فَلَمَّا اسْتُخْلِفَ عُثْمَانُ اخْتَصَمَا إِلَيْهِ، قَالَ: فَأَسْكَتَ عُثْمَانُ وَنَكَّسَ رَأْسَهُ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَخَشِيتُ أَنْ يَأْخُذَهُ، فَضَرَبْتُ بِيَدِي بَيْنَ كَتِفَيِ الْعَبَّاسِ، فَقُلْتُ: يَا أَبَتِ ، أَقْسَمْتُ عَلَيْكَ إِلَّا سَلَّمْتَهُ لِعَلِيٍّ، قَالَ: فَسَلَّمَهُ لَهُ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط مسلم ]




ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তিকাল করলেন এবং আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) খালীফা হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেখে যাওয়া কিছু জিনিসের ব্যাপারে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আলীর মুকাবিলায় দাবী তুললেন। (এই দাবী আবু বাকরের নিকট পেশ করা হলে) আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ যে জিনিস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেখে গেছেন এবং হস্তান্তর করেন নি, আমিও তা হস্তান্তর করবো না। এরপর যখন উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) খালীফা হলেন, তখন তারা উভয়ে উমারের নিকট পুনরায় একে অপরের মুকাবিলায় দাবী পেশ করলেন।

উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, যে জিনিস আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হস্তান্তর করেননি, তা আমি হস্তান্তর করবো না। এরপর যখন উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) খালীফা হলেন, তখন তাঁরা উভয়ে তাঁর কাছে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাবী পেশ করলেন। উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নিরুত্তর হয়ে গেলেন এবং মাথা নিচু করলেন। ইবনু আব্বাস বলেনঃ আমি শঙ্কিত হলাম যে, আব্বাসই হয়তো জিনিসটি নিয়ে নেবেন। আমি তৎক্ষণাত আব্বাসের ঘাড়ে হাত রাখলাম এবং বললাম, আব্বা, আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, জিনিসটি আলীর নিকট সোপর্দ করুন। তখন তিনি তা আলীর হাতে সোপর্দ করলেন।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (78)


78 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي شَيْخٌ مِنْ قُرَيْشٍ مِنْ بَنِي تَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي فُلانٌ، وَفُلانٌ، فَعَدَّ سِتَّةً أَوْ سَبْعَةً كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ، فِيهِمْ عَبْدُ اللهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ عُمَرَ إِذْ دَخَلَ عَلِيٌّ وَالْعَبَّاسُ، قَدِ ارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا، فَقَالَ عُمَرُ: مَهْ يَا عَبَّاسُ، قَدْ عَلِمْتُ مَا تَقُولُ، تَقُولُ: ابْنُ أَخِي، وَلِي شَطْرُ الْمَالِ، وَقَدْ عَلِمْتُ مَا تَقُولُ يَا عَلِيُّ، تَقُولُ: ابْنَتُهُ تَحْتِي، وَلَهَا شَطْرُ الْمَالِ، وَهَذَا مَا كَانَ فِي يَدَيْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَدْ رَأَيْنَا كَيْفَ كَانَ يَصْنَعُ فِيهِ، فَوَلِيَهُ أَبُو بَكْرٍ مِنْ بَعْدِهِ، فَعَمِلَ فِيهِ بِعَمَلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ وَلِيتُهُ مِنْ بَعْدِ أَبِي بَكْرٍ فَأَحْلِفُ بِاللهِ لَأَجْهَدَنَّ أَنْ أَعْمَلَ فِيهِ بِعَمَلِ رَسُولِ اللهِ وَعَمَلِ أَبِي بَكْرٍ. ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ - وَحَلَفَ بِاللهِ أَنَّهُ لَصَادِقٌ - أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: " إِنَّ النَّبِيَّ لَا يُورَثُ، وَإِنَّمَا مِيرَاثُهُ فِي فُقَرَاءِ الْمُسْلِمِينَ وَالْمَسَاكِينِ "، وحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ - وَحَلَفَ بِاللهِ إِنَّهُ صَادِقٌ -: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِنَّ النَّبِيَّ لَا يَمُوتُ حَتَّى يَؤُمَّهُ بَعْضُ أُمَّتِهِ ". وَهَذَا مَا كَانَ فِي يَدَيْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَدْ رَأَيْنَا كَيْفَ كَانَ يَصْنَعُ فِيهِ، فَإِنْ شِئْتُمَا أَعْطَيْتُكُمَا لِتَعْمَلا فِيهِ بِعَمَلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَعَمَلِ أَبِي بَكْرٍ حَتَّى أَدْفَعَهُ إِلَيْكُمَا، قَالَ: فَخَلَوَا ثُمَّ جَاءَا، فَقَالَ الْعَبَّاسُ: ادْفَعْهُ إِلَى عَلِيٍّ، فَإِنِّي قَدْ طِبْتُ نَفْسًا بِهِ لَهُ .

