হাদীস বিএন


সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ





সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1921)


` إذا إنتاط غزوكم وكثرت العزائم واستحلت الغنائم، فخير أعمالكم الرباط `.
ضعيف.
رواه ابن حبان في ` صحيحه ` (1625) وابن أبي عاصم في ` الجهاد `
(2 / 102 / 1) والمخلص في ` الفوائد المنتقاة ` (7 / 22 / 1) والخطيب (12 / 135) عن سويد بن عبد العزيز عن عبيد الله بن عبيد الكلاعي عن مكحول عن
خالد بن معدان عن عتبة بن الندر مرفوعا. قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا،
سويد هذا قال ابن معين والنسائي: ` ليس بثقة `. وقال البخاري: ` فيه نظر
لا يحتمل `.
وقال الحافظ في ` التهذيب `: ` وضعفه ابن حبان جدا، وأورد له
أحاديث مناكير، ثم قال: وهو ممن أستخير الله فيه لأنه يقرب من الثقات `.
قلت: ومن طريقه رواه الطبراني أيضا في ` الكبير ` كما في ` المجمع ` (5 / 290) وقال: ` وهو متروك `. وقد روي بإسناد خير من هذا ولكنه موقوف وهو
بلفظ: ` يأتي على الناس زمان أفضل الجهاد الرباط، ذلك إذا اطاط (كذا) الغزو
وكثرت العزائم واستحلت الغنائم، وأفضل الجهاد يومئذ الرباط `. رواه بن أبي
شيبة في ` المصنف ` (7 / 153 / 2) : أخبرنا أبو أسامة عن عبد الرحمن بن يزيد
بن جابر قال: أخبرنا خالد بن معدان قال: سمعت أبا أمامة وجبير بن نفير
يقولان: فذكره موقوفا عليهما. قلت: وهذا إسناد صحيح، ولكنه موقوف. ولكن
هل هو في حكم المرفوع؟ ذلك ما لم يظهر لي الآن. والله أعلم. وقد روي
مرفوعا مرسلا بلفظ: ` يأتي على الناس زمان يكون أفضل الجهاد فيه الرباط،
والرباط أصل الجهاد وفرعه `. رواه أبو حزام بن يعقوب الحنبلي في ` الفروسية `
(1 / 9 / 1) عن الحجاج بن فرافصة عن الزهري مرفوعا. قلت: وهذا مع إرساله
ضعيف، لأن الحجاج هذا قال الحافظ: ` صدوق عابد يهم `. وأبو حزام نفسه لم
أجد له ترجمة.
‌‌




১৯২১। যখন তোমাদের যুদ্ধের স্থানগুলো দূরের হয়ে যাবে, (যুদ্ধের ব্যাপারে নেতাদের) দৃঢ়তা বেড়ে যাবে, (অত্যাচারী নেতারা) গানীমাতগুলো হালাল মনে করবে, তখন তোমাদের সর্বোত্তম কর্ম (জিহাদ) হবে বিপদজনক পথে পাহারাদারী করা।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু হিব্বান তার “সহীহ” গ্রন্থে (১৬২৫), ইবনু আবী আসেম “আলজিহাদ” গ্রন্থে (২/১০২/১) আলমুখাল্লেস `আলফাওয়াইদূল মুনতাকাত` গ্রন্থে (৭/২২/১) ও খাতীব বাগদাদী (১২/১৩৫) সুওয়াইদ ইবনু আব্দুল আযীয হতে, তিনি ওবাইদুল্লাহ ইবনু ওবাইদ আলকালা'ঈ হতে, তিনি মাকহুল হতে, তিনি খালেদ ইবনু মি’দান হতে, তিনি উতবাহ ইবনুন নাদ্দার হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। এ সুওয়াইদ সম্পর্কে ইবনু মাঈন ও নাসাঈ বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইমাম বুখারী বলেনঃ তার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। হাফিয ইবনু হাজার “আততাহযীব” গ্রন্থে বলেনঃ তাকে ইবনু হিব্বান খুবই দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন এবং তার কতিপয় মুনকার হাদীস উল্লেখ করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ সে তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের ব্যাপারে আমি ইসতিখারাহ করেছি। কারণ সে নির্ভরযোগ্যদের নিকটবর্তী।





আমি (আলবানী) বলছি তার সূত্রেই ত্ববারানীও “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। যেমনটি `আলমাজমা` গ্রন্থে (৫/২৯০) এসেছে এবং বলেছেনঃ তিনি মাতরূক। তবে হাদীসটিকে এর চেয়ে ভালো সনদে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেটি মওকুফ। সেটির ভাষা হচ্ছেঃ “লোকদের নিকট একটি সময় আসবে যখন বিপদজনক পথে পাহারাদারী করা হবে উত্তম জিহাদ। তা সে সময় যখন যুদ্ধের স্থানগুলো দূরের হবে, (যুদ্ধের ব্যাপারে নেতাদের) দৃঢ়তা বেড়ে যাবে, (অত্যাচারী নেতারা) গানীমাতগুলো হালাল মনে করবে, সে সময়ে তোমাদের সর্বোত্তম জিহাদ হবে বিপদজনক পথে পাহারাদারী করা।”





এটিকে ইবনু আবী শাইবাহ “আলমুসান্নাফ” গ্রন্থে (৭/১৫৩/২) আবূ উসামাহ হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ ইবনু জাবের হতে, তিনি খালেদ ইবনু মি’দান হতে, তিনি আবূ উমামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং জুবায়ের ইবনু নুফায়ের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন, তারা দু’জনই বলেছেনঃ .... (মওকুফ হিসেবে)।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি সহীহ কিন্তু মওকুফ। তবে এটি কি মারফুর হুকুম বহন করে? আমার নিকট এ পর্যন্ত তা স্পষ্ট হয়নি। আল্লাহই বেশী জানেন।





মুরসাল সনদে মারফূ' হিসেবে নিম্নের ভাষায় হাদিসটি বর্ণিত হয়েছেঃ





“লোকদের নিকট একটি সময় আসবে, সে সময়ে বিপদজনক পথে পাহারাদারী করা হবে উত্তম জিহাদ। আর বিপদজনক পথে পাহারাদারী করা হচ্ছে আসল জিহাদ এবং তার শাখা।”





এটিকে আবূ হিযাম ইয়াকুব হাম্বালী “আলফারুসিয়্যাহ” গ্রন্থে (১/৯/১) হাজ্জাজ ইবনু ফুরাফিসাহ হতে, তিনি যুহরী হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি মুরসাল হওয়া সত্ত্বেও দুর্বল। কারণ এ হাজ্জাজ সম্পর্কে হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি সত্যবাদী, আবেদ তবে সন্দেহকারী।





আর আবু হিজামেরই জীবনী পাচ্ছি না।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1922)


` لا تزول قدما عبد يوم القيامة حتى يسأل عن أربع: عن عمره فيما أفناه، وعن جسده فيما أبلاه، وعن ماله فيما أنفقه ومن أين اكتسبه، وعن حبنا أهل البيت `.
باطل بهذا اللفظ.

أخرجه الطبراني في ` الكبير ` (ج 3 ورقة 112 وجه 2) :
حدثنا الهيثم بن خلف الدوري: أخبرنا أحمد بن محمد بن يزيد بن سليم مولى بني
هاشم حدثني حسين بن الحسن الأشقر أخبرنا هشيم بن بشير عن أبي هاشم عن مجاهد عن
ابن عباس مرفوعا به. قلت: وهذا إسناد ضعيف، ورجاله ثقات غير حسين
الأشقر فضعفه الجمهور، ورماه بعضهم بالكذب، وهو شيعي غال، وروايته هذه
الزيادة في آخر الحديث مما يؤكد صدق من كذبه، وخطأ من وثقه كابن حبان وابن
معين! والهيثم بن خلف ثقة، وقد وثق شيخه أحمد هذا كما ذكر ذلك الخطيب في `
تاريخه ` (5 / 119 - 120) وترجم أيضا للهيثم وقال (14 / 63) : ` إنه كان
من الأثبات `. وبقية رجال السند من رجال ` التهذيب `. لكن له علة أخرى وهي
عنعنة هشيم بن بشير، فإنه كان كثير التدليس كما قال الحافظ في ` التقريب `.
وقد سرق بعض الكذابين هذا الحديث فركب عليه إسنادا آخر إلى ابن عباس به. رواه
عبد القاهر بن عبد السلام العباسي في ` الهاشميات ` (6 / 109 / 1 - 2) عن
محمد (هو بن زكريا الغلابي) : حدثنا يعقوب حدثنا أبي عن أبيه عن جده عن ابن
عباس مرفوعا. والغلابي هذا وضاع معروف. وركب له أحد المجهولين إسنادا آخر،
فجعله من مسند أبي ذر، ونقص منه السؤال عن العمر، ولفظه:
` لا تزول قدما ابن آدم يوم القيامة حتى يسأل عن أربع، عن علمه ما عمل به؟ وعن ماله من أين
اكتسبه، وفيما أنفقه؟ وعن حبنا أهل البيت. فقيل: يل رسول الله! ومن هم
؟ فأومى بيده إلى علي بن أبي طالب `. أخرجه بن عساكر (12 / 126 / 1) عن
يعقوب بن إسحاق القلوسي أخبرنا الحارث بن محمد المكفوف أخبرنا أبو بكر بن عياش
عن معروف (الأصل: حروف) بن خربوذ عن أبي الطفيل عن أبي ذر مرفوعا. قلت:
وهذا إسناد ضعيف، معروف بن خربوذ متكلم فيه، قال الذهبي: ` صدوق شيعي، ضعفه
يحيى بن معين. وقال أحمد: ما أدري كيف حديثه؟ وقال أبو حاتم: يكتب حديثه
. قلت: وهو مقل `. وقال في ` التقريب `: ` صدوق ربما وهم `. والحارث بن
محمد المكفوف لم أجد له ترجمة، فلعله هو الآفة، فإن الحديث بذكر أهل البيت
فيه منكر، وقد خالفه الثقة أسود بن عامر إسناد ومتنا، فقال: حدثنا أبو بكر
بن عياش عن الأعمش عن سعيد بن عبد الله بن جريج عن أبي برزة الأسلمي قال: قال
رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكره دون جملة حب البيت، وقال بدلها: ` وعن
جسمه فيما أبلاه `. وزاد في أوله ` عن عمره فيما أفناه `. وكذلك روي عن ابن
مسعود ومعاذ، وقد خرجت أحاديثهم في ` الصحيحة ` (946) .
‌‌




১৯২২। কিয়ামতের দিন বান্দার দু’পা অগ্রসর হতে পারবে না যে পর্যন্ত তাকে চারটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা না হবেঃ তার জীবন সম্পর্কে কিভাবে তা অতিবাহিত করেছে, তার দেহ সম্পর্কে কিভাবে তাকে পুরানা করেছে, তার সম্পদ সম্পর্কে কোন ক্ষেত্রে তা খরচ করেছে আর কিভাবে তা উপার্জন করেছে এবং তাকে আহলেবাইত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।





হাদীসটি এ ভাষায় বাতিল।





এটিকে ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/১১২) হাইসাম ইবনু খালাফ দাওরী হতে, তিনি বানু হাশেমের দাস আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ ইবনু সুলাইম হতে, তিনি হুসাইন ইবনুল হাসান আশকার হতে, তিনি হুশাইম ইবনু বাশীর হতে, তিনি আবূ হাশেম হতে, তিনি মুজাহিদ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। হুসাইন আশকার ছাড়া এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তাকে জামহুর দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর কেউ কেউ তাকে মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী করেছেন। তিনি সীমালঙ্ঘনকারী শী'য়া। হাদীসের শেষের অংশটুকু বাড়িয়ে বর্ণনা করায়, সেই ব্যক্তির সিদ্ধান্তকে শক্তিশালী করছে যিনি তাকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন এবং যিনি তাকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন তার কথাকেও ভুল প্রমাণ করছে, যেমন ইবনু হিব্বান ও ইবনু মা'ঈন।





হাদিসটির আরেকটি সমস্যা রয়েছে সেটি হচ্ছে হুশাইম ইবনু বাশীর কর্তৃক আন আন করে বর্ণনা করা। কারণ তিনি বহু তাদলীসকারী। যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেছেন।





কোন কোন মিথ্যুক এ হাদীসটিকে চুরি করে অন্য একটি সনদ জড়িয়ে ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর উদ্ধৃতিতে বর্ণনা করেছেন। এটিকে আব্দুল কাদের ইবনু আব্দুস সালাম আব্বাসী “আলহাশেমিয়্যাত” গ্রন্থে (৬/১০৯/১-২) মুহাম্মাদ ইবনু যাকারিয়া গিলাবী হতে, তিনি ইয়াকুব হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এ গিলাবী প্রসিদ্ধ জালকারী।





