হাদীস বিএন


রিয়াদুস সালিহীন





রিয়াদুস সালিহীন (1066)


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللهُ بِهِ الخَطَايَا، وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ؟» قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ؟ قَالَ: «إِسْبَاغُ الوُضُوءِ عَلَى المَكَارِهِ، وَكَثْرَةُ الخُطَا إلَى المَسَاجِدِ، وَانْتِظَارُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ، فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ، فذَلِكُمُ الرِّبَاطُ». رواه مسلِم




৭/১০৬৬। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা সমবেত সহচরদের উদ্দেশ্যে) বললেন, “তোমাদেরকে এমন একটি কাজ বলে দেব না কি, যার দ্বারা আল্লাহ গোনাহসমূহকে মোচন করে দেবেন এবং (জান্নাতে) তার দ্বারা মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন?” তাঁরা বললেন, ‘অবশ্যই, হে আল্লাহ রাসূল!’ তিনি বললেন, “(তা হচ্ছে) কষ্টকর অবস্থায় পরি পূর্ণরূপে ওযু করা, অধিক মাত্রায় মসজিদে গমন করা এবং এক অক্তের নামায আদায় করে পরবর্তী অক্তের নামাযের জন্য প্রতীক্ষা করা। আর এ হল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মত কাজ। এ হল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মত কাজ।” (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ২৫১, তিরমিযী ৫১, নাসায়ী ১৪৩, আহমাদ ৭১৬৮,৭৬৭২,৭৯৩৫,৭৯৬১,৯৩৬১, মুওয়াত্তা মালিক ৩৮৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1067)


وَعَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الخُدرِيِّ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذا رَأَيْتُمُ الرَّجُلَ يَعْتَادُ المَسَاجِدَ فَاشْهِدُوْا لَهُ بِالْإِيْمَانِ» قال اللَّه عزَّ وجلَّ: ( إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللهِ مَنْ آمَن بِاللهِ والْيَومِ الآخِرِ ) الآية . رواه الترمذي وقال: حديث حسن .




৮/১০৬৭। আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোনো ব্যক্তিকে তোমরা যখন মসজিদে যাওয়া আসায় অভ্যস্ত দেখতে পাও তখন তার ঈমানদারীর সাক্ষী দাও। কারণ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করে কেবল তারাই যারা আল্লাহর উপর এবং শেষ দিবসের (পরকালের) উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে...।” (সূরা আত্-তওবা্ঃ ১৮) (তিরমিযী এটিকে হাসান বলেছেন)[1]


[1] আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি এরূপই বলেছেন। কিন্তু এর সনদটি দুর্বল যেমনটি আমি “আলমিশকাত” গ্রন্থে (নং ৭২৩) বর্ণনা করেছি। তবে এর ভাবার্থ সহীহ্। এর সনদে দার্রাজ ইবনু আবিস সাম্হ্ নামক এক বর্ণনাকারী রয়েছেন। তার সম্পর্কে হাফিয ইবনু হাজার “আত্তাক্বরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি তার হাদীসের ব্যাপারে সত্যবাদী, তবে আবুল হাইশাম হতে তার বর্ণনা করার ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে। এ কারণেই হাফিয যাহাবী ইমাম হাকিমের সমালোচনা করে বলেছেনঃ দার্রাজ বহু মুনকারের অধিকারী। তিরমিযী ৩০৯৩

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ যঈফ









রিয়াদুস সালিহীন (1068)


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لاَ يَزَالُ أحَدُكُمْ فِي صَلاَةٍ مَا دَامَتِ الصَّلاَةُ تَحْبِسُهُ، لاَ يَمنَعُهُ أَنْ يَنقَلِبَ إِلَى أَهْلِهِ إِلاَّ الصَّلاةُ». متفقٌ عَلَيْهِ




