হাদীস বিএন

فتح ذي الجلال والإكرام

Part 1 | Page 218

ومن فوائد هذا الحديث: تأكيد الكلمات المهمة في قوله: "وحده لا شريك له"، فالأشياء المهمة ينبغي أن تؤكد إما توكيدا لفظيا، وإما توكيدا معنويا، واعلم أن التوكيد هنا ليس المراد بالتوكيد الذي ذكره النحويون، فإن التوكيد الذي ذكره النحويون لفظي ومعنوي، والمعنوي له ألفاظ مخصوصة، مثل: "كل، وجميع"، وما أشبه ذلك، لكن هنا توكيد معنوي بذكر جملة تفيد معنى الجملة التي سبقها.

ومن فوائد هذا الحديث: شهادة أم محمدا عبد الله ورسوله مقترنة بشهادة التوحيد، ووجه ذلك: أن كل عبادة لابد فيها من إخلاص، ولابد فيها من متابعة، فالإخلاص يتحقق بشهادة أن لا إله إلا الله، وبالمتابعة تتحقق شهادة أن محمدا عبد الله ورسوله.

ومن فوائد هذا الحديث: الرد على الغلاة في النبي صلى الله عليه وسلم لقوله: "أن محمدا عبده"، فليس للنبي صلى الله عليه وسلم حظ من الربوبية، هو عبد عليه الصلاة والسلام وليس برب.

ومن فوائد الحديث: الرد على منكري رسالة النبي صلى الله عليه وسلم في قوله: "ورسوله".

ومن فوائد هذا الحديث: فضيلة النبي صلى الله عليه وسلم حيث جمع بين شرف العبادة وشرف الرسالة لقوله: "عبده ورسوله".

ومن فوائد الحديث: وجوب تصديق النبي صلى الله عليه وسلم فيما أخبر به عن الله لكونه رسولا من عنده، تبارك وتعالى قال: {ولو تقول علينا بعض الأقاويل لأخذنا منه باليمين ثم لقطعنا منه الوتين فما منكم من أحد عنه حجزين} [الحاقة: 44 - 47]. فكل ما أخبر به عليه الصلاة والسلام عن الله فهو حق وصدق، وكذلك كل ما أخبر به عما وقع من الوقائع - حتى وإن لم تتعلق بالشرائع- فإنه يجب تصديقه عليه الصلاة والسلام لأنه معصوم من الكذب.

ومن فوائد الحديث: فضيلة هذا الذكر عقب الوضوء، لكن عقب أي وضوء أم وضوءا كاملا؟ الوضوء الكامل لقوله: "فيسبغ الوضوء".

المؤلف رحمه الله ساق ذكرا في أول الوضوء وذكرا في آخر الوضوء، الذكر في أوله البسملة، والذكر في آخره هذا الذي سمعتم.

وأما في أثناء الوضوء فإنه ليس فيه ذكر، وما يذكر من أن لكل عضو من الأعضاء ذكرا مخصوصا، فإنه لا صحة له، فليس هناك أذكار في الوضوء إلا البسملة في أوله والتشهد في آخره.

ومن فوائد الحديث: إثبات الجنة وأن لها أبوابا لقوله: "إلا فتحت له أبواب الجنة الثمانية".

ومن فوائده: أن أبواب الجنة ثمانية، وقد ثبت بالكتاب العزيز أن أبواب النار سبعة، وهذا

ফাতহু যিল জালালী ওয়াল ইকরাম

খন্ডঃ 1 | পৃষ্ঠাঃ 218


এই হাদীসের অন্যতম শিক্ষা হলো: গুরুত্বপূর্ণ শব্দমালার তাকিদ বা গুরুত্বারোপ; যেমনটি তাঁর বাণী: "তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই"-এর মধ্যে রয়েছে। কারণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ শাব্দিক কিংবা অর্থগত তাকিদ বা নিশ্চয়তার মাধ্যমে সুদৃঢ় করা বাঞ্ছনীয়। জেনে রাখা প্রয়োজন যে, এখানে 'তাকিদ' বলতে ব্যাকরণবিদগণ যা বুঝিয়েছেন তা উদ্দেশ্য নয়। কেননা ব্যাকরণবিদদের নির্দেশিত তাকিদ শাব্দিক ও অর্থগত দুই প্রকারের হয়ে থাকে এবং অর্থগত তাকিদের নির্দিষ্ট কিছু শব্দ রয়েছে, যেমন: "সব, সমস্ত" এবং এ জাতীয় শব্দ। তবে এখানে অর্থগত তাকিদ বলতে এমন একটি বাক্য উল্লেখ করা উদ্দেশ্য, যা তার পূর্ববর্তী বাক্যের অর্থের গুরুত্ব প্রকাশ করে।