আবার কোন এক অজ্ঞাত ব্যক্তি এর সাথে আরেকটি সনদকে জুড়ে দিয়ে মুসনাদু আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর অন্তর্ভুক্ত করে, এ থেকে জীবন সম্পৃক্ত প্রশ্নটি কমিয়ে ফেলে বর্ণনা করেছেনঃ “কিয়ামতের দিন বান্দার দু'পা অগ্রসর হতে পারবে না যে পর্যন্ত তাকে চারটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা না হবেঃ তার জ্ঞান সম্পর্কে, সে তার উপর কতটুকু আমল করেছে, তার সম্পদ সম্পর্কে কিভাবে সে তা উপার্জন করেছে আর কোন ক্ষেত্রে তা খরচ করেছে, আহলেবাইত সম্পর্কে আমাদের ভালোবাসা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। কেউ বললঃ হে আল্লাহর রসূল! তারা কারা? তিনি তার হাত দিয়ে আলী ইবনু আবী তালেব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দিকে ইঙ্গিত করলেন।”





এটিকে ইবনু আসাকির (১২/১২৬/১) ইয়াকুব ইবনু ইসহাক কুলূসী হতে, তিনি হারেস ইবনু মুহাম্মাদ মাকফূক হতে, তিনি আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশ হতে, তিনি মা’রূফ ইবনু খারবূয হতে, তিনি আবুত তুফায়েল হতে, তিনি আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। কারণ মা’রূফ ইবনু খারবুযের সমালোচনা করা হয়েছে। হাফিয যাহাবী বলেনঃ তিনি সত্যবাদী শীয়া। তাকে ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। ইমাম আহমাদ বলেনঃ তার হাদীস কেমন আমি জানি না। আবু হাতিম বলেনঃ তার হাদীস লিখা যাবে। আমি (যাহাবী) বলছিঃ তিনি কম হাদীস বর্ণনাকারী। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী, কখনও কখনও সন্দেহ করতেন।





আর বর্ণনাকারী হারেস ইবনু মাকফুফের জীবনী আমি (আলবানী) পাচ্ছি না। সম্ভবত ইনিই হাদীসটির সমস্যা। কারণ হাদীসের মধ্যে আহলুল বাইত উল্লেখ করাটা মুনকার। কারণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী আসওয়াদ ইবনু ’আমের এ হাদীসের সনদ এবং ভাষা উভয় ক্ষেত্রে তার বিরোধিতা করে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু বাকর ইবনু আইয়্যাশ হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি সাঈদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু জুরায়েয হতে, তিনি আবূ বারযাহ আসলামী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...। তিনি আহলে বাইতকে ভালোবাসা সম্পৃক্ত বাক্যটি ছাড়া উল্লেখ করেছেন। এর পরিবর্তে বলেছেনঃ `তার দেহ সম্পর্কে কিভাবে তাকে পুরানো করেছে` আর প্রথম অংশে বৃদ্ধি করে বলেছেনঃ `তার জীবন সম্পর্কে কিভাবে তা অতিবাহিত করেছে`।





আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও মুয়ায (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে এরূপই বর্ণিত হয়েছে। তাদের হাদীসগুলোকে আমি “সিলসিলাহ সহীহাহ” গ্রন্থের মধ্যে (৯৪৬) তাখরীজ করেছি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1923)


` إذا رأيتم الرجل قد أعطي زهدا في الدنيا وقلة منطق، فاقتربوا منه، فإنه يلقى الحكمة `.
ضعيف.
رواه البخاري في ` التاريخ ` (الكنى 27 - 28) وابن ماجه (رقم
4101) والطبراني (84 / 1 - المنتقى منه) وابن عساكر (5 / 121 و15 / 187
/ 1) وأبو بكر الكلاباذي في ` مفتاح المعاني ` (121 / 2) عن هشام بن عمار:
حدثنا الحكم بن
هشام حدثنا يحيى بن سعيد بن أبان القرشي عن أبي فروة عن أبي
خلاد وكانت له صحبة، قال: فذكره مرفوعا. ورواه أبو عبد الله بن منده في
` معرفة الصحابة ` (37 / 195 / 2) عن كثير بن هشام: حدثنا الحكم بن هشام به
، وقال: ` رواه هشام بن عمار عن الحكم بن هشام نحوه `. قلت: ورواه أبو
نعيم في ` الحلية ` (10 / 405) عن عبد الله بن عبد الوهاب عن أبي مسهر عن
الحكم بن هشام به. ورواه ابن عساكر (15 / 97 / 1) من طريق آخر عن الحكم بن
هشام به. قلت: وهذا إسناد ضعيف منقطع، فإن أبا فروة هذا اسمه يزيد بن سنان
بن يزيد الرهاوي قال الحافظ: ` ضعيف من كبار السابعة `. يعني أنه لم يسمع من
أحد من الصحابة، بل هو من أتباع التابعين. ثم رأيت ابن أبي حاتم قد أورد
الحديث في ` العلل ` (2 / 115) كما أوردته، ثم قال: ` قال أبي: حدثنا بهذا
الحديث ابن الطباع عن يحيى بن سعيد الأموي عن أبي فروة يزيد بن سنان عن أبي
مريم عن أبي خلاد `. فأدخل بينهما أبا مريم، ولم أعرفه، وهو رواية للبخاري
، وصحح الأول، وقال ابن أبي حاتم: ` قلت لأبي: يصح لأبي خلاد صحبة؟ فقال
: ليس له إسناد `. قلت: وأبو خلاد هذا هو غير السائب بن خلاد، وعبد الرحمن
بن زهير، هذا لا يسمى. وله ترجمة في ` الإصابة `. وللحديث شاهد من حديث
أبي هريرة مرفوعا به. أخرجه أبو نعيم في ` الحلية ` (7 / 317) : حدثنا
سليمان بن أحمد حدثنا أحمد بن طاهر ابن حرملة حدثنا جدي حرملة بن يحيى حدثنا
ابن وهب حدثنا سفيان بن عيينة: حدثني رجل
قصير من أهل مصر يقال له عمرو بن
الحارث عن ابن حجيرة عنه. وقال: ` غريب بهذا الإسناد من هذا الوجه عن ابن
وهب `. قلت: وهو إسناد مركب باطل، افتعله أحمد بن طاهر فإنه كذاب كما قال
الدارقطني وتبعه الهيثمي (10 / 302) وله شاهد آخر من حديث عبد الله بن جعفر
مرفوعا مختصرا بلفظ: ` إذا رأيتم من يزهد في الدنيا فادنوا منه فإنه يلقى
الحكمة `. ولكنه واه جدا، قال أبو يعلى في ` مسنده ` (4 / 1607) : حدثنا
إسماعيل بن سيف البصري: حدثنا عمر بن هارون البلخي عن سفيان عن عبد الله بن
عبد الله بن جعفر عن أبيه. قال الهيثمي (10 / 286) : ` رواه أبو يعلى،
وفيه عمر بن هارون البلخي وهو متروك `. قلت: وعبد الله بن عبد الله بن جعفر
لم أعرفه، ولعل في النسخة تحريفا. وإسماعيل بن سيف، وهو ضعيف يسرق الحديث
، وسيأتي له حديث آخر (2523) .
‌‌




১৯২৩। যখন কোন ব্যক্তিকে তোমরা দেখবে যে, তাকে দুনিয়াতে যুহদ (দুনিয়া বিমূখতা) দেয়া হয়েছে, কম কথা বলার গুণাবলী দেয়া হয়েছে, তখন তোমরা তার নিকটবর্তী হও। কারণ সে হিকমাত প্রাপ্ত হয়েছে।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইমাম বুখারী `আততারীখ` গ্রন্থে (আলকুনা ২৭-২৮), ইবনু মাজাহ (নং ৪১০১), ত্ববারানী (১/৮৪), ইবনু আসাকির (৫/১২১, ১৫/১৮৭/১) ও আবু বাকর কালাবায়ী `মিফতাহুল মায়ানী` গ্রন্থে (২/১২১) হিশাম ইবনু আম্মার হতে, তিনি হাকাম ইবনু হিশাম হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ ইবনু আবান কুরাশী হতে, তিনি আবূ ফরওয়াহ হতে, তিনি আবু খাল্লাদ হতে (তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ ঘটেছিল)। তিনি মারফু' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।





আর হাদীসটিকে আবু আব্দুল্লাহ ইবনু মান্দাহ “মারিফাতুস সহাবা” (৩৭/১৯৫/২) কাসীর ইবনু হিশাম হতে, তিনি হাকাম ইবনু হিশাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ হিশাম ইবনু আম্মার এটিকে হাকাম ইবনু হিশাম হতে অনুরূপভাবেই বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আবূ নুয়াইম `আলহিলইয়াহ` গ্রন্থে (১০/৪০৫) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুল ওয়াহাব হতে, তিনি আবু মুসহির হতে, তিনি হাকাম ইবনু হিশাম হতে বর্ণনা করেছেন।





আর ইবনু আসাকির (১৫/৯৭/১) অন্য সূত্রে হাকাম ইবনু হিশাম হতে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল, মুনকাতি'। কারণ আবু ফারওয়ার নাম হচ্ছে ইয়াযীদ ইবনু সিনান ইবনু ইয়াযীদ রাহাবী। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি দুর্বল। তিনি কোন সাহাবী হতে শ্রবণ করেননি। বরং তিনি হচ্ছেন তাবে' তাবেঈগণের অন্তর্ভুক্ত।





অতঃপর আমি (আলবানী) ইবনু আবী হাতিমকে “আলইলাল” গ্রন্থে (২/১১৫) হাদীসটি উল্লেখ করতে দেখেছি আমি যেভাবে উল্লেখ করেছি সেভাবে। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমার পিতা বলেনঃ আমাদেরকে এ হাদীসটি ইবনুত তুব্বা বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ উমাবী হতে, তিনি আবু ফরওয়াহ ইয়াযীদ ইবনু সিনান হতে, তিনি আবু মারইয়াম হতে, তিনি আবু খাল্লাদ হতে বর্ণনা করেছেন।





তিনি দু’জনের মাঝে আবূ মারইয়ামের প্রবেশ ঘটিয়েছেন। আর আমি তাকে চিনি না। এটি হচ্ছে ইমাম বুখারীর একটি বর্ণনা। তিনি প্রথমটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু আবী হাতিম বলেনঃ আমি আমার পিতাকে বললামঃ আবূ খাল্লাদের রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কি সাক্ষাৎ ঘটেছে? তিনি বলেনঃ তার কোন সনদ নেই।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ আবূ খাল্লাদ সায়েব ইবনু খাল্লাদ নন, আর আব্দুর রহমান ইবনু যুহায়েরও নন। এর নাম নেয়া হয়নি, আর তার “আলইসাবাহ” গ্রন্থে জীবনী আলোচনা করা হয়েছে। হাদীসটির একটি শাহেদ মারফু' হিসেবে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হয়েছে।





এটিকে আবু নুয়াইম `আলহিলইয়্যাহ` গ্রন্থে (৭/৩১৭) সুলাইমান ইবনু আহমাদ হতে, তিনি আহমাদ ইবনু তাহের ইবনু হারমালাহ হতে, তিনি তার দাদা হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া হতে, তিনি ইবনু ওয়াহাব হতে, তিনি সুফইয়ান ইবনু ওয়াইনাহ হতে, তিনি মিসরী এক ছোট ব্যক্তি হতে যাকে আমর ইবনুল হারেস বলা হত, তিনি ইবনু হুজাইরাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। আবু নুয়াইম বলেনঃ ইবনু ওয়াহাব হতে এ সূত্রের সনদটি গারীব।





আমি (আলবানী) বলছিঃ সনদটি জোড় লাগানো ও বাতিল। এটিকে আহমাদ ইবনু তাহের বানিয়েছেন। কারণ তিনি বড়ই মিথ্যুক যেমনটি দারাকুতনী বলেছেন আর হাইসামী (১০/৩০২) তার অনুসরণ করেছেন। এর আব্দুল্লাহ ইবনু জাফরের হাদীস হতে সংক্ষেপে মারফু হিসেবে নিম্নের ভাষায় অন্য একটি শাহেদ রয়েছেঃ





“যখন তোমরা কোন ব্যক্তিকে দেখবে যে, সে দুনিয়ার ব্যাপারে বিমুখতা দেখাচ্ছে, তখন তোমরা তার নিকটবর্তী হও কারণ সে হিকমাত প্রাপ্ত হয়েছে।”





কিন্তু এটি খুবই দুর্বল। আবু ইয়ালা তার “মুসনাদ’ গ্রন্থে (৪/১৬০৭) ইসমাইল ইবনু সাইফ বাসরী হতে, তিনি উমার ইবনু হারূন বালখী হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু জা’ফার হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন।





হাইসামী (১০/২৮৬) বলেনঃ এটিকে আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে উমার ইবনু হারূন বালখী রয়েছেন যিনি মাতরূক।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আর আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু জা’ফারকে আমি চিনি না। সম্ভবত কপির মধ্যে উলোটপালট করার মত ঘটনা ঘটেছে।





আর ইসমাঈল ইবনু সাইফ দুর্বল, তিনি হাদীস চোর। তার অন্য একটি হাদীস (২৫২৩ নম্বরে) আসবে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1924)