১/১০৬৮। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নামাযের প্রতীক্ষা যতক্ষণ (কাউকে) আবদ্ধ রাখে, ততক্ষণ সে আসলে নামাযের মধ্যেই থাকে; যখন নামায ছাড়া অন্য কোনো কিছু (তাকে) তার স্বীয় পরিবারের কাছে ফিরে যেতে বাধা না দেয়।” (অর্থাৎ নামাযের উদ্দেশ্যে যতক্ষণ বসে থাকে, পুণ্য-প্রাপ্তির দিক দিয়ে সে পরোক্ষভাবে নামাযেই প্রবৃত্ত থাকে।) (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ৬৫৯, ১৭৬, ৪৪৫, ৪৭৭, ৬৪৭, ৬৪৯, ২১১৯, ৩২২৯, ৪৭১৭, মুসলিম ৬৪৯, তিরমিযী ২১৫, ২১৬, নাসায়ী ৭৩৩,৭৩৮, আবূ দাউদ ৪৬৯, ৪৭০, ৪৭১, ৫৫৬, ইবনু মাজাহ ৭৮৭, আহমাদ ৭১৪৫, ৭৩৬৭, ৭৩৮২, ৭৪৯৮, ৭৫৩০, ৭৫৫৭, ৭৫৫৯, ৭৮৩২, মুওয়াত্তা মালিক ২৯১, ৩৮২, ৩৮৩, ৩৮৫, দারেমী ১২৭৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1069)


وَعَنْه رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «اَلْمَلائِكَةُ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مُصَلاَّهُ الَّذِيْ صَلَّى فِيهِ، مَا لَمْ يُحْدِثْ، تَقُولُ: اَللهم اغْفِرْ لَهُ، اَللهم ارْحَمْهُ». رواه البُخَارِيُّ




২/১০৬৯। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ফেরেশতাবর্গ তোমাদের প্রত্যেকের জন্য দো‘আ করে থাকেন, যতক্ষণ সে সেই স্থানে অবস্থান করে, যেখানে সে নামায পড়েছে; যতক্ষণ পর্যন্ত না তার ওযু নষ্ট হয়েছে; বলেন, ‘হে আল্লাহ! ওকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! ওর প্রতি সদয় হও।” (বুখারী) [1]


[1] বুখারী ৪৪৫, ৪৭৭, ৬৪৭, ৬৪৯, ২১১৯, ৩২২৯, ৪৭১৭, মুসলিম ৬৪৯, তিরমিযী ২১৫,২১৬, নাসায়ী ৭৩৩, ৭৩৮, আবূ দাউদ ৪৬৯, ৪৭০, ৪৭১, ৫৫৬, ইবনু মাজাহ ৭৮৭, আহমাদ ৭১৪৫, ৭৩৬৭, ৭৩৮২, ৭৪৯৮, ৭৫৩০, ৭৫৫৭, ৭৫৫৯, ৭৮৩২, মুওয়াত্তা মালিক ২৯১, ৩৮২, ৩৮৩, ৩৮৫, দারেমী ১২৭৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1070)


وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَخَّرَ لَيْلَةً صَلاَةَ العِشَاءِ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ بَعْدَمَا صَلَّى، فَقَالَ: «صَلَّى النَّاسُ وَرَقَدُوا، وَلَمْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مُنْذُ انْتَظَرْتُمُوهَا». رواه البُخَارِيُّ




৩/১০৭০। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামায অর্ধেক রাত পর্যন্ত পিছিয়ে দিলেন। অতঃপর নামায পড়ার পর আমাদের দিকে মুখ করে বললেন, “লোকেরা নামায পড়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। আর তোমরা নামাযেই ছিলে; যখন থেকে তার অপেক্ষায় ছিলে।” (বুখারী) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ৬০০, ৫৭২, ৬৬১, ৮৪৮, ৫৮৬৯, মুসলিম ৬৪০, নাসায়ী ৫৩৯, ৫২০২, ৫২৮৫, ইবনু মাজাহ ৬৯২, আহমাদ ১২৪৬৯, ১২৫৫০, ১২৬৫৬, ১৩৪০৭

