হাদীস বিএন


সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ





সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1741)


` بسم الله الرحمن الرحيم مفتاح كل كتاب `.
ضعيف جدا.
رواه الخطيب في ` الجامع ` كما في ` المنتقى منه ` (19 / 1) عن علي بن العباس: حدثنا عباد بن يعقوب أخبرنا عمر بن مصعب عن فرات بن أحنف عن أبي جعفر محمد بن علي مرفوعا. وهذا إسناد ضعيف جدا مسلسل بالضعفاء والعلل، فإنه مع كونه مرسلا أومعضلا سقط من إسناده الصحابي والتابعي على الأقل، فإن كل من دون أبي جعفر وهو الباقر متكلم فيهم.
1 - فرات بن أحنف، أورده الذهبي في ` الضعفاء والمتروكين `، وقال:
` ضعفه النسائي وغيره `.
2 - عمر بن مصعب، أورده العقيلي ثم الذهبي في ` الضعفاء `.
3 - عباد بن يعقوب، وهو الرواجني، قال الذهبي في ` الميزان `: ` من غلاة الشيعة. ورؤوس البدع، لكنه صدوق في الحديث، وعنه البخاري في ` الصحيح ` مقرونا بآخر `. وقال في ` الضعفاء `: ` قال ابن حبان: رافضي داعية `.
4 - علي بن عباس، لم أعرفه. والحديث بيض له المناوي فلم يتكلم على إسناده بشيء، ولعله اكتفى بإعلاله بالإرسال أوالإعضال، وبالتالي أعله السيوطي في ` الجامع `.
‌‌




১৭৪১। বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম প্রতিটি গ্রন্থের চাবি।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে খাতীব বাগদাদী “আলজামে” গ্রন্থে যেমনটি “আলমুনতাকা মিনহু” গ্রন্থে (১/১৯) এসেছে ‘আলী ইবনুল আব্বাস হতে, তিনি আব্বাদ ইবনু ইয়াকুব হতে, তিনি উমার ইবনুল মুসায়াব হতে, তিনি ফুরাত ইবনু আহনাফ হতে, তিনি আবূ জা'ফার মুহাম্মাদ ইবনু আলী হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এ সনদটি খুবই দুর্বল। ধারাবাহিকভাবে দুর্বল এবং সমস্যা জর্জরিত বর্ণনাকারী থাকার কারণে। এটি মুরসাল অথবা মু'যাল হওয়া সত্ত্বেও এর সনদ হতে কমপক্ষে সাহাবী এবং তাবোঈকে ফেলে দেয়া হয়েছে। আর আবু জা'ফার বাকেরের নিচের বর্ণনাকারীগণ সমালোচিতঃ





১। ফুরাত ইবনু আহনাফকে হাফিয যাহাবী `আযযুয়াফা অলমাতরূকীন` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তাকে নাসাঈ প্রমুখ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।





২। উমার ইবনু মুস'য়াবকে ওকাইলী অতঃপর যাহাবী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।





৩। আব্বাদ ইবনু ইয়াকূব হচ্ছেন রুওয়াযেনী, হাফিয যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি চরমপন্থী শিয়া এবং বিদ'আতের প্রধান, তবে তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে সত্যবাদী। ইমাম বুখারী তার থেকে তার “সহীহ” গ্রন্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন তবে অন্যের সাথে মিলিয়ে।





তিনি (যাহাবী) “আযযুয়াফা” গ্রন্থে বলেনঃ ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি রাফেযী দা'ঈ।





৪। আলী ইবনু আব্বাসকে আমি চিনি না।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1742)


` أبو بكر وعمر خير الأولين وخير الآخرين وخير أهل السماوات وخير أهل الأرض، إلا النبيين والمرسلين `.
موضوع.

أخرجه ابن عدي في ` الكامل ` (ق 62 / 1) والخطيب في ` تاريخ بغداد ` (5 / 253) من طريق جبرون بن واقد: حدثنا مخلد بن حسين عن هشام عن محمد عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره.
أورده ابن عدي في ترجمة جبرون هذا، مع حديث آخر له، ثم قال: ` ولا أعرف له غير هذين الحديثين، وهما منكران `. وقال الذهبي في ` الميزان `: ` متهم، فإنه روى بقلة حياء … `. فذكر هذا الحديث، والحديث الآخر المشار إليه، ثم قال: ` وهما موضوعان `. وأقره الحافظ في ` اللسان `.
والحديث الآخر في ` المشكاة ` (195) ، وقد تكلمت عليه هناك. قلت: وجدت له طريقا آخر، رواه الديلمي في ` مسنده ` (1 / 1 / 78) من طريق السري بن يحيى: حدثنا أبي حدثنا مخلد بن الحسين به مختصرا بلفظ: ` أبو بكر وعمر خير أهل السماوات والأرض، وخير من بقي إلى يوم القيامة `. لكن يحيى والد السري لم أعرفه، فلعله آفته، وأما ابنه فثقة.
‌‌




১৭৪২। আবু বাকর ও উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রথম যুগের লোকদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং সর্বশেষ যুগের লোকদের মধ্যে সর্বোত্তম। আসমানবাসীর মধ্যে সর্বোত্তম, যমীনবাসীর মধ্যে সর্বোত্তম। তবে নবী এবং রসূলগণ ব্যতীত।





হাদীসটি বানোয়াট।





হাদীসটিকে ইবনু আদী “আলকামেল” গ্রন্থে (কাফ ১/৬২) ও খাতীব বাগদাদী “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (৫/২৫৩) জাবরূন ইবনু অকেদ সূত্রে মাখলাদ ইবনু হুসাইন হতে, তিনি হিশাম হতে, তিনি মুহাম্মাদ হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





ইবনু আদী হাদিসটিকে জাবরূনের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন তার অন্য একটি হাদীসের সাথে। অতঃপর বলেছেনঃ আমি তার এ দু'টি হাদীস ছাড়া অন্য কোন হাদীস চিনি না আর এ দুটাই মুনকার।





হাফিয যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী। কারণ তিনি লজ্জা কম ... মর্মে বর্ণিত হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি তার এ হাদীসটি এবং আলোচ্য হাদীসটি উল্লেখ করে বলেনঃ এ দুটিই বানোয়াট।





হাফিয ইবনু হাজার “আললিসান” গ্রন্থে তা স্বীকার করেছেন।





অন্য হাদীসটি “মিশকাত” গ্রন্থে (১৯৫) উল্লেখিত হয়েছে। সেখানে আমি সেটি সম্পর্কে আলোচনা করেছি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আমি তার আরেকটি সূত্র পেয়েছি। যেটিকে দাইলামী তার `মুসনাদ` গ্রন্থে (১/১/৭৮) সারিউ ইবনু ইয়াহইয়া সূত্রে তার পিতা হতে, তিনি মাখলাদ ইবনুল হুসাইন হতে, সংক্ষেপে নিম্নোক্ত ভাষায় বর্ণনা করেছেনঃ





“আবু বাকর ও উমার আসমান ও যমীনবাসীর মধ্যে সর্বোত্তম এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা অবশিষ্ট থাকবে তাদের মধ্যেও সর্বোত্তম।”





কিন্তু সারিউর পিতা ইয়াহইয়াকে আমি চিনি না। সম্ভবত তিনিই এ সনদের সমস্যা। আর তার ছেলে নির্ভরয়োগ্য।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1743)


` أبو سفيان بن الحارث سيد فتيان أهل الجنة `.
ضعيف.

أخرجه ابن سعد في ` الطبقات ` (4 / 53) والحاكم (3 / 255) من طريق حماد بن سلمة عن هشام بن عروة عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره.
قلت: وهذا إسناد رجاله ثقات رجال مسلم، ولكنه مرسل. وهو بظاهره مخالف لقوله صلى الله عليه وسلم: ` الحسن والحسين سيدا شباب … `. وهو مخرج في ` الصحيحة ` (796) .
‌‌




১৭৪৩। আবু সুফইয়ান ইবনুল হারেস জান্নাতী যুবকদের সরদার।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ইবনু সা'দ “আতত্ববাকাত” গ্রন্থে (৪/৫৩) ও হাকিম (৩/২৫৫) হাম্মাদ ইবনু সালামাহ সূত্রে হিশাম ইবনু উরওয়া হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারী। কিন্তু সনদটি মুরসাল। আর বাহ্যিকভাবে হাদিসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিম্নোক্ত বাণীর বিরোধীঃ





“হাসান এবং হুসাইন জান্নাতী যুবকদের সরদার।”





এটি “সিলসিলাহ সহীহাহ` গ্রন্থে (৭৯৬) বর্ণিত হয়েছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1744)


` أبو هريرة وعاء العلم `.
ضعيف.

أخرجه الحاكم (3 / 509) عن زيد العمي عن أبي الصديق الناجي عن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. قلت: وسكت عليه هو والذهبي، وكأنه لظهو ر ضعفه، فإن زيدا هذا وهو ابن الحواري أبو
الحواري، أورده الذهبي في ` الضعفاء `، وقال: ` ليس بالقوي `. وقال الحافظ في ` التقريب `: ` ضعيف `. والحديث في ` الفتح الكبير ` معزوا لـ ` (ن) عن كذا `.
لم يذكر اسم الصحابي، وكأنه كان ممحوا في الأصل الذي نقل عنه السيوطي، ثم أشار إلى ذلك بقوله: ` عن كذا `. وقوله: (ن) يعني النسائي، أخشى أن يكون محرفا من (ك) أي الحاكم، فليس الحديث عند النسائي، ثم تأكدت من التحريف بالرجوع إلى مخطوطة ` الزيادة على الجامع `. والله أعلم.
‌‌




১৭৪৪। আবু হুরাইরাহ্ হচ্ছে জ্ঞানের ভাণ্ডার।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে হাকিম (৩/৫০৯) যায়েদ আলআম্মী হতে, তিনি আবূস সিদ্দীক নাজী হতে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাকিম ও হাফিয যাহাবী এ হাদীসটির ব্যাপারে চুপ থেকেছেন। সম্ভবত দুর্বলতা স্পষ্ট হওয়ার কারণে। কারণ এ যায়েদ হচ্ছেন ইবনুল হাঅরি। হাফিয যাহাবী তাকে `আযযুয়াফা` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি শক্তিশালী নন।





আর হাফিয ইবনু হাজার “আততাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1745)


` أتاني جبريل، فأخذ بيدي، فأراني باب الجنة الذي تدخل منه أمتي، فقال أبو بكر: يا رسول الله! وددت أني كنت معك حتى أنظر إليه، فقال: أما إنك يا أبا بكر! أول من يدخل الجنة من أمتي `.
ضعيف.

