হাদীস বিএন


রিয়াদুস সালিহীন





রিয়াদুস সালিহীন (1781)


عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يُبَالَ فِي المَاءِ الرَّاكِدِ . رواه مسلم




১/১৭৮১। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম)[1]


[1] মুসলিম ২৮১, নাসায়ী ৩৫ ইবনু মাজাহ ৩৪৩, আহমাদ ১৪২৫৮, ১৪৩৬৩

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1782)


عَنِ النُّعمَانِ بنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ أبَاهُ أتَى بِهِ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: إِنِّي نَحَلْتُ ابْنِي هَذَا غُلاَماً كَانَ لِي، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَكُلَّ وَلَدِكَ نَحَلْتَهُ مِثْلَ هَذَا ؟» فَقَالَ: لاَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: فَأَرْجِعهُ
وَفي رِوَايةٍ: فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَفَعَلْتَ هذَا بِوَلَدِكَ كُلِّهِمْ ؟ قَالَ: لاَ، قَالَ: اِتَّقُوا الله وَاعْدِلُوا فِي أَوْلاَدِكُمْ فَرَجَعَ أَبِي، فَرَدَّ تِلْكَ الصَّدَقَةَ .
وفي روايةٍ : فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا بَشيرُ أَلَكَ وَلَدٌ سِوَى هَذَا ؟» فَقَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «أكُلَّهُمْ وَهَبْتَ لَهُ مِثْلَ هذَا ؟» قَالَ: لاَ، قَالَ: فَلاَ تُشْهِدْنِي إِذاً فَإِنِّي لاَ أَشْهَدُ عَلَى جَوْرٍ
وفي روايةٍ : «لاَ تُشْهِدْنِي عَلَى جَوْرٍ» .
وفي رواية : «أَشْهِدْ عَلَى هذَا غَيْرِي !» ثُمَّ قَالَ: «أَيَسُرُّكَ أَنْ يَكُونُوا إِلَيْكَ فِي البِرِّ سَواءً؟» قَالَ: بَلَى، قَالَ: «فَلا إِذاً» . متفق عليه




১/১৭৮২। নু’মান ইবনে বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে হাজির হয়ে বললেন, ‘আমি আমার এই ছেলেকে একটি গোলাম দান করেছি। [কিন্তু এর মা আপনাকে সাক্ষী রাখতে বলে।]’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘তোমার সব ছেলেকেই কি তুমি এরূপ দান করেছ?’’ তিনি বললেন, ‘না।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তাহলে তুমি তা ফেরৎ নাও।’’

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘তোমার সব ছেলের সঙ্গেই এরূপ ব্যবহার দেখিয়েছ?’’ তিনি বললেন, ‘না।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা কর। সুতরাং আমার পিতা ফিরে এলেন এবং ঐ সাদকাহ [দান] ফিরিয়ে নিলেন।’’

আর এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘হে বাশীর! তোমার কি এ ছাড়া অন্য সন্তান আছে?’’ তিনি বললেন, ‘জী হ্যাঁ।’ [রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, ‘‘তাদের সকলকে কি এর মত দান দিয়েছ?’’ তিনি বললেন, ‘জী না।’ [রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, ‘‘তাহলে এ ব্যাপারে আমাকে সাক্ষী মেনো না। কারণ আমি অন্যায় কাজে সাক্ষ্য দেব না।’’

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘আমাকে অন্যায় কাজে সাক্ষী মেনো না।’’

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘এ ব্যাপারে তুমি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে সাক্ষী মানো।’’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘তুমি কি এ কথায় খুশী হবে যে, তারা তোমার সেবায় সমান হোক?’’ বাশীর বললেন, ‘জী অবশ্যই।’ তিনি বললেন, ‘‘তাহলে এরূপ করো না।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ২৫৮৬, ২৫৮৭, ২৬৫০, মুসলিম ১৬২৩, তিরমিযী ১৩৬৭, নাসায়ী ৩৬৭২-৩৬৮৫, আবূ দাউদ ৩৫৪২, ইবনু মাজাহ ২৩৭৫, ২৩৭৬, আহমাদ ১৭৮৯০, ১৭৯০২, ১৭৯১১, ১৭৯৪৩, মুওয়াত্তা মালিক ১৪৭৩

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1783)


عَنْ زَينَبَ بِنتِ أَبِي سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَتْ : دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ حَبِيبَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، زَوجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، حِينَ تُوُفِّيَ أَبُوهَا أبُو سُفْيَانَ بنُ حَربٍ رضي الله عنه فَدَعَتْ بِطِيبٍ فِيهِ صُفْرَةُ خَلُوقٍ أَوْ غَيرِهِ، فَدَهَنَتْ مِنهُ جَارِيَةً، ثُمَّ مَسَّتْ بِعَارِضَيْهَا، ثُمَّ قَالَتْ : واللهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ، غَيْرَ أنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يقُولُ عَلَى المِنْبَرِ : «لاَ يَحِلُّ ِلامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ، إِلاَّ علَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْراً». قالَتْ زَيْنَبُ : ثُمَّ دَخَلْتُ عَلَى زَيْنَبَ بنْتِ جَحْشٍ رَضِيَ اللهُ عَنهَا حِينَ تُوُفِّيَ أَخُوهَا، فَدَعَتْ بِطِيبٍ فَمَسَّتْ مِنْهُ ثُمَّ قَالَتْ : أَمَا وَاللهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ، غَيرَ أنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يقُولُ عَلَى المِنْبَرِ : «لاَ يَحِلُّ لامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوقَ ثَلاَثٍ، إِلاَّ علَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْراً». متفق عليه




