হাদীস বিএন


আল-আদাবুল মুফরাদ





আল-আদাবুল মুফরাদ (701)


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، عَنْ عَبْدِ الْمَجِيدِ بْنِ سُهَيْلِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادٍ أَبِي هُبَيْرَةَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ ، فَصَلَّى فَقَضَى صَلاتَهُ ، يُثْنِي عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ، ثُمَّ يَكُونُ فِي آخِرِ كَلامِهِ : اللَّهُمَّ اجْعَلْ لِي نُورًا فِي قَلْبِي ، وَاجْعَلْ لِي نُورًا فِي سَمْعِي ، وَاجْعَلْ لِي نُورًا فِي بَصَرِي ، وَاجْعَلْ لِي نُورًا عَنْ يَمِينِي ، وَنُورًا عَنْ شِمَالِي ، وَاجْعَلْ لِي نُورًا مِنْ بَيْنَ يَدَيَّ ، وَنُورًا مِنْ خَلْفِي ، وَزِدْنِي نُورًا ، وَزِدْنِي نُورًا ، وَزِدْنِي نُورًا




৭০১। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে ঘুম থেকে উঠলে নামায পড়তেন এবং নামাযান্তে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করতেন। অতঃপর তাঁর কথার শেষ অংশ এরূপ হতোঃ ”হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে নূর দান করো, আমার কানে নূর দান করো, আমার চোখে নূর দান করো, আমার সামনে নূর দান করো, আমার পিছনে নূর দান করো এবং আমার নূর বাড়িয়ে দাও, আমার নূর বাড়িয়ে দাও, আমার নূর বাড়িয়ে দাও”। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (702)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، عَنْ طَاوُسٍ الْيَمَانِيِّ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ : " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاةِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ ، قَالَ : اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ ، أَنْتَ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ ، وَلَكَ الْحَمْدُ ، أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ ، أَنْتَ الْحَقُّ ، وَوَعْدُكَ الْحَقُّ ، وَلِقَاؤُكَ الْحَقُّ ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ ، وَالنَّارُ حَقٌّ ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ ، اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ ، وَبِكَ آمَنْتُ ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ ، وَبِكَ خَاصَمْتُ ، وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ ، فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ ، أَنْتَ إِلَهِي ، لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ




৭০২। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝরাতে যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন বলতেনঃ ”হে আল্লাহ! আপনারই জন্য যাবতীয় প্রশংসা, আপনিই আসমানসমূহ ও জমিনের এবং এতোদুভয়ের মধ্যকার সকলের রক্ষক। আপনারই জন্য সকল প্রশংসা। আপনি আসমানসমূহ ও যমীনের এবং এতোদুভয়ের মধ্যে যা কিছু রয়েছে সে সবের রব। আপনিই সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার সাক্ষাত অবধারিত সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, কিয়ামত সত্য। ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করছি, আপনার উপরই ঈমান এনেছি। আপনারই উপর ভরসা করেছি, আপনার নিকটই প্রত্যাবর্তন করেছি। আপনার জন্য যুক্তি-তর্কে লিপ্ত হয়েছি, আপনার কাছে ফয়সালা চেয়েছি। অতএব আমার পূর্বাপর এবং গোপন ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ ক্ষমা করুন। আপনি আমার ইলাহ! আপনি ব্যতীত আমার কোন ইলাহ নেই”। (বুখারী, মুসলিম)









আল-আদাবুল মুফরাদ (703)


حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ صَالِحٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ ، عَنْ يُونُسَ بْنِ خَبَّابٍ ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَأَهْلِي ، وَاسْتُرْ عَوْرَتِي ، وَآمِنْ رَوْعَتِي ، وَاحْفَظْنِي مِنْ بَيْنَ يَدَيَّ ، وَمِنْ خَلْفِي ، وَعَنْ يَمِينِي ، وَعَنْ يَسَارِي ، وَمِنْ فَوْقِي ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي




৭০৩। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করতেনঃ ”হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি আমার দীন ও আমার পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা। তুমি আমার দোষ গোপন রাখো, আমার ভীত অবস্থায় আমাকে নিরাপত্তা দান করো এবং আমাকে সামনে-পিছনে, ডানে-বামে ও উপরের দিক থেকে হেফাযত করো। আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিচের দিকে আমাকে ধ্বসিয়ে দেয়া থেকে”। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, বাযযার)