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1071)


عَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «صَلَاةُ الْجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلاَةِ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً». متفقٌ عَلَيْهِ




১/১০৭১। ইবনে উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “একাকীর নামায অপেক্ষা জামাতের নামায সাতাশ গুণ উত্তম।” (বুখারী-মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ৬৪৫, মুসলিম ৬৫০, তিরমিযী ২১৫, নাসায়ী ৮৩৭, ইবনু মাজাহ ৭৮৯, আহমাদ ৪৬৫৬, ৫৩১০, ৫৭৪৫, ৫৮৮৫, ৬৪১৯, মুওয়াত্তা মালিক ২৯০

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1072)


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم «صَلاةُ الرَّجُلِ فِي جَمَاعَةٍ تُضَعَّفُ عَلَى صَلاتِهِ فِي بَيْتهِ وَفِي سُوقِهِ خَمْساً وَعِشْرِينَ ضِعْفَاً، وَذَلِكَ أَنَّهُ إِذَا تَوَضَّأ فَأَحْسَنَ الوُضُوءَ، ثُمَّ خَرَجَ إِلَى المَسْجِدِ، لاَ يُخرِجُهُ إِلاَّ الصَّلاةُ، لَمْ يَخْطُ خَطْوَةً إِلاَّ رُفِعَتْ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ، وَحُطَّتْ عَنهُ بِهَا خَطِيئَةٌ، فَإِذَا صَلَّى لَمْ تَزَلِ المَلائِكَةُ تُصَلِّي عَلَيْهِ مَا دَامَ فِي مُصَلاَّهُ، مَا لَمْ يُحْدِثْ، تَقُولُ: اَللهم صَلِّ عَلَيهِ، اَللهم ارْحَمْهُ، وَلاَ يَزَالُ فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرَ الصَّلاَةَ». متفقٌ عَلَيهِ، وهذا لفظ البخاري




২/১০৭২। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জামাতের সাথে কারো নামায পড়া, তার ঘরে ও বাজারে একা নামায পড়ার চাইতে ২৫ গুণ বেশি শ্রেষ্ঠ। তা এই জন্য যে, যখন কোনো ব্যক্তি ওযু করে এবং উত্তমরূপে ওযু সম্পাদন করে। অতঃপর মসজিদ অভিমুখে যাত্রা করে। আর একমাত্র নামাযই তাকে (ঘর থেকে) বের করে (অন্য কোন উদ্দেশ্য থাকে না), তখন তার (পথে চলার সময়) প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গোনাহ মাফ করা হয়। তারপর সে নামাযান্তে নামায পড়ার জায়গায় যতক্ষণ ওযু সহকারে অবস্থান করে, ফেরেশতাবর্গ তার জন্য দো‘আ করেন; তাঁরা বলেন, ‘হে আল্লাহ! ওর প্রতি অনুগ্রহ কর। হে আল্লাহ! তুমি ওকে রহম কর।’ আর সে ব্যক্তি ততক্ষণ নামাযের মধ্যেই থাকে, যতক্ষণ সে নামাযের প্রতীক্ষা করে।” (বুখারী ও মুসলিম এ শব্দগুলি বুখারীর)[1]


[1] সহীহুল বুখারী ৬৪৭, ৬৫৯, ১৭৬, ৪৪৫, ৪৭৭, ৬৪৭, ৬৪৯, ২১১৯, ৩২২৯, ৪৭১৭, মুসলিম ৬৪৯, তিরমিযী ২১৫, ২১৬, নাসায়ী ৭৩৩, ৭৩৮, আবূ দাউদ ৪৬৯, ৪৭০, ৪৭১, ৫৫৬, ইবনু মাজাহ ৭৮৭, আহমাদ ৭১৪৫, ৭৩৬৭, ৭৩৮২, ৭৪৯৮, ৭৫৩০, ৭৫৫৭, ৭৫৫৯, ৭৮৩২, মুওয়াত্তা মালিক ২৯১, ৩৮২, ৩৮৩, ৩৮৫, দারেমী ১২৭৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1073)