` خصلتان من كانتا فيه كتبه الله شاكرا صابرا: من نظر في دينه إلى من هو فوقه فاقتدى به، ونظر في دنياه إلى من هو دونه فحمد الله على ما فضله الله به عليه، كتبه الله شاكرا صابرا، ومن نظر في دينه إلى من هو دونه، ونظر في دنياه إلى من هو فوقه، فأسف على ما فاته منه لم يكتبه الله شاكرا ولا صابرا `.
ضعيف.
رواه ابن المبارك في ` الزهد ` (180 - رواية نعيم) وعنه الترمذي
(2 / 83) وكذا البغوي في ` شرح السنة ` (14 / 293 / 4102) وابن السني في
` عمل اليوم والليلة ` (304) عن ابن ثوبان كلاهما عن المثنى بن الصباح عن
عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده مرفوعا.
وقال البغوي: ` هكذا رواه الخلال
وسويد بن نصر عن ابن المبارك عن المثنى بن الصباح عن عمرو ابن شعيب عن جده -
ولم يذكرا: ` عن أبيه ` - ، ورواه علي بن إسحاق عن المبارك عن المثنى عن عمرو
بن شعيب عن أبيه عن جده رفعه `. قلت: يشير البغوي إلى إعلال الحديث بالانقطاع
والاضطراب. لكن رواية ابن السني ترجح الاتصال، لأنها توافق رواية من ذكر عن
ابن المبارك زيادة: ` عن أبيه `، ومن المحتمل أن يكون الاضطراب من المثنى
نفسه، فإنه ضعيف اختلط في آخره كما في ` التقريب `. ومنه تعلم أن قول
الترمذي عقبه: ` حديث حسن غريب `. فهو غير حسن، على أن قوله: `.. حسن `،
لم يثبت في بعض النسخ، وهو الصواب، ولذلك كله جزم المناوي بضعف إسناده.
‌‌




১৯২৪। দু'টি চরিত্র রয়েছে যার মধ্যে এ দুটি চরিত্র থাকবে তাকে আল্লাহ্ তা'য়ালা শুকরগুজার এবং ধৈর্য ধারণকারী হিসেবে লিপিবদ্ধ করবেনঃ যে ব্যক্তি তার ধর্মীয় ব্যাপারে তার উপরে থাকা ব্যক্তির দিকে তাকাবে, অতঃপর সে তার অনুসরণ করবে এবং সে তার দুনিয়ার ব্যাপারে তার নিচে থাকা ব্যক্তির দিকে তাকাবে অতঃপর সে আল্লাহর প্রশংসা করবে, তাকে যে আল্লাহ্ নিচে থাকা ব্যক্তির উপরে মর্যাদা দান করেছেন এ জন্য। ফলে আল্লাহ্ তা'য়ালা এ ব্যক্তিকে শুকরগুজার এবং ধৈর্য ধারণকারী হিসেবে লিপিবদ্ধ করবেন। আর যে ব্যক্তি তার ধর্মীয় ব্যাপারে তার নিচে থাকা ব্যক্তির দিকে তাকাবে এবং তার দুনিয়ার ব্যাপারে তার উপরে থাকা ব্যক্তির দিকে তাকাবে সে সেই ব্যাপারে দুঃখিত হবে যা তার থেকে ছুটে গেছে। আল্লাহ্ তা'য়ালা এ ব্যক্তিকে শুকরগুজার এবং ধৈর্য ধারণকারী হিসেবে লিপিবদ্ধ করবেন না।





হাদীসটি দুর্বল।





ইবনুল মুবারাক `আযযুহুদ` গ্রন্থে (১৮০, নুয়াইমের বর্ণনায়), তার থেকে তিরমিযী (২/৮৩), অনুরূপভাবে বাগাবী `শারহুস সুন্নাহ` গ্রন্থে (১৪/২৯৩/৪১০২) ও ইবনুস সুন্নী `আমলুল ইওয়াম অল লাইলাহ` গ্রন্থে (৩০৪) ইবনু সাওবান হতে, তারা উভয়ে মুসান্না ইবনুস সবাহ হতে, তিনি আমর ইবনু শু'য়াইব হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





বাগাবী বলেনঃ এভাবে খাল্লাল ও সুওয়াইদ ইবনু নাসর বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারাক হতে, তিনি মুসান্না ইবনুস সাবাহ হতে, তিনি আমর ইবনু শুয়াইব হতে, তিনি তার দাদা হতে। তারা দু'জন তার পিতা হতে কথাটি উল্লেখ করেননি। আর ‘আলী ইবনু ইসহাক হাদীসটিকে ইবনুল মুবারাক হতে, তিনি মুসান্না হতে, তিনি আমর ইবনু শুয়াইব হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ বাগাবী ইঙ্গিত করেছেন যে, হাদীসটির সমস্যা হচ্ছে সনদে বিচ্ছিন্নতা এবং ইযতিরাব সংঘটিত হওয়া। কিন্তু ইবনুস সুন্নীর বর্ণনা থেকে অগ্রাধিকার পায় যে, সনদটি মুত্তাসিল। কারণ তার বর্ণনাটি সেই বর্ণনার সাথে মিলে যায়, যিনি ইবনুল মুবারাক হতে তার পিতা হতে কথাটি বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেছেন। আর ইযতিরাব যে সংঘটিত হয়েছে তা ঘটেছে মুসান্না থেকে। কারণ তিনি দুর্বল, তার শেষ বয়সে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল যেমনটি “আততাকরীব” গ্রন্থে এসেছে।





এ থেকেই জানা যাচ্ছে যে, ইমাম তিরমিযী যে বলেছেনঃ হাদীসটি হাসান গারীব, তার এ কথা বলা ভালো হয়নি। কারণ তিরমিযীর কোন কোন কপিতে হাসান লিখা হয়নি এবং সেটিই সঠিক। আর এ কারণেই মানবী দৃঢ়তার সাথে সনদটি দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1925)


` من رضي بالقليل من الرزق رضي الله منه بالقليل من العمل، وانتظار الفرج من الله عبادة `.
ضعيف جدا.
رواه أبو بكر الأزدي في ` حديثه ` (4 - 5) عن عبد الله بن
شبيب: أخبرنا إسحاق الفروي قال: أخبرنا سعيد بن مسلم بن بانك أنه سمع علي بن
الحسين عن أبيه عن علي مرفوعا. قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، عبد الله بن
شبيب، قال الذهبي: ` واه، قال أبو أحمد الحاكم: ذاهب الحديث … `. وقال
في ` الضعفاء `: ` مجمع على ضعفه `. وإسحاق الفروي هو ابن محمد من شيوخ
البخاري، لكنه ضعيف من قبل حفظه، وبه أعله المناوي.
قلت: لكني وجدت له طريقا أخرى، فقال أبو الحسين الأبنوسي في ` الفوائد ` (23 / 1) : أخبرنا
الملاحمي (محمد بن أحمد بن موسى البخاري) قال: حدثنا أبو إسحاق محمود بن
إسحاق المطوعي قال: حدثنا عبد الله بن حماد الآملي قال: حدثنا الربيع بن روح
قال: حدثنا سلم بن سالم عن جعفر بن محمد عن أبيه عن علي بن أبي طالب مرفوعا.
قلت: وهذا سند ضعيف جدا، آفته سلم بن سالم وهو البلخي الزاهد، ضعفه أحمد
والنسائي، وأشار الأصم إلى تكذيبه. وفقرة الانتظار لها طرق أخرى سبق تخريجها
برقم (1573) وبعدها هذا الحديث من الطريق الأولى من مصدرين آخرين.
‌‌




১৯২৫। যে ব্যক্তি কম রিযকে সম্ভষ্ট হবে আল্লাহ্ তা'য়ালা তার কম আমলে সম্ভষ্ট হবেন। আর আল্লাহ্ তা'য়ালার পক্ষ থেকে প্রশস্ততার অপেক্ষা করা হচ্ছে ইবাদাত ।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে আবু বাকর আযদী তার “হাদীস” গ্রন্থে (৪-৫) আব্দুল্লাহ ইবনু শাবীব হতে, তিনি ইসমাঈল ফারাবী হতে, তিনি সাঈদ ইবনু মুসলিম ইবনু বানাক হতে, তিনি আলী ইবনুল হুসাইন হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। কারণ আব্দুল্লাহ ইবনু শাবীব সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তিনি দুর্বল। আবু আহমাদ হাকিম বলেনঃ তিনি যাহেবুল হাদীস।





তিনি (যাহাবী) “আযযুয়াফা” গ্রন্থে বলেনঃ তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে ইজমা হয়েছে।





আর ইসহাক ফারাবী হচ্ছেন ইবনু মুহাম্মাদ, তিনি ইমাম বুখারীর শাইখদের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু তিনি তার হেফযের দিক থেকে দুর্বল। মানবী এর দ্বারাই সমস্যা বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছি কিন্তু আমি হাদীসটির অন্য একটি সূত্র পেয়েছি। আবুল হুসাইন আবনূসী “আলফাওয়াইদ” গ্রন্থে (১/২৩) বলেনঃ আমাদেরকে হাদীসটি মালামেহী (মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু মূসা বুখারী) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক মাহমূদ ইবনু ইসহাক মুতাওয়া'ঈ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু হাম্মাদ আমুল্লী হতে, তিনি রাবী ইবনু রাওহ হতে, তিনি সালম ইবনু সালেম হতে, তিনি জা'ফার ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আলী ইবনু আবী তালেব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। এর সমস্যা হচ্ছে সালম ইবনু সালেম, তিনি হচ্ছেন বালখী আযযাহেদ। তাকে ইমাম আহমাদ ও নাসাঈ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর আসাম তার মিথ্যুক হওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।





অপেক্ষা করার অংশটুকুর অন্যান্য সূত্র রয়েছে। সেগুলো সম্পর্কে (১৫৭৩) নম্বরে আলোচনা করা হয়েছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1926)


` يدخل فقراء المسلمين الجنة قبل الأنبياء بأربعين خريفا `.
باطل بهذا اللفظ.

أخرجه أحمد (3 / 324) من طريق عمرو بن جابر أبي زرعة
الحضرمي قال: سمعت جابر بن عبد الله الأنصاري يقول: سمعت رسول الله صلى
الله عليه وسلم يقول: فذكره. قلت: وهذا سند ضعيف جدا، عمرو هذا قال الذهبي
: ` هالك، قال أحمد: روى عن جابر مناكير، وبلغني أنه كان يكذب، وقال
النسائي: ليس بثقة `. قلت: ومن مناكيره هذا اللفظ: ` الأنبياء `. فإن
المعروف إنما هو بلفظ: ` الأغنياء `. وهكذا وقع في ` سنن الترمذي ` (2 / 57) من هذا الوجه، فلا أدري أهو تحريف من بعض النساخ لما رآه باللفظ الأول
واستنكره عدل به إلى اللفظ الآخر، أوأن الرواية وقعت للترمذي هكذا؟ ومما
يرجح هذا أنه قال عقبة: ` هذا حديث حسن `. فلوكان عنده باللفظ الأول، لما
حسنه، بل لاستنكره. والله أعلم. وقد روي باللفظ الآخر من حديث أبي الدرداء
مرفوعا بلفظ: ` يدخل فقراء أمتي الجنة قبل أغنيائهم بأربعين خريفا `.