আল-আদাবুল মুফরাদ (704)


حَدَّثَنَا عَلِيٌّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَيْمَنَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ رِفَاعَةَ الزُّرَقِيُّ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : " لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ وَانْكَفَأَ الْمُشْرِكُونَ ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " اسْتَوُوا حَتَّى أُثْنِيَ عَلَى رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ ، فَصَارُوا خَلْفَهُ صُفُوفًا ، فَقَالَ : اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ كُلُّهُ ، اللَّهُمَّ لا قَابِضَ لِمَا بَسَطْتَ ، وَلا مُقَرِّبَ لِمَا بَاعَدْتَ ، وَلا مُبَاعِدَ لِمَا قَرَّبْتَ ، وَلا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ ، وَلا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ ، اللَّهُمَّ ابْسُطْ عَلَيْنَا مِنْ بَرَكَاتِكَ وَرَحْمَتِكَ وَفَضْلِكَ وَرِزْقِكَ ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ النَّعِيمَ الْمُقِيمَ الَّذِي لا يَحُولُ وَلا يَزُولُ ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ النَّعِيمَ يَوْمَ الْعَيْلَةِ ، وَالأَمْنَ يَوْمَ الْحَرْبِ ، اللَّهُمَّ عَائِذًا بِكَ مِنْ سُوءِ مَا أَعْطَيْتَنَا ، وَشَرِّ مَا مَنَعْتَ مِنَّا ، اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الإِيمَانَ وَزَيِّنْهُ فِي قُلُوبِنَا ، وَكَرِّهْ إِلَيْنَا الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ ، وَاجْعَلْنَا مِنَ الرَّاشِدِينَ ، اللَّهُمَّ تَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ ، وَأَحْيِنَا مُسْلِمِينَ ، وَأَلْحِقْنَا بِالصَّالِحِينَ ، غَيْرَ خَزَايَا وَلا مَفْتُونِينَ ، اللَّهُمَّ قَاتِلِ الْكَفَرَةَ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِكَ ، وَيُكَذِّبُونَ رُسَلَكَ ، وَاجْعَلْ عَلَيْهِمْ رِجْزَكَ وَعَذَابَكَ ، اللَّهُمَّ قَاتِلِ الْكَفَرَةَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ ، إِلَهَ الْحَقِّ




৭০৪। উবাইদ ইবনে রিফাআ আয-যুরাকী (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন যখন মুশরিকরা ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে চলে গেলো তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সারিবদ্ধভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াও, যাতে আমি আমার মহামহিমান্বিত প্রতিপালকের প্রশংসা করতে পারি। অতএব সাহাবীগণ তাঁর পিছনে সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে থাকলেন। তিনি বলেনঃ ”হে আল্লাহ! তোমার জন্য সকল প্রশংসা। হে আল্লাহ! তুমি যা সম্প্রসারিত করো তা কেউ সংকুচিত করতে পারে না, তুমি যাকে দূরে ঠেলে দাও তাকে কেউ কাছে আনতে পারে না, তুমি যাকে কাছে টেনে নাও তাকে কেউ দূরে ঠেলে দিতে পারে না, তুমি যাকে না দাও তাকে কেউ দিতে পারে না এবং তুমি যাকে দান করো তাকে কেউ আটকে রাখতে পারে না। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের উপর তোমার বরকত, তোমার রহমত, তোমার অনুগ্রহ এবং তোমার দেয়া রিযিক প্রসারিত করো। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট স্থায়ী নিয়ামত প্রার্থনা করি যা পরিবর্তন বা বিলীন হয় না।

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুঃখের দিনে তোমার নিয়ামত ও যুদ্ধের দিনে তোমার নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যা দান করেছে তার অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করো। তুমি যা আমাকে দান করোনি তার অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় বানাও, আমাদের অন্তরকে সৌন্দর্যময় করো এবং কুফর, পাপাচার ও বিদ্রোহকে আমাদের নিকট ঘৃণিত বানাও। তুমি আমাদেরকে হেদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করো। হে আল্লাহ! আমাদেরকে মুসলিমরূপে মৃত্যু দান করো, মুসলিমরূপে জীবিত রাখো এবং সৎকর্মশীল লোকদের সাথে মিলিত করো, অপমানিত ও বিপর্যস্তরূপে নয়। হে আল্লাহ! তুমি কাফেরদের ধ্বংস করো, যারা তোমার পথে বাধা সৃষ্টি করে। তোমার ক্রোধ ও আযাব তাদের উপর অবতীর্ণ করো। হে আল্লাহ! কিতাবপ্রাপ্ত কাফেরদের ধ্বংস করো। হে সত্য ইলাহ”। (নাসাঈ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)