وَعَنْه، قَالَ: أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ أَعْمَى، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، لَيسَ لِي قَائِدٌ يَقُودُنِي إِلَى الْمَسْجِدِ، فَسَأَلَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَنْ يُرَخِّصَ لَهُ فَيُصَلِّي فِي بَيْتِهِ، فَرَخَّصَ لَهُ، فَلَّمَا وَلَّى دَعَاهُ، فَقَالَ لَهُ: «هَلْ تَسْمَعُ النِّدَاءَ بِالصَّلاَةِ ؟» قَالَ: نَعَمْ . قَالَ: «فَأَجِبْ». رواه مُسلِم




৩/১০৭৩। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একটি অন্ধ লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার কোন পরিচালক নেই, যে আমাকে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে।’ সুতরাং সে নিজ বাড়িতে নামায পড়ার জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি চাইল। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। কিন্তু যখন সে পিঠ ঘুরিয়ে রওনা দিল, তখন তিনি তাকে ডেকে বললেন, “তুমি কি আহ্বান (আযান) শুনতে পাও?” সে বলল, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, “তাহলে তুমি সাড়া দাও।” (অর্থাৎ মসজিদেই এসে নামায পড়।) (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ৬৫৩, নাসায়ী ৮৫০

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1074)


وَعَنْ عَبدِ الله- وَقِيلَ: عَمْرِو بنِ قَيسٍ - المَعرُوفِ بِابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ الْمُؤَذِّنِ رضي الله عنه أَنَّه قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إِنَّ المَدينَةَ كَثِيرةُ الهَوَامِّ وَالسِّبَاعِ . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم :«تَسْمَعُ حَيَّ عَلَى الصَّلاةِ حَيَّ عَلَى الفَلاحِ، فَحَيَّهلاً» رَوَاهُ أبُو دَاوُدَ بإسناد حسن




৪/১০৭৪। আব্দুল্লাহ (মতান্তরে) আমর ইবনে ক্বায়স ওরফে ইবনে উম্মে মাকতূম মুয়াজ্জিন রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একদা তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! মদিনায় সরীসৃপ (সাপ, বিচ্ছু ইত্যাদি বিষাক্ত জন্তু) ও হিংস্র পশু অনেক আছে। (তাই আমাকে নিজ বাড়িতেই নামায পড়ার অনুমতি দিন)।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি ‘হাইয়্যা আলাস স্বালাহ ও হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ (আযান) শুনতে পাও? (যদি শুনতে পাও), তাহলে মসজিদে এসো।” (আবূ দাউদ হাসান সূত্রে)[1]


[1] আবূ দাউদ ৫৫৩, ৫৫২, নাসায়ী ৮৫১, ইবনু মাজাহ ৭৯২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1075)


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِحَطَبٍ فَيُحْتَطَبَ، ثُمَّ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَيُؤذَّنَ لهَاَ، ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً فَيَؤُمَّ النَّاسَ، ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى رِجَالٍ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهمْ». متفقٌ عَلَيهِ




৫/১০৭৫। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার জীবন আছে। আমার ইচ্ছা হচ্ছে যে, জ্বালানী কাঠ জমা করার আদেশ দিই। তারপর নামাযের জন্য আযান দেওয়ার আদেশ দিই। তারপর কোন লোককে লোকদের ইমামতি করতে আদেশ দিই। তারপর আমি স্বয়ং সেই সব (পুরুষ) লোকদের কাছে যাই (যারা মসজিদে নামায পড়তে আসেনি) এবং তাদেরকে সহ তাদের ঘর-বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিই।” (বুখারী ও মুসলিম) [1]

