Part 3 | Page 75
খন্ডঃ 3 | পৃষ্ঠাঃ 75
(প্রত্যেক নবীর জন্য একটি দোয়া রয়েছে যা তিনি তাঁর উম্মতের মাঝে করেছেন এবং তা কবুল করা হয়েছে। আর আমি ইনশাআল্লাহ্ ইচ্ছা করি যে, কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের সুপারিশের জন্য আমার সেই দোয়াটি স্থগিত রাখব।) অন্য বর্ণনায় রয়েছে: (প্রত্যেক নবীর জন্য একটি দোয়া রয়েছে যা তিনি তাঁর উম্মতের জন্য করেছেন। আর আমি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের সুপারিশের জন্য আমার সেই দোয়াটি সঞ্চিত করে রেখেছি।) এই হাদিসগুলো একে অপরের ব্যাখ্যা প্রদান করে। এর মর্মার্থ হলো, প্রত্যেক নবীর এমন একটি দোয়া থাকে যা কবুল হওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত এবং তিনি এর কবুলিয়াত সম্পর্কে নিশ্চিত থাকেন। পক্ষান্তরে তাঁদের অবশিষ্ট দোয়াগুলো কবুল হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা আশা পোষণ করেন; সেগুলোর কোনোটি কবুল হয় আবার কোনোটি হয় না। কাজী ইয়াজ উল্লেখ করেছেন যে, সম্ভবত এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—শেষোক্ত দুই বর্ণনার ন্যায়—প্রত্যেক নবীর জন্য তাঁর উম্মতের স্বার্থে একটি বিশেষ দোয়া রয়েছে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
এই হাদিসে উম্মতের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণ মমতা, দয়া এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের প্রতি তাঁর গভীর মনোনিবেশের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য নিজের সেই দোয়াটিকে তাদের চরম প্রয়োজনের সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করেছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী: "ইনশাআল্লাহ্ তাআলা আমার উম্মতের মধ্য থেকে যারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, তারা এই সুপারিশ লাভ করবে"—এতে সত্যপন্থীদের (আহলুল হক) এই মতবাদের সপক্ষে দলিল রয়েছে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো অংশীদার সাব্যস্ত না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না; যদিও সে কবিরা গুনাহের ওপর অটল থাকে। ইতিপূর্বে বহু স্থানে এর দলিল ও ব্যাখ্যা অতিবাহিত হয়েছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের "ইনশাআল্লাহ্ তাআলা" (যদি আল্লাহ চান) উক্তিটি মূলত...