আল-আদাবুল মুফরাদ (705)


حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا هِشَامٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا قَتَادَةُ ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو عِنْدَ الْكَرْبِ : لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ ، لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَرَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ




৭০৫। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠিন বিপদের সময় দোয়া করতেনঃ ”লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আযীমুল হালীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি রব্বুল আরশিল আযীম” (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি অতি মহান, অতি সহনশীল, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি আকাশমণ্ডলী ও যমীনের রব এবং মহান আরশের মালিক”)। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী,ইবনে মাজাহ, আহমাদ, আবু আওয়ানা)









আল-আদাবুল মুফরাদ (706)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَلِيلِ ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مَيْمُونٍ ، قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرَةَ ، أَنَّهُ قَالَ لأَبِيهِ : " يَا أَبَتِ ، إِنِّي أَسْمَعُكَ تَدْعُو كُلَّ غَدَاةٍ : اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي ، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي ، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي ، لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ ، تُعِيدُهَا ثَلاثًا حِينَ تُمْسِي ، وَحِينَ تُصْبِحُ ثَلاثًا ، وَتَقُولُ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ، لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ ، تُعِيدُهَا ثَلاثًا حِينَ تُمْسِي ، وَحِينَ تُصْبِحُ ثَلاثًا ، فَقَالَ : نَعَمْ ، يَا بُنَيَّ ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ بِهِنَّ ، وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَسْتَنَّ بِسُنَّتِهِ
قَالَ : قَالَ : وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " دَعَوَاتُ الْمَكْرُوبِ : اللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُو ، وَلا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ ، وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ ، لا إِلَهَ أَلا أَنْتَ




৭০৬। আবদুর রহমান ইবনে আবু বাকরা (রহঃ) তার পিতাকে বলেন, হে পিতা! আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে এই দোয়া করতে শুনিঃ ”হে আল্লাহ! তুমি আমার শরীর নিরাপদ রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমার কান নিরাপদ রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমার চোখ নিরাপদ রাখো। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই”। আপনি বিকালে উপনীত হয়ে তিনবার এবং সকালে উপনীত হয়ে তিনবার তা পড়েন। আপনি আরো বলেন, ”হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কুফর ও দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই”। আপনি বিকালে উপনীত হয়ে এগুলো তিনবার এবং সকালে উপনীত হয়ে তিনবার পড়েন।

তিনি বলেন, হাঁ, হে বৎস! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই দোয়াগুলি বলতে শুনেছি এবং আমি তাঁর সুন্নাত অনুসরণ করতে ভালোবাসি। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিপদগ্ৰস্ত লোকের দোয়া হলোঃ ”হে আল্লাহ! আমি তোমার রহমতের আশা করি। অতএব তুমি মুহুর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর সোপর্দ করো না এবং আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দাও। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই”। (আবু দাউদ, আহমাদ, বাযযার, তাবারানী, নাসাঈ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (707)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الْخَطَّابِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنِي رَاشِدٌ أَبُو مُحَمَّدٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ ، قَالَ : سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ ، يَقُولُ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ عِنْدَ الْكَرْبِ : لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ ، لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ، لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ ، اللَّهُمَّ اصْرِفْ شَرَّهُ




৭০৭। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিপদকালে বলতেনঃ ”আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই , যিনি মহান ও পরম সহিষ্ণু। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই যিনি মহান আরশের অধিপতি। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই যিনি আকাশমণ্ডলীর প্রভু, পৃথিবীর প্রভু এবং সম্মানিত আরশের প্রতিপালক। হে আল্লাহ! তুমি এর অনিষ্ট দূর করে দাও”। (বুখারী)









আল-আদাবুল মুফরাদ (708)


