হাদীস বিএন


আল-আদাবুল মুফরাদ





আল-আদাবুল মুফরাদ (61)


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْخَزْرَجُ بْنُ عُثْمَانَ أَبُو الْخَطَّابِ السَّعْدِيُّ، قَالَ : أَخْبَرَنَا أَبُو أَيُّوبَ سُلَيْمَانُ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ : جَاءَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ عَشِيَّةَ الْخَمِيسِ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ : أُحَرِّجُ عَلَى كُلِّ قَاطِعِ رَحِمٍ لَمَا قَامَ مِنْ عِنْدِنَا، فَلَمْ يَقُمْ أَحَدٌ حَتَّى قَالَ ثَلاَثًا، فَأَتَى فَتًى عَمَّةً لَهُ قَدْ صَرَمَهَا مُنْذُ سَنَتَيْنِ، فَدَخَلَ عَلَيْهَا، فَقَالَتْ لَهُ : يَا ابْنَ أَخِي، مَا جَاءَ بِكَ ؟ قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ كَذَا وَكَذَا، قَالَتِ : ارْجِعْ إِلَيْهِ فَسَلْهُ : لِمَ قَالَ ذَاكَ ؟ قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : إِنَّ أَعْمَالَ بَنِي آدَمَ تُعْرَضُ عَلَى اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَشِيَّةَ كُلِّ خَمِيسٍ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، فَلاَ يَقْبَلُ عَمَلَ قَاطِعِ رَحِمٍ .




৬১। আবু আইউব সুলায়মান (রহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলা জুমআর রাতে আমাদের এখানে এলেন এবং বললেন, আমি প্রত্যেক আত্মীয়তা ছিন্নকারীকে ভালোবাসি না। আমাদের এখানে এরূপ কেউ থাকলে সে যেন উঠে যায়। কিন্তু কেউ মজলিস থেকে উঠেনি। তিনি তিনবার একথা বললেন। এক যুবক তার ফুফুর কাছে এলো। সে তার সাথে দুই বছর যাবত সম্পর্ক ছিন্ন করে রেখেছিল। সে তার নিকট প্রবেশ করলে সে তাকে জিজ্ঞাসা করলো, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি কেন এসেছে? যুবক বললো, আমি আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে এরূপ এরূপ বলতে শুনেছি। সে বললো, তুমি তার কাছে ফিরে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করো, তিনি কেন এরূপ বলেন? তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আদম সন্তানের আমলসমূহ আল্লাহর কাছে প্রতি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পেশ করা হয়। কিন্তু আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্নকারীর আমল কবুল হয় না।









আল-আদাবুল মুফরাদ (62)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ : حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ جَابِرٍ الْحَنَفِيُّ، عَنْ آدَمَ بْنِ عَلِيٍّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ : مَا أَنْفَقَ الرَّجُلُ عَلَى نَفْسِهِ وَأَهْلِهِ يَحْتَسِبُهَا إِلاَّ آجَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِيهَا، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ، فَإِنْ كَانَ فَضْلاً فَالأَقْرَبَ الأَقْرَبَ، وَإِنْ كَانَ فَضْلاً فَنَاوِلْ .




৬২। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। কোন ব্যক্তি তার নিজের জন্য এবং নিজ পরিবারের জন্য সওয়াবের আশায় যা ব্যয় করে, তার প্রতিটির জন্য আল্লাহ তাকে প্রতিদান দেন। তোমার পোষ্যদের থেকে ব্যয় করা শুরু করো এবং তারপর অবশিষ্ট থাকলে পরবর্তী ঘনিষ্ঠজনকে দান করো, তারপর অবশিষ্ট থাকলে হস্ত আরো সম্প্রসারিত করো।









আল-আদাবুল মুফরাদ (63)


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ :rlm; أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ أَبُو إِدَامٍ قَالَ : سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى يَقُولُ : عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ الرَّحْمَةَ لاَ تَنْزِلُ عَلَى قَوْمٍ فِيهِمْ قَاطِعُ رَحِمٍ .




৬৩। আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্নকারী থাকলে তাদের উপর আল্লাহর রহমত নাযিল হয় না।









আল-আদাবুল মুফরাদ (64)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ : حَدَّثَنِي عَقِيلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، أَنَّ جُبَيْرَ بْنَ مُطْعِمٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ .




