হাদীস বিএন


রিয়াদুস সালিহীন





রিয়াদুস সালিহীন (1086)


وَعَنْ بُرَيْدَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «اَلعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ الصَّلاَةُ، فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ». رواه التِّرمِذِيُّ، وَقَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ صحيح




৬/১০৮৬। বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে চুক্তি আমাদের ও তাদের (কাফের/মুনাফিকদের) মধ্যে বিদ্যমান, তা হচ্ছে নামায (পড়া)। অতএব যে নামায ত্যাগ করবে, সে নিশ্চয় কাফের হয়ে যাবে।” (তিরমিযী হাসান)[1]


[1] তিরমিযী ২৬২১, নাসায়ী ৪৬৩, ইবনু মাজাহ ১০৭৯, আহমাদ ২২৪২৮, ২২৭৯৮

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (1087)


وَعَنْ شقِيق بن عبدِ الله التَّابِعيِّ المتَّفَقِ عَلَى جَلاَلَتِهِ رَحِمهُ اللهُ، قَالَ: كَانَ أصْحَابُ محَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم لاَ يَرَوْنَ شَيْئاً مِنَ الأعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلاَةِ . رَوَاهُ التِّرمِذِيُّ في كِتابِ الإيمان بإسنادٍ صحيحٍ




৭/১০৮৭। সর্বজন মান্য শাক্বীক ইবনে আব্দুল্লাহ তাবে‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহচরবৃন্দ নামায ছাড়া অন্য কোনো আমল ত্যাগ করাকে কুফরীমূলক কাজ বলে মনে করতেন না।’ (তিরমিযী, কিতাবুল ঈমান, বিশুদ্ধ সানাদ)[1]


[1] তিরমিযী ২৬২২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1088)


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ العَبْدُ يَوْمَ القِيَامَةِ مِنْ عَمَلِهِ صَلاَتُهُ، فَإنْ صَلَحَتْ، فَقَدْ أَفْلَحَ وَأَنْجَحَ، وَإنْ فَسَدَتْ، فَقَدْ خَابَ وَخَسِرَ، فَإِنِ انْتَقَصَ مِنْ فَرِيضَتِهِ شَيْءٌ، قَالَ الرَّبُّ - عَزَّ وَجَلَّ: اُنْظُرُوا هَلْ لِعَبدِي مِن تَطَوُّعٍ، فَيُكَمَّلُ مِنْهَا مَا انْتَقَصَ مِنَ الفَرِيضَةِ ؟ ثُمَّ تَكُونُ سَائِرُ أَعْمَالِهِ عَلَى هَذَا». رواه التِّرمِذِيُّ، وَقَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ




৮/১০৮৮। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় কিয়ামতের দিন বান্দার (হক্বুক্বুল্লাহর মধ্যে) যে কাজের হিসাব সর্বপ্রথম নেওয়া হবে তা হচ্ছে তার নামায। সুতরাং যদি তা সঠিক হয়, তাহলে সে পরিত্রাণ পাবে। আর যদি (নামায) পণ্ড ও খারাপ হয়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি তার ফরয (ইবাদতের) মধ্যে কিছু কম পড়ে যায়, তাহলে প্রভু বলবেন, ‘দেখ তো! আমার বান্দার কিছু নফল (ইবাদত) আছে কি না, যা দিয়ে ফরযের ঘাটতি পূরণ করে দেওয়া হবে?’ অতঃপর তার অবশিষ্ট সমস্ত আমলের হিসাব ঐভাবে গৃহীত হবে। (তিরমিযী হাসান)[1]


[1] আবূ দাউদ ৮৬৪, তিরমিযী ৪১৩, ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৭, ইবনু মাজাহ ১৪২৫, ১৪২৬, আহমাদ ৭৮৪২, ৯২১০, ১৬৫০১, দারেমী ১৩৫৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (1089)


