রিয়াদুস সালিহীন
وَعَنْ أَبي مُوسَى رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنِّي وَاللهِ إِنْ شاءَ اللهُ لاَ أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ، ثُمَّ أَرَى خَيراً مِنْهَا إِلاَّ كَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي، وَأَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ» . متفق عَلَيْهِ
৩/১৭২৬। আবূ মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহর শপথ! ইন শাআল্লাহ, আমি যখনই কিছুর ব্যাপারে হলফ করব, তারপর তার চেয়ে উত্তম কিছু দেখতে পাব, তখন আমার কসম ভঙ্গের কাফফারা দিয়ে যেটি উত্তম সেটিই করব।’’ (বুখারী-মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৩১৩৩, ৪৩৮৫, ৪৪১৫, ৫৫১৭, ৫৫১৮, ৬৬২৩, ৬৬৪৯, ৬৬৭৮, ৬৬৮০, ৬৭১৮, ৬৭২১, ৭৫৫৫, মুসলিম ১৬৪৯, তিরমিযী ১৮২৬, ১৮২৭, নাসায়ী ৪৩৪৬, ৪৩৪৭, ইবনু মাজাহ ২১০৭, আহমাদ ১৯০২৫, ১৯০৬০, ১৯০৯৪, ১৯১২৫, ১৯১৪৩, ১৯২৫০, দারেমী ২০৫৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لأَنْ يَلَجَّ أَحَدُكُمْ فِي يَمِينِهِ فِي أَهْلِهِ آثَمُ لَهُ عِنْدَ اللهِ تَعَالَى مِنْ أَنْ يُعْطِي كَفَّارَتَهُ الَّتي فَرَضَ اللهُ عَلَيْهِ» . متفق عَلَيْهِ
৪/১৭২৭। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি আপন পরিবার পরিজনের ব্যাপারে কসম খায় ও [তার চেয়ে উত্তম অন্য কিছুতে জেনেও] তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, সে ব্যক্তির জন্য আল্লাহর নিকট এই কর্মটি বেশি গোনাহর কারণ হবে এই কর্ম থেকে যে, সে [কসম ভেঙ্গে] সেই কাফফারা আদায় করবে, যা আল্লাহ তার উপর ফরয করেছেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬৬২৫, ৬৬২৬, মুসলিম ১৬৫৫, ইবনু মাজাহ ২১৪৪, আহমাদ ৭৬৮৫, ২৭৪২৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ : أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَة : (لاَ يُؤاخِذُكُمُ اللهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ) فِي قَوْلِ الرَّجُلِ : لاَ وَاللهِ، وَبَلَى وَاللهِ . رواه البخاري
অহেতুক কথায় কথায় নিরর্থক কসম খাওয়ার ব্যাপারে কোন পাকড়াও হবে না এবং তাতে কাফ্ফারাও দিতে হবে না। যেমন অকারণে অনিচ্ছা-পূর্বক অভ্যাসগতভাবে ‘আল্লাহর কসম! এটা বটে। আল্লাহর কসম! এটা নয়।’ ইত্যাদি শব্দাবলী মুখ থেকে বের হয়।
মহান আল্লাহ বলেছেন,
﴿ لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَٰكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الْأَيْمَانَ ۖ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ ۖ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ۚ ذَٰلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ ۚ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾ [المائدة: ٨٩]
অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদেরকে অর্থহীন কসমের জন্য পাকড়াও করবেন না; কিন্তু তিনি তোমাদেরকে সেই কসমের জন্য পাকড়াও করবেন, যাতে তোমরা দৃঢ়টা অবলম্বন করেছ। সুতরাং তার কাফফারা হচ্ছে দশটি মিসকিনকে অন্নদান করা মধ্যম শ্রেণীর খাদ্য হতে, যা তোমরা নিজেদের স্ত্রী-পুত্র, পরিজনকে খেতে দাও অথবা তাদেরকে বস্ত্রদান করা অথবা একজন দাসমুক্ত করা। যদি কেউ [এ ৩টির মধ্যে একটি আদায় করতে] অসমর্থ হয়, তাহলে সে তিনদিন রোযা রাখবে। তোমরা যখন কসম করবে, তখন এটাই তোমাদের কাফফারা [প্রায়শ্চিত্ত]। আর তোমরা তোমাদের কসমসমূহকে রক্ষা কর। [মা-য়েদাহ ৮৯ আয়াত)
