রিয়াদুস সালিহীন
وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللهَ يُبْغِضُ البَلِيغَ مِنَ الرِّجَالِ الَّذي يَتَخَلَّلُ بِلِسَانِهِ كَمَا تَتَخَلَّلُ البَقَرَةُ». رواه أبو داود والترمذي، وقال:[حديث حسن]
২/১৭৪৬। ‘আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর ইবনে ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘অবশ্যই আল্লাহ এমন বাকপটু মানুষকে ঘৃণা করেন, যে জিহ্বা দ্বারা ভক্ষণ করে [এমন ঢঙে জিভ ঘুরিয়ে কথা বলে,] যেমন গাভী নিজ জিহ্বা দ্বারা সাপটে তৃণ ভক্ষণ করে।’’ [আবূ দাঊদ, তিরিমিযী হাসান] [1]
[1] তিরমিযী ২৮৫৩, আবূ দাউদ ৫০০৫, আহমাদ ৬৫০৭, ৬৭১৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
وَعَنْ جَابِرِ بنِ عَبدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِنَّ مِنْ أَحَبِّكُمْ إِلَيَّ، وَأَقْرَبِكُمْ مِنِّي مَجْلِساً يَومَ القِيَامَةِ، أَحَاسِنكُمْ أَخْلاَقَاً، وَإِنَّ أَبْغَضَكُمْ إِلَيَّ، وَأَبْعَدَكُمْ مِنِّي يَومَ القِيَامَةِ، الثَّرْثَارُونَ وَالمُتَشَدِّقُونَ وَالمُتَفَيْهِقُونَ» . رواه الترمذي، وقال :[ حديث حسن ]
৩/১৭৪৭। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে আমার প্রিয়তম এবং অবস্থানে আমার নিকটতম ব্যক্তিদের কিছু সেই লোক হবে যারা তোমাদের মধ্যে চরিত্রে শ্রেষ্ঠতম। আর তোমাদের মধ্যে আমার নিকট ঘৃণ্যতম এবং অবস্থানে আমার থেকে দূরতম হবে তারা; যারা অনর্থক অত্যধিক আবোল-তাবোল বলে ও বাজে বকে এমন বাচাল ও বখাটে লোক; যারা আলস্যভরে বা কায়দা করে টেনে-টেনে কথা বলে। আর অনুরূপ অহংকারীরাও।’’ (তিরমিযী হাসান] [1]
[1] তিরমিযী ২০১৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ : خَبُثَتْ نَفْسي، وَلكِنْ لِيَقُلْ : لَقِسَتْ نَفْسي» متفق عليه
১/১৭৪৮। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে অবশ্যই কেউ যেন ‘আমার আত্মা খবীস হয়ে গেছে’ না বলে। তবে বলতে পারে যে, ‘আমার অন্তর কলুষিত হয়ে গেছে।’’ (বুখারী) [1]
উলামাগণের মতে ‘খবীস’ হওয়া ও ‘কলুষিত’ হওয়ার অর্থ প্রায় একই। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘খবীস’ শব্দটির প্রয়োগ অপছন্দ করেছেন।
[1] সহীহুল বুখারী ৬১৭৯, মুসলিম ২২৫০, আবূ দাউদ ৪৯৭৯, আহমাদ ২৩৭২৩, ২৩৮৫৪, ২৫২২০, ২৫৪০৮, ২৭৬৬০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لاَ تُسَمُّوا العِنَبَ الكَرْمَ، فَإنَّ الكَرْمَ المُسْلِمُ» متفق عليه، وهذا لفظ مسلم
وفي رواية : فَإنَّمَا الكَرْمُ قَلْبُ المُؤمِنِ . وفي رواية للبخاري ومسلم : يَقُولُونَ الكَرْمُ، إنَّمَا الكَرْمُ قَلْبُ المُؤْمِنِ
১/১৭৪৯। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা আঙ্গুরের নাম ‘করম’ [বদান্য] রেখো না। কেননা, ‘করম’ [বদান্য] তো মুসলিম হয়।’’ (মুসলিম) [1]
অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘কারম’ [বদান্য] তো মু’মিনের হৃদয়।’’ বুখারী ও মুসলিমের অপর এক বর্ণনা মতে: ‘‘লোকে [আঙ্গুরকে] ‘কারম’ [বদান্য] বলে। ‘কারম’ [বদান্য] তো কেবল মু’মিনের হৃদয়।’’
