আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ قَالَ : كَانُوا يُحِبُّونَ إِذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ أَنْ لاَ يُقْبِلَ عَلَى الرَّجُلِ الْوَاحِدِ، وَلَكِنْ لِيَعُمَّهُمْ .
১৩১৭। হাবীব ইবনে আবু সাবিত (রহঃ) বলেন, তারা (সাহাবীগণ) এটাই পছন্দ করতেন যে, কোন ব্যক্তি কথা বললে কেবল একজনের সামনাসামনি হয়ে কথা বলবে না, বরং সকলকে সম্বোধন করবে।
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الأَجْلَحِ، عَنِ ابْنِ أَبِي الْهُذَيْلِ قَالَ : عَادَ عَبْدُ اللهِ رَجُلاً، وَمَعَهُ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ، فَلَمَّا دَخَلَ الدَّارَ جَعَلَ صَاحِبُهُ يَنْظُرُ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللهِ : وَاللَّهِ لَوْ تَفَقَّأَتْ عَيْنَاكَ كَانَ خَيْرًا لَكَ .
১৩১৮। ইবনে আবুল হুযাইল (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার সাথীদের একজনকে সাথে নিয়ে এক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যান। তিনি ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলে তার সাথের লোকটি এদিকে ওদিকে তাকাতে থাকে। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে বলেন, আল্লাহর শপথ! যদি তোমার চোখ দুটি ফুঁড়ে দেয়া হতো তবে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হতো।
حَدَّثَنَا خَلاَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ نَفَرًا مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ دَخَلُوا عَلَى ابْنِ عُمَرَ، فَرَأَوْا عَلَى خَادِمٍ لَهُمْ طَوْقًا مِنْ ذَهَبٍ، فَنَظَرَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ، فَقَالَ : مَا أَفْطَنَكُمْ لِلشَّرِّ .
১৩১৯। নাফে (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইরাকবাসী একদল লোক ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট উপস্থিত হয়। তারা তাদের এক খাদেমের নিকট একটি সোনার বেড়ি দেখতে পেলো। তাতে তারা পরস্পরের প্রতি তাকালো। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, খারাপ কাজের জন্য তোমাদের কি ধুর্তামি।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : لاَ خَيْرَ فِي فُضُولِ الْكَلامِ .
১৩২০। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অনৰ্থক কথাবার্তায় কোন কল্যাণ নাই।
حَدَّثَنَا مَطَرٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْبَرَاءُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : شِرَارُ أُمَّتِي الثَّرْثَارُونَ، الْمُشَّدِّقُونَ، الْمُتَفَيْهِقُونَ، وَخِيَارُ أُمَّتِي أَحَاسِنُهُمْ أَخْلاقًا .
১৩২১। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার উম্মাতের নিকৃষ্ট লোক হলো যারা বাচাল, ধৃষ্ট-নির্লজ্জ এবং অহংকারে স্ফীত। আর আমার উম্মাতের উত্তম হলো তাদের মধ্যকার উত্তম চরিত্রের লোক। (তিরমিযী, আহমাদ)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مِنْ شَرِّ النَّاسِ ذُو الْوَجْهَيْنِ، الَّذِي يَأْتِي هَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ، وَهَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ .
১৩২২। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দ্বিমুখী চরিত্রের লোক মানুষের মধ্যে সর্বাধিক নিকৃষ্ট। সে এদের নিকট এক রূপ নিয়ে এবং ওদের নিকট ভিন্ন রূপ নিয়ে আবির্ভূত হয়। (বুখারী, মুসলিম, মুসনাদ আবু আওয়ানা, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ الأَصْبَهَانِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ رُكَيْنٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ حَنْظَلَةَ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : مَنْ كَانَ ذَا وَجْهَيْنِ فِي الدُّنْيَا، كَانَ لَهُ لِسَانَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ نَارٍ، فَمَرَّ رَجُلٌ كَانَ ضَخْمًا، قَالَ : هَذَا مِنْهُمْ .
