রিয়াদুস সালিহীন
عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الخَصْرِ فِي الصَّلاَةِ . متفق عَلَيْهِ
১/১৭৬১। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নামাযরত অবস্থায় কোমরে হাত রাখতে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[নামাযে কোমরে হাত রাখা নিষেধের কারণ স্বরূপ বলা হয়েছে, যেহেতু এ তরীকা ইয়াহুদীদের অথবা যেহেতু জাহান্নামীরা কোমরে হাত রেখে বিশ্রাম নিবে অথবা যেহেতু তা শয়তানের অভ্যাস অথবা যেহেতু তা অহংকারীর লক্ষণ; আর নামায আগাগোড়া সম্পূর্ণ কাকুতি-মিনতি ও বিনয় প্রকাশের ক্ষেত্র মাত্র। অবশ্য যদি কেউ অসুবিধার কারণে কোমরে হাত রাখে, তাহলে সে কথা ভিন্ন।]
[1] সহীহুল বুখারী ১২১৯, ১২২০, মুসলিম ৫৪৫, তিরমিযী ৩৮৩, নাসায়ী ৮৯০, আবূ দাউদ ৯৪৭, আহমাদ ৭১৩৫, ৭৮৩৭, ৭৮৭১, ৮১৭৪, ৮৯৩০, দারেমী ১৪২৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : «لاَ صَلاَةَ بِحَضْرَةِ طَعَامٍ، وَلاَ وَهُوَ يُدَافِعُهُ الأَخْبَثَانِ» . رواه مسلم
১/১৭৬২। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ‘‘খাবার হাযির থাকা কালীন অবস্থায় নামায নেই, আর পেশাব পায়খানার চাপ সামাল দেওয়া অবস্থায়ও নামায নেই।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৫৬০, আবূ দাউদ ৮৯, আহমাদ ২৩৬৪৬, ২৩৭৪৯, ২৩৯২৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ أَنَسِ بنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا بَالُ أَقْوامٍ يَرْفَعُونَ أبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي صَلاَتِهِمْ !» فَاشْتَدَّ قَولُهُ فِي ذَلِكَ حَتَّى قَالَ: «لَيَنْتَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ، أَوْ لَتُخطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ!». رواه البخاري
১/১৭৬৩। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘লোকদের কি হয়েছে যে, তারা নামাযের মধ্যে আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলছে?’’ এ ব্যাপারে তিনি কঠোর বক্তব্য রাখলেন; এমনকি তিনি বললেন, ‘‘তারা যেন অবশ্যই এ কাজ হতে বিরত থাকে; নচেৎ অবশ্যই তাদের দৃষ্টি-শক্তি কেড়ে নেওয়া হবে।’’ (বুখারী) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৭৫০, নাসায়ী ১১৯৩, আবূ দাউদ ৯১৩, ইবনু মাজাহ ১০৪৪, আহমাদ ১১৬৫৪, ১১৬৯৪, ১১৭৩৬, ১২০১৮, ১৩২৯৯, দারেমী ১৩০২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ : سَأَلتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الاِلتفَاتِ فِي الصَّلاَةِ، فَقَالَ: «هُوَ اخْتِلاَسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلاَةِ العَبْدِ» . رواه البخاري
১/১৭৬৪। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নামাযের মধ্যে এদিক-ওদিক তাকানোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘‘এটা এক ধরণের অপহরণ, যার মাধ্যমে শয়তান নামাযের অংশ বিশেষ অপহরণ করে।’’ (বুখারী)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৭৫১, ৩১৯১, তিরমিযী ৫৯০, নাসায়ী ১১৯৬, ১১৯৯, আবূ দাউদ ৯১০, আহমাদ ২৩৮৯১, ২৪২২৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهَ قَالَ: قَالَ لي رسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إِيَّاكَ وَالالْتِفَاتَ في الصَّلاَةِ، فَإِنَّ الالْتِفَاتَ في الصَّلاةِ هَلَكَةٌ، فإِنْ كَان لابُدَّ، فَفي التَّطَوُّعِ لا في الْفَرِيضَةِ
২/১৭৬৫। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সালাতরত অবস্থায় এদিক-সেদিক তাকিও না। কেননা নামাযের ভিতর এদিক-সেদিক দৃষ্টিপাত একটি বিপর্যয়। যদি ডানে-বামে তাকানো ছাড়া কোন উপায় না থাকে তবে তা নফল সালাতে কর, কিন্তু ফরয সালাতে তা করা যাবে না। [1]
