Part 5 | Page 190
খন্ডঃ 5 | পৃষ্ঠাঃ 190
ইবনে জারীর: এটি শুরুতে জবরযুক্ত ‘যা’ এবং পরবর্তীতে দ্বিত্ব ‘রা’ যোগে গঠিত। তাঁর উক্তি ‘আমরা রাতে ভ্রমণ করলাম’—এখানে ‘দাল’ বর্ণটি সাকিন বা সুকুনযুক্ত; এর অর্থ হলো সারারাত ভ্রমণ করা। পক্ষান্তরে দ্বিত্ব ‘দাল’ বর্ণে জবরসহ ‘আদ্দালজনা’ শব্দের অর্থ হলো রাতের শেষাংশে ভ্রমণ করা। আরবি ভাষায় এটিই অধিক প্রসিদ্ধ। কারো মতে, শব্দ দুটি একই অর্থবোধক দুটি ভিন্ন উপভাষা। প্রথমটির ক্রিয়ামূল হলো ‘ইদলাজ’ (দাল সাকিনসহ) এবং দ্বিতীয়টির ক্রিয়ামূল হলো ‘ইদ্দিলাজ’ (দ্বিত্ব দাল-এ যেরসহ)।
তাঁর উক্তি ‘সূর্য উদিত হলো’—এর অর্থ হলো সূর্যোদয়ের প্রারম্ভ। তাঁর উক্তি ‘আমরা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ঘুম থেকে জাগ্রত করতাম না যতক্ষণ না তিনি নিজে জাগ্রত হতেন’—উলামায়ে কেরাম বলেন, সাহাবীগণ তাঁকে জাগ্রত করা থেকে বিরত থাকতেন কারণ ঘুমের মধ্যে তাঁর নিকট ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। তাসত্ত্বেও নামাজের ওয়াক্ত অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সময়ে যদি কোনো সাধারণ ব্যক্তি ঘুমিয়ে থাকে এবং নামাজের সময় উপস্থিত হয় ও নামাজ অতিক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে উপস্থিত ব্যক্তি তাকে সতর্ক করে দেবে যাতে নামাজ কাজা না হয়।
অপবিত্র ব্যক্তি সম্পর্কে তাঁর উক্তি: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলেন, ফলে সে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করল এবং নামাজ আদায় করল’—এতে প্রমাণিত হয় যে, পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে অপবিত্র ব্যক্তির জন্য তায়াম্মুম করা বৈধ। এটিই আমাদের মাযহাব এবং জুমহুর আলিমের অভিমত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
তাঁর উক্তি ‘হঠাৎ আমরা এক মহিলাকে দেখলাম যে দুই মাজাদার (বড় পানির মশক) মাঝখানে পা ঝুলিয়ে বসে আছে’—এখানে ‘সাদিলাহ’ অর্থ হলো ঝুলিয়ে রাখা বা প্রসারিত করা। আর ‘মাজাদা’ একটি সুপরিচিত পাত্র, যা সাধারণ মশকের চেয়ে বড় এবং মাজাদাতান বলতে দুটি বড় মশক বোঝানো হয়েছে।