হাদীস বিএন


সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ





সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1821)


` اتقوا فراسة المؤمن، فإنه ينظر بنور الله `.
ضعيف.
روي من حديث أبي سعيد الخدري وأبي أمامة الباهلي وأبي هريرة وعبد الله بن عمر وثوبان.
1 - أما حديث أبي سعيد، فيرويه عمرو بن قيس عن عطية عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. أخرجه الحسن بن عرفة في ` جزئه ` (00 / 00) وعنه أبو نعيم في ` الحلية ` (10 / 281) وكذا السلمي في ` طبقات الصوفية ` (156) وكذا الخطيب في ` التاريخ ` (7 / 242) وكذا ابن الجوزي في ` صفة الصفوة ` (2 / 126 / 2) والبخاري في ` التاريخ الكبير ` (4 / 1 / 354) والترمذي (4 / 132) وابن جرير في ` التفسير ` (14 / 31) والعقيلي في ` الضعفاء ` (396) وأبو الشيخ في ` الأمثال ` (127) والماليني في ` الأربعين الصوفية ` (3 / 1) وأبو نعيم أيضا (10 / 282) وابن عساكر في ` تاريخ دمشق ` (4 / 337 / 1 - 2) من طرق عن عمرو به. وقال الترمذي: ` حديث غريب، لا نعرفه إلا من هذا الوجه `.
قلت: وهو ضعيف من أجل عطية العوفي، فإنه ضعيف مدلس. وأعله العقيلي بعلة أخرى، فإنه رواه من طريق سفيان عن عمرو بن قيس الملائي قال: ` كان يقال ` فذكره، وقال: ` هذا أولى `. ورواه الخطيب (3 / 191) عن العقيلي، وقال: ` وهو الصواب، والأول وهم `.
2 - وأما حديث أبي أمامة، فيرويه أبو صالح عبد الله بن صالح: حدثني معاوية بن صالح عن راشد بن سعد عنه به. أخرجه الطبراني، وعنه أبو نعيم في ` الحلية ` (6 / 118) وابن عدي في ` الكامل `
(ق 220 / 1) وعبد الرحمن بن نصر الدمشقي في ` الفوائد ` (2 / 229 / 2) والخطيب في ` التاريخ ` (5 / 99) وابن عبد البر في ` الجامع ` (1 / 196) والضياء المقدسي في ` المنتقى من مسموعاته بمرو` (32 / 2 و127 / 2) من طرق عنه، وقال ابن عدي: ` لا أعلم يرويه عن راشد بن سعد غير معاوية، وعنه أبو صالح، وأبو صالح هو عندي
مستقيم الحديث، إلا أنه يقع في حديثه، في أسانيده ومتونه غلط، ولا يتعمد الكذب `.
قلت: وأورده الذهبي في ` الضعفاء `، وقال: ` قال أحمد: كان متماسكا، ثم فسد. وأما ابن معين فكان حسن الرأي فيه. وقال أبو حاتم: أرى أن الأحاديث التي أنكرت عليه، مما افتعل خالد بن نجيح، وكان يصحبه، ولم يكن أبو صالح ممن يكذب، كان رجلا صالحا. وقال النسائي: ليس بثقة `. وقال الحافظ في ` التقريب `: ` صدوق كثير الغلط، ثبت في كتابه، وكانت فيه غفلة `. قلت: ومنه يتبين أن قول الهيثمي في ` المجمع ` (10 / 268) : ` رواه الطبراني، وإسناده حسن `. فهو غير حسن. ومثله قول السيوطي في ` اللآلىء ` (2 / 330) : ` فإنه بمفرده على شرط الحسن، وعبد الله بن صالح لا بأس به `!
إذ كيف يكون ابن صالح لا بأس به، وحديثه حسنا، مع كثرة غلطه، وبالغ غفلته، حتى أدخلت الأحاديث المفتعلة في كتبه، فيحدث بها وهو لا يدري!
3 - وأما حديث أبي هريرة، فيرويه أبو معاذ الصائغ عن الحسن عن أبي هريرة. أخرجه أبو الشيخ (126) وابن بشران في ` مجلسين من الأمالي ` (210 - 211) وابن الجوزي في ` الموضوعات ` (2 / 329 - 330) وقال: ` لا يصح، أبو معاذ هو سليمان بن أرقم متروك `.
4 - وأما حديث ابن عمر، فيرويه فرات بن السائب عن ميمون بن مهران عنه.

أخرجه ابن جرير في ` التفسير ` (34 / 32) وأبو نعيم في
` الحلية ` (4 / 94) وقال: ` غريب من حديث ميمون، لم نكتبه إلا من هذا
الوجه `. قلت: وهو ضعيف جدا، قال ابن الجوزي: ` الفرات، متروك `.
وأورده الذهبي في ` الضعفاء والمتروكين `، وقال: ` قال البخاري: منكر
الحديث، تركوه `. 5 - وأما حديث ثوبان، فيرويه سليمان بن سلمة: حدثنا مؤمل
بن سعيد بن يوسف: حدثنا أبو المعلى أسد بن وداعة الطائي قال: حدثني وهب بن
منبه عن طاووس عنه مرفوعا بلفظ: ` احذروا فراسة المؤمن … `، وزاد: `
وينطق بتوفيق الله `. أخرجه ابن جرير (34 / 32) وأبو الشيخ في ` الأمثال ` (128) ، و` طبقات الأصبهانيين ` (223 - 224) وأبو نعيم في ` الأربعين
الصوفية ` (ق 62 / 1) و` الحلية ` (4 / 81) وقال: ` غريب من حديث وهب
، تفرد به مؤمل عن أسد `. قلت: وهو واه جدا، وفيه علل: الأولى: أسد بن
وداعة قال الذهبي: ` من صغار التابعين، ناصبي يسب، قال ابن معين: كان هو
وأزهر الحرازي وجماعة يسبون عليا، وقال النسائي: ثقة `. الثانية: المؤمل
هذا، قال ابن أبي حاتم (4 / 1 / 375) عن أبيه: ` هو منكر الحديث، وسليمان
بن سلمة منكر الحديث `. الثالثة: سليمان بن سلمة، وهو الخبائري، سمعت قول
أبي حاتم فيه آنفا. وقال أيضا:
: ` متروك لا يشتغل به `. وقال ابن الجنيد: ` كان
يكذب، ولا أحدث عنه `. وذكر له الذهبي حديثا موضوعا. قلت: ومن الغريب أن
السيوطي أورد هذه الطريق في جملة ما أورده متعقبا به على ابن الجوزي حكمه على
الحديث بالوضع، ثم سكت عنه، كأنه لا يعلم ما فيه من هذه العلل التي تجعله غير
صالح للاستشهاد به، لشدة ضعفه، وكذلك سائر طرقه، فقوله: إن الحديث حسن
صحيح. يعني بمجموعها، مردود عليه لما ذكرنا، وإن تبعه المناوي وغيره.
وجملة القول، أن الحديث ضعيف، لا حسن ولا موضوع، وإليه مال الحافظ السخاوي
في ` المقاصد الحسنة `. والله أعلم. (تنبيه) : الحديث أورده الغماري في `
كنزه ` رقم (55) الذي زعم أن كل ما فيه صحيح، والدكتور القلعجي في فهرس
` الأحاديث الصحيحة ` الذي وضعه في آخر كتاب ` ضعفاء العقيلي ` جهلا منه بمعنى
قوله المتقدم: ` هذا أولى `! وله من هذا النوع أمثلة أخرى، لعله تقدم أو
يأتي بعضها إن شاء الله تعالى.
‌‌




১৮২১। তোমরা মুমিনের বুদ্ধিমত্তা থেকে বেঁচে থাক। কারণ সে আল্লাহর নূর দ্বারা দেখে।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), আবু উমামাহ্ বাহেলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও সাওবান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করা হয়েছে।





প্রথমতঃ আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীস। এটিকে আমর ইবনু কায়েস আতিয়্যাহ হতে, তিনি আবু সাঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





এটিকে হাসান ইবনু আরাফাহ তার “জুযউ” গ্রন্থে, আর তার থেকে আবূ নুয়াইম “আলহিলইয়্যাহ” গ্রন্থে (১০/২৮১), অনুরূপভাবে সুলামী “ত্ববাকাতুস সুফিয়্যাহ” গ্রন্থে (১৫৬), খাতীব “আততারীখ” (৭/২৪২), ইবনুল জাওযী “সিফাতুস সাফওয়া” গ্রন্থে (২/১২৬/২), বুখারী “আততারীখুল কাবীর” গ্রন্থে (৪/১/৩৫৪), তিরমিযী (৪/১৩২), ইবনু জারীর “আততাফসীর” গ্রন্থে (১৪/৩১), ওকাইলী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (৩৯৬), আবুশ শাইখ “আলআমসাল” গ্রন্থে (১২৭), মালীনী “আলআরবাউনুস সুফিয়্যাহ` গ্রন্থে (৩/১), আবু নুয়াইম (১০/২৮২) ও ইবনু আসাকির “তারীখু দেমাস্ক” গ্রন্থে (৪/৩৩৭/১-২) বিভিন্ন সূত্রে আমর হতে বর্ণনা করেছেন।





তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি গরীব। একমাত্র এ সূত্রেই এটিকে আমরা চিনি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি দুর্বল আতিয়াহ আউফীর কারণে। কারণ তিনি দুর্বল এবং মুদাল্লিস। ওকাইলী অন্য একটি সমস্যা উল্লেখ করে সমস্যা বর্ণনা করেছেন। কারণ তিনি সুফইয়ান সূত্রে আমর ইবনু কায়েস মুলাঈ হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ বলা হতো ... এবং বলেনঃ এটিই উত্তম।





খাতীব (৩/১৯১) ওকাইলী হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ এটিই সঠিক আর প্রথমটি হচ্ছে সন্দেহযুক্ত।





দ্বিতীয়তঃ আবু উমামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস। আবু সালেহ আব্দুল্লাহ ইবনু সালেহ এটিকে মুয়াবিয়্যাহ ইবনু সালেহ হতে, তিনি রাশেদ ইবনু সা'দ হতে, তিনি আবু উমামাহ্ হতে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে ত্ববারানী, তার থেকে আবূ নুয়াইম `আলহিলইয়্যাহ` গ্রন্থে (৬/১১৮), ইবনু আদী “আলকামেল” গ্রন্থে (কাফ ১/২২০), আব্দুর রহমান ইবনু নাসর দেমাস্কী “আলফাওয়াইদ” গ্রন্থে (২/২২৯/২), খাতীব “আততারীখ” গ্রন্থে (৫/৯৯), ইবনু আব্দুল বার “আলজামে” গ্রন্থে (১/১৯৬) ও যিয়া মাকদেসী “আলমুনতাকা মিন মাসমূআতিহি বি-মারু” গ্রন্থে (৩২/২, ১২৭/২) বিভিন্ন সূত্রে আবু উমামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





ইবনু আদী বলেনঃ হাদীসটিকে রাশেদ ইবনু সা'দ হতে মুয়াবিয়্যাহ ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে জানি না। আর তার থেকে আবু সালেহ বর্ণনা করেছেন। আমার নিকট আবু সালেহ মুস্তাকীমুল হাদীস। কিন্তু তার হাদীসের মধ্যে হাদীসের সনদগুলোতে এবং ভাষাগুলোতে ভুল সংঘটিত হত। তিনি ইচ্ছাকৃত মিথ্যা বলতেন না।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তাকে হাফিয যাহাবী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি প্রথম দিকে ভালই ছিলেন অতঃপর নষ্ট হয়ে যান। ইবনু মাঈন তার সম্পর্কে ভাল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আবু হাতিম বলেনঃ আমি মনে করি তার বিপক্ষে যে হাদীসগুলোকে মুনকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো খালেদ ইবনু নাজীহির তৈরিকৃত। তিনি তার সাথী হতেন। আবু সালেহ মিথ্যুকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তিনি একজন সৎ লোক ছিলেন। নাসাঈ বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন।





হাফিয ইবনু হাজার `আততাকরীব` গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী বহু ভুলকারী। তার কিতাবের ক্ষেত্রে তিনি নির্ভরযোগ্য। তার মধ্যে অবহেলা ছিল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ থেকেই স্পষ্ট হয় যে, হাইসামী কর্তৃক “আলমাজমা” গ্রন্থে (১০/৩৩০) ত্ববারানীর সূত্রে উল্লেখ করে সনদটিকে হাসান বলাটা ভাল হয়নি। অনুরূপভাবে সুয়ূতী যে, “আললাআলী” গ্রন্থে (২/৩৩০) বলেছেনঃ হাসানের শর্তমাফিক হয়েছে এবং আব্দুল্লাহ ইবনু সালেহের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই, এ কথা বলাও ভাল হয়নি।





কিভাবে ইবনু সালেহের মধ্যে কোন সমস্যা নেই এবং কিভাবে তার হাদীস হাসান? যেখানে তিনি বহু ভুল করতেন এবং তার মধ্যে অধিকহারে অবহেলা ছিল, এমনকি তার গ্রন্থের মধ্যে বানোয়াট হাদীসের অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে এবং তিনি তাই বর্ণনা করতেন অথচ তিনি জানতেন না!