[1] আমি [আলবানী) বলছিঃ আসলে এরূপই আর সম্ভবত তিরমিযীর কোন কোন ছাপাতে এরূপই এসেছে। কিন্তু বূলাক ছাপায় [১/১১৬) হাদীসুন হাসানুন বলা হয়েছে আর তার টীকাতে [বাদাল ছাপায়) হাসান গারীব উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি বলুনঃ অর্থাৎ দুর্বল আর হাদীসটির সনদের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এটিই বেশী উপযোগী। কারণ এর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে এবং সনদে বিচ্ছিন্নিতাও রয়েছে। আমি ‘‘মিশকাত’’ গ্রন্থের টীকা [১৭২, ৪৬৫, ৯৯৭) এবং ‘‘আত্তারগীব’’ গ্রন্থে [১/১৯১) তা বর্ণনা করেছি।
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ যঈফ
عَن أَبي مَرْثَدٍ كَنَّازِ بْنِ الْحُصَيْنِ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : «لاَ تُصَلُّوا إِلَى القُبُورِ، وَلاَ تَجْلِسُوا عَلَيْهَا» . رواه مسلم
১/১৭৬৬। আবূ মারসাদ কান্নায ইবনে হুস্বাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ‘‘তোমরা কবরের দিকে মুখ করে নামায পড়ো না এবং তার উপর বসো না।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৯৭২, তিরমিযী ১০৫০, নাসায়ী ৭৬০, আবূ দাউদ ৩২২৯, আহমাদ ১৬৭৬৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ أَبي الجُهَيْمِ عَبدِ اللهِ بنِ الحَارِثِ بنِ الصِّمَّةِ الأَنْصَارِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لَوْ يَعْلَمُ المَارُّ بَيْنَ يَدَيِ المُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْراً لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ» قَالَ الراوي : لاَ أدْرِي قَالَ: أَرْبَعينَ يَوماً، أَوْ أَرْبَعِينَ شَهْراً، أَوْ أَرْبَعِينَ سَنَةً .متفق عَلَيْهِ
১/১৭৬৭। আবুল জুহাইম আব্দুল্লাহ ইবনে হারেস ইবনে স্বিম্মাহ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যদি নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী জানত যে, তা তার জন্য কত ভয়াবহ [অপরাধ], তাহলে সে নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ [দিন/মাস/বছর] দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম মনে করত।’’ রাবী বলেন, আমি জানি না যে, তিনি চল্লিশ দিন, নাকি চল্লিশ মাস, নাকি চল্লিশ বছর বললেন। (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৫১০, মুসলিম ৫৯৭, তিরমিযী ৩৩৬, নাসায়ী ৭৫৬, আবূ দাউদ ৭০১, ইবনু মাজাহ ৯৪৫, আহমাদ ১৭০৮৯, মুওয়াত্তা মালিক ৩৬৫, দারেমী ১৪১৬, ১৪১৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ أَبي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ صَلاَةَ إِلاَّ المَكْتُوبَةَ». رواه مسلم
মুআয্যিন ইকামত শুরু করলে আর কোন নামায শুরু করা মুক্তাদীর জন্য বৈধ নয়; সে নামায ঐ নামাযের পূর্ববর্তী সুন্নাতে মুআক্কাদাহ হোক বা অন্য কোন সুন্নত বা নফল নামায।
১/১৭৬৮। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যখন নামাযের জন্য ইকামত দেওয়া হবে, তখন ফরয নামায ছাড়া অন্য কোন নামায নেই।’’ (মুসলিম)[1]
[1] মুসলিম ৭১০, তিরমিযী ৪২১, নাসায়ী ৮৬৫, ৮৬৬, আবূ দাউদ ১২৬৬, ইবনু মাজাহ ১১৫১, আহমাদ ৮৪০৯, ৯৫৬৩, ১০৩২০, ১০৪৯৩, দারেমী ১৪৪৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لاَ تَخُصُّوا لَيْلَةَ الجُمُعَةِ بِقِيَامٍ مِنْ بَيْنِ اللَّيَالِي، وَلاَ تَخُصُّوا يَومَ الجُمُعَةِ بِصِيَامٍ مِنْ بَيْنِ الأَيَّامِ، إِلاَّ أَنْ يَكُونَ فِي صَومٍ يَصُومُهُ أَحَدُكُمْ» . رواه مسلم
১/১৭৬৯। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘রাত্রিসমূহের মধ্যে জুমার রাতকে কিয়াম [নফল নামায] পড়ার জন্য নির্দিষ্ট করো না এবং দিনসমূহের মধ্যে জুমার দিনকে [নফল] রোযা রাখার জন্য নির্ধারিত করো না। তবে যদি তা তোমাদের কারো রোযা রাখার তারিখ পড়ে [তাহলে সে কথা ভিন্ন]।’’ (মুসলিম) [1]
