Part 1 | Page 515
খন্ডঃ 1 | পৃষ্ঠাঃ 515
তিনি খেলেন না। তখন আমি মনে মনে বললাম, ‘এটি সেই বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি, যা আমার সাথী আমাকে বর্ণনা করেছিলেন।’ এরপর আমি ফিরে গেলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরত করলেন। আমি আমার কাছে থাকা কিছু জিনিস একত্র করলাম এবং তা নিয়ে তাঁর কাছে এলাম। আমি বললাম, ‘আমি লক্ষ্য করেছি যে আপনি সদকা খান না। এটি একটি উপহার ও সম্মাননা, এটি সদকা নয়।’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে খেলেন এবং তাঁর সাহাবীরাও খেলেন। আমি বললাম, ‘এটি হলো দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য।’
অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলাম যখন তিনি একটি জানাজার পিছু পিছু যাচ্ছিলেন। আমার গায়ে দুটি চাদর ছিল। তিনি তখন তাঁর সাহাবীদের মাঝে ছিলেন। আমি তাঁর পিঠের মোহরটি দেখার জন্য তাঁর চারপাশ দিয়ে ঘুরতে লাগলাম। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর পিছন দিক দিয়ে ঘুরতে দেখলেন, তিনি বুঝতে পারলেন যে আমি এমন কিছু নিশ্চিত হতে চাচ্ছি যা আমাকে বর্ণনা করা হয়েছে। তখন তিনি তাঁর পিঠ থেকে চাদরটি সরালেন। আমি তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে সেই মোহরটি দেখলাম যেমনটি আমার সাথী আমাকে বর্ণনা করেছিলেন। তখন আমি তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়লাম, তাঁকে চুম্বন করতে লাগলাম এবং কাঁদতে লাগলাম। তিনি বললেন, ‘হে সালমান! এপাশে ঘুরে আসো।’ আমি ঘুরে এলাম এবং তাঁর সামনে বসলাম। তিনি চাচ্ছিলেন যেন তাঁর সাহাবীরা তাঁর সম্পর্কে আমার কাহিনী শুনতে পায়।
হে ইবনে আব্বাস! আমি তোমার কাছে যেভাবে বর্ণনা করেছি, সেভাবেই তাঁর কাছে বর্ণনা করলাম। যখন আমি শেষ করলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হে সালমান! তুমি (মুক্তির জন্য) চুক্তিবদ্ধ হও।’ সুতরাং আমি আমার মালিকের সাথে তিনশ খেজুর গাছ রোপণ করে জীবিত করা এবং চল্লিশ উকিয়া স্বর্ণের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীরা আমাকে খেজুরের চারা দিয়ে সাহায্য করলেন; কেউ ত্রিশটি, কেউ বিশটি এবং কেউ দশটি চারা দিলেন। তাদের প্রত্যেকের কাছে যা ছিল তা দিয়েই সাহায্য করলেন।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘চারাগুলোর জন্য গর্ত খুঁড়ো। যখন শেষ করবে, তখন আমাকে খবর দিও, যাতে আমি নিজে আমার হাত দিয়ে সেগুলো রোপণ করি।’ সুতরাং আমি গর্ত খুঁড়লাম এবং আমার সাহাবীরা আমাকে সাহায্য করলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, যেখানে চারাগুলো লাগানো হবে সেখানে আমি গর্ত খুঁড়লাম যতক্ষণ না আমরা কাজ শেষ করলাম। এরপর তিনি আমার সাথে সেখানে আসলেন। আমরা তাঁর কাছে চারাগুলো নিয়ে আসছিলাম এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে সেগুলো রোপণ করছিলেন ও মাটি সমান করে দিচ্ছিলেন। সেই সত্তার কসম, যিনি তাঁকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, সেগুলোর একটি চারাও মারা যায়নি। তবে আমার ওপর দিরহামের (ঋণ) বিষয়টি বাকি রয়ে গিয়েছিল।
এরপর কোনো এক খনি থেকে এক ব্যক্তি ডিমের মতো বড় একখণ্ড সোনা নিয়ে তাঁর কাছে এল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘সেই পারস্যের মুসলিম চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিটি কোথায়?’ তখন আমাকে তাঁর কাছে ডাকা হলো। তিনি বললেন, ‘হে সালমান! এটি নাও এবং এর মাধ্যমে তোমার দেনা পরিশোধ করো।’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার ঋণের তুলনায় এর পরিমাণ কতটুকু হবে?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহ অবশ্যই এর মাধ্যমেই তোমার পক্ষ থেকে ঋণ শোধ করে দেবেন।’ সেই সত্তার কসম যার হাতে সালমানের প্রাণ রয়েছে...