৬৪। জুবাইর ইবনে মুতইম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্নকারী বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না।









আল-আদাবুল মুফরাদ (65)


حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ : أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ قَالَ : سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ كَعْبٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ الرَّحِمَ شُجْنَةٌ مِنَ الرَّحْمَنِ، تَقُولُ : يَا رَبِّ، إِنِّي ظُلِمْتُ، يَا رَبِّ، إِنِّي قُطِعْتُ، يَا رَبِّ، إِنِّي إِنِّي، يَا رَبِّ، يَا رَبِّ . فَيُجِيبُهَا : أَلاَ تَرْضَيْنَ أَنْ أَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ، وَأَصِلَ مَنْ وَصَلَكِ ؟ .




৬৫। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রেহেম (রক্তের বাঁধন) রহমানের অংশবিশেষ। সে বলবে, ”হে প্ৰভু! আমি মযলুম, হে প্ৰভু! আমি ছিন্নকৃত, হে প্ৰভু! আমি আমি...। তখন আল্লাহ তাকে জবাব দিবেন, তুমি কি সন্তুষ্ট নও যে, তোমাকে যে ছিন্ন করবে, আমিও তাকে ছিন্ন করবো এবং যে তোমাকে সংযুক্ত রাখবে, আমিও তাকে সংযুক্ত রাখবো?









আল-আদাবুল মুফরাদ (66)


حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سَمْعَانَ قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَتَعَوَّذُ مِنْ إِمَارَةِ الصِّبْيَانِ وَالسُّفَهَاءِ . فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ سَمْعَانَ : فَأَخْبَرَنِي ابْنُ حَسَنَةَ الْجُهَنِيُّ أَنَّهُ قَالَ لأَبِي هُرَيْرَةَ : مَا آيَةُ ذَلِكَ ؟ قَالَ : أَنْ تُقْطَعَ الأَرْحَامُ، وَيُطَاعَ الْمُغْوِي، وَيُعْصَى الْمُرْشِدُ .




৬৬। সাঈদ ইবনে সামআন (রহঃ) বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বালকের ও নির্বোধের নেতৃত্ব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি। সাঈদ ইবনে সামআন (রহঃ) বলেন, ইবনে হাসান আল-জুহানী (রহঃ) আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তার নিদর্শন কি? তিনি বলেন, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হবে, বিভ্রান্তকারীর আনুগত্য করা হবে এবং সৎপথ প্রদর্শনকারীর অবাধ্যাচরণ করা হবে।









আল-আদাবুল মুফরাদ (67)


حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُيَيْنَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ : سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَا مِنْ ذَنْبٍ أَحْرَى أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا، مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ، مِنْ قَطِيعَةِ الرَّحِمِ وَالْبَغْيِ .




৬৭। আবু বাকরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহু যেসব পাপীকে পার্থিব জগতেই তার পাপের ত্বরিৎ শাস্তি দেন, তা হলো আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্নকারী ও বিদ্রোহীর পাপ এবং আখেরাতেও তার জন্য শাস্তি জমা রাখেন।









আল-আদাবুল মুফরাদ (68)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، وَالْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو، وَفِطْرٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ سُفْيَانُ لَمْ يَرْفَعْهُ الأَعْمَشُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَرَفَعَهُ الْحَسَنُ وَفِطْرٌ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئِ، وَلَكِنَّ الْوَاصِلَ الَّذِي إِذَا قُطِعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا .




৬৮। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী (সা) বলেনঃ প্রতিদানের বিনিময়ে আত্মীয় সম্পর্ক রক্ষাকারী প্রকৃত আত্মীয় রক্ষাকারী নয়। বরং আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্ন করা হলে যে ব্যক্তি তা যুক্ত করে সে হলো আত্মীয় সম্পর্ক রক্ষাকারী।









আল-আদাবুল মুফরাদ (69)


حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ : جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ : يَا نَبِيَّ اللهِ، عَلِّمْنِي عَمَلاً يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ، قَالَ : لَئِنْ كُنْتَ أَقَصَرْتَ الْخُطْبَةَ لَقَدْ أَعْرَضْتَ الْمَسْأَلَةَ، أَعْتِقِ النَّسَمَةَ، وَفُكَّ الرَّقَبَةَ قَالَ : أَوَ لَيْسَتَا وَاحِدًا ؟ قَالَ : لاَ، عِتْقُ النَّسَمَةِ أَنْ تَعْتِقَ النَّسَمَةَ، وَفَكُّ الرَّقَبَةِ أَنْ تُعِينَ عَلَى الرَّقَبَةِ، وَالْمَنِيحَةُ الرَّغُوبُ، وَالْفَيْءُ عَلَى ذِي الرَّحِمِ، فَإِنْ لَمْ تُطِقْ ذَلِكَ، فَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ، وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ، فَإِنْ لَمْ تُطِقْ ذَلِكَ، فَكُفَّ لِسَانَكَ إِلاَّ مِنْ خَيْرٍ .




৬৯। বারাআ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এক বেদুইন এসে বললো, হে আল্লাহর নবী! আমাকে এমন একটি আমল শিক্ষা দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি বলেন, তোমার সংক্ষিপ্ত ভাষণ যদি এই হয়ে থাকে তাহলে তুমি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছো। গোলাম আযাদ করো এবং গর্দান মুক্ত করো। সে বললো, দুইটা একই বস্তু নয় কি? তিনি বলেনঃ না, গোলাম আযাদ করা তো কোন গোলামকে আযাদ করাই এবং গর্দান মুক্ত করা মানে আত্মীয়-স্বজনদের মুক্ত করা। যদি তা না পারো, তবে সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজে নিষেধ করবে। যদি তার সামথ্যও না হয়, তবে সদবাক্য বলা ছাড়া মুখ বন্ধ রাখবে।









আল-আদাবুল মুফরাদ (70)


حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ : أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : أَرَأَيْتَ أُمُورًا كُنْتُ أَتَحَنَّثُ بِهَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ، مِنْ صِلَةٍ، وَعَتَاقَةٍ، وَصَدَقَةٍ، فَهَلْ لِي فِيهَا أَجْرٌ ؟ قَالَ حَكِيمٌ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : أَسْلَمْتَ عَلَى مَا سَلَفَ مِنْ خَيْرٍ .




৭০। হাকীম ইবনে হিযাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেন, আমি জাহিলী যুগে যেসব কাজ করেছি আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার, দাসমুক্তি এবং দান-খয়রাত ইত্যাদি, তার কোন প্রতিদান আমি পাবো কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার পূর্ববর্তী পুণ্যসমূহসহ তুমি মুসলিম হয়েছো।









আল-আদাবুল মুফরাদ (71)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رَأَى عُمَرُ حُلَّةً سِيَرَاءَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ، لَوِ اشْتَرَيْتَ هَذِهِ، فَلَبِسْتَهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَلِلْوُفُودِ إِذَا أَتَوْكَ، فَقَالَ : يَا عُمَرُ، إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ، ثُمَّ أُهْدِيَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا حُلَلٌ، فَأَهْدَى إِلَى عُمَرَ مِنْهَا حُلَّةً، فَجَاءَ عُمَرُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ، بَعَثْتَ إِلَيَّ هَذِهِ، وَقَدْ سَمِعْتُكَ قُلْتَ فِيهَا مَا قُلْتَ، قَالَ : إِنِّي لَمْ أُهْدِهَا لَكَ لِتَلْبَسَهَا، إِنَّمَا أَهْدَيْتُهَا إِلَيْكَ لِتَبِيعَهَا أَوْ لِتَكْسُوَهَا، فَأَهْدَاهَا عُمَرُ لأَخٍ لَهُ مِنْ أُمِّهِ مُشْرِكٍ .




৭১। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একটি লাল বর্ণের রেশমী চাদর দেখে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি যদি তা খরিদ করতেন তবে জুমুআর দিন এবং আপনার নিকট বাইরের প্রতিনিধি দল এলে তা পরতেন। তিনি বলেনঃ হে উমার! যার পরকাল বলতে কিছু নেই সে এটা পরবে। পরে অনুরূপ কিছু লাল বর্ণের রেশমী চাদর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উপঢৌকন দেয়া হয়। তিনি তা থেকে একটা চাদর উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে উপহার পাঠান। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাকে এটা পাঠিয়েছেন, অথচ আপনি ইতিপূর্বে এ সম্পর্কে যা বলেছেন তা আমি শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার পরিধানের জন্য এটা আমি তোমাকে দেইনি। অবশ্য আমি এজন্য তোমাকে এটা দিয়েছি যে, তা বিক্রয় করবে অথবা কাউকে পরতে দিবে। অতএব উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার এক বৈপিত্রেয় মুশরিক ভাইকে তা উপহার দেন (বুখারী, মুসলিম, দারিমী, নাসাঈ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (72)