أخرجه أبو داود (2 / 265) وابن شاهين في ` السنة ` (رقم 21 - نسختي) والحاكم (3 / 73) من طريق أبي خالد الدالاني عن أبي خالد مولى آل جعدة عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره، وقال: ` صحيح على شرط الشيخين `! ووافقه الذهبي! كذا قالا، وذلك من أوهامهما، فإن الدالاني هذا وشيخه لم يخرج لهما الشيخان شيئا، ثم الأول منهما ضعيف، أورده الذهبي في ` الضعفاء `، وقال: ` قال أحمد: لا بأس به. وقال ابن حبان: فاحش الوهم، لا يجوز الاحتجاج به `.
وقال الحافظ في ` التقريب `: ` صدوق يخطيء كثيرا، وكان يدلس `. والآخر منهما مجهول، كما قال الحافظ، بل قال الذهبي نفسه: ` لا يعرف `. لكن وقع في ` المستدرك `: ` عن أبي حازم `، فلا أدري أهكذا وقعت الرواية للحاكم، فكان ذلك من دواعي ذلك الخطأ، أم هو تصحيف من الناسخ أوالطابع؟! والله أعلم.
‌‌




১৭৪৫। আমার নিকট জীবরল (আঃ) এসে আমার হাত ধরলেন। অতঃপর আমাকে জান্নাতের সেই দরজা দেখালেন যে দরজা দিয়ে আমার উম্মাত প্রবেশ করবে। তখন আবু বকর বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি চাচ্ছি আমি আপনার সাথে থেকে তা দেখব। তিনি বললেনঃ হে আবু বাকর তুমি আমার উম্মাতের মধ্য হতে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে আবু দাউদ (২/২৬৫), ইবনু শাহীন `আসসুন্নাহ` গ্রন্থে (নং ২১) ও হাকিম (৩/৭৩) আবূ খালেদ দালানী সূত্রে আবু জা'দার দাস আবূ খালেদ হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





হাকিম বলেনঃ শাইখাইনের শর্তানুযায়ী এটি সহীহ। আর হাফিয যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন!





তাদের দু’জনের এটি ধারণার উপর নির্ভরশীল কথা। কারণ বর্ণনাকারী এ দালানী ও তার শাইখ হতে বুখারী এবং মুসলিম কিছুই বর্ণনা করেননি। এ ছাড়াও প্রথমজন দুর্বল। তাকে হাফিয যাহাবী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ ইমাম আহমাদ বলেনঃ তার ব্যাপারে সমস্যা নেই। ইবনু হিব্বান বলেনঃ জঘন্য ধরনের সন্দেহ পোষণকারী। তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা না-জায়েয।





হাফিয ইবনু হাজার `আততাকরীব` গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী বহুভুলকারী এবং তিনি তাদলীস করতেন।





আর তাদের দু'জনের দ্বিতীয়জন মাজহুল (অপরিচিত) যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার বলেছেন। বরং হাফিয যাহাবী নিজেই বলেছেনঃ তাকে চেনা যায় না











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1746)


` أتاني جبريل، فقال: إن ربي وربك يقول لك: تدري كيف رفعت لك ذكرك؟ قلت: الله أعلم، قال: لا أذكر، إلا ذكرت معي `.
ضعيف.

أخرجه أبو يعلى في ` مسنده ` وابن حبان (1772) وابن جرير في ` تفسيره ` (30 / 235) وأبو بكر النجاد الفقيه في ` الرد على من يقول: القرآن مخلوق ` (ق 96 / 1) وابن النجار في ` ذيل التاريخ ` (10 / 29 / 2) عن أبي السمح عن أبي الهيثم عن أبي سعيد الخدري مرفوعا به. قلت: وهذا إسناد ضعيف، من أجل أبي السمح، واسمه دراج، فإن فيه ضعفا، كما تقدم مرارا، وأما الحافظ يقول فيه: ` صدوق، في حديثه عن أبي الهيثم ضعف `.
‌‌




১৭৪৬। আমার নিকট জীবরীল আসলেন। অতঃপর বললেনঃ আমার প্রতিপালক এবং আপনার প্রতিপালক আপনাকে বলছেনঃ তুমি কি জান কিভাবে তোমার স্মরণকে উঁচু করেছি? আমি বললাম আল্লাহই বেশী জানেন। তিনি বললেনঃ আমাকে যখনই উল্লেখ (স্মরণ) করা হয়েছে তখনই আপনাকে আমার সাথে উল্লেখ (স্মরণ) করা হয়েছে।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটি আবু ইয়ালা তার `মুসনাদ` গ্রন্থে, ইবনু হিব্বান (১৭৭২), ইবনু জারীর তার “তাফসীর” গ্রন্থে (৩০/২৩৫), আবু বাকর নাজ্জাদ ফাকীহ “আর রাদ্দু 'আলা মাই ইয়াকুলু আলকুরআনু মাখলুকুন” গ্রন্থে (কাফ /৯৬) ও ইবনুন নাজ্জার “যাইলুত তারীখ” গ্রন্থে (১০/২৯/২) আবুস সামহ হতে, তিনি আবুল হাইসাম হতে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আবুস সামহের কারণে এ সনদটি দুর্বল। তার নাম হচ্ছে দাররাজ। কারণ তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। যেমনটি বারবার পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। হাফিয ইবনু হাজার তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী। আবুল হাইসাম হতে তার হাদীসে দুর্বলতা রয়েছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1747)


` اتركوا الترك ما تركوكم، فإن أول من يسلب أمتي ما خولهم الله عز وجل بنو قنطورا من كركرا `.
موضوع.
رواه الطبراني (3 / 76 / 1) والخلال في أصحاب ابن منده (152 / 2) عن عثمان بن يحيى القرقساني: حدثنا عبد المجيد بن عبد العزيز بن أبي رواد حدثنا مروان بن سالم الجزري عن الأعمش عن زيد بن وهب وشقيق بن سلمة عن ابن
مسعود مرفوعا. ورواه أبو جعفر الطوسي الشيعي في ` الأمالي ` (ص 4) عن مروان بن سالم قال: حدثنا الأعمش عن أبي وائل وزيد بن وهب عن حذيفة بن اليمان به. قلت: وهذا إسناد هالك في الضعف، وفيه ثلاث علل:
الأولى: الجزري.
قال البخاري ومسلم وأبو حاتم: ` منكر الحديث `.
وقال أبو عروبة الحراني: ` يضع الحديث `. الثانية: عبد المجيد بن عبد العزيز بن أبي رواد، مختلف فيه، وفي ` التقريب `: ` صدوق يخطيء، وكان مرجئا، أفرط ابن حبان فقال: متروك `. الثالثة: عثمان بن يحيى القرقساني، لم أجد له ترجمة. والحديث قال الهيثمي في ` المجمع ` (7 / 312) . ` رواه الطبراني في ` الكبير ` و` الأوسط `، وفيه عثمان بن يحيى القرقساني، ولم أعرفه، وبقية رجاله رجال الصحيح `. كذا قال: وذهل عن آفته الكبرى: (الجزري) مع أنه تنبه لها في مكان آخر منه، فقال (5 / 304) : ` رواه الطبراني في ` الأوسط `، وفيه مروان بن سالم، وهو متروك `. وقال المناوي عقب هذين النقلين عنه: ` وقال السمهو دي: المقال إنما هو في سند ` الكبير `، أما ` الأوسط ` و` الصغير ` فإسنادهما حسن، ورجالهما موثقون. انتهى.
وبه يعرف أن اقتصار المؤلف على العزولـ ` الكبير ` غير جيد، وكيفما كان، لم يصب ابن الجوزي حيث حكم بوضعه، وقد جمع الضياء فيه جزءا `.
قلت: فيه نظر من وجوه: الأول: أن الطبراني لم يخرجه في ` الصغير `، وأنا من أعرف الناس به، فقد رتبته على مسانيد الصحابة، ثم رتبت أحاديثهم جميعا على حروف المعجم، فعزوه إليه وهم.
الثاني: أن جزمه بأن إسناده حسن، وأن المقال إنما هو في ` الكبير `، يخالف جزم الهيثمي بأن في إسناد ` الأوسط ` أيضا مروان بن سالم المتروك، وهو أعرف به من السمهو دي.
الثالث: أن ابن الجوزي قد أصاب في حكمه عليه بالوضع، ما دام أن مروان بن
سالم قد اتهم بالوضع كما سبق. فلا وجه لتعقبه في ذلك. والضياء إنما جمع الجزء المشار إليه في الطرف الأول من الحديث، بغض النظر عن تمامه، والطرف المذكور، حقا إنه لا مجال للقول بوضعه، لأن له شواهد تمنع من ذلك أورد بعضها الهيثمي، فليراجعه من شاء.
ومن ذلك ما رواه ابن لهيعة عن كعب بن علقمة قال: أخبرنا حسان بن كريب الحميري قال: سمعت ابن ذي الكلاع: سمعت معاوية بن أبي سفيان مرفوعا به. أخرجه ابن عبد الحكم في ` فتوح مصر ` (267) . ثم رأيت ترجمة القرقساني في ` ثقات ابن حبان ` (9 / 455) وذكر أنه مات سنة (258) .
ومن طريقه أخرجه الطبراني في ` المعجم الأوسط ` أيضا (




১৭৪৭। তোমরা তুর্কীদের ছেড়ে দাও যে ব্যাপারে তারা তোমাদেরকে ছেড়ে দিয়েছে। কারণ আমার উম্মাত সর্বপ্রথম সেই বস্তুর অধিকারী হবে যা কুরকুরার বানু কানতূরাকে আল্লাহ্ তা'আলা দান করেন।





