Part 1 | Page 152
খন্ডঃ 1 | পৃষ্ঠাঃ 152
কাহমাস। আমরা ইতিপূর্বে 'মুয়ানআন' (পরম্পরায় 'হতে' শব্দ দ্বারা বর্ণিত হাদিস) সংক্রান্ত অধ্যায়ে যা বর্ণনা করেছি তা থেকে জানা গেছে যে, ওলামায়ে কেরাম মুয়ানআন হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়ে মতপার্থক্য করেছেন, তবে 'হাদ্দাসানা' (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) শব্দযোগে সরাসরি সংযুক্ত (মুত্তাসিল) বর্ণনার ক্ষেত্রে তারা মতপার্থক্য করেননি। তাই ইমাম মুসলিম বর্ণনা দুটি যেভাবে শুনেছিলেন সেভাবেই উপস্থাপন করেছেন, যাতে যে অংশটি সর্বসম্মত তা বিতর্কিত অংশ থেকে পৃথকভাবে চেনা যায় এবং তিনি যাতে নিজে যে শব্দে শুনেছেন সেই শব্দেই বর্ণনা করতে পারেন। ইমাম মুসলিমের গ্রন্থে এর আরও বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে যা আল্লাহ তায়ালা চাইলে আপনি সামনে সেগুলোর ওপর আলোকপাতসহ দেখতে পাবেন। যদিও এই বিষয়টি এই শাস্ত্রের প্রতি সামান্যতম অনুরাগী ব্যক্তির কাছেও সুস্পষ্ট, তবুও আমি অন্যদের জন্য এবং তাদের মধ্যে যারা এ ব্যাপারে অসতর্ক হতে পারেন, তাদের জন্য এটি উল্লেখ করছি। উপরন্তু সকলের জন্য আরও একটি দিক হলো, এর ফলে তাদের গভীর চিন্তা-ভাবনা এবং মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করার পরিশ্রম লাঘব হয়।
এখানে আরেকটি উদ্দেশ্যও রয়েছে; আর তা হলো, ওয়াকি'র বর্ণনায় আছে 'আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে', অন্যদিকে মুআজের বর্ণনায় আছে 'ইবনে বুরাইদাহ থেকে'। তিনি যদি যেকোনো একটি শব্দ ব্যবহার করতেন তবে ত্রুটি দেখা দিত। কারণ তিনি যদি 'ইবনে বুরাইদাহ' বলতেন, তবে আমরা তার নাম জানতে পারতাম না এবং বুঝতে পারতাম না যে তিনি কি এই আবদুল্লাহ নাকি তার ভাই সুলাইমান ইবনে বুরাইদাহ। আবার তিনি যদি 'আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ' বলতেন, তবে মুআজের নামে মিথ্যাচার হতো, কারণ মুআজের বর্ণনায় 'আবদুল্লাহ' শব্দটি নেই। আল্লাহই ভালো জানেন।
আর প্রথম বর্ণনায় 'ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াম্মার থেকে' তার এই বক্তব্যের ব্যাপারে বলা যায় যে, শুরুতে এটি উল্লেখ করার কোনো উপকারিতা আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয় না। ইমাম মুসলিম এবং অন্যান্যদের অভ্যাস হলো এই ধরনের ক্ষেত্রে তারা ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াম্মারের নাম উল্লেখ করেন না, কারণ উভয় সূত্রই ইবনে বুরাইদাহর কাছে গিয়ে মিলিত হয়েছে এবং তাঁর থেকে বর্ণিত শব্দগুলো একই রকম। তবে আমি কিছু পাণ্ডুলিপিতে প্রথম সূত্রে শুধু 'ইয়াহইয়া থেকে' দেখেছি, সেখানে 'ইবনে ইয়াম্মার' নেই। যদি এটি সঠিক হয়, তবে তা আমরা যে আপত্তির কথা উল্লেখ করেছি তা দূর করে দেয়; কারণ তখন এতে সেই উপকারিতাই থাকবে যা আমরা ইবনে বুরাইদাহর ক্ষেত্রে নির্ধারণ করেছি। আল্লাহই ভালো জানেন।
অনুরূপ আরেকটি উদাহরণ হলো তাঁর এই উক্তি: "উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁরই হাদিস।" এটি ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একটি সাধারণ রীতি যা তিনি অধিক মাত্রায় ব্যবহার করেছেন এবং অন্যরা খুব সামান্যই ব্যবহার করেছেন। এটি তাঁর সেই সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, পরহেজগারি ও সতর্কতারই বহিঃপ্রকাশ যা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। তাঁর উদ্দেশ্য হলো—দুইজন বর্ণনাকারী অর্থের দিক থেকে একমত হয়েছেন কিন্তু কিছু শব্দের ক্ষেত্রে ভিন্নতা পোষণ করেছেন; আর এটি অমুক ব্যক্তির শব্দরূপ এবং অপরজনের বর্ণনাটি অর্থের দিক থেকে এর অনুরূপ। আল্লাহই ভালো জানেন।
আর প্রথম বর্ণনায় ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াম্মারের পরে যে বর্ণটি রয়েছে, তা হলো এক সনদ (বর্ণনাসূত্র) থেকে অন্য সনদে স্থানান্তরের প্রতীক 'হা' (তাহউয়িল)। পাঠক যখন সেখানে পৌঁছাবেন তখন বলবেন: 'হা', তিনি বলেন, 'এবং আমাদের নিকট অমুক বর্ণনা করেছেন'। এটিই অগ্রগণ্য অভিমত। আমি পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদগুলোতে এর ব্যাখ্যা এবং এ বিষয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্য বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি। আল্লাহই ভালো জানেন।
এই সনদের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর প্রতি আলোকপাত করার ক্ষেত্রে এই মুহূর্ত পর্যন্ত এগুলোই আমার সামনে উপস্থিত হয়েছে। এটি অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও একটি দিকনির্দেশনা এবং আমি আশা করি এর মাধ্যমে অন্য বিষয়গুলোও অনুধাবন করা সম্ভব হবে। এই শরাহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) পাঠক যখন এখানে কোনো বিষয় বিস্তারিত ও সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত পাবেন, তখন তার এতে বিরক্ত হওয়া উচিত নয়। কারণ আমি এর মাধ্যমে—যদি মহান দয়ালু আল্লাহ চান—ব্যাখ্যামূলক স্পষ্টীকরণ, সহজীকরণ এবং পাঠকের প্রতি সদুপদেশ প্রদান করতে চেয়েছি, যাতে এটি তাকে সহায়তা করে এবং এই ব্যাখ্যা জানার জন্য অন্য কিতাব দেখার প্রয়োজনীয়তা থেকে তাকে অমুখাপেক্ষী করে। আর এটাই তো ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মূল উদ্দেশ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি এই ধরনের বা এর অনুরূপ বর্ণনাকে দীর্ঘ মনে করবে, সে এই শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন থেকে বহু দূরে এবং এই বিষয়ে সফলতা লাভ করা থেকেও বিচ্ছিন্ন। তার উচিত নিজের এই শোচনীয় অবস্থার জন্য শোক প্রকাশ করা এবং তার এই হীন আচরণ থেকে ফিরে আসা উচিত। যারা সঠিক গবেষণা, পরিমার্জন, দক্ষতা ও সূক্ষ্মতা অনুসন্ধান করেন, তাদের জন্য অলস, নির্বোধ, তুচ্ছ ও ধৈর্যহীন ব্যক্তিদের বিরক্তি বা ক্লান্তির দিকে কর্ণপাত করা সমীচীন নয়; বরং...