عَنْ جَابِرِ بنِ سَمُرَة رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «أَلاَ تَصُفُّونَ كَمَا تَصُفُّ المَلائِكَةُ عِندَ رَبِّهَا» ؟ فَقُلنَا: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَكَيفَ تَصُفُّ المَلائِكَةُ عِندَ رَبِّهَا ؟ قَالَ:. «يُتِمُّونَ الصُّفُوفَ الأُوَلَ، وَيَتَرَاصُّونَ فِي الصَّفِّ» رواه مُسلِم




১/১০৮৯। জাবের ইবনে সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন, “ফেরেশতামন্ডলী যেরূপ তাদের প্রভুর নিকট সারিবদ্ধ হন, তোমরা কি সেরূপ সারিবদ্ধ হবে না।” আমরা নিবেদন করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! ফেরেশতামন্ডলী তাদের প্রভুর নিকট কিরূপ সারিবদ্ধ হন?’ তিনি বললেন, “প্রথম সারিগুলো পূর্ণ করেন এবং সারিতে ঘন হয়ে দাঁড়ান।” (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ৪৩০, নাসায়ী ৮১৬, ১১৮৪, ১১৮৫, আবূ দাউদ ৬৬১, ৯১২, ১০০০, ইবনু মাজাহ ৯৯২, আহমাদ ২০৩৬১, ২০৪৫০, ২০৪৬৪, ২০৫১৯, ২০৫২২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1090)


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الأَوَّلِ، ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلاَّ أنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لاَسْتَهَمُوا». متفقٌ عَلَيهِ




২/১০৯০। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “লোকেরা যদি জানত যে, আযান দেওয়া ও নামাযের প্রথম সারিতে দাঁড়াবার কি মাহাত্ম্য আছে, অতঃপর (তাতে অংশগ্রহণের জন্য) যদি লটারি ছাড়া অন্য কোন উপায় না পেত, তবে তারা অবশ্যই সে ক্ষেত্রে লটারির সাহায্য নিত।” (বুখারী, মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ৬১৫, ৬৫৪, ৭২১, ২৪৭২, ২৬৮৯, ২৮২৯, ৫৭৩৩, মুসলিম ৪৩৭, ৪৩৯, ১৯১৪, তিরমিযী ২২৫, ১০৬৩, ১৯৫৮, নাসায়ী ৫৪০, ৬৭১, আহমাদ ৫২৪৫, ইবনু মাজাহ ৭৯৭, আহমাদ ৭১৮৫, ৭৬৮০, ৭৭৮২, ৭৯৬২, ৮১০৬, ৮২৯৩, ৮৬৫৫, ৮৯৯৩, ৯২০২, ৯৭৫০, মানে ১৫১, ২৯৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1091)


وَعَنْه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «خيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا، وَشَرُّهَا آخِرُهَا، وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا، وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا». رواه مُسلِم




৩/১০৯১। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পুরুষদের কাতারের মধ্যে সর্বোত্তম কাতার হল প্রথম কাতার, আর নিকৃষ্টতম কাতার হল শেষ কাতার। আর মহিলাদের সর্বোত্তম কাতার হল পিছনের (শেষ) কাতার এবং নিকৃষ্টতম কাতার হল প্রথম কাতার।” (মুসলিম)[1]


[1] মুসলিম ৪৪০, তিরমিযী ২২৪, নাসায়ী ৮২০, আবূ দাউদ ৬৭৮, ইবনু মাজাহ ১০০০, আহমাদ ৭৩১৫, ৮২২৩, ৮২৮১, ৮৪৩০, ৮৫৮০, ৯৯১৭, দারেমী ১২৬৮

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1092)


وَعَنْ أبي سَعِيدٍ الخُدرِيِّ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم رَأَى فِي أصْحَابِهِ تَأَخُّراً، فَقَالَ لَهُمْ: «تَقَدَّمُوا فَأْتَمُّوا بِي، وَلْيَأْتَمَّ بِكُمْ مَنْ بَعْدَكُمْ، لاَ يَزَالُ قَوْمٌ يَتَأَخَّرُونَ حَتَّى يُؤَخِّرَهُمُ الله». رواه مُسلِم