হাদীসটি বানোয়াট।





এটিকে ত্ববারানী (৩/৭৬/১) ও খাল্লাল “ফী আসহাবি ইবনু মান্দা” গ্রন্থে (২/১৫২) উসমান ইবনু ইয়াহইয়া কারকাসানী হতে, তিনি আব্দুল মাজীদ ইবনু আব্দুল আযীয ইবনু আবূ রাওয়াদ হতে, তিনি মারওয়ান ইবনু সালেম জাযারী হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি যায়েদ ইবনু ওয়াহাব ও শাকীক ইবনু সালামাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আর আবু জা’ফার তুসী শী'ঈ “আলআমলী” গ্রন্থে (পৃঃ ৪) মারওয়ান ইবনু সালেম হতে, তিনি আ'মাশ হতে, তিনি আবূ অইল এবং যায়েদ ইবনু ওয়াহাব হতে, তিনি হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ দুর্বল হওয়ার দিক থেকে এ সনদটি ধ্বংসপ্রাপ্ত তিন কারণেঃ





(১) বর্ণনাকারী আলজাযারী সম্পর্কে ইমাম বুখারী, মুসলিম ও আবু হাতিম বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস । আবু আরুবাহু হাররানী বলেনঃ তিনি হাদীস জালকারী।





(২) বর্ণনাকারী আব্দুল মাজীদ ইবনু আব্দুল আযীয ইবনু আবু রাওয়াদ সম্পর্কে মতভেদ করা হয়েছে। “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে তিনি সত্যবাদী ভুলকারী। তিনি মুরযেয়া ছিলেন। ইবনু হিব্বান তার ব্যাপারে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করে বলেনঃ তিনি মাতরুক।





(৩) আরেক বর্ণনাকারী উসমান ইবনু ইয়াহইয়া কারকাসানীর জীবনী পাচ্ছি না।





হাইসামী “আলমাজমা” গ্রন্থে (৭/৩১২) বলেনঃ এটিকে ত্ববারানী `আলমুজামুল কাবীর` এবং “আলআওসাত” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে উসমান ইবনু ইয়াহইয়া কারকাসানী রয়েছেন আমি তাকে চিনি না। আর অন্য বর্ণনাকারীগণ সহীহ বর্ণনাকারী।





কিন্তু তিনি বড় সমস্যার ব্যাপারে অজ্ঞই রয়ে গেছেন। সেটি হচ্ছে আলজাযারী। অথচ তিনি অন্যত্র তার সম্পর্কে ঠিকই বলেছেন। তিনি (৫/৩০৪) বলেছেনঃ এটিকে ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন আর এর সনদে মারওয়ান ইবনু সালেম রয়েছেন। তিনি মাতরূক।





মানবী এ দু'টি বর্ণনার পরে বলেছেনঃ সামহূদী বলেনঃ সমালোচনা শুধুমাত্র `আলমু'জামুল কাবীর` গ্রন্থের সনদ নিয়ে। “আলমুজামুল আওসাত” ও “আসসাগীর” গ্রন্থের সনদ দু'টি হাসান পর্যায়ের এবং এ দু’সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। ... এ কারণে ইবনুল জাওযী কর্তৃক হাদীসটির ব্যাপারে বানোয়াটের হুকুম লাগানো সঠিক হয়নি এমতাবস্থায় যে, যিয়া এর একটি অংশ উল্লেখ করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছি তার এ বক্তব্যের ব্যাপারে কয়েক দিক থেকে বিরূপ মন্তব্য রয়েছেঃ





(১) ইমাম ত্ববারানী `আসসাগীর` গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেননি। আমি এ সম্পর্কে লোকদের মধ্যে বেশী জানি। কারণ এ গ্রন্থ সাহাবীগণের মুসনাদের ভিত্তিতে সাজিয়েছি। অতঃপর আমি তাদের হাদীসগুলোকে অক্ষরের ভিত্তিতে সাজিয়েছি। অতএব “আসসাগীর” গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেয়া ধারণা মাত্র।





(২) সামহুদী কর্তৃক হাসান আখ্যা দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তার এ কথা হাইসামী যা দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন তা বিরোধী। কারণ তিনি বলেছেনঃ “আলআওসাত” গ্রন্থেও (৫৬৩৪) বর্ণনাকারী মারওয়ান ইবনু সালেম রয়েছেন আর তিনি মাতরূক। আর তিনি সামহুদীর চেয়ে এ ব্যাপারে বেশী জানেন।





(৩) ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে বানোয়াট আখ্যা দিয়ে সঠিকই করেছেন। কারণ মারওয়ান ইবনু সালেম জাল করার দোষে দোষী। অতএব সামহুদী কর্তৃক সমালোচনার কোন যৌক্তিকতা নেই। আর যিয়া যে অংশটুকু উল্লেখ করেছেন সে অংশের উপর আসলেই বানোয়াটের হুকুম লাগানোর কোন সুযোগ নেই। এর কতিপয় শাহেদ থাকার কারণে। যেগুলোর কিছু কিছু হাইসামী উল্লেখ করেছেন। যে চায় সে যেন তা দেখে নেয়।





উল্লেখ্য, মানবীও আলোচ্য হাদীসটির ব্যাপারে “আততাইসীর” গ্রন্থে বলেছেনঃ এটি দুর্বল। মারওয়ান ইবনু সালেম দুর্বল হওয়ার কারণে। তিনি ত্ববারানীর তিন মুজামের উদ্ধৃতি দেয়ার পর এ কথা বলেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1748)


` استاكوا، لا تأتوني قلحا، لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم بالسواك عند كل صلاة `.
ضعيف.

أخرجه الخطيب في ` الجامع ` (ق 19 / 2 من المنتقى منه) عن يحيى بن عبد الحميد: حدثنا قيس بن الربيع عن عيسى الزراد عن تمام بن معبد عن ابن عباس. قلت: وهذا إسناد ضعيف، يحيى بن عبد الحميد وهو الحماني، وقيس بن
الربيع ضعيفان من قبل حفظهما. وعيسى الزراد وتمام بن معبد لم أجد لهما ترجمة. والحديث رواه سفيان عن أبي علي الزراد قال: حدثني جعفر بن تمام بن عباس عن أبيه قال: أتوا النبي صلى الله عليه وسلم، أوأتي، فقال:
` ما لي أراكم تأتوني قلحا؟! استاكوا، لولا أن أشق.... `. أخرجه أحمد (1 / 214) .
قلت: وهذا إسناد ضعيف مرسل، تمام بن العباس ذكره ابن حبان في ` التابعين ` من ` الثقات `. وأبو علي الزراد ترجمه الحافظ في ` التعجيل ` وقال: ` قال أبو علي بن السكن: مجهول `. قلت: وقد اختلف الرواة عليه في إسناده اختلافا
كثيرا، كما بينه الحافظ في ترجمة تمام بن العباس من ` التعجيل `، وزاده بيانا الشيخ أحمد شاكر في تعليقه على المسند (3 / 246 - 248) ، وانتهى إلى القول: ` ومجموع هذه الروايات عندي يدل على صحة هذا الحديث `.
قلت: ومدارها كلها على الزراد هذا، وقد علمت قول ابن السكن فيه، لكن الشيخ شاكر رحمه الله تعالى قال عقبه: ` وينبغي أن يحكم بتوثيقه، فقد نقل في ` التهذيب ` (10 / 313) في ترجمة منصور بن المعتمر عن الآجري عن أبي داود: ` كان منصور لا يروي إلا عن ثقة `. ورواية منصور عنه ثابتة في أسانيد سنذكرها `.
ومن وجوه الاختلاف المشار إليها ما رواه أحمد (3 / 442) : حدثنا معاوية بن هشام قال: حدثنا سفيان عن أبي علي الصيقل عن قثم بن تمام أوتمام بن قثم عن أبيه قال: ` أتينا النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ما بالكم تأتوني قلحا لا تسوكون؟! لولا … `. قال الهيثمي في ` المجمع ` (1 / 221) : ` رواه أحمد، وفيه أبو علي الصيقل، قيل فيه: إنه مجهول `. وذكر الحافظ أن هذه الرواية شاذة، وأن المحفوظ الرواية المتقدمة عن سفيان … عن جعفر بن تمام بن عباس عن أبيه مرسلا. قلت: ولست أميل إلى الأخذ بما ذهب إليه الشيخ أحمد من صحة الحديث، لأن
الحديث مضطرب اتفاقا، ولم يذكر الشيخ دليلا يمكن به ترجيح وجه من وجوه الاضطراب ثم تصحيحه بخصوصه! نعم وجدت له شاهدا، أخرجه أبو نعيم في ` أخبار أصبهان ` (2 / 148) من طريق العلاء بن أبي العلاء: حدثني مرداس عن أنس مرفوعا به نحوه. لكن العلاء هذا لم أعرفه، ومرداس لعله الذي في ` الميزان ` و` اللسان `: ` مرداس بن أدية أبو بلال، تابعي يعد من كبار الخوارج `.
والحديث أورده في ` الجامع الكبير ` (1 / 96 / 1) من رواية الدارقطني في ` الأفراد ` عن العباس بن عبد المطلب. ووقع في ` الفتح الكبير ` عن ابن عباس، وكأنه تحريف. ومن رواية الحكيم عن تمام بن عباس. ووقع في ` الفتح ` الحكيم وابن عساكر عن تمام. فالله أعلم. وهذا كله في الشطر الأول من الحديث.
وأما الشطر الآخر، فهو صحيح، بل متواتر، جاء عن جمع من الصحابة في ` الصحيحين ` وغيرهما، وقد خرجت بعضها في ` الإرواء ` (70) و` صحيح أبي داود ` (36 و37) .
‌‌




১৭৪৮। তোমরা মেসওয়াক কর, আমার নিকট ময়লাযুক্ত লাল বর্ণ দাত নিয়ে আসবে না। আমি যদি আমার উম্মাতের উপর মুশকিল মনে না করতাম তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে প্রতিটি সালাতের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ প্রদান করতাম।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে খাতীব বাগদাদী “আল-জামে” গ্রন্থে (কাফ ২/১৯) ইয়াহইয়া ইবনু আব্দুল হামীদ হতে, তিনি কাইস ইবনুর রাবী হতে, তিনি ‘ঈসা যাররাদ হতে, তিনি তাম্মাম ইবনু মা'বাদ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। ইয়াহইয়া ইবনু আব্দুল হামীদ হচ্ছেন হুমানী, তিনি এবং কাইস ইবনুর রাবী' তারা উভয়েই তাদের হেফযের দিক থেকে দুর্বল। আর ঈসা যাররাদ এবং তাম্মাম ইবনু মা'বাদের জীবনী আমি পাচ্ছি না।