(এ দ্বারা প্রমাণ হয় যে নামায জামাতসহ পড়া ওয়াজিব যদি কোন শরয়ী ওজর না থাকে।)


[1] সহীহুল বুখারী ৬৪৪, ৬৫৭, ২৪২০, ৭২২৪, মুসলিম ৬৫১, তিরমিযী ২১৭, নাসায়ী ৮৪৮, আবূ দাউদ, ৭২৬০, ৭৮৫৬, ২৭৩৬৬, ২৭৪৭৫, মুওয়াত্তা মালিক ২৯৯, দারেমী ১২১২, ১২৭৪

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1076)


وَعَنِ ابنِ مَسعُود رضي الله عنه قَالَ: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللهَ تَعَالَى غَداً مُسْلِماً، فَلْيُحَافِظْ عَلَى هَؤُلاَءِ الصَّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ، فَإِنَّ اللهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم سُنَنَ الهُدَى، وَإنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الهُدَى، وَلَوْ أنَّكُمْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا المُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ، وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّة نَبِيِّكُم لَضَلَلْتُمْ، وَلَقَدْ رَأيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلاَّ مُنَافِقٌ مَعْلُومُ النِّفَاقِ، وَلَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يُؤتَى بهِ، يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفِّ . رَوَاهُ مُسلِم
وفي رواية لَهُ قَالَ: إِنّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَلَّمَنَا سُنَنَ الهُدَى ؛ وَإِنَّ مِنْ سُنَنِ الهُدَى الصَّلاَةَ في المَسْجِدِ الَّذِي يُؤَذَّنُ فِيهِ .




৬/১০৭৬। আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যাকে এ কথা আনন্দ দেয় যে, সে কাল কিয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে মুসলিম হয়ে সাক্ষাৎ করবে, তার উচিত, সে যেন এই নামাযসমূহ আদায়ের প্রতি যত্ন রাখে, যেখানে তার জন্য আযান দেওয়া হয় (অর্থাৎ মসজিদে); কেননা, মহান আল্লাহ তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিমিত্তে হিদায়েতের পন্থা নির্ধারণ করেছেন। আর নিশ্চয় এই নামাযসমূহ হিদায়েতের অন্যতম পন্থা ও উপায়। যদি তোমরা (ফরয) নামায নিজেদের ঘরেই পড়, যেমন এই পিছিয়ে থাকা লোক নিজ ঘরে নামায পড়ে, তাহলে তোমরা তোমাদের নবীর তরীকা পরিহার করবে।

আর (মনে রেখো,) যদি তোমরা তোমাদের নবীর তরীকা পরিহার কর, তাহলে নিঃসন্দেহে তোমরা পথহারা হয়ে যাবে। আমি আমাদের লোকদের এই পরিস্থিতি দেখেছি যে, নামায (জামাতসহ পড়া) থেকে কেবল সেই মুনাফিক (কপট মুসলিম) পিছিয়ে থাকে, যে প্রকাশ্য মুনাফিক। আর (দেখেছি যে, পীড়িত) ব্যক্তিকে দু’জনের উপর ভর দিয়ে নিয়ে এসে (নামাযের) সারিতে দাঁড় করানো হতো।’ (মুসলিম) [1]

মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমাদেরকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিদায়েতের (সৎপথ প্রাপ্তির) পন্থা বলে দিয়েছেন। আর হিদায়েতের অন্যতম পন্থা, সেই মসজিদে নামায পড়া, যেখানে আযান দেওয়া হয়।’


[1] মুসলিম ৬৫৪, আবূ দাউদ ৫৫০, ইবনু মাজাহ ৭৭৭, আহমাদ ৩৫৫৪, ৩৬১৬, ৩৯২৬, ৩৯৬৯, ৪২৩০, ৪৩৪২, দারেমী ১২৭৭

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1077)