তৃতীয়তঃ আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস। এটিকে আবু মুয়ায সায়েগ হাসান হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে আবুশ শাইখ (১২৬), ইবনু বিশরান “মাজলিসানু মিনাল আমলী” গ্রন্থে (২১০-২১১) ও ইবনুল জাওযী “আলমাওয়ূয়াত” গ্রন্থে (২/৩২৯-৩৩০) উল্লেখ করে ইবনুল জাওযী বলেছেনঃ এটি সহীহ নয়। আবু মুয়ায হচ্ছেন সুলাইমান ইবনু আরকাম, আর তিনি মাতরূক।





চতুর্থতঃ আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীস। এটিকে ফুরাত ইবনুস সায়েব মাইমূন ইবনু মিহরান হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে ইবনু জারীর “তাফসীর” গ্রন্থে (৩৪/৩২) ও আবু নুয়াইম “আলহিলইয়্যাহ” গ্রন্থে (৪/৯৪) বর্ণনা করে বলেছেনঃ মাইমূনের হাদীস হতে এটি গারীব। এটিকে একমাত্র এ সূত্রেই আমরা লিখেছি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি খুবই দুর্বল। ইবনুল জাওযী বলেনঃ ফুরাত মাতরূক। তাকে হাফিয যাহাবী `আয যুয়াফা অলমাতরূকীন` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস, তাকে মুহাদ্দিসগণ ত্যাগ করেছেন।





পঞ্চমতঃ সাওবান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীস। এটিকে সুলাইমান ইবনু সালামাহ মুহাম্মাল ইবনু সাঈদ ইবনু ইউসুফ হতে, তিনি আবুল মুয়াল্লা আসাদ ইবনু আদায়াহ তাঈ হতে, তিনি ওয়াহাব ইবনু মুনব্বিহ হতে, তিনি তাউস হতে, তিনি সাওবান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে কিছু বেশী বর্ণনা করেছেন `এবং আল্লাহর তাওফীকে কথা বলে।`





এটিকে ইবনু জারীর (৩৪/৩২), আবুশ শাইখ `আলআমসাল` গ্রন্থে (১২৮) এবং “ত্ববাকাতুল আসবাহানীঈন” গ্রন্থে (২২৩-২২৪), আবূ নুয়াইম `আলআরবাউনুস সূফিয়্যাহ` গ্রন্থে (কাফ ১/৬২) এবং `আলহিলইয়াহ` গ্রন্থে (৪/৮১) বর্ণনা করেছেন। আবু নুয়াইম বলেনঃ ওয়াহাবের হাদীস হতে এটি গারীব। এটিকে মুয়াম্মাল আসাদ হতে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছি কয়েকটি কারণে এটি খুবই দুর্বলঃ





১। আসাদ ইবনু আদায়াহ সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তিনি ছোট তাবেঈগণের একজন, নাসেবী সম্প্রদায়ভুক্ত গালি দিতেন। ইবনু মা'ঈন বলেনঃ তিনি, আযহার হারায়ী ও একদল আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে গালি দিতেন। নাসাঈ বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য।





২। এ মুয়াম্মাল সম্পর্কে ইবনু আবী হাতিম (৪/১/৩৭৫) তার পিতার উদ্ধৃতিতে বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস, সুলাইমান ইবনু সালামাও মুনকারুল হাদীস।





৩। সুলাইমান ইবনু সালামাহ হচ্ছেন খাবাইযী, তার সম্পর্কে আবূ হাতিমের মন্তব্য এ মাত্র শুনেছেন। তিনি আরো বলেছেনঃ তিনি মাতরূক, তাকে নিয়ে ব্যস্ত হওয়া যাবে না। ইবনু জুনায়েদ বলেনঃ তিনি মিথ্যা বলতেন, আর তার থেকে আমি হাদীস বর্ণনা করি না। হাফিয যাহাবী তার একটি বানোয়াট হাদীস উল্লেখ করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছি আজব ব্যাপার এই যে, সুয়ূতী হাদীসটিকে বহু শাহেদ একত্রিত করণের দ্বারা হাসান সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। আর মানবী প্রমুখ তার অনুসরণ করেছেন। কিন্তু শাহেদগুলো খুবই দুর্বল হওয়ার কারণে কোন অবস্থাতেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। যেমনটি আলোচনা করা হয়েছে।





মোট কথাঃ হাদীসটি দুর্বল, হাসান নয় এবং বানোয়াটও নয়। হাফিয সাখাবী `আলমাকাসিদুল হাসানাহ` গ্রন্থে এদিকে ধাবিত হয়েছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1822)


` اجعلوا أئمتكم خياركم، فإنهم وفدكم فيما بينكم، وبين الله عز وجل `.
ضعيف جدا. أخرجه الدارقطني في ` سننه ` (ص 197) والبيهقي (3 / 90) عن
حسين بن نصر: حدثنا سلام بن سليمان حدثنا عمر بن عبد الرحمن بن يزيد عن محمد
بن واسع عن سعيد بن جبير عن ابن عمر: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
فذكره. وقال البيهقي: ` إسناده ضعيف `. قلت: وفيه علل:
الأولى: عمر بن عبد الرحمن بن يزيد، لم أعرفه، ووقع عند الدارقطني (عمر) غير منسوب، فقال
عقبه: ` هذا عندي عمر بن يزيد قاضي المدائن `. قلت: والمدائني قال فيه ابن
عدي (5 / 1687) : ` منكر الحديث `. الثانية: سلام بن سليمان، قال الذهبي
في ` الضعفاء `: ` قال ابن عدي: عامة ما يرويه لا يتابع عليه `. ولذا قال
الحافظ في ` التقريب `: ` ضعيف `. الثالثة: حسين بن نصر. لا يعرف كما قال
ابن القطان. وقد روي الحديث من طريق أخرى من حديث مرثد بن أبي مرثد الغنوي
مرفوعا نحوه، وهو الآتي بعده:
‌‌




১৮২২। তোমাদের উত্তম ব্যক্তিদেরকে তোমাদের ইমাম বানাও। কারণ তারা তোমাদের মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধি তোমাদের এবং আল্লাহর মাঝের বিষয়সমূহের ব্যাপারে।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে দারাকুতনী তার “সুনান” গ্রন্থে (পৃঃ ১৯৭) বাইহাকী (৩/৯০) হুসাইন ইবনু নাসর হতে, তিনি সালাম ইবনু সুলাইমান হতে, তিনি উমার ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু অসী হতে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবায়ের হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...। বাইহাকী বলেনঃ এর সনদ দুর্বল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এর মধ্যে কয়েকটি সমস্যা রয়েছেঃ





১। উমার ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদকে আমি চিনি না। দারাকুতনীর নিকট কোন প্রকার পরিচয় ছাড়া শুধুমাত্র উমার উল্লেখ করা হয়েছে। পরক্ষণেই বলেছেনঃ আমার নিকট ইনি মাদাইনের কাযী উমার ইবনু ইয়াযীদ।





আমি (আলবানী) বলছিঃ মাদাইনীর ব্যাপারে ইবনু আদী (৫/১৬৮৭) বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস।





২। সালাম ইবনু সুলাইমান সম্পর্কে হাফিয যাহাবী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে বলেনঃ ইবনু আদী বলেনঃ তার অধিকাংশ বর্ণনার মুতাবায়াত করা হয়নি। এ কারণে হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি দুর্বল।





৩। হুসাইন ইবনু নাসরকে চেনা যায় না যেমনটি ইবনু কাত্তান বলেছেন। হাদিসটিকে অন্য সূত্রে মারসাদ ইবনু আবূ মারসাদ গানবী হতে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেটি পরে আগত হাদীসটি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1823)


ط) ، لكنه قال: حدثنا أبو أمية
ابن يعلى الثقفي عن سعيد بن أبي سعيد المقبري عن أبي هريرة مرفوعا.
والفيض مقارب الحال كما قال الذهبي، فالعلة من أبي أمية، ضعفه الدارقطني.
‌‌




১৮২৩। তোমাদের সালাত কবুল হওয়াকে যদি তোমাদের আনন্দিত করে তাহলে তোমাদের উত্তম ব্যক্তিরা যেন তোমাদের ইমামাত করে। কারণ তারা তোমাদের মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধি তোমাদের এবং তোমাদের প্রতিপালকের মাঝের বিষয়সমূহের ব্যাপারে।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে দারাকুতনী (পৃঃ ১৯৭), ইবনু মান্দাহ “আলমারিফাহ” গ্রন্থে (২/১৭৪/২) ও হাকিম (৩/২২২) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ালা আসলামী সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনু মূসা হতে, তিনি সামাহ্ ইবনু লুওয়াইর ছেলে কাসেম সামী হতে, তিনি মারসাদ ইবনু আবী মারসাদ গানবী (তিনি বাদরী ছিলেন) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





দারাকুতনী বলেনঃ সনদটি সাব্যস্ত হয়নি। আব্দুল্লাহ ইবনু মূসা দুর্বল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি তাইমী মাদানী। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি সত্যবাদী বহু ভুলকারী।





আমি (আলবানী) বলছি তার শাইখ কাসেম সামীর জীবনী পাচ্ছি না। যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এবং হাইসামীর “আলমাজমা` গ্রন্থে (২/৬৪) এসেছে। হাইসামী হাদীসটিকে ত্ববারানীর `আলকাবীর` গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। এটি তার নিকট (২০/৩২৮) নিম্নোক্ত বাক্যে বর্ণিত হয়েছেঃخياركم এর পরিবর্তে علماؤكم উল্লেখ করা হয়েছে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ বাক্যে এটি মুনকার।





এটিকে ইসমাইল ইবনু আবান আররাক বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনু ই'য়ালা আসলামী হতে, তিনি কাসেম শাইবানী হতে, তিনি আবু উমামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে শেষের فإنهم... বাক্য ছাড়া।





তিনি এটিকে মুসনাদু আবী উমামার অন্তর্ভুক্ত করেছেন আর আব্দুল্লাহ ইবনু মূসাকে সনদ থেকে ফেলে দিয়েছেন। আমার ধারণা এরূপ ঘটেছে দুর্বল আসলামী হতে, অররাক হতে নয়, কারণ অররাক নির্ভরযোগ্য।





অন্য একটি সূত্রে হাদীসটিকে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে নিম্নের বাক্যেঃ





إن سركم أن تزكوا صلاتكم، فقدموا خياركم





তোমাদের সালাত পবিত্র করাকে যদি তোমাদেরকে আনন্দিত করে তাহলে তোমরা তোমাদের উত্তম ব্যক্তিকে সামনে এগিয়ে দাও।





এটিকে দারাকুতনী (পৃঃ ১৩২) ও ইবনু আদী “আলকামেল” গ্রন্থে (কাফ ২/১৯৯) আবুল অলীদ খালেদ ইবনু ইসমাঈল সূত্রে ইবনু জুরায়েয হতে, তিনি আতা হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর দারাকুতনী বলেছেনঃ আবুল আলীদ দুর্বল।





আর তার ব্যাপারে ইবনু আদীর কথাই সঠিকঃ তিনি নির্ভরযোগ্য মুসলিমগণের উদ্ধৃতিতে হাদীস জলকারী। আর তার থেকে কোন মিথ্যুক তা চুরি করেন।





এটিকে মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু মূসা রাযী বর্ণনা করেন আবূ আমের আমর ইবনু তামীম ইবনু সাইয়্যার ত্ববারানী হতে, তিনি হাওযা ইবনু খালীফাহ বাকরাধী হতে, তিনি ইবনু জুরায়েয হতে।