[1] সহীহুল বুখারী ৪৮২৬, ৬১৮১, ৬১৮৩, ৭৪৯১, মুসলিম ২২৪৬, আবূ দাউদ ৪৯৭৪, ৫২৭৪, আহমাদ ৭২০৪, ৭২১৬, ৭৪৬৬, ৭৬২৫, ৭৬৫৯, ৮৮৭২, ৮৮৯২, ৯৮০৭, ৯৯৯৪, ১০০৬১, ১০১০১, ১০২০০, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৪৬, দারেমী ২৭০০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ وَائِلِ بنِ حُجْرٍ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لاَ تَقُولُوا : الكَرْمُ، وَلَكِنْ قُولُوا : العِنَبُ، وَالحَبَلَةُ». رواه مسلم
২/১৭৫০। ওয়ায়েল ইবনে হুজ্র রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আঙ্গুরকে ‘করম’ বলো না। বরং ‘ইনাব’ ও ‘হাবালাহ’ বল।’’ (মুসলিম) [1]
[আঙ্গুরকে আরবী ভাষায় ‘ইনাব’ ও ‘হাবালাহ’ বলা হয়। এর উৎকৃষ্টতা ও উপকারিতার জন্য লোকে সম্মানের সাথে তাকে ‘করম’ [বদান্য] নামে আখ্যায়িত করত। অথচ এ বিশেষণের অধিকারী একমাত্র মুমিন মানুষ। তাই এই নিষেধাজ্ঞা।
বলাই বাহুল্য যে, যে শব্দ প্রয়োগে শরয়ী বাধা আছে, তা বর্জন করা বাঞ্ছনীয়। যেমন, রামধনু, বিশ্বব্রহ্মান্ড, দৈবাৎক্রমে, দেবর, লক্ষ্মী মেয়ে, হরিলুট ইত্যাদি।]
[1] মুসলিম ২২৪৮, দারেমী ২১১৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنِ ابنِ مَسعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لاَ تُبَاشِرِ المَرْأَةُ المَرْأَةَ، فَتَصِفَهَا لِزَوْجِهَا كَأَنَّهُ يَنْظُرُ إلَيْهَا» . متفق عليه
১/১৭৫১। ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কোন মহিলা যেন অন্য কোন মহিলাকে [নগ্ন] কোলাকুলি না করে। [কারণ] সে পরে তার স্বামীর কাছে তা এমনভাবে বর্ণনা করবে যে, যেন সে [তা শুনে] ঐ মহিলাকে প্রত্যক্ষভাবে দর্শন করছে।’’ (মুসলিম) [1]
[হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কোন নারী যেন অন্য নারীর কাছেও নিজ দেহের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। কারণ, সে তার স্বামীর কাছে যখন তার ঐ সৌন্দর্য বর্ণনা করবে, তখন হয়ত তার স্বামী ফিতনায় পড়ে গিয়ে স্বয়ং বর্ণনা-কারিণীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং প্রতিটি নারীকে নিজের মাথায় হাঁড়ি ভাঙ্গা থেকে সতর্ক থাকা অবশ্য কর্তব্য।]
[1] সহীহুল বুখারী ৫২৪০, ৫২৪১, তিরমিযী ২৭৯২, আবূ দাউদ ২১৫০, আহমাদ ৩৫৮৬, ৩৬৫৯, ৪১৬৪, ৪১৭৯, ৪১০০, ৪৩৮১, ৪৩৯৩, ৪৪১০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ : اَللهم اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ: اَللهم ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ، لِيَعْزِم المَسْأَلَةَ، فَإِنَّهُ لاَ مُكْرِهَ لَهُ» . متفق عليه
وفي رواية لمسلم : وَلكِنْ لِيَعْزِمْ وَلْيُعَظمِ الرَّغْبَةَ فَإِنَّ اللهَ تَعَالَى لاَ يَتَعَاظَمُهُ شَيْءٌ أَعْطَاهُ
১/১৭৫২। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের কেউ যেন ‘হে আল্লাহ! তুমি যদি চাও, তাহলে আমাকে ক্ষমা কর’, হে আল্লাহ! তুমি যদি চাও, তাহলে আমার প্রতি দয়া কর’ অবশ্যই না বলে। বরং যেন দৃঢ়চিত্তে প্রার্থনা করে। কারণ, তাঁকে কেউ বাধ্য করতে পারে না।’’ (মুসলিম) [1]