وَعَنْ أَبِي الدَّردَاءِ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ: «مَا مِنْ ثَلاثَةٍ فِي قَرْيةٍ، وَلاَ بَدْوٍ، لاَ تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلاَةُ إلاَّ قَدِ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِم الشَّيْطَانُ . فَعَلَيْكُمْ بِالجَمَاعَةِ، فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذِّئْبُ مِنَ الغَنَمِ القَاصِيَة». رَوَاهُ أبُو دَاوُدَ بإسناد حسن




৭/১০৭৭। আবূ দরদা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, “যে কোন গ্রাম বা মরু-অঞ্চলে তিনজন লোক বাস করলে এবং সেখানে (জামাতে) নামায কায়েম না করা হলে শয়তান তাদের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করে ফেলে। সুতরাং তোমরা জামাতবদ্ধ হও; কেননা ছাগ পালের মধ্য হতে নেকড়ে সেই ছাগলটিকে ধরে খায়, যে (পাল থেকে) দূরে দূরে থাকে।” (আবূ দাউদ-হাসান সূত্রে)[1]


[1] আবূ দাউদ ৫৪৭, নাসায়ী ৮৪৭, আহমাদ ২১২০৩, ২৬৯৬৭, ২৬৯৬৮

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (1078)


عَن عُثمَانَ بنِ عَفَّانَ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ: «مَنْ صَلَّى العِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ، فَكَأنَّمَا قَامَ نِصْفَ اللَّيْلِ، وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ، فَكَأنَّمَا صَلَّى اللَّيْلَ كُلَّهُ» رواه مُسلِم
وفي رواية الترمذي عَنْ عُثمَانَ بنِ عَفَّانَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «مَنْ شَهِدَ العِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ لَهُ قِيَامُ نِصْفِ لَيلَةٍ، وَمَنْ صَلَّى العِشَاءَ وَالفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ، كَانَ لَهُ كَقِيَامِ لَيْلَةٍ». قَالَ الترمذي: حديث حسن صحيح




১/১০৭৮। উসমান ইবনে আফ্‌ফান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার নামায আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত কিয়াম (ইবাদত) করল। আর যে ফজরের নামায জামাতসহ আদায় করল, সে যেন সারা রাত নামায পড়ল।” (মুসলিম) [1]

তিরমিযীর বর্ণনায় উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি এশার নামাযের জামাতে হাযির হবে, তার জন্য অর্ধ-রাত পর্যন্ত কিয়াম করার নেকী হবে। আর যে এশা সহ ফজরের নামায জামাতে পড়বে, তার জন্য সারা রাত ব্যাপী কিয়াম করার সমান নেকী হবে।” (তিরমিযী, হাসান)


[1] মুসলিম ৬৫৬, তিরমিযী ২২১, আবূ দাউদ ৫৫৫, আহমাদ ৪১০, ৪৯৩, মুওয়াত্তা মালিক ২৯৭

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1079)


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ: «وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي العَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْواً». متفقٌ عَلَيهِ . وقد سبق بِطولِهِ .




২/১০৭৯। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যদি লোকে এশা ও ফজরের নামাযের ফযীলত জানতে পারত, তাহলে তাদেরকে হামাগুড়ি বা পাছা ছেঁচড়ে আসতে হলেও তারা অবশ্যই ঐ নামাযদ্বয়ে আসত।” (বুখারী ও মুসলিম) [1]

এটি সবিস্তার ১০৪০ নম্বরে গত হয়েছে।


[1] সহীহুল বুখারী ৬১৫, ৬৫৪, ৭২১, ২৪৭২, ২৬৮৯, ২৮২৯, ৫৭৩৩, মুসলিম ৪৩৭, ৪৩৯, ১৯১৪, তিরমিযী ২২৫, ১০৬৩, ১৯৫৮, নাসায়ী ৫৪০, ৬৭১, আবূ দাউদ ৫২৪৫, ইবনু মাজাহ ৭৯৭, আহমাদ ৭১৮৫, ৭৬৮০, ৭৭৮২, ৭৯৬২, ৮১০৬, ৮২৯৩, ৮৬৫৫, ৮৯৯৩, ৯২০২, ৯৭৫০, মুওয়াত্তা মালিক ১৫১, ২৯৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1080)