১৩২৩। আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে দ্বিমুখী চরিত্রের, কিয়ামতের দিন তার আগুনের দুইটি মুখ হবে। এ সময় এক স্থূলকায় ব্যক্তি সেখান দিয়ে গেলে তিনি বলেনঃ এই ব্যক্তি তাদের অন্তর্ভুক্ত। (আবু দাউদ, দারিমী, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا صَدَقَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ : سَمِعْتُ ابْنَ الْمُنْكَدِرِ قَالَ : سَمِعَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ : اسْتَأْذَنَ رَجُلٌ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : ائْذَنُوا لَهُ، بِئْسَ أَخُو الْعَشِيرَةِ، فَلَمَّا دَخَلَ أَلاَنَ لَهُ الْكَلاَمَ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، قُلْتَ الَّذِي قُلْتَ، ثُمَّ أَلَنْتَ الْكَلاَمَ، قَالَ : أَيْ عَائِشَةُ، إِنَّ شَرَّ النَّاسِ مَنْ تَرَكَهُ النَّاسُ، أَوْ وَدَعَهُ النَّاسُ، اتِّقَاءَ فُحْشِهِ .
১৩২৪। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাত প্রার্থনা করলো। তিনি বলেনঃ তাকে অনুমতি দাও, বংশের নিকৃষ্ট লোক। সে প্রবেশ করলে তিনি তার সাথে নম্র ব্যবহার করেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি যা মন্তব্য করার তো করলেন, অতঃপর নম্র ভাষায় কথা বললেন। তিনি বলেনঃ হে আয়েশা! যার অনিষ্ট থেকে আত্মরক্ষার জন্য মানুষ তাকে ত্যাগ করে, সে নিকৃষ্ট লোক। (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي السَّوَّارِ الْعَدَوِيِّ قَالَ : سَمِعْتُ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : الْحَيَاءُ لاَ يَأْتِي إِلاَّ بِخَيْرٍ، فَقَالَ بُشَيْرُ بْنُ كَعْبٍ : مَكْتُوبٌ فِي الْحِكْمَةِ : إِنَّ مِنَ الْحَيَاءِ وَقَارًا، إِنَّ مِنَ الْحَيَاءِ سَكِينَةً، فَقَالَ لَهُ عِمْرَانُ : أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَتُحَدِّثُنِي عَنْ صَحِيفَتِكَ .
১৩২৫। ইমরান ইবনে হুসাইন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লজ্জাশীলতা কল্যাণই বয়ে আনে। বাশীর ইবনে কাব (রহঃ) বলেন, প্রজ্ঞাপূর্ণ কথার মধ্যে লিপিবদ্ধ আছে, লজ্জাশীলতার মধ্যে রয়েছে গাম্ভীর্য, লজ্জাশীলতার মধ্যে রয়েছে প্রশান্তি। ইমরান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে বলেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস শুনাচ্ছি। আর তুমি তোমার কিতাব থেকে বর্ণনা করছে। (বুখারী, মুসলিম, তাবারানী)।
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ يَعْلَى بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : إِنَّ الْحَيَاءَ وَالإِيمَانَ قُرِنَا جَمِيعًا، فَإِذَا رُفِعَ أَحَدُهُمَا رُفِعَ الآخَرُ .
১৩২৬। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, লজ্জাশীলতা ও ঈমান সম্পূর্ণ একই প্রকৃতির। এদের একটি তুলে নেয়া হলে অপরটি দূরীভূত হয়ে যায়। (হাকিম)
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ : حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الْحَيَاءُ مِنَ الإِيمَانِ، وَالإِيمَانُ فِي الْجَنَّةِ، وَالْبَذَاءُ مِنَ الْجَفَاءِ، وَالْجَفَاءُ فِي النَّارِ .