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ‘‘বরং সে যেন দৃঢ়চিত্তে চায় এবং যেন বিরাট আগ্রহ প্রকাশ করে। কেননা, আল্লাহ তা'আলার দৃষ্টিতে প্রার্থিত বস্তু দান করা কোন বড় ব্যাপার নয়।’’
[1] সহীহুল বুখারী ৬৩৩৯, ৭৪৭৭, মুসলিম ২৬৭৯, তিরমিযী ৩৪৯৭, আবূ দাউদ ১৪৮৩, আহমাদ ৭২৭২, ৯৬৫২, ৯৯৩৭, ১০১১৬, ১০৪৮৬, ২৭২৩৬, ২৭৪৫৬, মুওয়াত্তা মালিক ৪৯৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلْيَعْزِمِ المَسْأَلَةَ، وَلاَ يَقُولَنَّ : اَللهم إِنْ شِئْتَ، فَأَعْطِنِي، فَإِنَّهُ لاَ مُسْتَكْرِهَ لَهُ» . متفق عليه
২/১৭৫৩। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের কেউ যখন দো‘আ করবে, সে যেন দৃঢ়-সংকল্প হয়ে চায়। আর যেন না বলে যে, ‘আল্লাহ গো! তুমি যদি চাও, তাহলে আমাকে দাও।’ কেননা, তাঁকে বাধ্য করার মত কেউ নেই।’’ (বুখারী-মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬৩৩৮, ৭৪৬৪, মুসলিম ২৬৭৮, আহমাদ ১১৫৬৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ حُذَيْفَةَ بنِ اليَمَانِ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لاَ تَقُولُوا : مَا شَاءَ اللهُ وَشَاءَ فُلاَنٌ ؛ وَلَكِنْ قُولُوا : مَا شَاءَ اللهُ، ثُمَّ شَاءَ فُلاَنٌ» . رواه أبو داود بإسناد صحيح
১/১৭৫৪। হুযাইফাহ ইবনে ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা ‘আল্লাহ ও অমুক যা চায় [তাই হবে]’ বলো না, বরং বলো, ‘আল্লাহ যা চান, তারপর অমুক যা চায় [তাই হবে]।’’ [আবূ দাঊদ বিশুদ্ধ সূত্রে] [1]
* [এবং বা ও যোগ করে বললে আল্লাহর ইচ্ছার সঙ্গে সৃষ্টির ইচ্ছাকে একাকার করে দেওয়া হয়। যেহেতু আল্লাহ একাই যা চান, তাই হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে তাঁর চাওয়ার পরে কারো চাওয়ার কথাকে প্রকাশ করতে হলে, ‘তারপর’ বা ‘অতঃপর’ বলে সংযোগ করতে হবে।]
[1] আবূ দাউদ ৪৯৮০, আহমাদ ২২৭৫৪, ২২৮২৮, ২২৮৭২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ أَبِي بَرْزَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَكرَهُ النَّومَ قَبْلَ العِشَاءِ وَالحَدِيثَ بَعْدَهَا . متفقٌ عليه
اَلْمُرَادُ بِهَالْحَدِيْثُ الَّذِيْ يَكُونُ مُبَاحًا فِي غَيْرِ هٰذَا الْوَقْتِ وَفِعْلُهُ وَتَرْكُهُ سَوَاءٌ. فَأَمَّا الْحَدِيْثُ الْمُحَرَّمُ أَوِ الْمَكْرُوهُ فِي غَيْرِ هٰذَا الْوَقْتِ أَشَدُّ تَحْرِيمًا وَكَرَاهَةً، وَأَمَّا الْحَدِيثُ فِي الْخَيْرِ كَمُذَاكَرَةِ الْعِلْمِ وَحِكَايَاتِ الصَّالِحِينَ وَمَكَارِمِ الْأَخْلَاقِ وَالْحَدِيثُ مَعَ الضَّيْفِ وَمَعَ طَالِبِ حَاجَةٍ وَنَحْوَ ذٰلِكَ فَلَا كَرَاهَةَ فِيهِ، بَلْ هُوَ مُسْتَحَبٌّ، وَكَذَا الْحَدِيثُ لِعُذْرٍ وَعَارِضٍ لَا كَرَاهَةَ فِيهِ. وَقَدْ تَظَاهَرَتِ الْأَحَادِيثُ الصَّحِيحَةُ عَلٰى كُّلِّ مَا ذَكَرْتُهُ.