وَعَنْه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم :«لَيْسَ صَلاَةٌ أَثْقَلَ عَلَى المُنَافِقِينَ مِنْ صَلاَةِ الفَجْرِ وَالعِشَاءِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْواً». متفقٌ عَلَيهِ




৩/১০৮০। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মুনাফিক (কপট)দের উপর ফজর ও এশার নামায অপেক্ষা অধিক ভারী নামায আর নেই। যদি তারা এর ফযীলত ও গুরুত্ব জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বা পাছার ভরে অবশ্যই (মসজিদে) উপস্থিত হত।” (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ৬৫৭, ৬৪৪, ৬৫৭, ২৪২০, ৭২২৪, মুসলিম ৬৫১, তিরমিযী ২১৭, নাসায়ী ৮৪৮, দাউদ, ৭২৬০, ৭৮৫৬, ২৭৩৬৬, ২৭৪৭৫, মুওয়াত্তা মালিক ২৯৯, দারেমী ১২১২, ১২৭৪

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1081)


وَعَنِ ابنِ مَسعُود رضي الله عنه قَالَ: سَأَلتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا قُلْتُ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: بِرُّ الوَالِدَيْنِ قُلْتُ: ثُمَّ أيٌّ؟ قَالَ: الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ. متفقٌ عَلَيهِ




আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ﴾ (البقرة: ٢٣٨)

অর্থাৎ তোমরা নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হও; বিশেষ করে মধ্যবর্তী (আসরের) নামাযের প্রতি। (সূরা বাকারাহ ২৩৮ আয়াত)

﴿ فَإِن تَابُواْ وَأَقَامُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُاْ ٱلزَّكَوٰةَ فَخَلُّواْ سَبِيلَهُمۡۚ ﴾ [التوبة: ٥]

অর্থাৎ যদি তারা তওবা করে, যথাযথ নামায পড়ে ও যাকাত প্রদান করে, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। (সূরা তওবা ৫ আয়াত)



১/১০৮১। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘সর্বোত্তম আমল কি?’ তিনি বললেন, “যথা সময়ে নামায আদায় করা।” আমি বললাম, ‘তারপর কি?’ তিনি বললেন, “মা-বাপের সাথে সদ্ব্যবহার করা।” আমি বললাম, ‘তারপর কি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা।” (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ৫২৭, ২৭৮২, ৫৯৭০, ৭৫৩৪, মুসলিম ৮৫, তিরমিযী ১৭৩, ১৮৯৮, নাসায়ী ৬১০, ৬১১, আহমাদ ৩৮৮০, ৩৯৬৩, ৩৯৮৮, ৪১৭৫, ৪২১১, ৪২৩১, ৪২৭৩, ৪৩০১, দারেমী ১২২৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1082)


وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلٰهَ إلاَّ اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجِّ البَيْتِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ». متفقٌ عَلَيهِ




২/১০৮২। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের উপর প্রতিষ্ঠিত।

(১) এই কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত মহাপুরুষ।

(২) নামায প্রতিষ্ঠা করা।

(৩) যাকাত প্রদান করা।

(৪) কা‘বা গৃহের হজ্জ করা।

(৫) রমযান মাসে রোযা পালন করা।” (বুখারী ও মুসলিম)[1]


[1] সহীহুল বুখারী ৮, মুসলিম ১৬, তিরমিযী ২৬০৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1083)