এটিকে খাতীব এ রাযীর জীবনীতে “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (২/৫১) উল্লেখ করে বলেছেনঃ এ সনদে এ হাদীসটি মুনকার। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। এ হাদীসের সমস্যার দায়ভার রাযীর উপরে পড়েছে, তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন না।





অতঃপর তিনি তার কতিপয় হাদীস উল্লেখ করে বলেছেনঃ এগুলো বাতিল। তিনি আবুল কাসেম ত্ববারানী হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাকে (রাযীকে) মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন।





হাদীসটিকে মূসা ইবনু ইবরাহীম মূসা ইবনু জা’ফার হতে, তিনি জা’ফার ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে আবু বাকর শাফেঈ “মুসনাদু মূসা ইবনু জাফর ইবনু মুহাম্মাদ হাশেমী” গ্রন্থের মধ্যে (কাফ ১/৭১) উল্লেখ করেছেন।





এ সনদটি খুবই দুর্বল। কারণ এ মূসা ইবনু ইবরাহীম হচ্ছেন আবূ ইমরান মারওয়াযী যার সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে ইয়াহইয়া মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। দারাকুতনী প্রমুখ বলেনঃ তিনি মাতরূক। অতঃপর তিনি তার কতিপয় বিপদ সম্বলিত হাদীস উল্লেখ করেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1824)


` إن الأرض لتستغفر للمصلي بالسراويل `.
منكر.
رواه أبو الشيخ في ` الطبقات ` (295) وعنه أبو نعيم (1 / 330)
وعنه الديلمي في ` مسنده ` (1 / 166 - 167) : حدثنا سعيد بن يعقوب قال:
حدثنا عمار بن يزيد القرشي البصري قال: حدثنا الحسن بن موسى قال: حدثنا ابن
لهيعة، عن عيسى بن طهمان عن مالك بن عتاهية قال: قال رسول الله صلى الله
عليه وسلم: فذكره. قلت: وهذا سند واه، وعلته ابن لهيعة فإنه ضعيف. وفي
الطريق إليه عمار بن يزيد القرشي البصري ولم أعرفه، وفي ` الجرح والتعديل `
(3 / 1 / 392) : ` عمار بن يزيد، روى عن يزيد بن عبد الله بن قسيط، روى
سعيد بن أبي أيوب عن خالد بن يزيد عنه `. وفي ` الميزان `: ` عمار بن يزيد
عن موسى بن هلال، قال الدارقطني: مجهول `. وزاد في ` اللسان `: ` وفي
ثقات ابن حبان: عمار بن يزيد يروي المقاطيع والمراسيل. روى عنه خالد بن يزيد
المصري، فلعله هذا `.
قلت: وسواء كان هو أوغيره، فهو مجهول، ولكني
أستبعد جدا أن يكون هو القرشي البصري، لأن ابن حبان أورده في ` أتباع التابعين
` (7 / 285) ، والقرشي متأخر عنه كما ترى. وسعيد بن يعقوب هو أبو عثمان
سعيد بن يعقوب بن سعيد القرشي. قال أبو الشيخ: ` يحدث عن بندار ومحمد بن أبي
الوزير الواسطي والأصبهانيين `. ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا. والحديث
عزاه السيوطي في ` الجامع الكبير ` (1 / 162 / 1) للديلمي وحده! ورواه أبو
نعيم - أي في ` المعرفة ` كما في ` الإصابة ` - من طريق ابن لهيعة بسند آخر عن
مالك بن عتاهية. والظاهر أن ابن لهيعة اضطرب في سنده. والله أعلم.
‌‌




১৮২৪। অবশ্যই যমীন পায়জামা পরিধান করে সালাত আদায়কারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।





হাদীসটি মুনকার।





এটিকে আবুশ শাইখ “আত্তবাকাত” গ্রন্থে (২৯৫), তার থেকে আবূ নুয়াইম (১/৩৩০) এবং তার থেকে দাইলামী তার “মুসনাদ’ গ্রন্থে (১/১৬৬-১৬৭) সাঈদ ইবনু ইয়াকুব হতে, তিনি আম্মার ইবনু ইয়াযীদ কুরাশী বাসরী হতে, তিনি হাসান ইবনু মূসা হতে, তিনি ইবনু লাহীয়াহ হতে, তিনি ঈসা ইবনু তুহমান হতে, তিনি মালেক ইবনু আতাহিয়্যাহ হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। এর সমস্যা হচ্ছে ইবনু লাহীয়াহ। কারণ তিনি দুর্বল। তার নিকট পর্যন্ত পৌছতে সূত্রে আম্মার ইবনু ইয়াযীদ কুরাশী বাসর রয়েছেন তাকে আমি চিনি না। “আলজারহু অততাদীল” গ্রন্থে (৩/১/৩৯২) এসেছেঃ আম্মার ইবনু ইয়াযীদ হাদিসটিকে ইয়াযীদ ইবনু আবদুল্লাহ কুসায়েত হতে বর্ণনা করেছেন। আর সাঈদ ইবনু আবূ আইউব খালেদ ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি তার (আম্মার) থেকে বর্ণনা করেছেন।





“আলমীযান” গ্রন্থে এসেছে আম্মার ইবনু ইয়াযীদ মূসা ইবনু হিলাল হতে বর্ণনা করেছেন। আর দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মাজহুল। “আললিসান” গ্রন্থে কিছু বেশী এসেছে ইবনু হিব্বানের “আসসিকাত` গ্রন্থে এসেছে আম্মার ইবনু ইয়াযীদ মাকতু’ এবং মুরসালগুলো বর্ণনা করেন। তার থেকে খালেদ ইবনু ইয়াযীদ মিসরী বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি হন আর অন্য কেউ হন তিনি মাজহুল। তবে আমি তার কুরাশী বাসরী হওয়াকে খুবই অসম্ভব মনে করছি। কারণ ইবনু হিব্বান তাকে (কুরাশীকে) তাবে তাবেঈগণের অন্তর্ভুক্ত (৭/২৮৫) করেছেন অথচ এ কুরাশী তার থেকে অনেক পেছনে যেমনটি দেখছেন। আর সাঈদ ইবনু ইয়াকুব হচ্ছেন আবূ উসমান সাঈদ ইবনু ইয়াকুব ইবনু সাঈদ কুরাশী।





আবুশ শাইখ বলেনঃ তিনি বুন্দার, মুহাম্মাদ ইবনু আবুল অযীর অসেতী এবং আসবাহানীদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।





তিনি তার সম্পর্কে ভাল-মন্দ কিছুই উল্লেখ করেননি। হাদীসটিকে সুয়ূতী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (১/১৬২/১) শুধুমাত্র দাইলামীর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। আর আবু নুয়াইম হাদীসটিকে “আলমারিফাহ” গ্রন্থে যেমনটি `আলইসাবাহ` গ্রন্থে এসেছে ইবনু লাহীয়ার সূত্রে অন্য একটি সনদে মালেক ইবনু আতাহিয়্যাহ হতে বর্ণনা করেছেন। বাহ্যিকতা থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইবনু লাহী'য়্যাহ তার সনদে ইযতিরাবের মধ্যে পড়েছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1825)


` أملكوا العجين، فإنه أعظم للبركة `.
منكر جدا.
رواه ابن عدي (166 / 2) عن سلامة بن روح عن عقيل عن الزهري
حدثني أنس به مرفوعا، وفي لفظ له: ` فإنه أحد الريعين `. وقال: `
وهذا وإن روي بغير هذا الإسناد فهو منكر جدا `. والحديث أورده السيوطي في
` الجامع ` من رواية ابن عدي عن أنس: وتعقبه المناوي بقوله: ` ظاهر كلام
المصنف أن ابن عدي خرجه وأقره، والأمر بخلافه، فإنه أورده في ترجمة سلامة
بن روح الأيلي، وقال: قال أبو حاتم: يكتب حديثه، وقال أبو زرعة: منكر
الحديث `. قلت: كذا في النسخة المطبوعة، ومن الواضح أنه سقط من النسخة قوله
بعد ` الأيلي `: ` وقال: فهو منكر جدا ` كما يدل عليه ما نقلته عن ابن عدي
. وكذا سقط بعد
قوله: ` وقال ` لفظة: ` الذهبي `، فإنه هو القائل ذلك في
` الميزان `. وقال في ` التيسير ` نقلا عن ابن عدي: ` حديث منكر `. وقال
الحافظ: ` سلامة هذا صدوق، له أوهام `. (فائدة) : قوله: ` أملكوا ` معناه
أنعموا عجنه وأجيدوه.
‌‌




১৮২৫। তোমরা আটাকে ভাল করে মন্থন কর। কারণ তা বরকতের দিক দিয়ে সর্বাপেক্ষা বড়।





হাদীসটি খুবই মুনকার।





এটিকে ইবনু আদী (২/১৬৬) সালামাহ ইবনু রাওহ্ হতে, তিনি আকীল হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষার মধ্যে এসেছেঃ فإنه أحد الريعين কারণ তা দুটি বৃদ্ধি হওয়ার একটি (মন্থনের সময় অথবা ভাজার সময়)। এবং বলেনঃ এটি যদিও অন্য সনদে বর্ণিত হয়েছে তবুও খুবই মুনকার।





হাদিসটিকে সুয়ূতী `আলজামে` গ্রন্থে ইবনু আদীর বর্ণনা আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। আর মানবী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ লেখকের বাহ্যিক কথা থেকে বুঝা যায় যে, ইবনু আদী হাদীসটি বর্ণনা করে তাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু ব্যাপারটি এর বিপরীত। কারণ তিনি (ইবনু আদী) সালামাহ ইবনু রাওহ আইলীর জীবনীতে বলেছেনঃ আবু হাতিম বলেনঃ তার হাদীস লিখা যাবে। আর আবূ যুর'য়াহ বলেনঃ তিনি মুনাকারূল হাদীস।





আমি (আলবানী) বলছিঃ ছাপানো কপিতে এরূপই এসেছে। স্পষ্টতঃ বিষয়টি এই যে, মানবীর কথা হতে “আলআইলী” শব্দের পরে [তিনি (ইবনু আদী) বলেনঃ তিনি খুবই মুনকার’] এ কথাটা কপি হতে পড়ে গেছে। যেমনটি এর প্রমাণ বহন করছে ইবনু আদী হতে আমার বর্ণনাটি।





অনুরূপভাবে (وقال) শব্দের পরে (الذهبى) শব্দটি পড়ে গেছে, কারণ তিনিই “আলমীযান” গ্রন্থে তা বলেছেন। অর্থাৎ আৰূ হাতিম বলেন ....।





আর মানবীই `আততায়সীর` গ্রন্থে ইবনু আদী হতে নকল করেছেন যে, তিনি বলেনঃ হাদীসটি মুনকার। আর হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ সালামাহ্ সত্যবাদী তবে তার কতিপয় সন্দেহমূলক বর্ণনা রয়েছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1826)


` إذا كبر العبد سترت تكبيرته ما بين السماء والأرض من شيء `.
موضوع.
رواه الخطيب (11 / 86) وعنه ابن عساكر (6 / 222 / 2) عن إسحاق
بن نجيح الملطي عن زنكل بن علي السلمي عن أم الدرداء عن أبي الدرداء مرفوعا
. قلت: وهذا موضوع آفته إسحاق بن نجيح وضاع دجال. ومن عجائب السيوطي
وتناقضه أنه ذكر في خاتمة ` اللآليء ` (ص 473) أن إسحاق هذا من كبار الوضاعين
، ومع ذلك أورد حديثه هذا في ` الجامع الصغير `!! بل إنه ازداد تناقضا فأورد
الحديث في كتابه ` ذيل الأحاديث الموضوعة ` التي استدركها على ` موضوعات ابن
الجوزي `! فقال (ص 149) : ` قال الذهبي في ` الميزان `: إسحاق الملطي قال
أحمد: هو من أكذب الناس، وقال يحيى: معروف بالكذب، ووضع الحديث، وقال
الفلاس: كان يضع الحديث صراحا `. هذا كله يقع من السيوطي - عفا الله عنا
وعنه - ومع ذلك فلا يزال ناس يدعون العلم وحضور مجالس أهله، ينقمون علينا
انتقادنا إياه، وينشرون الرسائل العديدة في إثارة العامة علينا بالافتراء
والتقول، فالله حسيبهم، وهو المستعان. والحديث رده المناوي في ` الفيض `
بقوله: ` وفيه إسحاق الملطي، قال الذهبي: كذاب `. وأما في ` التيسير
` فبيض له!
‌‌