৪/১০৯২। আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সাহাবীদের মাঝে (প্রথম কাতার থেকে) পিছিয়ে যাওয়া লক্ষ্য করে তাঁদেরকে বললেন, “এগিয়ে এসো, অতঃপর আমার অনুসরণ কর। আর যারা তোমাদের পরে আছে, তারা তোমাদের অনুসরণ করুক। (মনে রাখবে) লোকে সর্বদা পিছিয়ে যেতে থাকে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাদেরকে (তাঁর করুণাদানে) পিছনে করে দেন।” (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ৪৩৮, নাসায়ী ৭৯৫, আবূ দাউদ ৬৮০, ইবনু মাজাহ ৯৭৮, আহমাদ ১০৮৯৯, ১১১১৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1093)


وَعَنْ أَبِي مَسعُود رضي الله عنه قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ مَنَاكِبَنَا فِي الصَّلاَةِ، وَيَقُوْلُ: «اِسْتَوُوا وَلاَ تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ، لِيَلِيَنِي مِنْكُمْ أُولُو الأَحْلاَمِ وَالنُّهَى، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ». رَوَاهُ مُسلِم




৫/১০৯৩। আবূ মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে (কাতার বাঁধার সময়) আমাদের কাঁধে হাত বুলিয়ে বলতেন, “তোমরা সোজা হয়ে দাঁড়াও, তোমরা (কাতার বাঁধার সময়ে) পরস্পরের বিরোধিতা করো না; নচেৎ তোমাদের অন্তরের মধ্যে বিরোধিতা সৃষ্টি হবে। তোমাদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী তারা যেন আমার নিকটবর্তী থাকে। তারপর যারা (জ্ঞান ও যোগ্যতায়) তাদের কাছাকাছি হবে (তারা দাঁড়াবে)। তারপর যারা (জ্ঞান ও যোগ্যতায়) তাদের কাছাকাছি হবে (তারা দাঁড়াবে)।” (মুসলিম)[1]


[1] মুসলিম ৪৩২, নাসায়ী ৮০৭, ৮১২, আবূ দাউদ ৬৭৪, ইবনু মাজাহ ৯৭৬ আহমাদ ১৬৬৫৩, দারেমী ১২৬৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1094)


وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم : «سَوُّوْا صُفُوفَكُمْ ؛ فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصَّفِّ مِنْ تَمَامِ الصَّلاَةِ». متفقٌ عَلَيهِ، وفي رواية للبخاري: فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصُّفُوفِ مِنْ إقَامَةِ الصَّلاَةِ




৬/১০৯৪। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নামাযে দাঁড়িয়ে) বললেন, “তোমরা কাতার সোজা কর। কেননা, কাতার সোজা করা নামাযের পরিপূর্ণতার অংশ বিশেষ।” (বুখারী ও মুসলিম) [1]

বুখারীর এক বর্ণনায় আছে, “কেননা, কাতার সোজা করা নামায প্রতিষ্ঠা করার অন্তর্ভুক্ত।”


[1] সহীহুল বুখারী ৪১৯, ৭১৮, ৭১৯, ৭২৩,৭২৪, ৭২৫, ৭৪২, ৭৪৯, ৬৪৬৮, ৬৬৪৪, মুসলিম ৪২৫, নাসায়ী ৮১৩, ৮১৫, ৮১৮, ৮৪৫, ১০৫৪, ১১১৭, আবূ দাউদ ৬৬৭, ৬৬৮, ৬৬৯, ৬৭১, ইবনু মাজাহ ৯৯৩, আহমাদ ১১৫৮৬, ১১৬৫৫, ১১৬৯৯, ১১৭৩৮, ১১৮৪৬, ১১৯১২, ১২১৫৯, ১২২৩৫, ১২৩২২, ১২৪০১, ১২৪২৯, ১২৪৪৮, দারেমী ১২৬৩

