মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল
761 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: " لَيْسَ الْوَتْرُ بِحَتْمٍ كَهَيْئَةِ الصَّلاةِ، وَلَكِنْ سُنَّةٌ سَنَّهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده قوي]
৭৬১। হাদীস নং ৬৫২ দ্রষ্টব্য।
৬৫২। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, বিতর ফরয নামাযের মত বাধ্যতামূলক নয়। তবে এটা সুন্নাত- যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চালু করেছেন।
762 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، وَشُعْبَةُ، وَإِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هُبَيْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوقِظُ أَهْلَهُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده حسن]
৭৬২। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিনে তার পরিবার পরিজনকে রাতে জাগাতেন।
[তিরমিযী ৭৯৫, মুসনাদ আহমাদ ১০৫৮, ১১০৩, ১১০৪, ১১০৫, ১১১৪, ১১১৫, ১১৫৩]
763 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ عَبْدِ اللهِ يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، أَنَّهُ سَمِعَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أُعْطِيتُ مَا لَمْ يُعْطَ أَحَدٌ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ " فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا هُوَ قَالَ؟: " نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ، وَأُعْطِيتُ مَفَاتِيحَ الْأَرْضِ، وَسُمِّيتُ أَحْمَدَ، وَجُعِلَ التُّرَابُ لِي طَهُورًا، وَجُعِلَتْ أُمَّتِي خَيْرَ الْأُمَمِ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده حسن]
৭৬৩। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে এমন কয়েকটা জিনিস দেয়া হয়েছে, যা আর কাউকে দেয়া হয়নি। আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, কী কী? তিনি বললেনঃ আমাকে ভয় দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে (অর্থাৎ ইসলামের শক্ররা আমাকে ও আমার উম্মাতকে ভয় পায়), আমাকে পৃথিবীর চাবিকাঠি দেয়া হয়েছে (অর্থাৎ পৃথিবীর প্রচুর সম্পদ আমার উম্মাতকে দেয়া হয়েছে)। আমার নাম রাখা হয়েছে আহমাদ, মাটিকে আমার জন্য পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ বানানো হয়েছে এবং আমার উম্মাতকে শ্রেষ্ঠ জাতি বানানো হয়েছে। [মুসনাদ আহমাদ ১৩৬২]
764 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: " كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوتِرُ عِنْدَ الْأَذَانِ، وَيُصَلِّي رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ عِنْدَ الْإِقَامَةِ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده ضعيف]
৭৬৪। হাদীস নং ৫৬৯ দ্রষ্টব্য।
৫৬৯। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বৰ্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’রাকাআত (সুন্নাত) নামায ইকামাতের সময় (অর্থাৎ পূর্ব মুহুর্তে) পড়তেন।
765 - حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا الْأَشْجَعِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُجَيٍّ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ذَكَرْنَا الدَّجَّالَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ نَائِمٌ، فَاسْتَيْقَظَ مُحْمَرًّا لَوْنُهُ، فَقَالَ: " غَيْرُ ذَلِكَ أَخْوَفُ لِي عَلَيْكُمْ " ذَكَرَ كَلِمَةً