১৮২৬। বান্দা যখন তাকবীর বলে তখন তার তাকবীর আসমান এবং যমীনের মাঝের সব কিছুকে পরিপূর্ণ করে ফেলে।





হাদীসটি বানোয়াট।





এটিকে খাতীব (১১/৮৬), তার থেকে ইবনু আসাকির (৬/২২২/২) ইসহাক ইবনু নাজীহ মালতী হতে, তিনি যানকুল ইবনু আলী সুলামী হতে, তিনি উম্মুদ দারাদা হতে, তিনি আবুদ দারাদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি বানোয়াট। এর সমস্যা হচ্ছে ইসহাক ইবনু নাজীহ। কারণ তিনি জালকারী বড় মিথ্যুক। আজব ব্যাপার এই যে, সুয়ূতী “আললাআলী” গ্রন্থের খাতেমার মধ্যে (পৃঃ ৪৭৩) উল্লেখ করেছেন যে, ইসহাক বড় জলকারীদের একজন। তা সত্ত্বেও তিনি হাদীসটিকে “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আবার তিনি `যাইলুল আহাদীসিল মাওযুয়াহ` গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি তা ইবনু জাওযীর “আলমাওয়ূয়াত” গ্রন্থ থেকে গ্রহণ করেছেন। তিনি (পৃঃ ১৪৯) বলেনঃ হাফিয যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে বলেনঃ ইসহাক মালতী সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় মিথ্যাবাদী। ইয়াহইয়া বলেনঃ তিনি মিথ্যুক এবং হাদীস জাল করার ব্যাপারে পরিচিত। ফাল্লাস বলেনঃ তিনি প্রকাশ্যে হাদীস জাল করতেন।





(সংক্ষেপ) এসব কিছু সুয়ূতী হতেই বর্ণিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও সুয়ুতীর এ সব ভুল ধরার কারণে কেউ কেউ আমাদের সমালোচনা করছে এবং সাধারণ লোকদেরকে উত্তেজিত করার লক্ষ্যে আমাদের বিপক্ষে মিথ্যা ও বানোয়াট অপবাদ দিয়ে কিতাব লিখেও প্রকাশ করছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1827)


` إذا كثرت ذنوبك، فاسق الماء على الماء، تتناثر كما يتناثر الورق من الشجر في الريح العاصف `.
منكر.
رواه الخطيب في ` تاريخه ` (6 / 403 - 404) : حدثنا أبو العلاء،
إسحاق بن محمد التمار في سنة ثمان وأربعمائة: حدثنا أبو الحسن هبة الله بن
موسى بن الحسن بن محمد المزني المعروف بابن قتيل - بالموصل - : حدثنا أبو يعلى
أحمد بن علي بن المثني حدثنا شيبان بن فروخ الأبلي حدثنا سعيد بن سليم الضبي
حدثنا أنس ابن مالك مرفوعا. قلت: أورده في ترجمة أبي العلاء هذا، وقال
: ` كان لا بأس به `. وبقية رجاله ثقات، غير هبة الله بن موسى. قال الذهبي
: ` لا يعرف `. ثم ساق له هذا الحديث. وتقدم له حديث آخر بلفظ: ` إن الله
يطلع في العيدين … ` رقم (1806) إلا أن السند إليه واه بمرة.
‌‌




১৮২৭। তোমার গুনাহ্ যখন বেশী হয়ে যাবে তখন তুমি পানির উপর পানি (বারবার) পান করাও। এতে তোমার গুনাহগুলো ঝরে যাবে যেমনভাবে ঝড়ো বাতাসে বৃক্ষ থেকে পাতা ঝরে যায়।





হাদীসটি মুনকার।





হাদীসটিকে খাতীব তার তারীখ গ্রন্থে (৬/৪০৩-৪০৪) আবুল আলা ইসহাক ইবনু মুহাম্মাদ তাম্মার হতে ৪০৮ হিজরীতে, তিনি আবুল হাসান হিবাতুল্লাহ ইবনু মূসা ইবনুল হাসান ইবনু মুহাম্মাদ মুযানী (পরিচিত ইবনু কাতীল নামে) হতে (মূসেলে), আবূ ইয়ালা আহমাদ ইবনু আলী ইবনুল মুসান্না হতে, তিনি শাইবান ইবনু ফাররুখ উবুল্লী হতে, তিনি সাঈদ ইবনু সুলাইম যব্বী হতে, তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি হাদীসটিকে আবুল আলার জীবনীতে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই।





আর অন্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য হিবাতুল্লাহ ইবনু মূসা ছাড়া। হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে চেনা যায় না। অতঃপর তিনি তার এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। তার আরেকটি হাদীস নিম্নের ভাষায় আলোচিত হয়েছেঃ





إن الله يطلع في العيدين





... নং (১৮০৬)। কিন্তু তার সনদটি একেবারে দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1828)


` إذا كذب العبد، تباعد عنه الملك ميلا من نتن ما جاء به `.
منكر.

أخرجه الترمذي (1 / 357) وابن أبي الدنيا في ` مكارم الأخلاق ` (ص 32) وابن عدي في ` الكامل ` (302 / 1) وابن حبان في ` الضعفاء ` (2 / 137) وأبو نعيم في ` الحلية ` (8 / 197) من طريق عبد الرحيم بن هارون:
حدثنا عبد العزيز بن أبي رواد عن نافع عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى
الله عليه وسلم … فذكره، وقال الترمذي: ` حديث حسن جيد غريب، لا نعرفه
إلا من هذا الوجه، تفرد به عبد الرحيم `. وقال ابن عدي بعد أن ساق له أحاديث
أخرى: ` وله غير ما ذكرت، ولم أر للمتقدمين فيه كلاما، وإنما ذكرته،
لأحاديث رواها مناكير
عن قوم ثقات `. وقال أبو نعيم: ` تفرد به عبد الرحيم
`. قلت: وهو ضعيف جدا، أورده الذهبي في ` الضعفاء والمتروكين `، وقال:
كذبه الدارقطني `. وقال الحافظ في ` التقريب `: ` ضعيف، كذبه الدارقطني
. لكن ما ذكروه من التفرد إنما هو بالنسبة لما أحاط به علمهم، وإلا فقد أخرجه
ابن عدي أيضا في مقدمة كتابه: ` الكامل ` (ص 32 - طبع بغداد) من طريق سليمان
بن الربيع بن هشام النهدي: حدثنا الفضل بن عوف - عم الأحنف - حدثنا عبد العزيز
بن أبي رواد به. وقال ابن عدي: ` ويروى من [غير] هذا الوجه `. قلت
: كأنه يشير إلى حديث ذاك الواهي عبد الرحيم. وأما هذا، فعلته سليمان النهدي
، تركه الدارقطني. والفضل بن عوف لم أعرفه، ولا أستبعد أن يكون وقع في
المطبوعة تصحيف أوتحريف فإنها طبعة سيئة جدا كأن محققه الفاضل لم يشرف على
تصحيح تجاربها، فقوله مثلا في الحديث: ` من نتن ` وقع فيها ` ثم بين `! فضاع
المعنى! ونحوذلك وقع في طبعة ` دار الفكر ` البيروتية: ` ثم نتن `! مع أنه
ذكره على الصواب في التعليق نقلا عن ` الفتح الكبير `! ومن عجيب أمر ابن حبان
وجنفه أنه أورد الحديث في ترجمة عبد العزيز بن أبي رواد على أنه من مناكيره
، بل موضوعاته، فقال: ` روى عبد العزيز عن نافع عن ابن عمر، نسخة موضوعة لا
يحل ذكرها إلا على سبيل الاعتبار منها … `، فذكر هذا الحديث. وقد كان
الأولى به أن يورده في ترجمة الراوي عنه: عبد الرحيم، ولكنه أتي من خطأ
آخر وقع له، وهو أنه أورد عبد الرحيم هذا في ` الثقات ` (8 / 413) وقال:
` يعتبر بحديثه إذا روى عن الثقات من كتابه، فإن فيما حدث من غير كتابه بعض
المناكير `! فمن كان هذا شأنه كيف يوثق أولا؟ ثم كيف يتهم شيخه ابن أبي رواد
بما رواه عنه، وقد وثقه جمع واحتج به مسلم؟! وقد أشار الذهبي إلى إنكاره
لهذا الصنيع منه في ترجمة عبد العزيز بقوله: ` ثم أسند ابن حبان له حديثين
منكرين أحدهما لعبد الرحيم بن هارون - أحد التلفى - ، والآخر لزافر بن سليمان
عنه `. قلت: وزافر هذا أورده ابن حبان في ` الضعفاء ` أيضا (1 / 315)
، فهذا من جنفه أيضا، لأنه لا يجوز والحالة هذه تعصيب الجناية به في الحديث
الذي أشار إليه الذهبي، ما دام أنه من رواية ضعيف عن ضعيف عنده، فالعدل في
هذه الحالة التوقف، وهذا هو الذي أعرفه من ابن حبان في كثير من ` ضعفائه `،
فهذا مثلا سليمان ابن جنادة يقول فيه (1 / 329) : ` روى عنه بشر بن رافع
، منكر الحديث، فلست أدري البلية في روايته منه، أومن بشر بن رافع؟ لأن
بشرا ليس بشيء في الحديث. ومعاذ الله أن نطلق الجرح على مسلم بغير علم بما
فيه، واستحقاق منه له، على أنه يجب التنكب عن روايته على كل الأحوال
`. فهذا هو الصواب، أن لا تعصب جناية حديث في راوضعيف إذا كان دونه ضعيف آخر
، فكيف إذا كان الأول ثقة، أوعلى الأقل خيرا منه؟ (تنبيه) : لقد اغتر
بتحسين الترمذي وتجويده للحديث جمع، منهم المنذري في ` الترغيب ` (4 / 29)
، فإنه أقر الترمذي على تحسينه، وصدره بصيغة (عن) المشعرة بحسنه! وتبعه
الغماري فأورده في ` كنزه ` (308) ! ولعله اغتر بسكوت المناوي في ` التيسير
` على قول الترمذي: ` جيد غريب `.
وهذا من المناوي عجيب غريب، فإنه قال في
` الفيض ` بعد أن نقل عن الدارقطني تكذيبه لعبد الرحيم، واستنكار ابن عدي
لأحاديثه: ` وبه يعرف ما في رمز المصنف لحسنه تبعا لتجويد الترمذي `!! ومن
أحاديث ذاك الواهي: ` الصائم في عبادة، ما لم يغتب `.
‌‌




১৮২৮। বান্দা যখন মিথ্যা বলে তখন তার নিকট থেকে ফেরেশতা এক মাইল দূরে সরে যায় সে যা কিছু নিয়ে এসেছে তার দুর্গন্ধ থেকে (বাঁচার জন্য)।





হাদীসটি মুনকার।





এটিকে ইমাম তিরমিযী (১/৩৫৭), ইবনু আবিদ দুনিয়া “মাকারিমুল আখলাক” গ্রন্থে (পৃঃ ৩২), ইবনু আদী `আলকামেল” গ্রন্থে (১/৩০২), ইবনু হিব্বান `আযযুয়াফা` গ্রন্থে (২/১৩৭) ও আবু নুয়াইম `আলহিলইয়্যাহ` গ্রন্থে (৮/১৯৭) আব্দুর রহীম ইবনু হারূন সূত্রে আব্দুল আযীয ইবনু রাওয়াদ হতে, তিনি নাফে হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।





তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি হাসান ভাল গারীব। একমাত্র এ সূত্রেই আমরা এটিকে চিনি। এটিকে আব্দুর রহীম এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনু আদী তার অন্য কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করে বলেছেনঃ যা উল্লেখ করেছি এ ছাড়াও তার আরো হাদীস রয়েছে। পূর্ববতীদের তার ব্যাপারে কোন কথা দেখছি না। আমি তাকে উল্লেখ করেছি সেই সব হাদীসগুলোর কারণে যেগুলোকে তিনি নির্ভরযোগ্য সম্প্রদায়ের উদ্ধৃতিতে মুনকার হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আবু নুয়াইম বলেনঃ এটিকে আব্দুর রহীম এককভাবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি খুবই দুর্বল। তাকে হাফিয যাহাবী `আয যুয়াফা অলমাতরূকীন` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি দুর্বল, তাকে দারাকুতনী মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। হাফিয ইবনু হাজার “আততাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি দুর্বল। তাকে দারাকুতনী মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন।