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1095)


وَعَنْه، قَالَ: أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَأقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بِوَجْهِهِ، فَقَالَ: «أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ وَتَرَاصُّوا ؛ فَإنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِيْ». رواه البُخَارِيُّ بلفظه، ومسلم بمعناه .
وفي رواية للبخاري: وَكَانَ أَحَدُنَا يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَقَدَمَهُ بِقَدَمِهِ.




৭/১০৯৫। পূর্বোক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নামাযের তাকবীর (ইকামত) দেওয়া হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে মুখ করে বললেন, “তোমরা কাতারসমূহ সোজা কর এবং মিলিতভাবে দাঁড়াও। কারণ, তোমাদেরকে আমার পিছন থেকেও দেখতে পাই।” এই শব্দে বুখারী এবং একই অর্থে মুসলিম বর্ণনা করেছেন।)[1]

বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে, ‘আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তার পার্শ্বস্থ সঙ্গীর কাঁধে কাঁধ ও পায়ে পা মিলিয়ে দিত।’


[1] সহীহুল বুখারী ৪১৯,৭১৮, ৭১৯,৭২৩, ৭২৪,৭২৫, ৭৪২, ৭৪৯, ৬৪৬৮, ৬৬৪৪, মুসলিম ৪২৫, নাসায়ী ৮১৩, ৮১৫, ৮১৮, ৮৪৫, ১০৫৪, ১১১৭, আবূ দাউদ ৬৬৭, ৬৬৮, ৬৬৯, ৬৭১, ইবনু মাজাহ ৯৯৩, আহমাদ ১১৫৮৬, ১১৬৫৫, ১১৬৯৯, ১১৭৩৮, ১১৮৪৬, ১১৯১২, ১২১৫৯, ১২২৩৫, ১২৩২২, ১২৪০১, ১২৪২৯, ১২৪৪৮, দারেমী ১২৬৩

[Al- Bukhari].

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1096)


وَعَنِ النُّعمَانِ بنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ: «لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ، أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ». متفقٌ عَلَيهِ
وفي رواية لمسلم: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَانَ يُسَوِّي صُفُوفَنَا، حَتَّى كَأنَّمَا يُسَوِّي بِهَا القِدَاحَ حَتَّى رَأى أنَّا قَدْ عَقَلْنَا عَنْهُ، ثُمَّ خَرَجَ يَوماً فَقَامَ حَتَّى كَادَ يُكَبِّرُ، فَرَأى رَجُلاً بَادِياً صَدْرُهُ مِنَ الصَّفِّ، فَقَالَ: عِبَادَ اللهِ ! لتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ، أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ




৮/১০৯৬। নু‘মান ইবনে বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “অবশ্যই তোমরা নিজেদের কাতার সোজা করে নিবে; নচেৎ আল্লাহ তোমাদের মুখমণ্ডলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দিবেন।” (বুখারী ও মুসলিম) [1]

মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাতারগুলি এমনভাবে সোজা করতেন, যেন তিনি এর দ্বারা তীর সোজা করছেন। (তিনি তাতে প্রবৃত্ত থাকতেন) যতক্ষণ না তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারতেন যে, আমরা তাঁর কথা বুঝে ফেলেছি। একদিন তিনি বাইরে এলে (তারপর মুয়াজ্জিন) তাকবীর দিতে উদ্যত হচ্ছিল, এমন সময় একটি লোকের উপর তাঁর দৃষ্টি পড়ল, যার বুক কাতার থেকে আগে বেরিয়ে ছিল। তিনি বললেন, “আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা নিজেদের কাতার সোজা করে নাও; নচেৎ তোমাদের মুখমণ্ডলের মধ্যে আল্লাহ বিভিন্নতা ও বিভেদ সৃষ্টি করে দিবেন।”

(অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা জন্ম নেবে, যার অনিবার্য পরিণতি হবে অনৈক্য, অশান্তি-দ্বন্দ্ব-কলহ তথা অধঃপতন।)


[1] সহীহুল বুখারী ৭১৭, মুসলিম ৪৩৬, তিরমিযী ২২৭, নাসায়ী ৮১০, আবূ দাউদ ৬৬২, ৬৬৩, ৬৬৫, ইবনু মাজাহ ৯৯৪, আহমাদ ১৭৯০৯, ১৭৯১৮, ১৭৯৫৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1097)


وَعَنِ البَرَاءِ بنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَتَخَلَّلُ الصَّفَّ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلَى نَاحِيَةٍ، يَمْسَحُ صُدُورَنَا وَمَنَاكِبَنَا، وَيَقُوْلُ: «لاَ تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ. وَكَانَ يَقُوْل: إنَّ اللهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصُّفُوفِ الأُوَلِ». رواه أبُو دَاوُدَ بإسناد حسن




৯/১০৯৭। বারা’ ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে কাতারের ভিতরে ঢুকে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত চলা ফেরা করতেন এবং আমাদের বুকে ও কাঁধে হাত দিতেন (অর্থাৎ হাত দিয়ে কাতার ঠিক করতেন) আর বলতেন, “তোমরা বিভেদ করো না (অর্থাৎ কাতার থেকে আগে পিছে হটো না।) নচেৎ তোমাদের অন্তর রাজ্যেও বিভেদ সৃষ্টি হবে।” তিনি আরও বলতেন, “নিঃসন্দেহে আল্লাহ প্রথম কাতারগুলির উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতাবর্গ তাদের জন্য রহমত প্রার্থনা করেন।” (আবূ দাউদ হাসান সূত্রে) [1]


[1] আবূ দাউদ ৬৬৪, নাসায়ী ৮১১, ইবনু মাজাহ ৯৯৭, আহমাদ ১৮০৪৫, ১৮১৪২, ১৮১৪৭, ১৮১৬৬, ১৮১৭২, ১৮২২৯, দারেমী ১২৬৪

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (1098)


وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَقِيمُوا الصُّفُوفَ، وَحَاذُوا بَيْنَ المَنَاكِبِ، وَسُدُّوا الخَلَلَ، وَلِينُوا بِأَيْدِي إِخْوانِكُمْ، ولاَ تَذَرُوا فُرُجَاتٍ لِلشَّيْطَانِ، وَمَنْ وَصَلَ صَفّاً وَصَلَهُ اللهُ، وَمَنْ قَطَعَ صَفّاً قَطَعَهُ اللهُ». رواه أبُو دَاوُدَ بإسناد صحيح




১০/১০৯৮। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা কাতারগুলি সোজা করে নাও। পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নাও। (কাতারের) ফাঁক বন্ধ করে নাও। তোমাদের ভাইদের জন্য হাতের বাজু নরম করে দাও। আর শয়তানের জন্য ফাঁক ছেড়ো না। (মনে রাখবে,) যে ব্যক্তি কাতার মিলাবে, আল্লাহ তার সাথে মিল রাখবেন, আর যে ব্যক্তি কাতার ছিন্ন করবে (মানে কাতারে ফাঁক রাখবে), আল্লাহও তার সাথে (সম্পর্ক) ছিন্ন করবেন।” (আবূ দাউদ বিশুদ্ধ সূত্রে)[1]


[1] আবূ দাউদ ৬৬৬, নাসায়ী ৮১৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1099)


وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ: «رُصُّوا صُفُوفَكُمْ، وَقَارِبُوا بَيْنَهَا، وَحَاذُوا بِالأَعْنَاقِ؛ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ، كَأَنَّهُ الحَذَفُ». حديث صحيح رَوَاهُ أبُو دَاوُدَ بإسنادٍ عَلَى شرط مسلم