حَدَّثَنَا مُطَرِّفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو الْمُصْعَبِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْمَوَالِ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ ، عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُنَا الاسْتِخَارَةَ فِي الأُمُورِ كَالسُّورَةِ مِنَ الْقُرْآنِ : إِذَا هَمَّ بِالأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلا أَقْدِرُ ، وَتَعْلَمُ وَلا أَعْلَمُ ، وَأَنْتَ عَلامُ الْغُيُوبِ ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي ، وَمَعَاشِي ، وَعَاقِبَةِ ، أَوْ قَالَ : فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَاقْدُرْهُ لِي ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي ، وَمَعَاشِي ، وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ : عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ ، فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ ، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ، ثُمَّ رَضِّنِي ، وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ




৭০৮। জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যেমন কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন, তেমনি সকল ব্যাপারে আমাদেরকে ইস্তিখারা করা শিক্ষা দিতেন। কেউ কোন কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করলে সে যেন দুই রাকআত নামায পড়ে এবং তারপর বলেঃ

উচ্ছারনঃ ”আল্লাহুম্মা ইন্নী আসতাখীরুকা বিইলমিকা ওয়া আসতাকদিরুকা বিকুদরাতিকা ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল আযম। ফাইন্নাকা তাকদিরু ওয়ালা আকদিরু ওয়া তালামু ওয়ালা আলামু ওয়া আনতা আল্লামুল গুয়ুব। আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তালামু আন্না হাযাল আমরা খাইরুল্লী ফি দীনী ওয়া মাআশী ওয়া আকিবাতি আমরা আও ফী আজেলে আমরী ওয়া আজেলিহী ফাকদুরহু লী। ওয়াইন কুনতা তালামু আন্না হাযাল আমরা শাররুল্লী ফী দীনী ওয়া মাআশী ওয়া আকিবাতি আমরী আও ফী আজেলে আমরী ওয়া আজেলিহী ফাসরেফহু আন্নী ওয়াসরিফনী আনহু ওয়াকদুর লিয়াল খাইরা হাইছু কানা সুম্মা রাদ্দিনী বিহী

অর্থঃ ”(হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের সাহায্যে তোমার কাছে কল্যাণ কামনা করছি। আমি তোমার শক্তির সাহায্যে শক্তি এবং তোমার মহান অনুগ্রহ কামনা করছি। কেননা তুমিই ক্ষমতাবান এবং আমি অক্ষম। তুমি জ্ঞানবান, আমি জ্ঞানহীন এবং তুমি অদৃশ্য বিষয় সম্পূর্ণ পরিজ্ঞাত। হে আল্লাহ! তোমার জ্ঞানে আমার এ কাজ আমার দীন, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে এবং আমার বর্তমান ও ভবিষ্যত জীবনের জন্য কল্যাণকর হলে তুমি তা আমার জন্য নিধারিত করে দাও। আর যদি তোমার জ্ঞানে আমার এ কাজ আমার দীন, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে অথবা বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য অকল্যাণকর হয়, তবে তুমি তা আমার থেকে ফিরিয়ে নাও এবং আমাকেও তা থেকে ফিরিয়ে রাখো। আমার জন্য সর্বক্ষেত্রে কল্যাণ নির্ধারণ করো এবং আমাকে তার প্রতি সন্তুষ্ট করে দাও”। আর (আমার এ কাজ এর স্থলে) নিজের প্রয়োজনের নামোল্লেখ করবে। (বুখারী)









আল-আদাবুল মুফরাদ (709)


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حَمْزَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ زَيْدٍ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبٍ ، قَالَ : سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ، يَقُولُ : " دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ ، مَسْجِدِ الْفَتْحِ ، يَوْمَ الاثْنَيْنِ وَيَوْمَ الثُّلاثَاءِ وَيَوْمَ الأَرْبِعَاءِ ، فَاسْتُجِيبَ لَهُ بَيْنَ الصَّلاتَيْنِ مِنْ يَوْمِ الأَرْبِعَاءِ ، قَالَ جَابِرٌ : وَلَمْ يَنْزِلْ بِي أَمْرٌ مُهِمٌّ غائِظٌ إِلا تَوَخَّيْتُ تِلْكَ السَّاعَةَ ، فَدَعَوْتُ اللَّهَ فِيهِ بَيْنَ الصَّلاتَيْنِ يَوْمَ الأَرْبِعَاءِ فِي تِلْكَ السَّاعَةِ ، إِلا عَرَفْتُ الإِجَابَةَ