أخرجه ابن عدي في ` الكامل ` (80 / 2) من طريق ابن الخوار: حدثنا مغيرة بن زياد
حدثنا إسماعيل بن عبيد الله عن أم الدرداء قال: سمعتها تروي عن أبي الدرداء
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم … ، فذكره. أورده في ترجمة ابن
الخوار هذا واسمه حميد بن حماد، وقال: ` يحدث عن الثقات بالمناكير، وهو
قليل الحديث، وبعض أحاديثه على قلته لا يتابع عليه `. وقال الحافظ في
` التقريب `: ` لين الحديث `. والمغيرة بن زياد صدوق له أوهام. والمحفوظ
أن هذه المدة: ` أربعين خريفا ` إنما قالها صلى الله عليه وسلم في فقراء
المهاجرين، وأما فقراء المسلمين - عامة - فيدخلون الجنة قبل أغنيائهم
بخمسمائة سنة. انظر ` المشكاة ` (




১৯২৬। মুসলিমদের ফকীররা নবীগণের চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে।





হাদীসটি এ ভাষায় বাতিল।





এটিকে ইমাম আহমাদ (৩/৩২৪) আমর ইবনু জাবের আবু যুর’য়াহ হাযরামী সূত্রে জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ্ আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। এ আমর সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তিনি হালেক। আহমাদ বলেনঃ তিনি জাবের হতে কতিপয় মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর আমার নিকট পৌঁছেছে যে, তিনি মিথ্যা বলতেন। নাসাঈ বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদীসের ভাষাঃ “নবীগণের”, তার সে সব মুনকারগুলোর অন্তর্ভুক্ত। কারণ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এ শব্দেঃ “ধনীদের”। `সুনানুন তিরমিযী` গ্রন্থে (২/৫৭) এ সূত্রেই 'ধনীদের' এ শব্দে বর্ণিত হয়েছে। জানি না কোন কপিকারকের পক্ষ থেকে তা রদবদল করা হয়েছে কিনা। কারণ যখন দেখল যে, প্রথম শব্দটিকে মুনকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তখন সে দ্বিতীয় শব্দের দিকে ফিরে গেছে। আর তিরমিযীর নিকট দ্বিতীয় শব্দটি উল্লেখ করাটা বেশী অগ্রাধিকারযোগ্য। কারণ হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী কর্তৃক হাসান আখ্যা দেয়া থেকে স্পষ্ট হয় যে, তার নিকট যদি প্রথম শব্দটি `নবীগণের` থাকত তাহলে তিনি হাসান আখ্যা দিতেন না। বরং তিনি সেটাকে মুনকার আখ্যা দিতেন। আল্লাহই বেশী জানেন।





হাদিসটিকে অন্য ভাষায় আবুদ দারাদার হাদীস হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছেঃ `আমার উম্মাতের ফাকীররা তাদের ধনীদের চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে।`





এটিকে ইবনু আদী “আলকামেল” গ্রন্থে (২/৮০) ইবনুল খাওয়ার সূত্রে মুগীরাহ ইবনু যিয়াদ হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু ওবাইদুল্লাহ হতে, তিনি উম্মুদ দারদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি আবুদ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ...।





তিনি হাদীসটিকে ইবনুল খাওয়ারের জীবনীর মধ্যে উল্লেখ করেছেন, তার নাম হচ্ছে হুমায়েদ ইবনু হাম্মাদ। ইবনু আদী বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে মুনকার হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি কম হাদীস বর্ণনাকারী। কম বর্ণনাকারী হওয়া সত্ত্বেও তার কোন কোন হাদীসের মুতাবায়াত করা হয়নি।





হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল। আর মুগীরাহ ইবনু যিয়াদ সত্যবাদী তবে তার সন্দেহমূলক বর্ণনা রয়েছে।





নিরাপদ হচ্ছে এই যে, চল্লিশ বছরের নির্ধারিত সময়টা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধুমাত্র মুহাজির ফাকীরগণের ক্ষেত্রে বলেছিলেন। আর অন্যান্য মুসলিম সাধারণ ফাকীররা তাদের ধনীদের পাঁচশত বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। দেখুন `মিশকাত` (৫২৪৩-৫২৫৮)।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1927)


` من جاع واحتاج فكتمه الناس حتى يفضى به إلى الله عز وجل، فتح الله له رزق
سنة من حلال `.
منكر.
رواه تمام (29 / 1) عن إسماعيل بن رجاء: حدثنا موسى بن أعين عن
الأعمش عن سعيد بن جبير عن أبي هريرة مرفوعا. قلت: وهذا سند ضعيف،
رجاله ثقات رجال الشيخين، غير إسماعيل بن رجاء ضعفه الدارقطني، ومن طريقه

أخرجه ابن حبان في ` الضعفاء ` والعقيلي في ` الضعفاء ` والطبراني في
` الأوسط ` وسليم الرازي في ` فوائده ` والبيهقي في ` شعب الإيمان `، عن أبي
هريرة. وقال ابن حبان (1 / 130) : ` هذا حديث باطل، لم يحدث به الأعمش،
ولا رواه سعيد ولا حدث به أبو هريرة رضي الله عنه، ولا قاله رسول الله صلى
الله عليه وسلم، آفته إسماعيل بن رجاء الحصني `.
وتبعه ابن الجوزي، فأقره
في ` الموضوعات ` (2 / 152) وتعقبه السيوطي في ` اللآلئ ` (2 / 72) بقول
البيهقي: ` ضعيف، تفرد به إسماعيل وهو ضعيف `. ورواه الخطيب في ` المتفق
والمفترق `، وقال: ` غريب، لم نكتبه إلا من رواية إسماعيل بن رجاء عن موسى `
. نقلته من ` اللسان `، و` الجامع الكبير ` (2 / 239 / 2) وذكر الأول في
ترجمة إسماعيل أن العقيلي ذكره في ` الضعفاء `، وأورد له من المناكير هذا
الحديث. ولم أجد هذه الترجمة في نسخة ` الضعفاء ` المحفوظة في المكتبة
الظاهرية، فلعلها سقطت من الناسخ، ويحتمل أنه استدركها بعد في قصاصة ورق،
ثم سقطت القصاصة عند التجليد أوغيره. ولم ترد أيضا في النسخة المطبوعة
بتحقيق القلعجي، ولم يذكر الحديث في الفهرست، على ما فيه من أخطاء وخلط
ونقص! ثم ذكر السيوطي للحديث شاهدا قاصرا، وسنده ضعيف أيضا، كما سيأتي برقم
(4452) . والله أعلم.
‌‌




১৯২৭। যে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত হবে এবং মুখাপেক্ষী হবে, অতঃপর সে লোকদের থেকে তা গোপন করবে আর গোপনেই তার সংবাদ আল্লাহর নিকট পৌছে দেয়া হবে। আল্লাহ্ তা'য়ালা তার জন্য এক বছরের হালাল রুযির পথ বের করে দিবেন।





হাদীসটি মুনকার।





এটিকে তাম্মাম (১/২৯) ইসমাঈল ইবনু রাজা হতে, তিনি মূসা ইবনু আইউন হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবায়ের হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। ইসমাঈল ইবনু রাজা ছাড়া এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, শাইখাইনের বর্ণনাকারী। তাকে দারাকুতনী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর তার সূত্রেই ইবনু হিব্বান হাদীসটিকে `আযযুয়াফা` গ্রন্থে, ওকাইলী `আযযুয়াফা` গ্রন্থে, ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে, সুলাইম রাযী তার “ফাওয়াইদ” গ্রন্থে ও বাইহাৰী “শুয়াবুল ঈমান” গ্রন্থে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। ইবনু হিব্বান (১/১৩০) বলেনঃ এ হাদীসটি বাতিল। আমাশ এটিকে বর্ণনা করেননি। সাঈদ এটিকে বর্ণনা করেননি আর আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এ হাদীস বর্ণনা করেননি। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও এটি বলেননি। এর সমস্যা হচ্ছে ইসমাঈল ইবনু রাজা হুসানী।





ইবনুল জাওযী তার অনুসরণ করে `আলমাওয়ূয়াত` গ্রন্থে (২/১৫২) তার কথাকে সমর্থন করেছেন আর সুয়ূতী “আললাআলী” গ্রন্থে (২/৭২) বাইহাকীর কথার দ্বারা তার সমালোচনা করেছেন হাদীসটি দুর্বল। এটিকে ইসমাঈল এককভাবে বর্ণনা করেছেন আর তিনি হচ্ছেন দুর্বল। খতীব `আলমুত্তাফিক অলমুফতারিক` গ্রন্থে হাদিসটিকে বর্ণনা করে বলেছেনঃ হাদীসটি গারীব। আমরা এটিকে মূসা হতে একমাত্র ইসমাঈল ইবনু রাজার বর্ণনাতেই লিখেছি।





আমি হাদীসটিকে “আললিসান” এবং “আলজামে'উল কাবীর” (২/২৩৯/২) হতে নকল করেছি। প্রথমজন ইসমাঈলের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, ওকাইলী হাদীসটিকে `আযযুয়াফা` গ্রন্থে উল্লেখ করে এটিকে তার মুনকারগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আমি এ ব্যক্তির জীবনী “আযযুয়াফা” গ্রন্থের আলমাকতাবাতুয যাহেরিয়ার কপিতে পাচ্ছি না। সম্ভবত কপিকারকের নিকট হতে তা পড়ে গেছে। হয়তো তার জীবনী সম্বলিত পাতা বাধাই করার সময় পড়ে গেছে...।





সুয়ূতী হাদীসটির একটি সংক্ষিপ্ত শাহেদ উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তার সনদও দুর্বল। যেমনটি (৪৪৫২) নম্বরে সেটি সম্পর্কে আলোচনা আসবে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1928)


` أثيبوا أخاكم، قالوا: وما إثابته؟ قال: تدعون الله له، فإن في الدعاء إثابة له `.
ضعيف.
رواه أبو نعيم في ` أخبار أصبهان ` (1 / 84) عن خلاد بن يحيى:
حدثنا يوسف بن ميمون الصباغ عن عطاء عن ابن عمر قال: دعي رسول الله صلى
الله عليه وسلم إلى طعام هو وأصحابه، فلما طعموا قال النبي صلى الله عليه
وسلم: فذكره. قلت: وهذا إسناد ضعيف، يوسف بن ميمون الصباغ، قال الحافظ في
` التقريب `: ` ضعيف `. وفي ` الميزان ` أن البخاري قال فيه: ` منكر الحديث
جدا `. وله شاهد من حديث جابر مرفوعا. لكن في إسناده مدلس ورجل لم يسم.
انظر تعليقنا على الحديث (193) من ` الكلم الطيب `.
‌‌




১৯২৮। তোমরা তোমাদের ভাইকে সাওয়াব প্রদান কর। তারা বললঃ তাকে সাওয়াব দেয়ার অর্থ কি? তিনি বললেনঃ তোমরা তার জন্য আল্লাহর নিকট দুয়া কর। কারণ দুয়ার মধ্যে তার জন্য সাওয়াব নিহিত রয়েছে।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে আবু নুয়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (১/৮৪) খাল্লাদ ইবনু ইয়াহইয়া হতে, তিনি ইউসুফ ইবনু মাইমূন সব্বাগ হতে, তিনি আতা হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণকে খাওয়ার দাওয়াত দেয়া হলো। অতঃপর যখন তারা খাদ্য খেলেন তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ... ।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। বর্ণনাকারী ইউসুফ ইবনু মাইমূন সব্বাগ সম্পর্কে হাফিয ইবনু হাজার `আততাকরীব` গ্রন্থে বলেনঃ তিনি দুর্বল। আর `আলমীযান` গ্রন্থে এসেছে যে, ইমাম বুখারী তার সম্পকে বলেনঃ তিনি খুবই মুনকারুল হাদীস।





জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস হতে মারফু' হিসেবে তার একটি শাহেদ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু সেটির সনদে মুদাল্লিস বর্ণনাকারী এবং এক নাম না-নেয়া ব্যক্তি রয়েছেন। আপনি “আলকালেমুত তাইয়্যিব” গ্রন্থের (১৯৩) হাদীসে আমার টীকা দেখুন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1929)


` من كانت له سريرة صالحة أوسيئة، نشر الله منها رداء يعرف به `.
ضعيف جدا.
رواه ابن عدي (100 / 2) والقضاعي (43 / 2) والضياء في `
المنتقى من مسموعات من مرو` (62 / 1) عن صالح بن مالك الأزدي حدثنا حفص بن
سليمان حدثنا علقمة بن مرثد عن أبي عبد الرحمن السلمي قال: سمعت عثمان بن
عفان يقول على منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم مرفوعا. وقال ابن عدي:
` لا يرويه عن علقمة غير حفص، وعامة حديثه غير محفوظ `. قلت: وقال الحافظ
في ` التقريب `. ` متروك الحديث مع إمامته في القراءة `. وصالح بن مالك
أورده ابن أبي حاتم (2 / 1 / 416) ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا لكن رواه
القضاعي من طريق محمد بن بكار قال: أخبرنا حفص بن سليمان عن علقمة ابن مرثد عن
سعد بن عبيدة عن أبي عبد الرحمن السلمي به.
‌‌




১৯২৯। যে ব্যক্তির ভালো অথবা মন্দ গোপন কিছু থাকবে। আল্লাহ্ তা'য়ালা সে গোপনীয়তা থেকে এমন চাদর প্রকাশ করবেন যার দ্বারা তাকে (ব্যক্তিকে) চেনা যাবে।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে ইবনু আদী (২/১০০), কাযাঈ (২/৪৩) ও যিয়া `আলমুনতাকা মিন মাসমূয়াতিহি বি মারু` গ্রন্থে (১/৬২) সালেহ ইবনু মালেক আযদী হতে, তিনি হাফস ইবনু সুলাইমান হতে, তিনি আলকামাহ ইবনু মারশাদ হতে, তিনি আবু আব্দুর রহমান সুলামী হতে, তিনি বলেনঃ আমি উসমান ইবনু আফফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিম্বারের উপর (মারফু হিসেবে) বলতে শুনেছিঃ ...।





ইবনু আদী বলেনঃ আলকামাহ হতে হাদীসটিকে হাফস ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি আর তার অধিকাংশ হাদীস নিরাপদ নয়।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাফিয ইবনু হাজার `আততাকরীব` গ্রন্থে বলেনঃ তিনি কিরাআতের ইমাম হওয়া সত্ত্বেও মাতরূকুল হাদীস। আর সালেহ ইবনু মালেককে ইবনু আবী হাতিম (২/১/৪১৬) উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ভাল-মন্দ কিছু বলেননি। কিন্তু কাযাঈ মুহাম্মাদ ইবনু বাক্কার সূত্রে হাফস ইবনু সুলাইমান হতে, তিনি আলকামাহ ইবনু মারসাদ হতে, তিনি সা'দ ইবনু ওবাইদাহ হতে, তিনি আবু আব্দুর রহমান সুলামী হতে বর্ণনা করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1930)