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده ضعيف]
৭৬৫। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসে আমরা দাজ্জালের বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। তিনি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। সহসা তিনি জেগে উঠলেন। তখন তাঁর সমগ্র মুখমণ্ডল লাল হয়ে গেছে। তিনি বললেনঃ ওটা (দাজ্জাল) ছাড়া অন্য একটা জিনিস আমার কাছে তোমাদের জন্য অধিকতর ভয়াবহ মনে হয়। অতঃপর তিনি একটি কালেমার উল্লেখ করলেন। (সম্ভবত এ দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, ঈমানের ওপর অবিচল থাকাই মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হবে।)
766 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: أُهْدِيَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَغْلٌ أَوْ بَغْلَةٌ، فَقُلْتُ: مَا هَذَا؟ قَالَ: " بَغْلٌ، أَوْ بَغْلَةٌ " قُلْتُ: وَمِنْ أَيِّ شَيْءٍ هُوَ؟ قَالَ: " يُحْمَلُ الْحِمَارُ عَلَى الْفَرَسِ، فَيَخْرُجُ بَيْنَهُمَا هَذَا " قُلْتُ: أَفَلا نَحْمِلُ فُلانًا عَلَى فُلانَةَ؟ قَالَ: " لَا، إِنَّمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [صحيح لغيره ، وهذا إسناد ضعيف]
৭৬৬। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি খচ্চর বা খচ্চরী উপঢৌকন দেয়া হলো। আমি বললামঃ এটা কী? তিনি বললেনঃ খচ্চর বা খচ্চরী। আমি বললামঃ এটা কোথা থেকে জন্মে? তিনি বললেনঃ গাধাকে ঘোড়ার ওপর ওঠানো হয়। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে এটির প্রজনন হয়। আমি বললামঃ আমরা কি অমুক জন্তুর নরকে অমুক জন্তুর মাদীর ওপর ওঠিয়ে এ ধরনের আরো শঙ্কর জন্তুর প্রজনন করাবো না? তিনি বললেনঃ না। এ কাজ কেবল মূর্খ লোকেরাই করে থাকে। (অর্থাৎ শংকর প্রজনন বাঞ্ছনীয় নয়। তবে কঠোরভাবে নিষিদ্ধও করা হয়নি।)
767 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ مُبَارَكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ زَحْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: " كُنْتُ إِذَا اسْتَأْذَنْتُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ كَانَ فِي صَلاةٍ سَبَّحَ، وَإِنْ كَانَ غَيْرَ ذَلِكَ أَذِنَ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده ضعيف]
৭৬৭। হাদীস নং ৫৯৮ দ্রষ্টব্য।
৫৯৮। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসতাম এবং অনুমতি চাইতাম। তিনি নামাযে থাকলে বলতেন সুবহানাল্লাহ। আর নামাযে না থাকলে অনুমতি দিতেন।
768 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَى الْمَنْحَرَ بِمِنًى، فَقَالَ: " هَذَا الْمَنْحَرُ، وَمِنًى كُلُّهَا مَنْحَرٌ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده حسن]
৭৬৮। হাদীস নং ৫৬২ দ্রষ্টব্য।
৫৬২। আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতে অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ এটা হচ্ছে অবস্থানের জায়গা। সমগ্র আরাফাতই অবস্থানের জায়গা। সূর্য অস্ত যাওয়া মাত্রই তিনি সেখান থেকে রওনা হলেন। উসামাকে পেছনে বসালেন এবং নিজের উটটাকে জোরে জোরে চালালেন। অন্য লোকেরা ডানে বামে চলতে লাগলো। তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন, “হে জনতা, প্রশান্তি!” অতঃপর একদল লোকের কাছে এলেন এবং মাগরিব ও ইশার নামাযে তাদের ইমামতি করলেন। অতঃপর রাত গিয়ে যখন ভোর হলো, তিনি কুযাহতে এলেন এবং কুযাহতে অবস্থান করলেন। তখন তিনি বললেনঃ এটা অবস্থানের জায়গা এবং একটি সমাবেশের জায়গা। পুরো কুযাহাই অবস্থানের জায়গা।