১১/১০৯৯। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ঘন করে কাতার বাঁধ এবং কাতারগুলিকে পরস্পরের কাছাকাছি রাখ। ঘাড়সমূহ একে অপরের বরাবর কর। সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ আছে, কাতারের মধ্যেকার ফাঁকে শয়তানকে আমি প্রবেশ করতে দেখতে পাই, যেন তা কালো ছাগলের ছানা।” (এ হাদিসটি বিশুদ্ধ, আবূ দাউদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী বর্ণনা করেছেন।) [1]

حذف এর অর্থ কালো ছোট জাতের ছাগল, যা ইয়ামেনে পাওয়া যায়।




[1] সহীহুল বুখারী ৪১৯, ৭১৮, ৭১৯, ৭২৩,৭২৪, ৭২৫, ৭৪২, ৭৪৯, ৬৪৬৮, ৬৬৪৪, মুসলিম ৪২৫, নাসায়ী ৮১৩, ৮১৫, ৮১৮, ৮৪৫, ১০৫৪, ১১১৭, আবূ দাউদ ৬৬৭, ৬৬৮, ৬৬৯, ৬৭১, ইবনু মাজাহ ৯৯৩, আহমাদ ১১৫৮, ৬, ১১৬৫৫, ১১৬৯৯, ১১৭৩৮, ১১৮৪৬, ১১৯১২, ১২১৫৯, ১২২৩৫, ১২৩২২, ১২৪০১, ১২৪২৯, ১২৪৪৮, দারেমী ১২৬৩

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1100)


وَعَنْه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَتِمُّوا الصَّفَّ المُقَدَّمَ، ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ، فَمَا كَانَ مِنْ نَقْصٍ فَلْيَكُنْ في الصَّفِّ المُؤَخَّرِ». رواه أبُو دَاوُدَ بإسناد حسن




১২/১১০০। পূর্বোক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নামায প্রাক্কালে) বলেন, “তোমরা আগের কাতারটি পূর্ণ করে নাও। তারপর ওর সংলগ্ন (কাতার পূর্ণ কর)। তারপর যে অসম্পূর্ণতা থাকে, তা শেষ কাতারে থাকুক।” (আবূ দাউদ, হাসান সূত্রে)[1]


[1] সহীহুল বুখারী ৭১৮, ৭২৩, আবূ দাউদ ৬৭১, ৬৬৭, ৬৬৮, ৬৬৯, মুসলিম ৪৩৩, ৪৩৪, নাসায়ী ৮১৪, ৮১৫, ৮৪৫, ইবনু মাজাহ ৯৯৩, আহমাদ ১১৫৯৬, ১১৬৯৯, ১১৭১৩, ১১৪০১, ১২৪২৯, ১২৪৭৩, ১৩২৫২, ১৩৩৬৬, ১৩৪৮৩, ১৩৫৫৭, ১৩৬৮২, দারেমী ১২৬৩

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (1101)


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّه عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّه صلى الله عليه وسلم:إِنَّ اللَّه وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّوْنَ عَلىٰ مَيَامِنِ الصُّفُوْفِ» رواه أبو داود بإِسناد عَلى شرْطِ مُسْلِمٍ، وفيهِ رجلٌ مُخْتَلَفٌ في توْثِيقِهِ .