১/১৭৮৩। যয়নাব বিন্তে আবূ সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন শাম [সিরিয়া] থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহার পিতা আবূ সুফয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছল, তখন আমি তাঁর বাসায় প্রবেশ করলাম। [মৃত্যুর তিনদিন পর] তিনি হলুদ বর্ণ দ্রব্য বা অন্য দ্রব্য মিশ্রিত সুগন্ধি আনালেন। তা থেকে কিছু নিয়ে স্বীয় দাসীকে এবং নিজের দুই গালে মাখলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধির কোন প্রয়োজন ছিল না।

কিন্তু আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরের উপর [খুতবা দান কালে] এ কথা বলতে শুনেছি যে, ‘‘যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে স্বামী ছাড়া অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা জায়েয নয়। অবশ্য তার স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।’’

যয়নাব বলেন, তারপর যখন যয়নাব বিন্তে জাহ্শ রাদিয়াল্লাহু আনহার ভাই মারা গেলেন, তখন আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি সুগন্ধি আনালেন এবং তা থেকে কিছু নিয়ে মাখার পর বললেন; আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধির কোন প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরের উপর [খুতবা দান কালে] এ কথা বলতে শুনেছি যে, ‘‘যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে স্বামী ছাড়া অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা জায়েয নয়। অবশ্য তার স্বামীর জন্য সে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]

[[শোকপালনে মহিলা সৌন্দর্যময় কাপড় পরবে না, কোন প্রকার সুগন্ধি ব্যবহার করবে না, কোন অলঙ্কার ব্যবহার করবে না, কোন প্রসাধন [পাউডার, সুরমা, কাজল, লিপষ্টিক ইত্যাদি] ব্যবহার করবে না এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবে না।]]


[1] সহীহুল বুখারী ১২৮০, ১২৮১, ১২৮২, ৫৩৩৫, ৫৩৪৫, মুসলিম ১৪৮৬, তিরমিযী ১১৯৫, নাসায়ী ৩৫০২, ৩৫২৭, ৩৫৩৩, ৩৫৪১, আবূ দাউদ ২২৯৯, ইবনু মাজাহ ২০৮৪, আহমাদ ২৬২২৫, ২৬২২৬, মুওয়াত্তা মালিক ১২৬৯, দারেমী ২২৮৪

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1784)


عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: نَهَى رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَبيعَ حَاضِرٌ لِبَادٍ وَإِنْ كَانَ أَخَاهُ لأَبِيهِ وَأُمِّهِ. متفق عليه




শহুরে লোক গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রি করা, পণ্যদ্রব্য বাজারে পৌঁছনোর পূর্বেই বাইরে গিয়ে পণ্য নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করা হারাম, মুসলিম ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর নিজের ক্রয়-বিক্রয়ের কথা উত্থাপন করা, কোন মুসলিম ভাইয়ের বিবাহ-প্রস্তাবের উপর নিজের প্রস্তাব পেশ করা; যতক্ষণ না সে ক্রয়-বিক্রয় বা বৈবাহিক প্রস্তাব সম্পর্কে অনুমতি দেয় অথবা তা প্রত্যাখ্যান করে, ততক্ষণ পর্যন্ত হারাম।



১/১৭৮৪। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, যেন কোন শহুরে লোক কোন গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় না করে; যদিও সে তার সহোদর ভাই হয়।’ (বুখারী, মুসলিম) [1]




[1] সহীহুল বুখারী ২১৬১, মুসলিম ১৫২৩, নাসায়ী ৪৪৯২-৪৪৯৪, আবূ দাউদ ৩৪৪০

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1785)


وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لاَ تَتَلَقَّوُا السِّلَعَ حَتَّى يُهْبَطَ بِهَا إلَى الأَسْوَاقِ». متفق عليه




২/১৭৮৫। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘বাজারে নামার পূর্বে কোন পণ্য [বাজারের বাইরে] আগে বেড়ে ক্রয় করবে না।’’ (বুখারী-মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ২১৪৯, ২১৫০, ২১৬৪, মুসলিম ১৫১৮, তিরমিযী ১২২০, ইবনু মাজাহ ২১৮০, ২২৪১, আহমাদ ৪০

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1786)


وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لاَ تَتَلَقَّوُا الرُّكْبَانَ، وَلاَ يَبِعْ حَاضِرٌ لِبَادٍ» فَقَالَ لَهُ طَاوُوسٌ: مَا لاَ يَبِيعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ ؟ قَالَ: لاَ يَكُونُ لَهُ سِمْسَاراً . متفق عليه




৩/১৭৮৬। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘[বাজারের] বাইরে গিয়ে পণ্য নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করবে না। আর কোন শহুরে লোক যেন কোন গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় না করে।’’ ত্বাউস তাঁকে বললেন, ‘কোন শহুরে লোক যেন কোন গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় না করে’ এর অর্থ কি? তিনি বললেন, ‘সে যেন তার দালালি না করে।’ (বুখারী, মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ২১৫৮, ২১৬৩, ২২৭৪, মুসলিম ১৫২১, নাসায়ী ৪৫০০, আবূ দাউদ ৩৪৩৯, ইবনু মাজাহ ২১৭৭, আহমাদ ৩৪৭২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1787)