হাদিসটিকে সুফিয়ান আবূ আলী যাররাদ হতে, তিনি জা'ফার ইবনু তাম্মাম ইবনু আব্বাস হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে আসলে তিনি তাদেরকে বললেনঃ আমি তোমাদেরকে এমতাবস্থায় কেন দেখছি যে, তোমরা আমার নিকট ময়লাযুক্ত লাল বর্ণ দাত নিয়ে এসেছে? তোমরা মেসওয়াক কর, ...।





এটিকে ইমাম আহমাদ (১/২১৪) বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি মুরসাল। তাম্মাম ইবনুল আব্বাসকে ইবনু হিব্বান নির্ভরযোগ্য তাবেঈনদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। আর হাফিয ইবনু হাজার `আত-তা'জীল` গ্রন্থে আবূ আলী যাররাদের জীবনী উল্লেখ করে বলেছেনঃ আবু আলী ইবনুস সাকান বলেনঃ তিনি মাজহুল।





হাদীসটিকে আহমাদ শাকের সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু আমি (আলবানী) তার সহীহ আখ্যা প্রদানকে গ্রহণ করছি না। কারণ সকলের ঐক্যমত্যে হাদীসটি বর্ণনার ক্ষেত্রে ইযতিরাব সংঘটিত হয়েছে। আর শাইখ আহমাদ শাকের এমন কোন প্রমাণ উল্লেখ করেননি যে, তার দ্বারা বিভিন্নভাবে সংঘটিত ইযতিরাবের কোন একটিকে প্রাধান্য বা অগ্রাধিকার দেয়া সম্ভব।





হ্যাঁ, আমি একটি শাহেদ পেয়েছি, যেটিকে আবূ নুয়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/১৪৮) ‘আলী ইবনু আবুল আলা হতে, তিনি মারদাস হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ আলাকে আমি চিনি না। আর মারদাস সম্ভবত তিনিই যাকে “আলমীযান এবং “আললিসান” গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছেঃ মারদাস ইবনু আদইয়াহ আবু বিলাল। তিনি তাবেঈ, তাকে বড় খারেজীদের মধ্যে গণ্য করা হয়।





হাদীসটিকে সুয়ূতী “আলজামেউল কাবীর” গ্রন্থে (১/৯৬/১) দারাকুতনীর `আলআফরাদ` গ্রন্থের বর্ণনায় আব্বাস ইবনু আব্দুল মুত্তালিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে উল্লেখ করেছেন। আর `আলফাতহুল কাবীর` গ্রন্থে ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্ভবত বিকৃত করা হয়েছে। আর হাকীমের বর্ণনায় তাম্মাম ইবনুল আব্বাস হতে হয়েছে। আর `আলফাতহ` গ্রন্থে হাকীম ও ইবনু আসাকির কর্তৃক তাম্মামের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ বেশী ভাল জানেন।





এতোসব কথা ও আলোচনা শুধুমাত্র হাদীসটির প্রথম অংশ নিয়েঃ (তোমরা মেসওয়াক কর, আমার নিকট ময়লাযুক্ত লাল বর্ণ দাত নিয়ে আসবে না।) কারণ দ্বিতীয় অংশ সহীহ। বরং দ্বিতীয় অংশ মুতাওয়াতির সূত্রে বুখারী ও মুসলিম প্রমুখ গ্রন্থে একদল সাহাবী হতে বর্ণিত হয়েছে। যার কিছুকে আমি `আলইরওয়া` গ্রন্থে (৭০) এবং “সহীহ আবী দাউদ” গ্রন্থে (৩৬, ৩৭) তাখরীজ করেছি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1749)


` كان يعجبه أن يفطر على الرطب ما دام الرطب، وعلى التمر إذا لم يكن رطب، ويختم بهن، ويجعلهن وترا ثلاثا أوخمسا أوسبعا `.
ضعيف جدا.
رواه أبو بكر الشافعي في ` الفوائد ` (105 / 1) ومن طريقه الخطيب في تاريخه (3 / 354) : حدثنا أبو بكر محمد بن هارون بن عيسى الأزدي - سنة ست وسبعين (وفي التاريخ: وتسعين) ومائتين - : حدثني الحكم بن موسى
حدثنا محمد بن سلمة الحراني عن الفزاري عن محمد بن المنكدر عن جابر بن عبد الله مرفوعا.
قلت: وهذا سند ضعيف جدا، وعلته الفزاري هذا، واسمه محمد بن عبيد الله العرزمي، وهو متروك، كما في ` التقريب `. وشيخ أبي بكر الشافعي فيه ضعف، قال الخطيب:
` حدث أحاديث مستقيمة، وقال الدارقطني: ليس بالقوي `. قلت: ويستدرك هذا على: ` الميزان `، و` الذيل عليه `، و` لسانه `، فإنهم لم يوردوه. والحديث أخرجه ابن عدي (281 / 2) من طريق محمد بن سلمة به، وقال: ` ومحمد بن سلمة الحراني في عامة ما يروي عن محمد بن عبيد الله العرزمي يقول: ` عن الفزاري `، فيكني عنه ولا يسميه لضعفه، وأحيانا يسميه وينسبه `. وقال: ` حديث غير محفوظ، والعرزمي عامة رواياته غير محفوظة `.
‌‌




১৭৪৯। কাঁচা খেজুর থাকলে কাঁচা খেজুর দিয়ে আর কাঁচা খেজুর না থাকলে খেজুর দিয়ে ইফতার করা তাকে আশ্চর্যাম্বিত করত এবং ইফতার শেষ করতেন খেজুর দ্বারাই এবং তিনি বিজোড় হিসেবে তিনটি অথবা পাঁচটি অথবা সাতটি খেজুর গ্রহণ করতেন।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদিসটিকে আবূ বাকর শাফে'ঈ `আলফাওয়াইদ` গ্রন্থে (১/১০৫) এবং তার সূত্রে খাতীব বাগদাদী “আততারীখ” গ্রন্থে (৩/৩৫৪) আবূ বাকর মুহাম্মাদ ইবনু হারূন ইবনু ঈসা আযদী হতে, তিনি হাকাম ইবনু মূসা হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ হাররানী হতে, তিনি ফাযারী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি জাবের ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। এর সমস্যা হচ্ছে এ ফাযারী। তার নাম মুহাম্মাদ ইবনু ওবাইদুল্লাহ আরযামী। তিনি মাতরূক যেমনটি হাফিয ইবনু হাজারের “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে।





আর আবু বাকর শাফেঈর শাইখের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। খাতীব বাগদাদী বলেনঃ তিনি কতিপয় সঠিক হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর দারাকুতনী বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি যে শক্তিশালী নন তাই বুঝা যায় “আলমীযান” “আযযাইলু আলাইহি” এবং “আললিসান” গ্রন্থ হতে কারণ তারা তাকে উল্লেখ করেননি।





হাদীসটিকে ইবনু আদী (২/২৮১) মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ সূত্রে বর্ণনা করে বলেছেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ হাররানী- মুহাম্মাদ ইবনু ওবাইদুল্লাহ আরযামী হতে তার অধিকাংশ বর্ণনার ক্ষেত্রে বলেছেনঃ 'ফাযারী হতে'। তিনি দুর্বল হওয়ার কারণে তার নাম (মুহাম্মাদ ইবনু ওবাইদুল্লাহ) উল্লেখ করেননি। আবার কখনও কখনও তার নাম উল্লেখ করে বংশ পরিচয় দিয়েছেন। ইবনু আদী বলেনঃ হাদীসটি নিরাপদ নয়। আর আরযামীর অধিকাংশ বর্ণনা নিরাপদ নয়।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1750)


` كان يتنور في كل شهر، ويقلم أظفاره في كل خمس عشرة `.
ضعيف.
رواه الخطيب في ` السادس ` من ` الجامع ` كما في ` المنتقى منه ` (19 / 2) وعنه ابن عساكر (15 / 338 / 1 - 2) : أخبرنا هلال بن محمد بن جعفر الحفار أنبأنا إسماعيل بن محمد الصفار حدثنا محمد بن صالح الأنماطي حدثنا العباس بن عثمان المعلم: حدثني الوليد عن عبد العزيز بن أبي رواد عن نافع عن ابن عمر مرفوعا. قلت: وهلال هذا ترجمه الخطيب في ` التاريخ ` (13 / 75) وقال: ` كتبنا عنه، وكان صدوقا `. وإسماعيل الصفار ثقة كما في ` الميزان `. وكذا محمد بن صالح الأنماطي وكذا العباس بن عثمان المعلم ثقات كلهم، وفي الأخير كلام يسير. والوليد هو ابن مسلم وهو ثقة من رجال الشيخين ولكنه يدلس تدليس التسوية. ولولا ذلك لحكمت على هذا الإسناد بالجودة فإن عبد العزيز بن أبي رواد صدوق ربما وهم، واحتج به مسلم. ونافع أشهر من أن يذكر.
والحديث أورده السيوطي في ` الجامع ` من رواية ابن عساكر وحده. وبيض له المناوي، وجزم السيوطي في ` الحاوي ` (1 / 341 - طبع الدمشقي) بضعف إسناده.
‌‌




১৭৫০। তিনি প্রত্যেক মাসে নিম্নের চুল দূর করার নাওরাহ ব্যবহার করতেন। আর তার নখ কাটতেন প্রত্যেক পনেরো দিনে।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে খাতীব `আলজামে`-র `আসসাদেস` এর মধ্যে যেমনটি “আলমুনতাকা মিনহু” গ্রন্থে (২/১৯), আর তার থেকে ইবনু আসাকির (১৫/৩৩৮/১-২) হিলাল ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু জা’ফার আলহাফফার হতে, তিনি ইসমাইল ইবনু মুহাম্মাদ সফফার হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সালেহ আনমাতী হতে, তিনি আব্বাস ইবনু উসমান মুয়াল্লিম হতে, তিনি অলীদ হতে, তিনি আব্দুল আযীয ইবনু আবূ রাওয়াদ হতে, তিনি নাফে হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ খাতীব “আততারীখ” গ্রন্থে (১৩/৭৫) এ হিলালের জীবনী উল্লেখ করে বলেছেনঃ তার থেকে লিখেছি, তিনি সত্যবাদী ছিলেন। আর ইসমাঈল সফফার নির্ভরযোগ্য যেমনটি “আলমীযান” গ্রন্থে এসেছে। অনুরূপভাবে মুহাম্মাদ ইবনু সালেহ আনমাতী এবং আব্বাস ইবনু উসমান আলমুয়াল্লিম এরা সকলেই নির্ভরযোগ্য। তবে শেষোক্ত ব্যক্তির ব্যাপারে সামান্য সমালোচনা রয়েছে।





আর অলীদ ইবনু মুসলিম বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নির্ভরযোগ্য। কিন্তু তিনি তাদলীসুত তাসবিয়্যাহ করতেন। যদি এরূপ না হতো তাহলে এ হাদীসটির সনদকে ভালো বলে হুকুম প্রদান করতাম। কারণ আব্দুল আযীয ইবনু আবু রাওয়াদ সত্যবাদী, কখনও কখনও সন্দেহ করতেন। তার দ্বারা ইমাম মুসলিম দলীল গ্রহণ করেছেন। হাদীসটিকে সুয়ূতী “আলজামে” গ্রন্থে শুধুমাত্র ইবনু আসাকিরের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। মানবী কোন হুকুম না লাগিয়ে খালী জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন। আর সুয়ূতী `আলহাবী` গ্রন্থে (১/৩৪১) দৃঢ়তার সাথে এর সনদকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1751)


` البادىء بالسلام بريء من الصرم `.
ضعيف.

