Part 1 | Page 270
খন্ডঃ 1 | পৃষ্ঠাঃ 270
...পাথরটি, তিনি সেখান থেকে যা চাচ্ছিলেন আমিও তা-ই চাচ্ছিলাম অর্থাৎ ছায়া। আমি তাকে (রাখালকে) জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি কার লোক?” সে বলল, “কুরাইশ বংশীয় এক ব্যক্তির।” সে তার নাম বললে আমি তাকে চিনতে পারলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “তোমার বকরিগুলোর কি দুধ আছে?” সে বলল, “হ্যাঁ।” আমি বললাম, “তুমি কি আমার জন্য দোহন করবে?” সে বলল, “হ্যাঁ।” আমি তাকে নির্দেশ দিলে সে তার পালের একটি বকরি ধরল। আমি তাকে বকরির ওলান হতে ধুলাবালি ঝেড়ে ফেলার নির্দেশ দিলাম। এরপর আমি তাকে তার দুই হাত ঝাড়তে বললে সে হাত একটির ওপর অন্যটি আঘাত করে ঝেড়ে নিল। এরপর সে আমার জন্য সামান্য পরিমাণ দুধ দোহন করল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একটি পানির পাত্র সাথে নিয়েছিলাম যার মুখে এক টুকরো কাপড় ছিল। আমি দুধের ওপর পানি ঢাললাম যাতে এর নিচের অংশ শীতল হয়। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলাম। আমি যখন তাঁর কাছে পৌঁছলাম তখন তিনি জাগ্রত হয়েছিলেন। আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! পান করুন।” তিনি পান করলেন এবং আমি তাতে সন্তুষ্ট হলাম। তারপর আমি বললাম, “এখন যাত্রার সময় হয়েছে।” তিনি বললেন, “আমরা যাত্রা শুরু করলাম আর এদিকে লোকেরা আমাদের সন্ধান করছিল।” সুরাকা ইবনে মালিক ইবনে জু'শুম ব্যতীত আর কেউ আমাদের নাগাল পায়নি, সে তার ঘোড়ায় চড়ে আমাদের দিকে আসছিল। আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! এই তো অন্বেষণকারী আমাদের ধরে ফেলেছে।” তিনি বললেন, “চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন” [আত-তাওবাহ: ৪০]। যখন সে আমাদের একেবারে সন্নিকটে চলে এল এবং আমাদের ও তার মাঝে মাত্র দুই বা তিন বল্লম পরিমাণ ব্যবধান অবশিষ্ট রইল, তখন আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! এই তো সে আমাদের ধরে ফেলেছে”—এই বলে আমি কাঁদতে লাগলাম। তিনি বললেন, “তুমি কাঁদছ কেন?” আমি বললাম, “আল্লাহর কসম! আমি নিজের জন্য কাঁদছি না, বরং আমি কাঁদছি আপনার জন্য।” তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিরুদ্ধে এই বলে বদদোয়া করলেন, “হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে ইচ্ছা করেন আমাদের পক্ষ থেকে তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।” ফলে তার ঘোড়াটি পেট পর্যন্ত মাটিতে দেবে গেল। সে ঘোড়া থেকে লাফিয়ে নেমে বলল, “হে মুহাম্মদ! আমি বুঝতে পেরেছি যে এটি আপনারই কাজ। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে এই বিপদ থেকে মুক্তি দেন। আল্লাহর কসম! আমি আমার পেছনের অন্বেষণকারীদের বিভ্রান্ত করে দেব। আর এই যে আমার তূণ, এখান থেকে একটি তীর গ্রহণ করুন। আপনি যখন পথিমধ্যে অমুক অমুক স্থানে আমার উট ও বকরির পালের পাশ দিয়ে যাবেন, তখন আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সেখান থেকে গ্রহণ করবেন।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমার উট ও বকরির কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই।” অতঃপর তিনি তার জন্য দোয়া করলেন এবং সে ফিরে গিয়ে তার সাথীদের কাছে চলে গেল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাত্রা অব্যাহত রাখলেন এবং আমি তাঁর সাথে ছিলাম, যতক্ষণ না আমরা রাতের বেলা মদিনায় পৌঁছলাম। ইমাম বুখারি ও মুসলিম জুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া হতে বর্ণিত হাদিস থেকে এটি সংকলন করেছেন; তিনি বলেন, আমি আবু ইসহাককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি বারা (রা.)-কে বলতে শুনেছি। আর ইমাম বুখারি ইসরাইলের সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে... হতেও হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।