تحقيق الحافظ جلال الدين السيوطي: [رمز له بالحسن.] {الجامع الصغير (2142).}




আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইরসহ কুরাইশের ছয় থেকে সাতজন বৰ্ণনা করেন, আমরা উমারের নিকট বসে ছিলাম। সহসা আলী ও আব্বাস উচ্চস্বরে কথা বলতে বলতে ঢুকলেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ আব্বাস, চুপ করুন। আমি জানি, আপনি কী বলতে চান। আপনি বলতে চান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ভাইয়ের ছেলে এবং অর্ধেক সম্পত্তি প্রাপ্য। আর হে আলী, আপনি কী বলতে চান তাও আমি জানি। আপনি বলতে চান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেয়ে আমার স্ত্রী এবং অর্ধেক সম্পত্তি তার প্রাপ্য। অথচ এই সম্পত্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে ছিল। তিনি এর ব্যাপারে কী নীতি অবলম্বন করেছেন তা আমরা দেখেছি। তার পরে আবু বাকর তার তত্ত্বাবধায়ক হয়েছেন এবং তিনিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসৃত নীতি অবলম্বন করেছেন। আবু বাকরের পরে আমি এর তত্ত্বাবধায়ক হয়েছি। আমি আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, আমি এ সবের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বাকরের অনুসৃত নীতিই অবলম্বন করবো।

তারপর বললেন, আবু বাকর আমাকে জানিয়েছেন এবং হলফ করে বলেছেন যে, তিনি সত্য জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ নবীর পরিত্যক্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী কেউ হয় না। তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় শুধু দরিদ্র ও সহায়সম্বলহীন মুসলিমরা। আবু বাকর আমাকে আরো জানিয়েছেন এবং আল্লাহর নামে হলফ করে বলেছেন যে, তিনি সত্য জানিয়েছেন যে, কোন নবী ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন না, যতক্ষণ তার উম্মাতের কোন ব্যক্তি তার ইমামতি না করেন। আর এই সম্পত্তি এভাবেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিল। এতে তিনি কী নীতি অবলম্বন করেছেন তা আমরা দেখেছি। তোমরা উভয়ে চাইলে এগুলো তোমাদেরকে দিতে পারি যাতে তোমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বাকরের নীতি অনুসারে তা ব্যবহার কর যতক্ষণ তা তোমাদের কাছে রাখি। ইবনে যুবাইর বলেনঃ এরপর তারা দু’জনেই চলে গেলেন। তারপর পুনরায় এলেন। অতঃপর আব্বাস বললেন, এগুলি আলীর নিকট সমর্পণ করুন। আমি সানন্দে তাকে দেয়ার অনুমতি দিচ্ছি।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (79)


79 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ فَاطِمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا جَاءَتْ أَبَا بَكْرٍ، وَعُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، تَطْلُبُ مِيرَاثَهَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالا: إِنَّا سَمِعْنَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " إِنِّي لَا أُورَثُ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده حسن ]




আবু হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেন যে, ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবু বাকর ও উমারের নিকট এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে তাঁর উত্তরাধিকার দাবী করেছেন। তাঁরা দু’জনেই জবাব দিয়েছিলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আমাদের (নবীদের) উত্তরাধিকারী কেউ হয় না।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (80)


80 - حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى - يَعْنِي ابْنَ الْمُسَيَّبِ - عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ: إِنِّي لَجَالِسٌ عِنْدَ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ خَلِيفَةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بَعْدَ وَفَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَهْرٍ، فَذَكَرَ قِصَّةً، فَنُودِيَ فِي النَّاسِ: أَنَّ الصَّلاةَ جَامِعَةٌ، وَهِيَ أَوَّلُ صَلاةٍ فِي الْمُسْلِمِينَ نُودِيَ بِهَا: أنَّ الصَّلاةَ جَامِعَةٌ، فَاجْتَمَعَ النَّاسُ، فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ، شَيْئًا صُنِعَ لَهُ كَانَ يَخْطُبُ عَلَيْهِ، وَهِيَ أَوَّلُ خُطْبَةٍ خَطَبَهَا فِي الْإِسْلامِ، قَالَ: فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ، وَلَوَدِدْتُ أَنَّ هَذَا كَفَانِيهِ غَيْرِي، وَلَئِنْ أَخَذْتُمُونِي بِسُنَّةِ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أُطِيقُهَا، إِنْ كَانَ لَمَعْصُومًا مِنَ الشَّيْطَانِ، وَإِنْ كَانَ لَيَنْزِلُ عَلَيْهِ الْوَحْيُ مِنَ السَّمَاءِ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده ضعيف ]




কায়েস বিন হাযেম বৰ্ণনা করেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের এক মাস পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খালীফা আবু বাকর আস সিদ্দিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট বসা ছিলাম। এরপর তিনি একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। এই সময় ঘোষণা করা হলোঃ “এক্ষুণি নামাযের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে।” ওটাই ছিল প্রথম নামায, যা “এক্ষুণি নামাযের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে” এই ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হচ্ছিল। লোকেরা সমবেত হলো। আবু বাকর মিম্বরে আরোহণ করলেন- যা তার খুতবা দেয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটাই ছিল, ইসলাম আগমনের পর তাঁর দেয়া প্রথম খুতবা। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। তারপর বললেনঃ হে জনতা, আমি অবশ্যই চেয়েছিলাম যে, আমি ছাড়া অন্য কেউ এ দায়িত্ব গ্রহণ করুক। তোমরা যদি তোমাদের নবীর সুন্নাতের নিরিখে আমাকে পাকড়াও কর, তবে আমি এ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হব না। তিনি তো শয়তান থেকে সুরক্ষিত ছিলেন। তাঁর নিকট আসমান থেকে ওহী নাযিল হতো।