* [যেমন ঐ দিন যদি আরাফাত বা আশূরার দিন হয়, তাহলে রোযা রাখা যাবে।]
[1] সহীহুল বুখারী ১৯৮৫, মুসলিম ১১৪৪, তিরমিযী ৭৪৩, আবূ দাউদ ২৪২০, ইবনু মাজাহ ১৭২৩, আহমাদ ৭৩৪১, ৭৭৮০, ৭৯৬৫, ৮৫৫৪, ৮৮৫৩, ৮৮৮২, ৯০৩১, ৯১৭১, ১০০৫২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ : «لاَ يَصُومَنَّ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الجُمُعَةِ إِلاَّ يَوماً قَبْلَهُ أَوْ بَعْدَهُ» . متفق عَلَيْهِ
২/১৭৭০। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ‘‘অবশ্যই কেউ যেন স্রেফ জুমার দিনে রোযা না রাখে; তবে যদি তার একদিন আগে কিম্বা পরে রাখে [তাহলে তাতে ক্ষতি নেই।]’’ (বুখারী, মুসলিম) [1]
[অর্থাৎ শুক্রবারের সাথে বৃহস্পতিবার কিংবা শনিবার রোযা রাখলে রাখা চলবে।]
[1] সহীহুল বুখারী ১৯৮৫, মুসলিম ১১৪৪, তিরমিযী ৭৪৩, আবূ দাউদ ২৪২০, ইবনু মাজাহ ১৭২৩, আহমাদ ৭৩৪১, ৭৭৮০, ৭৯৬৫, ৮৫৫৪, ৮৮৫৩, ৮৮৮২, ৯০৩১, ৯১৭১, ১০০৫২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ مُحَمَّدِ بنِ عَبَّادٍ، قَالَ: سَأَلْتُ جَابِراً رضي الله عنه : أَنَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَومِ الجُمُعَةِ ؟ قَالَ: نَعَمْ . متفق عَلَيْهِ
৩/১৭৭১। মুহাম্মাদ ইবনে আববাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি জুমার দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ১৯৮৪, মুসলিম ১১৪৩, ইবনু মাজাহ ১৭২৪, আহমাদ ১৩৭৫০, ১৩৯৪৩, দারেমী ১৭৪৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أُمِّ المُؤْمِنِينَ جُوَيرِيَّةَ بِنْتِ الحَارِثِ رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا يَوْمَ الجُمُعَةِ وهِيَ صَائِمَةٌ، فَقَالَ: «أَصُمْتِ أمْسِ ؟ قَالَتْ : لاَ، قَالَ: تُرِيدِينَ أَنْ تَصُومِي غَداً ؟ قَالَتْ : لاَ . قَالَ: «فَأَفْطِرِي» . رواه البخاري
৪/১৭৭২। মুমিন জননী জুয়াইরিয়্যাহ বিন্তে হারেষ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনে তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তিনি [জুয়াইরিয়াহ] রোযা অবস্থায় ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে প্রশ্ন করলেন, ‘‘তুমি কি গতকাল রোযা রেখেছিলে?’’ তিনি বললেন, ‘না।’ [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, ‘‘আগামীকাল রোযা রাখার ইচ্ছা আছে তো?’’ তিনি জবাব দিলেন, ‘না।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তাহলে রোযা ভেঙ্গে ফেল।’’ (বুখারী) [1]
[11] সহীহুল বুখারী ১৯৮৬, আবূ দাউদ ২৪২২, আহমাদ ৬৭৩২, ২৬২১৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ أَبي هُرَيرَةَ وَعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الوِصَالِ .متفق عَلَيْهِ
১/১৭৭৩। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা প্রমুখাৎ বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওমে বিসাল তথা বিনা পানাহারে কয়েকটি রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ১৯৬৪, ১৯৬৫, মুসলিম ১১০৫, আহমাদ ২৪০৬৫, ২৪১০৩, ২৪৪২৪, ২৫৫২৩, ২৫৬৭৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: نَهَى رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الوِصَالِ . قَالُوا : إِنَّكَ تُوَاصِلُ ؟ قَالَ: «إِنِّي لَسْتُ مِثْلَكُمْ، إِنِّي أُطْعَمُ وَأُسْقَى» . متفق عَلَيْهِ . وهذا لفظ البخاري
২/১৭৭৪। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওমে বিসাল রাখতে নিষেধ করলেন। লোকেরা নিবেদন করল, ‘আপনি তো সওমে বিসাল রাখেন? তিনি বললেন, ‘‘[এ বিষয়ে] আমি তোমাদের মত নই। আমাকে [আল্লাহর তরফ থেকে] পানাহার করানো হয়।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