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَتَّابُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ رَاشِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ : حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، أَنَّ جُبَيْرَ بْنَ مُطْعِمٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ : تَعَلَّمُوا أَنْسَابَكُمْ، ثُمَّ صِلُوا أَرْحَامَكُمْ، وَاللَّهِ إِنَّهُ لِيَكُونُ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ أَخِيهِ الشَّيْءُ، وَلَوْ يَعْلَمُ الَّذِي بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ مِنْ دَاخِلَةِ الرَّحِمِ، لَأَوْزَعَهُ ذَلِكَ عَنِ انْتِهَاكِهِ .




৭২। জুবাইর ইবনে মুতইম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছেন, তোমাদের বংশ পরিচিতি (নসবনামা) জেনে রাখো, অতঃপর আত্মীয় সম্পর্ক বজায় রাখো। আল্লাহর শপথ! ঘটনাক্রমে কোন ব্যক্তি ও তার ভাইয়ের মধ্যে কিছু ঘটে যায়। যদি সে জানতে পারতো যে, তার এবং অপরজনের মধ্যে রক্তের বন্ধন রয়েছে তাহলে তা তাকে তার ভাইকে অপদস্থ করা থেকে বিরত রাখতো (তিরমিযী, তাবারানী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (73)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَاهُ يُحَدِّثُ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ : احْفَظُوا أَنْسَابَكُمْ، تَصَلُوا أَرْحَامَكُمْ، فَإِنَّهُ لاَ بُعْدَ بِالرَّحِمِ إِذَا قَرُبَتْ، وَإِنْ كَانَتْ بَعِيدَةً، وَلاَ قُرْبَ بِهَا إِذَا بَعُدَتْ، وَإِنْ كَانَتْ قَرِيبَةً، وَكُلُّ رَحِمٍ آتِيَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمَامَ صَاحِبِهَا، تَشْهَدُ لَهُ بِصِلَةٍ إِنْ كَانَ وَصَلَهَا، وَعَلَيْهِ بِقَطِيعَةٍ إِنْ كَانَ قَطَعَهَا .




৭৩। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তোমরা তোমাদের নসবনামা জেনে রাখো, তোমাদের আত্মীয় সম্পর্ক বজায় রাখো। কেননা দূরাত্মীয়ও সম্পর্কের কারণে নিকটতর হয়ে যায় এবং নিকটাত্মীয়ও সম্পর্কের অভাবে দূরে চলে যায়। প্রতিটি রক্তের বন্ধন কিয়ামতের দিন তার সংশ্লিষ্ট জনের সামনে আসবে এবং সে যদি তাকে দুনিয়ায় যুক্ত রাখে, তবে সে তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। কিন্তু সে যদি তাকে দুনিয়ায় ছিন্ন করে থাকে, তবে সে তার বিরুদ্ধে সম্পর্ক ছিন্নের সাক্ষ্য দিবে (হাকিম)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (74)


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا وَائِلُ بْنُ دَاوُدَ اللَّيْثِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ قَالَ : قَالَ لِي عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ : مِمَّنْ أَنْتَ ؟ قُلْتُ : مِنْ تَيْمِ تَمِيمٍ، قَالَ : مِنْ أَنْفُسِهِمْ أَوْ مِنْ مَوَالِيهِمْ ؟ قُلْتُ : مِنْ مَوَالِيهِمْ، قَالَ : فَهَلاَّ قُلْتَ : مِنْ مَوَالِيهِمْ إِذًا ؟ .




৭৪। আবদুর রহমান ইবনে আবু হাবীব (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বললেন, তুমি কোন বংশের লোক? আমি বললাম, আমি তায়েম তামীম গোত্রের। তিনি বলেন, তুমি কি সে বংশভুক্ত অথবা তাদের মুক্তদাস? আমি বললাম, আমি তাদের মুক্তদাস। তিনি বলেন, তাহলে তুমি বললে না কেন যে, তুমি তাদের মুক্তদাস?