হাদীসটিকে ইবনু আদী তার “কামেল” গ্রন্থের ভূমিকাতে (পৃঃ ৩২) সুলাইম ইবনুর রাবী ইবনু হিশাম নাহদী সূত্রে আহনাফের চাচা ফাযল ইবনু আউফ হতে, তিনি আব্দুল আযীয ইবনু আবী রাওয়াদ হতে বর্ণনা করেছেন।





এ সনদের সমস্যা হচ্ছে বর্ণনাকারী সুলাইম নাহদী, তাকে দারাকুতনী ত্যাগ করেছেন।





আরেক বর্ণনাকারী ফাৰ্যল ইবনু আউফকে আমি চিনি না।





ইবনু হিব্বানের ব্যাপারে আশ্চর্যাম্বিত হতে হয় যে, তিনি হাদীসটিকে আব্দুল আযীয ইবনু আবু রাওয়াদের জীবনীর মধ্যে উল্লেখ করেছেন তার মুনকারগুলোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে বরং তার বানোয়াটগুলোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে। তিনি বলেছেনঃ আব্দুল আযীয নাফে হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে একটি বানোয়াট কপি বর্ণনা করেছেন। শিক্ষা নেয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া সেগুলো উল্লেখ করাই বৈধ না।





অথচ এ আব্দুল আযীযকে একদল নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন আর ইমাম মুসলিম তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন।





ইবনু হিব্বানের জন্য আলোচ্য হাদীসটিকে আব্দুল আযীয হতে বর্ণনাকারী আব্দুর রহীমের জীবনীতে উল্লেখ করাই উত্তম ছিল। তাতো করেননি বরং আরেক ভুল করে বসেছেন। আর তা হচ্ছে এই যে, তিনি এ আব্দুর রহীমকে “আসসিকাত” গ্রন্থে (৮/৪১৩) উল্লেখ করে বলেছেনঃ তার হাদীসকে বিবেচনায় নেয়া যাবে যদি তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে তার কিতাব হতে বর্ণনা করেন। কারণ তিনি তার কিতাব হতে যখন বর্ণনা করেননি তখন কিছু কিছু মুনকার বর্ণনা করেছেন। যার অবস্থা এই তাকে তিনি প্রথমে কিভাবে নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করলেন।





সতর্কবাণীঃ কেউ কেউ ইমাম তিরমিযী কর্তৃক হাসান এবং ভালো বলার দ্বারা ধোকায় পড়েছেন। যেমন মুনযেরী “আততারগীব” গ্রন্থে (৪/২৯), কারণ তিনি তিরমিযীর হাসান আখ্যা দেয়াকে সমর্থন করেছেন। অনুরূপভাবে গুমারী তার “কানয” গ্রন্থে (৩০৮) তিরমিযীর অনুসরণ করেছেন। সম্ভবত তিনি (গুমারী) মানবী কর্তৃক “আততাইসীর” গ্রন্থে তিরমিযীর কথার ব্যাপারে কোন মন্তব্য না করে চুপ থাকার কারণে ধোকায় পড়েছেন।





মানবীর বিষয়টি আজব ধরনের কারণ তিনিই `আলফায়েয` গ্রন্থে দারাকুতনী কর্তৃক আব্দুর রহীমকে মিথ্যুক আখ্যা দান এবং ইবনু আদী কর্তৃক তার হাদীসগুলোকে মুনকার আখ্যা দানের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1829)


` الصائم في عبادة، ما لم يغتب `.
منكر.

أخرجه ابن عدي (302 / 1) من طريق الحسن بن منصور حدثنا عبد الرحيم
بن هارون أبو هشام الغساني حدثنا هشام بن حسان عن محمد عن أبي هريرة عن
النبي صلى الله عليه وسلم قال: قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، وفيه علتان:
الأولى: عبد الرحيم هذا. وقد عرفت حاله في الحديث السابق. والأخرى: الحسن
بن منصور، قال ابن الجوزي في ` العلل `: ` غير معروف الحال `. نقله المناوي
في ` الفيض ` وأقره، وفيه نظر، فإن الحسن هذا، ويسميه بعضهم ` الحسين `
، قد روى عنه جماعة من الثقات، منهم البخاري في ` صحيحه `، وقال الخطيب في
` تاريخه ` (8 / 11) : ` وكان ثقة `. فعلة الحديث إنما هي من عبد الرحيم.
والحديث أورده السيوطي في ` جامعيه ` برواية الديلمي عن أبي هريرة مرفوعا به
، وزاد: ` مسلما، أويؤذه `. وأعله المناوي بالعلتين السابقتين، وقد
عرفت أن إحداهما هي العلة القادحة. وهو في ` مختصر الديلمي ` (2 / 257) .
وما نقله عن ابن الجوزي من الإعلال بالجهالة ليس في ` العلل ` المطبوع (2 / 50
) بل ولا له ذكر في إسناده لأنه نقله عن الدارقطني معلقا على عبد الرحيم!
وإنما أعله بالوقف على أبي العالية. والله أعلم.
ومن أحاديث الغساني: ` من لم يعرف نعمة الله عليه إلا في مطعمه ومشربه، فقد قصر علمه، ودنا عذابه
`. أخرجه ابن عدي والخطيب في ` تاريخه ` (6 / 52) عن عبد الرحيم بن هارون
الغساني بإسناد الحديث الآنف الذكر. وهو ضعيف جدا كما سبق بيانه. والحديث
استنكره ابن عدي في جملة أحاديث ساقها لعبد الرحيم هذا، كما سبقت الإشارة إلى
ذلك قبل حديث.
‌‌




১৮২৯। সওম পালনকারী ইবাদাতের মধ্যে থাকে যে পর্যন্ত সে গীবাত না করে।





হাদীসটি মুনকার।





এটিকে ইবনু আদী (১/৩০২) হাসান ইবনু মানসূর সূত্রে আব্দুর রহীম ইবনু হারূন আবূ হিশাম গাসসানী হতে, তিনি হিশাম ইবনু হাসসান হতে, তিনি মুহাম্মাদ হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দু'টি কারণে খুবই দুর্বলঃ





১। আব্দুর রহীম। তার অবস্থা সম্পর্কে পূর্বের হাদীসে বিস্তারিত অবগত হয়েছেন।





২। হাসান ইবনু মানসূর সম্পর্কে ইবনুল জাওযী `আলইলাল` গ্রন্থে বলেনঃ তার অবস্থা অজ্ঞাত।





মানবী `আলফায়েয` গ্রন্থে তার কথা উল্লেখ করে সমর্থন করেছেন। এতে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারণ কেউ কেউ এ হাসানকে হুসাইন বলেছেন। তার থেকে একদল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। যাদের মধ্যে ইমাম বুখারী তার “সহীহ” গ্রন্থেও বর্ণনা করেছেন। খাতীব “তারীখ” গ্রন্থে (৮/১১) বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য।





অতএব আলোচ্য হাদীসের সমস্যা হচ্ছে আব্দুর রহীম।





হাদীসটিকে সুয়ূতী তার দু’জামের মধ্যে দাইলামীর বর্ণনায় আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।





আর মানবী এ হাদীসের পূর্বোক্ত দুটি সমস্যা উল্লেখ করে হাদীসটির সমস্যা বর্ণনা করেছেন। আর অবগত হয়েছেন যে, দু'টির একটি সমস্যা মারাত্মক।





এ আব্দুর রহীম গাসসানী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসগুলোর মধ্যে আরো রয়েছেঃ “যে ব্যক্তি পানাহার ছাড়া তার উপর করা আল্লাহর অন্য কোন নেয়ামাতকে চিনবে না তার জ্ঞান কমে গেছে আর তার শাস্তি নিকটবর্তী হয়েছে।”





এটিকে ইবনু আদী ও খাতীব তার `তারীখ` গ্রন্থে (৬/৫২) আব্দুর রহীম ইবনু হারূন গাসসানী হতে আলোচ্য সনদে বর্ণনা করেছেন।





আর এ আব্দুর রহীম খুবই দুর্বল যেমনটি তার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।





ইবনু আদী এ আব্দুর রহীমের কতিপয় হাদীসের মধ্যে এটিকে উল্লেখ করে মুনকার আখ্যা দিয়েছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1830)


` اجلدوا في قليل الخمر وكثيره، فإن أولها [حرام] ، وآخرها حرام `.
ضعيف.

أخرجه البيهقي في ` السنن الكبرى ` (8 / 313) من طريق هشام بن
عمار: حدثنا الوليد حدثنا ابن لهيعة عن يزيد بن أبي حبيب عن عروة أنه حدث عمر
بن عبد العزيز عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال
: فذكره. قلت: وهذا إسناد ضعيف، ابن لهيعة سيء الحفظ. والوليد وهو ابن
مسلم كان يدلس تدليس التسوية، ولم يصرح بالتحديث في جميع أماكن العنعنة.
وهشام بن عمار كان يلقن فيتلقن.
‌‌




১৮৩০। তোমরা কম মদ পানে এবং বেশী মদ পানে উভয় ক্ষেত্রেই প্রহার কর। কারণ প্রথমটি হারাম এবং শেষোক্তটিও হারাম।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে বাইহাকী “আস্সুনানুল কুবরা” গ্রন্থে (৮/৩১৩) হিশাম ইবনু আম্মার হতে, তিনি আলীদ হতে, তিনি ইবনু লাহীয়াহ হতে, তিনি ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব হতে, তিনি উরওয়া হতে, তিনি উমর ইবনু আব্দুল আযীয হতে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। কারণ ইবনু লাহীয়াহ মন্দ হেফযের অধিকারী।





আর আলীদ হচ্ছেন ইবনু মুসলিম, তিনি তাদলীসুত তাসবিয়্যাহ করতেন।





[তাদলীসুত তাসবিয়্যাহ হচ্ছেঃ (রাবী কর্তৃক এমন এক দুর্বল বর্ণনাকারী হতে হাদীছ বর্ণনা করা, সনদে যার অবস্থান এমন দুই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর মাঝে যারা একে অপরের সাথে মিলিত হয়েছে। অতঃপর রাবী কর্তৃক সেই দুর্বল বর্ণনাকারীকে গোপন করে তার নির্ভরযোগ্য শাইখের মাধ্যমে অপর নির্ভরযোগ্য হতে বর্ণনা করা। (অথচ ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় দিয়ে উভয়ের মাঝের দুর্বল বর্ণনাকারীকে উল্লেখ করা উচিত ছিল)। এটি সবাপেক্ষা নিকৃষ্টতম তাদলীস)।]





আর হিশাম ইবনু আম্মারকে ভুল ধরিয়ে দেয়া হতো এবং তিনি তা গ্রহণ করতেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1831)


` أجيفوا أبو ابكم واكفئوا آنيتكم وأوكوا أسقيتكم وأطفئوا سرجكم، فإنه لم يؤذن لهم بالتسور عليكم `.
ضعيف.