১/১৭২৮। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘এই আয়াত [যার অর্থ] ‘‘আল্লাহ তোমাদের অর্থহীন কসমের জন্য তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না।’’ (সূরা মায়েদা ৮৯ আয়াত) এমন লোকের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যে [অজ্ঞাতসারে অভ্যাসগতভাবে কথায় কথায় কসম করে] বলে, আল্লাহর কসম! এটা নয়। আল্লাহর কসম! এটা বটে।’ (বুখারী)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৪৬১৩, ৬৬৬৩, আবূ দাউদ ৩২৫৪, মুওয়াত্তা মালিক ১০৩২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : الحَلِفُ مَنْفَقَةٌ لِلسِّلْعَةِ، مَمْحَقَةٌ لِلْكَسْبِ . متفق عليه
১/১৭২৯। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ‘‘কসম পণ্যদ্রব্য বিক্রয় বৃদ্ধি করে বটে; [কিন্তু] তা লাভ [বরকত] বিনষ্ট করে।’’ (বুখারী-মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ২০৮৭, মুসলিম ১৬০৬, নাসায়ী ৪৪৬১, আবূ দাউদ ৩৩৩৫, আহমাদ ৭১৬৬, ৭২৫১, ৯০৮৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ رضي الله عنه : أَنَّه سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ : «إِيَّاكُمْ وَكَثْرَةَ الحَلِفِ فِي البَيْعِ، فَإِنَّهُ يُنَفِّقُ ثُمَّ يَمْحَقُ» . رواه مسلم
২/১৭৩০। আবূ ক্বাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, ‘‘তোমরা কেনা-বেচার সময় অধিকাধিক কসম খাওয়া থেকে দূরে থাক। কেননা, তা বিক্রয় বৃদ্ধি করে; [কিন্তু] বরকত মুছে দেয়।’’ (মুসলিম)[1]
[1] মুসলিম ১৬০৭, নাসায়ী ৪৪৬০, ইবনু মাজাহ ২২০৯, আহমাদ ২২০৩৮, ২২০৬৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ جابرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَال : قالَ رسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «لا يُسْأَلُ بوَجْهِ اللهِ إِلاَّ الْجَنَّةُ» رواه أبو داود
৩/১৭৩১। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর সত্ত্বার দ্বারা জান্নাত ব্যতীত অন্য কিছু চাওয়া ঠিক নয়। [আবূ দাউদ][1]
[1] আমি [আলবানী) বলছিঃ এর সনদটি দুর্বল। যেমনটি মুনযেরী প্রমুখ বলেছেন। দেখুন ‘‘মাজমূ‘ ফাতাওয়াল আলবানী’’ [১/২৩৪)। উল্লেখ্য আল্লাহর সত্বার দ্বারা কিছু চাইলে তাকে প্রদান করার জন্য রসূল [স) নির্দেশ দিয়েছেন মর্মে সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। অথচ এ দুর্বল হাদীসে আল্লাহর সত্বার দ্বারা শুধুমাত্র জান্নাত চাওয়াকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। দেখুন ‘‘সহীহ্ আবী দাঊদ’’ [৫১০৮) ও ‘‘সিলসিলাহ্ সহীহাহ্’’ [২৫৩)।
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ যঈফ
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَنِ اسْتَعَاذَ بِاللهِ، فَأَعِيذُوهُ، وَمَنْ سَأَلَ بِاللهِ، فأَعْطُوهُ، وَمَنْ دَعَاكُمْ، فَأَجِيبُوهُ، وَمَنْ صَنَعَ إِلَيْكُمْ مَعْرُوفاً فَكَافِئُوهُ، فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مَا تُكَافِئُونَهُ بِهِ فَادْعُوا لَهُ حَتَّى تَرَوْا أَنَّكُمْ قَد كَافَأْتُمُوهُ . حديث صحيح رواه أبو داود والنسائي بأسانيد الصحيحين
২/১৭৩২। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কেউ আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করলে, তাকে আশ্রয় দাও। আর যে আল্লাহর নামে যাচ্ঞা করবে, তাকে দান কর। যে তোমাদেরকে নিমন্ত্রণ দেবে, তোমরা তার নিমন্ত্রণ গ্রহণ কর। যে তোমাদের উপকার করবে, তোমরা তার [যথোচিত] প্রতিদান দাও। আর যদি তোমরা তার [যথার্থ] প্রতি-দানযোগ্য কিছু না পাও, তাহলে তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত দো‘আ করতে থাক, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের এ ধারণা বদ্ধমূল হবে যে, তোমরা তার [সঠিক] প্রতিদান আদায় করে দিয়েছ। [সহীহ হাদিস, আবূ দাঊদ, নাসায়ী বুখারী-মুসলিমের সানাদযোগে] [1]
[1] নাসায়ী ২৫৬৭, আবূ দাউদ ১৬৭২, আহমাদ ৫৭০৯, ৬০৭১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ أَخْنَعَ اسْمٍ عِنْدَ اللهِ ـ عَزَّ وَجَلَّ ـ رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الأَمْلاَكِ» . متفق عليه . قال سُفيانُ بن عُيَيْنَةَ : «مَلِكُ الأَمْلاَكِ» مِثْلُ : شَاهِنْ شَاهِ