১৩/১১০১। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ অবশ্যই কাতারগুলোর ডানদিকের উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং আল্লাহর ফেরেশতারা তাদের জন্য দো‘আ করতে থাকেন। (আবূ দাউদ) [1]



[1] আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি (বর্ণনাকারী উসমা হচ্ছেন উসামা ইবনু যায়েদ লাইসী। সমালোচক মুহাক্কেক আলেমদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে এই যে, তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে ভালো যদি তার বিরোধিতা করা না হয়। এ কারণে তার এ হাদীসকে একদল হাফিয হাসান আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু হাদীসটি এ ভাষায় শায অথবা মুনকার। কারণ তিনি অন্য সব নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করে এককভাবে এটিকে বর্ণনা করেছেন। আর বর্ণনাকারী মু‘য়াবিয়্যাহ্ ইবনু হিশামের মধ্যে তার হেফযের দিক দিয়ে দুর্বলতা রয়েছে। (তবুও বিরোধিতা না হয়ে থাকলে তার হাদীসও গ্রহণযোগ্য)। হাদীসটি নিরাপদ হচ্ছে (যেমনটি বাইহাক্বী বলেছেন) এ ভাষায়ঃ “আল্লাহ্ রহমাত নাযিল করেন আর ফেরেশতারা তাদের প্রতি রহমাত কামনা করে দু‘আ করেন যারা কাতার সমূহকে (ফাঁক না রেখে) পূর্ণ করে দাঁড়ায়”। যেমনটি আমি “মিশকাত” গ্রন্থের (নং ১০৯৬) টীকায় উল্লেখ করেছি আর “য‘ঈফু আবী দাঊদ” (নং ১৫৩) এবং “সহীহ্ আবী দাঊদ” গ্রন্থে (৬৮০) বর্ণনা করেছি। আবূ ৬৭৬, ইবনু মাজাহ ১০০৫।

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ যঈফ









রিয়াদুস সালিহীন (1102)


وَعَنِ البَرَاءِ قَالَ: كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَحْبَبْنَا أَنْ نَكُونَ عَنْ يَمِينهِ، يُقْبِلُ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ، فَسَمِعْتُهُ يَقُوْل: «رَبِّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ - أَو تَجْمَعُ - عِبَادَكَ»رواه مُسلِمٌ




১৪/১১০২। বারা’ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে যখন নামায পড়তাম তখন তাঁর ডান দিকে (দাঁড়ানো) পছন্দ করতাম। যাতে তিনি স্বীয় মুখমণ্ডল আমাদের দিকে ফিরান। বস্তুত আমি (একদিন) তাঁকে বলতে শুনেছি, ‘রাব্বি ক্বিনী ‘আযা-বাকা ইয়াওমা তাব‘আসু (অথবা তাজমাউ) ‘ইবা-দাক।’ হে আমার রব! তুমি আমাকে তোমার সেই দিনের আযাব থেকে বাঁচিয়ো, যেদিন তুমি স্বীয় বান্দাদেরকে কবর থেকে উঠাবে কিংবা হিসাবের জন্য জমা করবে। (মুসলিম)[1]


[1] মুসলিম ৭০৯, নাসায়ী ৮২২, আবূ দাউদ ৬১৫, ইবনু মাজাহ ১০০৬, আহমাদ ১৮০৮২, ১৮২৩৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1103)


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم «وَسِّطُوا الإِمَامَ، وَسُدُّوا الخَلَلَ». رواه أبُو دَاوُد.





১৫/১১০৩। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা ইমামকে কাতারের ঠিক মাঝখানে কর। আর কাতারের ফাঁক বন্ধ করো।” (আবূ দাউদ, হাদিসের প্রথমাংশ সহীহ নয়।)[1]