৭০৯। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মসজিদে অর্থাৎ মসজিদুল ফাতহ (বিজয়ের মসজিদ) এ সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার দোয়া করলেন এবং বুধবার নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে তাঁর দোয়া কবুল হলো। জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যখনই আমার কোন গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন কাজ উপস্থিত হয়েছে তখনই আমি উক্ত সময়ে প্রার্থনার ইচ্ছা করেছি এবং বুধবার এই সময়ে দোয়া করেছি এবং তা যে কবুল হয়েছে তাও বুঝতে পেরেছি। (আবু দাউদ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (710)


حَدَّثَنَا عَلِيٌّ عَنْ خَلَفِ بْنِ خَلِيفَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنِي حَفْصُ ابْنُ أَخِي أَنَسٍ ، عَنْ أَنَسٍ : " كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَدَعَا رَجُلٌ ، فَقَالَ : يَا بَدِيعَ السَّمَاوَاتِ ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ ، إِنِّي أَسْأَلُكَ ، فَقَالَ : أَتَدْرُونَ بِمَا دَعَا ؟ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، دَعَا اللَّهَ بِاسْمِهِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ




৭১০। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তার দোয়ায় বললো, ”হে আসমানসমূহের সৃষ্টিকর্তা, হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী। আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে কোন্ নামে (আল্লাহকে ডেকে) দোয়া করছে তা কি তোমরা জানো? সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! সে আল্লাহর কাছে তাঁর এমন নামের উসীলায় দোয়া করেছে যে, সেই নামে কেউ তাকে ডাকলে তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (711)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ : حَدَّثَنَا ابْن وَهْبٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي عَمْرٌو ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو قَالَ : قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ ، عَنْهُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلاتِي ، قَالَ : قُلِ : اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا ، وَلا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلا أَنْتَ ، فَاغْفِرْ لِي مِنْ عِنْدِكَ مَغْفِرَةً ، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ




৭১১। আবু বাকর সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেন, আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যা আমি আমার নামাযে পড়তে পারি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি এ দোয়া পড়বেঃ ”আল্লাহুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাছীরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা ফাগফির লী মিন ইনদিকা মাগফিরাতান ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম” অর্থঃ (হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আমার নিজের উপর অনেক যুলুম করেছি। তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার কেউ নাই। অতএব তুমি তোমার পক্ষ থেকে আমাকে মাফ করে দাও এবং আমার প্রতি অনুগ্রহ বর্ষণ করো। নিশ্চয় তুমি ক্ষমাকারী অতি দয়ালু)। (বুখারী)









আল-আদাবুল মুফরাদ (712)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ ، عَنِ الأَعْمَشِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا ثُمَامَةُ بْنُ عُقْبَةَ ، قَالَ : سَمِعْتُ الْحَارِثَ بْنَ سُوَيْدٍ ، يَقُولُ : قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ : " إِذَا كَانَ عَلَى أَحَدِكُمْ إِمَامٌ يَخَافُ تَغَطْرُسَهُ أَوْ ظُلْمَهُ ، فَلْيَقُلِ : اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ ، وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ، كُنْ لِي جَارًا مِنْ فُلانِ بْنِ فُلانٍ وَأَحْزَابِهِ مِنْ خَلائِقِكَ ، أَنْ يَفْرُطَ عَلَيَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ يَطْغَى ، عَزَّ جَارُكَ ، وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ ، وَلا إِلَهَ إِلا أَنْتَ




৭১২। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তোমাদের কেউ নিজের উপর তাদের শাসকের স্বৈরাচার বা অত্যাচারের আশংকা করলে সে যেন বলেঃ ”হে আল্লাহ, সাত আসমানের প্রতিপালক, মহান আরশের অধিপতি! তুমি আমার প্রতিবেশী হও তোমার সৃষ্টিকুলের মধ্যকার অমুকের পুত্র অমুকের বিরুদ্ধে এবং তার বাহিনীর বিরুদ্ধে, যাতে তাদের কেউ আমার প্রতি বাড়াবাড়ি বা অবিচার করতে না পারে। তোমার প্রতিবেশী মহিমান্বিত, তোমার প্রশংসা মহিমামণ্ডিত এবং তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই”। (তাবারানী, বাযযার)









আল-আদাবুল মুফরাদ (713)


حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا يُونُسُ ، عَنْ المِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو ، قَالَ : حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : " إِذَا أَتَيْتَ سُلْطَانًا مَهِيبًا ، تَخَافُ أَنْ يَسْطُوَ بِكَ ، فَقُلِ : اللَّهُ أَكْبَرُ ، اللَّهُ أَعَزُّ مِنْ خَلْقِهِ جَمِيعًا ، اللَّهُ أَعَزُّ مِمَّا أَخَافُ وَأَحْذَرُ ، وَأَعُوذُ بِاللَّهِ الَّذِي لا إِلَهَ إِلا هُوَ ، الْمُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ أَنْ يَقَعْنَ عَلَى الأَرْضِ إِلا بِإِذْنِهِ ، مِنْ شَرِّ عَبْدِكَ فُلانٍ ، وَجُنُودِهِ وَأَتْبَاعِهِ وَأَشْيَاعِهِ مِنَ الْجِنِّ وَالإِنْسِ ، اللَّهُمَّ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّهِمْ ، جَلَّ ثَنَاؤُكَ ، وَعَزَّ جَارُكَ ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ ، وَلا إِلَهَ غَيْرُكَ " ثَلاثَ مَرَّاتٍ




৭১৩। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তুমি যদি স্বৈরাচারী শাসকের নিকট আসো যার কঠোরতায় তুমি শংকিত, তবে তুমি তিনবার বলবেঃ ”আল্লাহ মহান, আল্লাহ তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকুলের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান। আমি যার ভয়ে ভীত ও শংকিত আল্লাহ তার চেয়েও অধিক সম্মানিত। আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যিনি সাত আসমানকে তার নির্দেশ ব্যতীত পৃথিবীর উপর পতিত হওয়া থেকে সুস্থির রেখেছেন, তাঁর অমুক বান্দার, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে তার বাহিনী, তার অনুসারী দলবল থেকে। হে আল্লাহ! তাদের অনিষ্টের মোকাবিলায় তুমি আমার প্রতিবেশী হও। তোমার প্রশংসা মহিমান্বিত, তোমার প্রতিবেশী মহিমান্বিত, তোমার নাম বরকতপূর্ণ এবং তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই”। (তাবারানী, ইবনু আবু শায়বাহ, ইবনু খুযাইমাহ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (714)


حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا مُوسَى ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُكَيْنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ قَيْسٍ ، أَخْبَرَنِي أَبِي ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ حَدَّثَهُ ، قَالَ : " مَنْ نَزَلَ بِهِ هَمٌّ أَوْ غَمٌّ أَوْ كَرْبٌ أَوْ خَافَ مِنْ سُلْطَانٍ ، فَدَعَا بِهَؤُلاءِ اسْتُجِيبَ لَهُ : أَسْأَلُكَ بِلا إِلَهَ إِلا أَنْتَ ، رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ ، وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ، وَأَسْأَلُكَ بِلا إِلَهَ إِلا أَنْتَ ، رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ ، وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ ، وَأَسْأَلُكَ بِلا إِلَهَ إِلا أَنْتَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَالأَرَضِينَ السَّبْعِ وَمَا فِيهِنَّ ، إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، ثُمَّ سَلِ اللَّهَ حَاجَتَكَ




৭১৪। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, কোন ব্যক্তি দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা বা বিপদে পতিত হলে অথবা শাসকের অত্যাচারের ভয়ে শংকিত হলে সে যেন নিম্নোক্ত বাক্যে দোয়া করে, তার দোয়া কবুল হবেঃ ”আমি তোমার নিকট এই উসীলা দিয়ে প্রার্থনা করছি যে, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই। তুমি সাত আসমান ও মহান আরশের প্রভু। আমি তোমার নিকট এই উসীলা দিয়ে প্রার্থনা করছি যে, তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তুমিই সাত আসমান ও মহিমান্বিত আরশের প্রভু! আমি তোমার নিকট এই উসীলা দিয়ে প্রার্থনা করছি যে, তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই এবং সাত আসমান, সাত যমীন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে তুমিই সেগুলোর রব। তুমিই সর্বশক্তিমান”। অতঃপর তুমি আল্লাহর কাছে তোমার প্রয়োজন পেশ করো।









আল-আদাবুল মুফরাদ (715)


دَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ أُسَامَةَ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَلِيٍّ ، قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا الْمُتَوَكِّلِ النَّاجِيَّ ، قَالَ : قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو ، لَيْسَ بِإِثْمٍ وَلا بِقَطِيعَةِ رَحِمٍ ، إِلا أَعْطَاهُ إِحْدَى ثَلاثٍ : إِمَّا أَنْ يُعَجِّلَ لَهُ دَعْوَتَهُ ، وَإِمَّا أَنْ يَدَّخِرَهَا لَهُ فِي الآخِرَةِ ، وَإِمَّا أَنْ يَدْفَعَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهَا ، قَالَ : إِذًا يكثرِ ، قَالَ : اللَّهُ أَكْثَرُ




৭১৫। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে কোন মুসলিম ব্যক্তি পাপাচার বা আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া ব্যতীত যে কোন দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তিনটি জিনিসের যে কোন একটি দান করেনঃ (১) হয় দ্রুত তার দোয়া কবুল করেন অথবা (২) তা তার পরকালের জন্য সঞ্চিত রাখেন অথবা (৩) অনুরূপ কোন ক্ষতি তার থেকে অপসারিত করেন। এক ব্যক্তি বললো, তাহলে সে তো অধিক পরিমাণে দোয়া করতে পারে। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তার চেয়েও অধিক কবুলকারী। (তিরমিযী,আহমাদ, হাকিম, তহাবী)









আল-আদাবুল মুফরাদ (716)


حَدَّثَنَا ابْنُ شَيْبَةَ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي الْفُدَيْكِ ، قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَوْهَبٍ ، عَنْ عَمِّهِ عُبَيْدِ اللَّهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " مَا مِنْ مُؤْمِنٍ يَنْصُبُ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ يَسْأَلُهُ مَسْأَلَةً ، إِلا أَعْطَاهُ إِيَّاهَا ، إِمَّا عَجَّلَهَا لَهُ فِي الدُّنْيَا ، وَإِمَّا ذَخَرَهَا لَهُ فِي الآخِرَةِ مَا لَمْ يَعْجَلْ ، قَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَمَا عَجَلَتُهُ ؟ قَالَ : يَقُولُ : دَعَوْتُ وَدَعَوْتُ ، وَلا أُرَاهُ يُسْتَجَابُ لِي




৭১৬। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিন ব্যক্তি মাত্রই আল্লাহর দিকে মুখ করে তার কাছে কিছু প্রার্থনা করলে এবং (ফল লাভে) তাড়াহুড়া না করলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা দান করেন। হয় তা তিনি তাকে দুনিয়াতে অবিলম্বে দান করেন অথবা তার আখেরাতের জীবনের জন্য তা সঞ্চিত রাখেন। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার তাড়াহুড়া কিরূপ? তিনি বলেনঃ সে বলে, আমি তো দোয়ার পর দোয়া করতে থাকলাম, কিন্তু তা কবুল হতে দেখছি না। (বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান, আবু আওয়ানা)









আল-আদাবুল মুফরাদ (717)


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " لَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَمَ عَلَى اللَّهِ مِنَ الدُّعَاءِ




৭১৭। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার কাছে দোয়ার চাইতে অধিক সম্মানিত কিছু নাই। (বুখারী, তিরমিযী, আহমাদ, ইবনে মাজাহ, হাকিম)









আল-আদাবুল মুফরাদ (718)


حَدَّثَنَا خَلِيفَةُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عِمْرَانُ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " أَشْرَفُ الْعِبَادَةِ الدُّعَاءُ




৭১৮। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দোয়া হলো সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত।









আল-আদাবুল মুফরাদ (719)


حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ مَنْصُورٍ ، عَنْ ذَرٍّ ، عَنْ يُسَيْعَ ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " إِنَّ الدُّعَاءَ هُوَ الْعِبَادَةُ ، ثُمَّ قَرَأَ : ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ




৭১৯। নোমান ইবনে বাশীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দোয়াও একটি ইবাদত। তারপর তিনি পড়লেনঃ (তোমাদের রব বলেন), ”তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো” (৪০ঃ ৬০)। (তিরমিযী)









আল-আদাবুল মুফরাদ (720)


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ ، عَنِ مُبَارَكِ بْنِ حَسَّانَ ، عَنْ عَطَاءٍ ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ : " سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَيُّ الْعِبَادَةِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ : دُعَاءُ الْمَرْءِ لِنَفْسِهِ




৭২০। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞেস করা হলো, কোন ইবাদত সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ মানুষের নিজের জন্য কৃত দোয়া। (হাকিম)