১/১৭৩৩। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ আয্যা অজাল্লার নিকট নিকৃষ্টতম নাম সেই ব্যক্তির, যে নিজের নাম রাখে রাজাধিরাজ।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]
‘সুফয়ান ইবনে উয়াইনা বলেন, ‘মালিকুল আমলাক’ যেমন ‘শাহানশাহ’।
[1] সহীহুল বুখারী ৬২০৫, ৬২০৬, মুসলিম ২১৪৩, তিরমিযী ২৮৩৭, আবূ দাউদ ৪৯৬১, আহমাদ ৭২৮৫, ২৭৩৯৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَن بُريَدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لاَ تَقُولُوا لِلْمُنَافِقِ سَيِّدٌ، فَإِنَّهُ إِنْ يَكُ سَيِّداً فَقَدْ أَسْخَطْتُمْ رَبَّكُمْ ـ عَزَّ وَجَلَّ ـ» . رواه أبو داود بإسنادٍ صحيح
১/১৭৩৪। বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মুনাফিককে ‘সর্দার’ বলো না। কেননা, সে যদি তোমাদের ‘সর্দার’ হয়, তাহলে তোমরা [অজ্ঞাতসারে] তোমাদের মহামহিমান্বিত প্রতিপালককে অসন্তুষ্ট করে ফেলবে।’’ [আবূ দাঊদ বিশুদ্ধ সূত্রে][1]
* [কোন মুনাফিক, কাফের, পাপী ও বিদআতী মানুষকে সাইয়েদ, মালিক, লর্ড, মহাশয়, স্যার, প্রভু, কর্তা, সর্দারজী প্রভৃতি দ্বারা সম্বোধন করা নিষেধ।]
[1] আবূ দাউদ ৪৯৭৭, আহমাদ ২২৪৩০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَى أُمِّ السَّائِبِ، أَو أُمِّ المُسَيّبِ فَقَالَ: «مَا لَكِ يَا أُمَّ السَّائِبِ ـ أَو يَا أُمَّ المُسَيَّبِ ـ تُزَفْزِفِينَ ؟» قَالَتْ : الحُمَّى لاَ بَارَكَ اللهُ فِيهَا ! فَقَالَ: «لاَ تَسُبِّي الحُمَّى فَإِنَّهَا تُذْهِبُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ كَمَا يُذْهِبُ الكِيْرُ خَبَثَ الحَدِيدِ» . رواه مسلم
১/১৭৩৫। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [একবার] উম্মে সায়েব কিম্বা উম্মে মুসাইয়িবের নিকট প্রবেশ করে বললেন,‘‘হে উম্মে সায়েব কিম্বা উম্মে মুসাইয়িব! তোমার কি হয়েছে যে, থরথর করে কাঁপছ?’’ সে বলল, ‘জ্বর হয়েছে; আল্লাহ তাতে বরকত না দেন।’ [এ কথা শুনে] তিনি বললেন, ‘‘জ্বরকে গালি দিও না। জ্বর তো আদম সন্তানের পাপ মোচন করে; যেমন হাপর [ও ভাটি] লোহার ময়লা দূর করে ফেলে।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ২৫৭৫, তিরমিযী ২২৫০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَن أَبِي المُنذِرِ أُبَيِّ بنِ كَعْبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «لاَ تَسُبُّوا الرِّيحَ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مَا تَكْرَهُونَ، فَقُولُوا : اَللهم إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الرِّيحِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُمِرَتْ بِهِ . وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيحِ وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ». رواه الترمذي، وقال:[حديث حسن صحيح]
১/১৭৩৬। আবুল মুনযির উবাই ইবনে কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা ঝড়কে গালি দিও না। যখন তোমরা অ-পছন্দনীয় কিছু লক্ষ্য করবে, তখন এই দো‘আ পড়বে। ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা মিন খাইরি হাযিহির রীহি অখাইরি মা ফীহা অখাইরি মা উমিরাত বিহ। অনাঊযু বিকা মিন শার্রি হাযিহির রীহি অশার্রি মা ফীহা অশার্রি মা উমিরাত বিহ।’’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এই ঝড়ের কল্যাণ, ওর মধ্যে নিহিত কল্যাণ এবং যার আদিষ্ট হয়েছে তার কল্যাণ। এবং তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এই বায়ুর অনিষ্ট হতে ওর মধ্যে নিহিত অনিষ্ট এবং যার আদিষ্ট হয়েছে তার অনিষ্ট হতে। (তিরমিযী হাসান সহীহ][1]