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: نَهَى رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَبِيعَ حَاضِرٌ لِبَادٍ، وَلاَ تَنَاجَشُوا وَلاَ يَبِيع الرَّجُلُ عَلَى بَيْعِ أَخْيِهِ، وَلاَ يَخْطُبُ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ، وَلاَ تَسْأَلُ المَرْأَةُ طَلاَقَ أُخْتِهَا لِتَكْفَأَ مَا فِي إِنائِهَا.
وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: نَهَى رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ التَّلَقِّي، وَأَنْ يَبْتَاعَ المُهَاجِرُ لِلأَعْرَابِيِّ، وَأَنْ تَشْتَرِطَ المَرْأةُ طَلاَقَ أُخْتِهَا، وَأَنْ يَسْتَامَ الرَّجُلُ عَلَى سَوْمِ أَخِيهِ، وَنَهَى عَنِ النَّجْشِ وَالتَّصْرِيَةِ. متفق عليه




৪/১৭৮৭। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রাম্য লোকের পণ্যদ্রব্য বেচতে শহুরে লোককে নিষেধ করেছেন। [তিনি বলেছেন,] ‘‘ক্রেতাকে প্রতারিত করে মূল্য বৃদ্ধির জন্য দালালি করো না। কোন ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় করবে না। আর কোন ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভাইয়ের বিবাহ-প্রস্তাবের উপর নিজের প্রস্তাব দেবে না। কোন মহিলা তার বোনের [সতীনের] তালাক চাইবে না; যাতে সে তার পাত্রে যা আছে তা ঢেলে ফেলে দেয়। [এবং একাই স্বামী-প্রেমের অধিকারিণী হয়।]’’

অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পণ্য ক্রয় করার জন্য [বাজারের] বাইরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে, মুহাজির হয়ে মরুবাসীর পণ্যদ্রব্য বিক্রয় করতে, [বিয়ের সময়] মহিলার তার বোনের [সতীনকে] তালাক দিতে হবে এরূপ শর্তারোপ করতে এবং (মুসলিম) ভাইয়ের দর-দাম করার উপর দর-দাম করতে বারণ করেছেন। আর তিনি [প্রতারণার দালালি করে] পণ্যের দাম বাড়াতে এবং কয়েকদিন ধরে পশুর স্তনে দুধ জমা রেখে তা ফুলিয়ে রাখতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ২১৪০, ২১৪৮, ২১৫০, ২১৫১, ২১৬০, ২১৬০, ২১৬২, ২৭২৩, ২৭২৭, ৫১৫২, ৬৬০১, মুসলিম ১০৭৬, ১৪১৩, ১৫১৫, তিরমিযী ১১২৪, ১১৯০, ১২২১, ১২২২, ১২৫১, ১২৫২, ১৩০৪, নাসায়ী ৩২৩৯-৩২৪২, ৪৪৮৭-৪৪৮৯, ৪৪৯১, ৪৪৯৬, ৪৫০২, ৪৫০৬, ৪৫০৭, আবূ দাউদ ২০৮০, ৩৪৩৭, ৩৪৩৮, ৩৪৪৩, ৩৪৪৪, ৩৪৪৫, ইবনু মাজাহ ১৮৬৭, ২১৭২, ২১৭৪, ২১৭৫, ২১৭৮, ২২৩৯, আহমাদ ৭২০৭, ৭২৬৩, ৭২৭০, ৭৩৩৩, ৭৪০৬, ৭৪৭১, ৭৬৪১, ৮০৩৯, ৯০১৩, ৯০৫৫, মুওয়াত্তা মালিক ১১১১, দারেমী ২১৭৫, ২৫৫৩, ২৫৬৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1788)


وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لاَ يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ، وَلاَ يَخْطُبْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ إِلاَّ أَنْ يَأذَنَ لَهُ» . متفق عليه، وهذا لفظ مسلم




৫/১৭৮৮। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের কেউ যেন অপরের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে এবং তার মুসলিম ভাইয়ের বিবাহ প্রস্তাবের উপর নিজের বিবাহ-প্রস্তাব না দেয়। কিন্তু যদি সে তাকে সম্মতি জানায় [তবে তা বৈধ]।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ২১৩৯, ২১৬৫, ১৫৪২, মুসলিম ১৪১২, তিরমিযী ১২৯২, নাসায়ী ৩২৪৩, ৪৫০৪, আবূ দাউদ ২০৮১, ৩৪৩৬, ইবনু মাজাহ ২১৭১, আহমাদ ৪৭০৮, মুওয়াত্তা মালিক ১১১২, ১৩৯০, দারেমী ২১৭৬, ২৫৬৭

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1789)


وَعَنْ عُقبَةَ بنِ عَامِرٍ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «المُؤْمِنُ أَخُو المُؤْمِنِ، فَلاَ يَحِلُّ لِمُؤْمِنٍ أَنْ يَبْتَاعَ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ وَلاَ يَخْطُبَ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ حَتَّى يذَرَ» . رواه مسلم