[1] আমি (আলবানী) বলছিঃ এর সনদে দু’জন মাজহূল (অপরিচিত) বর্ণনাকারী রয়েছেন। যেমনটি আমি “দ্ব‘ঈফু আবী দাঊদ” গ্রন্থে (নং ১০৫) বর্ণনা করেছি। তবে হাদীসটির দ্বিতীয় বাক্যের আব্দুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাযি) হতে কতিপয় শাহেদ বর্ণিত হয়েছে। অতএব দ্বিতীয় বাক্যটি সহীহ্। এ সম্পর্কে (১০৯৮) নম্বরে সহীহ্ আখ্যা দেয়া হয়েছে। এর সনদে বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইবনু বাশীর ইবনে খাল্লাদ এবং তার মা তারা উভয়েই মাজহূল (অপরিচিত)। ইবনু কাত্তান বলেনঃ তাদের উভয়ের অবস্থা অজ্ঞাত। আব্দুল হক্ব ইশবীলী বলেনঃ এ সনদটি শক্তিশালী নয়। হাফিয যাহাবী বলেনঃ তার সনদটি দুর্বল। হাফিয ইবনু হাজার “আত্তাক্বরীব” গ্রন্থে আর শাওকানী তার অনুসরণ করে ((৩/১৫৩) বলেনঃ ইয়াহ্ইয়া ইবনু বাশীরের অবস্থা অপ্রকাশিত আর তার মা অপরিচিতা। বিস্তারিত দেখুন “দ‘ঈফু আবী দাঊদ-আলউম্ম-” গ্রন্থে (নং ১০৬)। আবূ দাউদ ৬৮১

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ/যঈফ [মিশ্রিত]









রিয়াদুস সালিহীন (1104)


وَعَنْ أُمِّ المُؤْمِنِينَ أُمِّ حَبِيبَةَ رَمْلَةَ بِنْتِ أَبِي سُفْيَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَتْ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُوْلُ: «مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لِلهِ تَعَالىَ كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعاً غَيرَ الفَرِيضَةِ، إِلاَّ بَنَى اللهُ لَهُ بَيْتاً فِي الجَنَّةِ، أَوْ إِلاَّ بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الجَنَّةِ». رواه مُسلِمٌ




১/১১০৪। মুমিন জননী উম্মে হাবীবাহ রামলা বিনতে আবূ সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “যে কোনো মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর (সন্তুষ্টি অর্জনের) জন্য প্রত্যহ ফরয নামায ছাড়া বারো রাক‘আত সুন্নত নামায পড়ে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি গৃহ নির্মাণ করেন অথবা তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করা হয়।” (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ৭২৮, তিরমিযী ৪১৫, নাসায়ী ১৭৯৬-১৮১০, আবূ দাউদ ১২৫০, ইবনু মাজাহ ১১৪১, আহমাদ ২৬২৩৫, ২৬৮৪৯, ২৬৮৬৫, দারেমী ১২৫০

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1105)


وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتْينِ بَعْدَهَا، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الجُمُعَةِ، وَرَكْعَتَينِ بَعدَ المَغْرِبِ، وَرَكْعَتَينِ بَعدَ العِشَاءِ . متفقٌ عَلَيهِ




২/১১০৫। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমি দু’ রাকআত যোহরের (ফরযের) আগে, দু’ রাকআত তার পরে এবং দু’ রাকআত জুমার পরে, দু’ রাকআত মাগরিব বাদ, আর দু’ রাকআত নামায এশার (ফরযের) পরে পড়েছি।’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ৬১৮, ৯৩৭, ১১৬৯, ১১৭৩, ১১৮১, মুসলিম ৭২৩, ৭২৯, ৮৮২, তিরমিযী ৪২৫, ৪৩৩, ৫২২, নাসায়ী ৫৮৩, ১৪২৭, ১৪২৮, ১৭৬৯০, ১৭৬১, ১৭৬৫-১৭৭৯, আবূ দাউদ ১১২৮, ১১৩০, ১১৩২, ইবনু মাজাহ ১১৪৫, আহমাদ ৪৪৯২, ৪৫৭৭, ৪৬৪৬, ৫৭৪২, ৪৯০২, ৫১০৬, ৫২৭৪, ৫৩৯৪, ৫৪০৯, ৫৪২৫, ৫৪৫৬, ৫৫৭১, ৫৬৫৫, ৫৭০৫, মুওয়াত্তা মালিক ২৬১, ২৮৫, দারেমী ১৪৩৭, ১৪৪৩, ১৪৪৪, ১৫৭৩, ১৫৭৪

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