এই হাদীসের আরেকটি শিক্ষা হলো: মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল হওয়ার সাক্ষ্য তাওহীদের সাক্ষ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। এর কারণ হলো: প্রতিটি ইবাদতে ইখলাস (একনিষ্ঠতা) ও মুতাবাহ (অনুসরণ) থাকা অপরিহার্য। ইখলাস বাস্তবায়িত হয় 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' সাক্ষ্য দেওয়ার মাধ্যমে, আর মুতাবাহ বা অনুসরণ বাস্তবায়িত হয় 'মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল' সাক্ষ্য দেওয়ার মাধ্যমে।

এই হাদীসের আরও একটি শিক্ষা হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে যারা অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি করে তাদের প্রতিবাদ; কেননা তিনি বলেছেন: "মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা"। সুতরাং রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের কোনো অংশই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য নেই; তিনি আল্লাহর একজন বান্দা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম), তিনি কোনোভাবেই পালনকর্তা নন।

হাদীসটির অন্যতম শিক্ষা হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাত বা নবুওয়াত অস্বীকারকারীদের প্রতিবাদ; যা তাঁর "এবং তাঁর রাসূল" বাণীর মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

এই হাদীসের একটি শিক্ষা হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্রেষ্ঠত্ব; কেননা তাঁর মধ্যে ইবাদতের মর্যাদা এবং রিসালাতের মর্যাদা উভয়টি একত্রিত হয়েছে; যেমনটি তাঁর বাণী: "তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল"-এর মধ্যে ফুটে উঠেছে।

হাদীসটির অন্যতম শিক্ষা হলো: আল্লাহ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন, তা বিশ্বাস করা ওয়াজিব। কারণ তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন: {আর সে যদি আমার নামে কোনো কথা বানিয়ে বলত, তবে আমি অবশ্যই তার ডান হাত ধরে ফেলতাম, অতঃপর তার জীবনধমনী কেটে দিতাম; তখন তোমাদের মধ্যে এমন কেউ থাকত না যে তাকে রক্ষা করতে পারত} [সূরা আল-হাক্কাহ: ৪৪-৪৭]। অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ সম্পর্কে যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তা ধ্রুব সত্য। একইভাবে অতীত বা বর্তমানের ঘটে যাওয়া বিষয়সমূহ সম্পর্কে তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন—তা শরীআত সংশ্লিষ্ট হোক বা না হোক—তা বিশ্বাস করা আবশ্যক। কারণ তিনি মিথ্যা থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ।

হাদীসটির একটি শিক্ষা হলো: ওযুর পরবর্তী এই যিকিরের ফজিলত। তবে প্রশ্ন হলো, এটি কি যেকোনো ওযুর পর নাকি পূর্ণাঙ্গ ওযুর পর? মূলত এটি পূর্ণাঙ্গ ওযুর জন্য প্রযোজ্য; যেমনটি তাঁর বাণীতে এসেছে: "অতঃপর সে পূর্ণাঙ্গরূপে ওযু করে"।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) ওযুর শুরুতে এবং ওযুর শেষে একটি করে যিকির উল্লেখ করেছেন। শুরুর যিকির হলো 'বিসমিল্লাহ' এবং শেষের যিকির হলো সেই সাক্ষ্যবাণী যা আপনারা শ্রবণ করলেন।

আর ওযুর মাঝখানে কোনো বিশেষ যিকির নেই। ওযুর প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সময় যে নির্দিষ্ট যিকিরের কথা উল্লেখ করা হয়, তার কোনো ভিত্তি বা সত্যতা নেই। ওযুর শুরুতে 'বিসমিল্লাহ' এবং শেষে 'তাশাহহুদ' বা সাক্ষ্যবাণী ব্যতিরেকে ওযুর মধ্যে অন্য কোনো যিকির নেই।

হাদীসটির অন্যতম শিক্ষা হলো: জান্নাত যে সত্য তা সাব্যস্ত করা এবং এর যে অনেকগুলো দরজা রয়েছে তা প্রমাণ করা। যেমনটি হাদীসে এসেছে: "তবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে"।

এর একটি শিক্ষা হলো: জান্নাতের দরজা আটটি। অথচ মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, জাহান্নামের দরজা সাতটি। আর এটি...