৬/১৭৮৯। উক্ববাহ ইবনে আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘এক মুমিন অপর মু’মিনের ভাই। কোন মু’মিনের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর নিজের ক্রয়-বিক্রয়ের কথা বলবে। আর এটাও বৈধ নয় যে, সে ভাইয়ের বিবাহ-প্রস্তাবের উপর নিজের বিবাহ-প্রস্তাব দেবে; যতক্ষণ না সে বর্জন করে।’’ (মুসলিম)[1]


[1] মুসলিম ১৪১৪, ইবনু মাজাহ ২২৪৬, আহমাদ ১৬৮৭৬, দারেমী ২৫৫০

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1790)


عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللهَ تَعَالَى يَرْضَى لَكُمْ ثَلاَثاً، وَيَكْرَهُ لَكُمْ ثَلاَثاً : فَيَرْضَى لَكُمْ أَنْ تَعْبُدُوهُ، وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيئاً، وَأَنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعاً وَلاَ تَفَرَّقُوا، وَيَكْرَهُ لَكُمْ : قِيلَ وَقَالَ، وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ، وَإِضَاعَةَ المَالِ» . رواه مسلم




১/১৭৯০। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মহান আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি জিনিস পছন্দ করেন এবং তিনটি জিনিস অপছন্দ করেন। তিনি তোমাদের জন্য পছন্দ করেন যে, তোমরা তাঁর ইবাদত কর, তার সঙ্গে কোন কিছুকে অংশী স্থাপন করো না এবং আল্লাহর রজ্জুকে জামাআতবদ্ধভাবে আঁকড়ে ধর এবং দলে দলে বিভক্ত হয়ো না। আর তিনি তোমাদের জন্য যা অপছন্দ করেন তা হল, অহেতুক আলোচনা-সমালোচনায় লিপ্ত হওয়া, অধিকাধিক প্রশ্ন করা এবং ধন-সম্পদ বিনষ্ট করা।’’ (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ১৭১৫, আহমাদ ৮১৩৪, ৮৫০১, ৮৫৮১, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৬৩

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1791)


وَعَنْ وَرَّادٍ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ: أَمْلَى عَلَيَّ المُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فِي كِتابٍ إلَى مُعَاوِيَةَ رضي الله عنه : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ : «لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، اَللهم لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الجَدِّ مِنْكَ الجَدُّ» وَكَتَبَ إِلَيْهِ أَنَّهُ كَانَ يَنْهَى عَنْ قِيلَ وَقَالَ، وَإِضَاعَةِ المَالِ، وَكَثْرَةِ السُّؤَالِ، وَكَانَ يَنْهَى عَنْ عُقُوقِ الأُمَّهَاتِ، وَوَأْدِ البَنَاتِ، وَمَنْعٍ وَهَاتِ . متفق عليه




২/১৭৯১। মুগীরাহ ইবনে শু‘বাহর লেখক অর্রাদ হতে বর্ণিত, মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নামে একটি পত্রে মুগীরা আমার দ্বারা এ কথা লেখালেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরয নামাযের পর এই দো‘আ পড়তেন, ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। আল্লা-হুম্মা লা মা-নিয়া লিমা আ’ত্বাইতা, অলা মু’ত্বিয়া লিমা মানা’তা অলা য়্যানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ্।’’

অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই সমস্ত প্রশংসা এবং তিনি সর্ব বিষয়ে শক্তিমান। হে আল্লাহ! তুমি যা দান কর তা রোধ করার এবং যা রোধ কর তা দান করার সাধ্য কারো নেই। আর ধনবানের ধন তোমার আযাব থেকে মুক্তি পেতে কোন উপকারে আসবে না।

[তাছাড়া তাতে এ কথাও লেখালেন যে,] ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অহেতুক কথাবার্তা বলতে, ধন-সম্পদ বিনষ্ট করতে এবং অধিকাধিক প্রশ্ন করতে নিষেধ করতেন। আর তিনি মাতা-পিতার সাথে অবাধ্যাচরণ করতে, মেয়েদেরকে জীবন্ত প্রোথিত করতে এবং প্রাপকের ন্যায্য অধিকার রোধ করতে ও অনধিকার বস্তু তলব করতেও নিষেধ করতেন।’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ৮৪৪, ১৪৭৭, ২৪০৮, ৫৯০৫, ৬৩৩০, ৬৪৭৩, ৬৬১৫, ৭২৯২, মুসলিম ৫৯৩, নাসায়ী ১৩৪১-১৩৪৩, আবূ দাউদ ১৫০৫, আহমাদ ১৭৬৭৩, ১৭৬৮১, ১৭৬৯৬, ১৭৭১৪, ১৭৭১৮, ১৭৭৩৪, ১৭৭৬৬, দারেমী ১৩৪৯, ২৭৫১

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1792)


عَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لاَ يُشِرْ أَحَدُكُمْ إِلَى أَخِيهِ بِالسِّلاَحِ، فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي لَعَلَّ الشَّيْطَانَ يَنْزعُ فِي يَدِهِ، فَيَقَعُ فِي حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ» . متفق عليه
وَفِي رِوَايَةٍ لِّمُسلِمٍ قَالَ: قَالَ أبُو القَاسِم صلى الله عليه وسلم : «مَنْ أَشَارَ إِلَى أَخِيهِ بِحَدِيدَةٍ، فَإِنَّ المَلاَئِكَةَ تَلْعَنُهُ حَتَّى يَنْزعَ، وَإِنْ كَانَ أَخَاهُ لأَبِيهِ وَأُمِّهِ».