উদ্দেশ্য, যে সব কথাবার্তা অন্য সময়ে বলা মুবাহ [অর্থাৎ যা করা না করা সমান]। নচেৎ যে সব কথাবার্তা অন্য সময়ে হারাম বা মাকরূহ, সে সব এ সময়ে আরও অধিকভাবে হারাম ও মাকরূহ। পক্ষান্তরে কল্যাণমূলক কথাবার্তা; যেমন জ্ঞানচর্চা, নেক লোকদের কাহিনী ও চরিত্র আলোচনা, মেহমানের সঙ্গে বাক্যালাপ, কারো প্রয়োজন পূরণ প্রসঙ্গে কথা ইত্যাদি বলা মকরুহ নয়; বরং তা মুস্তাহাব। অনুরূপভাবে আকস্মিক কোন ঘটনাবশতঃ বা কোন সঠিক ওযরে কথা বলা অ-পছন্দনীয় কাজ নয়। উক্ত বিবৃতির সমর্থনে বহু বিশুদ্ধ হাদিস বিদ্যমান রয়েছে।
১/১৭৫৫। আবূ বারযা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামাযের আগে ঘুমানো এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1]সহীহুল বুখারী ৫৪১, ৫৪৭, ৫৬৮, ৫৯৯, ৭৭১, মুসলিম ৬৪৭, নাসায়ী ৪৯৫, ৫৩০, ৯৪৪, আবূ দাউদ ৩৯৮, ইবনু মাজাহ ৬৭৪, দারেমী ১৩০০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى العِشَاء فِي آخِرِ حَيَاتِهِ، فَلَمَّا سَلَّمَ قال : «أَرَأَيْتَكُمْ لَيْلَتَكُمْ هَذِهِ ؟ فَإِنَّ عَلَى رَأسِ مِئَةِ سَنَةٍ لاَ يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ علَى ظَهْرِ الأَرْضِ اليَومَ أَحَدٌ». متفق عليه
২/১৭৫৬। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ জীবনের অন্তিম দিনগুলির কোন একদিন [লোকদেরকে নিয়ে] এশার নামায পড়লেন এবং যখন সালাম ফিরলেন, তখন বললেন, ‘‘আচ্ছা বলত। এটা তোমাদের কোন রজনী? [এ কথা] সুনিশ্চিত যে, যে ব্যক্তি আজ ধরা-পৃষ্ঠে জীবিত আছে, একশত বছরের মাথায় সে ব্যক্তি অবশিষ্ট থাকবে না [অর্থাৎ মারা যাবে]।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ১১৬, ৫৬৪, ৬০১, মুসলিম ২৫৩৭, তিরমিযী ২২৫১, আবূ দাউদ ৪৩৪৮, আহমাদ ৫৫৮৫, ৫৯৯২, ৬১১৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عنه: أَنَّهُم انتَظَرُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَجَاءَهُمْ قَرِيباً مِنْ شَطْرِ اللَّيْلِ فَصَلَّى بِهِمْ - يَعْنِي : العِشَاءَ - ثمَّ خَطَبنا فَقَالَ: «أَلاَ إِنَّ النَّاسَ قَدْ صَلَّوا، ثُمَّ رَقَدُوا، وَإِنَّكُمْ لَنْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرْتُمُ الصَّلاَةَ» . رواه البخاري
৩/১৭৫৭। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একদিন [মসজিদে] সাহাবায়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের প্রতীক্ষায় ছিলেন। অতঃপর তিনি প্রায় অর্ধ রাত্রিতে তাঁদের নিকট আগমন করলেন এবং তাঁদেরকে নিয়ে নামায অর্থাৎ এশার নামায পড়লেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি আমাদের মাঝে বক্তব্য রাখলেন। তাতে তিনি বললেন, ‘‘শোন! লোকে নামায সমাধা করে ঘুমিয়ে পড়েছে। আর তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত নামাযের অপেক্ষা করছিলে, ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত-ভাবে নামাযের মধ্যেই ছিলে।’’ (বুখারী)[1]
[1] ১৭৫৭. সহীহুল বুখারী ৫৭২, ৬০০, ৬৬১, ৮৪৮, ৫৮৬৯, মুসলিম ৬৪০, নাসায়ী ৫৩৯, ৫২০২, ৫২৮৫, ইবনু মাজাহ ৬৯২, আহমাদ ১২৪৬৯, ১২৫৫০, ১২৬৫৬, ১৩৪০৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ، فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا، لَعَنَتْهَا المَلاَئِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ». متفق عَلَيْهِ . وفي رواية : حَتَّى تَرْجِعَ