أخرجه أبو نعيم في ` الحلية ` (7 / 134 و9 / 25) من طريق عبد الرحمن بن عمر - رستة - : حدثنا ابن مهدي حدثنا سفيان عن أبي إسحاق عن أبي الأحوص عن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره.

أخرجه من طريقين عن رستة. وخالفهما العباس بن الفضل الأسفاطي: حدثنا رستة الأصبهاني به، إلا أنه قال: ` الكبر ` مكان: ` الصرم `. أخرجه الخطيب في ` الجزء السابع ` من ` الجامع ` كما في ` المنتقى منه ` (19 / 2) والأسفاطي
هذا لم أعرفه، وهو من شيوخ الطبراني في ` المعجم الصغير ` (رقم 7 - ` الروض `) ، و` المعجم الأوسط `، وله فيه أربعة وعشرون حديثا، وقد ذكره ابن الأثير في ` اللباب ` (1 / 54) ولم يورد فيه جرحا ولا تعديلا. فلفظه هذا
شاذ أومنكر لمخالفته الطريقين فيه. ثم قال أبو نعيم: ` غريب، تفرد به عن الثوري عبد الرحمن بن مهدي `. وقال في الموضع الآخر: ` غريب من حديث الثوري عن أبي إسحاق، كأنه غير محفوظ، والمشهور ما حدثناه حبيب بن الحسن: حدثنا يوسف القاضي حدثنا ابن أبي بكر حدثنا ابن مهدي حدثنا سفيان عن أبي قيس عن عمروبن ميمون عن [ابن] مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله `.
قلت: الإسناد الأول عندي أقوى، لولا أمران اثنان: الأول: أنهم قالوا في ترجمة رستة هذا: ` وغرائب حديثه تكثر `. والآخر: أن أبا إسحاق، وهو السبيعي، مدلس، وقد عنعنه. والحديث أعله المناوي بعلة غريبة، فقال: ` وفيه أبو الأحوص، قال ابن معين: ليس بشيء، وأورده الذهبي في (الضعفاء) `
ولخص ذلك في ` التيسير `، فقال: ` وفيه أبو الأحوص، وهو ضعيف `. قلت: وهذا خطأ فاحش، فأبو الأحوص في الحديث ليس هو الذي ضعفه الذهبي، هذا مجهول الاسم والعدالة، وتمام كلام الذهبي: ` ما روى عنه غير الزهري `. وأنت ترى الحديث من رواية أبي إسحاق عنه، وأبو الأحوص الذي يروي عنه أبو إسحاق إنما هو عوف بن مالك الجشمي، وهو ثقة من رجال مسلم، فلوأن أبا إسحاق صرح بسماعه منه لهذا الحديث لكان حديثا جيدا. والله أعلم.
‌‌




১৭৫১। প্রথমে সালাম প্রদানকারী সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে নিরাপদে থাকবে।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে আবু নুয়াইম `আলহিলয়্যাহ` গ্রন্থে (৭/১৩৪, ৯/২৫) আব্দুর রহমান ইবনু উমার রাসতাহ হতে, তিনি ইবনু মাহদী হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি আবু ইসহাক হতে, তিনি আবুল আহওয়াস হতে, তিনি আব্দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





তিনি এটিকে রাস্তাহ হতে দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আব্বাস ইবনুল ফাযল আসফাতী সে দুটি সূত্রের বিরোধিতা করে বলেছেনঃ রাস্তাহ আসবাহানী আমাদেরকে হাদীসটি বর্ণনা করে শুনিয়েছেন। তবে তিনি “আসসারম” শব্দের স্থলে `আলকিবর” শব্দ বলেছেন। এটিকে খাতীব বাগদাদী “আলজামে” গ্রন্থের “জুযউস সাবে”-এর মধ্যে বর্ণনা করেছেন যেমনটি “আলমুনতাকা মিনহু” গ্রন্থে (২/১৯) উল্লেখ করা হয়েছে।





এ আসফাতীকে আমি চিনি না। তিনি “আলমুজামুস সাগীর” ও “আলমুজামুল আওসাত” গ্রন্থে ত্ববারানীর শাইখদের অন্তর্ভুক্ত। তার এতে চব্বিশটি হাদীস রয়েছে। ইবনুল আসীর তাকে “আললুবাব” গ্রন্থে (১/৫৪) উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই উল্লেখ করেননি। তার এ ভাষা শায অথবা মুনকার, দুটি সূত্রের বিরোধী হওয়ার কারণে। অতঃপর আবু নুয়াইম বলেনঃ এটি গারীব। আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী সাওরী হতে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।





তিনি অন্যত্র বলেনঃ আবু ইসহাক হতে সাওরীর এ হাদীস গারীব। যেন এটি নিরাপদ নয়। প্রসিদ্ধি লাভ করে সেটি যেটিকে হাবীব ইবনুল হাসান বর্ণনা করেছেন ইউসুফ কাযী হতে, তিনি ইবনু আবূ বাকর হতে, তিনি ইবনু মাহদী অতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি আবূ কায়েস হতে, তিনি আমর ইবনু মাইমূন হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তার মত করে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ প্রথম সনদটি আমার নিকট বেশী শক্তিশালী। যদি দু'টি সমস্যা না থাকতঃ





(১) তারা রাস্তার জীবনীতে বলেছেন যে, তার অনেক হাদীস গারীব।





(২) আবূ ইসহাক সুবায়'ঈ মুদাল্লিস। তিনি আন আন করে বর্ণনা করেছেন।





মানবী হাদীসটির এক আজব সমস্যা বর্ণনা করে বলেছেনঃ এর সনদে আবুল আহওয়াস রয়েছেন। ইবনু মাঈন তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি কিছুই না। আর হাফিয যাহাবী তাকে “আযযুয়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।





আর তিনি “আততাইসীর” গ্রন্থে সার সংক্ষেপ উল্লেখ করে বলেছেনঃ এর সনদে আবুল আহওয়াস রয়েছেন। তিনি দুর্বল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এটা মারাত্মক ভুল। কারণ এ হাদীসের মধ্যে এ আবুল আহওয়াস তিনি নন যাকে হাফিয যাহাবী দুর্বল আখ্যা দিয়ে বলেছেন এর নাম এবং ন্যায়পরায়ণতার বিষয়টি অজ্ঞাত। হাফিয যাহাবীর পূর্ণাঙ্গ কথা হচ্ছে এই যে, `তার থেকে যুহরী ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি`।





আপনি দেখছেন যে, এ হাদীসটি তার থেকে আবু ইসহাকের বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে। আর আবুল আহওয়াস তিনিই যার থেকে আবু ইসহাক বর্ণনা করেন। তিনি হচ্ছেন আউফ ইবনু মালেক জাশমী। তিনি নির্ভরযোগ্য ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারী। আবু ইসহাক যদি আবুল আহওয়াস থেকে শ্রবণ করাকে স্পষ্ট করতেন তাহলে এ হাদীসটির অবস্থা ভালই হতো।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1752)


` إسماع الأصم صدقة `.
ضعيف جدا.
رواه مكي المؤذن في ` حديثه ` (238 / 1) ومحمد بن عبد الواحد المقدسي في ` المنتقى من حديث أبي علي الأوقي ` (1 - 2) : حدثنا أحمد بن حبيب النهرواني حدثنا أبو أيوب أحمد بن عبد الصمد حدثنا إسماعيل بن قيس بن سعد عن
أبي حازم عن سهل بن سعد مرفوعا. ومن هذا الوجه رواه الخطيب في ` الجامع ` كما في المنتقى منه ` (20 / 1) . قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، وفيه ثلاث علل:
1 - إسماعيل بن قيس بن سعد، قال البخاري والدارقطني: ` منكر الحديث `. وساق له ابن عدي عدة أحاديث، ثم قال: ` وعامة ما يرويه منكر `.
2 - أحمد بن عبد الصمد، ساق له الذهبي حديثا، ثم قال: ` لا يعرف، والخبر منكر `.
3 - أحمد بن حبيب النهرواني لم أجد له ترجمة.
‌‌




১৭৫২। বধিরকে শুনানো হচ্ছে সাদাকাহ।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে মাক্কী মুয়াযযিন তার “হাদীস” গ্রন্থে (১/২৩৮) ও মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহাব মাকদেসী “আলমুনতাকা মিন হাদীসে আবী আলী আউকী” গ্রন্থে (১/২) আহমাদ ইবনু হাবীব নাহারওয়ানী হতে, তিনি আবূ আইউব আহমাদ ইবনু আব্দুস সামাদ হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু কায়েস ইবনু সা'দ হতে, তিনি আবু হযেম হতে, তিনি সাহল ইবনু সা'দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এ সূত্রেই খতীব `আলজামে` গ্রন্থে যেমনটি `আল মুনতাকা মিনহু` গ্রন্থে (১/২০) এসেছে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। এর মধ্যে তিনটি সমস্যা রয়েছেঃ





(১) বর্ণনাকারী ইসমাঈল ইবনু কায়েস ইবনু সা'দ রয়েছেন। তার সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। ইবনু আদী তার কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি যা কিছু বর্ণনা করেছেন তার অধিকাংশই মুনকার।





(২) বর্ণনাকারী আহমাদ ইবনু আব্দুস সামাদের একটি হাদীস হাফিয যাহাবী উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ তাকে চেনা যায় না, আর হাদীসটি মুনকার।





(৩) আর আরেক বর্ণনাকারী আহমাদ ইবনু হাবীব নাহারওয়ানীর জীবনী আমি পাচ্ছি না।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1753)


` أتاني جبريل عليه السلام فأمرني أن أضع هذه الآية بهذا الموضع من هذه السورة: ` إن الله يأمر بالعدل والإحسان وإيتاء ذي القربى، وينهى عن الفحشاء والمنكر والبغي، يعظكم لعلكم تذكرون ` `.
ضعيف.