১/১৭৯২। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের কেউ যেন তার কোন ভাইয়ের প্রতি অস্ত্র উত্তোলন করে ইশারা না করে। কেননা, সে জানে না হয়তো শয়তান তার হাতে ধাক্কা দিয়ে দেবে, ফলে [মুসলিম হত্যার অপরাধে] সে জাহান্নামের গর্তে নিপতিত হবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]

মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে যে, তিনি বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভাইয়ের প্রতি কোন লৌহদণ্ড [লোহার অস্ত্র] দ্বারা ইঙ্গিত করে, সে ব্যক্তিকে ফিরিশতাবর্গ অভিশাপ করেন; যতক্ষণ না সে তা ফেলে দিয়েছে। যদিও সে তার নিজের সহোদর ভাই হোক না কেন।’’

[অর্থাৎ তাকে মারার ইচ্ছা না থাকলেও ইঙ্গিত করে ভয় দেখানো গোনাহর কাজ।]


[1] সহীহুল বুখারী ৭০৭২, মুসলিম ২৬১৭, তিরমিযী ২১৬৩, আহমাদ ২৭৪৩২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1793)


وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: نَهَى رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُتَعَاطَى السَّيْفُ مَسْلُولاً . رواه أبو داود والترمذي، وقال :[ حديث حسن ]




২/১৭৯৩। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নগ্ন তরবারি পরস্পর দেওয়া-নেওয়া করতে নিষেধ করেছেন। [কারণ, তাতে হাত-পা কেটে যাবার সম্ভাবনা থাকে]। [আবূ দাঊদ, তিরমিযী হাসান] [1]


[1] তিরমিযী ২১৬৩, আবূ দাউদ ২৫৮৮, আহমাদ ১৩৭৮৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (1794)


عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، قَالَ: كُنَّا قُعُوداً مَع أَبِي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي المَسْجِدِ، فَأَذَّن المُؤَذِّنُ، فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ المَسْجِدِ يَمْشِي، فَأَتْبَعَهُ أبُو هُرَيرَةَ رضي الله عنه بَصَرَهُ حَتَّى خَرَجَ مِنَ المَسْجِدِ، فَقَالَ أَبُو هُرَيرَةَ رضي الله عنه : أَمَّا هَذَا فَقَدْ عَصَى أَبَا القَاسِمِ صلى الله عليه وسلم . رواه مسلم




১/১৭৯৪। আবূ শা’সা’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা [একবার] আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে মসজিদে বসে ছিলাম। [এমন সময়] মুআয্যিন আযান দিল। তখন একটি লোক মসজিদ থেকে চলে যেতে লাগল। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন, শেষ পর্যন্ত সে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেল। অতঃপর আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘এই লোকটি আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবাধ্যাচরণ করল।’ (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ৬৫৫, তিরমিযী ২০৪, নাসায়ী ৬৮৩, ৬৮৪, আবূ দাউদ ৫৩৬, ইবনু মাজাহ ৭৩৩, আহমাদ ৯১১৮, ১০৫৫০, দারেমী ১২০৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1795)


عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ عُرِضَ عَلَيْهِ رَيْحَانٌ، فَلاَ يَرُدَّهُ، فَإِنَّهُ خَفِيفُ المَحْمِلِ، طَيِّبُ الرِّيحِ» . رواه مسلم




১/১৭৯৫। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যার কাছে সুগন্ধি পেশ করা হবে, সে যেন তা ফিরিয়ে না দেয়। কারণ তা হাল্কা বহনযোগ্য সুবাস।’’ (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ২২৫৩, নাসায়ী ৫২৬০, আবূ দাউদ ৪১৭২, আহমাদ ৮০৬৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1796)


وَعَنْ أَنَسِ بنِ مَالِكٍ رضي الله عنه : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَرُدُّ الطِّيبَ . رواه البخاري




২/১৭৯৬। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো সুগন্ধি ফিরিয়ে দিতেন না। (বুখারী) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ২৫৮২, ৫৯২৯, তিরমিযী ২৭৮৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1797)


وَعَنْ أَبي مُوسَى الأَشْعَرِي رضي الله عنه قَالَ: سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُثْنِي عَلَى رَجُلٍ وَيُطْرِيهِ فِي المِدْحَة، فَقَالَ: «أَهْلَكْتُمْ أَوْ قَطَعْتُمْ ظَهْرَ الرَّجُلِ» . متفق عليه




এরূপ নির্দেশ সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার প্রশংসা শুনে আত্মগর্বে লিপ্ত হবার আশংকা থাকবে। অন্যথা যে তা থেকে নিরাপদ থাকবে তার মুখের সামনে প্রশংসা করা জায়েয।



১/১৭৯৭। আবূ মুসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে অপর ব্যক্তির [সামনা-সামনি] অতিরিক্ত প্রশংসা করতে শুনে বললেন, ‘‘তুমি লোকটার পৃষ্ঠ কর্তন করলে অথবা তাকে ধ্বংস করে দিলে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]