এরপর তিনি আবার চলা শুরু করলেন এবং মুহাসসার উপত্যকায় এলেন ও সেখানে (কিছু সময়) অবস্থান করলেন। তারপর তাঁর উটনীকে ধাক্কা দিয়ে তুললেন। উটটি দুলকি চালে চলে উপত্যকা পার হয়ে গেল। অতঃপর উটনীকে থামালেন এবং ফযলকে পেছনে বসালেন। অতঃপর জামরায় এলেন ও পাথর নিক্ষেপ করলেন। তারপর কুরবানীর জায়গায় এলেন। তারপর বললেন, এটা কুরবানীর জায়গা এবং সমগ্র মিনাই কুরবানীর জায়গা। বর্ণনাকারী বলেন, এই সময় খাসিয়াম গোত্রের এক যুবতী মেয়ে তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করলো যে, আমার বাবা এত বৃদ্ধ যে, চলৎশক্তি রহিত। অথচ তার ওপর হজ্জ ফরয হয়েছে। আমি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করলে কি তার হজ্জ আদায় হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তুমি তোমার বাবার পক্ষ থেকে হজ্জ কর।”
এই সময় তিনি ফযলের ঘাড় ঘুরিয়ে দিলেন। আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল, আপনি আপনার চাচাতো ভাইয়ের ঘাড় ঘুরিয়ে দিলেন কেন? তিনি বললেন, আমি একজন যুবক ও যুবতীকে পাশাপাশি দেখলাম। তাদেরকে শয়তান থেকে নিরাপদ মনে করলাম না। এরপর তার নিকট আর এক ব্যক্তি এল। সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি তো কুরবানীর আগেই চুল কামিয়েছি। তিনি বললেন, কোন অসুবিধা নেই, কুরবানী কর। এরপর তাঁর নিকট আর একজন এল। সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি চুল কামানোর আগেই রওনা হয়েছি। তিনি বললেনঃ কোন সমস্যা নেই, চুল কামাও অথবা ছাটাও। তারপর তিনি বাইতুল্লায় এলেন ও তাওয়াফ করলেন। তারপর যমযমে এলেন এবং বললেনঃ হে আবদুল মুত্তালিবের গোত্র, তোমাদের পানির উৎসকে রক্ষা কর। লোকেরা এর ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়বে এই আশঙ্কা না থাকলে আমি নিজে তা থেকে পানি টেনে তুলতাম।
769 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هَانِئِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: لَمَّا وُلِدَ الْحَسَنُ سَمَّيْتُهُ حَرْبًا، فَجَاءَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: " أَرُونِي ابْنِي، مَا سَمَّيْتُمُوهُ؟ " قَالَ: قُلْتُ: حَرْبًا. قَالَ: " بَلْ هُوَ حَسَنٌ " فَلَمَّا وُلِدَ الْحُسَيْنُ سَمَّيْتُهُ حَرْبًا، فَجَاءَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: " أَرُونِي ابْنِي، مَا سَمَّيْتُمُوهُ؟ " قَالَ: قُلْتُ حَرْبًا. قَالَ: " بَلْ هُوَ حُسَيْنٌ " فَلَمَّا وُلِدَ الثَّالِثُ سَمَّيْتُهُ حَرْبًا، فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: " أَرُونِي ابْنِي، مَا سَمَّيْتُمُوهُ؟ " قُلْتُ: حَرْبًا. قَالَ: " بَلْ هُوَ مُحَسِّنٌ " ثُمَّ قَالَ: " سَمَّيْتُهُمْ بِأَسْمَاءِ وَلَدِ هَارُونَ شَبَّرُ، وَشَبِيرُ، وَمُشَبِّرٌ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده حسن]