أخرجه أحمد (4 / 218) من طريق ليث عن شهر بن حوشب عن عثمان بن أبي العاص قال: ` كنت عند رسول الله صلى الله عليه وسلم جالسا، إذ شخص ببصره، ثم صوبه حتى كاد أن يلزقه بالأرض، قال: ثم شخص ببصره، فقال: فذكره `.
قلت: وهذا إسناد ضعيف، فيه علتان: الأولى: شهر بن حوشب، ضعيف من قبل حفظه، قال الحافظ: ` صدوق، كثير الإرسال، والأوهام `. والأخرى: ليث، وهو ابن أبي سليم، مثله في الضعف. قال الحافظ: ` صدوق اختلط أخيرا، ولم يتميز حديثه فترك `.
قلت: وقد خولف في إسناده، فقال عبد الحميد: حدثنا شهر حدثنا عبد الله بن عباس قال: ` بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم بفناء بيته بمكة إذ مر به عثمان بن مظعون … ` الحديث، وفيه قصة إيمان ابن مظعون، وفيه: ` أتاني رسول الله آنفا، وأنت جالس، قال: رسول الله؟ قال: نعم، قال: فما قال لك؟ قال: ` إن الله يأمر بالعدل … ` `. وعبد الحميد هو ابن بهرام، وهو صدوق، كما قال الحافظ، فهو أوثق من ليث، فروايته أرجح من رواية ليث، فمن الغريب قول الحافظ ابن كثير في روايته (2 / 583) : ` إسناد جيد متصل حسن `! وقوله في رواية ليث:
` وهذا إسناد لا بأس به، ولعله عند شهر من الوجهين `. ونحوه قول الهيثمي (7 / 49) : ` رواه أحمد، وإسناده حسن `.
فأقول: أنى له الحسن، وفيه شهر؟! وعنه ليث، وقد زاد في متنه ما لم يذكره عبد الحميد في روايته عن شهر. (تنبيه) : وقع في ` المجمع `: ` عن عمرو بن أبي العاص ` وهو خطأ مطبعي، والصواب: ` عثمان بن أبي العاص `.
‌‌




১৭৫৩। জিবরীল (আঃ) আমার নিকট আসলেন। অতঃপর আমাকে নির্দেশ দিলেন আমি যেন এ আয়াতটিকে এ সূরার অমুক স্থানে রেখে দিইঃ `আল্লাহ ন্যায়-বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়দেরকে দেয়ার হুকুম দিচ্ছেন, আর তিনি নিষেধ করছেন অশ্লীলতা, অপকর্ম আর বিদ্রোহ থেকে। তিনি তোমাদেরকে নাসীহাত করছেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর` (সূরা নাহল: ৯০)।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ইমাম আহমাদ (৪/২১৮) লাইস সূত্রে শাহর ইবনু হাওশাব হতে, তিনি উসমান ইবনু আবুল আস হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসে ছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি তার চোখকে উপরের দিকে উঠালেন, অতঃপর সোজা করে নিয়ে তিনি যেন দৃষ্টিকে যমীনের সাথে নিবদ্ধ করলেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ অতঃপর তিনি পুনরায় তার দৃষ্টিকে উপরে উঠিয়ে বললেন ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দু'টি কারণে দুর্বলঃ





(১) বর্ণনাকারী শাহর ইবনু হাওশাব তার হেফযের দিক থেকে দুর্বল। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি সত্যবাদী, শেষ বয়সে তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল।





(২) তিনি তার হাদীসকে পৃথক করতে পারতেন না। ফলে তাকে ত্যাগ করা হয়।





আমি (আলবানী) বলছি তার সনদের বিরোধিতা করা হয়েছে। আব্দুল হামীদ বর্ণনা করেন শাহর হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি বলেনঃ `রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় তার ঘরের আঙ্গিনায় ছিলেন এমতাবস্থায় উসমান ইবনু মায‘উন তাকে অতিক্রম করছিলেন ... আলহাদীস।” এর মধ্যে ইবনু মায‘উনের ঈমান আনার ঘটনা রয়েছে এবং তাতে রয়েছেঃ “আমার নিকট এখনই আল্লাহর রসূল (জিবরীল) এসেছিলেন এমতাবস্থায় যে, তুমি বসেছিলে। (ইবনু মাযউন জিজ্ঞেস করল) আল্লাহর রসূল (জীবরল)? (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হা। সে (ইবনু মাযউন) বললঃ আপনাকে তিনি কি বললেন? তিনি বললেনঃ ... ৷





আব্দুল হামীদ হচ্ছেন ইবনু বাহরাম, তিনি সত্যবাদী যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার বলেছেন। তিনি লাইসের চেয়ে বেশী নির্ভরযোগ্য। তার বর্ণনা লাইসের বর্ণনার চেয়ে বেশী অগ্রাধিকারযোগ্য। তবে তার বর্ণনার ব্যাপারে ইবনু কাসীরের মন্তব্য (২/৫৮৩) আজব ধরনেরঃ সনদটি ভালো, মুত্তাসিল ও হাসান।





আর লাইসের বর্ণনার ক্ষেত্রে তার মন্তব্য হচ্ছেঃ এ সনদের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। সম্ভবত শাহরের নিকট দু’সূত্র হতেই বর্ণিত হয়েছে। হাইসামীর মন্তব্যও (৭/৪৯) তার মতইঃ হাদীসটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন আর তার সনদটি হাসান।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাসান হয় কিভাবে যার মধ্যে শাহর রয়েছে? আর তার থেকে লাইস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি ভাষার মধ্যে বেশী করে বর্ণনা করেছেন যা আব্দুল হামীদ তার বর্ণনায় শাহর হতে উল্লেখ করেননি!











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1754)


` أتاني جبريل عليه السلام فقال: إذا أنت عطست فقل: الحمد لله ككرمه، والحمد لله كعز جلاله، فإن الله عز وجل يقول: صدق عبدي، صدق عبدي، صدق عبدي، مغفورا له `.
ضعيف جدا.

أخرجه ابن السني (254) من طريق معمر بن محمد بن عبيد الله بن أبي رافع: حدثنا أبي محمد عن أبيه عبيد الله عن أبي رافع رضي الله عنه قال: ` خرجت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم من بيته يريد المسجد، وهو آخذ بيدي
، فانتهينا إلى البقيع، فعطس رسول الله صلى الله عليه وسلم، فخلى يدي، ثم قام كالمتحير، فقلت: يا نبي الله! بأبي وأمي، قلت شيئا لم أفهمه، قال: نعم، أتاني جبريل … `.
قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، معمر بن محمد بن عبيد الله وأبو هـ، كلاهما منكر الحديث، كما قال البخاري.
‌‌




১৭৫৪। জিবরাল (আঃ) আমার নিকট এসে বললেনঃ আপনি যখন হাঁচি দিবেন তখন বলুনঃ `আলহামদুলিল্লাহি কা কারামিহি, আলহামদুলিল্লাহি কা ইযযি জালালিহি`। কারণ তাহলে আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমার বান্দা সত্য বলেছে। অতএব তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলো।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে ইবনুস সুন্নী (২৫৪) মা'মার ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ওবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফে' সূত্রে তার পিতা মুহাম্মাদ হতে, তিনি তার পিতা ওবাইদুল্লাহ হতে, তিনি আবু রাফে হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তার ঘর হতে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হলাম, এ সময় তিনি আমার হাত ধরে ছিলেন। আমরা বাকী’ পর্যন্ত পৌছলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁচি দিলেন, অতঃপর তিনি আমার হাত ছেড়ে দিলেন। এরপর তিনি বিচলিত হয়ে দাঁড়ালেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী! আমার পিতা এবং আমার মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক! আপনি কিছু বললেন, কিন্তু আমি তা বুঝিনি। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমার নিকট জিবরীল (আঃ) এসেছিলেন ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। কারণ মা'মার ইবনু মুহাম্মাদ এবং তার পিতা মুহাম্মাদ উভয়েই মুনকারুল হাদীস। যেমনটি ইমাম বুখারী বলেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1755)


` أتاني جبريل، فقال: إذا توضأت فخلل لحيتك `.
ضعيف جدا.

