আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأَ : تَبَارَكَ وَ ( الم تَنْزِيلُ ) السَّجْدَةِ .
১২২১। জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা মুলক ও সূরা আলিফ-লাম-মীম সাজদা না পড়া পর্যন্ত ঘুমাতেন না। (তিরমিযী, হাকিম)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِذَا أَوَى أَحَدُكُمْ إِلَى فِرَاشِهِ، فَلْيَحِلَّ دَاخِلَةَ إِزَارِهِ، فَلْيَنْفُضْ بِهَا فِرَاشَهُ، فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي مَا خَلَّفَ فِي فِرَاشِهِ، وَلْيَضْطَجِعْ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ، وَلْيَقُلْ : بِاسْمِكَ وَضَعْتُ جَنْبِي، فَإِنِ احْتَبَسَتْ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ الصَّالِحِينَ، أَوْ قَالَ : عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ .
১২২২। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ ঘুমাতে বিছানায় আশ্রয় নিলে সে যেন তার ভেতরের পরিধেয় বস্ত্র খুলে তা দ্বারা বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কেননা সে জানে না যে, তার অনুপস্থিতিতে তার বিছানায় কি পতিত হয়েছে। অতঃপর সে ডান কাতে শুয়ে যেন বলে, ”তোমার নামে আমার পার্শ্বদেশ (বিছানায়) রাখলাম। তুমি আমার আত্মা আটক করে রেখে দিলে তার প্রতি দয়া করো, আর তাকে ছেড়ে দিলে তাকে হেফাজত করো, যেভাবে তুমি হেফাজত করে থাকো তোমার সৎকর্মপরায়ণ লোকদের”। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমাদ, আবু আওয়ানানা, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ، أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ خَازِمٍ أَبُو بَكْرٍ النَّخَعِيُّ، قَالَ : أَخْبَرَنَا الْعَلاَءُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ نَامَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ، ثُمَّ قَالَ : اللَّهُمَّ وَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَأَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَهْبَةً وَرَغْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَنْجَا وَلاَ مَلْجَأَ مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ، قَالَ : فَمَنْ قَالَهُنَّ فِي لَيْلَةٍ ثُمَّ مَاتَ مَاتَ عَلَى الْفِطْرَةِ .
১২২৩। বারাআ ইবনে আযেব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানাগত হয়ে ডান কাতে শুয়ে যেতেন, অতঃপর বলতেনঃ ”হে আল্লাহ! আমার মুখ তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আমাকে তোমার নিকট সোপর্দ করলাম এবং তোমার রহমতের আশা ও তোমার শাস্তির ভয় সহকারে আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে সোপর্দ করলাম। তোমার থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেয়ার এবং নাজাত পাওয়ার তুমি ছাড়া আর কোন ঠিকানা নাই। তুমি যে কিতাব নাযিল করেছে এবং যে নবী পাঠিয়েছো আমি তার উপর ঈমান এনেছি”। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি রাতে এই দোয়া পড়লে, অতঃপর মারা গেলে সে দীন ইসলামের উপর মারা গেলো। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ : اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ، وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، مُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ كُلِّ ذِي شَرٍّ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ، وَأَغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ .
১২২৪। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয্যাগত হয়ে বলতেনঃ ”হে আল্লাহ! আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রভু, প্রতিটি জিনিসের প্রভু, বীজ ও অংকুরের প্রভু, তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি প্রতিটি ক্ষতিকর বস্তুর ক্ষতি থেকে, আপনিই এগুলোর নিয়ন্ত্রক। আপনিই আদি, আপনার আগে কিছুর অস্তিত্ব নাই। আপনিই অন্ত, আপনার পরে কিছু নাই। আপনি প্রকাশমান, আপনার উর্দ্ধে কিছু নাই। আপনি লুকায়িত, আপনার অগোচরে কিছু নাই। আপনি আমার পক্ষ থেকে আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিন এবং আমাকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিন”। (মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে আবু শায়বাহ, আবু আওয়ানা, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ الْمُسَيَّبِ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ نَامَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ، ثُمَّ قَالَ : اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ بِوَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَنْجَا وَلاَ مَلْجَأَ مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنْ قَالَهُنَّ ثُمَّ مَاتَ تَحْتَ لَيْلَتِهِ مَاتَ عَلَى الْفِطْرَةِ .