৭৬৯। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, যখন হাসানের জন্ম হলো আমি তার নাম রাখলাম, হারব। (অর্থাৎ যুদ্ধ।) এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন। বললেনঃ আমার নাতিকে দেখাও। ওর কী নাম রেখেছ? আমি বললামঃ হারব। তিনি বললেনঃ না, বরং ওর নাম হাসান। এরপর যখন হুসাইন ভূমিষ্ঠ হলো, তখন তার নাম রাখলাম হারব। এবারও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেনঃ আমার নাতিকে দেখাও তো। কী নাম রেখেছ ওর? বললামঃ হারব। তিনি বললেনঃ বরং ওর নাম হুসাইন। এরপর যখন তৃতীয় সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো, তখন আবার তার নাম রাখলাম হারব। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং বললেনঃ আমার নাতীকে দেখাও। কী নাম রেখেছ ওর? বললামঃ হারব। তিনি বললেনঃ বরং ওর নাম মুহাস্সিন। তারপর বললেনঃ ওদের নাম রেখেছি হারুন (আঃ)-এর সন্তানদের নামেঃ শাব্বার, শাব্বীর, মুশাব্বার (অর্থাৎ এগুলোর সমার্থক হলো হাসান, হুসাইন ও মুহাস্সিন)
[হাদীস নং ৯৫৩ দ্রষ্টব্য]
770 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هَانِئِ بْنِ هَانِئٍ، وَهُبَيْرَةَ بْنِ يَرِيمَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: لَمَّا خَرَجْنَا مِنْ مَكَّةَ اتَّبَعَتْنَا ابْنَةُ حَمْزَةَ تُنَادِي: يَا عَمِّ، يَا عَمِّ. قَالَ: فَتَنَاوَلْتُهَا بِيَدِهَا، فَدَفَعْتُهَا إِلَى فَاطِمَةَ، فَقُلْتُ: دُونَكِ ابْنَةَ عَمِّكِ. قَالَ: فَلَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ اخْتَصَمْنَا فِيهَا أَنَا وَجَعْفَرٌ وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ، فَقَالَ جَعْفَرٌ: ابْنَةُ عَمِّي وَخَالَتُهَا عِنْدِي - يَعْنِي أَسْمَاءَ بِنْتَ عُمَيْسٍ - وَقَالَ زَيْدٌ: ابْنَةُ أَخِي. وَقُلْتُ: أَنَا أَخَذْتُهَا وَهِيَ ابْنَةُ عَمِّي. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَمَّا أَنْتَ يَا جَعْفَرُ، فَأَشْبَهْتَ خَلْقِي وَخُلُقِي، وَأَمَّا أَنْتَ يَا عَلِيُّ، فَمِنِّي وَأَنَا مِنْكَ، وَأَمَّا أَنْتَ يَا زَيْدُ، فَأَخُونَا وَمَوْلَانَا، وَالْجَارِيَةُ عِنْدَ خَالَتِهَا، فَإِنَّ الْخَالَةَ وَالِدَةٌ " قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَلَا تَزَوَّجُهَا؟ قَالَ: " إِنَّهَا ابْنَةُ أَخِي مِنَ الرَّضَاعَةِ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده حسن]
৭৭০। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমরা যখন মক্কা থেকে রওনা হলাম, তখন হামযার মেয়ে “চাচা, চাচা” বলতে বলতে আমাদের পেছনে ছুটলো। আমি তার হাত ধরলাম এবং ফাতিমার কাছে তাকে সমৰ্পণ করে বললামঃ তোমার চাচাতো বোনকে সামলাও। তারপর যখন আমরা মদীনায় পৌছে গেলাম, তখন আমি, জাফর ও যায়িদ বিন হারিসা হামযার মেয়েকে নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হলাম। জাফর তাঁর দাবীর পক্ষে যুক্তি দেখালেন, সে আমার চাচাতো বোন এবং তার খালা অর্থাৎ আসমা বিনতে উমাইস আমার কাছে রয়েছে। যায়িদ বললো, সে আমার ভাই-এর মেয়ে। আর আমি বললামঃ আমি তাকে গ্রহণ করেছি এবং সে আমার চাচাতো বোন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে জাফর। তুমি দেখতেও আমার মত, তোমার স্বভাবও আমার মত। আর হে আলী, তুমি তো আমারই আওতাভুক্ত আর আমিও তোমার আওতাভুক্ত। আর হে যায়িদ, তুমি আমাদের ভাই এবং মুক্ত গোলাম। আর মেয়েটি তার খালার কাছেই। কেননা খালা মায়ের সমান। আমি বললাম, আপনি ওকে বিয়ে করতে পারেন না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, কারণ সে আমার দুধ ভাই-এর মেয়ে।
[আবু দাউদ ২২৮০, মুসনাদ আহমাদ ৮৫৭, ৯৩১]