أخرجه أحمد (5 / 262) : حدثنا أبو النضر حدثنا الفرج حدثنا لقمان
قال: سمعت أبا أمامة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره.
قلت: وهذا إسناد ضعيف، فإن الفرج هذا وهو ابن فضالة ضعيف، كما قال الحافظ
في ` التقريب `.
وقال الذهبي في ` الميزان `: ` ضعيف من قبل حفظه `. وقال
في ` الضعفاء `: ` ضعفوه `. وقال الهيثمي في ` المجمع ` (8 / 111) :
` رواه أحمد، ورجاله ثقات، غير الفرج بن فضالة، وقد وثق `. قلت: ونقله
المناوي في ` الفيض ` عن الهيثمي، لكن لم يذكر قوله: ` غير الفرج.. `. فلا
أدري أهو سهو منه، أم كذلك هو في نسخته من ` المجمع `؟ وقد ترتب عليه خطأ
فاحش منه، فإنه قال عقب ذلك: ` ورمز المؤلف لحسنه، غير حسن، بل حقه الرمز
لصحته `. ثم لخص ذلك في ` التيسير ` فقال: ` وإسناده صحيح، خلافا لقول
المؤلف: حسن `. وقد عرفت أنه لا يستحق الحسن، فضلا عن الصحة، وإنما أوقعه
في هذا الخطأ، تقليده لما نقله بدون تحقيق منه. وإنما أوردت الحديث هنا
للجملة الأخيرة منه لضعف إسنادها، وعدم وجود شاهد يقويها، وإلا فما قبلها
قد جاء نحوه من حديث جابر، وهو مخرج في ` الصحيحة ` (رقم 37) .
‌‌




১৮৩১। তোমরা তোমাদের দরজাগুলো বন্ধ কর, তোমাদের পাত্রগুলো উলটিয়ে রাখ, তোমাদের পানির পাত্রগুলো বেঁধে রাখ, তোমাদের বাতিগুলো নিভিয়ে ফেল। কারণ শয়তানদেরকে তোমাদের বিপক্ষে বাধ অতিক্রম করার শক্তি প্রদান করা হয়নি।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইমাম আহমাদ (৫/২৬২) আবুন নাযর হতে, তিনি আলফারাজ হতে, তিনি লোকমান হতে, তিনি আবু উমামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। কারণ এ ফারাজ হচ্ছেন ইবনু ফুযালাহ্ আর তিনি দুর্বল। যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেছেন।





হাফিয যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তার হেফযের দিক দিয়ে তিনি দুর্বল। তিনি “আযযুয়াফা” গ্রন্থে বলেনঃ তাকে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। হাইসামী “আলমাজমা” গ্রন্থে (৮/১১১) বলেনঃ হাদীসটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন। ফারাজ ইবনু ফুজালাহ ছাড়া এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তাকে নির্ভরযোগ্যও আখ্যা দেয়া হয়েছে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ মানবী হাইসামী হতে তা “আলফায়েয” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি ফারাজ ... ছাড়া এ কথাটি উল্লেখ করেননি।





জানি না ক্রটি তার পক্ষ হতে, নাকি তার নিকট থাকা “আলমাজমা” এর কপিতে সেরূপই রয়েছে যেমনটি তিনি লিখেছেন। এ থেকে তিনি বড় ধরনের ভুলের মধ্যে পড়েছেন। কারণ তিনি পরক্ষণেই বলেছেনঃ লেখক শুধুমাত্র হাসানের চিহ্ন ব্যবহার করেছেন, তা করে ভাল করেননি। বরং তার উচিত ছিল সহীহ চিহ্ন ব্যবহার করা।





অতঃপর “আততাইসীর” গ্রন্থে লেখকের হাসান বলা কথার বিরোধিতা করে বলেছেনঃ এ সনদটি সহীহ।





অথচ আপনারা অবগত হয়েছেন যে, সহীহ তো দূরের কথা হাসান হওয়ার যোগ্য নয়। তাকে এ ভুলের মধ্যে পড়তে হয়েছে তাহকীক না করে তাকলীদ করে নকল করার জন্য।





আমি (আলবানী) এখানে হাদীসটিকে শুধুমাত্র শেষোক্ত বাক্যের কারণে উল্লেখ করেছি। এ বাক্যের সনদ দুর্বল হওয়ার কারণে এবং এ অংশের কোন শাহেদ না থাকার কারণে। কারণ হাদীসটির প্রথম অংশটি `সুরুজাকুম` পর্যন্ত সহীহ, অনুরূপ সহীহ হাদীস জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হওয়ার কারণে। সেটিকে আমি “সিলসিলাহ সহীহাহ” গ্রন্থে (৩৭) উল্লেখ করেছি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1832)


` أحب الأعمال إلى الله عز وجل، تعجيل الصلاة لأول وقتها `.
ضعيف.

أخرجه الدارقطني (92) والحاكم (1 / 191) وأحمد (6 / 375) عن
الليث بن سعد: حدثنا عبد الله بن عمر بن حفص عن القاسم بن غنام عن جدته الدنيا
أم أبيه عن جدته أم فروة، وكانت ممن بايعت النبي صلى الله عليه وسلم قالت
: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكر الأعمال
يوما، فقال: فذكره. قلت: وهذا إسناد ضعيف، جدة القاسم بن غنام مجهولة، والقاسم نفسه ليس بالمشهور
. وعبد الله بن عمر هذا هو العمري المكبر وهو ضعيف، وقد توبع بلفظ: ` أفضل
الأعمال الصلاة في أول وقتها `. وله شاهد من حديث ابن مسعود بسند صحيح،
ولذلك خرجته في ` صحيح أبي داود ` (452) و` إرواء الغليل ` (1198) ، فهو
صحيح لغيره بهذا اللفظ، وأما اللفظ الأول فضعيف. والله أعلم.
‌‌




১৮৩২। আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় আমল হচ্ছে সালাতকে তার প্রথম ওয়াক্তে দ্রুত আদায় করা।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে দারাকুতনী (৯২), হাকিম (১/১৯১) ও আহমাদ (৬/৩৭৫) লাইস ইবনু সা'দ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার ইবনু হাফস হতে, তিনি কাসেম ইবনু গান্নাম হতে, তিনি তার দাদী (বাবার মা) দুনিয়া হতে, তিনি তার দাদী উম্মু ফারিয়্যাহ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বাইয়াতকারিণীদের একজন ছিলেন। তিনি বলেনঃ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একদিন আমলগুলো নিয়ে আলোচনা করতে শুনলাম। অতঃপর তিনি বললেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। কাসেম ইবনু গান্নামের দাদী মাজহুলাহ। কাসেম নিজেই প্রসিদ্ধ নন।





আর এ আব্দুল্লাহ ইবনু উমার হচ্ছেন উমারী মুকাব্বার, তিনি দুর্বল। হাদীসটির নিম্নের ভাষায় মুতাবায়াত করা হয়েছেঃ





أفضل الأعمال الصلاة في أول وقتها





এ ভাষার আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস হতে সহীহ সনদে শাহেদ বর্ণিত হয়েছে। এ কারণে আমি `সহীহ আবী দাউদ` গ্রন্থে (৪৫২) ও “ইরওয়াউল গালীল” গ্রন্থে (১১৯৮) এটির তাখরীজ করেছি। এ ভাষায় এটি সহীহ লি-গাইরিহি। কিন্তু আলোচ্য প্রথম ভাষাটি দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1833)


` أحب الأعمال إلى الله الحب في الله، والبغض في الله `.
ضعيف.

أخرجه أحمد (5 / 146) عن يزيد بن عطاء عن يزيد بن أبي زياد عن
مجاهد عن رجل عن أبي ذر قال: ` خرج إلينا رسول الله صلى الله عليه وسلم
، فقال: أتدرون أي الأعمال أحب إلى الله عز وجل؟ قال قائل: الصلاة والزكاة
، وقال قائل: الجهاد، قال: إن أحب.... `. وتابعه خالد بن عبد الله
: حدثنا يزيد بن أبي زياد به مختصرا بلفظ: ` أفضل الأعمال … `. وقد مضى (1310) برواية أبي داود. قلت: وهذا إسناد ضعيف من أجل الرجل الذي لم يسم. ويزيد بن أبي زياد عن مجاهد، هو الهاشمي مولاهم ضعيف. ويزيد بن عطاء هو
اليشكري لين الحديث. والحديث سكت عليه الحافظ في ` الفتح ` (1 / 40) . وقال المناوي: ` قال ابن الجوزي: حديث لا يصح، ويزيد بن أبي زياد، قال ابن المبارك: ارم به. وسوار العنبري، (قلت: هذا ليس في رواية أحمد) ، قال
ابن الجوزي: ليس بشيء. انتهى، وبه يعرف أن تحسين المصنف له ليس في محله `.
قلت: فالعجب من المناوي كيف عدل عن هذا النقد العلمي الصحيح، إلى متابعته
للسيوطي فيما أنكره عليه. فقال في ` التيسير `: ` وإسناده حسن `! ثم قلده
الغماري كعادته، فأورده في ` كنزه ` (79) !
‌‌




১৮৩৩। আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় কর্ম হচ্ছে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসা আর আল্লাহর ওয়াস্তে অপছন্দ করা।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ইমাম আহমাদ (৫/১৪৬) ইয়াযীদ ইবনু আতা হতে, তিনি ইয়াযীদ ইবনু আবূ যিয়াদ হতে, তিনি মুজাহিদ হতে, তিনি এক ব্যক্তি হতে, তিনি আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে বেরিয়ে এসে বললেনঃ তোমরা কি জান কোন কর্ম আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়? একজন বললঃ সালাত এবং যাকাত। আরেকজন বললঃ জিহাদ। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ...।





খালেদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আতার -সংক্ষেপে- ইয়াযীদ ইবনু আবূ যিয়াদ হতে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ভাষায় মুতাবা'য়াত করেছেনঃ





أفضل الأعمال ...





এটি আবু দাউদের বর্ণনা, এ সম্পর্কে (১৩১০) আলোচনা করা হয়েছে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল নাম না-নেয়া ব্যক্তির কারণে। ইয়াযীদ ইবনু আবূ যিয়াদ হচ্ছেন হাশেমী তিনি তাদের দাস। তিনি দুর্বল। আর ইয়াযীদ ইবনু আতা হচ্ছেন ইয়াশকুরী, তিনিও হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল।





হাফিয ইবনু হাজার “ফাতহুলবারী” গ্রন্থে (১/৪) চুপ থেকেছেন। আর মানবী বলেছেনঃ ইবনুল জাওযী বলেনঃ হাদীসটি সহীহ নয়। আর ইয়াযীদ ইবনু আবু যিয়াদ সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক বলেনঃ তাকে নিক্ষেপ কর। আর সিওয়ার আম্বার সম্পর্কে (তিনি আহমাদের বর্ণনায় নেই) ইবনুল জাওযী বলেন তিনি কিছুই না। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, লেখক কর্তৃক হাদীসটিকে হাসান আখ্যা দান উপযুক্ত হয়নি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ মানবীর ব্যাপারে আশ্চর্যানিত হতে হয় কিভাবে তিনি এ সঠিক বিজ্ঞোচিত সমালোচনাকে ত্যাগ করে সুয়ূতীর মুতাবায়াত করলেন “আততাইসীর” গ্রন্থে, তিনি বললেনঃ এর সনদটি হাসান। অতঃপর গুমারী অভ্যাসগতভাবে তার অন্ধ অনুসরণ করলেন তার `কানয` গ্রন্থে (৭৯)!











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1834)


` أحب العمل إلى الله تعالى الحال المرتحل، قال: وما الحال المرتحل؟ قال: الذي يضرب من أول القرآن إلى آخره، كلما حل ارتحل `.
ضعيف.