أخرجه ابن أبي شيبة (1 / 11) عن الهيثم بن جماز عن يزيد بن أبان عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فذكره. كذا وقع في المطبوعة من ` المصنف `: ` عن يزيد بن أبان ` لم يذكر صحابيه، وفي
` الجامع الصغير `: ` ابن أبي شيبة عن أنس `، فلا أدري إذا كان سقط من المطبوعة ذكر أنس، أو في نقل ` الجامع ` عن ` المصنف ` وهم. ثم إن الإسناد ضعيف جدا، سواء كان مسندا عن أنس، أومرسلا عن يزيد بن أبان، فإن هذا والهيثم بن جماز كليهما متروك.
ويغني عن الحديث ما رواه الوليد بن زوران عن أنس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا توضأ أخذ كفا من ماء فأدخله تحت حنكه، فخلل به لحيته، وقال: هكذا أمرني ربي عز وجل `. وهو حديث صحيح، كما حققته في ` صحيح أبي داود ` (133) .
‌‌




১৭৫৫। আমার নিকট জিবরল এসে বললেনঃ তুমি যখন অযু করবে তখন তোমার দাড়ি খেলাল করবে।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে ইবনু আবী শাইবাহ (১/১১) হাইসাম ইবনু জামায হতে, তিনি য়াযীদ ইবনু আবান হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ...। `আলমুসান্নাফ` গ্রন্থের ছাপাতে এরূপই এসেছে “ইয়াযীদ ইবনু আবান হতে”। সাহাবীকে উল্লেখ করা হয়নি। “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে এসেছেঃ ইবনু আবী শাইবাহ আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। জানি না ছাপা হতে আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নাম ছুটে গেছে, নাকি `আলমুসান্নাফ` গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে “আলজামে” গ্রন্থে ধারণার বশবর্তী হয়ে সাহাবীকে উল্লেখ করা হয়েছে।





এর পরেও সনদটি খুবই দুর্বল। তা আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত হয়ে থাক অথবা ইয়াযীদ ইবনু আবান হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়ে থাক। কারণ এ ইয়াযীদ এবং হাইসাম ইবনু জামায এরা উভয়েই মাতরূক।





এ (খুবই দুর্বল) হাদীস হতে আমাদেরকে নিরাপদে রাখতে পারে সে হাদীস যেটিকে অলীদ ইবনু যাওরান আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অযু করতেন তখন তিনি এক তালু পরিমাণ পানি নিয়ে তার চিবুকের নিম্নাংশে ঢুকাতেন। তিনি এর দ্বারা তার দাড়িকে খেলাল করতেন এবং বলতেনঃ আমার প্রতিপালক আমাকে এরূপই নির্দেশ প্রদান করেছেন।





এ ভাষার হাদীসটি সহীহ, যেমনটি “সহীহ আবী দাউদ” গ্রন্থে (১৩৩) এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1756)


` أتى جبريل النبي صلى الله عليه وسلم فقال: إن الله يأمرك أن تدعو بهولاء الكلمات، فإني معطيك إحداهن: اللهم إني أسألك تعجيل عافيتك، أوصبرا على بليتك، أوخروجا من الدنيا إلى رحمتك `.
ضعيف.

أخرجه ابن حبان (2437) والحاكم (1 / 522) من طريق زهير بن محمد عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة قالت: فذكره. وقال الحاكم: ` صحيح الإسناد `! ووافقه الذهبي! كذا قالا، وزهير بن محمد هو التميمي الخراساني
، أورده الذهبي نفسه في ` الضعفاء ` فقال: ` ثقة فيه لين `.
وقال الحافظ: ` رواية أهل الشام عنه غير مستقيمة، فضعف بسببها. قال البخاري عن أحمد: كأن زهيرا الذي يروي عن الشاميون آخر. وقال أبو حاتم: حدث بالشام من حفظه، فكثر غلطه `.
قلت: وهذا من رواية أهل الشام عنه!
والحديث أورده السيوطي في ` زيادة الجامع الصغير `، وفي ` الجامع الكبير ` (68 / 278) من رواية المذكورين عنها بلفظ: ` أتاني جبريل فقال: … `. فكأنه أورده بالمعنى!
‌‌




১৭৫৬। জিবরল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলেনঃ আল্লাহ্ তা'য়ালা আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, ঐ শব্দগুলোর দ্বারা আপনি দুয়া করুন। কারণ আমি আপনাকে সেগুলোর একটি প্রদান করব। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা তা'জীলা আফিয়াতিকা, আউ সবরান আলা বালিইয়্যাতিকা, আউ খুরূজান মিনাদ দুনিয়া ইলা রহমতিকা। অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট তোমার নিরাপত্তা ও শান্তি চাচ্ছি, অথবা আমি তোমার বিপদের সময় ধৈর্য প্রার্থনা করছি, অথবা দুনিয়া হতে বের হয়ে তোমার রহমতে যাওয়াকে চাচ্ছি।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু হিব্বান (২৪৩৭) ও হাকিম (১/৫২২) যুহায়ের ইবনু মুহাম্মাদ সূত্রে হিশাম ইবনু উরওয়া হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ...।





হাকিম বলেনঃ সনদটি সহীহ। আর হাফিয যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। অথচ হাফিয যাহাবী নিজেই এ যুহায়ের ইবনু মুহাম্মাদ তামীমী খুরাসানীকে “আযযুয়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য তবে তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে।





আর হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তার থেকে শামীদের বর্ণনা সঠিক নয়। এ কারণেই তিনি দুর্বলের অন্তর্ভুক্ত।





ইমাম বুখারী ইমাম আহমাদের উদ্ধৃতিতে বলেনঃ সম্ভবত যে যুহায়ের থেকে শামীরা বর্ণনা করেছেন তিনি অন্য কেউ। আর আবু হাতিম বলেনঃ তিনি শাম দেশে তার হেফয হতে হাদীস বর্ণনা করেন ফলে তার বেশী বেশী ভুল সংঘটিত হয়।





আমি (আলবানী) বলছি তার থেকে এ বর্ণনাটি শামীদেরই। হাদীসটিকে সুয়ূতী “যিয়াদাতুল জামেউস সাগীর” গ্রন্থে এবং “আলজামেউল কাবীর” গ্রন্থে (৬৮/২৭৮) আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন নিম্নের ভাষায়ঃ আমার নিকট জিবরীল (আঃ) এসে বলেনঃ ...। সম্ভবত তিনি ভাবার্থের ভাষা ব্যবহার করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1757)


` كان أحب الريحان إليه الفاغية `.
ضعيف.
رواه الطبراني في ` المعجم الكبير ` (1 / 37 / 1) والعقيلي في ` الضعفاء ` (250) والبيهقي في ` الشعب ` (1 / 214 / 2) عن سليمان أبي داود عن عبد الحميد ابن قدامة عن أنس مرفوعا. وقال: ` قال البخاري: لا يتابع عليه `. يعني عبد الحميد هذا. ونقل المناوي عن ابن القيم أنه قال: ` الله أعلم بحال هذا الحديث، فلا نشهد على رسول الله صلى الله عليه وسلم بما لا نعلم صحته `. قلت هذا كلام جميل متين، ليته كان ملتزما من كل المؤلفين وفي كل الأحاديث، وهو في كتابه القيم ` زاد المعاد ` وسكت عن الحديث المعلقان عليه (4 / 349) ولا خرجاه كما هي عادتهما في كثير من - إن لم أقل: أكثر - أحاديثه.
‌‌




১৭৫৭। তার নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় গন্ধ ছিল গাছ হতে তৈরিকৃত সুগন্ধি।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (১/৩৭/১), ওকাইলী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (২৫০) ও বাইহাকী “আশশুয়াব” গ্রন্থে (১/২১৪/২) সুলাইমান আবূ দাউদ হতে, তিনি আব্দুল হামীদ ইবনু কুদামাহ হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





বাইহাকী বলেনঃ ইমাম বুখারী বলেনঃ আব্দুল হামীদের কেউ মুতাবায়াত করেননি।





আর মানবী ইবনুল কাইয়্যিমের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেনঃ এ হাদীসের অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহই বেশী ভালো জানেন। অতএব যেটির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে জানি না সেটির ব্যাপারে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস হিসেবে সাক্ষ্য দিব না।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তার এ কথা খুবই সুন্দর। কিন্তু তিনি যদি প্রতিটি হাদীসের ক্ষেত্রে এ নীতি গ্রহণ করতেন ...।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1758)


` كان أحب الطعام إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم الثريد من الخبز، والثريد
من التمر، يعني الحيس `.
ضعيف.
رواه أبو داود (3783) وابن سعد (1 / 393) عن عمر بن سعيد عن رجل من أهل البصرة عن عكرمة عن ابن عباس قال: فذكره مرفوعا. قلت: وهذا سند ضعيف لجهالة الرجل البصري، ولذلك قال أبو داود عقبه: ` حديث ضعيف `. وأما الحاكم، فقد صححه! وذلك لأنه أخرجه (4 / 116) من هذا الوجه، لكن لم
يقع عنده: ` عن رجل من أهل البصرة `! وعلى ذلك قال: ` صحيح الإسناد `! ووافقه الذهبي! وأقرهما المناوي في ` الفيض `، وبناء عليه قال في ` التيسير `: ` وإسناده صحيح `! فخفيت عليهم علة الحديث التي لا تظهر إلا بتتبع طرقه.
والحمد لله على توفيقه.
‌‌




১৭৫৮। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দের খাদ্য ছিল রুটি হতে তৈরিকৃত সারদ এবং খেজুর হতে তৈরিকৃত সারদ। অর্থাৎ হাইস।





হাদীসটিকে দুর্বল।





এটিকে আবু দাউদ (৩৭৮৩) ও ইবনু সা'দ (১/৩৯৩) উমর ইবনু সাঈদ হতে, তিনি বসরার এক ব্যক্তি হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ...মারফু হিসেবে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল বসরার নাম না-নেয়া ব্যক্তি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে। এ কারণেই আবু দাউদ হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ হাদীসটি দুর্বল।





কিন্তু হাকিম এটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এ সূত্রেই (৪/১১৬) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তার নিকট বসরার এক ব্যক্তি হতে এভাবে উল্লেখিত হয়নি। এ কারণেই তিনি বলেছেনঃ সনদটি সহীহ। আর হাফিয যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর মানবী “আলফায়েয” গ্রন্থে তাদের দু'জনের মতকে সমর্থন করেছেন। এ কারণেই তিনি “আততাইসীর” গ্রন্থে বলেনঃ এ সনদটি সহীহ।





তাদের নিকট হাদীসটির সমস্যা লুক্কায়িতই রয়ে গেছে, যা প্রকাশিত হয়েছে এর সূত্রগুলো অনুসন্ধান করার মাধ্যমে। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি (আমাকে) তার তাওফীক প্রদানের কারণে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1759)


` كان أحب الفاكهة إليه الرطب والبطيخ، وكان لا يأكل القثاء إلا بالملح، وكان يأكل الخربز بالتمر، وكان يعجبه مرق الدباء `.
ضعيف جدا.
رواه ابن عدي (238 / 1) عن عباد بن كثير عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة مرفوعا، وقال: ` عباد بن كثير عامة حديثه لا يتابع عليه `.
قلت: وهو متروك. وبه أعله العراقي في ` تخريج الإحياء ` (2 / 370) .
وقد أخرجه النوقاني في ` كتاب البطيخ ` عن أبي هريرة أيضا. كما في ` الجامع الصغير `. ونقل المناوي عن الحافظ العراقي أنه قال في الطريقين: ` وكلاهما ضعيف جدا `.
‌‌