১/১৭৫৮। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যখন কেউ তার স্ত্রীকে স্বীয় বিছানার দিকে [দেহ মিলনের জন্য] ডাকে, আর সে তা প্রত্যাখ্যান করে এবং তার প্রতি [তার স্বামী] রাগান্বিত অবস্থায় রাত কাটায়, তখন ফজর পর্যন্ত ফিরিস্তারা তাকে অভিশাপ করতে থাকেন।’’ (বুখারী) [1]
অন্য বর্ণনায় আছে, ‘‘তার স্বামীর কাছে না আসা পর্যন্ত [তাকে অভিশাপ করতে থাকেন]।’’
[1] সহীহুল বুখারী ৩২৩৭, ৫১৯৩, ৫১৯৪, মুসলিম ১৪৩৬, আবূ দাউদ ২১৪১, আহমাদ ৭৪২২, আহমাদ ৮৩৭৩, ৮৭৮৬, ৯৩৭৯, ৯৭০২, ৯৮৬৫, ১০৩৫৩, দারেমী ২২২৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لاَ يَحِلُّ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَصُومَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، وَلاَ تَأذَنَ فِي بَيْتِهِ إِلاَّ بِإِذْنِهِ». متفق عَلَيْهِ
১/১৭৫৯। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কোন নারীর জন্য বৈধ নয় যে, তার স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া [নফল] রোযা রাখবে। আর না তার বিনা অনুমতিতে [কোন আত্মীয় পুরুষ বা মহিলাকে] তার ঘরে ঢুকতে অনুমতি দেবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ২০৬৬, ৫১৯২, ৫১৯৫, মুসলিম ১০২৬, তিরমিযী ৭৮২, আবূ দাউদ ১৬৮৭, ২৪৫৮, ইবনু মাজাহ ১৭৬১, আহমাদ ৯৪৪১, ৯৮১২, ১০১১৭, ২৭৪০৫, দারেমী ১৭২০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «أَمَا يَخْشَى أَحَدُكُمْ إِذَا رَفَعَ رَأسَهُ قَبْلَ الإمَامِ أَنْ يَجْعَلَ اللهُ رَأسَهُ رَأسَ حِمَارٍ ! أَوْ يَجْعَلَ اللهُ صُورَتَهُ صُورَةَ حِمَارٍ». متفق عَلَيْهِ
১/১৭৬০। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের কেউ যখন ইমামের আগে মাথা তোলে, তখন তার মনে কি ভয় হয় না যে, মহান আল্লাহ তার মাথা, গাধার মাথায় পরিণত করে দেবেন অথবা তার আকৃতি গাধার আকৃতি করে দেবেন।’’ (বুখারী-মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬৯১, মুসলিম ৪২৭, তিরমিযী ৫৮২, নাসায়ী ৮২৮, আবূ দাউদ ৬২৩, ইবনু মাজাহ ৯৬১, আহমাদ ৭৪৮১, ৭৬১২, ৯২১১, ৯৫৭৪, ৯৭৫৪, ১০১৬৮, ২৭২৭০, দারেমী ১৩১৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الخَصْرِ فِي الصَّلاَةِ . متفق عَلَيْهِ
১/১৭৬১। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নামাযরত অবস্থায় কোমরে হাত রাখতে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[নামাযে কোমরে হাত রাখা নিষেধের কারণ স্বরূপ বলা হয়েছে, যেহেতু এ তরীকা ইয়াহুদীদের অথবা যেহেতু জাহান্নামীরা কোমরে হাত রেখে বিশ্রাম নিবে অথবা যেহেতু তা শয়তানের অভ্যাস অথবা যেহেতু তা অহংকারীর লক্ষণ; আর নামায আগাগোড়া সম্পূর্ণ কাকুতি-মিনতি ও বিনয় প্রকাশের ক্ষেত্র মাত্র। অবশ্য যদি কেউ অসুবিধার কারণে কোমরে হাত রাখে, তাহলে সে কথা ভিন্ন।]
[1] সহীহুল বুখারী ১২১৯, ১২২০, মুসলিম ৫৪৫, তিরমিযী ৩৮৩, নাসায়ী ৮৯০, আবূ দাউদ ৯৪৭, আহমাদ ৭১৩৫, ৭৮৩৭, ৭৮৭১, ৮১৭৪, ৮৯৩০, দারেমী ১৪২৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : «لاَ صَلاَةَ بِحَضْرَةِ طَعَامٍ، وَلاَ وَهُوَ يُدَافِعُهُ الأَخْبَثَانِ» . رواه مسلم