أخرجه الترمذي (4 / 64) وابن نصر في ` قيام الليل ` (ص … )
والحاكم (1 / 568) من طرق عن صالح المري عن قتادة عن زرارة بن أوفى عن ابن
عباس قال: ` قال رجل: يا رسول الله! أي العمل أحب إلى الله! قال: الحال
.... `. ثم أخرجه الترمذي من طريق أخرى عن صالح به نحوه، إلا أنه أرسله، فلم
يذكر فيه ابن عباس. وقال الترمذي: ` وهذا عندي أصح من حديث الهيثم بن
الربيع `. قلت: قد تابعه جماعة على وصله كما أشرت إليه آنفا، فالموصول أصح
، وقد أخرجه الدارمي أيضا (2 / 469) مرسلا. وهو ضعيف على كل حال، لأن
صالحا المري ضعيف كما في ` التقريب `. وفي ` الضعفاء ` للذهبي: ` قال
النسائي وغيره: متروك `. وقال الحاكم عقب الحديث: ` هو من زهاد أهل البصرة
، إلا أن الشيخين لم يخرجاه `. وتعقبه الذهبي بقوله: ` قلت: صالح متروك `.
وذكر له الحاكم شاهدا من طريق مقدام بن داود بن تليد الرعيني: حدثنا خالد بن
نزار حدثني الليث بن سعد حدثني مالك بن أنس عن ابن شهاب عن الأعرج عن أبي هريرة
قال: فذكره. قال الذهبي: ` لم يتكلم عليه الحاكم، وهو موضوع على سند
الشيخين، ومقدام متكلم فيه، والآفة منه `.
‌‌




১৮৩৪। আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় আমল হচ্ছে আলহাল্লুল মুরতাহিলু। সে বললঃ আলহাল্লুল মুরতাহিলু কি? তিনি বললেনঃ যে কুরআনের প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত সমাপ্ত করে সে। যখনই সে শেষ করে তখনই আবার শুরু করে।





হাদিসটি দুর্বল।





এটিকে তিরমিযী (৪/৬৪), ইবনু নাসর “কিয়ামুল লাইল” গ্রন্থে ও হাকিম (১/৫৬৮) বিভিন্ন সূত্রে সালেহ মুররী হতে, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি যুরারাহ ইবনু আওফা হতে, তিনি আব্দুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রসূল! কোন আমলটি আল্লাহর নিকট বেশী পছন্দনীয়? তখন তিনি বললেনঃ ...।





তিরমিযী অন্য একটি সূত্রে সালেহ্ হতে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন তবে তিনি সেটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাতে ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে উল্লেখ করেননি।





ইমাম তিরমিযী বলেনঃ আমার নিকট হাইসাম ইবনুর রাবী' হতে এ হাদীসটি (মুরসাল হওয়াই) বেশী সঠিক।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটিকে মওসূল বানানোর ক্ষেত্রে একদল তার মুতাবায়াত করেছেন। যেমনটি সেদিকে ইঙ্গিত করেছি। অতএব মওসূল হওয়াই বেশী সঠিক। এটিকে দারেমীও (২/৪৬৯) মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সর্বাবস্থায় হাদীসটি দুর্বল। কারণ সালেহ মিররী দুর্বল যেমনটি “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে।





হাফিয যাহাবীরঃ “আযযুয়াফা” গ্রন্থে এসেছে, নাসাঈ প্রমুখ বলেছেনঃ তিনি মাতরূক। হাকিম হাদীসটির পরক্ষণেই বলেনঃ তিনি বসরার একজন আবেদ (সন্নাসী), কিন্তু বুখারী ও মুসলিম তার হাদীস বর্ণনা করেননি। হাফিয যাহাবী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ সালেহ মাতরূক।





হাকিম মিকদাম ইবনু দাউদ ইবনু তালীদ রুআইনী সূত্রে তার একটি শাহেদ উল্লেখ করেছেন খালেদ ইবনু নাযার হতে, তিনি লাইস ইবনু সাদ হতে, তিনি মালেক ইবনু আনাস হতে, তিনি ইবনু শিহাব হতে, তিনি আ'রাজ হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে। তিনি বলেনঃ ...।





হাফিয যাহাবী বলেনঃ হাকিম এটির ব্যাপারে কোন কথা বলেননি। অথচ এটি বানোয়াট। কারণ মিকদাম সমালোচিত ব্যক্তি আর বিপদ তার থেকেই।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1835)


` أحب اللهو إلى الله عز وجل: إجراء الخيل والرمي بالنبل ولعبكم مع أزواجكم `.
ضعيف جدا.
رواه ابن عدي (297 / 2) عن سليمان بن إسحاق أبي أيوب الهاشمي
: حدثنا محمد بن الحارث الحارثي عن محمد بن عبد الرحمن بن البيلماني عن أبيه عن
ابن عمر رفعه، وقال في ترجمته الآتي: ` محمد بن الحارث عامة ما يرويه
غير محفوظ `. قلت: وشيخه محمد بن عبد الرحمن البيلماني أشد ضعفا منه فقد قال
ابن حبان: ` حدث عن أبيه بنسخة شبيها بمائتي حديث كلها موضوعة `. انظر الحديث
(57) . وسليمان بن إسحاق لم أجد له ترجمة. والحديث أورده في ` الجامع ` من
رواية ابن عدي عن ابن عمر بهذا اللفظ، لكن لم يذكر: ` بالنبل، ولعبكم مع
أزواجكم `! وقال المناوي: ` وإسناده ضعيف `. ولم يزد! فكأنه لم يقف على
إسناده، وإلا لأعطاه حقه من النقد، ولنبه على السقط الذي وقع في أصله: `
الجامع الصغير `، وكذلك وقع في ` الجامع الكبير ` (30 / 614) وقلدته في
ذلك كله اللجنة القائمة على تحقيقه!
‌‌




১৮৩৫। আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় খেলা হচ্ছে ঘোড়দৌড়, তীর নিক্ষেপ এবং স্ত্রীদের সাথে তোমাদের খেলা করা।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে ইবনু আদী (২/২৯৭) সুলাইমান ইবনু ইসহাক আবু আইউব হাশেমী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল হারেস হারেসী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু বাইলামী হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





ইবনু আদী মুহাম্মাদ ইবনু হারেসের জীবনীতে বলেনঃ তার অধিকাংশ বর্ণনা নিরাপদ নয়।





আমি (আলবানী) বলছি তার শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান বাইলামানী তার চেয়েও বেশী দুর্বল। ইবনু হিব্বান তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি তার পিতার উদ্ধৃতিতে একটি কপি বর্ণনা করেছেন যাতে প্রায় দু'শতটি হাদীস রয়েছে, সবগুলোই বানোয়াট।





আর সুলাইমান ইবনু ইসহাকের জীবনী পাচ্ছি না।





হাদিসটিকে সুয়ূতী `আলজামে` গ্রন্থে ইবনু আদীর বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে এ বাক্যে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি তীরের কথাটি উল্লেখ করেননি।





মানবী বলেনঃ এর সনদটি দুর্বল। তিনি এর চেয়ে বেশী বলেননি। সম্ভবত তিনি সনদটি সম্পর্কে অবগত হননি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1836)


` أحبوا العرب وبقاءهم في الإسلام وصلاحهم، فإن صلاحهم نور في الإسلام، وفسادهم ظلمة في الإسلام `.
ضعيف.
رواه أبو نعيم في ` أخبار أصبهان ` (2 / 340) قال: حدثنا أبو
محمد بن حيان، وهذا في ` طبقات الأصبهانيين ` (441 / 641) : حدثنا أبو زفر
الهذيل بن عبد الله الضبي حدثنا أحمد بن يونس الضبي حدثنا محمد بن عبد الصمد
حدثنا أبي عبد الصمد بن جابر عن عطاء بن أبي ميمونة عن أبي هريرة مرفوعا به
. قلت: وهذا إسناد ضعيف، وفيه علتان: الأولى: عبد الصمد بن جابر، قال
الذهبي في ` الميزان `: ` ضعفه يحيى بن معين، له حديث أوحديثان `. قلت
: أحدهما هذا، والآخر: ` إن هم أسلموا فهو خير لهم، وإن لم يسلموا،
فالإسلام أوسع أوعريض `. والأخرى: ابنه محمد بن عبد الصمد، قال الذهبي
أيضا: ` صاحب مناكير، ولم يترك حديثه `. والحديث رواه أبو الشيخ (ابن
حيان) في ` الثواب ` كما في ` الفتح الكبير `، وعنه الديلمي في ` مسنده ` (
1 / 1 / 36 - 37) عن منصور بن أبي مزاحم: حدثنا محمد بن الخطاب عن عطاء بن
أبي ميمونة به. بيض له الحافظ في ` مختصر الديلمي `. ومحمد بن الخطاب مجهول
الحال كما سبق بيانه تحت الحديث (163) .
‌‌




১৮৩৬। তোমরা আরবদেরকে, তাদের ইসলামের উপর অটল থাকাকে, এবং তাদের সঠিক থাকাকে ভালোবাস। কারণ তাদের সঠিকের উপর অটল থাকা ইসলামের জন্য নূর আর তাদের নষ্ট হয়ে যাওয়া ইসলামের জন্য অন্ধকার।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে আবূ নুয়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/৩৪০) আবূ মুহাম্মাদ ইবনু হাইয়্যান হতে বর্ণনা করেছেন। এটি `ত্ববাকাতুল আসবাহানিয়ীন` গ্রন্থে (৪৪১/৬৪১) আবু যুফার হুযাইল ইবনু আব্দুল্লাহ যব্বী হতে, তিনি আহমাদ ইবনু ইউনুস যব্বী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুস সামাদ হতে, তিনি তার পিতা আব্দুস সামাদ ইবনু জাবের হতে, তিনি আতা ইবনু আবূ মাইমূনাহ হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল দুটি কারণেঃ





১। আব্দুস সামাদ ইবনু জাবের সম্পর্কে হাফিয যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তাকে ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। তার একটি অথবা দুটি হাদীস রয়েছে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি সে দু'য়ের একটি, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছেঃ “তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে তা তাদের জন্য কল্যাণকর, আর তারা যদি ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে ইসলাম বেশী প্রশস্ত অথবা চওড়া।”





২। তার ছেলে মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুস সামাদ সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তিনি মুনকার হাদীসের অধিকারী। তার হাদীস ছেড়ে দেয়া হয়নি।





হাদীসটিকে আবুশ শাইখ (ইবনু হাইয়্যান) “আসসাওয়াব” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যেমনটি `ফাতহুল কাবীর` গ্রন্থে এসেছে। আর তার থেকে দাইলামী তার `মুসনাদ` গ্রন্থে (১/৩৬-৩৭) মানসূর ইবনু আবূ মুযাহিম হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল খাত্তাব হতে, তিনি আতা ইবনু আবূ মাইমূনাহ হতে বর্ণনা করেছেন।





এ মুহাম্মাদ ইবনুল খাত্তাবের অবস্থা অজ্ঞাত অর্থাৎ তিনি মাজহুলুল হাল যেমনটি তার সম্পর্কে (১৬৩) হাদীসে আলোচনা করা হয়েছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1837)


` إن الله عز وجل إذا غضب على أمة لم ينزل بها العذاب، غلت أسعارها وقصرت
أعمارها، ولم تربح تجارتها، وحبس عنها أمطارها، ولم تغزر أنهارها، وسلط عليها شرارها `.
ضعيف جدا.
رواه الديلمي في ` مسنده ` (1 / 224) وابن عساكر (9 / 67 / 2) وابن النجار (10 / 174 / 2) والسياق له، عن الحسين بن أبي الحجاج: حدثنا مندل
بن علي العنزي عن محمد بن طريف، وهو أبو غسان المدني عن مسمع بن
الأسود عن الأصبغ بن نباته عن علي بن أبي طالب مرفوعا. قلت: وهذا سند
ضعيف جدا، الأصبغ هذا متروك كما قال الحافظ. ومسمع لم أعرفه. وأبو غسان
ثقة. ومندل بن علي ضعيف. والحديث عزاه السيوطي لابن عساكر بلفظ أخصر من هذا
، وعزاه المناوي للديلمي بهذا اللفظ ولم يتكلم على إسناده بشيء! كالسيوطي
نفسه في ` الجامع الكبير ` (184 - 4669) واللجنة القائمة على طبعه! سكتوا
عن رواية الديلمي وابن النجار، وأما رواية ابن عساكر المختصرة، فقال
السيوطي (188 - 4673) : ` وفي سنده ضعيف `. وفي نسخة: ` … ضعفاء `.
قلت: وهذا أقرب إلى الصواب.
‌‌




১৮৩৭। আল্লাহ্ তা'য়ালা যখন কোন জাতির উপর রাগাম্বিত হন তখন তিনি তাদের উপর আযাব নাযিল করেন না। বরং তাদের পণ্যের মূল্য বেড়ে যায়, তাদের বয়স কমে যায়, তাদের ব্যবসা লাভজনক হয় না, তাদের বৃষ্টি বন্ধ করে দেয়া হয়, তাদের নদীগুলো প্রবাহিত হয় না এবং তাদের উপরে তাদের নিকৃষ্টদেরকে (নেতা হিসেবে) তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে দাইলামী তার `মুসনাদ` গ্রন্থে (১/২২৪), ইবনু আসাকির (৯/৬৭/২) ও ইবনুন নাজ্জার (১০/১৭৪/২) হুসাইন ইবনু আবুল হাজ্জাজ হতে, তিনি মনদাল ইবনু আলী আনাযী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু তুরাইফ হতে (তিনি হচ্ছেন আবূ গাসসান মাদানী), তিনি মাসমা ইবনুল আসওয়াদ হতে, তিনি আসবাগ ইবনু নাবাতাহ হতে, তিনি আলী ইবনু আবী তালেব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। বর্ণনাকারী এ আসবাগ মাতরূক যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার বলেছেন। আর মাসমা'কে আমি চিনি না। আবূ গাসসান নির্ভরযোগ্য। আর মনদল ইবনু আলী দুর্বল। সুয়ূতী বলেনঃ এর সনদে দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন। অন্য কপিতে এসেছে ... দুর্বল বর্ণনাকারীগণ রয়েছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ শেষোক্ত কথাটি সঠিকের বেশী নিকটবর্তী।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1838)


` أحبوا الفقراء وجالسوهم، وأحب العرب من قلبك وليردك عن الناس ما تعلم من قلبك `.
ضعيف.