` شيبتني هو د وأخواتها، وما فعل بالأمم قبلي `.
ضعيف.
رواه ابن سعد (1 / 435) : أخبرنا محمد بن إسماعيل بن أبي فديك عن
علي بن أبي علي عن جعفر بن محمد عن أبيه أن رجلا قال للنبي صلى الله عليه
وسلم: أنا أكبر منك مولدا وأنت خير مني وأفضل! فقال رسول الله صلى الله
عليه وسلم فذكره. قلت: وهذا إسناد ضعيف، فإنه مع إرساله، فيه علي بن أبي
علي وهو القرشي. قال ابن عدي: ` مجهول، منكر الحديث `. والحديث صحيح دون
قوله: ` وما فعل … ` وقد خرج في ` الصحيحة ` (955) .
‌‌




১৯৩০। আমাকে (সূরা) হুদ, তার বোনগুলো এবং আমার পূর্বের উম্মাতদের সাথে যা কিছু করা হয়েছে (সেগুলোর চিন্তা) বৃদ্ধ করে দিয়েছে।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু সা'দ (১/৪৩৫) মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু আবূ ফুদাইক হতে, তিনি আলী ইবনু আবু আলী হতে, তিনি জা’ফার ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললোঃ জন্মের দিক দিয়ে আমি আপনার চেয়ে বড় আর আপনি আমার চেয়ে বেশী উত্তম এবং বেশী ভালো! তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। এটি মুরসাল হওয়া সত্ত্বেও এর সনদে আলী ইবনু আবু আলী কুরাশী রয়েছেন। তার সম্পর্কে ইবনু আদী বলেনঃ তিনি মাজহুল, মুনকারুল হাদীস।





তবে হাদীসটি (وما فعل بالأمم قبلي) এ অংশ ছাড়া সহীহ। `সিলসিলাহ সহীহাহ` গ্রন্থে (৯৫৫) এর তাখরীজ করা হয়েছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1931)


` أجل، شيبتني (هو د) وأخواتها. قال أبو بكر: بأبي وأمي وما أخواتها؟ قال: (الواقعة) و (القارعة) و (سأل سائل) و (إذا الشمس كورت) (و (الحاقة)) `.
ضعيف.

أخرجه ابن سعد في ` الطبقات ` (1 / 435) وابن نصر في ` قيام
الليل ` (ص 58) من طريق أبي صخر أن يزيد الرقاشي حدثه قال: سمعت أنس بن
مالك يقول: ` بينما أبو بكر وعمر جالسان في نحر المنبر، إذ طلع عليهما
رسول الله صلى الله عليه وسلم من بعض بيوت نسائه، يمسح لحيته، ويرفعها فينظر
إليها، قال أنس، وكانت لحيته أكثر شيبا من رأسه، فلما وقف عليهما سلم، قال
أنس: وكان أبو بكر رجلا رقيقا، وكان عمر رجلا شديدا، فقال أبو بكر، بأبي
وأمي لقد أسرع فيك الشيب، فرفع لحيته بيده، فنظر إليها، وترقرقت عينا أبي
بكر، ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم … ` فذكره. قال أبو صخر: فأخبرت
هذا الحديث ابن قسيط، فقال: يا أحمد! ما زلت أسمع هذا الحديث من أشياخي فلم
تركت: الحاقة وما الحاقة؟ `. قلت: وهذا سند ضعيف، لأن يزيد هذا، هو ابن
أبان ضعيف كما في ` التقريب `. وقد روي عنه بلفظ: ` شيبتني (هو د)
وأخواتها: (الحاقة) و (الواقعة) و (عم يتساءلون) و (هل أتاك حديث
الغاشية) `. أخرجه الواحدي في ` تفسيره ` (2 / 35 / 2) عن محمد بن يونس:
حدثنا حاتم بن سالم القزاز حدثنا عمرو بن أبي عمرو العبدي حدثنا يزيد بن أبان
عن أنس بن مالك عن أبي بكر الصديق قال: ` قلت يا رسول الله! عجل إليك الشيب،
قال … `: فذكره. قلت: وهذا إسناد هالك، محمد بن يونس الكديمي وضاع.
وحاتم بن سالم القزاز لين أيضا.
وعمرو بن أبي عمرو العبدي لم أعرفه، ويحتمل
أن يكون عمرو بن شمر، وهو متروك. راجع ` الميزان `. نعم، قد صح الحديث من
رواية ابن عباس مرفوعا دون ذكر (القارعة) و (سأل سائل) و (الحاقة) .
وذكر مكانها: (هو د) و (المرسلات) و (عم يتساءلون) . وقد خرج في المصدر
السابق.
‌‌




১৯৩১। হ্যাঁ, আমাকে (সূরা) হুদ ও তার বোনগুলো বৃদ্ধ করে দিয়েছে। আবু বাকর বললেনঃ আমার পিতা ও মাতা আপনার পথের উপর উৎসর্গিত হোক, তার বোনগুলো কোনগুলো? তিনি বললেনঃ সূরা ওয়াকিয়াহ, আলকারিয়াহ, সাআলা সায়েলুন, ইযাশ শামসু কুব্বিরাত ও আল-হাক্কাহ।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু সা'দ “আতত্ববাকাত” গ্রন্থে (১/৪৩৫) ও ইবনু নাসর “কিয়ামুল লাইল” গ্রন্থে (পৃঃ ৫৮) আবু সাখর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াযীদ রুকাশী তাকে হাদীস বর্ণনা করে শুনিয়েছেন। তিনি বলেনঃ আমি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি, আবু বাকর ও উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মিম্বারের উপর বসেছিলেন। এমতাবস্থায় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু'জনের নিকট তার কোন এক স্ত্রীর ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন, এমতাবস্থায় যে, তিনি তার দাড়ি নাড়ছিলেন এবং দাড়ি উঠিয়ে সেগুলোর দিকে তাকাচ্ছিলেন। আনাস বলেনঃ তার মাথার চুলের চেয়ে তার দাড়ি বেশী পাকা ছিল। যখন তাদের দু'জনের নিকট এসে দাঁড়ালেন তখন সালাম দিলেন। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নরম মনের ব্যক্তি ছিলেন আর উমার শক্ত মনের ছিলেন। আবু বাকর বললেনঃ আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য ফেদা হোক! আপনার চুল দ্রুতই পেকে যাচ্ছে। এরপর তিনি তার হাত দিয়ে দাড়ি উঠিয়ে দেখলেন আর আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দু'চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন রসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ...।





আবু সাখর বলেনঃ আমি এ হাদীসটি সম্পর্কে ইবনু কুসাইতকে সংবাদ দিলাম। তিনি বললেনঃ হে আহমাদ! আমি এখনও এ হাদীস আমার শাইখদের থেকে শুনছি, তুমি কেন এটিকে ছেড়ে দিয়েছোঃ আলহাক্কাতু আমলহাক্কা?





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। কারণ ইয়াযীদ হচ্ছেন ইবনু আবান আর তিনি হচ্ছেন দুর্বল। যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেছেন। তার থেকে নিম্নের ভাষাতেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছেঃ





আমাকে হুদ এবং তার বোনগুলো বৃদ্ধ করে দিয়েছেঃ আলহাক্কাহ, আলঅকেয়াহ, আম্মা ইয়াতাসাআলুন ও হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়্যাহ।





এটিকে অহেদী তার “তাফসীর” গ্রন্থে (২/৩৫/২) মুহাম্মাদ ইবনু ইউনুস হতে, তিনি হাতেম ইবনু সালেম কাযযায হতে, তিনি আমর ইবনু আবূ আমর আবদী হতে, তিনি ইয়াযীদ ইবনু আবান হতে, তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি আবু বাকর সিদীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আপনার নিকট পাকা চুল দ্রুতই এসে পড়েছে। তখন তিনি বলেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি হালেক (ধ্বংসপ্রাপ্ত)। কারণ মুহাম্মাদ ইবনু ইউনুস কুদাইমী জালকারী। আর হাতিম ইবনু সালেম কাৰ্য্যাযও দুর্বল।





আর আমর ইবনু আবূ আমরকে আমি চিনি না। হতে পারে তিনি হচ্ছেন আমর ইবনু শামর। তিনি হচ্ছেন মাতরূক। দেখুন “আলমীযান” গ্রন্থে।





হ্যাঁ, হাদীসটি সহীহ হিসেবে ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণনায় মারফু আলহাক্কাহ ছাড়া। সেগুলোর স্থলে হুদ, আলমুরসালাত ও আম্মা ইয়াতাসাআলুনকে উল্লেখ করা হয়েছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1932)


` ذكر الأنبياء من العبادة، وذكر الصالحين كفارة الذنوب، وذكر الموت صدقة، وذكر النار من الجهاد، وذكر القبر يقربكم من الجنة، وذكر النار يباعدكم من النار، وأفضل العبادة ترك الجهل، ورأس مال العالم ترك الكبر، وثمن الجنة
ترك الحسد، والندامة من الذنوب التوبة الصادقة `.
موضوع.
رواه الديلمي (2 / 82 / 1) من طريق أبي علي بن الأشعث: حدثنا
شريح ابن عبد الكريم حدثنا جعفر بن محمد بن جعفر بن محمد بن علي الحسيني أبو
الفضل في ` كتاب العروس `: حدثنا الوليد بن مسلم حدثنا محمد بن راشد عن مكحول
عن معاذ بن جبل مرفوعا. وابن الأشعث كذبوه. كذا في ` ذيل الأحاديث
الموضوعة ` للسيوطي (ص 194 - 195) . قلت: ومع ذلك فقد أورده في ` الجامع
الصغير ` من رواية الديلمي هذه عن معاذ! ومن غرائبه أنه أورد منه طرفه الأول
الحاوي على الجمل الخمسة دون الرابعة منها، فأوهم أنه ليس عند الديلمي بهذا
التمام! ثم إن ابن الأشعث اسمه محمد بن محمد بن الأشعث، قال الدارقطني: `
آية من آيات الله، وضع ذاك الكتاب - يعني العلويات - `. وساق له ابن عدي
جملة موضوعات. وأعله المناوي بعلتين أخريين لا وزن لهما هنا، ثم اقتصر في `
التيسير ` على قوله: ` إسناده ضعيف `!
‌‌




১৯৩২। নবীগণের আলোচনা করা ইবাদাতে অন্তর্ভুক্ত। নেককারদের আলোচনা করা গুনাহের কাফফারাহ স্বরূপ। মৃত্যুকে স্মরণ করা হচ্ছে সাদাকাহ। জাহান্নামের আগুনকে স্মরণ করা হচ্ছে জিহাদ। কবরের স্মরণ তোমাদেরকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দিবে আর জাহান্নামের স্মরণ তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন হতে দূরে সরিয়ে দিবে। সর্বোত্তম ইবাদাত হচ্ছে অজ্ঞতাকে ত্যাগ করা। আলেমের সম্পদের মূলধন হচ্ছে অহংকারকে ত্যাগ করা। জান্নাতের মূল্য হচ্ছে হিংসাকে ত্যাগ করা। গুনাহের ব্যাপারে দুঃখিত হওয়া হচ্ছে সত্যিকারের তওবা।





হাদীসটি বানোয়াট।





এটিকে দাইলামী (২/৮২/১) আবু আলী ইবনুল আশয়াস সূত্রে শুরাইহ ইবনু আব্দুল কারীম হতে, তিনি জা'ফার ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু জা'ফার ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আলী হুসাইনী আবুল ফাযল হতে (কিতাবুল আরূস), তিনি অলীদ ইবনু মুসলিম হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু রাশেদ হতে, তিনি মাকহূল হতে, তিনি মুয়ায ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





ইবনুল আশয়াসকে মুহাদ্দিসগণ মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। সুয়ুতীর `যাইলুল আহাদীসিল মাওযুয়াহ` গ্রন্থে (পৃঃ ১৯৪-১৯৫) এরূপই এসেছে।





আমি (আলবানী) বলছি তা সত্ত্বেও তিনি (সুয়ুতী) “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে হাদীসটিকে দাইলামীর বর্ণনা হতে মুয়ায ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন।





ইবনু আসয়াসের নাম হচ্ছে মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল আসয়াস। দারাকুতনী বলেনঃ তিনি আল্লাহর আয়াতসমূহের একটি আয়াত। তিনি সে কিতাবটি অর্থাৎ “আল’ওলাবিয়্যাত” গ্রন্থটি জাল করেছেন।





ইবনু আদী তার কতিপয় বানোয়াট হাদীস উল্লেখ করেছেন। মানবী হাদীসটির আরো দুটি সমস্যা বর্ণনা করেছেন এখানে সেগুলোর কোন মূল্য নেই। অতঃপর তিনি “আততাইসীর” গ্রন্থে শুধুমাত্র বলেছেনঃ এর সনদটি দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1933)