১/১৭৬২। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ‘‘খাবার হাযির থাকা কালীন অবস্থায় নামায নেই, আর পেশাব পায়খানার চাপ সামাল দেওয়া অবস্থায়ও নামায নেই।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৫৬০, আবূ দাউদ ৮৯, আহমাদ ২৩৬৪৬, ২৩৭৪৯, ২৩৯২৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ أَنَسِ بنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا بَالُ أَقْوامٍ يَرْفَعُونَ أبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي صَلاَتِهِمْ !» فَاشْتَدَّ قَولُهُ فِي ذَلِكَ حَتَّى قَالَ: «لَيَنْتَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ، أَوْ لَتُخطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ!». رواه البخاري
১/১৭৬৩। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘লোকদের কি হয়েছে যে, তারা নামাযের মধ্যে আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলছে?’’ এ ব্যাপারে তিনি কঠোর বক্তব্য রাখলেন; এমনকি তিনি বললেন, ‘‘তারা যেন অবশ্যই এ কাজ হতে বিরত থাকে; নচেৎ অবশ্যই তাদের দৃষ্টি-শক্তি কেড়ে নেওয়া হবে।’’ (বুখারী) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৭৫০, নাসায়ী ১১৯৩, আবূ দাউদ ৯১৩, ইবনু মাজাহ ১০৪৪, আহমাদ ১১৬৫৪, ১১৬৯৪, ১১৭৩৬, ১২০১৮, ১৩২৯৯, দারেমী ১৩০২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ : سَأَلتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الاِلتفَاتِ فِي الصَّلاَةِ، فَقَالَ: «هُوَ اخْتِلاَسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلاَةِ العَبْدِ» . رواه البخاري
১/১৭৬৪। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নামাযের মধ্যে এদিক-ওদিক তাকানোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘‘এটা এক ধরণের অপহরণ, যার মাধ্যমে শয়তান নামাযের অংশ বিশেষ অপহরণ করে।’’ (বুখারী)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৭৫১, ৩১৯১, তিরমিযী ৫৯০, নাসায়ী ১১৯৬, ১১৯৯, আবূ দাউদ ৯১০, আহমাদ ২৩৮৯১, ২৪২২৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهَ قَالَ: قَالَ لي رسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إِيَّاكَ وَالالْتِفَاتَ في الصَّلاَةِ، فَإِنَّ الالْتِفَاتَ في الصَّلاةِ هَلَكَةٌ، فإِنْ كَان لابُدَّ، فَفي التَّطَوُّعِ لا في الْفَرِيضَةِ
২/১৭৬৫। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সালাতরত অবস্থায় এদিক-সেদিক তাকিও না। কেননা নামাযের ভিতর এদিক-সেদিক দৃষ্টিপাত একটি বিপর্যয়। যদি ডানে-বামে তাকানো ছাড়া কোন উপায় না থাকে তবে তা নফল সালাতে কর, কিন্তু ফরয সালাতে তা করা যাবে না। [1]
[1] আমি [আলবানী) বলছিঃ আসলে এরূপই আর সম্ভবত তিরমিযীর কোন কোন ছাপাতে এরূপই এসেছে। কিন্তু বূলাক ছাপায় [১/১১৬) হাদীসুন হাসানুন বলা হয়েছে আর তার টীকাতে [বাদাল ছাপায়) হাসান গারীব উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি বলুনঃ অর্থাৎ দুর্বল আর হাদীসটির সনদের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এটিই বেশী উপযোগী। কারণ এর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে এবং সনদে বিচ্ছিন্নিতাও রয়েছে। আমি ‘‘মিশকাত’’ গ্রন্থের টীকা [১৭২, ৪৬৫, ৯৯৭) এবং ‘‘আত্তারগীব’’ গ্রন্থে [১/১৯১) তা বর্ণনা করেছি।
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ যঈফ