আল-আদাবুল মুফরাদ (75)


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُثْمَانَ قَالَ : أَخْبَرَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ أَبِيهِ عُبَيْدٍ، عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : اجْمَعْ لِي قَوْمَكَ، فَجَمَعَهُمْ، فَلَمَّا حَضَرُوا بَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهِ عُمَرُ فَقَالَ : قَدْ جَمَعْتُ لَكَ قَوْمِي، فَسَمِعَ ذَلِكَ الأَنْصَارُ فَقَالُوا : قَدْ نَزَلَ فِي قُرَيْشٍ الْوَحْيُ، فَجَاءَ الْمُسْتَمِعُ وَالنَّاظِرُ مَا يُقَالُ لَهُمْ، فَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَامَ بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ فَقَالَ : هَلْ فِيكُمْ مِنْ غَيْرِكُمْ ؟ قَالُوا : نَعَمْ، فِينَا حَلِيفُنَا وَابْنُ أُخْتِنَا وَمَوَالِينَا، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : حَلِيفُنَا مِنَّا، وَابْنُ أُخْتِنَا مِنَّا، وَمَوَالِينَا مِنَّا، وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ : إِنَّ أَوْلِيَائِي مِنْكُمُ الْمُتَّقُونَ، فَإِنْ كُنْتُمْ أُولَئِكَ فَذَاكَ، وَإِلاَّ فَانْظُرُوا، لاَ يَأْتِي النَّاسُ بِالأَعْمَالِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَتَأْتُونَ بِالأَثْقَالِ، فَيُعْرَضَ عَنْكُمْ، ثُمَّ نَادَى فَقَالَ : يَا أَيُّهَا النَّاسُ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ يَضَعَهُمَا عَلَى رُءُوسِ قُرَيْشٍ، أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ قُرَيْشًا أَهْلُ أَمَانَةٍ، مَنْ بَغَى بِهِمْ، قَالَ زُهَيْرٌ : أَظُنُّهُ قَالَ : الْعَوَاثِرَ، كَبَّهُ اللَّهُ لِمِنْخِرَيْهِ، يَقُولُ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ .




৭৫। রিফায়া ইবনে রাফে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলেনঃ তোমার গোষ্ঠীর লোকজনকে আমার কাছে সমবেত করো। অতএব তিনি তাদেরকে সমবেত করলেন। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরের দরজায় এসে উপস্থিত হলে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করে বলেন, আমার গোষ্ঠীর লোকজনকে আপনার কাছে সমবেত করেছি। আনসারগণ তা শুনতে পেয়ে (মনে মনে) বলেন, নিশ্চয় কুরাইশদের সম্পর্কে ওহী নাযিল হয়েছে। অতএব তাদেরকে কি বলা হয় তা শোনার জন্য দর্শক ও শ্রোতা এসে হাযির হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে এসে তাদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে বলেনঃ তোমাদের মধ্যে তোমাদের ছাড়া অন্য কেউ আছে কি? তারা বলেন, হাঁ, আমাদের মধ্যে আমাদের বন্ধুগোত্র, আমাদের বোনপুত এবং আমাদের মুক্তদাসগণও আমাদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাদের বন্ধুগোত্র আমাদের অন্তর্ভুক্ত, আমাদের বোনপুত্ররা আমাদের অন্তর্ভুক্ত এবং আমাদের মুক্তদাসগণও আমাদের অন্তর্ভুক্ত। তোমরা শোনো! তোমাদের মধ্যকার আল্লাহভীরু ব্যক্তিগণই আমার বন্ধু। তোমরা যদি তাই হও তবে তো তাই। অন্যথায় লক্ষ্য করো কিয়ামতের দিন যেন এমন না হয় যে, লোকজন তো তাদের সৎকর্মসমূহ নিয়ে আসবে, আর তোমরা আসবে তোমাদের পাপের বোঝাসমূহ নিয়ে এবং তা তোমাদের পক্ষ থেকে পেশ করা হবে। অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাত উচু করে তা কুরাইশদের মাথার উপর রেখে ডাক দিয়ে বলেনঃ হে লোকসকল! কুরাইশগণ আমানতদার। যে তাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে সে সমূহ বিপদ ডেকে আনবে। আল্লাহ তাকে অধঃমুখে উপুড় করে দোযখে নিক্ষেপ করবেন। তিনি এ কথা তিনবার বলেন (আবু দাউদ, হাকিম)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (76)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ عِمْرَانَ أَبُو حَفْصٍ التُّجِيبِيُّ، عَنْ أَبِي عُشَّانَةَ الْمَعَافِرِيِّ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : مَنْ كَانَ لَهُ ثَلاَثُ بَنَاتٍ، وَصَبَرَ عَلَيْهِنَّ، وَكَسَاهُنَّ مِنْ جِدَتِهِ، كُنَّ لَهُ حِجَابًا مِنَ النَّارِ .