771 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَجُلًا يَسْتَغْفِرُ لِأَبَوَيْهِ وَهُمَا مُشْرِكَانِ، فَقُلْتُ: أَيَسْتَغْفِرُ الرَّجُلُ لِأَبَوَيْهِ وَهُمَا مُشْرِكَانِ؟ فَقَالَ: أَوَلَمْ يَسْتَغْفِرْ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ؟ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَزَلَتْ{مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ} [التوبة: 113] إِلَى قَوْلِهِ:{تَبَرَّأَ مِنْهُ} [التوبة: 114] قَالَ: " لَمَّا مَاتَ " " فَلا أَدْرِي قَالَهُ سُفْيَانُ، أَوْ قَالَهُ إِسْرَائِيلُ، أَوْ هُوَ فِي الْحَدِيثِ: " لَمَّا مَاتَ؟ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده حسن]
৭৭১। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আমি এক ব্যক্তিকে তার মুশরিক মা বাবার জন্য ক্ষমা চাইতে শুনলাম। আমি বললামঃ কোন ব্যক্তি কি তার মুশরিক মা বাবার জন্য ক্ষমা চাইতে পারে? সে বললোঃ ইবরাহীম (আঃ) কি তাঁর বাবার জন্য ক্ষমা চাননি? ব্যাপারটা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উল্লেখ করলাম। তখন সূরা আত-তাওবার এ আয়াত নাযিল হলোঃ “নবী ও মুমিনদের জন্য শোভনীয় নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য গুনাহ মাফ চাইবে। চাই সে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ই হোকনা কেন। তাদের জাহান্নামবাসী হওয়া সুনিশ্চিত জেনেও এ কাজ তারা কিছুতেই করতে পারে না। ইবরাহীম (আঃ) যে তার পিতার জন্য গুনাহ মাফ চেয়েছিল সেটা এ জন্য যে, ইতিপূর্বে সে তাকে এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারপর যখন ইবরাহীম নিশ্চিত হলো যে, সে আল্লাহর শত্রু, তখন তার দায়ভার থেকে মুক্ত হয়ে গেল।”
[তিরমিযী ৩১০১, নাসায়ী ১১/৪, মুসনাদ আহমাদ ১০৮৫]
772 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي عَمِّي إِيَاسُ بْنُ عَامِرٍ، سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، يَقُولُ: " كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَبِّحُ مِنَ اللَّيْلِ، وَعَائِشَةُ مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده حسن في الشواهد]
৭৭২। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে এমন অবস্থায় তাসবীহ করতেন (অর্থাৎ নামায পড়তেন) যে, আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর ও কিবলার মাঝখানে আড় হয়ে (শুয়ে) থাকতেন।
773 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، وَأَبُو نُعَيْمٍ قَالا: حَدَّثَنَا فِطْرٌ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي بَزَّةَ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، قَالَ حَجَّاجٌ: سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَوْ لَمْ يَبْقَ مِنَ الدُّنْيَا إِلا يَوْمٌ، لَبَعَثَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ رَجُلًا مِنَّا، يَمْلَؤُهَا عَدْلًا كَمَا مُلِئَتْ جَوْرًا " قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ: " رَجُلًا مِنِّي " قَالَ: وَسَمِعْتُهُ مَرَّةً يَذْكُرُهُ عَنْ حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [رجاله ثقات رجال الشيخين]
৭৭৩। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বৰ্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়া ধ্বংস হতে যদি মাত্র একদিনও বাকী থাকে, তথাপি আল্লাহ আমাদের মধ্য থেকে এমন একজনকে পাঠাবেন, যিনি সারা পৃথিবীকে সুবিচার দিয়ে সেইভাবে পরিপূর্ণ করে দেবেন, যেভাবে তাকে ইতিপূর্বে যুলমে পরিপূর্ণ করে দেয়া হয়েছিল।
[আবু দাউদ ৪২৮৩]