[1] তিরমিযী ২২৫২, আহমাদ ২০৬৩৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : «الرِّيحُ مِنْ رَوحِ اللهِ، تَأْتِي بِالرَّحْمَةِ، وَتَأتِي بِالعَذَابِ، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهَا فَلاَ تَسُبُّوهَا، وَسَلُوا اللهَ خَيْرَهَا، وَاسْتَعِيذُوا بِاللهِ مِنْ شَرِّهَا» . رواه أبو داود بإسناد حسن
২/১৭৩৭। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ‘‘বায়ু আল্লাহর আশিস, যা রহমত আনে এবং আযাবও আনে। কাজেই তোমরা যখন তা বইতে দেখবে, তখন তাকে গালি দিও না। বরং আল্লাহর নিকট তার ইষ্ট প্রার্থনা কর এবং তার অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা কর।’’ [আবূ দাঊদ হাসান সূত্রে] [1]
[1] আবূ দাউদ ৫০৯৭, ইবনু মাজাহ ৩৭২৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا عَصَفَتِ الرِّيحُ قَالَ: «اَللهم إِنِّي أَسْألُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ» . رواه مسلم
৩/১৭৩৮। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ঝড়-তুফান চলা কালে আল্লাহর রাসূল এই দো‘আ করতেন,
‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাহা অখাইরা মা ফীহা অখাইরা মা উরসিলাত বিহ, অআঊযু বিকা মিন শার্রিহা অশার্রি মা ফীহা অশার্রি মা উরসিলাত বিহ।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি এর কল্যাণ, এর মধ্যে যা আছে তার কল্যাণ এবং যার সাথে এ প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ তোমার নিকট প্রার্থনা করছি। আর এর অনিষ্ট, এর মধ্যে যা আছে তার অনিষ্ট এবং যার সাথে এ প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট হতে পানাহ চাচ্ছি। (মুসলিম)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৪৮২৯, মুসলিম ৮৯৯, তিরমিযী ৩২৫৭, আবূ দাউদ ৫০৯৮, ইবনু মাজাহ ৩৮৯১, আহমাদ ২৩৮৪৮, ২৫৫০৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ زَيدِ بنِ خَالِدِ الجُهَنِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لاَ تَسُبُّوا الدِّيكَ فَإِنَّهُ يُوِقِظُ لِلصَّلاَةِ». رواه أبو داود بإسناد صحيح
১/১৭৩৯। যায়েদ ইবনে খালিদ জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা মোরগকে গালি দিও না। কারণ, সে নামাযের জন্য জাগিয়ে থাকে।’’ [আবূ দাঊদ বিশুদ্ধ সূত্রে][1]
[1] আবূ দাউদ ৫১০১, আহমাদ ২১১৭১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ زَيدِ بنِ خَالِدٍ رَضِيَ اللهُ عَنهَ قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الصُّبْحِ بِالحُدَيْبِيَّةِ فِي إِثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ، فَقَالَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ ؟» قَالُوا : اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ: «قَالَ: أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي، وَكَافِرٌ، فَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ، فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي كَافِرٌ بِالكَوْكَبِ، وَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِنَوءِ كَذَا وَكَذَا، فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي مُؤْمِنٌ بِالكَوْكَبِ» . متفق عليه
১/১৭৪০। যায়েদ ইবনে খালেদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা হুদাইবিয়াতে রাতে বৃষ্টি হলে আমাদেরকে ফজরের নামায পড়ানোর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলের দিকে মুখ করে বসে বললেন, ‘‘তোমরা জান কি, তোমাদের প্রতিপালক কি বলেন?’’ সকলে বলল, ‘আল্লাহ ও তদীয় রাসূল ভাল জানেন।’ তিনি বললেন, ‘‘আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে কিছু বান্দা মুমিন হয়ে ও কিছু কাফের হয়ে প্রভাত করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি বলেছে যে, ‘আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায় আমাদের উপর বৃষ্টি হল’, সে তো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী [মুমীন]ও নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী [কাফের]। আর যে ব্যক্তি বলেছে যে, ‘অমুক অমুক নক্ষত্রের ফলে আমাদের উপর বৃষ্টি হল’, সে তো আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী [কাফের] এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী [মুমীন]।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৮৪৬, ১০৩৮, ৪১৪৭,৭৫০৩, মুসলিম ৭১, নাসায়ী ১৫২৫, আবূ দাউদ ৩৯০৬, আহমাদ ১৬৬১৩, মুওয়াত্তা মালিক ৪৫১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لأَخِيهِ : يَا كَافِرُ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا، فَإِنْ كَانَ كَمَا قَالَ وَإلاَّ رَجَعَتْ عَلَيْهِ». متفق عليه
১/১৭৪১। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন কেউ তার মুসলিম ভাইকে ‘কাফের’ বলে, তখন তাদের উভয়ের মধ্যে একজনের উপর তা বর্তায়, যা বলেছে তা যদি সঠিক হয়, তাহলে তো ভাল। নচেৎ [যে বলেছে] তার উপর ঐ কথা ফিরে যায় [অর্থাৎ সে ‘কাফের’ হয়]।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬১০৪, মুসলিম ৬০, তিরমিযী ২৬৩৭, আবূ দাউদ ৪৬৮৭, আহমাদ ৪৬৭৩, ৪৭৩১, ৫০১৫, ৫০৫৭, ৫২৩৭, ৫৭৯০, ৫৮৭৮, ৫৮৯৭, ৬২৪৪, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৪৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي ذَرٍّرَضِيَ اللهُ عَنهَ : أَنَّه سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُوْلُ : «مَنْ دَعَا رَجُلاً بِالْكُفْرِ، أَو قَالَ: عَدُوَّ اللهِ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِلاَّ حَارَ عَلَيْهِ» . متفق عليه
২/১৭৪২। আবূ যার্র রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, ‘‘যে কাউকে ‘ওরে কাফের’ বলে ডাকে অথবা ‘ওরে আল্লাহর দুশমন’ বলে অথচ বাস্তবিক ক্ষেত্রে যদি সে তা না হয়, তাহলে তার [বক্তার] উপর তা বর্তায়।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬০৫৫, মুসলিম ৬১, আহমাদ ২০৯৫৪, ২১০৬১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنِ ابنِ مَسعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لَيْسَ المُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ، وَلاَ اللَّعَّانِ، وَلاَ الفَاحِشِ، وَلاَ البَذِيِّ» رواه الترمذي، وقال :[ حديث حسن ]
১/১৭৪৩। ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মুমীন খোঁটা দানকারী, অভিশাপকারী, নির্লজ্জ ও অশ্লীল-ভাষী হয় না।’’ (তিরমিযী হাসান] [1]
[1] তিরমিযী ১৯৭৭, আহমাদ ৩৮২৯, ৩৯৩৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «مَا كَانَ الفُحْشُ فِي شَيْءٍ إِلاَّ شَانَهُ، وَمَا كَانَ الحَيَاءُ فِي شَيْءٍ إِلاَّ زَانَهُ» . رواه الترمذي، وقال :[ حديث حسن ]
২/১৭৪৪। ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে বস্তুর মধ্যে অশ্লীলতা থাকবে, তা তাকে দূষিত করে ফেলবে, আর যে জিনিসের মধ্যে লজ্জা-শরম থাকবে, তা তাকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে তুলবে।’’ (তিরমিযী হাসান] [1]
[1] তিরমিযী ১৯৭৪, ইবনু মাজাহ ৪১৮৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
عَنِ ابنِ مَسعُود رضي الله عنه : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «هَلَكَ المُتَنَطِّعُونَ» قَالَهَا ثَلاَثاً . رواه مسلم
১/১৭৪৫। ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘বাগাড়ম্বর-কারীরা ধ্বংস হয়ে গেল [বা ধ্বংস হোক]।’’ এ কথা তিনি তিনবার বলেছেন। (মুসলিম)[1]
[1] মুসলিম ২৬৭০, আবূ দাউদ ৩৬০৮, আহমাদ ৩৬৪৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