* [অর্থাৎ এ ব্যাপারে আমি তোমাদের মত নই। এতে যে কষ্ট তোমরা পাবে, আমি পাব না। কারণ মহান আল্লাহ আমাকে পানাহার করান। সুতরাং এ রোযা আল্লাহর রসূলের জন্য নির্দিষ্ট, অন্যের জন্য তা বৈধ নয়।]
[1] সহীহুল বুখারী ১৯২২, ১৯৬২, মুসলিম ১১০২, আবূ দাউদ ২৩৬০, আহমাদ ৪৭০৭, ৪৭৩৮, ৫৭৬১, ৫৮৮১, ৬০৯০, ৬২৬৩, ৬৩৭৭, মুওয়াত্তা মালিক ৬৭৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ أَبي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لأَنْ يَجْلِسَ أَحَدُكُمْ عَلَى جَمْرَةٍ، فَتُحْرِقَ ثِيَابَهُ فَتَخْلُصَ إِلَى جِلْدِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَجْلِسَ عَلَى قَبْرٍ». رواه مسلم
১/১৭৭৫। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কারো অঙ্গারের উপর বসা---যা তার কাপড় জ্বালিয়ে তার চামড়া পর্যন্ত পৌঁছে যায়---কবরের উপর বসা অপেক্ষা তার জন্য উত্তম।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৯৭১, নাসায়ী ২০৪০, আবূ দাউদ ৩২২৮, ইবনু মাজাহ ১৫৬৬, আহমাদ ৮৮১১, ৯৪৩৯, ১০৪৫১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: نَهَى رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم أَن يُجَصَّصَ القَبْرُ، وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ، وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ . رواه مسلم
১/১৭৭৬। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর পাকা করতে, তার উপর বসতে এবং তার উপর ইমারত নির্মাণ করতে বারণ করেছেন।’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৯৭০, তিরমিযী ১০৫২, নাসায়ী ২০২৭-২০২৯, আবূ দাউদ ৩২২৫, ইবনু মাজাহ ১৫৬২, ১৫৬৩, আহমাদ ১৩৭৩৫, ১৪১৫৫, ১৪২৩৭, ১৪৮৬২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ جَرِيرٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَيُّمَا عَبْدٍ أَبَقَ، فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ». رواه مسلم
১/১৭৭৭। জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে গোলামই মনিবের ঘর ছেড়ে পলায়ন করে, তার ব্যাপারে সব রকম ইসলামী দায়-দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৬৮-৭০, ৪০৪৯-৪০৫৬, আবূ দাউদ ৪৩৬০, আহমাদ ১৮৬৭৪, ১৮৭২৭, ১৮৭৪০, ১৮৭৫৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : إِذَا أَبَقَ العَبْدُ، لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلاَةٌ». رواه مسلم، وفي روايةٍ: فَقَدْ كَفَرَ
২/১৭৭৮। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন কোন গোলাম পলায়ন করবে, তখন তার নামায কবুল হবে না।’’ (মুসলিম) [1] অন্য বর্ণনা মতে, ‘‘সে কুফরি করবে।’’
[1] মুসলিম ৬৮-৭০, ৪০৪৯-৪০৫৬, আবূ দাউদ ৪৩৬০, আহমাদ ১৮৬৭৪, ১৮৭২৭, ১৮৭৪০, ১৮৭৫৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا: أَنَّ قُرَيْشاً أَهَمَّهُمْ شَأْنُ المَرْأَةِ المَخْزُومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ، فَقَالُوا : مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ؟ فَقَالُوا: وَمَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلاَّ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، حِبُّ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم . فَكَلَّمَهُ أُسَامَةُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللهِ تَعَالَى؟!» ثُمَّ قَامَ فاخْتَطَبَ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيِهمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ، أَقَامُوا عَلَيْهِ الحَدَّ، وَأَيْمُ اللهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا». متفق عَلَيْهِ.