[1] সহীহুল বুখারী ২৬৬৩, ৬০৬০, মুসলিম ৩০০১, আহমাদ ১৯১৯৩

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1798)


وَعَنْ أَبِي بَكرَةَ رضي الله عنه : أَنَّ رَجُلاً ذُكِرَ عِندَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَأَثْنَى عَلَيْهِ رَجُلٌ خَيْراً، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «وَيْحَكَ ! قَطَعْتَ عُنُقَ صَاحِبِكَ» يَقُولُهُ مِرَاراً : «إِنْ كَانَ أَحَدُكُمْ مَادِحاً لاَ مَحَالَةَ فَلْيَقُلْ : أَحْسِبُ كَذَا وَكَذَا إِنْ كَانَ يَرَى أنَّهُ كَذَلِكَ وَحَسِيبُهُ اللهُ، وَلاَ يُزَكّى عَلَى اللهِ أَحَدٌ». متفق عليه




২/১৭৯৮। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক ব্যক্তি অন্য একজনের [তার সামনে] ভাল প্রশংসা করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হায় হায়! তুমি তোমার সাথীর গর্দান কেটে ফেললে!’ এরূপ বার-বার বলার পর তিনি বললেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যদি কাউকে একান্তই তার সাথীর প্রশংসা করতে হয়, তাহলে সে যেন বলে, ‘আমি ওকে এরূপ মনে করি’ - যদি জানে যে, সে প্রকৃতই এরূপ - ‘এবং আল্লাহ ওর হিসাব গ্রহণকারী। আর আল্লাহর [জ্ঞানের] সামনে কাউকে নিষ্কলুষ ও পবিত্র ঘোষণা করা যায় না।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ২৬৬২, ৬০৬১, ৬১৬২, মুসলিম ৩০০০, আবূ দাউদ ৪৮০৫, আহমাদ ১৯৯০৯, ১৯৯৪৯, ১৯৯৫৫, ১৯৯৭১, ২৭৫৩৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1799)


وَعَنْ هَمَّامِ بنِ الحَارِثِ، عَنِ المِقْدَادِ صلى الله عليه وسلم : أَنَّ رَجُلاً جَعَلَ يَمْدَحُ عُثْمانَ رضي الله عنه فَعَمِدَ المِقْدَادُ، فَجَثَا عَلَى رُكْبَتَيْهِ، فَجَعَلَ يَحْثُو فِي وَجْهِهِ الحَصْبَاءَ. فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ : مَا شَأنُكَ ؟ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا رَأَيْتُمُ المَدَّاحِينَ، فَاحْثُوا فِي وُجُوهِهِمُ التُّرَابَ» . رواه مسلم




৩/১৭৯৯। হাম্মাম ইবনে হারেস হতে বর্ণিত, তিনি মিক্বদাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন; এক ব্যক্তি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সামনেই তাঁর প্রশংসা শুরু করলে মিক্বদাদ হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে তার মুখে কাঁকর ছিটাতে শুরু করলেন। তখন উসমান তাঁকে বললেন, ‘কি ব্যাপার তোমার?’ তিনি বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা [মুখোমুখি] প্রশংসাকারীদের দেখলে তাদের মুখে ধুলো ছিটিয়ে দিয়ো।’’ (মুসলিম) [1]

এ সব হাদিস নিষেধাজ্ঞামূলক। পক্ষান্তরে বৈধতা সংক্রান্ত বহু বিশুদ্ধ হাদিস রয়েছে। উলামাগণ বলেন, বৈধ-অবৈধ সম্বলিত পরস্পর বিরোধী হাদিসসমূহের বিরোধ নিরসনের উপায় এই হতে পারে যে, যদি প্রশংসিত ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান ও ইয়াকীনের অধিকারী হয়, আত্মা অনুশীলনী ও পূর্ণ জ্ঞান লাভে ধন্য হয়, যার ফলে সে কারো প্রশংসা শুনে ফিতনা ও ধোঁকার শিকার না হয় এবং তার মন তাকে প্রতারিত না করে, তাহলে এ ধরনের লোকের মুখোমুখি প্রশংসা, না হারাম, আর না মাকরূহ। অন্যথা যদি কারো ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়াদির কিছুর আশংকা বোধ হয়, তবে তা ঘোর অ-পছন্দনীয়। এই ব্যাখ্যার নিকষে পরস্পর-বিরোধী হাদিসসমূহকে মান্য করতে হবে।

যে সব হাদীসে মুখোমুখি প্রশংসার বৈধতা এসেছে তার একটি এই যে, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেন; ‘‘আমার আশা এই যে, তুমিও তাদের একজন হবে।’’ অর্থাৎ সেই সৌভাগ্যবানদের একজন হবে, যাদেরকে জান্নাতের সমস্ত দ্বার থেকে আহবান জানানো হবে। (বুখারী)

এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় হাদিসটি হচ্ছে এই যে, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেন; ‘‘তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও।’’ অর্থাৎ ঐসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত নও যারা অহংকারবশতঃ লুঙ্গী-পায়জামা গাঁটের নীচে ঝুলিয়ে পরে।

যেমন একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেন, ‘‘শয়তান তোমাকে যে পথে চলতে দেখে সে পথ ত্যাগ করে সে অন্য পথ ধরে।’’ (বুখারী)