أخرجه الحاكم (4 / 332) : أخبرنا أبو بكر بن أبي نصر المروزي
حدثنا محمد بن غالب حدثنا عمر بن عبد الوهاب الرياحي عن الحجاج بن الأسود عن
محمد بن واسع عن أبي صالح عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه
وسلم فذكره، وقال: ` صحيح الإسناد، إن كان عمر الرياحي سمع من حجاج بن
الأسود `. وقال الذهبي: ` حجاج ثقة `. قلت: هو كما قال الذهبي، ولكنه لم
يحم حول العلة التي أشار إليها الحاكم، وهي الانقطاع، لا نفيا، ولا إثباتا
، ولم تتبين لي، فإن الرياحي ثقة أيضا من رجال مسلم، وقد روى عن إبراهيم بن
سعد، وجويرية بن أسماء وغيرهما من هذه الطبقة، وقد رويا عن بعض التابعين
مثل نافع والزهري وصالح بن كيسان وغيرهم، وحجاج بن الأسود من طبقتهما
، فإنه روى عن التابعين أيضا مثل ثابت البناني وأبي نضرة وجابر بن زيد، فهو
ممن يمكن للرياحي أن يلقاه ويسمع منه، فلماذا شك الحاكم في سماعه منه؟ لست
أدري،
ولكن القلب لم ينشرح لصحة الحديث، فإن عليه طابع التصوف! ويمكن أن
تكون العلة من محمد بن غالب، فإنه وإن كان ثقة، فقد وهم في أحاديث كما قال
الدارقطني، على أني لم أعرف أبا بكر المروزي هذا. وأما المناوي فقال في
` فيضه `: ` قال الحاكم: صحيح. وأقره الذهبي، وتبعهما المصنف، فرمز
لصحته `. قلت: فهذا خطأ على الحاكم، لأنه أعله بالانقطاع كما رأيت،
والذهبي لم يصححه. وأما السيوطي فلا قيمة لرمزه! والله أعلم. والفقرة
الوسطى منه رويت في عجز حديث موضوع كما سيأتي برقم (1865) .
‌‌




১৮৩৮। তোমরা ফাকীরদেরকে ভালোবাস এবং তাদের সাথে বস। তোমার অন্তর থেকে আরবদেরকে ভালোবাস। আর তোমাকে যেন লোকদেরকে ঘৃণা এবং তাদের ক্রটি ধরা থেকে বাধা দেয় সেই বস্তু যা তুমি জান তোমার অন্তরের মাঝে (অর্থাৎ তোমার নিজের ক্রটি)।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে হাকিম (৪/৩৩২) আবূ বাকর ইবনু আবু নাসর মারওয়াযী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু গালেব হতে, তিনি উমার ইবনু আব্দুল ওয়াহাব রিয়াহী হতে, তিনি হাজ্জাজ ইবনুল আসওয়াদ হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু অসে হতে, তিনি আবু সালেহ্ হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।





হাকিম বলেনঃ সনদটি সহীহ- যদি উমার রিয়াহী হাজ্জাজ ইবনুল আসওয়াদ হতে শুনে থাকেন।





আর হাফিয যাহাবী বলেনঃ হাজ্জাজ নির্ভরযোগ্য।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাকিম যে সনদে বিচ্ছিন্নতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, এ বিচ্ছিন্নতা রয়েছে নাকি নাই এ বিষয়টি আমার নিকট স্পষ্ট নয়। কারণ রিয়াহীও নির্ভরযোগ্য, ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারীদের একজন। তিনি ইবরাহীম ইবনু সা'দ, জুওয়াইরিয়্যাহ ইবনু আসমা ও তাদের দু'জনের স্তরের অন্যদের থেকেও বর্ণনা করেছেন। আর এরা দু’জন কতিপয় তাবোঈ হতে বর্ণনা করেছেন যেমন নাফে, যুহরী, সালেহ ইবনু কাইসান প্রমুখ।





আর হাজ্জাজ ইবনুল আসওয়াদ তাদের দু'জনের স্তরেরই। কারণ তিনিও তাবে'ঈদের থেকে বর্ণনা করেছেন যেমন সাবেত আলবুনানী, আবূ নাযরাহ, জাবের ইবনু যায়েদ। এ কারণে রিয়াহী কর্তৃক হাজ্জাজের সাথে মিলিত হওয়া এবং তার থেকে শুনে থাকাটা সম্ভব। এ জন্য হাকিম কি কারণে তার থেকে শ্রবণের ব্যাপারে সন্দেহ করলেন জানি না, তবে হৃদয় কেন জানি হাদীসটি সহীহ হওয়ার ব্যাপারে ধাবিত হচ্ছে না।





কারণ এ হাদীসের মধ্যে সূফীবাদের আলামত লক্ষণীয়! হতে পারে এ হাদীসের সমস্যা হচ্ছে মুহাম্মাদ ইবনু গালেব। কারণ তিনি নির্ভরযোগ্য হলেও তিনি কতিপয় হাদীসের ব্যাপারে সন্দেহ করেছেন যেমনটি দারাকুতনী বলেন। এ ছাড়াও এ আবু বাকর মারওয়াযীকে আমি চিনি না। তবে মানবী তার `ফায়েয` গ্রন্থে বলেছেনঃ হাকিম বলেছেনঃ এটি সহীহ। আর হাফিয যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন। লেখক তাদের দু'জনের অনুসরণ করেছেন এবং সহীহ হওয়ার চিহ্ন ব্যবহার করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাকিমের বিপক্ষে এটি ভুল বলা হয়েছে। কারণ তিনি সনদে বিচ্ছিন্নতা থাকার দ্বারা সমস্যা বর্ণনা করেছেন। আর হাফিয যাহাবীও সহীহ আখ্যা দেননি। আর সুয়ুতীর চিহ্ন ব্যবহার করা মূল্যহীন। আল্লাহই বেশী ভাল জানেন।





হাদীসটির মাঝের অংশটি (১৮৬৫) হাদীসের শেষাংশে এক বানোয়াট হাদীসের মধ্যে বর্ণনা করা হয়েছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1839)


` مقام أحدكم في سبيل الله ساعة، خير من عمله في أهله عمره `.
ضعيف.
ابن عساكر (19 / 32 / 2) عن زياد بن ميناء عن أبي سعد بن أبي
فضالة وكانت له صحبة، قال: ` اصطحبت أنا وسهيل بن عمرو إلى الشام ندب
أبو بكر السعور (كذا الأصل تقريبا وبياض قبله، ولعله: ليالي ندب أبو بكر
الصديق) ، فقال له سهيل: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: فذكره،
قال: فأنا مقيم في سبيل الله حتى أموت لا أرجع إلى مكة أبدا `. ومن هذا
الوجه رواه ابن سعد (5 / 453 و7 / 405) والحاكم أيضا (3 / 282) وسكت
عليه هو والذهبي. ومن الواضح أن الحديث من مسند سهيل بن عمرو عند ابن عساكر
كغيره، ولقد أخطأ السيوطي في ` الجامع الكبير ` حيث قال (2 / 206 / 1) :
` رواه ابن عساكر عن أبي سعد بن فضالة والحاكم عنه عن سهيل بن عمرو `. فأنت
ترى أنه عند ابن عساكر عن أبي سعد عن سهيل أيضا. والسند ضعيف، لأن زياد بن
ميناء قال الأزدي: ` فيه لين `. وقال ابن المديني: ` زياد مجهول `. وفي
صحبة أبي سعد بن أبي فضالة نظر. ويقال: أبو سعيد، ويقال: ابن فضالة.
‌‌




১৮৩৯। তোমাদের কারো একঘণ্টা আল্লাহর রাস্তায় অবস্থান করা, তার পরিবারের জন্য তার সারা জীবনের কর্মের চেয়েও উত্তম।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু আসাকির (১৯/৩২/২) যিয়াদ ইবনু মীনা হতে, তিনি আবূ সা'দ ইবনু আবূ ফুযালাহ্ হতে, তার (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ ঘটেছিল, তিনি বলেনঃ আমি শাম দেশের উদ্দেশ্যে সুহাইল ইবনু আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথী হয়েছিলাম ... । সুহায়েল তাকে বললেনঃ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি ...। ইবনু আবী ফুযালাহ বলেনঃ আমি মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর পথে অবস্থান করব, আমি কখনও মক্কায় ফিরে যাবো না।





এ সূত্রেই ইবনু সা'দ (৫/৪৩৫, ৭/ ৪০৫) ও হাকিমও (৩/২৮২) বর্ণনা করে তিনি এবং হাফিয যাহাবী কোন হুকুম না লাগিয়ে চুপ থেকেছেন। হাদীসটি ইবনু আসাকির প্রমুখের নিকট সুহায়েল ইবনু আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মুসনাদে বর্ণিত হয়েছে। সুয়ূতী “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে (২/২০৬/১) ভুল করে বলেনঃ হাদীসটিকে ইবনু আসাকির আবু সা'দ ইবনু ফুযালাহ হতে আর হাকিম তার (আবু সা'দ) থেকে সুহায়েল ইবনু আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





আপনি দেখছেন যে, ইবনু আসাকিরও আবু সা'দ হতে, তিনি সুহায়েল হতে বর্ণনা করেছেন।





এর সনদটি দুর্বল। কারণ যিয়াদ ইবনু মীনা সম্পর্কে আযদী বলেনঃ তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। আর ইবনুল মাদীনী বলেনঃ যিয়াদ মাজহুল (অপরিচিত)। আর আবু সা'দ ইবনু আবূ ফুযালার (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে) সাক্ষাত ঘটার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। তাকে আবূ সাঈদ বলা হয়। আবার ইবনু ফুযালাহও বলা হয়।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1840)


` إذا أتى أحدكم أهله فليستتر فإنه إذا لم يستتر استحيت الملائكة وخرجت، وحضر الشياطين، فإذا كان بينهما ولد، كان للشيطان فيه شريك `.
ضعيف.
رواه الطبراني في ` الأوسط ` كما في ترتيبه (167 / 2) من طريق
يحيى بن أيوب عن عبيد الله بن زحر عن أبي المنيب عن يحيى بن أبي كثير عن أبي
سلمة عن أبي هريرة مرفوعا. وقال: ` لم يروه عن يحيى إلا أبو المنيب
الجرشي ولا عنه إلا عبيد الله، تفرد به يحيى `. قلت: وعبيد الله بن زحر
وأبو المنيب واسمه عبيد الله بن عبد الله ضعيفان، والأول أشدهما ضعفا. وهذا
الحديث أصل ما يقال في بعض البلاد: إذا حضرت الملائكة هربت الشياطين.
‌‌




১৮৪০। তোমাদের কেউ যখন তার পরিবারের নিকট আসবে তখন সে যেন পর্দা করে। কারণ পর্দা না করলে ফেরেশতারা লজ্জা পায় এবং বেরিয়ে যায়। আর তার নিকট শয়তানরা উপস্থিত হয়। ফলে তাদের মাঝে সন্তান ভূমিষ্ট হলে, তাতে শয়তানের অংশিদারিত্ব এসে যায়।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে (২/১৬৭) ইয়াহইয়া ইবনু আইউব সূত্রে ওবাইদুল্লাহ ইবনু যাহর হতে, তিনি আবুল মুনীব হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর হতে, তিনি আবূ সালামাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি (ত্ববারানী) বলেনঃ আবুল মুনীব হতে ইয়াহইয়া ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। আর তার (আবুল মুনীব) থেকে ওবাইদুল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। ইয়াহইয়া হাদীসটিকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ ওবাইদুল্লাহ ইবনু যাহর ও আবুল মুনীব (তার নাম হচ্ছে) ওবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ, তারা উভয়েই দুর্বল। তবে প্রথমজন বেশী দুর্বল।





এ হাদীসের উপর ভিত্তি করে কোন কোন দেশে বলা হয়ে থাকঃ যখন ফেরেশতারা উপস্থিত হয় তখন শয়তান পালিয়ে যায়।