وفي روايةٍ : فَتَلوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللهِ!؟» فَقَالَ أُسَامَةُ: اسْتَغْفِرْ لِي يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم. قَالَ: ثُمَّ أَمَرَ بِتِلْكَ المَرْأَةِ فَقُطِعَتْ يَدُهَا
মহান আল্লাহ বলেছেন,
﴿الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ ۖ وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ﴾ [النور : ٢]
অর্থাৎ ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, এদের প্রত্যেককে একশো করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান প্রয়োগ করার সময় তাদের প্রতি কোন দয়া যেন তোমাদেরকে অভিভূত না করে; যদি [সত্যিকারে] তোমরা আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামতের দিনের প্রতি ঈমান এনে থাক। (সূরা নূর ২ আয়াত)
১/১৭৭৯। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত যে, চুরির অপরাধে অপরাধিনী মাখযূম গোত্রের একজন মহিলার ব্যাপার কুরাইশ বংশের লোকদের খুব দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। সাহাবীগণ বললেন, ‘ওর ব্যাপারে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কে কথা বলতে পারবে?’ তাঁরা বললেন, ‘রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয় পাত্র উসামা ইবনে যায়েদ ছাড়া কেউ এ সাহস পাবে না।’ সুতরাং উসামা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কথা বললেন। তিনি বলে উঠলেন, ‘‘তুমি আল্লাহর এক দণ্ডবিধান [প্রয়োগ না করার] ব্যাপারে সুপারিশ করছ?’’ পরক্ষণেই তিনি দাঁড়িয়ে খুৎবাহ দিলেন এবং বললেন, ‘‘[হে লোক সকল!] নিশ্চয় তোমাদের পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের লোকেরা এ জন্য ধ্বংস হয়েছিল যে, যখন তাদের কোন সম্মানিত ব্যক্তি চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন তাদের কোন দুর্বল লোক চুরি করত, তখন তার উপর শরীয়তের শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তাহলে অবশ্যই আমি তার হাতও কেটে দিতাম।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
অন্য এক বর্ণনায় আছে, [উসামার সুপারিশে] আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা রঙিন [লাল] হয়ে গেল। তিনি বললেন, ‘‘তুমি কি আল্লাহর এক দণ্ডবিধান [কায়েম না করার] ব্যাপারে সুপারিশ করছ?!’’ উসামা বললেন, ‘আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন, হে আল্লাহর রসূল!’ বর্ণনাকারী বলেন, ‘অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ দিলে ঐ মহিলার হাত কেটে দেওয়া হল।’
[1] সহীহুল বুখারী ২৬৪৮, ৩৪৭৫, ৩৭৩৩, ৪৩০৪, ৬৭৮৭, ৬৭৮৮, ৬৮০০, মুসলিম ১৬৮৮, তিরমিযী ১৪৩০, নাসায়ী ৪৮৯৫, ৪৮৯৭-৪৯০৩, আবূ দাউদ ৪৩৭৩, ইবনু মাজাহ ২৫৪৭, আহমাদ ২২৯৬৮, ২৪৭৬৯, দারেমী ২৩০২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «اِتَّقُوا اللاَّعِنَيْنِ» قَالُوا : وَمَا اللاَّعِنَانِ ؟ قَالَ: «الَّذِي يَتَخَلَّى فِي طَرِيقِ النَّاسِ أَوْ فِي ظِلِّهِمْ» . رواه مسلم
মহান আল্লাহ বলেন,
﴿وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا﴾ [الاحزاب : ٥٨]
অর্থাৎ যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব ৫৮ আয়াত)
১/১৭৮০। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘দু’টি অভিসম্পাত আনয়নকারী কর্ম থেকে দূরে থাক।’’ সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘দু’টি অভিসম্পাত আনয়নকারী কর্ম কি কি?’’ তিনি [উত্তরে] বললেন, ‘‘যে ব্যক্তি মানুষের রাস্তায় এবং তাদের ছায়ার স্থলে পায়খানা করে [তার এ দু’টি কাজ অভিসম্পাতের কারণ]।’’ (মুসলিম)[1]
* [প্রকাশ থাকে যে, আম বাথরুমে পেশাব-পায়খানা করার পর পানি ঢেলে পরিষ্কার না করে দিলে ঐ অভিসম্পাত আসতে পারে।]
[1] মুসলিম ২৬৯, আবূ দাউদ ২৫, আহমাদ ৮৬৩৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