১৭৫৯।। তার নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় ফল ছিল কাঁচা খেজুর এবং তরমুজ। তিনি লবণ ছাড়া শশা খেতেন না। তিনি খেজুর দিয়ে খিরবিয (এক ধরনের তরমুজ) খেতেন। তাকে লাউয়ের ঝোল আশ্চর্যাম্বিত করত।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে ইবনু আদী (১/২৩৮) আব্বাদ ইবনু কাসীর হতে, তিনি হিশাম ইবনু উরওয়া হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইবনু আদী বলেনঃ আব্বাদ ইবনু কাসীরের অধিকাংশ হাদীসের মুতাবা'য়াত করা হয়নি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি মাতরূক। তার দ্বারাই হাফিয ইরাকী “তাখরাজুল ইয়াহইয়া” গ্রন্থে (২/৩৭০) সমস্যা বর্ণনা করেছেন।





হাদীসটিকে নূনানী “কিতাবুল বিত্ত্বীখ” গ্রন্থে আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও বর্ণনা করেছেন। যেমনটি “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে এসেছে। আর মানবী হাফিয ইরাকীর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দুটি সূত্রের ব্যাপারেই বলেনঃ দুটিই খুবই দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1760)


` مثل الذي يتكلم يوم الجمعة، والإمام يخطب مثل الحمار يحمل أسفارا، والذي يقول له: أنصت، لا جمعة له `.
ضعيف.
رواه أحمد (1 / 230) وابن أبي شيبة (2 / 125) والطبراني (3 / 167 / 2) والبزار (644 - الكشف) وبحشل في ` تاريخ واسط ` (ص 138) والرامهرمزي في ` الأمثال ` (ص 91 - باكستان) كلهم عن ابن نمير عن مجالد عن الشعبي عن ابن عباس مرفوعا. وقال البزار: ` لا نعلمه بهذا اللفظ إلا بهذا الإسناد، تفرد به ابن نمير عن مجالد `.
قلت: وهذا إسناد ضعيف، من أجل مجالد، وهو ابن سعيد، قال الحافظ وغيره: ` ليس بالقوي `. وكأنه لذلك ضعفه المنذري في ` الترغيب ` (1 / 257) . وأعله المناوي به وبعلة أخرى، فقال بعد ما عزاه أصله لأحمد وحده: ` رمز لحسنه، وفيه محمد بن نمير، أورده الذهبي في ` الضعفاء ` وقال: ` ضعفه الدارقطني `، ومجالد الهمداني، قال أحمد: ليس حديثه بشيء، وضعفه الدارقطني `.
قلت: وفي هذا الإعلال نظر من وجوه:
الأول: أنه ليس في الرواة من اسمه محمد بن نمير مضعفا من قبل الدارقطني. وإنما هنا آخر يعرف بالفاريابي، قال الذهبي في ` الميزان `: ` لا أعرفه، عده السليماني فيمن يضع الحديث `.
الثاني: أنه لا يوجد في ` ضعفاء الذهبي ` ما نقله المناوي عنه أصلا، وإنما فيه ` محمد بن نصير الواسطي عن حبيب بن أبي ثابت، ضعفه الدارقطني `. ونحوه في ` الميزان `، فالظاهر أن اسم ` نصير ` تحرف على المناوي إلى ` نمير `! الثالث: أن ابن نصير هذا أعلى طبقة من ابن نمير الذي روى هذا الحديث كما يأتي.
الرابع: أن محمد بن نمير - أيا كان - ليس له ذكر في إسناد أحمد، فإنه قال: حدثنا ابن نمير عن مجالد … وإنما له ذكر في الطبراني فإنه قال: حدثنا محمد بن عبد الله بن
نمير: أخبرنا أبي عن مجالد … ومن هذا يتبين أن ابن نمير شيخ أحمد، ليس هو محمد بن نمير كما ظن المناوي، وإنما هو عبد الله بن نمير، وهو ثقة من رجال الشيخين. وكذلك ابنه محمد بن عبد الله بن نمير، بل هو أثبت من أبيه كما قال أبو داود.
وبالجملة، فليس في الحديث، سوى مجالد بن سعيد، وهو كاف في تضعيف الحديث، فالعجب من المناوي كيف قال في ` التيسير `:
` إسناده حسن `؟!
(تنبيه) : يشهد للجملة الأخيرة من الحديث تصديقه صلى الله عليه وسلم لأبي بن كعب في قوله لمن تكلم أثناء الخطبة: ` مالك من صلاتك إلا ما لغوت `. انظر ` صحيح الترغيب ` (1 / 303 - 304) .
‌‌




১৭৬০। যে ব্যক্তি জুম'য়ার দিন ইমাম কর্তৃক খুতবাহ দেয়ার সময় কথা বলে তার উদাহরণ হচ্ছে সেই গাধার ন্যায় যে সফরের বোঝা বহন করে। আর যে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেঃ চুপ কর, তার জুম'য়াই হয় না।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে আহমাদ (১/২৩০), ইবনু আবী শাইবাহ (২/১২৫), ত্ববারানী (৩/১৬৭/২), বাযযার (৬৪৪), বাহশাল `তারীখু অসিত` (পৃঃ ১৩৮) ও রামহুরমুযী `আলআমসাল` গ্রন্থে (পৃঃ ৯১) তারা সকলে ইবনু নুমায়ের হতে, তিনি মুজালিদ হতে, তিনি শা'বী হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





বাযযার বলেনঃ হাদীসটিকে এ ভাষায় আমরা একমাত্র এ সনদেই চিনি। এটিকে ইবনু নুমায়ের মুজালিদ হতে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ মুজালিদের কারণে এ সনদটি দুর্বল। তিনি হচ্ছেন ইবনু সাঈদ। হাফিয ইবনু হাজার প্রমুখ বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন। সম্ভবত এ কারণেই মুনযেরী হাদীসটিকে `আততারগীব` গ্রন্থে (১/২৫৭) দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর মানবী তার দ্বারা সমস্যা বর্ণনা করেছেন এবং অন্য একটি সমস্যার কথাও বলেছেন। তিনি শুধুমাত্র ইমাম আহমাদের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ এ হাদীসটির ব্যাপারে হাসানের চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনু নুমায়ের রয়েছেন, যাকে হাফিয যাহাবী `আযযুয়াফা` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তাকে দারাকুতনী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর বর্ণনাকারী মুজালিদ হামদানী সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেনঃ তার হাদীস কিছুই না, আর দারাকুতনী একে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সমস্যা বর্ণনার ব্যাপারে কয়েকভাবে বিরূপ মন্তব্য রয়েছেঃ





(১) এর সনদের বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার নাম মুহাম্মাদ ইবনু নুমায়ের, যাকে দারাকুতনীর পক্ষ থেকে দুর্বল আখ্যা দেয়া হয়েছে। এখানে রয়েছেন অন্য ব্যক্তি যিনি ফারইয়াবী হিসেবে পরিচিত। হাফিয যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে বলেনঃ আমি তাকে চিনি না। আর সুলাইমানী তাকে হাদীস জালকারীদের মধ্যে গণ্য করেছেন।





(২) হাফিয যাহাবীর “আযযুয়াফা` গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে মানবী যাকে উল্লেখ করেছেন, আসলে এ নামে কাউকে এ গ্রন্থে পাওয়া যায় না। তার মধ্যে যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবনু নুসাইর অসেতী যিনি হাবীব ইবনু আবূ সাবেত হতে বর্ণনা করেছেন। আর এ ব্যক্তিকেই দারাকুতনী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।





“আলমীযান” গ্রন্থে এরূপ কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। বাহ্যিকভাবে যা বুঝা যাচ্ছে তাতে মানবীর নিকট বিকৃতভাবে ইবনু নুসাইরের স্থলে ইবনু নুমায়ের নাম উল্লেখিত হয়েছে।





(৩) আর এ ইবনু নুসায়েরের স্তর ইবনু নুমায়ের চেয়ে উঁচু।





(৪) মুহাম্মাদ ইবনু নুমায়ের যেই হোক না কেন তাকে ইমাম আহমাদের সনদে উল্লেখ করা হয়নি। কারণ তিনি বলেনঃ ইবনু নুমায়ের বর্ণনা করেন মুজালিদ হতে ... আর ত্ববারানী বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়ের তার পিতা হতে, তিনি মুজালিদ হতে ... বর্ণনা করেন।





এ থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে, ইমাম আহমাদের শাইখ হচ্ছেন ইবনু নুমায়ের, তিনি হচ্ছেন আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়ের, মুহাম্মাদ ইবনু নুমায়ের নন, যেমনটি মানবী ধারণা করেছেন। আর এ আব্দুল্লাহ ইবনু নুমায়ের নির্ভরযোগ্য, বুখারী এবং মুসলিমের বর্ণনাকারী। অনুরূপভাবে তার ছেলে মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু নুমায়ের নির্ভরযোগ্য বরং তার পিতার চেয়েও বেশী নির্ভরযোগ্য যেমনটি আবু দাউদ বলেছেন।





মোটকথাঃ হাদীসটির সমস্যা হচ্ছে একমাত্র মুজালিদ ইবনু সাঈদ। আর তিনিই হাদীসটি দুর্বল হওয়ার জন্য যথেষ্ট। মানবীর “আততাইসীর” গ্রন্থের কথায় আশ্চর্যাম্বিত হতে হয়, কিভাবে তিনি বললেনঃ সনদটি হাসান।





সতর্কবাণীঃ খুৎবাহ চলাকালীন সময়ে কথা বলা নিষেধ হওয়া মর্মে হাদীসটির শেষ বাক্যের সমর্থনে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক উবাই ইবনু কা'ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে সত্যায়ণ করার ব্যাপারে শাহেদ বর্ণিত হয়েছেঃ উবাই ইবনু কা'ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে লক্ষ্য করে বলেছিলেনঃ “তোমার সালাত হতে তোমার জন্য শুধুমাত্র তুমি যে ক্রটি করলে তাই রয়েছে (মিলবে) ... আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এ কথাকে সত্যায়ণ করেন।” দেখুন “সহীহুত তারগীব অততারহীব” (১/৩০৩-৩০৪) ও `ইরওয়াউল গালীল` (৬১৯) হাদীসের ব্যাখ্যা।