এ ছাড়াও বৈধতা সম্পর্কিত হাদিস অনেক আছে, তার মধ্যে কিছু হাদিসের অংশ আমি আমার ‘আযকার’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।


[1] মুসলিম ৩০০২, তিরমিযী ২৩৯৩, আবূ দাউদ ৪৮৯৪, ইবনু মাজাহ ৩৭৪২, আহমাদ ২৩৩১১

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1800)


وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ عُمَرَ بنَ الخَطَّابِ رضي الله عنه خَرَجَ إلَى الشَّامِ حَتَّى إِذَا كَانَ بِسَرْغَ لَقِيَهُ أُمَرَاءُ الأَجْنَادِ ـ أَبُو عُبَيْدَةَ بنُ الجَرَّاحِ وَأَصْحَابُهُ ـ فَأَخْبَرُوهُ أَنَّ الوَبَاءَ قَدْ وَقَعَ بِالشَّامِ . قَالَ ابنُ عَبَّاسٍ : فَقَالَ لِي عُمَرُ : ادْعُ لِي المُهَاجِرِينَ الأَوَّلِينَ، فَدَعَوْتُهُمْ فَاسْتَشَارَهُمْ وَأَخْبَرَهُمْ أَنَّ الوَبَاءَ قَدْ وَقَعَ بِالشَّامِ، فَاخْتَلَفُوا، فَقَالَ بَعْضُهُمْ : خَرَجْتَ لأَمْرٍ، وَلاَ نَرَى أَنْ تَرْجِعَ عَنْهُ . وَقَالَ بَعضُهُم : مَعَكَ بَقِيَّةُ النَّاسِ وَأَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَلاَ نَرَى أَنْ تُقْدِمَهُمْ عَلَى هَذَا الوَبَاءِ . فَقَالَ: ارْتَفِعُوا عَنِّي . ثُمَّ قَالَ: ادْعُ لِي الأَنْصَارَ، فَدَعَوْتُهُمْ، فَاسْتَشَارَهُمْ، فَسَلَكُوا سَبيلَ المُهَاجِرينَ، وَاخْتَلَفُوا كَاخْتِلاَفِهِمْ، فَقَالَ: ارْتَفِعُوا عَنِّي . ثُمَّ قَالَ: ادْعُ لِي مَنْ كَانَ هَاهُنَا مِنْ مَشْيَخَةِ قُريشٍ مِنْ مُهَاجِرَةِ الفَتْحِ، فَدَعَوْتُهُمْ، فَلَمْ يَخْتَلِفْ عَلَيْهِ مِنْهُمْ رَجُلاَنِ، فَقَالُوا : نَرَى أَنْ تَرْجِعَ بِالنَّاسِ، وَلاَ تُقْدِمَهُمْ عَلَى هَذَا الوَبَاءِ، فَنَادَى عُمَرُ رضي الله عنه فِي النَّاسِ : إِنِّي مُصْبِحٌ عَلَى ظَهْرٍ، فَأَصْبِحُوا عَليْهِ، فَقَالَ أَبُو عُبَيدَةَ بنِ الجَرَّاحِ رضي الله عنه : أَفِرَاراً مِنْ قَدَرِ اللهِ ؟ فَقَالَ عُمَرُ رضي الله عنه : لَوْ غَيْرُكَ قَالَهَا يَا أَبَا عُبَيدَةَ ! - وَكَانَ عُمَرُ يَكْرَهُ خِلاَفَهُ - نَعَمْ، نَفِرُّ مِنْ قَدَرِ اللهِ إِلَى قَدَرِ اللهِ، أَرَأيْتَ لَو كَانَ لَكَ إِبِلٌ، فَهَبَطَتْ وَادِياً لَهُ عُدْوَتَانِ، إِحْدَاهُمَا خَصْبَةٌ، وَالأُخْرَى جَدْبَةٌ، أَلَيسَ إِنْ رَعَيْتَ الخَصْبَةَ رَعَيْتَهَا بِقَدَرِ اللهِ، وَإِنْ رَعَيْتَ الجَدْبَةَ رَعَيْتَهَا بِقَدَرِ اللهِ ؟ قَالَ: فَجَاءَ عَبدُ الرَّحمانِ بنُ عَوفٍ رضي الله عنه وَكَانَ مُتَغَيِّباً فِي بَعْضِ حَاجَتِهِ، فَقَالَ: إِنَّ عِنْدِي مِنْ هَذَا عِلْماً، سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ : «إِذَا سَمِعْتُمْ بِهِ بِأَرْضٍ فَلاَ تَقْدِمُوا عَلَيْهِ، وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلاَ تَخْرُجُوا فِرَاراً مِنْهُ» فَحَمِدَ اللهَ تَعَالَى عُمَرُ رضي الله عنه وَانصَرَفَ . متفق عَلَيْهِ




মহান আল্লাহ বলেছেন,

﴿أَيْنَمَا تَكُونُوا يُدْرِكْكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ﴾ [النساء : ٧٨]

অর্থাৎ তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই; যদিও তোমরা সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান কর। (সূরা নিসা ৭৮ আয়াত)

তিনি অন্যত্র বলেছেন, ﴿وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ﴾ [البقرة: ١٩٥]