` الدنيا دار من لا دار له، (ومال من لا مال له) ، ولها يجمع من لا عقل له `.
ضعيف. رواه أحمد في ` المسند ` (6 / 71) من طريق دويد عن أبي إسحاق عن
عروة (وفي الأصل: زرعة) عن عائشة مرفوعا. وقال ابن قدامة في `
المنتخب ` (10 / 1 / 2) : ` هذا حديث منكر `. قلت: وأبو إسحاق الظاهر أنه
السبيعي، وهو مدلس مختلط. ودويد، وهو ابن نافع. قال الحافظ: ` مقبول `
. كذا قال، وفيه نظر، فقد روى عنه جمع، منهم الليث بن سعد، ووثقه الذهلي
وغيره، وقال ابن حبان: ` مستقيم الحديث `. وكذا قال الذهبي: وقد تابعه
أبو سليمان النصيبي عند ابن أبي الدنيا في ` ذم الدنيا ` (ق 29 / 2) ، فالعلة
السبيعي. ولذلك فإنه لم يصب من جود إسناده كالمنذري في ` الترغيب ` (4 / 104
) والعراقي في ` التخريج ` (3 / 202) وتبعهم المناوي والزرقاني، وقلدهم
الغماري كعادته في ` كنزه ` (1799) وكأنهم لم يقفوا على شهادة إمام السنة
بنكارته، كما تقدم. وقد أحسن صنعا الحافظ السخاوي في ` المقاصد ` في اقتصاره
على قوله (217 / 494) : ` ورجاله ثقات `، وسبقه إلى ذلك الهيثمي في ` مجمع
الزوائد ` (10 / 288) ، فلم يصححاه، خلافا لفهم الزرقاني في ` مختصر المقاصد
` (108 / 464) : ` صحيح `! ومثل هذا الفهم الكلمة: ` رجاله ثقات ` خطأ
شائع مع الأسف كما نبهنا عليه في غير ما موضع.
هذا، والحديث رواه أحمد في `
الزهد ` (ص 161) عن مالك بن مغول قال: قال عبد الله: فذكره موقوفا على عبد
الله، وهو ابن مسعود. ورجاله ثقات أيضا، ولكنه منقطع، مالك هذا تابع
تابعي، روى عن السبيعي ونحوه. والحديث عزاه السيوطي لأحمد والبيهقي في
` الشعب ` عن عائشة. والبيهقي فيه عن ابن مسعود موقوفا. فمن أخطاء المناوي
قوله عقبه في ` التيسير `: ` بأسانيد صحيحة `!
‌‌




১৯৩৩। দুনিয়া সেই ব্যক্তির ঘর যার কোন ঘর নেই। [আর সেই ব্যক্তির সম্পদ যার কোন সম্পদ নেই]। আর দুনিয়াকে সে ব্যক্তি জমা করে যার কোন বুদ্ধি নাই।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে আহমাদ `আলমুসনাদ` গ্রন্থে (৬/৭১) দুওয়াইদ সূত্রে আবু ইসহাক হতে, তিনি উরওয়াহ হতে (মূলে রয়েছেঃ যুর’য়াহ হতে), তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইবনু কুদামাহ “আলমুন্তাখাব” গ্রন্থে (১০/১/২) বলেনঃ এ হাদীসটি মুনকার।





আমি (আলবানী) বলছি বাহ্যিকভাবে আবু ইসহাক হচ্ছেন সাবী'ঈ, তিনি মুদাল্লিস এবং তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। আর দুরায়েদ হচ্ছেন ইবনু নাফে। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি মাকবুল। তিনি এরূপই বলেছেন। কিন্তু তার কথার মধ্যে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারণ তার থেকে একদল বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে লাইস ইবনু সা'দ রয়েছেন। তাকে যুহালী প্রমুখ নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন। আর ইবনু হিব্বান বলেছেনঃ তিনি মুস্তাকীমুল হাদীস। হাফিয যাহাবী এরূপই বলেছেন।





ইবনু আবিদ দুনিয়ার “যাম্মুদ দুনিয়া” গ্রন্থে (কাফ ২/২৯) আবূ সুলাইমান নাসীবী তার মুতাবা'য়াত করেছেন। অতএব হাদীসটির সমস্যা হচ্ছে সাবী'ঈ। এ কারণে যিনি এর সনদটি ভালো বলেছেন, তিনি সঠিক করেননি, যেমন মুনযেরী “আততারগীব” গ্রন্থে (৪/১০৪) আর ইরাকী “আততাখরীজ” গ্রন্থে (৩/২০২), আর মানবী ও যারকানী তাদের অনুসরণ করেছেন। আর গুমারী অভ্যাসগতভাবে তাদের অন্ধ অনুসরণ করেছেন তার `আলকানয` গ্রন্থে (১৭৯৯)। সুন্নাতের ইমাম যে হাদীসটিকে মুনকার আখ্যা দিয়েছেন সম্ভবত তারা তা অবগত হননি।





আর হাফিয সাখাবী “আলমাকাসিত” গ্রন্থে (২১৭/৪৯৪) সংক্ষেপে যা বলেছেন তাতে তিনি ভালই করেছেনঃ এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আর তার পূর্বে হাইসামীও “মাজমাউয যাওয়াইদ” গ্রন্থে (১০/২৮৮) এরূপই করেছেন। কিন্তু তারা দু’জনই সহীহ আখ্যা দেননি। আর যারকানী “মুখতাসারুল মাকাসিদ” গ্রন্থে (১০৮/৪৬৪) এর বিপরীত বুঝ বুঝে বলেছেনঃ এটি সহীহ।





কিন্তু এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এ কথা থেকে এরূপ (সহীহ) বুঝাটা যে ভুল, তা বিভিন্ন জায়গায় আমরা সতর্ক করেছি।





হাদীসটিকে ইমাম আহমাদ `আযযুহুদ` গ্রন্থে (পৃঃ ১৬১) মালেক ইবনু মিগঅল হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ ...। অর্থাৎ তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এর বর্ণনাকারীগণও নির্ভরযোগ্য। কিন্তু সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। কারণ এ মালেক হচ্ছেন তাবোতাবেঈ। তিনি সাবীঈ প্রমুখ হতে বর্ণনা করেছেন।





হাদিসটি সুয়ূতী আহমাদ ও বাইহাকীর `আশশুয়াব` গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। বাইহাকী আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর মানবী “আততাইসীর” গ্রন্থে হাদীসটির পরক্ষণেই এ কথা বলে ভুল করেছেন যে, সহীহ সনদে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1934)


` من كان موسرا لأن ينكح، فلم ينكح، فليس مني `.
ضعيف.
رواه ابن أبي شيبة في ` المصنف ` (7 / 1 / 2) والطبراني في
` الأوسط ` (1 / 162 / 1) والبيهقي في ` السنن ` (7 / 78) وفي ` شعب
الإيمان ` (2 / 134 / 2) والواحدي في ` الوسيط ` (3 / 114 / 2) عن ابن
جريج عن عمير بن مغلس عن أبي نجيح مرفوعا. قلت: وهذا سند ضعيف وفيه علل
: الأولى: الإرسال فإن أبا نجيح هذا تابعي ثقة واسمه يسار. الثانية: ضعف
عمير بن مغلس أورده العقيلي في ` الضعفاء ` (ص 317) وقال: ` روى عن حريز بن
عثمان عن عبد الرحمن بن جبير ولا يتابع عليه ولا يعرف إلا به `. ثم ساق له
حديثا يأتي بلفظ: ` لا ينقطع دولة ولد فلان … `. وقال الذهبي فيه: ` شامي
لا يعرف `، فقول الهيثمي (4 / 251 - 252) : ` رواه الطبراني في ` الأوسط `
و` الكبير ` وإسناده مرسل حسن كما قال ابن معين `. فهو غير حسن، كيف وفيه
علة أخرى وهي عنعنة ابن جريج؟ لكنه قد صرح
بالتحديث عند البيهقي، فانتفت
شبهة تدليسه. وانحصرت العلة فيما تقدم، وبالأولى أعله البيهقي فقال: ` هذا
مرسل `.
‌‌




১৯৩৪। যে ব্যক্তি বিয়ে করার ক্ষেত্রে সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে করল না, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু আবী শাইবাহ “আলমুসান্নাফ’ গ্রন্থে (৭/১/২), ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে (১/১৬২/১), বাইহাকী `আসসুনান” (৭/৭৮) ও “শুয়াবুল ঈমান” গ্রন্থে (২/১৩৪/২) ও অহেদী “আলঅসীত” গ্রন্থে (৩/১১৪/২) ইবনু জুরায়েজ হতে, তিনি উমায়ের ইবনু মুগাল্লিস হতে, তিনি আবু নাজীহ হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ কয়েকটি কারণে এ সনদটি দুর্বলঃ





১। সনদটি মুরসাল। কারণ আবু নাজীহ হচ্ছে নির্ভরযোগ্য তাবেঈ, তার নাম ইয়াসার।





২। উমায়ের ইবনু মুগাল্লিস দুর্বল। তাকে ওকাইলী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (পৃঃ ৩১৭) উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি হুরায়েয ইবনু উসমান হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু জুবায়ের হতে বর্ণনা করেছেন। তার মুতাবা'য়াত করা হয়নি এবং তাকে একমাত্র তার দ্বারাই চেনা যায়। অতঃপর তিনি তার একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন সেটি পরবর্তীতে আসবেঃ





لا ينقطع دولة ولد فلان





হাফিয যাহাবী তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি শামী, তাকে চেনা যায় না।





হাইসামী (৪/২৫১-২৫২) বলেছেনঃ এটিকে ত্ববারানী “আলআওসাত” ও “আলকাবীর” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সনদটি মুরসাল হাসান যেমনটি ইবনু মাঈন বলেছেন।





তার এ কথা হাসান নয়। কারণ এর সনদে অন্য একটি সমস্যা রয়েছে, তা হচ্ছে ইবনু জুরায়েজ কর্তৃক আন আন করে বর্ণনা করা। তবে তিনি বাইহাকীর নিকট স্পষ্ট করেছেন হাদীস শ্রবণ করাকে। ফলে এ সমস্যা থেকে হাদীসটি নিরাপদ। শুধুমাত্র বাকি থাকছে পূর্বে উল্লেখকৃত সমস্যা। বাইহাকী প্রথম সমস্যা উল্লেখ করেই হাদিসটির সমস্যা বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটি মুরসাল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1935)


` الختان سنة للرجال، مكرمة للنساء `.
ضعيف.
روي من حديث أسامة الهذلي والد أبي المليح وشداد بن أوس وعبد
الله بن عباس:
1 - أما حديث أسامة الهذلي، فيرويه عباد بن العوام عن الحجاج
عن أبي المليح بن أسامة عن أبيه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فذكره.