১৩২৭। আবু বাকরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ লজ্জা-সম্ভ্রম ঈমানের অংগ, আর ঈমানের (মুমিনের) স্থান বেহেশতে। নির্লজ্জতা ও অসভ্যতা যুলুমের অংগ, আর যুলুমের (যালেমের) স্থান হলো দোযখে। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, তাহাবী, হাকিম, হিব্বান)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنِ ابْنِ عَقِيلٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ضَخْمَ الرَّأْسِ، عَظِيمَ الْعَيْنَيْنِ، إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ، كَأَنَّمَا يَمْشِي فِي صَعَدٍ، إِذَا الْتَفَتَ الْتَفَتَ جَمِيعًا .
১৩২৮। মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনুল হানাফিয়্যা (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন হৃষ্টপুষ্ট মাথাবিশিষ্ট এবং ডাগর চোখবিশিষ্ট। তিনি সামনের দিকে ঝুঁকে হাটতেন, যেন তিনি উচ্চ স্থানে আরোহণ করছেন। তিনি কারো প্রতি দৃষ্টিপাত করলে পূর্ণদেহে সেদিকে ফিরতেন। (আহমাদ হাঃ ৬৮৪, তিরমিযী, মুসান্নাফ ইবনে শায়বাহ)
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ قَالَ : سَمِعْتُ رِبْعِيَّ بْنَ حِرَاشٍ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسَ مِنْ كَلاَمِ النُّبُوَّةِ الأُولَى : إِذَا لَمْ تَسْتَحْيِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ .
১৩২৯। আবু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্বকালের নবীগণের বাণীসমূহের মধ্যে মানুষ যেটি লাভ করেছে তা হলো, ”তোমার যদি লজ্জাই না থাকে তাহলে তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারো”। (বুখারী)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ .
১৩৩০। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। বাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রকৃত বলবান বীর পুরুষ সে নয় যে কুস্তিতে কাউকে ধরাশায়ী করে। আসল বীরপুরুষ হলো সেই ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারে। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আহমাদ, আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ عَبْدُ رَبِّهِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : مَا مِنْ جَرْعَةٍ أَعْظَمَ عِنْدَ اللهِ أَجْرًا مِنْ جَرْعَةِ غَيْظٍ كَظَمَهَا عَبْدٌ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ .
১৩৩১। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, কোন বান্দা আল্লাহর সন্তোষ লাভের বাসনায় তার ক্রোধের ঢোক গলাধঃকরণ (সংবরণ) করলে, আল্লাহর নিকট সওয়াবের দিক থেকে তার চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ কোন ঢোক নাই। (আহমাদ)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ قَالَ : سَمِعْتُ الأَعْمَشَ يَقُولُ : حَدَّثَنَا عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ قَالَ : اسْتَبَّ رَجُلاَنِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَجَعَلَ أَحَدُهُمَا يَغْضَبُ، وَيَحْمَرُّ وَجْهُهُ، فَنَظَرَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَوْ قَالَهَا لَذَهَبَ هَذَا عَنْهُ : أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، فَقَامَ رَجُلٌ إِلَى ذَاكَ الرَّجُلِ فَقَالَ : تَدْرِي مَا قَالَ ؟ قَالَ : قُلْ : أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، فَقَالَ الرَّجُلُ : أَمَجْنُونًا تَرَانِي ؟ .
১৩৩২। সুলায়মান ইবনে সুরাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, দুই ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে পরস্পর গালিগালাজ করে। তাতে তাদের একজন ক্রোধাৰিত হওয়ায় তার মুখমণ্ডল রক্তিম বর্ণ ধারণ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেনঃ আমি অবশ্যই এমন একটি বাক্য জানি যা সে বললে নিশ্চয় তার এই রাগ চলে যাবে। তা হলোঃ ”আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম” (আমি অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইবনে মাজাহ)। তখন এক ব্যক্তি উঠে ঐ লোকটির নিকট গিয়ে বললো, তুমি কি জানো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছেন? তিনি বলেছেনঃ তুমি বলো, ”আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম”। লোকটি বললো, তুমি কি আমাকে পাগল ঠাওরিয়েছো!