অর্থাৎ তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ো না। (সূরা বাকারাহ ১৯৫ আয়াত)



১/১৮০০। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, একদা উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়ার দিকে যাত্রা করলেন। অতঃপর যখন তিনি ‘সার্গ্’ [সউদিয়া ও সিরিয়ার সীমান্ত] এলাকায় গেলেন, তখন তাঁর সাথে সৈন্যবাহিনীর প্রধানগণ - আবূ উবাইদাহ ইবনুল জার্রাহ ও তাঁর সাথীগণ - সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা তাঁকে জানান যে, সিরিয়া এলাকায় [প্লেগ] মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তখন উমার আমাকে বললেন, ‘আমার কাছে প্রাথমিক পর্যায়ে যারা হিজরত করেছিলেন সেই মুহাজিরদেরকে ডেকে আনো।’ আমি তাঁদেরকে ডেকে আনলাম। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁদেরকে শাম দেশে প্রাদুর্ভূত মহামারীর কথা জানিয়ে তাঁদের কাছে সুপরামর্শ চাইলেন। তখন তাঁদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হল। কেউ বললেন, ‘আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে বের হয়েছেন। তাই তা থেকে ফিরে যাওয়াকে আমরা পছন্দ করি না।’ আবার কেউ কেউ বললেন, ‘আপনার সাথে রয়েছেন অবশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ। কাজেই আমাদের কাছে ভাল মনে হয় না যে, আপনি তাঁদেরকে এই মহামারীর মধ্যে ঠেলে দেবেন।’

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘তোমরা আমার নিকট থেকে উঠে যাও।’ তারপর তিনি বললেন, ‘আমার নিকট আনসারদেরকে ডেকে আনো।’ সুতরাং আমি তাঁদেরকে ডেকে আনলাম এবং তিনি তাঁদের কাছে পরামর্শ চাইলেন। কিন্তু তাঁরাও মুহাজিরদের পথ অবলম্বন করলেন এবং তাঁদের মতই তাঁরাও মতভেদ করলেন। সুতরাং উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘তোমরা আমার নিকট থেকে উঠে যাও।’ তারপর আমাকে বললেন, ‘এখানে যে সকল বয়োজ্যেষ্ঠ কুরাইশী আছেন, যারা মক্কা বিজয়ের বছর হিজরত করেছিলেন তাঁদেরকে ডেকে আনো।’ আমি তাঁদেরকে ডেকে আনলাম। তখন তাঁরা পরস্পরে কোন মতবিরোধ করলেন না। তাঁরা বললেন, ‘আমাদের রায় হল, আপনি লোকজনকে নিয়ে ফিরে যান এবং তাদেরকে এই মহামারীর কবলে ঠেলে দেবেন না।’

তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকজনের মধ্যে ঘোষণা দিলেন যে, ‘আমি ভোরে সওয়ারীর পিঠে [ফিরে যাওয়ার জন্য] আরওহণ করব। অতএব তোমরাও তাই কর।’ আবু উবাইদাহ ইবনুল জার্রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আপনি কি আল্লাহর নির্ধারিত তকদীর থেকে পলায়ন করার জন্য ফিরে যাচ্ছেন?’ উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘হে আবূ উবাইদাহ! যদি তুমি ছাড়া অন্য কেউ কথাটি বলত।’ আসলে উমার তাঁর বিরোধিতা করতে অপছন্দ করতেন। বললেন, ‘হ্যাঁ। আমরা আল্লাহর তকদীর থেকে আল্লাহর তকদীরের দিকেই ফিরে যাচ্ছি।

তুমি বল তো, তুমি কিছু উঁটকে যদি এমন কোন উপত্যকায় দিয়ে এস, যেখানে আছে দু’টি প্রান্ত। তার মধ্যে একটি হল সবুজ-শ্যামল, আর অন্যটি হল বৃক্ষহীন। এবার ব্যাপারটি কি এমন নয় যে, যদি তুমি সবুজ প্রান্তে চরাও, তাহলে তা আল্লাহর তকদীর অনুযায়ীই চরাবে। আর যদি তুমি বৃক্ষহীন প্রান্তে চরাও তাহলেও তা আল্লাহর তকদীর অনুযায়ীই চরাবে?’ বর্ণনাকারী [ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু] বলেন, এমন সময় আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু এলেন।

তিনি এতক্ষণ যাবত তাঁর কোন প্রয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, ‘এ ব্যাপারে আমার নিকট একটি তথ্য আছে, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ‘‘তোমরা যখন কোন এলাকায় [প্লেগের] প্রাদুর্ভাবের কথা শুনবে, তখন সেখানে যেয়ো না। আর যদি এলাকায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব নেমে আসে আর তোমরা সেখানে থাক, তাহলে পলায়ন করে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না।’’ সুতরাং [এ হাদিস শুনে] উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং [মদিনা] ফিরে গেলেন। (বুখারী, মুসলিম) [1]




[1] সহীহুল বুখারী ৫৭২৯, ৫৭৩০, ৬৯৭৩, মুসলিম ২২১৯, আবূ দাউদ ৩১০৩, আহমাদ ১৬৬৯, ১৬১৮, ১৬৮৫, মুওয়াত্তা মালিক ১৬৫৫, ১৬৫৭

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