أخرجه أحمد (5 / 75) . وهذا إسناد رجاله ثقات، غير أن الحجاج وهو ابن
أرطاة مدلس وقد عنعنه، وقد اختلف عليه في إسناده فرواه عباد هكذا، وتابعه
حفص بن غياث عن الحجاج به. أخرجه البيهقي (8 / 325) من طريق إبراهيم بن
الحجاج عن حفص به. وقال البيهقي: ` الحجاج بن أرطاة لا يحتج به `.
وخالفهما محمد بن فضيل فرواه على وجه آخر، لكن خولف إبراهيم فيه عن حفص، وهو
الآتي:
2 - وأما حديث شداد فيرويه ابن فضيل عن الحجاج بن أرطاة عن أبي المليح
عنه به. أخرجه الطبراني في ` المعجم الكبير ` (7112) وابن عساكر في ` تاريخ
دمشق ` (7 / 263 / 2) وتابعه حفص بن غياث برواية عارم أبي النعمان: حدثنا
حفص بن غياث عن حجاج به. رواه الطبراني (7113) .
وخالفهم جميعا عبد الواحد
بن زياد، فقال: حدثنا الحجاج عن مكحول عن أبي أيوب مرفوعا به. أخرجه البيهقي
وقال: ` وهو منقطع `. وقال ابن أبي حاتم في ` العلل ` (2 / 247) بعد أن
ذكره من طريق حفص وعبد الواحد: ` قال أبي: الذي أتوهم أن حديث مكحول خطأ،
وقد رواه النعمان بن المنذر عن مكحول قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
الختان سنة … `. قلت: يعني أن الصواب مرسل. وبالجملة فالحديث من طريق
الحجاج ضعيف لعنعنته واضطرابه في إسناده، لكن قد يقويه مرسل مكحول، فإن
النعمان بن المنذر صدوق. 3 - وأما حديث ابن عباس، فيرويه الوليد بن الوليد:
أخبرنا ابن ثوبان عن محمد بن عجلان عن عكرمة عن ابن عباس عن النبي صلى الله
عليه وسلم فذكره. أخرجه الطبراني في ` المعجم الكبير ` (3 / 128 / 1) أو (11590) والبيهقي (8 / 324 - 325) وقال: ` هذا إسناد ضعيف، والمحفوظ
موقوف `. قلت: رجاله موثقون، غير الوليد بن الوليد، وهو العنسي القلانسي
الدمشقي، قال ابن أبي حاتم: (4 / 2 / 19) : ` سألت أبي عنه؟ فقال: هو
صدوق، ما بحديثه بأس، حديثه صحيح `. وقال الذهبي في ` الميزان `: ` قال
أبو حاتم: صدوق، وقال الدارقطني وغيره: متروك `. وقال الحافظ في
` اللسان `:
` قلت: هو الوليد بن موسى، وموسى أظنه جده، فهو رجل واحد
جعلهما الذهبي اثنين `. قلت: وقال الذهبي في ابن موسى: ` قال الدارقطني:
منكر الحديث. وقواه أبو حاتم. وقال غيره: متروك. ووهاه العقيلي وابن
حبان. له حديث موضوع `. قال الحافظ عقب كلام أبي حاتم المتقدم: ` وقال
الحاكم: روى عن عبد الرحمن بن ثابت بن ثوبان أحاديث موضوعة. وبين الكلامين
تباين عظيم `. قلت: ولم يترجح عندي الأقرب إلى الصواب منهما، ولذلك فلم
يستقر الرأي على الاستشهاد بحديثه، ولاسيما أنه روي موقوفا، فأخرجه الطبراني
في ` الكبير ` (12009) من طريق خلف بن عبد الحميد: أخبرنا عبد الغفور عن أبي
هاشم الرماني عن عكرمة عن ابن عباس أنه قال: فذكره موقوفا عليه. ولكنه إسناد
واه جدا، عبد الغفور هذا هو أبو الصباح الأنصاري، قال ابن حبان: ` كان ممن
يضع الحديث `. وقال البخاري: ` تركوه `. وخلف بن عبد الحميد. لم أعرفه
، وليس هو خلف بن عبد الحميد السرخسي الذي في ` الميزان `، فإن السرخسي أعلى
طبقة منه. وله طريق أخرى موقوفا أيضا خير من هذه، أخرجه الطبراني أيضا (12828) والبيهقي (8 / 325) عن سعيد بن بشير عن قتادة عن جابر بن زيد عن ابن
عباس به. ورجاله ثقات غير سعيد بن بشير، وهو ضعيف كما في ` التقريب `.
وجملة القول: أن الحديث ضعيف مرفوعا وموقوفا، والموقوف أصح، وهو معنى قول
البيهقي المتقدم:
` والمحفوظ موقوف `. (تنبيه) نقل صاحبنا الشيخ حمدي عبد
المجيد السلفي - بارك الله في جهو ده في خدمته لكتب السنة - عن الحافظ ابن
الملقن في ` البدر المنير ` حول هذا الحديث وطرقه منها، حديث ابن عباس هذا
الثالث المرفوع من طريق الوليد بن الوليد، عزاه للطبراني والبيهقي، لكن وقع
فيما نقله عنه: الوليد بن مسلم. فلا أدري أهكذا رآه صاحبنا في ` البدر `، أم
هو أخطأ عليه؟ فليس لابن مسلم ذكر في هذا الحديث، ومن العجيب أنه عزاه إلى
نسخة الطبراني المخطوطة المحفوظة في المكتبة الظاهرية بمجلدتها وورقتها
ووجهها كما تقدم مني، ولم يعزه إلى المطبوعة التي حققها هو! وكذلك ذكر
المجلد والصفحة المتقدمة لسنن البيهقي، ومع ذلك وقع هذا الخطأ منه.
والمعصوم من عصمه الله تعالى. ومما سبق تعلم أن ما في ` المرقاة ` (4 / 456)
: ` رواه أحمد بسند حسن ` غير حسن.
‌‌




১৯৩৫। খাতনা হচ্ছে পুরুষদের জন্য সুন্নাত, মহিলাদের জন্য মর্যাদার।





হাদিসটি দুর্বল।





এটিকে আবুল মালীহের পিতা উসামাহ হুযালী, শাদাদ ইবনু আউস, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস হতে বর্ণনা করা হয়েছে।





১। উসমাহ ইবনু হুযালী হতে বর্ণিত হাদীসঃ আব্বাদ ইবনুল আওয়াম এটিকে হাজ্জাজ হতে, তিনি আবুল মালীহ ইবনু উসামাহ হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।





এটিকে আহমাদ (৫/৭৫) বর্ণনা করেছেন।





এ সনদটির বর্ণনাকারীগণ হাজ্জাজ ছাড়া সকলেই নির্ভরযোগ্য। তিনি হচ্ছেন ইবনু আরত্বাত, তিনি মুদাল্লিস বর্ণনাকারী আর তিনি আন আন করে বর্ণনা করেছেন। তার সনদে মতভেদও করা হয়েছে। তার থেকে আব্বাদ এভাবে বর্ণনা করেছেন, আর হাফস ইবনু গিয়াস তার মুতাবা'য়াত করে হাজ্জাজ হতে বর্ণনা করেছেন।






এ মুতাবা'য়াতটিকে বাইহাকী (৮/৩২৫) ইবরাহীম ইবনু হাজ্জাজ সূত্রে হাফস হতে বর্ণনা করে বলেছেনঃ হাজ্জাজ ইবনু আরত্বাতের দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। তাদের দু’জনেরই বিরোধিতা করে মুহাম্মাদ ইবনু ফুযায়েল অন্যভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে হাফস হতে ইবরাহীমের বিরোধিতা করা হয়েছে। দেখুন সম্মুখে আগত সনদে।





২। শাদ্দাদের হাদীস। এটিকে ইবনু ফুযায়েল বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবনু আরত্বাত হতে, তিনি আবুল মালীহ হতে, তিনি ...।





এটিকে ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৭১১২) ও ইবনু আসাকির “তারীখু দেমাশক” গ্রন্থে (৭/২৬৩/২) বর্ণনা করেছেন। আর আরেম আবুন নু'মানের বর্ণনায় হাফস ইবনু গিয়াস তার মুতাবায়াত করেছেনঃ অর্থাৎ আরেম হতে, তিনি হাফস ইবনু গিয়াস হতে, তিনি হাজ্জাজ হতে ... তিনি শাদ্দাদ হতে বর্ণনা করেছেন। এটিকে ত্ববারানী (৭১১৩) বর্ণনা করেছেন।





আর আব্দুল ওয়াহীদ ইবনু যিয়াদ তাদের সবার বিরোধিতা করে হাজ্জাজ হতে, তিনি মাকহূল হতে, তিনি আবূ আইউব হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে বাইহাকী বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটি মুনকাতি (এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে)।





ইবনু আবী হাতেম “আলইলাল” গ্রন্থে (২/২৪৭) হাদীসটিকে হাফস এবং আব্দুল অহেদের সূত্রে উল্লেখ করার পর বলেনঃ আমার পিতা বলেনঃ আমি ধারণা করছি যে, মাকহুলের হাদীসটি ভুল। এটিকে নুমান ইবনুল মুনযির মাকহুল হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ সঠিক হচ্ছে মুরসাল হওয়া। মোটকথা হাদীসটি হাজ্জাজের সূত্রে দুর্বল, তার আন আন করে বর্ণনা করার এবং তার সনদে ইযতিরাব হওয়ার কারণে। তবে কখনও কখনও তাকে মাকহুলের মুরসাল বর্ণনা শক্তিশালী করতে পারে। কারণ নুমান ইবনুল মুনযির সত্যবাদী।





৩। ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীস। অলীদ ইবনুল আলীদ এটিকে ইবনু সাওবান হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আজলান হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন ...।





এটিকে ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/১২৮/১) (১১৫৯০) ও বাইহাকী (৮/৩২৪-৩২৫) বর্ণনা করে বলেছেনঃ এ সনদটি দুর্বল। নিরাপদ হচ্ছে এই যে, এটি মওকুফ।





আমি (আলবানী) বলছি অলীদ ইবনু অলীদ ছাড়া এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তিনি হচ্ছেন আনাসী কালানেসী দেমাশকী। ইবনু আবী হাতেম (৪/২/১৯) বলেনঃ আমি আমার পিতাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেনঃ তিনি সত্যবাদী, তার হাদীসে সমস্যা নেই। তার হাদীস সহীহ।





আর যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে বলেনঃ আবূ হাতেম বলেনঃ তিনি সত্যবাদী। আর দারাকুতনী প্রমুখ বলেনঃ তিনি মাতরূক। হাফিয ইবনু হাজার “আললিসান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি হচ্ছেন অলীদ ইবনু মূসা। আমার ধারণা মূসা হচ্ছেন তার দাদা। তিনি একই ব্যক্তি, হাফিয যাহাবী তাকে দু’জন করে ফেলেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাফিয যাহাবী- ইবনু মূসা সম্পর্কে বলেনঃ দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। তাকে আবূ হাতিম শক্তিশালী আখ্যা দিয়েছেন। আর অন্যরা বলেছেনঃ তিনি মাতরূক। আর ওকাইলী ও ইবনু হিব্বান তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। তার বানোয়াট হাদীস রয়েছে।





হাফিয ইবনু হাজার আবু হাতিমের পূর্বোক্ত কথার পরক্ষণেই বলেনঃ হাকিম বলেনঃ তিনি আব্দুর রহমান ইবনু সাবেত ইবনু সাওবান হতে কতিপয় বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাদের দু'জনের কথার মধ্যে বড় ধরনের বৈপরিত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আমার নিকট তাদের দু'জনের কার কথা সঠিকের নিকটবর্তী তা স্পষ্ট হচ্ছে না। এ কারণে তার হাদীস দ্বারা শাহেদ গ্রহণ করাটা সম্ভব হচ্ছে না। আর এটিকে মওকুফ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। এ মওকূফটিকে ত্ববারানী `আলকাবীর` গ্রন্থে (১২০০৯) খালাফ ইবনু আব্দুল হামীদ সূত্রে আব্দুল গাফূর হতে, তিনি আবূ হাশেম রুমানী হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ...।





কিন্তু এ সনদটি খুবই দুর্বল। কারণ আব্দুল গফুর হচ্ছেন আবুস সবাহ আনসারী। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি হাদীস জালকারীদের একজন ছিলেন। ইমাম বুখারী বলেনঃ তাকে তারা (মুহাদ্দিসগণ) ত্যাগ করেছেন।





আর খালাফ ইবনু আব্দুল হামীদকে আমি চিনি না। তিনি সেই খালাফ ইবনু আব্দুল হামীদ সারাখসী নন যাকে “আলমীযান” গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ এ সারাখসী তার চেয়ে উপর স্তরের।





এ মওকুফটির আরেকটি সূত্র রয়েছে যেটির অবস্থা এটির চেয়ে ভালো। এটিকেও ত্ববারানী (১২৮২৮) ও বাইহাকী (৮/৩২৫) সাঈদ ইবনু বাশীর ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ননা করেছেন। সাঈদ ইবনু বাশীর ছাড়া এর সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তিনি দুর্বল, যেমনটি হাফিয ইবনু হাজারের “আততাকরীব” গ্রন্থে এসেছে।





মোটকথাঃ হাদীসটি মারফু এবং মওকুফ উভয়ভাবেই দুর্বল। তবে মওকুফ হিসেবে বেশী ভালো। এই হচ্ছে বাইহাকীর পূর্বোক্ত কথার ভাবার্থঃ মওকুফ হিসেবে নিরাপদ।





পূর্বোক্ত ব্যাখ্যা থেকে জানা যাচ্ছে যে, “আলমিরকাত” গ্রন্থে (৪/৪৫৬) যে বলা হয়েছে, এটিকে ইমাম আহমাদ হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। তার এ কথা ভালো (হাসান) নয়।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1936)


` سيأتي على الناس زمان لا يبقي من القرآن إلا رسمه، ولا من الإسلام إلا اسمه، يقسمون به وهم أبعد الناس منه، مساجدهم عامرة، خراب من الهدى، فقهاء ذلك الزمان شر فقهاء تحت ظل السماء، منهم خرجت الفتنة، وإليهم تعود `.
ضعيف جدا.