১২২৫। বারাআ ইবনে আযেব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানাগত হয়ে ডান কাতে শুয়ে নিম্নোক্ত দোয়া পড়তেনঃ ”হে আল্লাহ! আমি নিজেকে তোমার নিকট সোপর্দ করলাম, আমার মুখমণ্ডল তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আমার সকল বিষয় তোমার উপর সোপর্দ করলাম এবং তোমার রহমতের আশা ও তোমার শাস্তির ভয় সহকারে আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে সোপর্দ করলাম। তোমার থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেয়ার এবং নাজাত পাওয়ার তুমি ভিন্ন আর কোন ঠিকানা নাই। তুমি যে কিতাব নাযিল করেছে এবং যে রাসূল পাঠিয়েছে, আমি তার উপর ঈমান আনলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি এই দোয়া পড়লো, অতঃপর সেই রাতে মারা গেলো, সে দীন ইসলামের উপর মারা গেলো। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ : إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ أَوْ أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ ابْتَدَرَهُ مَلَكٌ وَشَيْطَانٌ، فَقَالَ الْمَلَكُ : اخْتِمْ بِخَيْرٍ، وَقَالَ الشَّيْطَانُ : اخْتِمْ بِشَرٍّ، فَإِنْ حَمِدَ اللَّهَ وَذَكَرَهُ أَطْرَدَهُ، وَبَاتَ يَكْلَؤُهُ، فَإِذَا اسْتَيْقَظَ ابْتَدَرَهُ مَلَكٌ وَشَيْطَانٌ فَقَالاَ مِثْلَهُ، فَإِنْ ذَكَرَ اللَّهَ وَقَالَ : الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَدَّ إِلَيَّ نَفْسِي بَعْدَ مَوْتِهَا وَلَمْ يُمِتْهَا فِي مَنَامِهَا، الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي ( يُمْسِكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ أَنْ تَزُولاَ، وَلَئِنْ زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِنْ بَعْدِهِ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا ) ، الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي ( يُمْسِكُ السَّمَاءَ أَنْ تَقَعَ عَلَى الأَرْضِ إِلاَّ بِإِذْنِهِ ) إِلَى ( لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ ) ، فَإِنْ مَاتَ مَاتَ شَهِيدًا، وَإِنْ قَامَ فَصَلَّى صَلَّى فِي فَضَائِلَ .
১২২৬। জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, কোন ব্যক্তি যখন তার ঘরে প্রবেশ করে অথবা তার বিছানায় আশ্রয় নেয় তখন একজন ফেরেশতা ও একটি শয়তান তার দিকে ধাবিত হয়। ফেরেশতা বলেন, কল্যাণের সাথে (তোমার দিনটি) শেষ করো, আর শয়তান বলে, অনিষ্ট সহকারে শেষ করো। অতএব সে যদি আল্লাহর প্রশংসা করে, তার যিকির করে তাহলে সে শয়তানকে বিতাড়িত করলো এবং রাতটি (আল্লাহর) হেফাজতে কাটালো। অনুরূপভাবে সে ঘুম থেকে জাগ্রত হলে একজন ফেরেশতা ও একটি শয়তান তার দিকে ধাবিত হয় এবং তারা পূর্বানুরূপ কথা বলে। সে যদি আল্লাহকে স্মরণ করে এবং বলে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমার মৃত্যুর পর আমার জীবনটা আমার নিকট ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং ঘুমের মধ্যে মৃত্যুদান করেননি।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, ”যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে স্থানচ্যুত হওয়া থেকে রুখে রেখেছেন। যদি এই দুটি স্থানচ্যুত হয় তবে তিনি ছাড়া কেউই এদের প্রতিরোধ করে রাখতে পারবে না। নিশ্চয় তিনি পরম সহিষ্ণু, পরম ক্ষমাশীল” (সূরা ফাতিরঃ ৪১)। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, ”যিনি আসমানকে প্রতিরোধ করে রেখেছেন যাতে তা তার অনুমতি ব্যতীত পৃথিবীর উপর পতিত হতে না পারে। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অতীব মমতাশীল, পরম দয়াময়” (সূরা হজ্জঃ ৬৫)। সে মারা গেলে শহিদী মৃত্যুবরণ করলো, অন্যথা উঠে নামায পড়লে মর্যাদাপূর্ণ নামায পড়লো। (নাসাঈ, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ وَضَعَ يَدَهُ تَحْتَ خَدِّهِ الأَيْمَنِ، وَيَقُولُ : اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ .
১২২৭। বারাআ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর ইচ্ছা করলে তিনি তাঁর হাত তাঁর ডান গালের নিচে রেখে বলতেনঃ ”হে আল্লাহ! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের পুনরুত্থান করবে সেদিন তোমার শাস্তি থেকে আমাকে রক্ষা করো”। (তিরমিযী হাঃ ৩৩৩৫, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ হাঃ ৩৮৭৭)
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : خَلَّتَانِ لاَ يُحْصِيهِمَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ إِلاَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَهُمَا يَسِيرٌ، وَمَنْ يَعْمَلُ بِهِمَا قَلِيلٌ، قِيلَ : وَمَا هُمَا يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ : يُكَبِّرُ أَحَدُكُمْ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ عَشْرًا، وَيَحْمَدُ عَشْرًا، وَيُسَبِّحُ عَشْرًا، فَذَلِكَ خَمْسُونَ وَمِئَةٌ عَلَى اللِّسَانِ، وَأَلْفٌ وَخَمْسُمِئَةٍ فِي الْمِيزَانِ، فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَعُدُّهُنَّ بِيَدِهِ . وَإِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ سَبَّحَهُ وَحَمِدَهُ وَكَبَّرَهُ، فَتِلْكَ مِئَةٌ عَلَى اللِّسَانِ، وَأَلْفٌ فِي الْمِيزَانِ، فَأَيُّكُمْ يَعْمَلُ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ أَلْفَيْنِ وَخَمْسَمِئَةِ سَيِّئَةٍ ؟ قِيلَ : يَا رَسُولَ اللهِ، كَيْفَ لاَ يُحْصِيهِمَا ؟ قَالَ : يَأْتِي أَحَدَكُمُ الشَّيْطَانُ فِي صَلاَتِهِ، فَيُذَكِّرُهُ حَاجَةَ كَذَا وَكَذَا، فَلا يَذْكُرُهُ .
১২২৮। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তি দুইটি অভ্যাসে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতে পারলে সে নিশ্চয় জান্নাতে প্রবেশ করবে। অভ্যাস দুটি আয়ত্ত করা খুবই সহজ। তবে খুব কম লোকই তদনুযায়ী আমল করে থাকে। বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই দুটি অভ্যাস কি কি? তিনি বলেনঃ প্রতি নামাযের পূর্বে তোমাদের কেউ দশবার আল্লাহু আকবার, দশবার আলহামদু লিল্লাহ এবং দশবার সুবহানাল্লাহ বলবে। তাতে (পাঁচ ওয়াক্তে) মৌখিক উচ্চারণে এক শত পঞ্চাশবার এবং মীযানে দেড় হাজার বার হবে। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (নামাযের পর) তার হাতে সেগুলো গুণে গুণে পড়তে দেখেছি। আবার সে শয্যা গ্রহণকালে সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার পড়লে তা মৌখিক উচ্চারণে এক শতবার এবং মীযানে এক হাজারবার হবে। তোমাদের মধ্যে কে এক দিন ও এক রাতে দুই হাজার পাঁচ শত গুনাহে লিপ্ত হয়? (তাতে এতোগুলো পাপও ক্ষমাযোগ্য হয়)। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! সে কিভাবে এরূপ আমল না করে থাকতে পারে? তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ নামাযে রত থাকাকালে তার নিকট শয়তান এসে তাকে এই এই প্রয়োজনের কথা স্মরণ করাতে থাকে। অতএব সে যেন তা স্মরণ না করে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ قَالَ : حَدَّثَنِي سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِذَا أَوَى أَحَدُكُمْ إِلَى فِرَاشِهِ فَلْيَأْخُذْ دَاخِلَةَ إِزَارِهِ، فَلْيَنْفُضْ بِهَا فِرَاشَهُ وَلْيُسَمِّ اللَّهَ، فَإِنَّهُ لاَ يَعْلَمُ مَا خَلَّفَهُ بَعْدَهُ عَلَى فِرَاشِهِ، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَضْطَجِعَ فَلْيَضْطَجِعْ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ وَلْيَقُلْ : سُبْحَانَكَ رَبِّي، بِكَ وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَاغْفِرْ لَهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ .
১২২৯। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার বিছানায় ঘুমাতে এলে সে যেন তার পরিধেয় বস্ত্রের নিম্নাংশ দ্বারা তার বিছানাটা ঝেড়ে নেয় এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করে। কারণ সে জানে না যে, তার অনুপস্থিতিতে তার বিছানায় কি পতিত হয়েছে। সে যখন বিছানায় শোবে তখন যেন তার ডান কাতে শোয় এবং বলে, ”আমার প্রতিপালক মহাপবিত্র। তোমার নামে আমার পার্শ্বদেশ বিছানায় রাখলাম এবং তোমার নামে তা উঠাবো। যদি তুমি আমার জান রেখে দাও তবে তাকে ক্ষমা করো। আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তবে তার হেফাজত করো, যেরূপ তুমি তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের হেফাজত করে থাকো”। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ، عَنْ يَحْيَى هُوَ ابْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ : حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ كَعْبٍ قَالَ : كُنْتُ أَبِيتُ عِنْدَ بَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأُعْطِيهِ وَضُوءَهُ، قَالَ : فَأَسْمَعُهُ الْهَوِيَّ مِنَ اللَّيْلِ يَقُولُ : سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، وَأَسْمَعُهُ الْهَوِيَّ مِنَ اللَّيْلِ يَقُولُ : الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ .
১২৩০। রবীআ ইবনে কাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরের দ্বারদেশে রাত যাপন করতাম এবং তাঁর উযুর পানি সরবরাহ করতাম। আমি রাতে দীর্ঘক্ষণ ধরে তাকে বলতে শোনতাম, সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ (কেউ আল্লাহর প্রশংসা করলে তিনি তা শোনেন)। আমি আরো শোনতাম যে, তিনি দীর্ঘ রাত পর্যন্ত আলহামদু লিল্লাহ রব্বিল আলামীন (সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য) বলছেন। (মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী হাঃ ৩৩৫০)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِشْكَابَ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ نَامَ وَبِيَدِهِ غَمَرٌ قَبْلَ أَنْ يَغْسِلَهُ، فَأَصَابَهُ شَيْءٌ، فَلا يَلُومَنَّ إِلا نَفْسَهُ .
১২৩১। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি খাদ্যের চর্বি হাত থেকে দূর না করে রাতে ঘুমালে এবং তাতে তার কোন ক্ষতি হলে সে যেন নিজেকেই তিরস্কার করে।
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ بَاتَ وَبِيَدِهِ غَمَرٌ، فَأَصَابَهُ شَيْءٌ، فَلا يَلُومَنَّ إِلا نَفْسَهُ .
১২৩২। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি খাদ্যের চর্বি হাত থেকে দূর না করে ঘুমালে এবং তাতে তার কোন ক্ষতি হলে সে যেন নিজেকেই তিরস্কার করে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারিমী, আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : أَغْلِقُوا الأَبْوَابَ، وَأَوْكُوا السِّقَاءَ، وَأَكْفِئُوا الإِنَاءَ، وَخَمِّرُوا الإِنَاءَ، وَأَطْفِئُوا الْمِصْبَاحَ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لاَ يَفْتَحُ غَلَقًا، وَلاَ يَحُلُّ وِكَاءً، وَلاَ يَكْشِفُ إِنَاءً، وَإِنَّ الْفُوَيْسِقَةَ تُضْرِمُ عَلَى النَّاسِ بَيْتَهُمْ .
১২৩৩। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা (রাতে ঘুমানোর পূর্বে) ঘরের দরজাগুলো বন্ধ করো, পানির পাত্রের মুখ ঢেকে বা বেঁধে দিও, থালাগুলো উপুড় করে রেখে বা ঢেকে দিও এবং আলো নিভিয়ে দিও। কেননা শয়তান বন্ধ দরজা খোলতে পারে না, পানির পাত্রের বন্ধ মুখ খোলতে পারে না এবং উপুড় করা বা ঢেকে দেয়া থালাও উন্মুক্ত করতে পারে না। (আলো নিভিয়ে না দিলে) দুষ্ট ইঁদুর মানুষের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী হাঃ ১৭৫৮)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ طَلْحَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : جَاءَتْ فَأْرَةٌ فَأَخَذَتْ تَجُرُّ الْفَتِيلَةَ، فَذَهَبَتِ الْجَارِيَةُ تَزْجُرُهَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : دَعِيهَا، فَجَاءَتْ بِهَا فَأَلْقَتْهَا عَلَى الْخُمْرَةِ الَّتِي كَانَ قَاعِدًا عَلَيْهَا، فَاحْتَرَقَ مِنْهَا مِثْلُ مَوْضِعِ دِرْهَمٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِذَا نِمْتُمْ فَأَطْفِئُوا سُرُجَكُمْ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدُلُّ مِثْلَ هَذِهِ عَلَى مِثْلِ هَذَا فَتَحْرِقُكُمْ .