774 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنِي إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هَانِئٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: " الْحَسَنُ أَشْبَهُ النَّاسِ بِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا بَيْنَ الصَّدْرِ إِلَى الرَّأْسِ، وَالْحُسَيْنُ أَشْبَهُ النَّاسِ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا كَانَ أَسْفَلَ مِنْ ذَلِكَ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [رجاله ثقات رجال الشيخين غير هانئ بن هانئ]
৭৭৪। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বুক থেকে মাথা পর্যন্ত সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল হাসান। আর বুক থেকে নীচের অংশে হুসাইন ছিল তাঁর সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
[তিরমিযী ৩৭৭৯, মুসনাদ আহমাদ ৮৫৪]
775 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ: يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنِي عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ أَذْنَبَ فِي الدُّنْيَا ذَنْبًا، فَعُوقِبَ بِهِ، فَاللهُ أَعْدَلُ مِنْ أَنْ يُثَنِّيَ عُقُوبَتَهُ عَلَى عَبْدِهِ، وَمَنْ أَذْنَبَ ذَنْبًا فِي الدُّنْيَا، فَسَتَرَ اللهُ عَلَيْهِ، وَعَفَا عَنْهُ، فَاللهُ أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يَعُودَ فِي شَيْءٍ قَدْ عَفَا عَنْهُ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده حسن]
৭৭৫। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন গুনাহর কাজ করে ও তার শাস্তি ভোগ করে, আল্লাহ এত ন্যায়বিচারক যে, সেই বান্দাকে পুনরায় আর শাস্তি দেবেন না। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন গুনাহর কাজ করেছে এবং আল্লাহ তা লুকিয়ে রেখেছেন ও ক্ষমা করেছেন, আল্লাহ এত মহানুভব যে, তার যে গুনাহ ইতিপূর্বে মাফ করেছেন তার জন্য তাকে পুনরায় পাকড়াও করবেন না।
[তিরমিযী ২৬২৬, ইবনু মাজাহ ২৬০৪, মুসনাদ আহমাদ ১৩৬৫]
776 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَلَمَةَ يَعْنِي ابْنَ كُهَيْلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ حَبَّةَ الْعُرَنِيِّ، قَالَ: رَأَيْتُ عَلِيًّا، ضَحِكَ عَلَى الْمِنْبَرِ لَمْ أَرَهُ ضَحِكَ ضَحِكًا أَكْثَرَ مِنْهُ، حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ، ثُمَّ قَالَ: ذَكَرْتُ قَوْلَ أَبِي طَالِبٍ، ظَهَرَ عَلَيْنَا أَبُو طَالِبٍ، وَأَنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَنَحْنُ نُصَلِّي بِبَطْنِ نَخْلَةَ، فَقَالَ: مَاذَا تَصْنَعَانِ يَا ابْنَ أَخِي؟ " فَدَعَاهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْإِسْلامِ "، فَقَالَ: مَا بِالَّذِي تَصْنَعَانِ بَأْسٌ، أَوْ بِالَّذِي تَقُولانِ بَأْسٌ، وَلَكِنْ وَاللهِ لَا تَعْلُوَنِي اسْتِي أَبَدًا، وَضَحِكَ تَعَجُّبًا لِقَوْلِ أَبِيهِ، ثُمَّ قَالَ: " اللهُمَّ لَا أَعْتَرِفُ أَنَّ عَبْدًا لَكَ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ عَبَدَكَ قَبْلِي غَيْرَ نَبِيِّكَ - ثَلاثَ مِرَارٍ - لَقَدْ صَلَّيْتُ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ النَّاسُ سَبْعًا " °
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده ضعيف جدا]