أخرجه الديلمي في ` مسنده ` (107 / 1) من طريق الحاكم بسنده
عن خالد بن يزيد الأنصاري عن ابن أبي ذئب عن نافع عن ابن عمر مرفوعا. قلت
: خالد هذا الظاهر أنه العمري المكي، فإنه يروي عن ابن أبي ذئب، كذبه أبو
حاتم ويحيى، وقال ابن حبان (1 / 258) : ` يروي الموضوعات عن الأثبات `.
ثم رواه الديلمي من طريق إسماعيل بن أبي زياد عن ثور عن خالد بن معدان عن معاذ نحوه.
قلت: وهذا - كالذي قبله - موضوع، آفته إسماعيل هذا، وهو السكوني
القاضي، قال ابن حبان (1 / 129) : ` شيخ دجال، لا يحل ذكره في الحديث إلا
على سبيل القدح فيه `. وقد وجدت له طريقا ثالثا، فقال ابن أبي الدنيا في
كتاب ` العقوبات `: أخبرنا سعيد بن زنبور قال: أخبرنا يزيد بن هارون عن عبد
الله بن دكين عن جعفر بن محمد عن أبيه عن جده قال: قال علي بن أبي طالب رضي
الله عنه، فذكره مرفوعا. قلت: وهذا إسناد واه، عبد الله بن دكين مختلف فيه
، وفي ترجمته ساق الحديث الذهبي مشيرا إلى نكارته. وهذا هو الوجه عندي إن
كان قد صح رواية يزيد له عنه، فإن سعيد بن زنبور لم أجد من ترجمه. وقد خالفه
محمد بن مسلمة فقال: حدثنا يزيد بن هارون به لكنه أوقفه على علي رضي الله عنه
. أخرجه الدينوري في ` المنتقى من المجالسة ` (19 - 20 مخطوط حلب) : حدثنا
يزيد بن هارون.. ومحمد بن مسلمة هو الواسطي صاحب يزيد بن هارون، مختلف فيه،
والأكثرون على تضعيفه، بل قال أبو محمد الخلال. ` ضعيف جدا `. وقال الذهبي
: ` أتي بخبر باطل اتهم به `. لكن الدينوري نفسه متهم، فراجع ترجمته في `
الميزان `. وجملة القول أن هذا الحديث بهذه الطرق الثلاث، يظل على وهائه
لشدة ضعفها، وإن كان معناه يكاد المسلم أن يلمسه، بعضه أوجله في واقع
العالم الإسلامي، والله المستعان.
‌‌




১৯৩৬। মানুষের কাছে এমন একটি সময় আসবে যখন কুরআনে তার রেখা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। ইসলামের নাম ছাড়া কিছুই থাকবে না। ইসলামের দ্বারা তারা শপথ করবে অথচ তার থেকে লোকেরা বহু দূরে থাকবে। তাদের মাসজিদগুলো আবাদ করা হবে, তবে হেদায়েতের পথ থেকে লক্ষ্যচ্যুৎ হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। সে যুগের ফাকীহগন আসমানের ছায়াতলে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ফকীহ্ হবে। তাদের থেকেই ফেতনাহ্ বের হবে এবং তাদের নিকটেই ফিরে যাবে।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে দাইলামী তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (১/১০৭) হাকিমের সূত্র হতে তার সনদে খালেদ ইবনু ইয়াযীদ আনসারী হতে, তিনি ইবনু আবী যিইব হতে, তিনি নাফে' হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ বাহ্যিকভাবে যা বুঝা যায় তা হচ্ছে এই যে, এ খালেদ হচ্ছেন উমারী মাক্কী। কারণ তিনি ইবনু আবী যিইব হতে বর্ণনা করেন। আর তাকে আবু হাতেম এবং ইয়াহইয়া মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু হিব্বান (১/২৫৮) বলেন তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে বানোয়াট হাদীস বর্ণনাকারী।





অতঃপর দাইলামী ইসমাঈল ইবনু আবী যিয়াদ সূত্রে সাওর হতে, তিনি খালেদ ইবনু মি’দান হতে, তিনি মুয়ায (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে তার মতই বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি তার পূর্বেরটির ন্যায় বানোয়াট। এর সমস্যা হচ্ছে এ ইসমাঈল। তিনি হচ্ছেন সাকূনী কাযী। ইবনু হিব্বান (১/১২৯) বলেনঃ তিনি দাজ্জাল (মহা মিথ্যুক) শাইখ। তার সমালোচনা করার উদ্দেশ্য ছাড়া তাকে হাদীসের মধ্যে উল্লেখ করাই বৈধ না।





হাদীসটির তৃতীয় একটি সূত্র পেয়েছি। ইবনু আবিদ দুনিয়া “কিতাবুল ‘ওকূবাত” গ্রন্থে সাঈদ ইবনু যাম্বূর হতে, তিনি ইয়াযীদ ইবনু হারূন হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু দুকায়েন হতে, তিনি জা’ফার ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আলী ইবনু আবী তালেব বলেনঃ .. তিনি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। কারণ আব্দুল্লাহ ইবনু দুকায়েনের ব্যাপারে মতভেদ করা হয়েছে। তার জীবনীতেই এ হাদীসটিকে হাফিয যাহাবী উল্লেখ করে মুনকার হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এ ছাড়া সাঈদ ইবনু যাম্বূরের জীবনী কে আলোচনা করেছেন পাচ্ছি না।





মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ তার বিরোধিতা করে ইয়াযীদ ইবনু হারূন হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে দীনূরী `আলমুনতাকা মিনাল মুজালাসাল্লাহ্` গ্রন্থে (১৯-২০) ইয়াযীদ ইবনু হারূন হতে বর্ণনা করেছেন।





আর মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ হচ্ছেন অসেতী- ইয়াযীদ ইবনু হারূনের সাথী। তার ব্যাপারে মতভেদ করা হয়েছে। অধিকাংশরাই তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। বরং আবু মুহাম্মাদ আল-খাল্লাল বলেছেনঃ তিনি খুবই দুর্বল।





আর হাফিয যাহাবী বলেছেনঃ তিনি এমন বাতিল হাদীস নিয়ে এসেছেন যার দ্বারা তাকে মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী করা হয়েছে।





দীনূরী নিজেই মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী। `আলমীযান` গ্রন্থে তার জীবনী দেখুন।





মোটকথাঃ হাদীসটি তিনটি সূত্রেই খুবই দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1937)


` من أعان ظالما سلطه الله عليه `.
موضوع.
رواه أبو حفص الكتاني في ` جزء من حديثه ` (141 - 142) : حدثنا
أبو سعيد (هو الحسن بن علي العدوي) : أخبرنا سعيد بن عبد الجبار الكرابيسي
أبو عثمان: أخبرنا حماد ابن سلمة عن عاصم عن زر عن عبد الله مرفوعا. قلت
: وهذا إسناد موضوع، رجاله كلهم ثقات غير العدوي هذا وهو كذاب، فهو آفته،
قال ابن عدي: ` يضع الحديث، وعامة ما حدث به - إلا القليل - موضوعات، وكنا
نتهمه بل نتيقن أنه هو الذي وضعها `. والحديث سود به السيوطي ` جامعه الصغير
`! وقد عزاه لابن عساكر وحده، وقد تعقبه المناوي بأن فيه العدوي المذكور،
قال: ` قال السخاوي: هو متهم بالوضع فهو آفته `. وقصر الحافظ ابن كثير
فأورده في ` التفسير ` (2 / 176) من طريق سعيد بن عبد الجبار الكرابيسي..
إلخ، وكان الأولى به، بل الواجب عليه أن يقول: من طريق الحسن بن علي العدوي
.. إلخ، حتى يتبين للباحث حقيقة إسناده، وأن لا يحذف منه ما يدل على وضعه،
ولا يشفع له ما صنع قوله عقب الحديث: ` وهذا حديث غريب `. فإنه لا يكشف به
عن وضعه لدى عامة القراء، بل وبعض الخاصة أيضا، ولذلك اغتر به مختصره
الصابوني فأورد كلام ابن كثير هذا في حاشية كتابه (1 / 619) ولم يزد! ولا
حقق في سنده، وأنى له ذلك! وكل أحاديث مختصره هكذا: ينقل كلام ابن كثير من
` تفسيره ` فيجعله هو في حاشية ` مختصره ` موهما القراء أنه من تخريجه! فالله
المستعان.
‌‌




১৯৩৭। যে অত্যাচারীকে সহযোগিতা করবে আল্লাহ্ তা'য়ালা তাকেই তার বিপক্ষে নিয়োজিত করবেন।





হাদীসটি বানোয়াট।





এটিকে আবু হাফস কাত্তানী `জুযউন মিন হাদীসহি` গ্রন্থে (১৪১-১৪২) আবু সাঈদ (তিনি হচ্ছেন হাসান ইবনু আলী আদাবী) হতে, তিনি সাঈদ ইবনু আব্দুল জাব্বার কারাবীসী আবূ উসমান হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনু সালামাহ হতে, তিনি আসেম হতে, তিনি যির হতে, তিনি আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি বানোয়াট। আদাবী ছাড়া সকল বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। এ আদাবী বড়ই মিথ্যুক। তিনিই হাদীসটির সমস্যা। ইবনু আদী বলেনঃ তিনি হাদীস জালকারী। তার অধিকাংশ হাদীস (সামান্য কিছু বাদে) বানোয়াট। আমরা তাকে দোষী করতাম অতঃপর একীনের সাথে জেনে যেতাম যে, তিনিই সেগুলো জাল করেছেন।





সুয়ূতী হাদীসটিকে “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করে গ্রন্থটিকে কালিমালিপ্ত করেছেন। তিনি শুধুমাত্র ইবনু আসাকিরের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আর মানবী আদাবীর বিষয়টি উল্লেখ করে তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ সাখাবী বলেনঃ তিনি জাল করার দোষে দোষী। তিনিই হাদীসটির সমস্যা।





হাফিয ইবনু কাসীর স্বীয় “তাফসীর” গ্রন্থে (২/১৭৬) শুধুমাত্র হাদীসটি গারীব বলে কম বলেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1938)


` أكثر القبائل في الجنة مذحج `.
ضعيف.
رواه ابن وهب في ` الجامع ` (ص 1) عن عتبة بن أبي حكيم الهمداني
عن ابن شهاب رفعه. وهذا سند مرسل ضعيف، فإن عتبة هذا ضعيف، وابن شهاب
تابعي صغير، أكثر روايته عن كبار التابعين كابن المسيب وغيره، ويروي أحيانا
عن صغار الصحابة كأنس ونحوه، فهو مرسل أومعضل.
‌‌




১৯৩৮। জান্নাতের অধিকাংশ গোত্রগুলো হবে মাযহাজ।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু ওয়াহাব `আলজামে` গ্রন্থে (পৃঃ ১) উতবাহ ইবনু আবূ হাকীম হামদানী হতে, তিনি ইবনু শিহাব হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এ সনদটি মুরসাল দুর্বল। কারণ উতবাহ হচ্ছেন দুর্বল। আর ইবনু শিহাব ছোট তাবেঈ। তার অধিকাংশ বর্ণনা বড় তাবেঈগণ থেকে যেমন ইবনুল মুসাইয়্যাব প্রমুখ। তিনি কখনও কখনও ছোট সাহাবী হতেও বর্ণনা করেন। যেমন আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও তার মত যারা। হাদীসটির সনদ মুরসাল অথবা মুযাল (পাশাপাশি দু'জন বর্ণনাকারী না থাকাকে মুযাল বলা হয়)।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1939)


` لا تلعنوا تبعا فإنه قد كان أسلم `.
ضعيف.
رواه ابن وهب في ` الجامع ` (ص 1) : حدثني ابن لهيعة أن عمرو بن
جابر الحضرمي حدثه أنه سمع سهل بن سعد الساعدي صاحب رسول الله صلى الله
عليه وسلم يقول: فذكره. قلت: وهذا سند ضعيف من أجل الحضرمي فإنه شيعي ضعيف
. وقد أخرجه أحمد في ` مسنده ` (5 / 340) من طريق أخرى عن ابن لهيعة به،
ولفظه: ` لا تسبوا … `. قلت: وهو بهذا اللفظ ثابت، لأن له شواهد، ذكرته
من أجلها في ` الصحيحة ` برقم (2427) .
‌‌




১৯৩৯। তোমরা তুব্বা'কে (এক ব্যক্তির নাম) অভিশাপ দিও না। কারণ সে ইসলাম গ্রহণ করেছিল।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু ওয়াহাব “আলজামে” গ্রন্থে (পৃঃ ১) ইবনু লাহী'য়াহ হতে বর্ণনা করেছেন যে, আমর ইবনু জাবের হাযরামী তাকে হাদীসটি বর্ণনা করে শুনিয়েছেন যে, তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথী সাহল ইবনু সা'দ সায়েদী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি হাযরামীর কারণে দুর্বল। কারণ তিনি শী'য়াহ এবং দুর্বল।





হাদীসটিকে ইমাম আহমাদ তার “মুসনাদ’ গ্রন্থে (৫/৩৪০) অন্য সূত্রে ইবনু লাহীয়াহ হতে নিম্নের বাক্যে বর্ণনা করেছেনঃ





“ ... তোমরা গালি দিও না... ।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ বাক্যে হাদীসটি সাব্যস্ত হয়েছে। কারণ এর কতিপয় শাহেদ রয়েছে। এ কারণে এটিকে “সিলসিলাহ সহীহাহ” গ্রন্থে (২৪২৭) উল্লেখ করেছি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1940)


` من تبرأ من ولده أتا يوم القيامة معقودا بين طرفيه `.
ضعيف.
رواه ابن وهب في ` الجامع ` (2) بسند صحيح عن ابن شهاب مرفوعا
. قلت: وهذا سند ضعيف لإرساله أوإعضاله. وهو مما خلت منه ` الجوامع `:
` الجامع الكبير `، و` الجامع الصغير `، و` الزيادة عليه `، والجامع
الأزهر `! وكذلك الأحاديث الثلاثة التالية.
‌‌




১৯৪০। যে ব্যক্তি তার সন্তান থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিবে কিয়ামতের দিন সে তার দু'পার্শ্ব বাধা অবস্থায় আগমন করবে।





হাদিসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু ওয়াহাব “আলজামে” গ্রন্থে (পৃঃ ২) সহীহ সনদে ইবনু শিহাব হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটির সনদ মুরসাল অথবা মুযাল হওয়ার কারণে দুর্বল।