৭৬। উকবা ইবনে আমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যার তিনটি কন্যা সন্তান আছে এবং সে তাদের ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করে এবং তাদেরকে যথাসাধ্য উত্তম পোশাকাদি দেয়, তারা তার জন্য দোযখ থেকে রক্ষাকারী প্রতিবন্ধক হবে (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (77)


حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا فِطْرٌ، عَنْ شُرَحْبِيلَ قَالَ : سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَا مِنْ مُسْلِمٍ تُدْرِكُهُ ابْنَتَانِ، فَيُحْسِنُ صُحْبَتَهُمَا، إِلاَّ أَدْخَلَتَاهُ الْجَنَّةَ .




৭৭। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে মুসলিমের দুইটি কন্যা সন্তান আছে এবং সে তাদেরকে উত্তম সাহচর্য দান করে তারা তাকে বেহেশতে দাখিল করবে (ইবনে মাজাহ, হাকিম)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (78)


حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ قَالَ : حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ قَالَ : حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَهُمْ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنْ كَانَ لَهُ ثَلاَثُ بَنَاتٍ، يُؤْوِيهِنَّ، وَيَكْفِيهِنَّ، وَيَرْحَمُهُنَّ، فَقَدْ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ الْبَتَّةَ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ بَعْضِ الْقَوْمِ : وَثِنْتَيْنِ، يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ : وَثِنْتَيْنِ .




৭৮। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার তিনটি কন্যা সন্তান আছে এবং সে তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে তাদের ব্যয়ভার বহন করে এবং তাদের সাথে দয়ার্দ্র ব্যবহার করে, তার জন্য বেহেশত অবধারিত হয়ে যায়। লোকজনের মধ্য থেকে একজন বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কারো যদি দুটি কন্যা সন্তান থাকে? তিনি বলেনঃ দুইটি কন্যা সন্তান হলেও (আবু দাউদ, তাবারানী, বাযযার)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (79)


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُكْمِلٍ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ بَشِيرٍ الْمُعَاوِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَكُونُ لأَحَدٍ ثَلاَثُ بَنَاتٍ، أَوْ ثَلاَثُ أَخَوَاتٍ، فَيُحْسِنُ إِلَيْهِنَّ، إِلاَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ .




৭৯। আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা সন্তান বা তিনটি বোন আছে এবং সে তাদের সাথে মমতাপূর্ণ ব্যবহার করে, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে (দারিমী, তিরমিযী, আবু দাউদ, হিব্বান)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (80)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِسُرَاقَةَ بْنِ جُعْشُمٍ : أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى أَعْظَمِ الصَّدَقَةِ، أَوْ مِنْ أَعْظَمِ الصَّدَقَةِ ؟ قَالَ : بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ : ابْنَتُكَ مَرْدُودَةٌ إِلَيْكَ، لَيْسَ لَهَا كَاسِبٌ غَيْرُكَ .




৮০। মূসা ইবনে উলায়্যি (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুরাকা ইবনে জুশুম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলেনঃ আমি কি তোমাকে শ্রেষ্ঠতম বা অতীব শ্রেষ্ঠ দান-খয়রাত সম্পর্কে অবহিত করবো না? তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অবশ্যই। তিনি বলেনঃ তোমার নিকট ফিরে আসা তোমার (স্বামী পরিত্যক্ত) কন্যার ব্যয়ভার বহন করা, তুমি ছাড়া যার জন্য উপার্জনকারী আর কেউ নাই (ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, নাসাঈ)।