৭৭৬। হাব্বা আল-উরানী বলেন, আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে আমি একদিন মিম্বারের ওপর হাসতে দেখলাম। তার আগে তাঁকে কখনো এত হাসতে দেখিনি। হাসতে হাসতে তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত বেরিয়ে গিয়েছিল। তারপর বললেনঃ আবু তালিবের কথা আমার মনে পড়ে গেল। আমি আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাতনে নাখলায় (গোপনে) নামায পড়ছিলাম। সহসা সেখানে আবু তালিব উপস্থিত হলেন। বললেনঃ হে ভাতিজা, তোমরা দু’জনে কী করছ? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা দু’জনে যা করছ বা যা বলছি, তাতে কোন আপত্তি নেই। তবে তুমি কখনো আমাকে আমার ভিত্তি থেকে উচ্ছেদ করবে না।” আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর পিতার এ কথায় বিস্ময় প্রকাশার্থে হাসলেন। তারপর বললেনঃ হে আল্লাহ, আমি স্বীকার করি না যে, তোমার নবী ব্যতীত আর কেউ আমার আগে তোমার ইবাদত করেছে। এ কথা তিনবার বললেন। অন্য মানুষ নামায পড়ার আগে আমি নামায পড়েছি সাত বছর বয়সে।
[হাদীস নং ১১৯১ ও ১১৯২ দ্রষ্টব্য]
777 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ: " وَجَدْتُ هَذَا الْحَدِيثَ فِي كِتَابِ أَبِي وَأَكْثَرُ عِلْمِي إِنْ شَاءَ اللهُ أَنِّي سَمِعْتُهُ مِنْهُ " حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ لَهِيعَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ هُبَيْرَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ زُرَيْرٍ الْغَافِقِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَانْصَرَفَ ثُمَّ جَاءَ وَرَأْسُهُ يَقْطُرُ مَاءً فَصَلَّى بِنَا ثُمَّ قَالَ: " إِنِّي صَلَّيْتُ بِكُمْ آنِفًا وَأَنَا جُنُبٌ، فَمَنْ أَصَابَهُ مِثْلُ الَّذِي أَصَابَنِي، أَوْ وَجَدَ رِزًّا فِي بَطْنِهِ، فَلْيَصْنَعْ مِثْلَ مَا صَنَعْتُ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده ضعيف]
৭৭৭। হাদীস নং ৬৬৮ দ্রষ্টব্য।
৬৬৮। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায পড়ছিলাম। সহসা তিনি চলে গেলেন। আমরা তখনো নামাযে দাঁড়িয়ে। তারপর তিনি ফিরে এলেন। তার মাথা দিয়ে তখনও পানি টপকাচ্ছিল। তারপর তিনি আমাদের নামায পড়ালেন। তারপর বললেন, আমার মনে পড়লো, আমি যখন নামাযে দাড়াই, তখন “জানাবাত” (বীর্যপাত জনিত অপবিত্রতা) অবস্থায় ছিলাম। অথচ গোসল করিনি। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি পেটে কোন ব্যথা অনুভব করে, অথবা আমার যে অবস্থা ছিল, সে অবস্থায় থাকে, তাহলে তার বেরিয়ে গিয়ে প্রয়োজন সেরে অথবা গোসল করে এসে পুনরায় নামায পড়া উচিত।
778 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْمِنْهَالِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ: كَانَ أَبِي يَسْمُرُ مَعَ عَلِيٍّ، وَكَانَ عَلِيٌّ يَلْبَسُ ثِيَابَ الصَّيْفِ فِي الشِّتَاءِ، وَثِيَابَ الشِّتَاءِ فِي الصَّيْفِ، فَقِيلَ لَهُ: لَوْ سَأَلْتَهُ؟ فَسَأَلَهُ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ إِلَيَّ وَأَنَا أَرْمَدُ الْعَيْنِ يَوْمَ خَيْبَرَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي أَرْمَدُ الْعَيْنِ. قَالَ: فَتَفَلَ فِي عَيْنِي وَقَالَ: " اللهُمَّ أَذْهِبْ عَنْهُ الْحَرَّ وَالْبَرْدَ " فَمَا وَجَدْتُ حَرًّا وَلا بَرْدًا مُنْذُ يَوْمِئِذٍ، وَقَالَ: " لاعْطِيَنَّ الرَّايَةَ رَجُلًا يُحِبُّ اللهَ وَرَسُولَهُ، وَيُحِبُّهُ اللهُ وَرَسُولُهُ، لَيْسَ بِفَرَّارٍ " فَتَشَرَّفَ لَهَا أَصْحَابُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَعْطَانِيهَا
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده ضعيف]
৭৭৮। আবদুর রহমান ইবনে আবু লাইলা বলেন, আমার পিতা গভীর রাত পর্যন্তও আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে কথা বলতেন। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) শীতকালে গ্রীষ্মের পোশাক এবং গ্রীষ্মকালে শীতের পোশাক পরতেন। আব্বাকে বলা হলোঃ এ বিষয়ে আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে যদি জিজ্ঞাসা করতেন। অতঃপর তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) জবাবে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের দিন আমাকে ডেকে পাঠালেন। তখন আমার চোখ উঠেছিল। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার চোখ উঠেছে। তখন তিনি আমার চোখে থুথু দিলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহ, আলীকে ঠাণ্ডা ও গরম থেকে অব্যাহতি দাও। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত আমার আর ঠাণ্ডা ও গরম অনুভূত হয় না। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খাইবারের যুদ্ধের এক পর্যায়ে) বললেনঃ আজ আমি এমন একজনকে পতাকা দেব (সেনাপতি নিয়োগ করবো) যে আল্লাহ ও রাসূলকে ভালোবাসে, আল্লাহ ও রাসূল তাকে ভালোবাসেন এবং সে পলায়নপর হয় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বহু সাহাবী পতাকার জন্য আগ্রহী হলো। কিন্তু তিনি পতাকা আমাকে দিলেন।
[ইবনু মাজাহ ১১৭, মুসনাদ আহমাদ ১১১৭]
779 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ: أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ هَانِئِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَ عَمَّارٌ، فَاسْتَأْذَنَ فَقَالَ: " ائْذَنُوا لَهُ، مَرْحَبًا بِالطَّيِّبِ الْمُطَيَّبِ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [رجاله ثقات رجال الشيخين غير هانئ بن هانئ]
৭৭৯। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসেছিলাম। সহসা আম্মার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এলেন এবং ভেতরে আসার অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওকে আসতে দাও। পবিত্র ও পবিত্রকৃত মানুষটাকে স্বাগতম।
[ইবনু মাজাহ ১৪৬, তিরমিযী ৩৭৯৮, মুসনাদ আহমাদ ৯৯৯, ১০৩৩, ১০৭৯, ১১৬০]
780 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، وَغَيْرِهِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنِ الْمَسْحِ، عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَتْ: سَلْ عَلِيًّا، فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ: " ثَلاثَةُ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ، يَعْنِي لِلْمُسَافِرِ، وَيَوْمٌ وَلَيْلَةٌ لِلْمُقِيمِ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده صحيح ، رجاله ثقات رجال الصحيح]
৭৮০। হাদীস নং ৭৪৮ দ্রষ্টব্য।
৭৪৮। শুরাইহ ইবনে হানী বলেন, আমি আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে মোজার ওপর মাসিহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ আলীকে জিজ্ঞাসা কর। তিনি এ বিষয়ে আমার চেয়ে বেশী জানেন। (কারণ) তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে (প্রায়ই) সফর করতেন। অতঃপর আমি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসাফির তিন দিন তিন রাত এবং মুকীম এক দিন ও এক রাত মোজার ওপর মাসিহ করবে।