وَعَنْه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لاَ إِلٰهَ إلاَّ اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَيُقِيمُوا الصَّلاَةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ، عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ، إلاَّ بِحَقِّ الإِسْلاَمِ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللهِ». متفقٌ عَلَيهِ




৩/১০৮৩। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “লোকদের বিরুদ্ধে আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত (সশস্ত্র) সংগ্রাম চালাবার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেবে যে, ‘আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত মহাপুরুষ’ এবং নামায প্রতিষ্ঠা করবে ও যাকাত আদায় করবে। সুতরাং যখনই তারা সেসব বাস্তবায়ন করবে, তখনই তারা ইসলামী হক ব্যতিরেকে নিজেদের জান-মাল আমার নিকট হতে বাঁচিয়ে নিবে। আর তাদের (আভ্যন্তরীণ বিষয়ের) হিসাব আল্লাহর দায়িত্বে থাকবে।” (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ২৫, মুসলিম ২২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1084)


وَعَنْ مُعَاذٍ رضي الله عنه، قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِلَى اليَمَنِ، فَقَالَ: «إنَّكَ تَأْتِي قَوْماً مِنْ أَهْلِ الكِتَابِ، فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ، وَأنِّي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَإنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذلِكَ، فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللهَ تَعَالَى افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَومٍ وَلَيلَةٍ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ، فَأَعْلِمْهُمْ أنَّ اللهَ تَعَالَى افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً تُؤخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ، فَإِنْ هُمْ أطَاعُوا لِذلِكَ، فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالهِمْ، وَاتَّقِ دَعْوَةَ المَظْلُومِ، فَإِنَّهُ لَيْسَ بَينَهَا وَبَيْنَ اللهِ حِجَابٌ». متفقٌ عَلَيهِ




৪/১০৮৪। মু‘আয ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামেন পাঠালেন ও বললেন, “নিশ্চয় তুমি কিতাব ধারী সম্প্রদায়ের কাছে যাত্রা করছ। সুতরাং তুমি তাদেরকে এই কথার প্রতি আহ্বান জানাবে যে, তারা সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যদি তারা ঐ প্রস্তাব গ্রহণ করে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতি দিবারাত্রে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন।

যদি তারা এ কথাটিও মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে অবহিত করবে যে, মহান আল্লাহ তাদের (ধনীদের) উপর যাকাত ফরয করেছেন যা তাদের ধনী ব্যক্তিদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের গরীব মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে। যদি তারা এই আদেশটিও পালন করতে সম্মত হয়, তাহলে তুমি (যাকাত আদায়ের সময়) তাদের উৎকৃষ্ট মাল-ধন হতে বিরত থাকবে এবং মজলুম (অত্যাচারিত) ব্যক্তির বদ্দুআ থেকে দূরে থাকবে। কেননা, তার ও আল্লাহর মধ্যে কোনো পর্দা থাকে না।” (বুখারী ও মুসলিম)[1]


[1] সহীহুল বুখারী ১৩৯৫, ১৪৫৮, ১৪৯৬, ২৪৪৮, ৪৩৪৭, ৭৩৭১, ৭৩৭২, মুসলিম ১৯, তিরমিযী ৩২৫, ২০১৪, নাসায়ী ২৪৩৫, আবূ দাউদ ১৫৮৪, ইবনু মাজাহ ১৭৮৩, আহমাদ ২০৭২, দারেমী ১৬১৪

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1085)


وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ: «إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالكُفرِ، تَرْكَ الصَّلاَةِ». رواه مُسلِم




৫/১০৮৫। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, “মানুষ ও কুফরির মধ্যে (পর্দা) হল, নামায ত্যাগ করা।” (মুসলিম)[1]


[1] মুসলিম ৮২, তিরমিযী ২৬১৮, ২৬২০, আবূ দাউদ ৪৬৭৮, ইবনু মাজাহ ১০৭৮, আহমাদ ১৪৫৬১, ১৪৭৬২, দারেমী ১২৩৩

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