১২৩৪। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একটি ইঁদুর এসে চেরাগের সলিতা টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। একটি বালিকা তার পিছু ধাওয়া করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ একে ত্যাগ করো। ইঁদুর সলিতাটি টেনে নিয়ে এসে যে চাটাইয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপবিষ্ট ছিলেন তার উপর রেখে দিলো। ফলে চাটাইয়ের এক দিরহাম পরিমাণ জায়গা পুড়ে গেলো। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা ঘুমানোর পূর্বে তোমাদের বাতিগুলো নিভিয়ে দিও। কারণ শয়তান অনুরূপ অপকর্ম করবে এবং তোমাদের অগ্নিদগ্ধ করবে। (আবু দাউদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي نُعْمٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ : اسْتَيْقَظَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَإِذَا فَأْرَةٌ قَدْ أَخَذَتِ الْفَتِيلَةَ، فَصَعِدَتْ بِهَا إِلَى السَّقْفِ لِتَحْرِقَ عَلَيْهِمُ الْبَيْتَ، فَلَعَنَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَحَلَّ قَتْلَهَا لِلْمُحْرِمِ .
১২৩৫। আবু সাঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হলেন। তখন একটি ইঁদুর বাতির সলিতা নিলো এবং তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়ার জন্য সেটি সলিতাসহ ঘরের ছাদে উঠলো। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিকে অভিসম্পাত করলেন এবং ইহরামধারী ব্যক্তির জন্যও এটি হত্যা করা হালাল ঘোষণা করলেন। (ইবনে মাজাহ, হাকিম, তাহাবী)
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ تَتْرُكُوا النَّارَ فِي بُيُوتِكُمْ حِينَ تَنَامُونَ .
১২৩৬। সালেম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা ঘুমানোর প্রাক্কালে তোমাদের ঘরসমূহে আগুন জ্বালিয়ে রেখো না। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ : حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : قَالَ عُمَرُ : إِنَّ النَّارَ عَدُوٌّ فَاحْذَرُوهَا .
১২৩৭। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেনঃ আগুন (তোমাদের) শত্রু। অতএব তা থেকে সতর্ক থাকো। তাই ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাতে ঘুমানোর পূর্বে তার পরিবারের আগুন নিভিয়ে দিতেন।
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ : حَدَّثَنِي ابْنُ الْهَادِ قَالَ : حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : لاَ تَتْرُكُوا النَّارَ فِي بُيُوتِكُمْ، فَإِنَّهَا عَدُوٌّ .
১২৩৮। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমাদের ঘরসমূহে আগুন জ্বলিয়ে রেখে দিও না। কেননা তা দুশমন।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ : احْتَرَقَ بِالْمَدِينَةِ بَيْتٌ عَلَى أَهْلِهِ مِنَ اللَّيْلِ، فَحُدِّثَ بِذَلِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ : إِنَّ هَذِهِ النَّارَ عَدُوٌّ لَكُمْ، فَإِذَا نِمْتُمْ فَأَطْفِئُوهَا عَنْكُمْ .
১২৩৯। আবু মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, মদীনার এক পরিবারের ঘরে রাতের বেলা আগুন লেগে তা পুড়ে গেলো। তাদের এই ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করা হলে তিনি বলেনঃ নিশ্চয় আগুন তোমাদের শত্রু। অতএব তোমরা যখন ঘুমাতে যাবে তখন তা নিভিয়ে দিবে। (বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا مَطَرَتِ السَّمَاءُ يَقُولُ : يَا جَارِيَةُ، أَخْرِجِي سَرْجِي، أَخْرِجِي ثِيَابِي، وَيَقُولُ : ( وَنَزَّلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً مُبَارَكًا ) .
১২৪০। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। আকাশ থেকে যখন বৃষ্টি হতো তখন তিনি বলতেন, হে বালিকা (বা বাঁদী) আমার জিনপোষ বের করে রাখো, আমার কাপড়-চোপড় বের করে রাখো। আর তিনি পড়তেন, ”এবং আমরা আকাশ (মেঘ) থেকে বরকতপূর্ণ পানি বর্ষণ করি”। (সূরা কাফঃ ৯)।