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُثْمَانَ قِرَاءَةً، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ ابْنِ ثَابِتٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ قَالَ : كُنْتُ جَالِسًا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَجُلاَنِ يَسْتَبَّانِ، فَأَحَدُهُمَا احْمَرَّ وَجْهُهُ، وَانْتَفَخَتْ أَوْدَاجُهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَوْ قَالَهَا لَذَهَبَ عَنْهُ مَا يَجِدُ، فَقَالُوا لَهُ : إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : تَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، قَالَ : وَهَلْ بِي مِنْ جُنُونٍ ؟ .
১৩৩৩। সুলায়মান ইবনে সুরাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বসা ছিলাম। দুই ব্যক্তি পরস্পরকে গালি দিতে লাগলো। তাতে তাদের একজনের চেহারা রক্তিম বর্ণ ধারণ করলো এবং তার শিরা-উপশিরা ফুলে গেলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অবশ্যই আমি এমন একটি কথা জানি, সে তা উচ্চারণ করলে নিশ্চয় তার রাগ চলে যাবে। লোকজন ঐ লোকটিকে বললো, নিশ্চয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো। সে বললো, আমি কি পাগল হয়ে গেছি। (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا لَيْثٌ قَالَ : حَدَّثَنِي طَاوُسٌ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : عَلِّمُوا وَيَسِّرُوا، عَلِّمُوا وَيَسِّرُوا، ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، وَإِذَا غَضِبْتَ فَاسْكُتْ، مَرَّتَيْنِ .
১৩৩৪। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা জ্ঞান দান করো এবং দীনকে সহজভাবে তুলে ধরো। তোমরা জ্ঞান দান করো এবং দীনকে সহজভাবে তুলে ধরো। তিনি একথা তিনবার বলেন। তুমি ক্রোধান্বিত হলে নীরবতা অবলম্বন করো। কথাটি তিনি দুইবার বলেন। (আহমাদ, তায়ালিসী)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْكِنْدِيُّ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : سَمِعْتُ عَلِيًّا يَقُولُ لِابْنِ الْكَوَّاءِ : هَلْ تَدْرِي مَا قَالَ الأَوَّلُ ؟ أَحْبِبْ حَبِيبَكَ هَوْنًا مَا، عَسَى أَنْ يَكُونَ بَغِيضَكَ يَوْمًا مَا، وَأَبْغِضْ بَغِيضَكَ هَوْنًا مَا، عَسَى أَنْ يَكُونَ حَبِيبَكَ يَوْمًا مَا .
১৩৩৫। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ইবনুল কাওয়াকে বলেন, তুমি কি জানো, প্রথম ব্যক্তি কি বলেছেন? তোমার বন্ধুকে সংগত সীমা পর্যন্ত ভালোবাসো। অসম্ভব নয় যে, সে একদিন তোমার শক্র হয়ে যেতে পারে। তোমার শত্রুর সাথে তোমার শত্রুতাকে সীমিত রাখো। অসম্ভব নয় যে, সে একদিন তোমার বন্ধু হয়ে যেতে পারে। (তিরমিযী হাঃ ১৯৪৭)
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ : لاَ يَكُنْ حُبُّكَ كَلَفًا، وَلاَ بُغْضُكَ تَلَفًا، فَقُلْتُ : كَيْفَ ذَاكَ ؟ قَالَ : إِذَا أَحْبَبْتَ كَلِفْتَ كَلَفَ الصَّبِيِّ، وَإِذَا أَبْغَضْتَ أَحْبَبْتَ لِصَاحِبِكَ التَّلَف .
১৩৩৬। যায়েদ ইবনে আসলাম (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্র বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তোমার ভালোবাসা যেন কৃত্রিম না হয় এবং তোমার ঘৃণা যেন ধ্বংসকামী না হয়। আমি (রাবী) বললাম, তা কিভাবে হতে পারে? তিনি বলেন, তুমি যখন ভালোবাসো তখন শিশুর মত হয়ে যাও এবং যখন তুমি ঘৃণা করো তখন তোমার সাথীর (প্রতিপক্ষের) ধ্বংস কামনা করো (এরূপ যেন না হয়)। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক)